গুনাহ মাফ
১: ভুল করে, শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে,বান্দা যেনা-ব্যভিচারের গুনাহ করে ফেললেও আল্লাহ মাফ করে দেবেন।
২: ভুল করে, শয়তানের ওয়াসওয়াসায় বিভ্রান্ত হয়ে কাউকে হত্যার গুনাহ করে ফেললেও আল্লাহ মাফ করে দেবেন।
৩: শয়তানের কুমন্ত্রণায় ‘হারাম’ কিছু দেখে ফেলার গুনাও আল্লাহ মাফ করে দেবেন।
৪: পরিবেশ-পরিস্থিতির কারনে চুরি-চামারি এমনকি শিরকের গুনাহ করে ফেললেও আল্লাহ মাফ করে দেবেন।
৫: শিরকের চেয়ে বড় কোনও গুনাহ নেই। থাকলে সেটাও আল্লাহ মাফ করতেন। ছোট গুনাহ তো মাফ করতেনই।
৬: আমাকে শুধু খাস দিলে তাওবা করতে হবে। আন্তরিকভাবে ইস্তেগফার করতে হবে। অতীতে কৃত গুনাহের জন্য সত্যি সত্যি অনুতপ্ত হতে হবে। সংকল্প করতে হবে, আমি আর আগের গুনাহে ফিরে যাবো না।
৭: তাওবার ব্যাপারে ইবলীস যেন আমাকে প্রতারিত বিভ্রান্ত করতে না পারে। শয়তান যেন আমার সামনে অতীতের গুনাহকে ক্ষমার অযোগ্য রূপে চিত্রিত করে তুলতে না পারে।
৮: কোনও গুনাহই আল্লাহর ক্ষমার চাইতে বড় হতে পারে না। গুনাহকে আল্লাহর ক্ষমার চাইতেও বড় করে দেখাতে পারা, শয়তানের দ্বিতীয় সাফল্য। আমার দ্বিতীয় ব্যর্থতা।
৯: শয়তানের প্ররোচনায় আমি অতীতের গুনাহকে আল্লাহর ক্ষমার অতীত ভাবতে শুরু করলে, আল্লাহর কাছে গুনাহ মাফের আবেদন করার ব্যাপারে আমার মনে দ্বিধা তৈরি হয়ে যায়। সংকোচ লজ্জা জড়তা ঝেঁকে বসে। ১০: আস্তে আস্তে আল্লাহর কাছে নেয়ামত চাইতেও জড়তা চলে আসে। অথচ গুনাহগার হয়েও আল্লাহর কাছে সবকিছু চাওয়া যায়। নেয়ামত লাভের দোয়া করা যায়।
১১: সুলাইমান আ. কখন আল্লাহর কাছে ‘অভূতপূর্ব’ রাজত্ব লাভের দোয়া করেছিলেন কখন? যখন নিজেকে ‘মুযনিব’ ভেবেছিলেন। তিনি বলেছিলেন,
رَبِّ ٱغۡفِرۡ لِی وَهَبۡ لِی مُلۡكࣰا لَّا یَنۢبَغِی لِأَحَدࣲ مِّنۢ بَعۡدِیۤۖ إِنَّكَ أَنتَ ٱلۡوَهَّابُ
হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা কর এবং আমাকে এমন রাজত্ব দান কর, যা আমার পর অন্য কারও হবে না। নিশ্চয়ই তুমি মহাদাতা (সূরাতু সোয়াদ ৩৫)।
১২: নিজেকে মুযনিব ভেবেছেন, তারপর ইস্তেগফার করেছেন। ক্ষমাপ্রার্থনার সাথে সাথে আল্লাহর কাছে এমন রাজত্ব প্রার্থনা করেছেন, যা আর কাউকে দেয়া হয়নি। দোয়া কবুল করা হয়েছে। তার মতো রাজত্ব আর কাউকে দেয়া হয়নি। দোয়ার পরপরই তা বাস্তবে ফলে গেছে,
فَسَخَّرۡنَا لَهُ ٱلرِّیحَ تَجۡرِی بِأَمۡرِهِۦ رُخَاۤءً حَیۡثُ أَصَابَ وَٱلشَّیَـٰطِینَ كُلَّ بَنَّاۤءࣲ وَغَوَّاصࣲ وَءَاخَرِینَ مُقَرَّنِینَ فِی ٱلۡأَصۡفَادِ
সুতরাং আমি বাতাসকে তার অধীন করে দিলাম, যা তার আদেশে সে যেথায় চাইত মন্থর গতিতে বয়ে যেত। এবং দুষ্ট জিন্নদেরকেও তাঁর আজ্ঞাধীন করে দিয়েছিলাম, যার মধ্যে ছিল সব রকমের নির্মাতা ও ডুবুরি। এবং এমন কিছু জিন্নকেও, যারা শিকলে বাঁধা ছিল (সূরাতু সোয়াদ ৩৬-৩৮)।
১৩: দোয়া কবুল হওয়ার সংবাদ শুরু হয়েছে ‘ফা’ (ف) দিয়ে। ‘ফা’ ব্যবহৃত হয়
التعقيب بلا تَراخٍ أو مُهلة
কোনও বিলম্ব ছাড়াই পরবর্তী ঘটনা ঘটার অর্থ প্রকাশ করার জন্য।
১৪: সুলাইমান আ.-এর দোয়ার পরপরই এতসব আসমানী দান নেমে এসেছিল। তিনি দোয়া করেছিলেন ইস্তেগফার করে।
১৫: আমি গুনাহ করে যদি অনুতপ্ত হৃদয়ে আল্লাহর কাছে ইস্তেগফার করে কিছু চাই, আল্লাহ তাআলা আমাকেও দেবেন। ক্ষমা তো করবেনই।
১৬: আমি আমার প্রতি যতটা রহমদিল/দয়ার্দ্র, রাব্বে কারীম আমার প্রতি তার চেয়েও বেশি রহমদিল।
১৭: যত বেশি গুনাহই করে ফেলি, রাব্বে গাফূরের কাছে ফিরে আসতে একটু লজ্জা করব না। বিন্দুমাত্র দ্বিধা করব না।
১৮: আমি অনুতপ্ত হয়ে ফিরলে, রাব্বে কারীমও আমার দিকে তাওবা নিয়ে ফিরবেন। আর ‘তাওবা কবুল’ করার চেয়ে বড় দান আর কী হতে পারে?
Annur Online Academy
Annur Online Academy is en educational platform.
ভয়ংকর পাপ
১:গাঁয়ে সুন্দর সুশ্রী চেহারার দুজন সুপুরুষ মেহমান এসেছেন। যে সে মেহমান নন, খোদ আল্লাহ তাআলার পাঠানো সম্মানিত ফেরেশতা। তাদের কথা শুনে কওমে লূত আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে দলবেঁধে ‘অশ্লীল’ কাজের জন্য ছুটে এল,
وَجَاۤءَ أَهۡلُ ٱلۡمَدِینَةِ یَسۡتَبۡشِرُونَ
নগরবাসীগণ আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে (লূতের কাছে) চলে আসল (সূরাতুল হিজর ৬৭)।
২: কুরআন কারীমে যত সম্প্রদায়কে ধ্বংস করার কথা আছে, কওমে লূতের ধ্বংসসাধন ছিল সবচেয়ে বেশি গা-শিউরানো। এরা পাপ করতো দলবেঁধে। উদ্দাম হাসি-উল্লাস করে পাপ করত।
৩: আমাদের সমাজেও দলবেঁধে উল্লাসভরে অনেক পাপ করা হয়। আমরাও হাসতে হাসতে দলে দলে পাপ সমাবেশে যোগ দেই। পাপে যোগ দেয়ার চমৎকার সব উপায় অবিষ্কার করতে পেরে নিজেকে বাহবা দেই। আমাদের মনেও থাকে না, আল্লাহর অমোঘ বাণী,
قَالَ عَمَّا قَلِیلࣲ لَّیُصۡبِحُنَّ نَـٰدِمِینَ
আল্লাহ বললেন, অল্পকালের ভেতরই তারা নিশ্চিত অনুতপ্ত হবে (মুমিনূন ৪০)।
৪: খবীস কওমে লূত তাদের পাপে এতই বিভোর ছিল, পাপের কারণে তাদের অন্তর এতটাই বক্র হয়ে গিয়েছিল, তাদের কল্পনাতেও আসেনি, যে পাপের দিকে তারা উল্লাসভরে যাচ্ছে, একটু পর সেই নিকৃষ্ট পাপ তাদের জন্য কী ভয়ংকর পরিণতি বয়ে আনবে।
৫: আমি সাবধান হচ্ছি তো? আশপাশ সম্পর্কে সাবধান থাকছি তো? নইলে পরে কিন্তু ভীষণ অনুতপ্ত হতে হবে । যে অনুতাপ কোনও কাজেই আসবে না।
রাব্বে কারীম আমাদের হেফাজত করুন। আমীন।
সুস্থ্যতা ও সার্বিক কল্যাণের দোয়া
আল্লাহর রাসূল সকাল-সন্ধ্যায় নিয়মিত এই দোয়াখানা পড়তেন,
১: আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল আফিয়াতা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আখিরাতি।
اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ،
আল্লাহুম্মা! আমি আপনার কাছে দুনিয়া ও আখেরাতে সুস্থতা কামনা করছি।
২: আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতা ফী দীনি ওয়া দুনইয়ায়া ওয়া আহলী ওয়া মালী।
اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِيْ دِيْنِيْ وَدُنْيَايَ وَأَهْلِيْ وَمَالِيْ،
আল্লাহুম্মা! আমি আপনার কাছে আমার দীন ও দুনিয়া, আমার ধনে-জনের ব্যাপারে ক্ষমা ও সুস্থতা প্রার্থনা করছি।
৩: আল্লাহুম্মাসতুর আওরাতী ওয়া আমিন রাওআতী।
اَللّٰهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَتِيْ وَآمِنْ رَوْعَاتِيْ؛
আল্লাহুম্মা! আমার দোষত্রুটি ঢেকে দিন। আমার ভয়ভীতি দূর করে দিন।
৪: আল্লাহুম্মাহফাযনী মিম্বাইনি ইয়াদাইয়া ওয়া মিন খালফী ওয়া আন ইয়ামীনি ওয়া আন শিমালী ওয়া মিন ফাওকী ওয়া আউযু বিআযামাতিকা আন উগতালা মিন তাহতী।
اَللّٰهُمَّ احْفَظْنِيْ مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ وَمِنْ خَلْفِيْ وَعَنْ يَمِيْنِيْ وَعَنْ شِمَالِيْ وَمِنْ فَوْقِيْ، وَأَعُوْذُ بِعَظَمَتِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِيْ.
আল্লাহুম্মা! আমাকে সামনে ও পেছনের দিক থেকে, ডান ও বাম দিক থেকে, উপরের দিক থেকে হেফাযত করুন। আর নিচের দিক থেকে আসা অতর্কিত আক্রমণে নিহত হওয়া থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি (ইবনে উমার রা.। আবূ দাউদ ৫০৭৪)।
30/07/2020
🕌 দোআ
📃 অসুস্থ ব্যক্তির জন্য দোআ
📜নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের (তার স্ত্রীদের) কাউকে ঝাড়ার সময় ডান হাত দিয়ে মাসাহ্ করতেন এবং বলতেন,
أَذْهِبِ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ، وَاشْفِ أَنْتَ الشَّافِي، لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ، شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا
হে মানুষের প্রতিপালক! তুমি রোগ দূর করে দাও এবং আরোগ্য দান কর। তুমিই তো আরোগ্যদানকারী, তোমার আরোগ্য ভিন্ন আর কোন আরোগ্য নেই, এমন আরোগ্য দাও, যারপর কোন রোগ থাকে না।
আযহিবিল বা'স, রাব্বা ন্নাস, ওয়াশফি আন্তা আশ-শাফি, লা-শিফা-আ ইল্লা- শিফা-উকা। শিফা-আন লা-ইউগা-দিরু সাক্বামা
বুখারী , বই ৭৬, হাদিস ৬৫
🕌দোআ
🕋আল্লাহ্র নিকট সর্বাধিক প্রিয় বাক্য
📓রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আল্লাহ্র নিকট সর্বাধিক প্রিয় বাক্য চারটি, তার যে কোনটি দিয়েই শুরু করাতে তোমার কোনো ক্ষতি নেই। আর তা হলো,
سُبْحَانَ اللّٰهِ، وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ، وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللّٰهُ، وَاللّٰهُ أَكْبَرُ
আল্লাহ পবিত্র-মহান। সকল হামদ-প্রশংসা আল্লাহর। আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই। আল্লাহ সবচেয়ে বড়। [১]
সুবহানাল্লা-হি ওয়ালহাম্দু লিল্লা-হি ওয়ালা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াল্লা-হু আকবার
মুসলিম ৩/১৬৮৫, নং ২১৩৭।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Address
London
E126SB