10/02/2024
জীবনে একসময় ভাবতাম অনেক বড় লেখক হবো যখন হুমায়ূন আহমেদ স্যারের লেখা পড়তাম , কারণ আমি মনে -প্রাণে বিশ্বাস করি আপনি লিখার মাঝে দিয়ে মানুষের মনের মধ্যে যে সম্মান এবং ভালোবাসার জায়গা দখল করে নিতে পারবেন তা অন্য কোনো মাধ্যম দিয়ে কম পারবেন ।
যার উধারণস্বরূপ বলতে পারি হুমায়ূন আহমেদ স্যারের অকাল প্রয়াণের এত বছর পরেও আমরা তার বই কিনি এখনো লাইন ধরে , এমনকি প্রতি বছর বইমেলা আসলে এখনো অন্যপ্রকাশ প্রকাশনীর স্টলের সামনে ভিড় লেগেই থাকে ।
গতবছর বাংলাদেশে বইমেলাতে যেয়ে আমি সর্বপ্রথমে সেই স্টলে যেয়ে লাইন ধরে ২ টি বই কিনেছিলাম যদি ও আমি সেই বইগুলো অনেক আগেই কিনে পড়েছিলাম ঢাকা বিষয়বিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে ।
আমি এখন ফিরে যাচ্ছি আমার শৈশবে যখন ক্লাস নাইন এ পড়ি তখন ইন্টারস্কুলে ছোট গল্প প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান দখল করে সকল ছাত্র-শিক্ষক এবং অভিভাবকদের মাঝে সাড়া ফেলেছিলাম , অনেকেই সেই ছোট্ট গল্পটা পড়ে কেঁদেছিলো । কেন কেঁদেছিলো ?! - তা আমি গল্পাকারে সারাংশ করে অন্য কোনো এক লিখাই লিখবো সময় করে পরে কোনো একদিন।
আমি সেই পুরস্কার টি এখনো যত্ন করে আমার আম্মুর কাছে রেখে দিয়েছি । আমার জীবনে যত পুরুষ্কার পেয়েছি সব আমার আম্মুর কাছে রেখে দিয়েছি , আম্মু খুব যত্ন করে রেখে দেয় এবং আমার অবর্তমানে আমার অর্জিত স্মৃতিগুলো নিয়ে গর্ব করে মনে মনে ।
সে যাই হোক মূল কথায় ফিরে আসি, ভালো লিখার মাঝে দিয়ে কত মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলা যায় তা শুধু আমরা সাধারণ পাঠক-পাঠিকারা বুঝি । আমি জীবনে অনেক কবিতা , ছোট গল্প এবং উপন্যাস লিখেছি কিন্তু কখনো সাহস হয় নাই একটা বই লিখে বইমেলার মতো এত বড় পরিসরে প্রকাশ করার ।
যদি ও আজকে এই পর্যন্ত আসতে আমার মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হয়েছে কত নির্ঘুম রাত কেটেছে পড়তে পড়তে ! তারপরও এখনো নিজেকে লেখক হিসাবে মনে করতে পারি না,লজ্জা এবং ভয় দুটোই কাজ করে নিজেকে লেখক হিসাবে জাহির করতে ।
কিন্তু যখন দেখি একজন মোটরসাইকেল চালিয়ে হাজার হাজার ফলোয়ার্স রাস্তায় জ্যাম করে ফেলছে , যখন দেখি একজন আসামি ৩ বছর জেল খেটে এসে বই লিখে তার অপরাধকে ঢাকার জন্য কেঁদে কেঁদে বই কিনার জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছে তার বন্দিনী জীবন নিয়ে , যখন দেখি ১৮ বছরের তরুণী ৬০ বছরের বৃদ্ধ কে বিয়ে করে দুজনে লেখক হিসাবে দাবী করছে , যখন দেখি ফুড ব্লগার লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করছে, ইনফ্লুয়েন্সাররা বই লিখে ফেলেছে তখন স্বাভাবিক ভাবে আমি খুব হতাশ হয়েছি জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিয়ে ।
তবে , গতকাল আমার মনে আশার সঞ্চার হয়েছে যখন সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখেছি সামাজিক ভাবে তরুণী এবং বৃদ্ধ জুটির অসম প্রেম কাহিনীর রচয়িতাদের বইমেলা থেকে নির্ঘিত এবং বয়কট করা হয়েছে । এমন সামাজিক এবং সামষ্টিক প্রতিবাদ করার খুব দরকার ছিল, তা না হলে যে রুচির দুর্ভিক্ষের যে আসর বসেছিল তা চলমান থাকতো এবং তা থেকে অনেক মানুষ প্রভাবিত হয়ে এমন কাজ করতে উঠেপড়ে লাগতো ।
আপনি ভালোবেসে বিয়ে করেছেন এক তরুণীকে টাকার জোরে সেখানে আমার প্রতিবাদ করার ইচ্ছে নাই , কিন্তু আপনি যখন ৬০ বছর পরে তরুণী বিয়ে করে ভাইরাল লেখক হবার হীন চেষ্ট্রা করে যাচ্ছেন এবং তরুণীদের মাঝে একটা সুগার ড্যাডি পাবার মতবাদকে অনুপ্রেরণার উৎস হিসাবে বইমেলা কে বেছে নিয়েছেন , তখন আপনার মতো নির্লজ্জ মানুষকে যে পুলিশ প্রটেকশন দিয়ে বের করে আনতে পেরেছে জীবন বাঁচিয়ে এইটার জন্য আল্লার কাছে দুজনে শুকরিয়া আদায় করেন ।
আরো আগেই করা উচিত ছিলো বিতাড়িত তাদেরকে বইমেলা থেকে , অবশেষে তাদেরকে বইমেলা থেকে বিতাড়িত করে মনে হচ্ছে এখনো সচেতন মানুষ আছে বাংলাদেশে ।
এইদিকে ডাক্তার ম্যাডাম কেঁদে চলেছেন - তার বন্দিনী নামক বইটিকে বিক্রির জন্য ! আচ্ছা ম্যাডাম , আপনি বন্দিনী জীবনে কি এমন প্রভাব রেখেছেন মানুষের মাঝে যে জেল থেকে বের হয়ে আপনি এমন একটা বই লিখে ফেললেন ??! আপনি শিক্ষিত হয়ে অনেক বড় ভুল করেছেন করোনাকালীন সময়ে মানুষের জীবনের তোয়াক্কা না করে যে অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়েছিলেন , তার জন্য আপনি জাতির কাছে ক্ষমা না চেয়ে আপনিও ভাইরাল লেখক হবার চেষ্ট্রা চালিয়ে যাচ্ছেন !!
প্রতিটি মানুষের ব্যাক্তি স্বাধীনতা আছে মতামত প্রকাশের , লেখার মাধ্যমে আমিও আমার প্রতিবাদী মতামত তুলে ধরার চেষ্ট্রা করেছি মাত্র আপনাদেরকে ছোট করার কোনো অভিপ্রায় আমার মনে ছিলো না । সমাজের জন্য ভালো কিছু করুন , দেখবেন আপনাকে জোর করে ভাইরাল হইতে হবে না , সমাজই আপনাকে ভাইরাল লেখক বানিয়ে ফেলবে একদিন ।
পরিশেষে , আমার মতো একদম সাধারণ পাঠকের বিনীত অনুরোধ — আপনারা সামাজিক রুচির দুর্ভিক্ষ না ঘটিয়ে কিভাবে নতুন প্রজন্মের জন্য ভালো কিছু দৃষ্টান্ত রেখে যাবেন সেই চিন্তা করবেন এখন থেকে , এই আশাবাদ ব্যক্ত করে আজকে এই পর্যন্তই ——
ভালো থাকবেন সবাই ,অন্ধকার কেটে আলো আসবেই । সবার প্রতি নিরন্তর শুভকামনা এবং অবিরাম ভালোবাসা থাকলো ।
———————————
✍️✍️ প্রফেসর এম এম হাসান
লন্ডন , যুক্তরাজ্য ।
১০ ফেব্রুয়ারী ২৪
পাদটীকা : ছবিটি গতবছর তুলেছিলাম বইমেলাতে যেয়ে তাই যোগ করে দিলাম মাত্র 😍🙌😊