আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রাতেই যখন শয্যায় আশ্রয় নিতেন তখন তাঁর দুই অঞ্জলী একত্র করে তাতে ফুঁ দিতেন। সে সময় কুল হুয়াল্লাহ আহাদ, কুল আউযু বিরাব্বিল-ফালাক এবং কুল আউযু বিরাব্বিন-নাস পাঠ করতেন। তারপর উভয় হাতে যথাসম্ভব দেহে মাসেহ করতেন, মাথা চেহারা এবং শরীরের সামনের দিক থেকে তিনি তা শুরু করতেন। এ ভাবে তিনি তিনবার করতেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৫১/দু’আ রাসুলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত, হাদিস নম্বরঃ ৩৪০২, হাদিসের মানঃ সহিহ]
সহিহ ইসলাম শিক্ষা/Sohih Islam Shikkha
Convey the true message of Islam in Bangla.
আসসালামু আলাইকুম,
ইসলাম সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণাগুলো দূর করে কুর'আন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামের শিক্ষা সবার কাছে পৌঁছে দেয়া এই পেজ এর মূল উদ্দেশ্য। আসুন, আমরা ইসলাম সঠিকভাবে জেনে পালন করার চেষ্টা করি।
Indeed, with hardship [will be] ease. [Quran 94:6]
Indeed, Allah is with the patient. [Quran 8:46]
যদি কেউ ৫ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে পারেন, হারাম থেকে দূরে থাকতে পারেন, গীবত থেকে দূরে থাকতে পারেন, বেশি সুন্নাহ মেনে চলার সুযোগ হয়; তাহলে আল্লাহ তাকে ভালবাসেন।
28/10/2021
কাফির ও মুনাফিকদের কবরের আযাবঃ
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (মৃত) বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হয় এবং তার সাথী এতটুকু মাত্র দূরে যায় যে সে (মৃত ব্যাক্তি) তখনও তাদের জুতার আওয়াজ শুনতে পায়। এ সময় দু’জন ফিরিশতা তার কাছে এসে তাকে বসান এবং তাঁরা বলেন, এ ব্যাক্তি অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে তুমি কি বলতে? তখন মু’মিন ব্যাক্তি বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল। তখন তাঁকে বলা হবে, জাহান্নামে তোমার অবস্থানস্থলটির দিকে নযর কর, আল্লাহ তোমাকে তার বদলে জান্নাতের একটি অবস্থানস্থল দান করেছেন। তখন সে দু’টি স্থলের দিকেই দৃষ্টি করে ফেলবে।
কাতাদা (রহঃ) বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করা হয়েছে যে, সে ব্যাক্তির জন্য তাঁর কবর প্রশস্ত করে দেওয়া হবে। এরপর তিনি (কাতাদ) পুনরায় আনাস (রাঃ) এর হাদীসের বর্ণনায় ফিরে আসেন। তিনি [আনাস (রাঃ)] বলেন, আর মুনাফিক বা কাফির ব্যাক্তিকেও প্রশ্ন করা হবে তুমি এ ব্যাক্তি (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে কি বলতে? সে উত্তরে বলবে, আমি জানিনা। লোকেরা যা বলত আমি তা-ই বলতাম। তখন তাকে বলা হবে, তুমি না নিজে জেনেছ, না তিলাওয়াত করে শিখেছ। আর তাকে লোহার মুগুর দ্বারা এমনভাবে আঘাত করা হবে, যার ফলে সে এমন বিকট চিৎকার করে উঠবে যে, দু’ জাতি (মানব ও জ্বীন) ব্যতিত তার আশপাশের সকলেই তা শুনতে পাবে।
গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২০/ জানাযা (كتاب الجنائز), হাদিস নম্বরঃ ১২৯১, হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মৃত ব্যক্তিকে যখন কবরে রাখা হয় তখন দুইজন কৃষ্ণবর্ণের ও নীল চক্ষু বিশিষ্ট ফিরিশতা তার কাছে আসেন, একজনকে বলা হয় ‘‘আল-মুনকার’’ আর অপরজনকে বলা হয় ‘‘আন-নাকীর’’। তাঁরা বলেন, এই ব্যক্তি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে তুমি কি বলতে? সে তখন (দুনিয়াতে) তাঁকে যা বলত ত-ই বলবে যে, ইনি হলেন আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূলঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি কোন ইলাহ নেই আল্লাহ্ ছাড়া, আর মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
তার পর তাঁরা বলবেন আমরা জানতাম যে তুমি এই কথা বলবে। এরপর তার কবর সত্তর গজ প্রশস্ত করে দেওয়া হবে এবং তার জন্যে এটি আলোকিত করে দেওয়া হবে। এরপর তাকে বলা হবে। তুমি ঘুমিয়ে পড়। ঐ ব্যক্তি বলবে, আমি আমার পরিবার-পরিজনের নিকট ফিরে যেতে চাই যাতে এই খবরটি তাদের দিতে পারি। তখন ফিরিশতা দুইজন বলবেন, নয়া দুলহার মত তুমি ঘুমিয়ে থাক। যাকে তার পরিবারের সবচাইতে প্রিয় ব্যক্তি ছাড়া জাগায় না। অবশেষে আল্লাহ্ তা’আলা তাকে তার এই শয্যা থেকে উত্থিত করবেন। আর মৃত্ ব্যক্তি যদি মুনাফিক হয় তবে সে (ফিরিশতাদের প্রশ্নের উত্তরে) বলবে, আমি তো জানিনা, তবে লোকদের যা বলতে শুনেছি আমিও তাই বলেছি। ফিরিশতারা বলবে, আমরা জানতাম তুমি এই ধরণেরই কথা বলবে। এরপর যমীনকে বলা হবে একে চাপ দাও। তখন যমীন তাকে চাপ দিবে। ফলে তার পিঞ্জরাস্থিসমূহ একটার ভিতর অন্যটা ঢুকে পড়বে। এভাবে সে আযাব ভোগ করতে থাকবে, অবশেষে তাকে আল্লাহ্ ত’আলা তার এ শয্যা থেকে উত্থিত করবেন।
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১০/ কাফন-দাফন (كتاب الجنائز عن رسول الله ﷺ), হাদিস নম্বরঃ ১০৭১, হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মু'মিন ব্যক্তি যখন মৃত্যুর সম্মুখীন হয় তখন তার কাছে একদল রহমতের ফেরেশতা সাদা রেশমী কাপড় নিয়ে এসে (তার) তাকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকেন, “তুমি আল্লাহ তা’আলার রহমত এবং সন্তুষ্টির পানে বের হয়ে আস আল্লাহ তা'আলা তোমার উপর রুষ্ট নন; তুমি তার উপর সন্তুষ্ট, তিনিও তোমার উপর সন্তুষ্ট। তখন আত্না মেশকের সুঘ্রাণ অপেক্ষাও অধিক সুঘ্রান ছড়াতে ছড়াতে বের হয়ে আসে।
যখন ফেরেশতাগণ সলামের খাতিরে আত্নাকে পর্যায়ক্রমে একজনের হাত থেকে অন্যজনের হাতে দিয়ে আসমানের দরজায় নিয়ে আসেন তখন তথাকার ফেরেশতাগণ বলতে থাকেন, এ সূগন্ধি কত না উত্তম! যা তোমরা নিয়ে আসলে। আর তারা তাকে মু'মিনদের রুহ সমূহের কাছে নিয়ে যান। তোমাদের কেউ প্রবাস থেকে আসলে তোমরা যেরূপ আনন্দিত হও, মু'মিনদের রূহও ঐ নবাগত রূহকে পেয়ে ততোধিক আনন্দিত হয়।
মুমিনদের রূহ নবাগত রূহকে জিজ্ঞাসা করে যে, অমুক ব্যক্তি দুনিয়াতে কি কাজ করেছে? অমুক ব্যক্তি দুনিয়াতে কি কাজ করেছে? তখন ফেরেশতারা বলেন, তার সম্পর্কে তোমরা কি জিজ্ঞাসা করবে? সে দুনিয়ার চিন্তা-ভাবনায় ছিল। যখন নবাগত রূহ বলেঃ সে কি তোমাদের কাছে আসেনি? তখন আসমানের ফেরেশতারা বলেনঃ তাকে তার বাসস্থান হাবিয়াতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আর কাফির যখন মৃত্যুর সম্মুখীন হয় তখন তার কাছে আযাবের ফেরেশতারা চটের ছালা নিয়ে আগমন করে এবং তাকে উদ্দেশ্য করে বলে থাকে, “তুমি আল্লাহ তা'আলার আযাবের পানে বের হয়ে আস, তুমিও আল্লাহ তা’আলার উপর অসন্তুষ্ট, আল্লাহ তা'আলাও তোমার উপর অসন্তুষ্ট। তখন সে মুর্দারের দুর্গন্ধ থেকেও অধিকতর দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে রের হয়ে আসে। যখন ফেরেশতারা তাকে নিয়ে দুনিয়ার আসমানের দরজায় পৌছে তখন তথাকার ফেরেশতারা বলতে থাকে এ কি দুর্গন্ধ! এরপর ফেরেশতারা তাকে কাফিরদের আত্না সমূহের কাছে নিয়ে যায়।
গ্রন্থঃ সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২১/ জানাজা (كتاب الجنائز), হাদিস নম্বরঃ ১৮৩৬, হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
আল্লাহ আমাদের মুনাফিকি (নিফাক), কবরের ও জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন। আমিন।
তোমাদেরকে কিসে জাহান্নামে নিক্ষেপ করেছে? তারা বলবেঃ আমরা সালাত আদায় করতাম না। [সূরা আল-মুদ্দাসিরঃ ৪২-৪৩]
20/09/2021
দোয়া কবুলের সবচেয়ে উত্তম ১২ টি সময়। Doa Kobuler Sobcheye Uttom Somoy BY শায়খ আহমদ উল্লাহ [HD] দোয়া কবুলের সবচেয়ে উত্তম ১২ টি সময়। Doa Kobuler Sobcheye Uttom Somoy BY শায়খ আহমদ উল্লাহ [HD]Visit my channel https://www.youtube.com/channel/UCu6CWa-dH...
02/07/2021
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কিয়ামতে আল্লাহ্ তা’আলা সব মানূষকে একই ময়দানে জমায়েত করবেন। এরপর আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তাদের সম্মুখে নিজেকে প্রকাশ করবেন। বলবেনঃ শোন, (পৃথিবীতে) যে যার অনুসরণ করে চলতো আজ সে তারই অনুসরণ করে চলবে। এরপর ক্রুশ অনুসারীদের জন্য ক্রুশ, মূর্তী পূজকদের জন্য তাদের মূর্তিসমূহ, অগ্নি উপাসকদের জন্য অগ্নি উপস্থাপিত হবে এবং প্রত্যেকেই স্ব স্ব মা’বুদের পেছনে চলবে। অবশেষে কেবল মুসলিমরাই অবশিষ্ট থাকবে। তখন রাব্বুল আলামীন তাদের সামনে প্রকাশিত হবেন। বলবেনঃ তোমরা অন্যান্য লোকদের অনুসরণ করলে না কেন?
মুসলিমরা বলবেঃ নাউযুবিল্লাহ্, আল্লাহর কাছে আমরা পানাহ চাই, আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। আল্লাহ্ই আমাদের রব। আমাদের রবকে না দেখা পর্যন্ত এখানেই আমরা অবস্থান করব। তখন তিনিই তাদের নির্দেশ দিবেন এবং সুদৃঢ় রাখবেন। এরপর তিনি অন্তরালে চলে যাবেন। আবার তিনি প্রকাশিত হবেন। বলবেনঃ তোমরা অন্যান্য লোকদের অনূসরণ করলে না কেন? তারা বলবেঃ নাউযুবিল্লাহ্, আল্লাহর কাছে আমরা পানাহ চাই, আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। আল্লাহ্ই আমাদের রব। আমাদের রবকে না দেখা পর্যন্ত এখানেই আমরা অবস্থান করব। তখন তিনিই তাদের নির্দেশ দিবেন এবং সুদৃঢ় রাখবেন।
সাহাবীগণ বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা কি তাঁকে দেখব? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখতে কি তোমাদের একজন আরেকজনকে কষ্ট দিতে হয়? তাঁরা বললেনঃ না, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তিনি বললেনঃ ঐ সময় তাঁকে দেখতেও তোমাদের কোন ধাক্কাধাক্কি হবে না।
অতঃপর আল্লাহ্ তা’আলা অন্তরালে চলে যাবেন। পরে আবার প্রকাশিত হবেন এবং নিজের পরিজয় জ্ঞাপন করবেন। বলবেনঃ আমিই তোমাদের রব। আমার পেছনে তোমরা চল। মুসলিমরা উঠে দাঁড়াবে। পুল-সিরাত স্থাপন করা হবে। এর উপর দিয়ে দ্রুতগামী অশ্ব ও উষ্ট্রের ন্যায় তারা অতিক্রম করে যাবে। তাদের ধ্বনি হবে’‘সাল্লিম সাল্লিম’’ রক্ষা কর, রক্ষা কর। জাহান্নামীরা বাকী থেকে যাবে। তাদের এক বিরাট বাহিনীকে এতে নিক্ষেপ করা হবে। পরে জাহান্নামকে বলা হবে, তোর পেট ভরেছে কি? জাহান্নাম বলবেঃ আরো আছে কি? এরপর এতে আরো একদল নিক্ষেপ করা হবে। বলা হবেঃ তোর ভরেছে কি? জাহান্নাম বলবেঃ আরো আছে কি?
এরপর এতে আরো একদল নিক্ষেপ করা হবে। বলা হবেঃ তোর ভরেছে কি? জাহান্নাম বলবেঃ আরো আছে কি? যখন তাতে সব কিছু ভরা শেষ হয়ে যাবে তখন দয়াময় রহমান তাতে তাঁর পা স্থাপন করবেন। এটি পরস্পর সংকুচিত হয়ে যাবে। পরে তিনি বলবেনঃ হলো তো। জাহান্নাম বলবঃ কাত কাত - হয়েছে হয়েছে।
আল্লাহ্ তা’আলা জান্নাতীদেরকে জান্নাতে এবং জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামে দাখিল করে দিবেন। তখন মওতকে গলায় কাপড় বেঁধে টেনে নিয়ে আসা হবে এবং জান্নাতবাসী ও জাহান্নামবাসীদের মাঝে অবস্থিত প্রাচীরে সেটিকে রাখা হবে। পরে ডাক দেয়া হবে। হে জান্নাতবাসীগণ! তারা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে নিজ নিজ আবাস থেকে বের হয়ে আসবে। পরে ডাক দেয়া হবে, হে জাহান্নামবাসীগণ! তারা শাফাআতের আশায় আশান্বিত হয়ে খুশীতে নিজ নিজ আবাস থেকে বের হয়ে আসবে। যা হোক, পরে জান্নাতবাসী ও জাহান্নামবাসীদের বলা হবেঃ তোমরা এটাকে চিন?
এরা ওরা সবাই বলবেঃ আমরা একে চিনেছি। এ-ই হল মৃত্যু যা আমাদের উপর ন্যাস্ত করে দেওয়া হয়েছে। পরে এটি শোয়ানো হবে এবং ঐ প্রাচীরের উপর এটিকে যবেহ করে দেওয়া হবে। এরপর বলা হবেঃ হে জান্নাতবাসীগণ! অনন্তকালের জন্য হল তোমাদের এই জান্নাত, মৃত্যু নেই আর। হে জাহান্নামবাসীগণ! অনন্তকালের জন্য হল তোমাদের এই জাহান্নাম, মৃত্যু নেই আর। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪১/জান্নাতের বিবরণ, হাদিস নম্বরঃ ২৫৫৯, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ বান্দাগণ বলে, আমার মাল আমার মাল। অথচ তিনটই হল তার মাল, যা সে ভক্ষণ করল এবং শেষ করে দিল। অথবা যা সে পরিধান করল এবং পুরাতন করে দিল। কিংবা যা সে দান করল এবং সঞ্চয় করল। এ ছাড়া বাকীগুলো শেষ হয়ে যাবে এবং মানুষের জন্য রেখে যেতে হবে।
[গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৫৬/ যুহুদ ও দুনিয়ার প্রতি আকর্ষণহীনতা সম্পর্কিত বর্ণনা (كتاب الزهد والرقائق), হাদিস নম্বরঃ ৭১৫৪]
পার্থিব চিন্তা -
আবান ইবনে উসমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যায়েদ ইবনে সাবিত (রাঃ) দুপুরের সময় মারওয়ানের নিকট থেকে বের হয়ে এলে আমি ভাবলাম, নিশ্চয় কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানার জন্য এ সময় তিনি তাকে ডেকে পাঠিয়েছেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আমাদের শ্রুত কতক হাদীস শোনার জন্য মারওয়ান আমাদের ডেকেছেন। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ পার্থিব চিন্তা যাকে মোহগ্রস্ত করবে, আল্লাহ তার কাজকর্মে অস্থিরতা সৃষ্টি করবেন, দরিদ্রতা তার নিত্যসংগী হবে এবং পার্থিব স্বার্থ ততটুকুই লাভ করতে পারবে, যতটুকু তার তাকদীরে লিপিবদ্ধ আছে। আর যার উদ্দেশ্য হবে আখেরাত, আল্লাহ তার সবকিছু সুষ্ঠু করে দিবেন, তার অন্তরকে ঐশ্বর্যমন্ডিত করবেন এবং দুনিয়া স্বয়ং তার সামনে এসে হাযির হবে।
[গ্রন্থঃ সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ৩১/ পার্থিব ভোগবিলাসের প্রতি অনাসক্তি (كتاب الزهد), হাদিস নম্বরঃ ৪১০৫, সহীহাহ ৯৫০। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। হাদিসের মানঃ সহিহ]
হারিছা ইবন ওয়াহব খুযাঈ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আমি তোমাদেরকে জান্নাতবাসীদের সম্পর্কে খবর দিব? তারা হল, প্রত্যেক সেই ব্যক্তি যে দুর্বল বলে মনে করা হয় কিন্তু সে যদি আল্লাহর উপর কোন বিষয়ে কসম খায়, তবে আল্লাহ্ তা’আলা অবশ্যই তার কসম পূরণ করেন। শোন, জাহান্নামবাসী সম্পর্কে তোমাদের খবর দিব কি? তারা হল প্রত্যেক সেই ব্যক্তি যে কটুভাষী, কৃপণ ও অহঙ্কারী। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪২/জাহান্নামের বিবরণ, হাদিস নম্বরঃ ২৬০৬, হাদিসের মানঃ সহীহ]
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Website
Address
47 North Walk, Yate
Bristol
BS374AP