Trends

Trends

Share

education

08/06/2021

মুসলিম জাতির উদ্দেশ্যে একজন ইহুদি যুবকের মেসেজ!
আমি একজন ইহুদি। এতে আমি গর্বিত। কেননা দুনিয়ায় আজ আমাদেরই রাজত্ব। জিহাদে তোমাদের সাথে পেরে উঠতে না পেরে আমরা কি করেছি জান?? খুব সহজে তোমাদের যুবতিদের থেকে পর্দা উঠিয়ে দিয়েছি। কোরআনের শিক্ষা থেকে তোমাদের সরিয়ে দিয়েছি। তোমাদের কাছে আমাদের পোশাক পাঠিয়ে দিয়েছি, আমাদের সংস্কৃতি পাঠিয়ে দিয়েছি, আমাদের সভ্যতা রপ্তানি করেছি।
তোমাদের শপিংমলগুলোর দিকে তাকাও। কি দেখতে পাচ্ছ?? সব উলঙ্গ পোশাকের মেলা। তাই না? মজার ব্যপার হল, তোমরা বড় সহজে তা গ্রহণ করে নিয়েছ। তোমরা কি জান না?? লুত সম্প্রদায়ের এই হাল ছিল?? কত নির্বোধ তোমরা!! হাহাহা।
তোমরা শ্লোগান দেও, ইহুদিরা আমাদের পবিত্র ভূমি ছিনিয়ে নিয়েছে, আমাদের প্রথম কিবলা দখল করে রেখেছে, কোরআন সুন্নাহকে শেষ করে দিচ্ছে, কিন্তু কই?? কি করেছ তোমরা?? কিছুই করতে পারনি। পারবেও না। হাহাহা।
দৃষ্টি মেলে তাকাও, রাস্তায় রাস্তায় তোমাদের যুবতিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। আহ ! কি খুশির কথা ! তোমাদের অবস্থা সূচনীয়। তোমরা মুসলমানরা শেষ হয়ে গেছ। প্রভূ আমাদের সহায় হোন। তোমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আমরা বদলে দিয়েছি। সেখানে ইসলাম বলতে কিছুই নেই। আছে কিছু বিকৃত মতবাদ। টেলিভিশনে দিয়েছি সব নিচু মানষিকতার প্রোগ্রামস। তোমাদের এখন চুপচাপ থেকে আমাদের বাতলানো পথে চলাই ভাল। যদি বাঁচতে চাও। আর দেখে যাও আমাদের প্রোগ্রামগুলো।
আমরা তোমাদের যুবকদের মগজকে নষ্ট করে
দিয়েছি। এক সময় তোমরা বড় সম্মানী জাতি ছিলে। এখন আমরা সম্মানী। তোমাদের যুবকরা আমাদের হাতের দিকে তাকিয়ে থাকে। তোমরা এখন চাকর জাতি। আমরাই তোমাদের এখন পরিচালনা করি।
তোমাদের জাতীয় ভাষাকে আমরা বদলে দিয়েছি। যে ভাষায় কোরআন, যে ভাষা স্বর্গের, যে ভাষা তোমাদের নবীর। এখন তোমরা আমাদের ভাষা শিখে, আমাদের ভাষায় (হাই, হ্যালো, মার্সি ইত্যাদি) কথা বলতে পেরে গর্ববোধ কর। এখন তোমরা আরবি ভাষাকে অহেতুক মনে কর। হাহাহা।
তোমরা একতাবদ্ধ থাকো সেটা আমাদের পছন্দ হয়নি। তাই তোমাদের মসজিদে মসজিদে বিরোধী ফিরকা তৈরি করে দিয়েছি। এখন তোমরা মুসলমান মুসলমানের সাথেই লড়ছ। আমরা তোমাদের দ্বীনকে বড় গভীরভাবে অধ্যায়ন করেছি এবং ছোট ছোট মাসআলা দিয়ে
তোমাদের মধ্যে ফিরকা তৈরি করেছি। তোমরা এখন সেই আগুনেই পোড়ে মরছ। এখন তোমাদের বাচ্চারা সিরিয়াল দেখে দেখে বড় হয়। আর তোমরা তাদেরকে শান্ত রাখতে সিরিয়ালে মত্ত রাখ আর নিজেরা ডুবে থাকো অন্য সিরিয়ালে। হাহা।
অধ্যায়ন থেকে তোমাদের দূরে রাখতে আমরা বিভিন্ন ধরনের গেমস আবিষ্কার করেছি। যাতে তোমরা গেমসে ব্যস্ত থেকে কোরআনের জ্ঞানার্জন করতে না পার। কোরআনকে ভুলে যাও, তোমাদের আলেমদের ভুলে যাও, মুসলিম বিজ্ঞানীদের ভুলে যাও।
তোমাদের নতুন প্রজন্ম এমন প্রজন্ম, যারা সত্য বলতে ভয় পায়, সত্য না বলাকে হেকমত মনে করে। আমরা তোমাদেরকে এমন এক মিডিয়া দিয়েছি যাতে সারাদিন পড়ে থাকা যায় ও নামাজ, কোরান থেকে দুরে রাখা যায়। এটা আমাদেরই সফলতা। হাহাহা।
আমরা ইহুদি জাতি এই কথার উপর গর্ব করি যে, আমরা সংখ্যায় অতি নগণ্য হয়েও তোমাদেরকে আজ তরকারির ন্যায় খরিদ করে নিয়েছি। আর এতে তোমরা মোটেও চিন্তিত নও। বরং আমাদের অধিনে কাজ করতে পেরে তোমরা গর্ববোধ কর। প্রভূ আমাদের কৃপা করুন। যাতে একজন মুসলিমও না থাকে।

08/06/2021

▌ফিলিস্তিনে ইহুদীদের অবস্থান বিশ্বে অশান্তির অন্যতম কারণ


১. ৭. ইস্রায়েল, সাম্রাজ্যবাদ, তেল ও ধর্ম

উপরের মতটির সম্পূরক বা কাছাকাছি একটি মত হলো, সমকালীন বিশ্বের সকল অশাস্তি, যুদ্ধ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের অন্যতম কারণ ফিলিস্তিনে ইস্রায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা, মধ্যপ্রাচ্যের তেল, মুসলিম দেশগুলির সম্পদ ও ভৌগলিক অবস্থান ও ইউরোপআমেরিকার উগ্র ধর্মভিত্তিক সাম্রাজ্যবাদী নব্য রক্ষণশীল (neoconservatives) বা নিওকনদের আবির্ভাব ও আধিপত্য। পবিত্র বাইবেল থেকে জানা যায় যে, ফিলিস্তিনে ইহূদীদের অবস্থান বিশ্বে অশান্তির অন্যতম কারণ। বাইবেলের বর্ণনা অনুসারে আল্লাহ ইস্রায়েল-সন্তানগণকে আল্লাহর বিধান পালন ও মানবজাতির কল্যাণের বিনিময়ে ফিলিস্তিনে তাদের বাসস্থান প্রদানের ওয়াদা করেন। কিন্তু পুরোহিতদের বিকৃতির কারণে তারা এ ওয়াদাকে তাদের জাতিগত সম্পদ বলে গণ্য করে এবং আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়। ইস্রায়েল-সন্তানগণ খৃস্টপূর্ব ১২৮৫ সালের দিকে মূসা (আ)-এর নেতৃত্বে মিসর থেকে ফিলিস্তিনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। প্রায় আড়াইশত বৎসর বিভিন্ন স্থানে বসবাসের পর খৃস্টপূর্ব ১০০০ সালের দিকে তালুতের এবং এরপর দাউদের (আ) নেতৃত্বে তারা ফিলিস্তিনে ইহূদী রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে। দাউদ (আ) ও সুলাইমান (আ)-এর রাজত্বকালের প্রায় ৬৫ বৎসর এ রাজ্য ভালভাবে চলে। সুলাইমানের (আ) ইন্তেকালের পরে তাঁর রাজত্ব দুভাগে ভাগ হয়ে যায়। পরবর্তী প্রায় তিনশত বৎসরের ইতিহাস হলো রাজত্বের উভয় অংশের পারস্পরিক এবং পার্শবর্তী রাজ্যগুলির সাথে তাদের অভাবনীয়- অবর্ণনীয় রক্তারক্তি ও হানাহানির ইতিহাস।

খৃস্টপূর্ব ৬০৬ থেকে ৫৮৭ সালের মধ্যে ব্যাবিলনের শাসক নেবুকাদনেজার কয়েকবার আক্রমনের মাধ্যমে জেরুজালেম সম্পূর্ণ ধ্বংস করেন এবং ইস্রায়েলীয়দেরকে বন্দী করে ব্যাবিলনে নিয়ে যান। প্রায় অর্ধ শতাব্দী পরে তারা মুক্তি লাভ করে এবং জেরুজালেমে ফিরে আসে। পরবর্তী প্রায় ৫০০ বৎসর ইস্রায়েলীরা গ্রীক, সিরিয় বা রোমান সাম্রাজ্যের অধীনে জেরুজালেমে বসবাস করে। সর্বশেষ ১৩৬ খৃস্টাব্দে রোমান সম্রাট হার্ডিয়ান (Hadrian :১১৭-১৩৮) জেরুজালেম ও মসজিদে আকসা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেন। তিনি ইহূদীদেরকে ফিলিস্তিন থেকে চিরতরে বিতাড়িত করেন। অধিকাংশ ইহূদীকে বন্দী করে রোমে নিয়ে যান। তিনি ইহূদীদের জন্য জেরুজালেমে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেন। শুধু বৎসরে নির্ধারিত একদিন ক্রন্দন করার জন্য আগমনের অনুমতি ছিল তাদের। এ হলো জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনে ইহূদীদের প্রায় হাজার বছরের ইতিহাস। এ ইতিহাস শুধু রক্তের ইতিহাস। ইহূদীগণ যতদিন জেরুজালেমে ছিল ততদিন এতদাঞ্চলের কোনো মানুষই শান্তিতে থাকতে পারে নি। তারা নিজেদের মধ্যে হানাহানি ও রক্তারক্তি করেছে, নবী-রাসূলগণকে হত্যা করেছে, পার্শবর্তী দেশগুলিতে রক্তারক্তি ও হানাহানি রফতানি করেছে এবং পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করেছে। ইহূদী-খৃস্টানদের ধর্মগ্রন্থ পবিত্র বাইবেল থেকে তাদের প্রতারণা, জবরদখল, গণহত্যা, গণধ্বংসযজ্ঞ, অনাচার ও ধর্মদ্রোহিতার ইতিহাস বিস্তারিতভাবো জানা যায়। ইস্রায়েলীয়দের রক্তারক্তি ও হানাহানি এতই অস্বাভাবিক ছিল যে, পার্শবর্তী রাজাগণ তাদের রাজ্য দখল করার পরে একাধিকবার তাদেরকে এলাকা থেকে সম্পূর্ণ বিতাড়ন করেছেন। বিশ্বের ইতিহাসে জয়পরাজয়ের অনেক ঘটনা রয়েছে। কিন্তু সম্পূর্ণ জনগোষ্ঠীকে বিতাড়নের এরূপ ঘটনা তেমন দেখা যায় না।

খৃস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দী থেকে বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত প্রায় দু হাজার বৎসর ইহূদীগণ ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে সাধারণ নাগরিক হিসেবে বসবাস করেছে। এরপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে ১৯৪৮ খৃস্টাব্দে ইউরোপ ও আমেরিকার সহায়তায় হাজার হাজার বৎসর ধরে ফিলিস্তিনে বসবাসকারী আররদেরকে হত্যা ও বিতাড়ন করে ফিলিস্তিনে আবার ইস্রায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়।
বাইবেলের বর্ণনা প্রমাণ করে যে, ফিলিস্তিনে ইহূদীদের প্রথম অবস্থানের প্রায় হাজার বছরে কখনোই তারা পার্শবর্তী কোনো দেশের মানুষদেরকে শান্তিতে থাকতে দেয় নি। এথেকে বুঝা যায় যে, ফিলিস্তিনে ইস্রায়েলীয়দের অবস্থান এতদাঞ্চলের অশান্তির মূল কারণ। যতদিন তারা তথায় থাকবে ততদিন কোনোভাবেই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না। কুরআন কারীমে মহান আল্লাহ তাদের অনাচার, অত্যাচার ও দুবার জেরুজালেম ধ্বংস ও তাদের বিতাড়নের ঘটনার উল্লেখ করে বলেন:

عَسَىٰ رَبُّكُمْ أَنْ يَرْحَمَكُمْ وَإِنْ عُدْتُمْ عُدْنَا

‘‘আশা করা যায় যে, তোমাদের রব তোমাদেরকে করুণা করবেন। আর যদি তোমরা প্রত্যাবর্তন কর তবে আমিও প্রত্যাবর্তন করব’’[1]

এ থেকে বুঝা যায় যে, ১৩৬ খৃস্টাব্দে দ্বিতীয় বিতাড়নের পরে, অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর পরে পুনরায় একবার তাদেরকে জেরুজালেমে বসবাসের সুযোগ আল্লাহ দিতে পারেন এবং জেরুজালেমে ফেরার পরে যদি তারা আবার তাদের আগের স্বভাব ও কর্মে ফিরে যায় তাহলে আল্লাহও আবার তাদের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করাবেন। কুরআনের আলোকে আমরা বলতে পারি যে, আল্লাহ তাদেরকে আরেকবার করুণা করেছেন। কিন্তু তারা আবারো তাদের পূর্বের স্বভাব ও কর্মে ফিরে গিয়েছে। কাজেই অশাস্তি চলতে থাকবে এবং বিতাড়নের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর বিভিন্ন ভবিষ্যদ্বাণী থেকেও তা জানা যায়।

আমরা আগেই বলেছি, ফিলিস্তিনে ইহূদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সাথে সাম্রাজ্যবাদীদের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরো কঠিন করেছে। এর সাথে মিলিত হয়েছে নব্য রক্ষণশীলদের ধর্মচিন্তা। ইউরোপে এবং বিশেষ করে আমেরিকায় খৃস্টধমীয় মৌলবাদিতা ও রক্ষণশীলতা ব্যাপকভাবে মাথাচাড়া দিয়েছে। যারা খৃস্টধর্মের ইতিহাস জানেন তারা নিশ্চিত জানেন যে, খৃস্টধর্মীয় রক্ষণশীলতার অর্থই ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা। ইতিহাসের পাঠকগণ জানেন, গ্রীক ও রোমানগণ সর্বদা অন্যান্য মানবগোষ্ঠীকে বর্বর বলে চিত্রিত করেছে এবং একমাত্র তাদের সভ্যতাকেই উন্নত সভ্যতা বলে চিত্রিত করেছে। গ্রীক ও রোমান সভ্যতার উত্তরসূরী ইউরোপ-আমেরিকা বা পাশ্চাত্যের মানুষেরা এ উন্নাসিকতার উত্তরাধিকার লাভ করেছেন। তারা সর্বদা তাদের সহনশীলতা, উদারতা, পরমতসহিষ্ণুতা, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বহুত্ববাদ (Pluralism) নিয়ে গর্ব ও গৌরব করেন। তাদের এ বহুত্ববাদ বড় অদ্ভুত! আমেরিকান, বৃটিশ, আইরিশ বা অন্য কোনো দেশের খৃস্টধর্মের অনুসারী কোনো সন্ত্রাসীকে ‘‘খৃস্টান সন্ত্রাসী’’ বললে তারা আহত হন এবং এরূপ বলাকে অসহিষ্ণুতা বলে মনে করেন; কারণ এতে ধর্মপ্রাণ সৎ খৃস্টানগণের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া হয়। কিন্তু ইসলাম ধর্মের অনুসারী কোনো সন্ত্রাসীকে ‘‘মুসলিম সন্ত্রাসী’’ বলতে অসুবিধা আছে বলে তারা মনে করেন না। উপরন্তু ইসলামকে সন্ত্রাসী ধর্ম মুসলিমদেরকে সন্ত্রাসী বলে আখ্যায়িত করলেও কোনোরূপ অসহিষ্ণুতা হয় বলে তারা মনে করেন না, বরং এরূপ কথার প্রতিবাদই অসহিষ্ণুতা!

এ বহুত্ববাদের কারণে ইসলাম বা অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাসে আঘাত দিয়ে বক্তব্য, কার্টুন, সিনেমা, সাহিত্য ইত্যাদিকে বাকস্বাধীনতা বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু ‘এন্টি সেমিটিযম’ (Anti-Semitism) আইনের নামে ইহূদী জাতি ও ধর্ম বিষয়ক ঐতিহাসিক গবেষণা ও মতপ্রকাশ নিষিদ্ধ ও দন্ডনীয় করা হয়েছে, ব্লাসফেমি (Blasphemy) আইনের মাধ্যমে খৃস্টান ধর্মের বিরুদ্ধে বক্তব্য নিষিদ্ধ ও দন্ডনীয় করা হয়েছে।

এ বহুত্বের শর্ত merge বা একীভূত হওয়া। যে বিষয়কে তারা ‘তাদের নিজস্ব’ বলে গণ্য করবেন তা বিনা বাক্যে মেনে নিয়ে তার মধ্যে একীভূত হলেই কেবল তাদের বহুত্ববাদের কল্যাণ লাভ করা যাবে। আর এর বিপরীত মত, কর্ম, কৃষ্টি বা সভ্যতাকে তারা ‘‘সভ্যতার’’ জন্য ক্ষতিকর বিবেচনা করে প্রতিরোধ করতে সচেষ্ট হন। এজন্য যখন তারা ‘‘খৃস্টধর্ম’’-কে তাদের নিজস্ব বলে গণ্য করেছেন তখন ইহূদী ও মুসলিমদের আইন করে দমন, নির্মূল বা ধর্মান্তর করেছেন। অনুরূপভাবে ‘‘খৃস্টধর্ম’’ বিরোধী মতামত প্রকাশকারী সাহিত্যিক, দার্শনিক, বৈজ্ঞানিক ও চিন্তাবিদদের দমন ও নির্মূল করেছেন। একই কারণে প্রটেস্ট্যান্টগণ ক্যাথলিকদেরকে এবং ক্যাথলিকগণ প্রটেস্ট্যান্টদেরকে দমন, নির্মূল বা ধর্মান্তর করেছেন। এরূপ বহুত্ববাদী ধর্মনিরপেক্ষ ধার্মিক নিও-কনদের আধিপত্য আবার সেই পুরাতন জবরদস্তি, ধর্মান্তর ও ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার কথা মনে করায়।

আর সাম্রাজ্যবাদীদের ধর্ম ও সাম্রাজ্যবাদ হাত ধরাধরি করে চলে। যেখানেই সাম্রাজ্যবাদীরা উপনিবেশ করেছে সেখানেই তারা নানা কৌশলে ধর্মান্তর করতে চেষ্টা করেছে। এখনো এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। ইরাক ও আফগানিস্তানে সামরিক আগ্রাসনের পাশাপাশি মিশনারি আগ্রাসনের প্রস্ত্ততির সংবাদ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। তথায় মার্কিন ও বৃটিশ সৈন্যরা এবং তাদের ছত্রছায়ায় অন্যান্য প্রচারক সরাসরি অথবা ‘‘সেবার’’ নামে ধর্মান্তরের বহুমুখি চেষ্টা চালাচেছন। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উপজাতি ও সংখ্যালঘুদেরকে বিভিন্ন প্রলোভনে খৃস্টধর্মে ধর্মান্তরিত করে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের প্রেক্ষাপট তৈরি করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের তেল নিয়ন্ত্রণ, খৃস্টীয় ধর্ম বিশ্বাস অনুসারে বিশ্বের ইহূদীদেরকে ফিলিস্তিন-জেরুজালেমে একত্রিত করে যীশুখৃস্টের পুনরাগমনের প্রেক্ষাপট তৈরি এবং মুসলিম দেশগুলিকে অস্থিতিশীল করে তাদের সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে একদিকে ফিলিস্তিন, ইরাক ও অন্যান্য দেশে নির্বিচারে নারী, পুরুষ ও শিশুরেদেক গণহারে হত্যা করা হচ্ছে, এ সকল মানবতা-বিরোধী অপরাধের সরব সমর্থনের পাশাপাশি এগুলির বিরুদ্ধে সকল কণ্ঠকে নীরব করে দেওয়া হচ্ছে। বিক্ষুদ্ধ কেউ সন্ত্রাসের পথ বেছে নিলে তাকে ‘‘ইসলামী জঙ্গি’’ বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। বিনা প্রমাণে বিভিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনাকে ইসলামী জঙ্গিদের কর্মকান্ড বলে দাবি করা হচ্ছে। প্রয়োজনে বিভিন্ন দেশের ধর্মপ্রাণ যুবকদের ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে তাদেরকে ডেকে এনে অস্ত্র, ট্রেনিং ও সমর্থন দিয়ে জঙ্গি তৈরি করা হচ্ছে। এরপর আর জঙ্গিবাদের অভিযোগে তাদের দেশে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

[1] সূরা (১৭) ইসরা (বনী ইসরাইল): ৮ আয়াত।

বইঃ ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ - ড. আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহিমাহুল্লাহ
কৃতজ্ঞতাঃ হাদীসবিডি.কম

Recite Al Jazeeri: Yusuf al-Qaradawi 26/02/2020

Recite Al Jazeeri: Yusuf al-Qaradawi Gost Recite Al Jazeeri je šejh dr. Yusuf al-Qaradawi, predsjednik svjetske Unije islamskih učenjaka i predsjednik Evropskog vijeća za Fetve, povjerenik Centr...

23/01/2020

হাসান আল বান্না (আরবি ভাষায় حسن البنا) (জন্ম অক্টোবার ১৪, ১৯০৬-মৃত্যু ফেব্রুয়ারী ১২, ১৯৪৯) তিনি ছিলেন একজন মিশরীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কারক। তিনি মুসলিম ব্রাদারহুড দলের প্রতিষ্ঠাতা।

১৯০৬ সালে ১৪ অক্টোবর মিশরের রাজধানী কায়রোর কাছে মাহমুদিয়া অঞ্চলে অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ মুসলীম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন শায়খ হাসানুল বান্না (রহ: )। তার পিতার নাম আব্দুর রহমান বান্না। বারো বছর বয়সে

এরপর তিনি আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দারূল উলুমে ভর্তি হন। ১৯১৭ সালে সেখান থেকে তিনি ডিপ্লোমা লাভ করেন। শায়খ হাসানুল বান্না ১৯২৭ সালে সরকারী স্কুলের শিক হিসেবে যোগ দানকরে কর্ম জীবন শুরূ করেন।এই সময় তিনি মিশরে প্রচুর ভ্রমণ করেন এবং সেই সময়কার বড় বড় আলেমদের সংস্পর্শে আসেন। তাঁর নজরে পড়ে পাশ্চাত্যের ধর্মনিরপেক্ষতার প্রভাবে কিভাবে মিশরের সমাজ ক্রমশ ভোগের দিকে ঝুঁকে পড়ছে কিভাবে সনাতন মূল্যবোধ থেকে দূরে সরে আসছে।

পরবর্তিতে তিনি আলআজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন। সেখানে তিনি সবিস্ময়ে লক্ষ করেন কিভাবে খ্রীষ্টান মিশনারীরা ইসলামের বিরুদ্ধে নাস্তিকতাকে উৎসাহিত করে চলে। ১৯২৮ সালে ৬ জন ইসলামী ব্যক্তিত্বের সহযোগিতায় হাসানুল বান্না (রহ: ) গঠন করেন “ইখওয়ানুল মুসলিমিন” সংগঠনটি । আর সেই সংগঠনের আমির নির্বাচিত হন স্বয়ং হাসানুল বান্না (রহ: )। সংগঠনটিকে সামাজিক ভিত্তি দিতে পুরো মিশর জুড়ে তিনি একইসঙ্গে সমাজকল্যাণ এবং ইসলামী মূল্যবোধ প্রচারের বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। মিশরের প্রতিটি শহরে গড়ে ওঠে শাখা সংগঠন।

দ্বীন ইসলামকে সবার নিকট উপস্হাপনের জন্য হাসানুল বান্না (রহ: ) মহিলাদেরকে নিয়ে আখওয়াত আল মুসলিমাত নামক সংগঠন গড়ে তোলেন । ১৯৩৩ সালে আল ইখওয়ানের প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে সিদ্ধান্ত হয় একটি প্রত্রিকা প্রকাশের । পত্রিকাটির নাম মাজাল্লাতুল ইখওয়ানুল মুসলিমিন।তার এই কর্মকান্ড মিশরের তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীকে ভীত করে তোলে। মাত্র ৪৩ বছর বয়সে ১৯৪৯ সালে শসকশ্রেণীর লেলিয়ে দেওয়া গুন্ডার গুলিতে তিনি নিহত হন।

তিনি জীবদ্দশায় ইসলামের নূর ছড়াতে প্রচুর বই লিখেছেন। তার মধ্যে সব থেকে উল্লেখযোগ্য বই জিহাদ ।

07/01/2020

জেনারেল কাসেম সুলাইমানী, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, প্রেসিডেন্ট শি জিম পিং, সবাই আমেরিকার জন্য আতঙ্ক।
প্রেসিডেন্ট পুতিন ফিলিস্তিনে বা ইয়েমেনে মুসলমানদের সমর্থন করে, বর্তমানে আফগানিস্তানে তালেবানদের প্রতি তার মৌন সম্মতি আছে। কিন্ত সিরিয়াতে উনি রাক্ষস। পুতিনের পূর্ববর্তীরা চেচনিয়া, আজারবাইজান, সেন্ট্রাল এশিয়া, বসনিয়াতে মুসলমানদের রক্ত নিয়ে খেলেছে।
প্রেসিডেন্ট শী জিম পিং কাশ্মীরের মুসলমানদের কিংবা চীনের হুই মুসলিমদের মিত্র কিন্ত উইঘুর, রোহিঙ্গাদের শত্রু।
জেনারেল সুলাইমানী ফিলিস্তিনে মুসলমানদের সাহায্য করেছে কিন্তু সিরিয়ায় রক্তে নদী তৈরি করেছে।
সবাই নিজের স্বার্থে কাজ করে। জেনারেল সুলাইমানীকে একজন ইরানী ভাবুন, তিনি নিজেকে এই পরিচয়েই বড় করেছেন। উনি নিঃসন্দেহে আমেরিকার আতঙ্ক ছিলেন, আমাদের স্ট্রাটেজিক মিত্র ছিলেন কিন্তু অভিভাবক ছিলেন না।
একই কথা জামাল আব্দুন নাসের (মিশর), আনোয়ার সাদাত (মিশর), ইয়াসির আরাফাত (ফিলিস্তিন), সাদ্দাম হোসেন (ইরাক), কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফি (লিবিয়া), জেনারেল হুসেইন মুহাম্মাদ এরশাদ (বাংলাদেশ), জুলফিকার আলী ভুট্ট (পাকিস্তান), জেনারেল আয়ুব খান (পাকিস্তান), আহমদ সুকর্ন (ইন্দনেশিয়া) প্রমুখের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

01/01/2020

﴿اَرَءَيۡتَ الَّذِىۡ يُكَذِّبُ بِالدِّيۡنِؕ‏﴾

১.) তুমি কি তাকে দেখেছো।১ যে আখেরাতের পুরস্কার ও শাস্তিকে২ মিথ্যা বলছে?৩

১) ‘তুমি কি দেখেছো’ বাক্যে এখানে বাহ্যত সম্বোধন করা হয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে। কিন্তু কুরআনের বর্ণনাভংগী অনুযায়ী দেখা যায়, এসব ক্ষেত্রে সাধারণত প্রত্যেক জ্ঞান-বুদ্ধি ও বিচার-বিবেচনা সম্পন্ন লোকদেরকেই এ সম্বোধন করা হয়ে থাকে। আর দেখা মানে চোখ দিয়ে দেখাও হয়। কারণ সামনের দিকে লোকদের যে অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে তা প্রত্যেক প্রত্যক্ষকারী স্বচক্ষে দেখে নিতে পারে। আবার এর মানে জানা, বুঝা ও চিন্তা-ভাবনা করাও হতে পারে। আরবী ছাড়া অন্যান্য ভাষায়ও এ শব্দটি এ অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন আমরা বলি, “আচ্ছা, ব্যাপারটা আমাকে দেখতে হবে।” অর্থাৎ আমাকে জানতে হবে। অথবা আমরা বলি, “এ দিকটাও তো একবার দেখো।” এর অর্থ হয়, “এ দিকটা সম্পর্কে একটু চিন্তা করো।” কাজেই “আরাআইতা” (আরবী-----------) শব্দটিকে দ্বিতীয় অর্থে ব্যবহার করলে আয়াতের অর্থ হবে, “তুমি কি জানো সে কেমন লোক যে শাস্তি ও পুরস্কারকে মিথ্যা বলে?” অথবা “তুমি কি ভেবে দেখেছো সেই ব্যক্তির অবস্থা যে কর্মফলকে মিথ্যা বলে?”
২) আসলে বলা হয়েছেঃ (আরবী------------)। কুরআনের পরিভাষায় “আদ্ দ্বীন” শব্দটি থেকে আখেরাতে কর্মফল দান বুঝায়। দ্বীন ইসলাম অর্থেও এটি ব্যবহৃত হয়। কিন্তু সামনের দিকে যে বিষয়ের আলোচনা হয়েছে তার সাথে প্রথম অর্থটিই বেশী খাপ খায় যদিও বক্তব্যের ধারাবাহিকতার দিক দিয়ে দ্বিতীয় অর্থটিও খাপছাড়া নয়। ইবনে আব্বাস (রা.) দ্বিতীয় অর্থটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তবে অধিকাংশ তাফসীরকার প্রথম অর্থটিকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। প্রথম অর্থটি গ্রহণ করলে সমগ্র সূরায় বক্তব্যের অর্থ হবে, আখেরাত অস্বীকারের আকীদা মানুষের মধ্যে এ ধরনের চরিত্র ও আচরণের জন্ম দেয়। আর দ্বিতীয় অর্থটি গ্রহণ করলে দ্বীন ইসলামের নৈতিক গুরুত্ব সুস্পষ্ট করাটাই সমগ্র সূরাটির মূল বক্তব্যে পরিণত হবে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে বক্তব্যের অর্থ হবে, এ দ্বীন অস্বীকারকারীদের মধ্যে যে চরিত্র ও আচরণবিধি পাওয়া যায় ইসলাম তার বিপরীত চরিত্র সৃষ্টি করতে চায়।
৩) বক্তব্য যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে তাতে মনে হয়, এখানে এ প্রশ্ন দিয়ে কথা শুরু করার উদ্দেশ্য একথা জিজ্ঞেস করা নয় যে, তুমি সেই ব্যক্তিকে দেখেছো কি না। বরং আখেরাতের শাস্তি ও পুরস্কার অস্বীকার করার মনোবৃত্তি মানুষের মধ্যে কোন্ ধরনের চরিত্র সৃষ্টি করে শ্রোতাকে সে সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করার দাওয়াত দেয়াই এর উদ্দেশ্য। এই সঙ্গে কোন্ ধরনের লোকেরা এ আকীদাকে মিথ্যা বলে সে কথা জানার আগ্রহ তার মধ্যে সৃষ্টি করাই এর লক্ষ্য। এভাবে সে আখেরাতের প্রতি ঈমান আনার নৈতিক গুরুত্ব বুঝার চেষ্টা করবে।
﴿ فَذٰلِكَ الَّذِىۡ يَدُعُّ الۡيَتِيۡمَۙ﴾

২.) সে-ই তো৪ এতিমকে ধাক্কা দেয়৫

৪) আসলে (আরবী----------) বলা হয়েছে। এ বাক্যে (আরবী) (“ফা”) অক্ষরটি একটি সম্পূর্ণ বাক্যের অর্থ পেশ করছে। এর মানে হচ্ছে, “যদি তুমি না জেনে থাকো তাহলে তুমি জেনে নাও” “সে-ইতো সেই ব্যক্তি” অথবা এটি এ অর্থে যে, “নিজের এ আখেরাত অস্বীকারের কারণে সে এমন এক ব্যক্তি যে----------------”
৫) মূলে (আরবী--------) বলা হয়েছে এর কয়েকটি অর্থ হয়। এক, সে এতিমের হক মেরে খায় এবং তার বাপের পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে বেদখল করে তাকে সেখান থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। দুই, এতিম যদি তার কাছে সাহায্য চাইতে আসে তাহলে দয়া করার পরিবর্তে সে তাকে ধিক্কার দেয়। তারপরও যদি সে নিজের অসহায় ও কষ্টকর অবস্থার জন্য অনুগ্রহ লাভের আশায় দাঁড়িয়ে থাকে তাহলে তাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। তিন, সে এতিমের ওপর জুলুম করে। যেমন তার ঘরেই যদি তার কোন আত্মীয় এতিম থাকে তাহলে সারাটা বাড়ির ও বাড়ির লোকদের সেবা যত্ন করা এবং কথায় কথায় গালমন্দ ও লাথি ঝাঁটা খাওয়া ছাড়া তার ভাগ্যে আর কিছুই জোটে না। তাছাড়া এ বাক্যের মধ্যে এ অর্থও নিহিত রয়েছে যে, সেই ব্যক্তি মাঝে মাঝে কখনো কখনো এ ধরনের জুলুম করে না বরং এটা তার অভ্যাস ও চিরাচরিত রীতি সে যে এটা একটা খারাপ কাজ করছে, এ অনুভূতিও তার থাকে না। বরং বড়ই নিশ্চিন্তে সে এ নীতি অবলম্বন করে যেতে থাকে। সে মনে করে, এতিম একটা অক্ষম ও অসহায় জীব। কাজেই তার হক মেরে নিলে, তার ওপর জুলুম-নির্যাতন চালালে অথবা সে সাহায্য চাইতে এলে তাকে ধাক্কা মেরে বের করে দিলে কোন ক্ষতি নেই।
এ প্রসঙ্গে কাজী আবুল হাসান আল মাওয়ারদী তাঁর “আলামূন নুবুওয়াহ” কিতাবে একটি অদ্ভূত ঘটনা বর্ণনা করেছেন। ঘটনাটি হচ্ছেঃ আবু জেহেল ছিল একটি এতিম ছেলের অভিভাবক। ছেলেটি একদিন তার কাছে এলো। তার গায়ে এক টুকরা কাপড়ও ছিল না। সে কাকুতি মিনতি করে তার বাপের পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে তাকে কিছু দিতে বললো। কিন্তু জালেম আবু জেহেল তার কথায় কানই দিল না। সে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর শেষে নিরাশ হয়ে ফিরে গেলো। কুরাইশ সরদাররা দুষ্টুমি করে বললো, “যা মুহাম্মাদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাছে চলে যা। সেখানে গিয়ে তাঁর কাছে নালিশ কর। সে আবু জেহেলের কাছে সুপারিশ করে তোর সম্পদ তোকে দেবার ব্যবস্থা করবে।” ছেলেটি জানতো না আবু জেহেলের সাথে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কি সম্পর্ক এবং এ শয়তানরা তাকে কেন এ পরামর্শ দিচ্ছে। সে সোজা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে পৌঁছে গেলো এবং নিজের অবস্থা তাঁর কাছে বর্ণনা করলো। তার ঘটনা শুনে নবী (সা.) তখনই দাঁড়িয়ে গেলেন এবং তাকে সঙ্গে নিয়ে নিজের নিকৃষ্টতম শত্রু আবু জেহেলের কাছে চলে গেলেন। তাঁকে দেখে আবু জেহেল তাঁকে অভ্যর্থনা জানালো। তারপর যখন তিনি বললেন, এ ছেলেটির হক একে ফিরিয়ে দাও তখন সে সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর কথা মেনে নিল এবং তার ধন-সম্পদ এনে তার সামনে রেখে দিল। ঘটনার পরিণতি কি হয় এবং পানি কোন দিকে গড়ায় তা দেখার জন্য কুরাইশ সরদাররা ওঁৎ পেতে বসেছিল। তারা আশা করছিল দু’ জনের মধ্যে বেশ একটা মজার কলহ জমে উঠবে। কিন্তু এ অবস্থা দেখে তারা অবাক হয়ে গেলো। তারা আবু জেহেলের কাছে এসে তাকে ধিক্কার দিতে লাগলো। তাকে বলতে লাগলো, তুমিও নিজের ধর্ম ত্যাগ করেছো। আবু জেহেল জবাব দিল, আল্লাহর কসম! আমি নিজের ধর্ম ত্যাগ করিনি। কিন্তু আমি অনুভব করলাম, মুহাম্মাদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ডাইনে ও বাঁয়ে এক একটি অস্ত্র রয়েছে। আমি তার ইচ্ছার সামান্যতম বিরুদ্ধাচরণ করলে সেগুলো সোজা আমার শরীরের মধ্যে ঢুকে যাবে। এ ঘটনাটি থেকে শুধু এতটুকুই জানা যায় না যে, সে যুগে আরবের সবচেয়ে বেশী উন্নত ও মর্যাদা গোত্রের বড় বড় সরদাররা পর্যন্ত এতিম ও সহায়-সম্বলহীন লোকদের সাথে কেমন ব্যবহার করতো বরং এই সঙ্গে একথাও জানা যায় যে, রসূলুল্লাহ ﷺ কত উন্নত নৈতিক চরিত্রের অধিকারী ছিলেন এবং তাঁর নিকৃষ্টতম শত্রুদের ওপরও তাঁর এ চারিত্রিক প্রভাব কতটুকু কার্যকর হয়েছিল। ইতিপূর্বে তাফহীমুল কুরআন সূরা আল আম্বিয়া ৫ টীকায় আমি এ ধরনের একটি ঘটনা বর্ণনা করেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যে জবরদস্ত নৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তির কারণে কুরাইশরা তাঁকে যাদুকর বলতো এ ঘটনাটি তারই মূর্ত প্রকাশ।

﴿ وَلَا يَحُضُّ عَلٰى طَعَامِ الۡمِسۡكِيۡنِؕ‏﴾

৩.) এবং মিসকিনকে খাবার দিতে৬ উদ্বুদ্ধ করে না।৭

৬) (আরবী-----------------) নয় বরং (আরবী-------------) বলা হয়েছে “ইত্’আমুল মিসকিন” বললে অর্থ হতো, সে মিসকিনকে খানা খাওয়াবার ব্যাপারে উৎসাহিত করে না। কিন্তু “তাআমুল মিসকিন” বলায় এর অর্থ দাঁড়িয়েছে, “সে মিসকিনকে খানা দিতে উৎসাহিত করে না।” অন্য কথায়, মিসকিনকে যে খাবার দেয়া হয় তা দাতার খাবার নয় বরং ঐ মিসকিনেরই খাবার। তা ঐ মিসকিনের হক এবং দাতার ওপর এ হক আদায় করার দায়িত্ব বর্তায়। কাজেই দাতা এটা মিসকিনকে দান করছে না বরং তার হক আদায় করছে। সূরা আয্ যারিয়াতের ১৯ আয়াতে একথাটিই বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছেঃ (আরবী------------------) “আর তাদের ধন-সম্পদে রয়েছে ভিখারী ও বঞ্চিতদের হক।”
৭) (আরবী------) শব্দের মানে হচ্ছে, সে নিজেকে উদ্বুদ্ধ করে না, নিজের পরিবারের লোকদেরকেও মিসকিনকে খাবার দিতে উদ্বুদ্ধ করে না এবং অন্যদেরকেও এ ব্যাপারে উৎসাহিত করে না যে, সমাজে যেসব গরীব ও অভাবী লোক অনাহারে মারা যাচ্ছে তাদের হক আদায় করা এবং তাদের ক্ষুধা নিবৃত্তির জন্য কিছু করো।
এখানে মহান আল্লাহ শুধুমাত্র দু’টি সুস্পট উদাহরণ দিয়ে আসলে আখেরাত অস্বীকার প্রবণতা মানুষের মধ্যে কোন্ ধরনের নৈতিক অসৎবৃত্তির জন্ম দেয় তা বর্ণনা করেছেন। আখেরাত না মানলে এতিমকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া এবং মিসকিনকে খাবার দিতে উদ্বুদ্ধ না করার মতো দু’টি দোষ মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়ে যায় বলে শুধুমাত্র এ দু’টি ব্যাপারে মানুষকে পাকড়াও ও সমালোচনা করাই এর আসল উদ্দেশ্য নয়। বরং এই গোমরাহীর ফলে যে অসংখ্য দোষ ও ত্রুটির জন্ম হয় তার মধ্য থেকে নমুনা স্বরূপ এমন দু’টি দোষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে প্রত্যেক সুস্থ বিবেক ও সৎ বিচার-বুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তি যেগুলোকে নিকৃষ্টতম দোষ বলে মেনে নেবে। এই সঙ্গে একথাও হৃদয়পটে অংকিত করে দেয়াই উদ্দেশ্য যে, এ ব্যক্তিটিই যদি আল্লাহর সামনে নিজের উপস্থিতি ও নিজের কৃতকর্মের জবাবদিহির স্বীকৃতি দিতো, তাহলে এতিমের হক মেরে নেবার, তার ওপর জুলুম-নির্যাতন করার, তাকে ধিক্কার দেবার এবং মিসকিনকে নিজে খাবার না দেবার ও অন্যকে দিতে উদ্বুদ্ধ না করার মতো নিকৃষ্টতম কাজ সে করতো না। আখেরাত বিশ্বাসীদের গুণাবলী সূরা আসর ও সূরা বালাদে বয়ান করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছেঃ (আরবী----) আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি করুণা করার জন্য তারা পরস্পরকে উপদেশ দেয় এবং (আরবী------------) তারা পরস্পরকে সত্যপ্রীতি ও অধিকার আদায়ের উপদেশ দেয়।

﴿ فَوَيۡلٌ لِّلۡمُصَلِّيۡنَۙ﴾

৪.) তারপর সেই নামাযীদের জন্য ধ্বংস,৮

৮) এখানে শব্দ (আরবী-----------) ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে “ফা” (আরবী) ব্যবহার করার তাৎপর্য হচ্ছে এই যে, প্রকাশ্যে যারা আখেরাত অস্বীকার করে তাদের অবস্থা তুমি এখনই শুনলে, এখন যারা নামায পড়ে অর্থাৎ মুসলমানদের সাথে শামিল মুনাফিকদের অবস্থাটা একবার দেখো। তারা যেহেতু বাহ্যত মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও আখেরাতকে মিথ্যা মনে করে, তাই দেখো তারা নিজেদের জন্য কেমন ধ্বংসের সরঞ্জাম তৈরি করছে।
“মূসাল্লীন” মানে নামায পাঠকারীগণ। কিন্তু যে আলোচনা প্রসঙ্গে শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে এবং সামনের দিকে তাদের যে গুণাবলী বর্ণিত হয়েছে সেগুলোর প্রেক্ষিতে এ শব্দটির মানে আসলে নামাযী নয় বরং নামায আদায়কারী দল অর্থাৎ মুসলমানদের দলের অন্তর্ভুক্ত হওয়া।

﴿الَّذِيۡنَ هُمۡ عَنۡ صَلَاتِهِمۡ سَاهُوۡنَۙ‏﴾

৫.) যারা নিজেদের নামাযের ব্যাপারে গাফলতি করে৯

৯) (আরবী-------------) বলা হয়নি বরং বলা হয়েছে, (আরবী----------------) যদি বলা হতো “ফী সালাতিহিম” তাহলে এর মানে হতো, নিজের নামাযে ভুলে যায়। কিন্তু নামায পড়তে পড়তে ভুলে যাওয়া ইসলামী শরীয়াতে নিফাক তো দূরের কথা গোনাহের পর্যায়েও পড়ে না। বরং এটা আদতে কোন দোষ বা পাকড়াও যোগ্য কোন অপরাধও নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিজের নামাযের মধ্যে কখনো ভুল হয়েছে। তিনি এই ভুল সংশোধনের জন্য পদ্ধতি নির্ধারণ করেছেন। এর বিপরীতে (আরবী-----------) মানে হচ্ছে তারা নিজেদের নামায থেকে গাফেল। নামায পড়া ও না পড়া উভয়টিরই তাদের দৃষ্টিতে কোন গুরুত্ব নেই। কখনো তারা নামায পড়ে আবার কখনো পড়ে না। যখন পড়ে, নামাযের আসল সময় থেকে পিছিয়ে যায় এবং সময় যখন একেবারে শেষ হয়ে আসে তখন উঠে গিয়ে চারটি ঠোকর দিয়ে আসে। অথবা নামাযের জন্য ওঠে ঠিকই কিন্তু একবারে যেন উঠতে মন চায় না এমনভাবে ওঠে এবং নামায পড়ে নেয় কিন্তু মনের দিক থেকে কোন সাড়া পায় না। যেন কোন আপদ তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। নামায পড়তে পড়তে কাপড় নিয়ে খেলা করতে থাকে। হাই তুলতে থাকে। আল্লাহর স্মরণ সামান্যতম তাদের মধ্যে থাকে না। সারাটা নামাযের মধ্যে তাদের এ অনুভূতি থাকে না যে, তারা নামায পড়ছে। নামাযের মধ্যে কি পড়ছে তাও তাদের খেয়াল থাকে না, নামায পড়তে থাকে এবং মন অনত্র পড়ে থাকে। তাড়াহুড়া করে এমনভাবে নামাযটা পড়ে নেয় যাতে কিয়াম, রুকূ’ ও সিজদা কোনটাই ঠিক হয় না। কেননা কোন প্রকারে নামায পড়ার ভান করে দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করে। আবার এমন অনেক লোক আছে, যারা কোন জায়গায় আটকা পড়ে যাবার কারণে বেকায়দায় পড়ে নামাযটা পড়ে নেয় কিন্তু আসলে তাদের জীবনে এ ইবাদাতটার কোন মর্যাদা নেই। নামাযের সময় এসে গেলে এটা যে নামাযের সময় এ অনুভূতিটাও তাদের থাকে না। মুয়াজ্জিনের আওয়াজ কানে এলে তিনি কিসের আহবান জানাচ্ছেন, কাকে এবং কেন জানাচ্ছেন একথাটা একবারও তারা চিন্তা করে না। এটাই আখেরাতের প্রতি ঈমান না রাখার আলামত। কারণ ইসলামের এ তথাকথিত দাবীদাররা নামায পড়লে কোন পুরস্কার পাবে বলে মনে করে না এবং না পড়লে তাদের কপালে শাস্তি ভোগ আছে একথা বিশ্বাস করে না। এ কারণে তারা এ কর্মপদ্ধতি অবলম্বন করে। এজন্য হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) ও হযরত আতা ইবনে দীনার বলেনঃ আল্লাহর শোকর তিনি “ফী সালাতিহিম সাহুন” বলেননি বরং বলেছেন, “আন সালাতিহিম সাহুন।” অর্থাৎ আমরা নামাযে ভুল করি ঠিকই কিন্তু নামায থেকে গাফেল হই না। এজন্য আমরা মুনাফিকদের অন্তর্ভুক্ত হবো না।
কুরআন মজীদের অন্যত্র মুনাফিকদের এ অবস্থাটি এভাবে বর্ণনা করা হয়েছেঃ p>

(আরবী--------------------------------------------) p>

“তারা যখনই নামাযে আসে অবসাদগ্রস্তের মতো আসে এবং যখনই (আল্লাহর পথে) খরচ করে অনিচ্ছাকৃতভাবে করে।” (তাওবা ৫৪) p>

রসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ p>

আরবী------------------------------------ p>

“এটা মুনাফিকের নামায, এটা মুনাফিকের নামায, এটা মুনাফিকের নামায। সে আসরের সময় বসে সূর্য দেখতে থাকে। এমনকি সেটা শয়তানের দু’টো শিংয়ের মাঝখানে পৌঁছে যায়। (অর্থাৎ সূর্যাস্তের সময় নিকটবর্তী হয়) তখন সে উঠে চারটে ঠোকর মেরে নেয়। তাতে আল্লাহকে খুব কমই স্মরণ করা হয়।” (বুখারী, মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ) p>

হযরত সা’দ ইবেন আবী ওয়াক্কাস (রা.) থেকে তাঁর পুত্র মুসআব ইবনে সা’দ রেওয়ায়াত করেন, যারা নামাযের ব্যাপারে গাফলতি করে তাদের সম্পর্কে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেছিলেন, যারা গড়িমসি করতে করতে নামাযের সময় শেষ হয় এমন অবস্থায় নামায পড়ে তারাই হচ্ছে এসব লোক। (ইবনে জারীর, আবু ইয়ালা, ইবনুল মুনযির, ইবনে আবী হাতেম, তাবারানী ফিল আওসাত, ইবনে মারদুইয়া ও বাইহাকী ফিস সুনান। এ রেওয়ায়াতটি হযরত সা’দের নিজের উক্তি হিসেবেও উল্লেখিত হয়েছে। সেক্ষেত্রে এর সনদ বেশী শক্তিশালী। আবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী হিসেবে এ রেয়ায়াতটির সনদ বাইহাকী ও হাকেমের দৃষ্টিতে দুর্বল) হযরত মুস’আবের দ্বিতীয় রেয়ায়াতটি হচ্ছে, তিনি নিজের মহান পিতাকে জিজ্ঞেস করেন, এ আয়াতটি নিয়ে কি আপনি চিন্তা-ভাবনা করেছেন? এর অর্থ কি নামায ত্যাগ করা? অথবা এর অর্থ নামায পড়তে পড়তে মানুষের চিন্তা অন্য কোনদিকে চলে যাওয়া? আমাদের মধ্যে কে এমন আছে নামাযের মধ্যে যার চিন্তা অন্য দিকে যায় না? তিনি জবাব দেন, না এর মানে হচ্ছে মানুষের সময়টা নষ্ট করে দেয়া এবং গড়িমসি করে সময় শেষ হয় হয় এমন অবস্থায় তা পড়া। (ইবনে জারীর, ইবনে আবী শাইবা, আবু ইয়া’লা, ইবনুল মুনযির, ইবনে মারদুইয়া ও বাইহাকী ফিস্ সুনান) p>

এ প্রসঙ্গে মনে রাখতে হবে, নামাযের মধ্যে অন্য চিন্তা এসে যাওয়া এক কথা এবং নামাযের প্রতি কখনো দৃষ্টি না দেয়া এবং নামায পড়তে পড়তে সবসময় অন্য বিষয় চিন্তা করতে থাকা সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। প্রথম অবস্থাটি মানবিক দুর্বলতার স্বাভাবিক দাবি। ইচ্ছা ও সংকল্প ছাড়াই অন্যান্য চিন্তা এসে যায় এবং মু’মিন যখনই অনুভব করে, তার মন নামায থেকে অন্যদিকে চলে গেছে তখনই সে চেষ্টা করে আবার নামাযে মনোনিবেশ করে। দ্বিতীয় অবস্থাটি নামাযে গাফলতি করার পর্যায়ভুক্ত। কেননা এ অবস্থায় মানুষ শুধুমাত্র নামাযের ব্যায়াম করে। আল্লাহকে স্মরণ করার কোন ইচ্ছা তার মনে জাগে না। নামায শুরু করা থেকে নিয়ে সালাম ফেরা পর্যন্ত একটা মুহূর্তও তার মন আল্লাহর প্রতি আকৃষ্ট হয় না। যেসব চিন্তা মাথায় পুরে সে নামাযে প্রবেশ করে তার মধ্যেই সবসময় ডুবে থাকে।

﴿ الَّذِيۡنَ هُمۡ يُرَآءُوۡنَۙ‏﴾

৬.) যারা লোক দেখানো কাজ করে১০

১০) এটি একটি স্বতন্ত্র বাক্যও হতে পারে আবার পূর্বের বাক্যের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে। একে স্বতন্ত্র বাক্য গণ্য করলে এর অর্থ হবে, কেননা সৎকাজও তারা আন্তরিক সংকল্প সহকারে আল্লাহর জন্য করে না। বরং যা কিছু করে অন্যদের দেখাবার জন্য করে। এভাবে তারা নিজেদের প্রশংসা শুনাতে চায়। তারা চায়, লোকেরা তাদের সৎ লোক মনে করে তাদের সৎকাজের ডংকা বাজাবে। এর মাধ্যমে তারা কোন না কোনভাবে দুনিয়ার স্বার্থ উদ্ধার করবে। আর আগের বাক্যের সাথে একে সম্পর্কিত মনে করলে এর অর্থ হবে তারা লোক দেখানো কাজ করে। সাধারণভাবে মুফাস্সিরগণ দ্বিতীয় অর্থটিকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। কারণ প্রথম নজরেই টের পাওয়া যায় আগের বাক্যের সাথে এর সম্পর্ক রয়েছে। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেনঃ “এখানে মোনাফিকদের কথা বলা হয়েছে, যারা লোক দেখানো নামায পড়তো। অন্য লোক সামনে থাকলে নামায পড়তো এবং অন্য লোক না থাকলে পড়তো না।” অন্য একটি রেওয়ায়াতে তাঁর বক্তব্য হচ্ছে, “একাকী থাকলে পড়তো না। আর সর্ব সমক্ষে পড়ে নিতো।” (ইবনে জারীর, ইবনুল মুনযির, ইবনে আবী হাতেম, ইবনে মারদুইয়া ও বায়হাকী ফিশ শু’আব) কুরআন মজীদেও মুনাফিকদের অবস্থা বর্ণনা করে বলা হয়েছেঃ
আরবী----------------------------------------------------

“আর যখন তারা নামাযের জন্য ওঠে অবসাদগ্রস্তের ন্যায় ওঠে। লোকদের দেখায় এবং আল্লাহকে স্মরণ করে খুব কমই।” (আন নিসা ১৪২)

﴿ وَيَمۡنَعُوۡنَ الۡمَاعُوۡنَ‏﴾

৭.) এবং মামুলি প্রয়োজনের জিনিসপাতি১১ (লোকদেরকে) দিতে বিরত থাকে।

১১) মূলে মাউন (আরবী------) শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। হযরত আলী (রা.), ইবনে উমর (রা.) সাঈদ ইবনে জুবাইর, কাতাদাহ, হাসান বসরী, মুহাম্মাদ ইবন হানাফীয়া, যাহ্হাক, ইবনে যায়েদ, ইকরামা, মুজাহিদ আতা ও যুহরী রাহেমাহুমুল্লাহ বলেন, এখানে এই শব্দটি থেকে যাকাত বুঝানো হয়েছে। ইবনে আব্বাস (রা.) ইবনে মাসউদ (র), ইবরাহীম নাখয়ী (র), আবু মালেক (র) এবং অন্যান্য লোকদের উক্তি হচ্ছে, এখানে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস-পত্র যেমন হাড়ী-পাতিল, বালতি, দা-কুমড়া দাড়িপাল্লা, লবণ, পানি, আগুন, চকমকি (বর্তমানে এর স্থান দখল করেছে দেয়াশলাই) ইত্যাদির কথা বলা হয়েছে। কারণ লোকেরা সাধারণত এগুলো দৈনন্দিন কাজের জন্য পরস্পরের কাছ থেকে চেয়ে নেয়। সাঈদ ইবনে জুবাইর ও মুজাহিদের একটি উক্তিও এর সমর্থনে পাওয়া যায়। হযরত আলীর (রা.) এক উক্তিতেও বলা হয়েছে, এর অর্থ যাকাত হয় আবার ছোট ছোট নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রও হয়। ইবনে আবী হাতেম ইকরামা থেকে উদ্ধৃত করে বলেন, মাউনের সর্বোচ্চ পর্যায় হচ্ছে যাকাত এবং সর্বনিম্ন পর্যায় হচ্ছে কাউকে চালুনী, বালতী বা দেয়াশলাই ধার দেয়া। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথীরা বলতামঃ (কোন কোন হাদীসে আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুবারক জামানায় বলতাম) মাউন বলতে হাঁড়ি, কুড়াল, বালতি, দাঁড়িপাল্লা এবং এ ধরনের অন্যান্য জিনিস অন্যকে ধার দেয়া বুঝায়। (ইবনে জারীর, ইবনে আবী শাইবা, আবু দাউদ, নাসায়ী, বায্যার, ইবনুল মুনযির, ইবনে আবী হাতেম, তাবারানী ফিল আওসাত, ইবনে মারদুইয়া ও বাইহাকী ফিস সুনান) সাঈদ ইবনে ইয়ায স্পষ্ট নাম উল্লেখ না করেই প্রায় এ একই বক্তব্য রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয় সাল্লামের সাহাবীদের থেকে উদ্ধৃত করেছেন। তার অর্থ হচ্ছে, তিনি বিভিন্ন সাহাবী থেকে একথা শুনেছেন। (ইবনে জারীর ও ইবনে আবী শাইবা) দাইলামী, ইবনে আসাকির ও আবু নু’আইম হযরত আবু হুরাইরার একটি হাদীস উদ্ধৃত করেছেন। তাতে তিনি বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ ﷺ নিজে এ আয়াতের ব্যাখ্যা করে বলেছেন, এ থেকে কুড়াল, বালতি এবং এ ধরনের অন্যান্য জিনিস বুঝানো হয়েছে। এ হাদীসটি যদি সহীহ হয়ে থাকে, তাহলে সম্ভবত এটি অন্য লোকেরা জানতেন না। জানলে এরপর কখনো তারা এর অন্য কোন ব্যাখ্যা করতেন না।
মূলত মাউন ছোট ও সামান্য পরিমাণ জিনিসকে বলা হয়। এমন ধরনের জিনিস যা লোকদের কোন কাজে লাগে বা এর থেকে তারা ফায়দা অর্জন করতে পারে। এ অর্থে যাকাতও মাউন। কারণ বিপুল পরিমাণ সম্পদের মধ্য থেকে সামান্য পরিমাণ সম্পদ যাকাত হিসেবে গরীবদের সাহায্য করার জন্য দেয়া হয়। আর এই সঙ্গে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) এবং তাঁর সমমনা লোকেরা অন্যান্য যেসব নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির কথা উল্লেখ করেছেন সেগুলোও মাউন। অধিকাংশ তাফসীরকারের মতে, সাধারণত প্রতিবেশীরা একজন আর একজনের কাছ থেকে দৈনন্দিন যেসব জিনিস চেয়ে নিয়ে থাকে সেগুলোই মাউনের অন্তর্ভুক্ত। এ জিনিসগুলো অন্যের কাছ থেকে চেয়ে নেয়া কোন অপমানজনক বিষয় নয়। কারণ ধনী-গরীব সবার এ জিনিসগুলো কোন না কোন সময় দরকার হয়। অবশ্যি এ ধরনের জিনিস অন্যকে দেবার ব্যাপারে কার্পণ্য করা হীন মনোবৃত্তির পরিচায়ক। সাধারণত এ পর্যায়ের জিনিসগুলো অপরিবর্তিত থেকে যায় এবং প্রতিবেশীরা নিজেদের কাজে সেগুলো ব্যবহার করে, কাজ শেষ হয়ে গেলে অবিকৃত অবস্থায়ই তা ফেরত দেয়। কারো বাড়িতে মেহমান এলে প্রতিবেশীর কাছে খাটিয়া বা বিছানা-বালিশ চাওয়াও এ মাউনের অন্তর্ভুক্ত। অথবা নিজের প্রতিবেশীর চূলায় একটু রান্নাবান্না করে নেয়ার অনুমতি চাওয়া কিংবা কেউ কিছুদিনের জন্য বাইরে যাচ্ছে এবং নিজের কোন মূল্যবান জিনিস অন্যের কাছে হেফাজত সহকারে রাখতে চাওয়াও মাউনের পর্যায়ভুক্ত। কাজেই এখানে আয়াতে মূল বক্তব্য হচ্ছে, আখেরাত অস্বীকৃতি মানুষকে এতবেশী সংকীর্ণমনা করে দেয় যে, সে অন্যের জন্য সামান্যতম ত্যাগ স্বীকার করতেও রাজি হয় না।

)

Want your school to be the top-listed School/college in Bradford?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


Old Kent Road
Bradford