16/06/2024
পড়ার অনুরোধ রইলো। 🙏
আগামীকাল "ঈদুল আযহা"
দুপুর প্রায় আড়াইটা,
হেনা ঘুমাচ্ছে, হাসিব দীর্ঘ ২ ঘণ্টা লাইন ধরে চুল কেটে বাসায় ফিরেছে। আর হাসিবের মায়ের রান্না প্রায় শেষ।
হাসিব এখন ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র, প্রায় সব কিছুই বুঝতে শিখেছে। আর ঐদিকে হেনার বয়স মাত্র ৩ বছর ২ মাস। হাসিবের বাবা এক মর্মান্তিক রোড এক্সিডেন্টে মা-রা গিয়েছে প্রায় ২ বছর হতে চলেছে। হাসিব-হেনা আর ওর মা, এই তাদের পরিবার।
গোছল শেষে হাসিবের মাথার চুল মুছে দিচ্ছে ওর মা, হাসিব আচমকা ওর মা-কে জিজ্ঞেস করলো, ‘মা’ আমার সব বন্ধুরা গরু কিনছে আমরা কিনলাম না কে?
খানিকটা চুপ থেকে দীর্ঘ এক নিশ্বাস ছেড়ে হাসিবের মা চাপা গলায় উত্তর দিলো, তুই বড় হইলে হাট থেকে সুন্দর একটা লাল গরু কিনে আনিছ, এখন তো একা গরু সামলাইতে পারবিনা। আগে বড় হ!
বাধ্য ছেলের মত মাথা নাড়িয়ে হাসিব উত্তর দিলো ‘ আইচ্ছা’
হাসিবের মাঃ যা গিয়া বস, আমি ভাত নিয়া আইতাছি।
হাসিবের বাবা কোনো এক বাস কোম্পানিতে চাকরি করতো। জীবনকালে একবার কয়েক শরীকে কো-র-বানি দিয়েছিলো। যদিও হাসিব তখন অনেক ছোট।
উনি মা-রা যাওয়ার পর বাস কোম্পানি থেকে বলেছিল কিছু টাকা দিবে তবে আজ অবদি সে টাকার কোনো খোজ নাই। তাই হাসিবের মা’ও এই টাকার আশা ছেড়ে দিয়েছে।
আপাতত হাসিবের মা একটা বেসরকারি এনজিওতে কাজ করছে, ৮ হাজার টাকা বেতন। বুক ভরা কাল বৈশাখী ঝড় নিয়ে রান্না ঘরের জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে উনি।
হাসিব হেনা বড় হচ্ছে, যুগের সাথে তাল মিলাতে ওদের চাওয়া পাওয়ার অনেক কিছুই পূরণ করতে পাছেনা হাসিবের মা। ইচ্ছের বিরুদ্ধেই দুচোখ ভর্তি টলমলে জ্বল।
পিছন থেকে হাসিব ‘ মা’ ভাত আনোনা কে?
আজকে হাসিবের প্রিয় বুটের ডাল রান্না করছে ওর মা। ভাত খেতে খেতে হাসিব মা কে বললো ‘মা' কাইল কিন্তু গরুর কলিজা আর গরুর মাংস রানবা’ নাইলে কইলাম ভাত খামুনা।
হাসিবের মা জানে হাসিবের গরুর কলিজা অনেক বেশী প্রিয়। তাই কিছু টাকার ব্যাবস্থা করে ৫০০ গ্রাম গরুর কলিজা আর ৫০০ গ্রাম গরুর মাংস কিনে আনছে।
হাসিব ভাত খাচ্ছে, আর হাসিবের 'মা' হাসিবের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আর ভাবছে হাসিব একদিন বড় হবে……….....!!!!
গল্প:- হাসিবের নীল জিপ (কিছু অংশ)
লিখা- Faisal ahmmed