19/11/2025
প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ, মহান আলেম, বিদগ্ধ ইতিহাসবেত্তা, উপমহাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী ও মননশীল লেখক, উর্দু সাহিত্যের স্তম্ভখ্যাত আল্লামা শিবলী নোমানী (১৮৫৭-১৯১৪) ছিলেন গত শতাব্দীর এক মহান ব্যক্তিত্ব। উম্মাহর পুনর্জাগরণের জন্য নিবেদিতপ্রাণ এ মহান সাধক আজীবন তার কলমকে চালিয়েছেন পুনরুত্থানের ব্যবস্থাপত্র তৈরির জন্য।
আল্লামা শিবলী নোমানীর জন্ম ১৮৫৭ সালের ৪ই জুন (মতান্তরে ৩ই জুন), ভারতের আজমগড়ের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। সিপাহী বিপ্লব ও পরবর্তীতে মুসলমানদের বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতাগুলোর মধ্য দিয়ে শিবলী এমনভাবে বড় হয়ে উঠেছিলেন, যা পরবর্তীতে তার সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তাকাঠামো নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পিতা শায়খ হাবীবুল্লাহ ছিলেন একজন খ্যাতিমান ব্যবসায়ী ও উকিল। শিবলী তার ঘরেই প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করেন। তার আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয় গ্রামের মক্তবে। এরপর তিনি জৌনপুরের মাদ্রাসায় ভর্তি হন। এখানে মৌলভী হেদায়েতুল্লাহ খান রামপুরী ও মাওলানা ফারুক চরিয়াকোটির তত্ত্বাবধানে পড়াশুনা করেন।
পরবর্তীতে ভারতের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা মুহাম্মদ ফারুক (মানতিক ও ন্যায়শাস্ত্রের পাণ্ডিত্যের জন্য খ্যাত) ও আরবি সাহিত্যের পণ্ডিত মাওলানা ফয়জুল হাসান সাহারানপুরীর কাছে অধ্যয়ন করেন। এ অবস্থায় তিনি ফিকহ, উসূল, হাদীস, মানতিক, মানকুলাত ইত্যাদি শাস্ত্রে পারদর্শী হয়ে ওঠেন।
শিক্ষা, জ্ঞানচর্চার সূচনার পূর্বে একাধারে নকলনবিশী, খাদ্য গুদামের রক্ষণাবেক্ষণ, ও ওকালতির প্রতি মনোনিবেশ করেন। কিন্তু কোন পেশায় তার মন বসেনি। অবশেষে ১৮৮৩ সালে তিনি আলীগড় কলেজে ফার্সীর প্রভাষক ও আরবীর সহকারী প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। আলীগড়ে অবস্থানরত সময়কেই শিবলীর জীবনীকারকগণ তার জীবনের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হিসেবে চিহ্নিত করেন।
এখানে তিনি পশ্চিমা সাহিত্যের সাথে পরিচিত হন ও টি ডব্লিউ আর্নল্ডের মাধ্যমে ফরাসী ভাষা শিখেন। পশ্চিমা সকল জ্ঞানশাস্ত্রকে শিবলী এ সময় সামালোচকের অন্তর্ভেদী দৃষ্টিতে পরখ করেন। এসময় তার ব্যাপক অধ্যয়ন তার জ্ঞানান্বেষী মানসকে সমৃদ্ধ করে। আলীগড়ে অবস্থানকালেই তিনি তার বিখ্যাত গ্রন্থ সীরাতে নোমান, আল মামুন, আল ফারুকের মতো কাজগুলো শেষ করেন।
১৮৯২ সালে শিবলী তার প্রাচ্য সফর শুরু করেন। তার সাথে ছিলেন খ্যাতিমান প্রাচ্যবিদ টি ডব্লিউ আর্নল্ড। এসময় তিনি সিরিয়া, ইস্তাম্বুল, মিসর ইত্যাদি জায়গাগুলোতে ভ্রমণ করেন। উসমানী খিলাফত থেকে তাকে তমঘায়ে মজিদী খেতাবে ভূষিত করা হয়। এসময় শিবলী তার সফরনামার বিবরণ দিয়ে লেখেন সফরনামায়ে শাম ওয়া রুম (১৮৯৩)। এটা শুধু নিতান্ত এক সফরনামা ছিলো না। পাঠক এই গ্রন্থের মাধ্যমে তৎকালীন সময়ে এ অঞ্চলগুলোর অবস্থা ও শিবলীর মূল্যায়ন লক্ষ্য করতে পারবেন অসাধারণভাবে।
সফরকালীন তিনি বিভিন্ন দেশের গ্রন্থাগার, যাদুঘর, সিলেবাস ও শিক্ষা কারিকুলাম খুটিয়ে খুটিয়ে পরখ করেন। তবে মুসলিম অঞ্চলগুলোর ঐতিহ্যবাদী শিক্ষাধারায় নতুনত্ব ও যুগোপযোগিতা না থাকায় তিনি কিছুটা আশাহত হয়েছিলেন এবং পরবর্তীকালে এর সংস্কার নিয়ে তিনি অনেক ভেবেছেন।
বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণ, বিশেষজ্ঞ ও পণ্ডিতদের সাথে আলোচনা, ইসলামের ইতিহাস ব্যাপক অধ্যয়নের মাধ্যমে শিবলী এ সিদ্ধান্তে পৌঁছান, মুসলিম দেশগুলোর বর্তমান সংকটের জন্য এর শিক্ষাব্যবস্থা দায়ী। যার প্রেক্ষিতে শিবলী আধুনিক ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষার সমন্বয়ে একটি নতুন ধারা তৈরির পক্ষপাতী ছিলেন যা মুসলিম উম্মাহর অগ্রসরতায় ভূমিকা রাখতে পারবে।
১৯০১ সালে শিবলী হায়দারাবাদ চলে যান। এসময় তিনি বিখ্যাত কবি দাগ, বিলগ্রামীর সংস্পর্শে আসেন। হায়দারাবাদে বসে তিনি আল গাজ্জালী, ইলমুল কালাম, সাওয়ায়নেহে মাওলানা রুম, ও মাওয়াজিনা আনীস ওয়া দাবীর এর মত গ্রন্থগুলো লিখেন।
মুসলিম উম্মাহর তৎকালীন সংকটগুলকে শিবলী গভীরভাবে পর্যালোচনা করেন এবং বিভিন্ন পত্রিকা, সাময়িকীতে অবিরাম লিখে যান। উম্মাহর জন্য তার আন্তরিক উদ্বেগের তাড়না এ প্রবন্ধগুলোতে দৃশ্যমান। শিবলীর এসব মূল্যবান প্রবন্ধমালা একত্রে ‘মাকালাত’ (৮ খন্ড) নামে প্রকাশিত হয়।
ভারতীয় উপমহাদেশে তৎকালীন প্রেক্ষিতে দুটি ধারা তৈরি হয়। একটি পাশ্চাত্যমুখী ধারা, অপরটি ছিল অনুকরণমুখী ধারা। এ দুধারার মধ্যবিন্দু হিসেবে আল্লামা শিবলী নোমানী ইসলামের যুগোপযোগী এক নবতর ভাষ্য তৈরিতে ব্যাপৃত থাকেন। মুসলিম মানসে শিবলীর লেখনী শক্তিশালী প্রভাব ফেলে।
শিবলীর প্রতিষ্ঠিত দারুল মুসান্নিফীন এবং নদওয়াতুল উলামায় তার ঐতিহাসিক ভূমিকা ভারতীয় মুসলিমদের গতিপথ নির্ধারণে অবিস্মরণীয় ভূমিকা রাখে। বিশেষত নদওয়ার প্রভাবে, সাইয়্যেদ সুলায়মান নদভী, মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, মাওলানা জাফর আলী খান, মাওলানা মুহাম্মদ আলী, মাওলানা হামীদুদ্দিন ফারাহী, মাওলানা আব্দুস সালাম নদভী, ইকবাল হোসেন সুহাইলীর মতো লব্ধপ্রতিষ্ঠ ও বিদগ্ধজনেরা গড়ে ওঠেন যারা পরবর্তীতে উপমহাদেশের মুসলিমদের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে শক্তিশালী ভূমিকা রাখেন।
নদওয়ায় থাকা অবস্থায় শিবলী ‘সীরাতুন্নবী’র কাজ শুরু করেন। মূলত প্রাচ্যবিদ মার্গোলিয়থের জবাবে এই অনন্য সাধারণ গ্রন্থটি লেখেন শিবলী। ফার্সী সাহিত্যের উপর লেখা অনবদ্য গ্রন্থ ‘শিরুল আজম’(৫ খন্ড)ও লেখেন এই সময়ের মধ্যে। এছাড়া বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ ও কবিতা রচনা করেন এ সময়ে।
নদওয়াতুল উলামায় কাজ করার আন্তরিক ইচ্ছা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। তার কয়েকটি লেখাকে কেন্দ্র করে আলেমদের সাথে তার মতবিরোধ তৈরি হয়। এর প্রেক্ষিতে তিনি নদওয়া থেকে পদত্যাগ করেন এবং আজমগড়ে ফিরে যান। সেখানে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন দারুল মুসান্নিফিন (লেখক বাড়ি)। এরজন্য শিবলী নিজের বাড়ি, গ্রন্থাগার দান করে দেন। এখানেই তার অবিস্মরণীয় গ্রন্থ ‘সীরাতুন্নবী’র কাজ চলমান রাখেন।
রচনাবলি :
আল্লামা শিবলী নোমানীর রচনাবলি প্রধানত ৫ ভাগে ভাগ করা যায়।
১। ইতিহাস
সীরাতে নুমান, আল ফারুক, আল মামুন, আওরঙ্গযেব পার এক নযর, তার ইতিহাস প্রকল্পের অন্তর্গত।
শিবলী নোমানী ইতিহাসকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করে ইতিহাস দর্শনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। এ ব্যাপারে তার পূর্বসুরী ছিলেন ইবনে খালদুন। তার ইতিহাস সংক্রান্ত প্রতিটি গ্রন্থেই তার বিশ্লেষণী পর্যালোচনার গাড় ছাপ পাওয়া যাবে। যেমন তার অবিস্মরণীয় গ্রন্থ “সীরাতে নোমান”-এ ইমাম আবু হানিফা (র) এর ব্যাপারে প্রচলিত অতরঞ্জিত বর্ণনাগুলোকে তিনি খন্ডন করেছেন যা কিনা ইমাম আযমের মর্যাদা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। প্রসঙ্গত এ কথাও উল্লেখযোগ্য আল্লামা শিবলী নোমানীর অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হলো- তিনি ইমাম আবু হানীফা এবং ফিকহে হানাফীর চিন্তা ও দর্শনের অনেক বড় একজন সমঝদার ছিলেন। যার ফসল তাঁর ‘সীরাতে নুমান” গ্রন্থটি যা বেশ কয়েকটি কারণেই অনবদ্য। কারণ এ গ্রন্থে একইসাথে ইতিহাস, কালাম শাস্ত্রের রূপায়ন ( ইমাম আবু হানীফা শ্রেষ্ঠতম কালামবিদদের একজন ছিলেন), এবং ইমামুল আযম আবু হানীফার চিন্তাভাবনার একটি পর্যালোচনা সামনে এসেছে। তাই তাঁর জীবনের সামগ্রিক কাজের একটা সারবস্তু চলে এসেছে। তাই সার্বিক বিবেচনায় এটি একটি অসাধারণ কাজ। আর ইসলামী সভ্যতার ইতিহাসে ইমাম আবু হানীফার প্রজ্ঞা, গভীরতা, অনন্যতা, সামগ্রিকতা, বহুমাত্রিকতা এবং দূরদৃষ্টিকে নতুনভাবে পরিচয় দেয়ার কিছু নেই। আর বর্তমান প্রেক্ষিতে ইমাম আবু হানীফা এবং তাঁর চিন্তাকে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা যে কত বেশি সচেতন পাঠক, পর্যবেক্ষকমাত্রই তা অনুধাবন করতে পারবেন।
(অবস্থার দাবি অনুযায়ী ইমাম আবু হানিফা র. এর উপর প্রামাণ্য এই গ্রন্থটি মক্তব প্রকাশন থেকে প্রকাশ হচ্ছে।)
একইভাবে তার “আল গাজ্জালী” গ্রন্থে তিনি ইমাম গাজ্জালীকে নিয়ে অসাধারণ আলোচনা করেছেন। ইসলামী সভ্যতার সারমর্ম খ্যাত ইমাম গাজ্জালীর চিন্তাদর্শন ও জীবনের এক সার পর্যালোচনা ফুটে উঠেছে তার গ্রন্থে।
এছাড়া তার “আওরঙ্গজেব”, “আল মামুন”-এও তিনি এ পর্যালোচনা করেছেন।
২। কালাম
কালাম শাস্ত্রের উপর তার যুগান্তরী রচনাসমূহ হচ্ছে- ইলমুল কালাম, আল-কালাম, আল-গাযালী, সাওয়ানেহে মাওলানা রূম। ইলমুল কালাম ও আল কালাম শিবলীর জীবনশ্রেষ্ঠ কাজগুলোর একটি। এ গ্রন্থে একেতো শিবলী ঐতিহ্যবাদী কালামের ইতিহাস তুলে ধরেন ও পর্যালোচনা করেন, আবার একইসাথে কালামশাস্ত্রের সামগ্রিক পঠনের উপর জোর দেন। এখানে তিনি নতুনভাবে কালাম শাস্ত্রের প্রয়োগ, ও নতুন কালাম তৈরির ব্যাপারে গুরুত্ব দেন। তিনি তাঁর এই গ্রন্থে কালাম শাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরেন। উম্মাহর অনেক মনীষীগণ কালামশাস্ত্রের বিরোধিতা কেন করেছেন তারও জবাব দেন। ‘সাওয়ানেহে মাওলানা রুম’ গ্রন্থটিও এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া তার “সীরাতে নোমান” ও “আল গাজ্জালী” গ্রন্থে যথাক্রমে ইমাম আবু হানিফা (র) ও ইমাম গাজ্জালীর কালামী চিন্তার ব্যাপারে স্বতন্ত্রভাবে আলোচনা করেছেন।
৩। গ্রন্থ পর্যালোচনা/সাহিত্য সমালোচনা
এক্ষেত্রে আল্লামা শিবলীর গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হলো ‘মাওয়াজিনা ই আনীস ওয়া দাবীর’, ‘শিরুল আজম’। ফার্সী সাহিত্যের ইতিহাসবিষয়ক গ্রন্থ শিরুল আজম বহির্বিশ্বেও অত্যন্ত সমাদৃত। এগ্রন্থদ্বয়ে আল্লামা শিবলী সাহিত্য সমালোচনার ক্ষেত্রে নতুন কিছু দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
৪। সীরাত
শিবলী নোমানীর জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজ বলা হয় ‘সীরাতুন্নবী’-কে। তার ও সাইয়্যেদ সুলায়মান নদভীর মিলিত লেখনীতে এ গ্রন্থটি ৬ খন্ডে প্রকাশিত হয়েছে। এ গ্রন্থে আল্লামা শিবলী মূলত প্রাচ্যবিদদের অভিযোগের শক্তিশালী জবাব দেন। অসাধারণ এ গ্রন্থটি বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
৫। বিবিধ
এছাড়া তার বহু প্রবন্ধ ও কবিতা রয়েছে। অনেকেই জানেন না যে, আল্লামা শিবলী একজন শক্তিশালী কবি ছিলেন। ইসলাম, তৎকালীন পরিস্থিতি, রাজনীতি ইত্যাদি বিষয়ে তার বেশ কিছু কবিতা রয়েছে।
শিবলী নোমানী ছিলেন বহুপ্রজ ও বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব । তত্ত্ব ও প্রয়োগ উভয় ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন সমান পারদর্শী । তার আরবী ও ফার্সীতে লেখালেখিগুলো সমকালে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোতে প্রচুর জনপ্রিয় হয়েছিল। এছাড়া উর্দুতে তার দখল ছিল প্রবাদপ্রতিম। বলা হতো-
“আল্লামা শিবলীর বিরোধিতাকারীরাও তার সমালোচনা করতে গিয়ে তার ভাষারীতি অনুকরণ করতে বাধ্য হয়”।
ইতিহাস ও সীরাত রচনায় তিনি দেখিয়েছিলেন নতুন মাত্রা । তিনি ছিলেন তার সমকালের সবচেয়ে ব্যাপক বুদ্ধিসম্পন্ন, বর্ণাঢ্য ও গতিশীল ব্যক্তিত্ব । তাঁর চিন্তা ও দর্শনের প্রভাবে উপমহাদেশের মুসলিম জ্ঞানকাণ্ড একইসাথে উম্মাহর মানস আলোড়িত ও সমৃদ্ধ হয়। গত শতকের উম্মাহর অন্যতম এ শ্রেষ্ঠ ও মহান চিন্তাবিদ আল্লামা শিবলী নোমানীকে পাঠ করা তাই নিজেদের ভিত্তি নির্মাণের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
ইন্তেকাল :
১৯১৪ সালের ১৮ নভেম্বর উম্মাহর মহান এ ব্যক্তিত্ব ইন্তেকাল করেন।
-----------------------------
লেখক: সা'দ মুসান্না। রোয়াক।