04/06/2026
মিরপুরের ঘটনার বেশ কিছুদিন আগে থেকে আমি বাবা মা র জন্য বাংলাদেশে হেলথ ইন্স্যুরেন্সের সিস্টেমটা বুঝার চেষ্টা করতেছিলাম। যেহেতু জার্মানিতে থাকি সেহেতু এখানে সব কিছু ইন্স্যুরেন্সের আন্ডারে চলে। মোটা দাগে প্রচুর ব্যায়বহুল কিছু খুঁজে পাইছি কিন্তু নিজের মধ্যবিত্ত সামর্থ্যর মধ্যে খুব ভাল কোন কভারেজ পাইনি।
এই কথাটা বলার কারণ হচ্ছে, মিরপুরের ঘটনার পর অনেকে বাবা মা র প্রতি ছেলে মেয়েদের দায়িত্বের কথা বারবার তুলে ধরেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের সিস্টেম এটাকে অনেকটা "কালচার বনাম সিস্টেম" এর একটা কনফ্লিক্ট লাগায় দিছে। উদাহরণ দিয়ে বুঝায় বলি:
বাংলাদেশের সংস্কৃতির একটা বড় দিক সবসময় ছিল পারিবারিক সম্মান একত্রে থাকা। কিন্তু জবের সিস্টেম এমন যে আপনি থাকবেন সবসময় স্ট্রেসের মধ্যে, চাকুরির টাইম টেবিলের মা বাপ নাই, অনেকে শুক্রবার অফিস করে, ছুটিতে বাসায় যাওয়ার সুযোগ নাই, বেতন এত ভাল না ইত্যাদি ইত্যাদি বলে শেষ করা যাবে না। সিস্টেম আপনাকে নিজের সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ থেকে অনেজ দিয়ে দূরে সরায় নিতে বাধ্য করে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জিনিসও দায়ী - যেমন ঢাকা কেন্দ্রিক চাকুরী, ট্রান্সপোর্টেসন এর বাজে অবস্থা, সমাজে মানুষের চাহিদা সামাজিক প্রেক্ষিতে বেশী (যেমন ধরেন বাড়িতে গেলে এর জন্য এইটা নেওয়া ওর জন্য ওইটা, বাজেটে শেষমেশ না কুলায়ে না যাওয়া), কাজের অবস্থান এমন জায়গায় যেখানে বাবা মা পরিবার হয়ত এসে থাকতে পারবে না ইত্যাদি।
এই আধুনিক যুগে এসে রাষ্ট্র বা দেশ একত্র না হয়ে আসলে আপনি নিজে থেকে কিছু কি করতে পারেন, পারেন না। একা সম্ভব না। জার্মানির উদাহরণ টানা এখানে বেমানান তবে যেটা প্রথমে বললাম একটা হেলথ ইন্স্যুরেন্সে আমি আমার বাবা মা অথবা ফ্যামিলির জন্য নিতে চাই, কিন্তু এই যুগে এসে আমার হাতে অপশন কম। যেটা বলছিলাম, জার্মানির সিস্টেমটা আপনার বয়স্ক মানুষের জন্য কিরকম সেটা বলি:
১. প্রথমত তো হেলথ ইন্সুইরেন্স আপনার সব খরচ বহন করবে। আগা টু গোড়া (ক্ষেত্র বিশেষে কিছু আছে সেগুলা মূলত না ধরার মত)। এটা কি ফ্রি মানি? না এটা আপনি সহ গোটা দেশের সকলের টাকা যেটা সরকার নেয়, নিয়ে সবার জন্য খরচ করে। কারণ আপনি তো প্রতিদিন অসুস্থ হবে না। ১০০ জনে টাকা দিবে সেই টাকা দিয়ে ১০ জনের চিকিৎসা হবে, সে সেরে উঠবে আপনি অসুস্থ হইলে সবার টাকা দিয়ে আপনার চিকিৎসা হবে!
২. পেনশন। বুড়ো বয়সে আপনি একটা পেনশনের টাকা পাবেন, যেটা নাই মামা র থেকে কানা মামা ভাল টাইপ। তবে আপনাকে হাত পাততে হবে কারো কাছে, নট ইভেন আপনার ছেলে মেয়ে।
৩. আপনি যদি জার্মানিতে থাকেন তাহলে দেখবেন আপনার বেতন থেকে একটা ইন্স্যুরেন্স কাটে সেটা হইল - ফ্লিগেফারসিসারুং ( ইংরেজিতে Long Term Care Insurance), এটার কাজ কি? এটার কাজ অনেক যার মধ্যে একটা হইল বয়স্ক সময়ে আপনার পারসোনাল কেয়ারের প্রয়োজন হইলে, বাসায় থেকে দেকভাল করতে হইলে এখান থেকে সাহায্য আসবে, নিয়মিত মেডিকেল বোরডের লোক আপনার হেলথ চেক করবে এবং আপনার সুস্বাস্থ্য র ব্যাবস্থা করবে।
ইত্যাদি ইত্যাদি......
এগুলো বলার কারণ হচ্ছে, আমার মতে বাংলাদেশের পারিপার্শ্বিক সিস্টেম চাইলেও বাংলাদেশের বাচ্চাদের তাদের পরিবারের দেকভালের সেরকম সুযোগ করে দেয় বলে মনে হয় না। আমি দেখি তো, অনেকে চায়, মন থেকে চায়, কিন্তু পারে না। এই জায়গায় সাহায্য একমাত্র বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে করতে পারে, তবে বাংলাদেশের মানুষকে বুঝতে হবে উদ্যোগ গুলো ভালো যদি কেউ নেয়!
জার্মানির এই সিস্টেমগুলো কেউ না জেনে থাকলে শেয়স্র করে জানায় দিবেন!