13/09/2026
জার্মানিতে সোশ্যাল মিডিয়ার ফ্রেন্ড এবং ব্ল্যাকমেইল করে দিনের পর দিন ধর্ষ/ণ:
একজন ফিমেল স্টুডেন্ট জার্মানি আসার জন্যে সোশ্যাল মিডিয়ার কোন একটি গ্রুপ থেকে পাওয়া জার্মানিতে থাকা আরেক ছাত্রের সাথে কানেক্টেড হয়েছে। এপলাই করার সময় কিছু ইনফরমেশন, সিভি বানানো, মোটিভেশন লেটার বানানো এগুলিতে ফেইসবুক ফ্রেন্ডটি তাকে হেল্প করেছে।
মেয়েটির জন্যে একটি শেয়ার্ড এপার্টমেন্টও ঠিক করতে হেল্প করেছে ছেলেটি। জার্মান ভিসা পাবার পর মেয়েটি যেদিন জার্মানিতে আসলো, ঐদিনই মেয়েটিকে রুমে একা থাকার ব্যাপারে ভুত এবং ইত্যাদি দিয়ে ভয় দেখালো। ছেলেটি তখন বললো, সে যদি রাতে রুমে একা থাকতে ভয় পায় , তা হলে সে মেয়েটির সাথে রুমে থাকতে পারে। মেয়েটি কিছুই বললো না। থেকে গেলো রাতে ছেলেটি মেয়েটির সাথে। সেদিনই ছেলেটি মেয়েটির সাথে রাতে ফিজিক্যাল রিলেশন করলো। এভাবেই চলতে লাগলো কয়েক মাস। ছেলেটি বলতো, তার শিগগিরই বড় একটি কোম্পানিতে জব হবে। জব হলেই সে বিয়ে করবে। তার খরচ-পাতি চালাবে ইত্যাদি ইত্যাদি। এছাড়া নিয়মিতই ভুত-প্রেত এগুলি নিয়ে ভয় দেখাতো ।
মেয়েটি এক পর্যায়ে বুঝতে পারে তার অবস্থা। ছেলেটির কাছ থেকে দূরে আসার চেষ্টা করে। কয়েক মাস পর চলে আসে অন্য আরেকটি সিটির ইউনিভার্সিটিতে এডমিশন নিয়ে। তারপরও চলতে থাকে ছেলেটির মেয়েটিকে ফিজিক্যাল রিলেসন করতে বাধ্য করা।
১-২ দিন পর পরই চলে আসে ছেলেটি মেয়েটির কাছে রাতে। মেয়েটি ছেলেটিকে না করে ফিজিক্যাল রিলেসন করতে। কিন্তু সে শোনে না। ছেলেটি বলে যে, তার কাছে ভিডিও আছে তাদের ফিজিক্যাল রিলেসন এর। এসব ভিডিও তার বাবা-মাসহ অন্যদের দেখাবে যদি সে তার কথা না শোনে। এভাবে জোরপূর্বক চলতে থাকে দৌহিক সম্পর্ক। মেয়েটি বুঝতে পারেনা কি করবে? এ দূর দেশে তার নেই কোনো আত্মীয়-স্বজন। লজ্জায় কাউকে এ ঘটনা কোন দিন বলতেও পারছে না। এক পর্যায়ে মেয়েটি ছেলেটির কল ধরা বন্ধ করে দেয়।
একদিনের ঘটনা:
মেয়েটি কল ধরা বন্ধ করার কয়েকদিন পর, তার আসা কিছু দিনের জন্যে বন্ধ হয়। এর মধ্যে এক রাতে মেয়েটি বাইরে থেকে ফ্ল্যাটে এসে রুম খুলে লাইট জ্বালিয়ে হঠাৎ করে দেখে ছেলেটি তার বিছানায় শুয়ে আছে। সাথে সাথে সে চিৎকার করতে চাইলে, ছেলেটি এসে তার মুখ চেপে ধরে। এ অবস্থায় আবারও ধর্ষ/ণ করে মেয়েটিকে ওই রাতে। মেয়েটি ওইদিনও পারেনি চিৎকার করে বা ফ্ল্যাটম্যাটদের ডেকে বলতে সব ঘটনা। এটাও জানে না, ছেলেটি কিভাবে ফ্ল্যাটে ঢুকেছে। কলিং বল দিয়ে কারো মাধ্যমে নাকি তার কাছে কোনো ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে।
এর পর থেকে মেয়েটি আতংকে অনেক সকাল বেলা বের হয়ে যায় বাসা থেকে। আর ফিরে অনেক রাতে, যাতে ছেলেটি আসলেও না পায় বাসায় ওকে। একদিন ওই ছেলেটি দুপুর বেলা এসে, কলিং বেল দিয়ে মেয়েটির ফ্ল্যাটম্যাটকে দিয়ে দরজা খুলিয়ে মেয়েটির রুমে শুয়ে থাকে। অশ্লীলভাবে শোয়া ছবি মেয়েটিকে হোয়াটস্যাপ এ দিয়ে বলে, সে অপেক্ষা করছে তার রুমে। জলদি যেন আসে। মেয়েটি অনেক ভয় পেয়ে যায়। সাথে সাথে তার ফ্ল্যাটম্যাট মেয়েকে কল দিয়ে বলে, সে যেন ছেলেটিকে চলে যেতে বলে। তখন ছেলেটি বাসা থেকে বের হয়ে ফ্লাট এর দরজার পাশেই অপেক্ষা করতে থাকে। ভয়ে ভয়ে মেয়েটি ঐদিন বাইরে বাইরে থেকে অনেক রাতে বাসায় ফিরে।
আরেকদিনের ঘটনা:
একদিন মেয়েটি যখন সকালে বের হয় তখন ছেলেটি তাকে ট্রামে ফলো করতে থাকে। মেয়েটি টের পেয়ে সে তার এক ফ্রেন্ড এর বাসায় চলে যায় ট্রাম থেকে নেমে। ওই ফ্রেন্ড এর বাসায় গিয়ে সে বাইরে একটু পর পর দেখে ওই ছেলে আছে কিনা। ওই ছেলে বাইরে আছে দেখে সে আর বের হয় না। মেয়েটি তার ফ্রেন্ডকেও এ ঘটনা জানাতে পারছে না ভয়ে এবং লজ্জায়।
ওই দিন রাত সাড়ে এগারোটার দিকে মেয়েটি দেখে ছেলেটি বাইরে নেই। ভাবলো, সে এবার বাসায় যেতে পারে। বের হয়ে ট্রামে উঠতেই দেখে ওই ছেলেও উঠেছে। একেবারে মেয়েটির কাছে এসে কথা না বলে মোবাইলে লিখে লিখে মেয়েটিকে দেখাচ্ছে যে, এখন যেন মেয়েটি ট্রামের মানুষের সামনে কোনো কথা না বলে বা কোনো সিন ক্রিয়েট না করে। মেয়েটি যেন তার বাসায় তাকে নিয়ে যায়। তার বাসায় গিয়ে তার সাথে কথা বলবে। না হলে সে, ট্রাম থেকে বের হয়েই যা করার করবে। অনেক ভয় পেয়ে যায় মেয়েটি।
মেয়েটি আমার ফেইসবুক এর একজন ফলোয়ার। প্রয়োজনে মাঝে মাঝে মেসেজ আদান প্রদান হয় টুকটাক। ওই ছেলের কাছ থেকে একটু দূরে এসে আমায় কল দেয়। আমি তার সিটিতেই থাকি। ওই দিন আমার অফিসের এক ডিনার পার্টি ছিল Hauptbahnhof এর পাশের একটি রেস্টুরেন্টে। কল দিয়ে আমায় বলে, আমি যেন মেসেঞ্জার এর মেসেজ চেক করি, সে একটা অনেক বড় বিপদে আছে। কল এ সে বলতে পারছে না। মেসেজ দিয়ে আমায় বললো, সে ট্রাম থেকে নামতে পারছেনা, একটা বাঙালি ছেলের ভয়ে। ছেলেটি তাকে ফলো করছে এবং অনেক ক্ষতি করবে। আমি কি ওই ট্রাম এর কোনো একটি স্টেশনে আসতে পারবো কিনা। আমি তার লোকেশন জানলাম কোন স্টেশনে আছে। সময় তখন রাত বারোটার উপরে। বললাম, আপনি Hauptbahnhof ট্রাম স্টেশনে আসলে নামুন। আর লোকেশন ট্র্যাকিং শেয়ার করতে বললাম। নামলে আমি থাকবো। আমায় পাবেন।
গাড়ি নিয়ে বের হলাম। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পৌছালাম স্টেশনে। এর মধ্যেই আমি পুলিশের ইমার্জেন্সিতে কল দিলাম। ঘটনাটি ছোট করে বলে, হেল্প চাইলাম। ট্রাম স্টেশনে আমি রিচ করেই পুলিশকেও পেলাম। আমি পুলিশকে এপ্রোচ করে বললাম যে, আমি কল করেছিলাম। এর মধ্যেই ট্রাম আসলো। মেয়েটি নামলো। ছেলেটি সাথে সাথে নেমেই মেয়েটির হাত ধরে অনেকটা জোর করে টেনে নেবার চেষ্টা করছিলো। আমি একটু দূরে ছিলাম। দৌড়ে গিলাম ওখানে। পুলিশও দৌড়ে আসলো। ছেলেটি হাত ছেড়ে দিলো। এর মধ্যে পুলিশ সবার পাসপোর্ট/আইডি কার্ড চাইলো। জিজ্ঞেস করলাম, কেন ফলো করছে। বললো, এটি তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। পুলিশ জানতে চাইলো মেয়েটির কাছে। মেয়েটি উত্তর দিলো যে, তার সাথে ছেলেটির কোনো ব্যক্তিগত ব্যাপার নেই। মেয়েটি এর মধ্যে পুলিশকে জানালো যে, ছেলেটি ফলো করছে সারাদিন যাবৎ এবং ভয় ভীতি দেখাচ্ছে আজকে এখন তার বাসায় নিয়ে যাবার জন্যে। পুলিশ তখন ছেলেটিকে নিষেধ করলো মেয়েটিকে ফলো করার জন্যে। পুলিশ আমাদের বললো, কোনো কমপ্লিন থাকলে যেন আমরা পুলিশ স্টেশনে গিয়ে করে আসি কাল। ছেলেটিকে ওখান থেকে পুলিশ চলে যেতে বললো।
আমি মেয়েটিকে নিয়ে বাসায় পৌছিয়ে দিলাম। রাস্তায় আমার কাছে জানতে চাইলো আমার সময় আছে কিনা একটু। সে অনেক বড় বিপদে আছে। আমি তাকে যেন একটু সাহায্য করি।
আমি বললাম ঠিক আছে, বলুন। তখন সে আমায় তার বিগত মাসগুলিতে ঘটে যাওয়া উপরের ধর্ষ/ণসহ নির্যাতনগুলি বর্ণনা করলো। বললো, আমি যেন তাকে এডভাইস করি কিভাবে কি করা যায় এটা নিয়ে। আমি বললাম, আজ রাতে বাসায় গিয়ে ঘুমান। আর রাতে কোনো প্রব্লেম ফেস করলে আমায় কল দিতে। সকালে আমি লইয়ার এর সাথে কথা বলে জানাবো। তার বাসা নামিয়ে দিয়ে আসলাম।
এর মধ্যে ওই রাতেই বাংলাদেশ সময় সকাল বেলা ওই ছেলে বাংলাদেশে থাকা মেয়েটির বোনকে মেসেজ দিয়ে বলে তার সাথে ইম্পরট্যান্ট কথা আছে। মেয়েটির অনেক খারাপ কাজের কিছু এভিডেন্স তার কাছে আছে। তার বোন ভয় পেয়ে সাথে সাথে মেয়েটিকে কল দিয়ে জানতে চায় কি হয়েছে। মেয়েটি তখন তার বোনকে বলে দেয়, সে যেন ছেলেটিকে ব্লক করে দেয়। কি পরিমান ক্রিমিনাল ছেলেটি! পুলিশের তাড়া খেয়েও সে লেগে আছে!
পরের দিন সকাল বেলা আমি আমার পরিচিত লইয়ারকে কল দিলাম কিভাবে কি করা যায় এ ক্ষেত্রে। সে আমায় নামকরা একজন ক্রিমিনাল লইয়ার আর কন্টাক্ট দিলো। কল করলাম তাকে। বললাম ঘটনা। লইয়ার দুপুরের পর ইমার্জেন্সি হিসেবে টাইম দিলো।
দুপুরের পর গেলাম ওই মেয়েটিসহ লইয়ার এর কাছে। লইয়ার রে/পসহ অনেকগুলি ক্রাইম দিয়ে কেস ফাইল করলো।
কেসটি চলমান আছে এখন। ক্রিমিনাল পুলিশ এর তদন্ত করছে।
এ ঘটনাগুলির পর মেয়েটি এক ধরণের ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। দেশে তার বাবা-মা কেউ জানেনা এটি।
মেয়েটির উপলব্ধি হলো, এভাবে অনলাইন জগতের গ্রুপ এর মাধ্যমে অচেনা মানুষ থেকে বন্ধু বনে যাওয়াদের হেল্প নিয়ে জার্মানি আসাটা তার সব চেয়ে বড় ভুল হয়েছে। এর চেয়ে কিছু টাকা পয়সা দিয়ে যদি কোনো এডমিশন কন্সালটেন্সি থেকেও হেল্প নিত, তাহলে হয়তোবা তার জীবনে অমন মেসাকার হতো না। যদিও এখনকার চ্যাটজিপিটির যুগে আসলে অন্য কারোরই হেল্প এর তেমন দরকার নেই আর।
উপরের ঘটনাগুলির মত অনেক ঘটনা ঘটছে বাংলাদেশি স্টুডেন্টদের মধ্যে।
আশা করছি, জার্মানিতে আসতে ইচ্ছুক বাংলাদেশী যেসব স্টুডেন্ট আছেন তারা এবং তাদের গার্ডিয়ানরা এ ব্যাপারগুলি খেয়াল রাখবেন। বাংলাদেশে বাস-ট্রেনে যেমন অচেনা যাত্রী আপনার সাথে বন্ধুত্ব পাতিয়ে কিছু খাইয়ে আপনার সর্বস্ব লুটে নিয়ে যায়, জার্মানিতে আপনার মেয়ের সর্বস্ব লুটে নেবার জন্যে অনলাইনে অচেনা থেকে ফ্রেন্ড হয়ে যাওয়া তেমনি কিছু ছেলে অপেক্ষায় থাকে! সবাই সাবধানে থাকুন!