Dr. MK Kabir

Dr. MK Kabir

Teilen

German Immigration & Life, German Free Education, Rules and My Own Thoughts Facebook: www.facebook.com/MKMKMKKabir

জার্মানিতে স্টাডি, ইমিগ্রেশন, গাইড লাইন, নিয়ম-কানুন, দৈনন্দিন-জীবনে চলার জন্যে তথ্য যা কিনা একজন বাংলাদেশির জন্যে দরকার হতে পারে, তা আপনারা পাবেন এই পেজ এ। যেকোনো আপডেট পেতে সাথে থাকুন! ধন্যবাদ আপনাদেরকে!

Photos from Dr. MK Kabir's post 21/08/2026

জার্মানিতে দরজা-জানালা ভেঙে এবং খুলে চুরি-ডাকাতি:
গতকাল রাত প্রায় ১২ তার দিকে আমার বাড়িতে কলিং বেল এর শব্দ। ঘুম থেকে জেগে গেলাম। দোতলার জানালা দিয়ে দেখলাম কে কলিং বেল দিচ্ছে এতো রাতে। বাইরে দেখলাম পুলিশ। জিজ্ঞেস করলাম, কি ব্যাপার। বললো, পাশের বাড়িতে বাগানের দিকের গ্লাসের দরজার ফ্রেম ভেঙে বড় ধরণের চুরি হয়েছে। আমার বাড়িতে সেট করা ক্যামেরার ভিডিও আমি দিতে পারি কিনা।
নিচে নামলাম। বাইরে গেলাম আমার মোবাইল নিয়ে। পুলিশ এর সামনেই আমি চেক করতে থাকলাম আমার বাউন্ডারি দিয়ে কেউ ওই বাড়িতে গিয়েছে কিনা। অথবা রাস্তায় কাউকে সন্দেহজনক দেখা যায় কিনা আমার ভিডিওতে। না, পেলাম না অমন কিছু।
পাশের বাড়িওয়ালা গত তিন সপ্তাহ যাবৎ নেই। ছুটি কাটাতে গিয়েছে ক্রোয়েশিয়াতে। গতকাল রাতে বারোটার দিকে ফিরে এসেই দেখে তার বাড়ির প্রতিটা রুম ছিন্ন-ভিন্ন। বেড, বালিশ সব খুলেছে। কি কি চোর/ডাকাত নিয়েছে এটার কথা বলেনি আমায়। আমিও জিজ্ঞেস করিনি, ভাবলাম সেনসিটিভ ইনফরমেশন হতে পারে। মনে মনে ভাবলাম, ফ্রাঙ্কফুর্ট এর মতো একটি সদা ব্যস্ত মেট্রোপলিটন শহরেও অমন ঘটনা ঘটে!

জার্মান পুলিশের ডাটা অনুযায়ী ২০২৫ সালে প্রায় ৮৩,০০০ অমন চুরি/ডাকাতি হয়েছে যা কিনা পূর্ববর্তী বছরের চেয়ে প্রায় ৬% বেশি। সব চেয়ে বেশি এ ধরণের ক্রাইমগুলি হয়ে থাকে Ruhr এরিয়া যেমন, Krefeld, Mülheim, Essen এর মতো অঞ্চলে।

বেশ কিছুদিন আগে এক বাঙালিও ফ্যামিলি বিকেল বেলা অন্য একজনের বাসায় বেড়াতে গিয়েছে। রাতের বেলায় এসে দেখে বাসার সব কিছু অগোছালো। খুঁজে দেখে তাদের সব গোল্ড এর গহনাসহ দামি মাল-পত্র সব চুরি হয়ে গিয়েছে। ওদের বাসার দরজা খুলে ওটা দিয়ে চোর ঢুকেছে। পুলিশ আজ পর্যন্ত ওটার কোনো সুরাহা করতে পারেনি।

অমন অনেক চুরির ঘটনা জার্মানিতে শোনা যায়।

কিভাবে চোর বাড়িতে প্রবেশ করে:
Netzwerk "Zuhause sicher" Einbruchschutz + Brandschutz এর ইনফরমেশন অনুযায়ী ৯৯% ক্ষেত্রে জানালার ফ্রেম, হ্যান্ডেল, অর্ধ-খোলা জানালা, বা ছাদের উপর দিয়ে চোর ঢুকে। ১% এর কম ক্ষেত্রে গ্লাস ভাঙে। কারণ গ্লাস ভাঙার পদ্ধতি বিপদজনক (আহত হওয়া, বিকট শব্দ ইত্যাদি)।

কোথাও কোথাও দরজা খুলে চোর ঢুকে। জার্মানির যে লক সিস্টেম, ওখানে যদি চাবি দিয়ে কেউ সিলিন্ডার ঘুরিয়ে ওটা ঠিক মত বন্ধ না করে, তা হলে সেই দরজা বাইরে থেকে খোলা ১০ সেকেন্ড এর ব্যাপার চোরের কাছে। উপরের গহনা চুরির ঘটনাটি এ ভাবেই হয়েছিল।

দরজার সিলিন্ডার চাবি দিয়ে বন্ধ করুন:
যারা জার্মানিতে দরজা শুধু একটি টান দিয়ে বন্ধ করে যান, তারা সতর্ক হন। অবশ্যই দরজা চাবি দিয়ে সিলিন্ডার ঘুরিয়ে লক করবেন। এতে আপনি অনেকটাই সেফ।
চাবি দিয়ে বন্ধ করা সাধারণ লকের দরজাও অনেক সময় চোরেরা খুলে ফেলতে পারে। এ জন্যে স্পেশাল সিকিউরিটি লক সিলিন্ডার (জার্মানিতে সর্বোচ্চ সিকিউরিটি লেভেল ৭.২) ব্যবহার করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে চান্স কম থাকবে খুলে ফেলার। কারণ এগুলি চোরের জন্যেও খোলা বেশ সময় লাগে এবং দুরূহ।

যারা শেয়ার্ড এপার্টমেন্ট বা ডর্মে থাকেন তারা ভালো মতো রুম এবং ফ্লাট এর দরজা সিলিন্ডার ঘুরিয়ে লক করে যাবেন।

বর্তমানে জার্মানিতে চুরির মতো ঘটনাগুলি বেশ বাড়ছে। এর কারণ হিসেবে জিনিস-পত্রের চড়া মূল্য বৃদ্ধি, দারিদ্রতা বেড়ে যাওয়া, চাকুরীর বাজারের মন্দা, সংঘবদ্ধ ক্রিমিনাল চক্রকে দ্বায়ী করা হয়। সামনের দিনগুলিতে এ কারণগুলি যদি জার্মানি ঠিক মতো সমাধান করতে না পারে, তা হলে এ ধরণের চুরি-ডাকাতির মতো ঘটনাগুলি বাড়তেই থাকবে।

05/08/2026

জার্মানীর নাগরিকত্ব এবং মেরুন-লাল পাসপোর্ট, আবার সবুজ পাসপোর্টে ফিরে যাওয়া:
গত সপ্তাহে জার্মানি থেকে বাংলাদেশে যাবার জন্যে টিকেট কাটলাম। আগের রাতে অনলাইনে চেক-ইন করতে যেয়ে দেখি আমার জার্মান পাসপোর্টের মেয়াদ পাঁচ মাস ২০ দিন। চেক-ইন করে ফেললাম। ওখানেই আমায় নোটিশ দিলো যে অন্তত ৬ মাস পাসপোর্ট ভ্যালিড থাকতে হবে বাংলাদেশে ট্রাভেল করতে হলে। পরের দিন বিকেলে ফ্লাইট। এর মধ্যে নতুন পাসপোর্ট করে, বাংলাদেশ এম্বেসী থেকে NVR (বাংলাদেশে ভিসা-মুক্ত ভ্রমণ পারমিশন) নেয়া কোন মতেই সম্ভব না। তারপর ঘাঁটাঘাঁটি করলাম অপসনগুলি নিয়ে। দেখলাম অস্থায়ী পাসপোর্ট (vorläufiger Reisepass, এক বছরের জন্যে ) সাথে সাথে পাওয়া যায়। Burgeramt এ অনলাইন এপয়েন্টমেন্ট পাইনি পরের দিন সকাল বেলা। তারপরও সকালে চলে গেলাম ডাইরেক্ট। গিয়ে বললাম, আমার পাসপোর্ট দরকার আজকেই যেহেতু আমার ফ্লাইট আজ। আমায় এপয়েন্টমেন্ট দিল সাথে সাথে। পাসপোর্ট পেলাম ১১ টায়।
দেখলাম পাসপোর্ট এর কালার সবুজ। প্রথম একটু অবাক হলাম। সবুজ পাসপোর্ট! আমায় কি বাংলাদেশী পাসপোর্ট ফেরত দিলো নাকি? এরপর পাসপোর্টের ভিতরে যেয়ে দেখি, না, জার্মান পাসপোর্টই আছে। আমি আসলে জানতাম না যে, জার্মান পাসপোর্ট ও সবুজ হতে পারে।
বাসায় এসে দরকারি জিনিস নিয়ে এয়ারপোর্ট চলে গেলাম। ওখানে এয়ারলাইন্সকে আগের পাসপোর্ট এর NVR দেখালাম। এছাড়া অন-এরাইভাল ভিসার কথাও বললাম। একটু গাই-গুই করে এয়ারলাইন্স বোর্ডিং পাস দিলো।
দেশে এসে এয়ারপোর্ট ইমিগ্রেশন অথরিটিকে জিজ্ঞেস করলাম NVR দিয়ে ইমিগ্রেশন ক্রস করা যাবে কিনা। বললো, অন এরাইভাল ভিসা নিতে। ৪৫ ইউরো নিলো। ইমিগ্রেশন অফিসার সুন্দর করে আমায় ইমিগ্রেশন ক্রস করার পারমিশন দিলো।
আমি যত বার দেশে এসেছি, প্রতিবার সব ইমিগ্রেশন অফিসার অনেক দ্রুত কাজ করে দেখেছি। ছোটোখাটো গল্পও করে অনেকেই। এটা আমাদের দেশের একটা ভালো দিক।

আসলে পাসপোর্ট তো দীর্ঘদিন পর পর নতুন নিতে হয়, এ জন্যে আমার মত অমন ভুল করে অনেকেই ফ্লাই করতে পারেন না। কাজেই সবারই উচিত সময় মত পাসপোর্ট নতুন করে বা রিনিউ করে ফ্লাই করা।

24/07/2026

কম্পিউটার ফিল্ডে স্টুডেন্ট জব:

বাংলাদেশে কম্পিউটার সায়েন্সে পড়ছেন এমন ক্যান্ডিডেট খোঁজা হচ্ছে পার্ট-টাইম জবের জন্যে (হোম অফিস)।

কি কি করতে হবে:
Inkscape বা এ ধরণের টুল দিয়ে UI/UX Mockups, Technical Diagrams
টেকনিক্যাল ডকুমেন্টেশন
System/Software Requirements লিখা
প্রোগ্রামিং, টেস্টিং (Python বা Java বা অন্য প্রোগ্রামিং ভালো বুঝা)
AI, Data Management, Data Analysis

আগ্রহীরা সরাসরি সিভি দিয়ে ইনবক্স করতে পারেন।
সিভিতে আপনার HSC GPA, ব্যাচেলর'স CGPA অবশ্যই উল্ল্যেখ করবেন।
কোথাও কোন স্কলারশিপ পেয়ে থাকলে, কোন প্রজেক্ট করে থাকলে সেটাও উল্লেখ করবেন।

Send a message to learn more

19/07/2026

ওয়ার্ল্ডকাপ ফুটবল: আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি এবং মেসি:
ক্লাস ফাইভে পড়ার সময় ফুটবল খেলতে যেয়ে আমরা সবাই মনস্থ করলাম ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা নামের দুই টীম বানিয়ে আজ খেলা হবে। সবাই যার যার মত নিজের পছন্দের টিমের নাম দিলো। আমি তখনও ওদের কারও খেলা না দেখেই বলে ফেললাম, আমি ব্রাজিল। ব্রাজিল সাপোর্ট ছোট বেলায় এভাবেই।
উচশিক্ষার্থে জার্মানি আসার পর জার্মানীকে সাপোর্ট করা শুরু করলাম। নিজের বাংলাদেশ যেহেতু ফুটবল বিশ্বকাপে খেলে না, কাজেই জার্মানিকেই সাপোর্ট করা বেছে নিলাম। আমি যার নুন খাই, তারই গুন্ গাই। সারাজীবনই অমন আমি। ২০১৪ সালে জার্মানি বিশ্বকাপ জেতার পর ওই সময়কার ন্যাশনাল ব্যাংক (সে সময় আমার ব্যাংকিং মোস্টলী এ ব্যাংকেই হতো এবং এ সূত্রেই ওই ব্রাঞ্চের কম-বেশি সবাই আমায় চিনতো) মোহাম্মদপুর শাখার সবাইকে আমি বিরায়নি খাওয়ালাম।

২০১৪ সালের পর জার্মানির খেলার কোয়ালিটি আর ধরে রাখতে পারলো না। ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬ সালে তাদের বিশ্বকাপ থেকে বিদায় এটাই প্রমান করলো যে, তাদের ফুটবলের আপাদমস্তক সব স্ট্রাটেজি চেঞ্জ করতে হবে।

২০২৬ সালের বিশ্বকাপ খেলা অনেকগুলিই দেখেছি। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার খেলা। তারা পুরা সময় জুড়ে যাই খেলুক বা না খেলুক, শেষের দিকের প্রায় ১৫ মিনিট অদ্ভুত একটি দল হয়ে যায়। ওই সময়ে তাদের প্রতিটি প্লেয়ার এর গতি এবং ছন্দ অতুলনীয়। আমার কাছে মনে হয় ওই ১৫ মিনিট তাদেরকে আটকানোর মত সক্ষমতা দুনিয়ার কোনো টিমেরই নেই। মনে হয় লাস্ট ১৫ মিনিট পুরা আর্জেন্টিনা টীম বিপক্ষ দলকে নিয়ে আসলে রীতিমতই "খেলে"।

আর্জেন্টিনা টিমের সাপোর্টার আমি কোনো দিন ছিলাম না, এখনো না। তবে এই দলের খেলার মধ্যে দেখার মত সব ধরণের আকর্ষণই আছে। তাদের দলের মেসির ফুটবল ট্যালেন্ট আসলেই এক্সট্রাঅর্ডিনারি এবং এক্সেপশনাল। ইংল্যান্ড এর সাথে খেলাতে মেসির দেয়া লাস্ট গোলের আগে পাস্ পাস থেকে আমার মনে হয়েছে, সে ফুটবলটাকে ম্যাথমেটিক্স এবং ফিজিক্স এর হিসেবে করে কন্ট্রোল করতে পারে। তার প্রতিটি অ্যাকশন আসলেই জাদুর মতো মনোমুগ্ধকর। তার সমতুল্য ফুটবল মেধা আমি আসলেই দেখিনি জীবনে। মেধাকে আমি আজীবন সম্মান করি, সে যেই হোক। যদিও আজকের ফাইনাল খেলাতে অনেকগুলি কারণে আমি স্পেনকেই হয়তো মনে মনে চাব জিতুক।

মেসির অসাধারণ ফুটবল আর্ট এবং কারুকার্য দেখে আনন্দ পাবার জন্যে সারা দুনিয়ার প্রায় প্রতিটি ফুটবল প্রেমী মানুষরই আমার মনে হয় তার প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। তার চরম মেধাকে সম্মান জানানো উচিত।
আর্জেন্টিনা জিতলে আমি খুশি হয়তোবা হবে না, তবে মেসি এবং তার দলের এবং তার দলের সমর্থকদের জন্যে অনেক শুভ কামনা থাকলো!

12/07/2026

জার্মানিতে Au-Pair ভিসা নিয়ে আসা: সতর্ক থাকুন:

ঘটনা ১:
বাংলাদেশ থেকে নার্সিং করা একটি মেয়ে জার্মান এ১ ল্যাঙ্গুয়েজে শেষ করে Au-Pair ভিসা নিয়ে জার্মানি এসেছে। ভিসা প্রসেস করার সময় তার হোস্ট ফ্যামিলি ছিল এক সিঙ্গেল ফাদার এবং তার ছোট বাচ্চা। ভিসা পাবার পর পর ওই সিঙ্গেল ফাদার তাকে জানালো যে, সে জার্মানি আসার পর তার সাথে থাকবে একই রুমে। মেয়েটি সে প্রস্তাবে রাজি হলো না। তখন সে সিঙ্গেল ফাদার তার Au-Pair কন্ট্রাক্ট ক্যানসেল করলো। মেয়েটি আরেকটি হোস্ট-ফ্যামিলি ম্যানেজ করলো। সিঙ্গেল মা, একটি ৬ বছরের ছেলেকে দেখতে হবে।
জার্মানি আসলো।
সকাল ৬ টায় ঘুম থেকে উঠে বাসার কাজ করে ৭ টার মধ্যে গোসল করতে হত। কারণ ৭ টায় তাকে বাথরুম ক্লিন করে শুকাতে হতো। এর পর গোসল করলে বাথরুম ভিজে যাবে। এ জন্যে এর পর গোসল করা নিষেধ ছিল।
মেয়েটি থাকার সময়েই ওই মহিলার আরেকটি বাচ্চার জন্যে একটি ইন্ডিয়ান মেয়েকে Au-Pair ভিসা দিয়ে নিয়ে আসে। ওই ইন্ডিয়ান মেয়ে দুই দিন থাকার পর বললো, সে আর থাকবে না। ইন্ডিয়ান মেয়েটি বললো, তাকে সে দাসীর মতো ব্যবহার করছে। ওই মহিলা তখন তাকে বললো, ২ ঘন্টার মধ্যে তার বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে। ইন্ডিয়ান মেয়ের কোন একজন আত্মীয় ছিল জার্মানিতে। সে চলে গেলো।
ওই মহিলার অমন রুড আচরণ দেখে বাঙালি মেয়েটি ভিতরে ভিতরে আরো ভয় পেয়ে গেলো। কোন কারণে যদি ওই মহিলা তার প্রতি অমন রাগ করে বের করে দেয়? তার তো যাওয়ার জায়গা নেই। এ জন্যে সে সব কিছুই মুখ বুজে সহ্য করে যেত।
মেয়েটির পানি খাবার জন্যে একটি গ্লাস বরাদ্দ ছিল। ওই গ্লাস দিয়ে সে একবার পানি খেয়ে ওটা ডিশ ওয়াশারে দিতে হতো যেহেতু সে ইউজ করা কোন গ্লাস বাইরে রাখতে পারতো না। ডিশ ওয়াশার বিকেলের দিকে অন করা হতো। এর পর গ্লাস পেয়ে আবার পানি খেতে পারতো।
৬ বছরের ছেলেটি মেয়েটিকে তার স্কিন নিয়ে কথা বলতো। মেয়েটিকে কারণে-অকারণে মারতো। মেয়েটি কিছু বলতে পারতো না। ছেলেটির মা ছেলেটিকে নিষেধ করত মারতে। কিন্তু মা পাশে না থাকলে আরো বেশি মারতো।
মেয়েটি সারা দিন বাসার সব কাজ করতো। মেয়েটির ফোন হাতে নেয়া পছন্দ করতো না ওই মহিলা। কল করা এক প্রকার নিষেধ ছিল। রাত ১০ তার পর তার ছুটি মিলতো।
বাংলাদেশের ব্যাপারে তাদের ধারনা অনেক নিঁচু। তারা মনে করে যে, বাংলাদেশ থেকে অমন কাজের মেয়েরাই জার্মানিতে আসে। মেয়েটি বাংলাদেশকে এতো খাটো করে কথা শুনে কষ্ট পেত।
ওই গেস্ট ফ্যামিলি তাকে খাবার হিসেবে দিতো ব্রেড, কোন ফল, ফ্রাইড চিকেন এগুলি। মেয়েটি রান্না করতে allowed ছিল না। বাঙালি হিসেবে ভাত খাবার সুযোগ ছিল না। এভাবে দুই মাসে ৫-৬ কেজি ওজন কমে গেলো। দিনে দিনে মানসিকভাবে অনেক ভেঙে গেলো।
একদিন ওই মহিলার খারাপ আচরণ সইতে না পেরে সে বলে দিলো, সে চলে যাবে ২ সপ্তাহ পর। জিজ্ঞেস করলো, কোথায় যাবে। মেয়েটি বললো, দেশে। ওই মহিলা বললো, দেশে হলে সে যেতে দিবে।
মেয়েটির সামনে ভবিষ্যৎ অন্ধকার। সে তো দেশে ফিরে যাবার জন্যে জার্মানি আসেনি সব কিছু ত্যাগ করে। জার্মানি থাকার অন্য উপায়গুলি তো অনেক হার্ড। তার তো অমন যোগ্যতা বা টাকা পয়সাও নেই যেটা দিয়ে অন্য ক্যাটাগরি ভিসা নিয়ে থাকবে।

ঘটনা ২:
আরেকটি মেয়ে Au-Pair ভিসা নিয়ে জার্মানি এসেছে। তার দ্বায়িত্ব সারাদিন বাসার কাজ করা, একটা বাচ্চা পালা। আরো দায়িত্ব ছিল কুকুর আর বিড়াল পালা, এগুলিকে পরিষ্কার করা। সারাদিন অমানবিক পরিশ্রম আর খাটুনি। একদিন বিড়ালের খাবার ঠিক মতো দিতে না পারার জন্যে তাকে ২ দিনের নোটিশ দিল বাসা থেকে বের হয়ে যাবার জন্যে।
ইন্টার পাস মেয়েটি না পারে ভালো ইংলিশ না পারে ভালো জার্মান। কি করবে সে এখন জার্মানিতে। তার সামনেও অন্ধকার ভবিষ্যৎ।

উপরের ঘটনারগুলির মত অনেকগুলি ঘটনা জার্মানিতে ঘটছে বাংলাদেশীদের সাথে। সাধারণত Au-pair ভিসাতে সপ্তাহে ৩০ ঘন্টা কাজ করার কথা, ২৮০ ইউরো মাসে বেতন। কিন্তু তাদের দিয়ে জার্নানিতে অনেক ক্ষেত্রেই ২৪/৭ কাজ করানো হয়। বাংলাদেশে কাজের মেয়েরা তো ভাত খেতে পারে। সময় পেলে অন্য কিছু ও তারা ফ্রি টাইম এ করে। কিন্তু এখানে সিচুয়েশন অনেক হার্ড। অনেকে হয়তোবা ব্লকের টাকা ম্যানেজ করতে পারবেন না বলে Au-Pair ভিসাতে আসতে চান। কিন্তু আসার আগে ভেবে নিবেন, উপরের ঘটনার মত কাজের মেয়ের চেয়েও খারাপ আচরণ মেনে নিয়ে এখানে থাকতে পারবেন কিনা।
জার্মানরা ফিলিপিন, পেরু এবং থাইল্যান্ডর মতো দেশে থেকে বিশেষ করে মেয়েদের নিয়ে আসে অনেক উদ্দেশ্যে। আমি আশা করবো Au-Pair এর মাধ্যমে আসার ব্যাপারে বাংলাদেশিরা অনেক সতর্ক থাকবেন যাতে বাংলাদেশ জার্মানদের কাছে ফিলিপাইন বা থাইল্যান্ড এর মতো পরিচিতি লাভ না করে।

13/06/2026

রবিন খুদারা কেন নিজের দেশ রেখে অন্য দেশে যান ইনভেস্ট করতে: কেন তারা রবিনহুড না?
কিছুদিন যাবৎ দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশী বংশোদ্ভোত অস্ট্রেলিয়ান রবিন খুদাকে নিয়ে অনেক ধরণের আলোচনা। কেন তিনি বাংলাদেশকে রেখে ভারতে যাচ্ছেন ৩০ বিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট করতে। অনেকেই তার চোদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করে ছাড়ছেন। নিঃসন্দেহে এটি আমাদের দেশের মানুষের জন্যে একটি কষ্টের ব্যাপার। কিন্তু এটাও ভাবতে হবে, কেন তার মত এত বড় রকমের মানুষগুলি বাংলাদেশের উপর, বাংলাদেশের মানুষের উপর আস্থা রাখতে পারছে না?

আসলে আমাদের দেশের কিছু মানুষ আছে (খুব সামান্য একটা অংশ) যারা অন্যের ভালো দেখতে পারে না। আরেকজন ভালো কিছু করছে দেখলে তাদের গায়ে জ্বালা ধরে যায়। শুরু হয় তার যত বদনাম, অপবাদ, কুৎসা রটনা, পদে পদে বাঁধা দেয়া। তারা নিজেরা নিজেদের ভালো তকমা লাগিয়ে, অন্যদের খারাপ খোঁজতে থাকে। তারা না পারে নিজেরা ভাল কিছু করতে, না পারে অন্যদের ভালো কিছু দেখে সইতে।

আপনি যদি কারো উপকার করেন, দেখবেন সেই মানুষটিই অনেক সময় অনেক মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আপনার বিরুদ্ধে কিভাবে রটনা প্রচার করে। আপনার সামনে সে কি রেস্পেক্ট দেখাবে, আর বাইরে কি বদনাম করে। অনলাইনের জগতে তো বিশাল একটা গ্যাং বা চক্রই কাজ করে এগুলি নিয়ে।

আমি রবিন খুদাকে নিয়ে একটি নিউজ এর কিছু কমেন্ট স্ক্রিন শট এখানে দিলাম। দেখুন তাকে রাজাকার/জামাত/আওয়ামীলীগ/বিনপি বদনাম দিয়ে কিভাবে চরিত্রহরণ করছে। অথচ সে জীবনে হয়তো এগুলির কোনোটির সাথেই সম্পৃক্ত না। এ ধরণের চর্চা বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্ম এবং গ্রুপগুলিতে থাকে। আর এভাবেই চলছে মর্যাদাশীল মানুষগুলির চরিত্রহনন। এবং অনেক মানুষ এগুলি বিশ্বাসও করছে!

এ ধরণের অধম এবং নিচু শ্রেণীর মানুষগুলির জন্যে রবিনের মত অনেক বাংলাদেশীরা দেশে এবং বিদেশে থাকা অন্য বাংলাদেশিদের উপকার করতে আসে না। এ ধরণের বদনামকারী মানুষগুলি যতদিন সমাজে থাকবে, ততদিন রবিনের মত অনেক বাংলাদেশীরা দেশের এবং দেশী মানুষের উপকার করতে আসতে আগ্রহী হবে না। রবীনরা সেই ইংলিশ সাহিত্যের বা সিরিজের সহায়তাকারী রবিনহুড হতে আসবে না।

02/06/2026

আমার পরিচিত একটি জার্মান কোম্পানি নিচের কোয়ালিফিকেশনের একটি পসিশন এর জন্যে ইঞ্জিনিয়ার খোঁজছে:

Software Developer – Secure RaSTA Communication (TCP/TLS) for Cyber Security:

Role Overview:

We are seeking an experienced Software Developer to design and implement a RaSTA communication stack over TCP with TLS, aimed at replacing legacy crypto hardwares (e.g., IT-Sec gateways / cryptoboxes) with a software-based, end-to-end secure solution

Key Responsibilities:

Develop and maintain a RaSTA over TCP communication stack
Integrate TLS-based security for end-to-end encryption and data integrity
Replace hardware-based cryptographic solutions with software-based security architecture
Ensure compliance safety standards and cybersecurity frameworks
Analyze and optimize performance, latency, and stability of TLS-secured communication
Support testing, simulation (e.g., CANoe), and debugging of network communication

Required Skills:
Strong experience in C/C++ or Python software development
Solid knowledge of TCP/IP networking and communication protocols
Hands-on experience with TLS / cryptographic protocols

Preferred Qualifications:
Minimum a Bachelor's degree in Computer, Electrical or similar fields

Job Location: Greater Frankfurt, Germany

আপনার আগ্রহ প্রকাশ করে এখানে কমেন্ট অথবা আমায় সিভি ইনবক্স করতে পারেন। কোম্পানির HR আপনার সাথে যোগাযোগ করবে যদি আপনি কোয়ালিফায়েড হন।

29/05/2026

জার্মানিতে কোরবানির ঈদ-কষ্ট, ঈদ-আনন্দ এবং আগামী রবিবারের স্টুডেন্ট গেট-টুগেদার:

আপনাদের জানাই পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা!
ঈদ মুবারক!
জার্মানিতে মাস্টার'স করার জন্যে প্রথম যখন এসেছিলাম তার কিছুদিন পরেই ছিল কোরবানীর ঈদ৷ কুরবানীর ঈদটি মুসলমানদের জন্যে বিশেষভাবে আনন্দের দিন৷ গরু কিনতে যাওয়া, গরু কিনে নিয়ে আসা, গরুকে এটা-সেটা খাওয়ানো, গোসল দেয়া, দা-বটি প্রস্তুত করা, মাংস কাটা, মাংস বিলি করা। ঈদের দিন গরু কাটা-কাটির শুরুতেই আম্মা একটি পাতিল পাঠিয়ে দিত রান্নার মাংস, কলিজা দিয়ে দেবার জন্যে। মাংস কাটাকুটি শেষ করেই ফ্রেশ রান্নার মজা অন্য কোনো রান্নার সাথেই তুলনা করা যায় না। দেশে কুরবানী ঈদের পুরা আনন্দটা পরিবারের প্রতিটি মানুষই এক সাথে ভোগ করে।

যাই হোক। জার্মানির প্রথম ঈদের দিনটিতে ঈদের নামাজ পরে যখন বাসায় ফিরছিলাম, তখন মনে পড়ছিলো দেশের ঈদ পালনের মুহূর্তগুলির কথা। ঈদের দিনের মাংস খাবার কথা। আর ভাবছিলাম, আমার এখানে তো আজকে কুরবানীর মাংস তো দূরের কথা, কোনো রান্নাই করিনি। কষ্ট লাগলো অনেক মনের মধ্যে। ভাবলাম, আল্লাহ যখন তৌফিক দিবেন, তখন থেকে এ দেশেও কোরবানি দিব।

আমি যেহেতু নিজে স্টুডেন্ট ছিলাম, স্টুডেন্ট থাকাকালীন সময়ের কষ্টগুলি বুঝি অনেকটাই। কত কত লিমিটেশন, টেনশন এর জীবন।

কিছুদিন আগে চিন্তা করলাম, আমি এবার স্টুডেন্টদের সাথে একটি দিন কুরবানীর মাংস দিয়ে রান্না করা খাবার খাবো। কয়েকজন স্টুডেন্ট দায়িত্ব নিলো দাওয়াত দেয়ার। এ বছর সীমিত পরিসরে করছি। রেজিস্ট্রি করার লিংক আমার ফেইসবুক প্রোফাইলের ওয়াল এ দেয়া আছে।

ইনশাল্লাহ আগামী রবিরবার ৩১.০৫.২০২৬ এ দেখা হবে। আড্ডা, খাওয়া-দাওয়া, ক্যারিয়ার সম্ভাবনা, জব মার্কেটসহ সব কিছু নিয়েই কথা এবং গল্প হবে ইনশাল্লাহ।

24/05/2026

DB বা জার্মান রেলওয়ে: ন্যাশনাল প্রাইড থেকে ন্যাশনাল সাফারিং: পর্ব ২: সম্ভাব্য সমাধান এবং চ্যালেঞ্জেস:

জার্মান রেলওয়ের জন্যে সাফারিং এরই মধ্যে চরম পর্যায়ে চলে গিয়েছে। ঠিক সময়ে ট্রেন ছাড়া এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর হার অনেক কমে গিয়েছে। জার্মানিতে কোন ট্রেন যদি গন্তব্যে পৌঁছাতে ৬ মিনিটের বেশি লেট করে, তা হলে এটাকে ডিলে (Verspätung) হিসেবে ধরা হয়। তবে জার্মান সরকার DB এর বর্তমান সমস্যাগুলি সমাধানে রিসেন্ট বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে।

১. ডিজিটালাইজ করা:
পুরাতন সিস্টেমের সংস্কারের পাশাপাশি বর্তমানে ট্রেন কন্ট্রোল এবং কম্যান্ড সিস্টেমকে মডার্নাইজ করে ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে। ট্রেন চালানো এবং কন্ট্রোল করার জন্যে কম্পিউটার বেসড সাব-সিস্টেম এবং আইপি কমিউনিকেশন, হ্যাকিং ঠেকিয়ে সিকিউরিটির জন্যে সবচেয়ে মডার্ন সাইবার-সিকিউরিটির ইন্ট্রোডিউস করা হচ্ছে। ট্রেন লাইনের পয়েন্ট মেশিন থেকে শুরু করে সিগন্যালিং এবং লেভেল ক্রসিং ডিজিটাল করা হবে। সব কিছু কম্পিউটার দিয়ে AI সহ প্রপার এলগোরিদম ব্যবহার করে এফিসিয়েন্টলি ট্রেন চালানো এবং কন্ট্রোল করা হবে। সাইবার এটাক ঠেকানোর জন্যে হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার দুই লেভেলে সাইবার-সিকিউরিটি দেয়া হচ্ছে।

কিন্তু এ ক্ষেত্রেও অনেক সমস্যা। বর্তমানে ম্যানুয়াল ট্রেন চালানো এবং ম্যানুয়াল ট্র্যাক কন্ট্রোল করার জন্যে হাজার হাজার এমপ্লয়ী রয়েছে। ডিজিটাল করা হলে সব কিছু কম্পিউটার করবে। সে ক্ষেত্রে বর্তমানে যারা ম্যানুয়াল ট্রেন-ট্র্যাক কন্ট্রোল করে তাদের জব থাকবে না। শুরু হবে সামাজিক অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা, সরকারের বিরুদ্ধে মিটিং-মিছিল। কাজেই Deutschebahn চাইলেও রাতারাতি ডিজিটাল করা সম্ভব নয়। এটি আস্তে আস্তে করতে হবে (অনেকটা অমন যে, যারা রিটায়ারমেন্ট এ যাবে তাদের সমপরিমাণ কর্মীর কাজ ডিজিটাল করে কমানো হবে)।

২. অটোমেটেড ট্রেন চালানো:
অনেক সময় ট্রেন ড্রাইভার সিক হয়ে যেতে পারে, ড্রাইভাররা স্ট্রাইক করতে পারে। এতে ট্রেন চলা ব্যাঘাত ঘটে। এ জন্যে ইঞ্জিনিয়াররা অটোমেটেড ট্রেন বা ড্রাইভার ছাড়া ট্রেন চালানোর টেকনোলজি রেডি করছে।
কিন্তু এ ক্ষেত্রেও সমস্যা। অটোমেটেড ট্রেন চললে ড্রাইভাররা জবলেস হয়ে গিয়ে সামাজিক অস্থিরতা বাড়বে। কাজেই, এ ক্ষেত্রেও আস্তে চলার নীতিই মানতে হচ্ছে।

৩. অতি গণতন্ত্র:
অনেক জায়গায় নতুন লাইন তৈরী বা স্টেশন তৈরী করতে গেলে অনেক বাঁধা আসে। তারা কোর্টে গিয়ে এ সব প্রজেক্ট বছরের পর বছর ঝুলিয়ে দিতে পারে।
আমি একবার গর্ব করে এক জার্মান ম্যানেজারকে বলেছিলাম যে, আমাদের দেশের গণতন্ত্রে এই প্রব্লেমটা অন্তত নেই। উদাহরণ দিলাম, ঢাকার মেট্রো রেল বানানোর। সেখানে বিমান বাহিনীর আপত্তি, সংসদ ভবনের আপত্তির মত বাঁধা গুলি সরকার প্রধানের নির্দেশে খুব দ্রুত সমাধান হয়ে গিয়েছে। এবং ঢাকা শহরে একটি মেট্র- রেল করা গিয়েছে তুলনামূলক অনেক দ্রুতই, যেটি ঢাকার ট্রাফিক জ্যাম কিছুটা হলেও কমানোর ভূমিকা রেখেছে।
জার্মানির মতো দেশের অতি গণতন্ত্রের যেমন ভালো ঠিক আছে, তেমনি খারাপ দিকও আছে। আমাদের দেশের গণতন্ত্রের খারাপ দিকের পাশা-পাশি কিছু ভালো দিকও আছে।

উপরের আলোচনার ভিত্তিতে এটি বলা যায় যে, জার্মানির ট্রেনের বর্তমান খুব খারাপ অবস্থার আশু কোনো সমাধান আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখছি না। উন্নতি আস্তে আস্তে আসবে। তবে এটি কত (দশক) বছর লাগে, সেটি দেখার বিষয়।
Wir müssen Geduld haben - আমাদেরকে ধৈর্য ধরতে হবে!

17/05/2026

জার্মানিতে চাকুরী ক্ষেত্রে বাংলাদেশীদের সুনাম:
শুরুটা হয়েছিল ২০২২ সালে। জার্মানিতে আমার অফিস জার্মান রেলওয়ে বা DB তে আমার প্রজেক্টে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এর জন্যে কম্পিউটার প্রোগ্রামার দরকার অনেক। ৬ জন জার্মান প্রোগ্রামার নিয়ে শুরু করলাম। জার্মানির দুইটি বড় কোম্পানিকে কন্ট্রাক্ট দিলাম আমায় কন্সালটেন্সি দেবার জন্যে। প্রজেক্টে যে স্কিল দরকার সে রকম কম্পিউটার প্রোগ্রামার জার্মানিতে পাওয়া হার্ড। যেহেতু জার্মান ভালো প্রোগ্রামার তখন পাচ্ছিলাম না, রিত্রুট করলাম ৩ জন বাংলাদেশী। সেটি আমার ডিপার্টমেন্টে ঘোষণা দিয়েই করলাম।

স্বদেশী নিয়োগের কাজটি অনেকটা রিস্ক নিয়েই করলাম। আমি জানি, যদি বাংলাদেশীরা ভালো পারফর্ম না করতে পারে, তা হলে এর জন্যে বদনামের ভাগ আমায় নিতে হবে। তারপরও নিলাম সেই রিস্ক। ভাবলাম নিজের দেশের মানুষের জন্যে তো রিস্ক নিতেই পারি। ৩ জনের মধ্যে একজন ভালো ফাঁকিবাজ এবং অদক্ষ বলে মনে হলো আমার কাছে কয়েক মাস পর। বার বার সতর্ক করার পরও কাংখিত উন্নতি দেখলাম না। অবশেষে বাদ দিলাম তাকে। বাকি ২ জন্যে মধ্যে একজনের ডেডিকেশন এর অভাব। সে তার সব কাজ জার্মানদের দিয়ে করিয়ে নিতো। বেশ কিছু দিন অবজার্ভ করার পর মনে হলো, হচ্ছে না তাকে দিয়েও। সেও বাদ। বাকি একজন টেকনিক্যালি খুব ভালো। তাকে তৈরী করলাম।
নিলাম আরো ২ জন বাংলাদেশী। নতুন ২ জন ভালো মোটিভেটেড। অনেক ইফোর্ট দিয়ে তারা একটি অবস্থান তৈরী করে নিলো আমার প্রজেক্টে। এর পর বিভিন্নভাবে ভালো মতো ইন্টারভিউ নিয়ে আরো অনেক বাংলাদেশী, জার্মান এবং ইউরোপিয়ান সফটওয়্যার ডেভেলপার নিলাম। দিন-রাত প্রজেক্টে সময় দিয়ে প্রতিটা ডেভেলপারকে প্রস্তুত করলাম, প্রজেক্টের কাজগুলি এগিয়ে নিলাম। আমার এবং অন্যান্য ডিপার্টমেন্টের জার্মান কলিগরাও সব সময় সাপোর্ট করত।

আমার প্রজেক্টের গুরুত্ব যেহেতু অনেক বেশি জার্মানিতে, বাজেট পেতে সমস্যা হয়নি খুব একটা কখনো। যার ফলে বাড়তে লাগলো আমার প্রজেক্টের ইঞ্জিনিয়ার এবং কম্পিউটার সফটওয়্যার ডেভেলপার সংখ্যা দিনে দিনে।

দুই মাস আগে আমি আমার প্রজেক্টের প্রগ্রেস দেখানোর জন্যে প্রথমে আমার ডিপার্টমেন্ট এর অন্য কলিগদের ইনভাইট করলাম। তারা কাজের প্রগ্রেস দেখে প্রশংসা করলো।

এর পর ওয়ার্কশপ করলাম হাইয়ার ম্যানেজমেন্টকে নিয়ে গত সপ্তাহে। আমার টীম এর প্রতিটি ডেভেলপার দিন-রাত খেটে-খুটে প্ল্যান অনুযায়ী সব রেডি করলো। আমি মেইন প্রেজেনটেশন দিলাম। বাকিদের মধ্যে একেকটা টীম তৈরী করে, একজন টীম-লিডকে দায়িত্ব দিলাম তার টীম এর কাজ প্রেজেন্ট করার।

প্রজেক্টের কাজের প্রগ্রেস দেখে হাইয়ার ম্যানেজমেন্ট অনেক ইম্প্রেসড হলো। অনেক প্রশংসা করলো প্রজেক্টের, ডেভেলপারদের। আমার টীম এর যারা অন-সাইট ওই দিন প্রেজেন্ট ছিল তাদের নিয়ে পিকচারও তোললাম।

আমার বর্তমান টিমের সফটওয়্যার ডেভেলপার এবং ইঞ্জিনিয়াররা যারা বাংলাদেশ থেকে এসেছে তাদের মধ্যে বুয়েট থেকে শুরু করে পাবলিক এবং প্রাইভেট সব ধরণের ইউনিভার্সিটি এর কম্বিনেশন আছে। এখানে পাঁচ জন পিএইচডি করা সহ জার্মান ডিগ্রী, বাংলাদেশী ডিগ্রী সবই আছে।

বাংলাদেশীদের ব্যাপারে আমার মূল্যায়ন হলো, তাদের অনেকেরই অনেক ভালো মোটিভেশন আছে, মেধা আছে। তবে তাদের জন্যে দরকার হয় একটা ভালো মেন্টর। একটা ভালো লিড। ভালো গাইড।এদেরকে ঠিক মতো গাউড এবং লিড দিলে বাংলাদেশিরাও অনেক ভালো রিজাল্ট দিতে পারে।

আমার টীম এর সবার জন্যেই আজ আমার আনন্দ হয়। সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে, আমার নিজ দেশীদের জন্যে। এ জার্মান জীবনে জার্মানদের কাছ থেকে বাংলাদেদেশীদের প্রশংসা শুনলে মনটি ভরে যায়। তারা আমার সম্মান রেখে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে।
আমি গর্বিত আমার দেশ নিয়ে!

Wollen Sie Ihr Schule/Universität zum Top-Schule/Universität in Mannheim machen?

Klicken Sie hier, um Ihren Gesponserten Eintrag zu erhalten.

Lage

Kategorie

Adresse


Mannheim