12/11/2025
আসুন নতুন করে #কার্জন_হল দেখি। কার্জন হলের দিকে মুখ তুলে তাকিয়ে এর সৌন্দর্য, মহিমা ও তারুণ্যের কোলাহল দেখে মুগ্ধ হতে হয়, তাই না? কিন্তু যা দেখা যায় না, তাই দেখুন এবার❗
আচ্ছা, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য কি খুব ভালো ছিল❓ ওইযে, যারা পলাশীর আম্রকাননে সিরাজ-উদ-দৌলাকে ষড়যন্ত্র করে ধরাশায়ী করেছিল❓ যে জন্য এখনও লজ্জিত হয় অন্তরাত্মা! ভাল কাজ ছিলনা নিশ্চয়ই❓
আপনিই তো বলেন, ‘কলোনিয়ালিজম’ একটি নেতিবাচক বিষয়। শক্তিশালী দেশ/জনগোষ্ঠী অন্য অঞ্চলে শক্তি বা অস্ত্রের জোরে চেপে বসে এবং শুধুমাত্র নিজের লাভ ও লোভের জন্য রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।– সেই কলোনিয়ালিজম (Colonialism) কিভাবে ইতিবাচক হয়?
না, হয় না।
এই অপরাধ করা অপরাধী বা ক্রিমিনালরা যখন সেই নিপীড়িত অঞ্চলে লুটপাট করা অর্থ দিয়ে ভবন-সেতু-বালাখানা (❗) বানায়, সেটা আপনার জন্য, অথবা যে কোনো মানুষের জন্য গর্ব-শ্রদ্ধা-মহিমার বিষয় হয় কি করে⁉️
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল (Curzon Hall) হলো ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক অর্থনীতি ও প্রশাসনিক সাম্রাজ্যবাদী লুটপাট ও জুলুমের চিহ্ন/প্রতীক। তা ছিল উপনিবেশিক প্রশাসনের কেন্দ্র! এটা সেই লজ্জাজনক দিক, যা আপনি দেখতে চান না‼️
কার্জন হল (তৎকালীন টাউন হল) তৈরির টাকা লন্ডন থেকে পাঠানো হয় নি। বরং, ভারতের ‘উপনিবেশিক অর্থব্যবস্থা’ থেকেই আদায় করা অর্থ দিয়েই কার্জন হল তৈরি হয়েছিল। ১৯০৪ সালে ‘ভাইসরয় লর্ড কার্জন (১৮৫৯-১৯২৫)’ ঢাকা সফরে এসে একটি আধুনিক “Town Hall” বা সভাকক্ষ নির্মাণ শুরু করেন।
যদিও পরে এই ভবনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হয়— এখানেই ছাত্র আন্দোলন ও ভাষা আন্দোলনের অনেক সভা হয়েছে। তবে, তাতে ভবনের কলঙ্ক মুছে যায় না।
একদিকে আমরা সাম্রাজ্যবাদকে নিন্দা জানাই, কলোনিয়ালিজমকে ধিক্কার দেই, আগ্রাসনকে নিন্দা করি, লুটপাটতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চাই। আবার অন্যদিকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যাবদ, লুটপাটতন্ত্র ও আগ্রাসনের বিভিন্ন প্রতীক দেখে মোহিত হই❗
ইতিহাসকে অস্বীকার করার কী চূড়ান্ত প্রচেষ্টা আমাদের। 😟
যা দেখে পূর্বপুরুষের দুঃখ ও লজ্জার কথা স্মরণ করে ব্যথিত হওয়া উচিত, অথবা আত্মশক্তি ও আত্মচেতনা জাগ্রত করে দৃঢ় শপথ নেওয়া উচিত—তাই আজ আমাদের আনন্দ দেয় ‼️ 😑
ইতিহাসের শত্রুকে দেখেন না আপনি, তাই বর্তমান শত্রুকেও চিনতে পারেন না। এক-দেড়শ বছরের কলঙ্ক, লজ্জা, গ্লানি আমরা ভুলেই ছিলাম এতদিন 😩। কিন্তু, এখন সময় এসেছে ইতিহাসের পুনর্পাঠ করার। 🤔
#কার্জন_হল একটা উদাহরণ মাত্র! সাম্রাজ্যবাদের নিশানা ছড়িয়ে আছে সবদিকে❗ 😘 আর ছবিগুলো সব ফেসবুক থেকে নেওয়া।
#চিন্তাধারা
04/06/2025
বহুদিন ধরেই বলার চেষ্টা করেছি যে, গাজায় ইসরাইলের চলমান হত্যাযজ্ঞ কোনো ধর্মীয় সহিংসতা নয়। এটি মূলত পরিকল্পিত উচ্ছেদ অভিযান। সামরিক শক্তিতে অত্যাধুনিক ইসরাইলের এই আক্রমণকে ধর্মযুদ্ধ মনে করা অজ্ঞতা। ধর্ম এখানে স্রেফ অজুহাত হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে—ধর্মীয় চেতনাকে ব্যবহার করে বড় অংশের মানুষের মনোযোগ ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাস্তবে, এটি একটি নির্মম জাতিগত নিধন।
এ ধরনের নিধনযজ্ঞ নতুন কিছু নয়। মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রেও দেখা গেছে—সেখানেও ‘ধর্ম’ নয়, বরং স্থানীয় ভূরাজনৈতিক স্বার্থ এবং অর্থনৈতিক প্রভাবের কারণে নিরীহ মুসলমান জনগণকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকার 'কালাদান প্রকল্পের' নিরাপত্তা রক্ষাই ছিল এর কারণ। ৱবিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও লেখক পিনাকী ভট্টাচার্য।
https://youtu.be/wtbA0Cmk1kU?si=CLe-AFI2cdRX1nTj
অন্যদিকে, যারা ফিলিস্তিন ইস্যুকে কেবল ধর্মের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেন, তারাই আবার ‘ইসলামের রাজধানী’ সৌদি আরবকে নিয়ে ঠাট্টা করেন। তাদের প্রশ্ন, কেন ধর্মীয় রাজধানী থেকে একই ধর্মাবলম্বী মুসলমান ফিলিস্তিনিদের রক্ষা করা হচ্ছে না।
মূলত, সৌদি আরব থেকেই দুনিয়া জুড়ে নানা ধরনের 'ইসলাম ধর্ম' রপ্তানি হয়েছে। প্রতিদানে সে দেশে গিয়ে হজ পালনের মাধ্যমেই ধর্মীয় চর্চার পূর্ণতা হাসিল হয়। ইসলাম ধর্মাবলম্বী তথা মুসলমানদের এই সৌদি প্রীতির কারণেই রাজা-বাদশাদের ওই ফ্যাসিস্ট দেশটি যখন ইয়েমেনে হামলা চালায়, নারী-শিশু-নিরীহ মানুষের ওপর বোমাবর্ষণ করে, তখন সেটা আর ‘ধর্মযুদ্ধ’ থাকে না। কারণ, দু’পক্ষই মুসলমান!
এ অবস্থায় ‘গণহত্যা’ বা ‘জাতিগত নিধনকে' ধামাচাপা দিয়ে বলা হয়, ‘ভাইয়ে ভাইয়ে দ্বন্দ্ব’।
অথচ ইয়েমেনের ৯ বছরের যুদ্ধ-অবরোধে আজ দেশটি ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছে। সৌদি-আমিরাত-মার্কিন আগ্রাসনে হারিয়ে যেতে বসেছে আরেকটি ক্ষুধার্ত জাতি!
জাতিসংঘ ত্রাণ সংস্থার প্রধান মার্ক লোকক সতর্ক করে বলেছেন, ইয়েমেনের অর্ধেকের বেশি মানুষ ক্ষুধার্ত এবং এদের মধ্যে ৫০ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের মুখে রয়েছে। জানিয়েছে রয়টার্স।
https://apnews.com/article/yemen-food-insecurity-aden-sanaa-united-nations-aef7cfcdb79e0039d33293da66a969a4
https://www.banglatribune.com/foreign/middle-east/668898/‘১৬-কোটি-ক্ষুধার্ত-দুর্ভিক্ষের-মুখে-৫০-লাখ
জাতিসংঘের ডেটা সোর্স: Yemen Crisis Explained (MARCH 27, 2025)
https://www.unrefugees.org/news/yemen-crisis-explained/
ধর্মের এই ‘রঙিন চশমাই’ প্রকৃত সত্যকে আড়াল করে রেখেছে। আবার এখানে উড়ে এসে জুড়ে বসে শিয়া ইসলাম-ইজমের দেশ ইরান। তারা গাজ্জাবাসীর প্রতি, আরাকানবাসীর প্রতি, ইয়েমেনবাসীর প্রতি সহানুভূতি দেখায় এবং অর্থ-অস্ত্র সাহায্য দেয়। কিন্তু বাস্তবে, ইরানও নিজের আঞ্চলিক স্বার্থ রক্ষা করতে ও মুখ উজ্জ্বল করতে ধর্মানুভূতির দোহাই দিয়ে এই সহানুভূতি প্রদর্শন করছে। বিশ্ব-শাসনের ইতিহাসে প্রাচীন সাম্রাজ্যগুলো যেভাবে তাদের ক্ষমতা ধরে রাখতে চেয়েছিল, পতিত পারস্য সাম্রাজ্য সে চেষ্টাই করে যাচ্ছে মাত্র।
ইতিহাসের দিকে তাকালেই দেখা যায়, ঔপনিবেশিক শক্তিরা বারবার ‘ধর্ম’ বা ‘সভ্যতা’– এই অজুহাতে গণহত্যা চালিয়েছে। যেমন, ব্রিটিশরা ১৭৬০-এর দশকে উত্তর আমেরিকার রেড ইন্ডিয়ানদের নির্মূলের জন্য গুটি বসন্তের জীবাণুযুক্ত কম্বল বিতরণ করেছিল। সেই গণহত্যার ধারাবাহিকতায় ১৮৩০ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জ্যাকসন ‘ #ইন্ডিয়ান_রিমুভাল_অ্যাক্ট’ প্রণয়ন করেন। যাতে রেড ইন্ডিয়ানদের ভূমি দখল এবং হত্যার মাধ্যমে দমন করা যায়। আনুমানিক ৭০ হাজারেরও বেশি রেড ইন্ডিয়ান নারীকে জোরপূর্বক বন্ধ্যা করা হয়েছিল বলে তথ্যও দেখা যায়। কারণ, তার ফলেই— ৫০ লাখ রেড ইন্ডিয়ান জনগোষ্ঠী ২০ শতকের শুরুতে ২ লাখ ৪০ হাজারে কমে আসে!
https://samakal.com/offbit/article/191197/রেড-ইন্ডিয়ানদের-টিকে-থাকার-লড়াই
https://bengali.cri.cn/2022/03/10/ARTIIVb8TXguSOssBzv9QeNI220310.shtml
এখন সেই যুক্তরাষ্ট্রই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে গাজ্জায় যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ভিটো দেয়। তারা ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের একতরফা যুদ্ধ বন্ধ করতে চায় না। বিষয়টি বিস্ময়কর ঠেকলেও, বাস্তবতা প্রমাণ করে যে, এটাই স্বাভাবিক— কারণ, ইসরাইলের সঙ্গে তাদের বিশাল বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং ‘ধর্মীয় ভ্রাতৃত্ব’ মিলে যায়।
ইসরাইলিরা যেমন নিরাপত্তার অজুহাতে গাজ্জাবাসীকে উৎখাত করছে, তেমনি ইঙ্গ-মার্কিন উপনিবেশিক শক্তি রেড ইন্ডিয়ানদের উৎখাত করেছিল। মিয়ানমারের আরাকানবাসীও ‘কালাদান মাল্টিমোডাল ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট প্রকল্প’–এর নিরাপত্তার অজুহাতে উচ্ছেদ হয়েছে।
দুঃখজনকভাবে, এসবের যেন কোনো শেষ নেই। ইতিহাসের এই চক্র পুনরাবৃত্তি হবে—যতদিন মানবজাতি সত্যচর্চা থেকে দূরে থাকবে।
🔎 মূল বিষয়গুলো সংক্ষেপে:
✅ গাজা যুদ্ধ ধর্মীয় নয়, বরং জাতিগত উচ্ছেদ।
✅ ধর্মের ‘অজুহাতে’ গণহত্যাকে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে।
✅ ইরান-সৌদি আরবের ভূরাজনৈতিক লড়াইও বাস্তবতা।
✅ ইতিহাসে বারবার ঘটে যাওয়া গণহত্যার পুনরাবৃত্তি—রেড ইন্ডিয়ান নিধন থেকে গাজা পর্যন্ত।
✅ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও শক্তির লড়াই সবকিছুর মূল।