Dr. Kishore Biswas

Dr. Kishore Biswas

Share

I hope you all love it.

On this FB page, I would focus on educational content in the field of cutting-edge technologies, language learning, arts & literature, and health & beauty to share my experience with a broader audience in multiple languages.

15/04/2026

আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন—

AI কি সত্যিই বোঝে?
নাকি শুধু ‘বোঝার অভিনয়’ করে?

সবার জন্য বুদ্ধিমত্তা – (পর্ব ২)
(প্রথম পর্বের লিংক প্রথম কমেন্টে দেয়া আছে।)
-- © 2026 Dr. KB. All rights reserved.
-----------------------------------------------------------------------
আগের পর্বে আমরা বুদ্ধিমত্তা বা Intelligence কাকে বলে, উহা কত প্রকার ও কী কী, তা শিক্ষাবিদ হাওয়ার্ড গার্ডনারের বহুমুখী প্রতিভা তত্ত্বের আলোকে আলোচনা করেছি। আমরা শেষ করেছিলাম, AI কি সত্যিই মানুষের মতো “বুঝতে পারে”? --এই প্রশ্নটি দিয়ে। তবে এর উত্তর খুঁজতে আমাদেরকে বুঝতে হবে, এই “বুঝতে পারা” বলতে আসলে আমরা কী বুঝি। 😊

বুদ্ধির মাপকাঠিতে জীবকুলে আমরা শ্রেষ্ঠত্বের দাবীদার হলেও অন্যান্য চতুর প্রাণীর কর্মকাণ্ডে আমরা বিমুগ্ধ হই। যেমন ধরুন খ্যাঁক শিয়ালের চালাকি বা কাঠ বাঁদরের বাঁদরামি। কোন বানরকে মাটি থেকে বিড়ি কুড়িয়ে দু’ফুক টান দিতে দেখলে বা শিয়াল পণ্ডিতের ক্ষেতের তরমুজ চুরি করার ছলনায় —আমরা হাসতে হাসতে বলি, “দেখেছো! কী বুদ্ধি!”

আমরা আরও নিচে নামলে দেখি—গাছপালা আলো অনুসরণ করে, তাকে যতই এদিক সেদিক সরিয়ে দিন না কেন তা ঠিকই সূর্যের দিকে ঘুরে দাঁড়ায়। আবার সাদামাটা এককোষী অ্যামিবা বা ব্যাকটেরিয়ার মত অণুজীবেও কিছু বুদ্ধিমত্তার প্রাথমিক রূপ দেখা যায়। যেমন, তাপমাত্রার তারতম্যে সেখান থেকে সটকে পড়া, “ক্ষিধে পেলে” খাবার খোঁজা, অন্যান্য শিকারি খাদকের কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়া ইত্যাদি। এগুলোকে আমরা পুরোপুরি “চিন্তা” বলতে পারি না; এগুলো এক ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক আচরণ—যা একেবারেই প্রাথমিক, জৈবিক ও প্রতিক্রিয়ামূলক।

তাই সহজ ভাষায় বলতে গেলে, জীব জগতের সকল বুদ্ধিমত্তাকে আসলে নিম্নোক্ত কয়েক স্তরে বিভক্ত করা যায়---
১) Perceptual Intelligence (অনুধাবনের বুদ্ধিমত্তা)
২) Cognitive Intelligence (যুক্তি ও বোঝার বুদ্ধিমত্তা)
৩) Creative Intelligence (সৃজনশীল বুদ্ধিমত্তা)

প্রথমত—Perceptual Intelligence বা অনুধাবনের বুদ্ধিমত্তা:
এটা হলো দেখা, শোনা, স্পর্শ করা, ঘ্রাণ নেওয়া, স্পর্শ অনুভব করা—অর্থাৎ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে চারপাশের পরিবেশ পরিস্থিতিকে অনুধাবন করার ক্ষমতা। আমরা চোখ দিয়ে দেখি, কান দিয়ে শুনি বটে, কিন্তু সেই তথ্য আমাদের মস্তিষ্কে পৌঁছানোর পর অনুধাবনের (perception/recognition) ঘটনা ঘটে। যেমন: একটা শব্দ শুনে— সেটা বিপদের সংকেত, নাকি বন্ধুর ডাক—এই পার্থক্য করতে পারার ক্ষমতাই হলো অনুধাবনের বুদ্ধিমত্তা। এই স্তরটা প্রায় সব জীবের মধ্যেই আছে—মানুষ থেকে শুরু করে প্রাণী, এমনকি খুব সাধারণ জীবের মধ্যেও এর প্রাথমিক রূপ দেখা যায়।

দ্বিতীয়ত—Cognitive Intelligence বা যুক্তি ও বোঝার বুদ্ধিমত্তা:
এটাই মূলত আমাদের আলোচিত “বোঝার” জায়গা। এখানে, কেন? কীভাবে? যদি এটা না হয়ে ওটা হতো? এমন যদি হতো --এই প্রশ্নগুলো করার ও উত্তর খোঁজার ক্ষমতাই যুক্তি ও বোঝার বুদ্ধিমত্তা । এক্ষেত্রে শুধু দেখা বা শোনা না, এখানে আছে বিশ্লেষণ, যুক্তি, তুলনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ। একজন ভালো গণিতবিদ, বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, যেকোনো বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বা কোন সমস্যার সমাধান-কারী সবাই এই স্তরে কাজ করে। উদাহরণ স্বরূপ ধরুন, গুলশানের মোড়ে প্রথম বারের মতো কেউ আপনার কাছে মাত্র হাজার দুয়েক টাকায় অরিজিনাল রোলেক্স ঘড়ি বিকোতে এলো। আপনি সাথে সাথে খেলটা টের পেয়ে কোনো কথা না বলে, না শুনেই নিজের পকেট সামলে সোজা সেখান থেকে কেটে পড়লেন। এটাই হলো Cognitive Intelligence 😊

তৃতীয়ত—Creative Intelligence বা সৃজনশীল বুদ্ধিমত্তা:
এখানে মানুষ শুধু বোঝে না—নতুন কিছু সৃষ্টি করে। একই জিনিস সবাই দেখে, কিন্তু কেউ কেউ তাকে ভিন্নভাবে ভাবতে শেখে, কল্পনার জগতে ডালপালা মেলে যেন উড়ে উড়ে বেড়ায়। নতুন আইডিয়া, নতুন গল্প, নতুন সমাধান, এমনকি নতুন সমস্যার মৌলিক আবিষ্কারই এই উচ্চমার্গীয় বুদ্ধিমত্তা। এই জায়গাতেই শিল্পী, উদ্ভাবক, লেখকেরা আর দশজনের চেয়ে আলাদা হয়ে যায়।
এখন আমাদের সেই আদি প্রশ্নে ফিরে যাওয়া যাক— আজকের AI এই তিন স্তরের কোথায় দাঁড়িয়ে?

এই প্রশ্নের উত্তরে আমাদের একটু সতর্ক হওয়া দরকার। বছর কয় আগের সংজ্ঞা অনুযায়ী অনেকে বলতে পারেন, AI শুধু “pattern matching” করে বা তথ্যের ভাণ্ডারে পরিসংখ্যান-গত মিল খোঁজে। আবার অনেকে একটু আগ বাড়িয়ে ভাবতে পারেন, AI এখন মানুষের মতোই বুঝতে পারে।

আসলে—দুটো কথার কোনটাই পুরোপুরি ঠিক না। সত্যিটা ঠিক মাঝামাঝি কোথাও। ২০২৬ সালের বর্তমান AI-এর অগ্রযাত্রায় আমরা Perceptual Intelligence (অনুধাবনের বুদ্ধিমত্তা)-এর অনেক দিক আংশিকভাবে অনুকরণ করতে পেরেছি। যেমন: আজকের AI “দেখতে” পারে —অর্থাৎ ছবি বা ভিডিওর ভেতরের প্যাটার্ন শনাক্ত করতে পারে (face recognition, biometric identification ইত্যাদি), “শুনতে” পারে (audio recognition ও audio understanding-এর মাধ্যমে)। এমনকি রোবটিক সেন্সরের সাহায্যে AI এখন সীমিত পর্যায়ে “স্পর্শ”ও অনুধাবন করতে পারে। তবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো—এগুলো আসলে মানুষের মতো অভিজ্ঞতা নয়, বরং গাণিতিক প্যাটার্ন বিশ্লেষণ। আর “স্বাদ” ও “গন্ধ”–এর মতো জটিল অনুভূতি এখনো গবেষণার পর্যায়ে, এবং সেগুলো বাস্তবসম্মত ভাবে অনুকরণ করা বেশ কঠিন।

অন্যদিকে, ২০২২ সালের পর থেকে ট্রান্সফরমার (Transformer) ভিত্তিক AI মডেল— বিশেষ করে Large Language Models (LLMs)— মানুষের Cognitive Intelligence (যুক্তি ও বোঝার বুদ্ধিমত্তা) এর কিছু দিক আংশিকভাবে অনুকরণ করতে শিখেছে। এই মডেলগুলো বিশাল ডেটা-সেট থেকে শেখা গাণিতিক উপস্থাপনার (mathematical representations) মাধ্যমে ভাষাকে হাজার মাত্রার (high-dimensional) এক জটিল স্পেসে নিয়ে বিশ্লেষণ করে। ফলে AI শুধু শব্দ চিনতে পারে না, বরং শব্দগুলোর মধ্যে সূক্ষ্ম সম্পর্ক, প্রসঙ্গ, এবং অর্থগত গঠনও ধরতে পারে।

এর ফলে—
AI নতুন ধারণার সংমিশ্রণ তৈরি করতে পারে, প্রসঙ্গ অনুযায়ী যুক্তিযুক্ত উত্তর দিতে পারে, এমনকি কিছু আধুনিক “reasoning model” ধাপে ধাপে জটিল সমস্যা বিশ্লেষণ করতেও সক্ষম বলে মনে হয়। তাই AI-কে শুধু “pattern matching” বলা পুরোপুরি সঠিক নয়। আবার এটাকে মানুষের মতো “বোঝে” বলাটাও অতিরঞ্জন হবে।
সত্যিটা হলো—AI এখন এমন এক স্তরে পৌঁছেছে, যেখানে এটি অত্যন্ত উন্নত প্যাটার্ন বিশ্লেষণ, বিমূর্ত সম্পর্ক বোঝা (abstract reasoning), এবং সীমিত যুক্তিনির্ভর কাজ করতে পারে—কিন্তু এখনো তা মানুষের অভিজ্ঞতা, সচেতনতা বা প্রকৃত বোঝাপড়ার সমতুল্য নয়। এ বিষয়ে আমরা ধাপে ধাপে আরও গভীরে আলোচনা করবো।

আপাতত সহজ ভাবে এটুকু বলা যায়—বর্তমান AI তথ্য উপাত্ত বা ডাটা হতে এমন গভীরভাবে প্যাটার্ন বা মিল খোঁজা শিখে গেছে, যে তা অনেক সময় সত্যিকারের “বোঝা” বলে মনে হয়। তবে AI এক ধরনের গাণিতিক “অর্থের মানচিত্র” তৈরি করতে পারে বটে কিন্তু সে এখনো মানুষের মতো “বোঝে” না। কারণ—
AI শেখে ডাটা বা তথ্য থেকে, মানুষ শেখে অভিজ্ঞতা থেকে,
AI শব্দ জানে, কিন্তু “অর্থের স্বাদ” পায় না। কারণ শব্দ শেখা যায়—তবে অভিজ্ঞতা কখনো ধার করা যায় না। যেমন ধরুন, ‘আগুন’ শব্দটা সে চেনে, এর সাথে সম্পর্কিত আরও অনেক শব্দও জানে। কিন্তু আগুনে হাত দিলে হাত পোড়ার যে অনুভূতি বা অভিজ্ঞতা, তা তার নেই!
AI এর নিজের কোনো ইচ্ছাও নেই (অন্তত আজ অব্ধি 😊)
AI জানে না—সে কী জানে, আর কী জানে না। অনেক সময় সে দারুণভাবে যুক্তি দেয়—আবার হঠাৎ খুব সাধারণ জায়গায় ভুল করে বসে। এমনকি বাস্তবতার সাথে কোনো মিল না থাকলেও সে আত্মবিশ্বাসের সাথে ভুল বলে যেতে পারে। (AI-এর পরিভাষায় যাকে বলে Hallucination বা মতিভ্রম 😊)।

তাহলে সারকথা কী দাঁড়ালো? AI ধীরে ধীরে কার্যকরভাবে বোঝার (functional understanding) দিকে এগোচ্ছে, কিন্তু এখনো অভিজ্ঞতাভিত্তিক বোঝায় (experiential understanding) পৌঁছায়নি।

AI হয়তো জানে—
কোন কিছু (যেমন অক্ষর, শব্দ, ছবি) কীভাবে একে অপরের সাথে যুক্ত,
কিন্তু মানুষ বোঝে—
সেই জিনিসগুলোর মানে আসলে কী।

আরও সহজ বললে, ভাবতে পারেন —AI অনেকটা ডিজিটাল মানচিত্রের মতো—যা সব রাস্তা দেখাতে পারে, কিন্তু নিজে কখনো হাঁটে না। আর মানুষ শুধু মানচিত্রই দেখে না, সে সেই পথ ধরে হেঁটে যায়, এমনকি একদিন নতুন পথও আবিষ্কার করে বসে। তাহলে আবারও একটা প্রশ্ন থেকেই যায়। তা হলো, AI কি কোনোদিন সত্যিকার অর্থে “বুঝতে” শিখবে? আর AI যদি একদিন সবকিছু বুঝতে শিখে যায়, আমাদের ভবিষ্যৎ ঠিক কোন দিকে মোড় নেবে? সেই উত্তর খুঁজতে আবার দেখা হবে পরের পর্বে।

(চলবে…)

আপনার কী মনে হয়—

AI কি কোনোদিন সত্যিকার অর্থে "বুঝতে" শিখবে?

কমেন্টে জানাতে পারেন 😊

13/04/2026

সবার জন্য বুদ্ধিমত্তা
-- © 2026 Dr. KB. All rights reserved. 🙂

২০২৬ সালের এই সময়ে এসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence, AI) কী —তা নতুন করে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন হয়তো খুব বেশি নেই। আমরা “নেটিজেন” বা “মোবাইল-জেন” জনগণ, জেনে হোক, না জেনে হোক প্রতিনিয়তই নানাবিধ AI টুলস, অ্যাপ্লিকেশনস, প্ল্যাটফরম ব্যবহার করছি । এই যেমন চ্যাট জিপিটি, গুগল সার্চ, নেটফ্লিক্স, পাঠাও ইত্যাদি সবই কোনো না কোনোভাবে AI-এর উপর দাঁড়িয়ে। বলা হয়ে থাকে, এই এ.আই একদিন তাদের জন্য হুমকি হবে, যারা ভালোভাবে AI ব্যবহার করতে পারবে না। আর তাই আমাদের আবালবৃদ্ধবনিতা, সকলের জন্য সহজ, সাবলীল ও মজার ভাষায় বাংলাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আদ্যোপান্ত ধীরে ধীরে তুলে ধরতে আমার এই ক্ষুদ্র, সীমিত প্রয়াস, “সবার জন্য বুদ্ধিমত্তা।”
যাহোক, সেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বোঝার আগে, আমরা খোদ “বুদ্ধিমত্তা” সম্পর্কে আমাদের বুদ্ধিটাকে একটু ঝালিয়ে নিই। আচ্ছা বলুন তো বুদ্ধিমত্তা বা মেধা কী?

সেকালে আমাদের ক্যাডেট কলেজের সহপাঠী ও সিনিয়র ভাইদের প্রতিভা দেখে খুব ঈর্ষান্বিত হতেম, তবে তা ভালো অর্থে। যেমন আমাদের রোকন ভাই খাতা কলম ছাড়াই মনে মনে তিন অংকের গুণ, ভাগ করে ফেলতেন চোখের পলকে। আমাদের সহপাঠী সাইফ ইলেকটিভ গণিতের কঠিন সব সমস্যাগুলো কী অবলীলায় যেন আমাদেরকে বুঝিয়ে দিত। আবার, ইফতেখার, তানভীর, পাভেল, শাহেদ প্রমুখ, ক্লাসের আর বোর্ডের প্রায় সব পরীক্ষায় প্রথম সারিতে থাকতো। শাহেদ “পাঁজিটাতো” সারাদিন সমরেস মজুমদার পড়ে পরীক্ষার একদিন আগে বইগুলো শুধু উল্টে পালটে যেন চোখ বুলাতো। পরে রেজাল্টে ফুল মার্কস পেয়ে খিক খিক করে মিচকি হেসে আবার শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ে মুখ গুজতো। আবার খেলার মাঠে মনিরের সাথে দৌড়ে কেউ কখনো পেরে উঠত না। আমাদের প্রয়াত রানা কী সুন্দর করে কথা বলত, প্রাঞ্জল ভাষায় বক্তৃতা দিত, আর মধুর কণ্ঠে ময়ূরকণ্ঠী গান গাইত ! ওদিকে, সুদর্শন রাশিদের ছিল ছবি আঁকার নিখুঁত হাত। পেন্সিল বা চক দিয়ে একটা ডলা দিলেই যেন ফুটে উঠত জীবন্ত ছবি। এরকম আরও অনেক সহপাঠী আছে, যাদের থেকে আমি আজও অনুপ্রাণিত হই। মনে হয় ওদের ঐসব প্রতিভা যদি আমি স্পঞ্জের মতো নিজের মাঝে শুষে নিতে পারতেম! আমি নিশ্চিত আপনাদের আশেপাশেও এরকম অনেক উদাহরণ খুঁজে পাবেন।

যাহোক, যেটা বলছিলাম, বলুন তো উপরের এই উদাহরণে কার বুদ্ধিমত্তা বা মেধা সবচেয়ে বেশি? আমরা অনেকেই হয়ত অংকে ভালো ব্যক্তিটাকে মনে মনে সবচেয়ে বেশি মেধাবী হিসাবে ধরে নিতে চাইব। আর সেখানেই আমাদের বড় ভুল। কারণ, মেধা এক ধরনের নয়—এটি বহু ধরনের হতে পারে। মানবকুলে প্রায় ৮ থেকে ১০ ধরনের বুদ্ধিমত্তার ছাপ পাওয়া যায়। মেধার এই বহুমুখী ধারনা সর্বপ্রথম প্রকাশ করেন হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের (Harvard Graduate School of Education) অধ্যাপক, প্রখ্যাত আমেরিকান মনোবিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ হাওয়ার্ড গার্ডনার (Howard Gardner) । ১৯৮৩ সালে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বইতে (Frames of Mind: The Theory of Multiple Intelligences) লেখেন, মানুষের বুদ্ধিমত্তা শুধু IQ বা অংকের দক্ষতা দিয়ে মাপা যায় না। স্কুলে “ভালো ছাত্রের যে মানদণ্ড” তা আসলে খুব সীমিত দৃষ্টিভঙ্গি। বাস্তবে মানুষ বিভিন্নভাবে বুদ্ধিমান হতে পারে। প্রতিটি মানুষের নিজস্ব শক্তি (strength) আলাদা। অর্থাৎ, একজন গায়ক, একজন খেলোয়াড়, একজন লেখক, একজন নেতা—সবার বুদ্ধিমত্তা ভিন্ন ধরনের, কিন্তু সমান গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, মানুষের মাঝে যে ধরনের বুদ্ধিমত্তা থাকতে পারে তা প্রায় এরকম:

১) Logical–Mathematical Intelligence – (গাণিতিক বা যুক্তি-গত বুদ্ধিমত্তা; যা গণিতবিদ বা যুক্তি বাগীশ্বর, যেমন: পিথাগোরাস, বা আমাদের সাইফদের মাঝে দেখা যায় 😊
২) Linguistic Intelligence – ভাষা-গত বুদ্ধিমত্তা (যা লেখক, কবি, বহুভাষাবিদ, যেমন: রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, মধুসুধন, শেক্সপিয়ার বা আমার মাঝে পাওয়া যায়। 😊
৩) Spatial Intelligence – (স্থান-কাল ভিত্তিক বিমূর্ত বুদ্ধিমত্তা; যা শিল্পী, ডিজাইনার, যেমন: লিওনার্দো দা ভিঞ্চি, পাবলো পিকাসো, জয়নুল আবেদীন বা আমাদের রাশিদের মাঝে আছে),
৪) Bodily–Kinesthetic Intelligence – (শারীরিক কসরত-গত বুদ্ধিমত্তা; যা খেলোয়াড়, নৃত্যশিল্পী, যেমন: মেরাদোনা, পেলে, শচীন টেণ্ডুলকার বা আমাদের মনিরে ব্যাপ্ত)
৫) Musical Intelligence – (সংগীত ও সুর-গত বুদ্ধিমত্তা; যা গায়ক, বাদক, সুরকার, যেমন: লতা মংগেস্কার, আইয়ুব বাচ্চু বা আমাদের রানা, মারুফ, ইফতেখারের মাঝে প্রস্ফুটিত)
৬) Interpersonal Intelligence – (মানব-সম্পর্কের বুদ্ধিমত্তা; যা কিনা সফল ব্যবসায়ী, কূটনীতিবিদ বা সুখী স্বামীদের মাঝে দেখা যায় 😊
৭) Intrapersonal Intelligence – (আত্ম-উপলব্ধির বুদ্ধিমত্তা; যা সাধু-সন্ন্যাসী বা ভবঘুরে, হিমুদের মাঝে দেখা যায়)
8) Naturalistic Intelligence – (প্রকৃতি ও পরিবেশ বোঝার বুদ্ধিমত্তা; উদাহরণ হতে পারে সফল কৃষিবিদ, পশু পালক প্রমুখ
৯) Existential Intelligence – (দার্শনিক বুদ্ধিমত্তা; যা থাকতে পারে আমার, আপনার সকলের মাঝেই 😊

তাহলে এর মানে কী দাঁড়াল? যে ভালো অংক পারে, সে যেমন বুদ্ধিমান, যে ভালো গান গায়, সেও বুদ্ধিমান। এমনকি যে মানুষের মন বুঝতে পারে, সেও বুদ্ধিমান। অর্থাৎ—বুদ্ধিমত্তা একরকম না, অনেক রকম। আজকের AI যুগে তাই বুদ্ধিমত্তা বা Intelligence এর সবচেয়ে কার্যকর সংজ্ঞা দাঁড়ায় ---
“বুদ্ধিমত্তা হল—নতুন পরিস্থিতিতে শেখার, বোঝার, মানিয়ে নেওয়ার এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা।” শুধু তথ্য মুখস্থ রাখা বুদ্ধিমত্তা না। শুধু অংকে ভালো হওয়াও বুদ্ধিমত্তা না। বরং—নতুন কিছু শিখতে পারা, ভুল থেকে শেখা, অচেনা সমস্যার সমাধান করা বা পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেকে বদলানো—এসবের সমন্বয়ই আসল বুদ্ধিমত্তা। একটু কাব্যিকভাবে বললে:

“বুদ্ধিমত্তা মানে শুধু জানা না—
তা, অজানার সামনে টিকে থাকার ক্ষমতা”

এখন মজার ব্যাপারটা হল— AI-ও ঠিক এই কাজগুলো করার চেষ্টা করে। ডাটা বা প্রাথমিক তথ্য থেকে শেখে, প্যাটার্ন খুঁজে বের করে,ভবিষ্যৎ অনুমান করে সিদ্ধান্ত নেয় (তা কখনও আমাদের চেয়েও দ্রুত)! কিন্তু, AI কি সত্যিই মানুষের মতো “বুঝতে পারে”?

AI হয়তো দ্রুত শেখে—
কিন্তু মানুষ এখনো গভীরভাবে বোঝে।

আর এই বোঝার জায়গাটা আমাদের শক্তি, নাকি সীমাবদ্ধতা—সেটাই জানার চেষ্টা করব পরের পর্বে।

(চলবে …)

13/04/2026

Most people think success is proportional to hard work.
It isn’t.
It’s shaped by direction, decisions, and where you start.

08/04/2026

Most people focus on success but ignore their health.
I’ve realized your body determines everything you can achieve.
Take care of your vehicle.

08/04/2026

চাইনিজ রসনা, ঘটনা না রটনা?
-- কিশোরম্য গবেষক
© 2026 Dr. KB. All rights reserved. :)
-----------------------
সাপ, ব্যাঙ, টিকটিকি,
ভাজা, ভুনা, রান্না,
কাঁচা বাঁশ, লতাপাতা,
চীনাদের রসনা?!!

মশা, মাছি চচ্চড়ি,
শামুকের কোপ্তা,
ষাণ্ডার তেল দিয়ে
তেলাপোকা ভর্তা।

কেঁচো, ছুঁচো তন্দুরি
গিরগিটি মাখানো,
লম্বা নুডলস নিয়ে
কাঠি দিয়ে খুঁটানো।

গুজবে গজব খেয়ে
ভাসা ভাসা চেতনা,
অন্ধের হাতি দেখা
ভুলে ভরা ধারণা ।।
------------------------------(চলছে, চলবে :)

11/03/2026

Just earned my latest HCIP-AI (Huawei Certified ICT Professional – Artificial Intelligence Solution Architect) certification. 🎉🤖

Excited to keep growing in the world of Advanced AI and apply these skills to real-world innovation. 🚀 Learning never stops!

01/02/2026

Outstanding Employee Award 2025 🏆
Grateful to see hard work recognized. :)
In 2025, I had the privilege of delivering AI & Digital Transformation training to 5,000+ professionals—including CEOs, CTOs, CFOs, managers, engineers, and government leaders across the world.

On to 2026—bigger impact, deeper learning, and more value to create 🚀

24/01/2026

I’m so excited to get my নাতি 😄...

…Okay, I mean NAATI (National Accreditation Authority for Translators and Interpreters) certified ✅
Passed English ↔ Chinese Simultaneous Interpreting 🎧💬

Photos from Dr. Kishore Biswas's post 23/01/2026

Running the HCIA-AI Solution Architect Training in a truly global setup:
📘 Slides in English → 🎤 Delivering in Mandarin Chinese →
👥 Audience: Cantonese Chinese 📍 Macao–Zhuhai
My brain is doing real-time “language orchestration." 🙂
The multilingual mode is ON 🔥

Photos from Dr. Kishore Biswas's post 21/01/2026

Middle-aged Bangladeshi,
First IELTS attempt.
2 weeks of preparation.
Overall Band 8.0.
If I can do it while managing work and family —
You can too. 💪

20/01/2026
Want your school to be the top-listed School/college in Beijing?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


Xicheng
Beijing