07/01/2026
সিএ পড়াশোনার কৌশল
সিএ তে ভালো করার জন্য সবথেকে জরুরি হলো প্লানমাফিক সময় কাজে লাগানো। আজকে এই সময় নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করবো।
সিএ এক্সাম শেষ হয়ে নেক্সট এক্সাম আসবে ৬ মাস পর (পিএল ও এএল) এবং ৪ মাস পর (সিএল)। এক পরিক্ষা শেষ করে পরের পরিক্ষার মাঝে এই সময়টা কম বা বেশি মনে হতে পারে। যারা বেশি সাবজেক্ট এক্সাম দিবেন তাদের জন্য কম সময় এন্ড যারা কম সাবজেক্ট এক্সাম দিবেন তাদের জন্য বেশি সময়।
কিভাবে সাজাবেনঃ
১) লাস্ট সেশনে কয়টা সাবজেক্টের এক্সাম দিছেন সেটা লিখুন। এরপর নিজের পরিক্ষা অনুযায়ী নিজেকে নাম্বার দিন। বেস্ট, নরমাল ও ওরস্ট- এই ৩ ক্যাটাগরিতে নাম্বার দিবেন।
১.১) যদি নিজের এসেসমেন্ট অনুযায়ী মনে হয় পাশ করবেনঃ
-নেক্সট এক্সামে কোন কোন সাবজেক্ট দিবেন সেটা ঠিক করে পড়াশোনা শুরু করতে হবে
১.২) যদি নিজের এসেসমেন্ট অনুযায়ী মনে হয় পাশ করবেন নাঃ
-আগের গুলোই আবার পড়া শুরু করতে হবে। কোথায় ভুল ছিলো বা খারাপ হইছে সেটা খুজতে হবে, সে অনুযায়ী পড়তে হবে।
১.৩) যদি নিজের এসেসমেন্ট অনুযায়ী মনে হয় পাশ আসতেও পারে নাও পারেঃ
-রেজাল্ট এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে। নেক্সট এক্সামের জন্য অন্য সাবজেক্ট পড়তে হবে। আগের রেজাল্ট পাবলিশ হলে ফলাফল অনুযায়ী সাবজেক্ট লোড এডজাস্ট করে নিতে হবে।
নোটঃ তিন ক্ষেত্রেই মনে রাখতে হবে, সাবজেক্ট লোড নিবেন (২ বা ৩ বা ৪ টা) আপনার সিচুয়েশয়ন অনুযায়ী।
২) সাবজেক্ট লোড নিতে হবে আপনি কতটা সময় দিতে পারবেন সেটা অনুযায়ী।
২.১) ফার্ম বা জবের পাশাপাশিঃ
-ফার্ম বা জব করে পড়াশোনার সময় কম পাওয়া যায়। যদিও কাজের চাপের ভিন্নতা থাকতে পারে। তবে সারাদিন ডিউটি করে অনেক সময় পড়তে মন চাইবে না বা মন চাইলেও টায়ার্ডনেসের জন্য বেশি সময় পড়া হবে না। তাই আপনার অফিসের কাজ ও পারিপার্শ্বিক সব বিবেচনা করে প্লান করতে হবে। প্রতি সেশনে ২-৩ টা সাবজেক্ট নিতে পারেন। বাকিটা সিচুয়েশন অনুযায়ী এডজাস্ট করে নিতে হবে।
২.২) ফুলটাইম স্টুডেন্ট হিসেবেঃ
-হাতে বেশি সময় পাওয়া যায়। বাড়তি কাজের চাপ থাকে না তাই কিছুটা রিল্যাক্স এর সুযোগ আছে। প্রতি সেশনে ৩-৪ টা করে সাবজেক্ট লোড নেওয়া উচিত। মিনিমাম ৩ টা থাকা ভালো। তবে নিজের সিচুয়েশন অনুযায়ী বাকিটা ঠিক করে নিতে হবে।
৩) যেহেতু আগের তুলনায় এক্সাম বছরে একবার কম হবে, তাই চেষ্টা করবেন সাবজেক্ট আগের থেকে একটা বেশি নেওয়ার। আগে যদি ২ টা সাবজেক্টের এক্সাম দিতেন, এখন দিবেন ৩ টা।
-সাবজেক্ট কম নিলে চাপ কম ফিল করবেন, মনে ভাবনা আসবে অনেক সময় আছে আস্তে আস্তে পড়ি। এতে পড়ার প্রতি ডেডিকেশন কমে যাওয়া ও গাফিলতি চলে আসার সম্ভাবনা আছে।
৪) কখন পড়া শুরু করা উচিত এটা একটা লার্জ ফ্যাক্ট। কারণ, সময় কাজে লাগানো অনেক কঠিন। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় সময় ছিলো বাট আমরা সেটা নষ্ট করছি।
৪.১) এক এক্সাম সেশন শেষ করে পরের এক্সামের জন্য পড়া শুরু করতে হবে ২-৩ দিনের ভিতর। এর বেশি সময় গ্যাপ দেওয়া ঠিক হবে না। এটুক সময় আপনার রেস্ট ও রিল্যাক্স এর জন্য। এর বেশি রিল্যাক্স করতে গেলে দেখা যাবে, সেটা ২-৩ দিন থেকে বেড়ে ১-২ মাস হয়ে গেছে। এটা হলো রিল্যাক্স এর দুষ্টচক্র।
নোটঃ তবে নিজের উপর যদি কন্ট্রোল থাকে তাহলে রিল্যাক্স পিরিয়ড একটু বাড়াতে পারেন।
৪.২) প্রতিদিন পড়াশোনা করতে হবে, মিনিমাম ১ ঘন্টা হলেও। ক্ষেত্রবিশেষ মিস দিতে পারেন তবে সেটা পুষিয়ে নিতে হবে। সপ্তাহে চেষ্টা করতে হবে ২০-২৫ ঘন্টা পড়ার জন্য। বন্ধের দিনগুলো কাজে লাগাতে হবে। মনে রাখবেন, আপনার সময় আপনি যতটা ইফেক্টিভলি কাজে লাগাবেন, তার আউটকাম এক্সামে পাবেন।
পুনশ্চঃ আপনি পড়াশোনা করলে আপনিই এগিয়ে থাকবেন, তাই আশেপাশের মানুষের কথায় কান না দেওয়ার চেষ্টা করবেন।
Note: Don't copy, share if you feel so.