10/10/2025
রাসায়নিক শিল্পে কার্বন ডাই অক্সাইডের ব্যবহার: #class viii #পরিবেশ ও বিজ্ঞান #highlightseveryone
politics
10/10/2025
রাসায়নিক শিল্পে কার্বন ডাই অক্সাইডের ব্যবহার: #class viii #পরিবেশ ও বিজ্ঞান #highlightseveryone
Celebrating my 2nd year on Facebook. Thank you for your continuing support. I could never have made it without you. 🙏🤗🎉
18/12/2024
27/11/2024
🔺ইতিহাস ও Grand Trunk Road
রাস্তাটা বহু প্রাচীন মৌর্য যুগের। শের শাহ রাস্তাটা আরো সংস্কার করে ঐ সময়ে চলার উপযোগী করে তোলেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করে ব্যাবসার প্রসার করতে সচেষ্ট হন l
গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন ও দীর্ঘতম সড়ক পথ। বহু কাল ধরে এটি উপমহাদেশের পূর্ব ও পশ্চিম অংশকে সংযুক্ত করে রাখে। এটি বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থেকে শুরু হয়ে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া হয়ে পাকিস্তানের পেশাওয়ারের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের কাবুল পর্যন্ত পৌছায়।এর প্রাচীন নামের মধ্যে ছিল উত্তরপথ, শাহ রাহে আজ়ম, সড়কে আজ়ম, বাদশাহি সড়ক। গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোডে বিস্তৃত রুট মৌর্য সাম্রাজ্যের সময় থেকে ছিল। এটি গঙ্গার মুখ থেকে সাম্রাজ্যের উত্তর পশ্চিম সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। আধুনিক সড়কের পূর্ববর্তী সংস্করণটি সম্রাট শের শাহ শুরি নির্মাণ করেন। এতে প্রাচীন মৌর্য সড়কের সংস্কার ও বর্ধিত করা হয়। এর মাধ্যমে ঘোড়ার ডাকেরও বিস্তার সহজ হয় । ১৮৩৩ থেকে ১৮৬০ সালের মধ্যে ব্রিটিশরা এর আরো সংস্কারসাধন করে।
রাস্তাটির প্রথম সূচনা ঘটে মৌর্য শাসন আমলে । ধন্যবাদ
ট্রাঙ্ক রোড
পথের তথ্য
দৈর্ঘ্য: ২,৫০০ কিমি (১,৬০০ মাইল)
বিদ্যমান: প্রাচীনকাল – বর্তমান
প্রধান সংযোগস্থল
পূর্ব প্রান্ত: সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ
পশ্চিম প্রান্ত: কাবুল
▪️ছবি আশিকুর
05/08/2024
আমরা যারা দু-একবার অন্তত বোলপুর-শান্তিনিকেতন কিংবা তারাপীঠ গেছি তাদের নিশ্চয়ই "ঝাপটের ঢাল"," পিচকুড়ির ঢাল" কিংবা "নোয়াদার ঢাল" স্টেশনগুলো চোখ এড়িয়ে যাওয়ার কথা নয়। আর তারই সঙ্গে স্টেশনগুলির এরূপ অদ্ভুত নামকরণ নিয়ে অনেকেরই হয়তো মনে কৌতূহল জেগেছিল, কেউ কেউ হয়তো আমার মতোই এরকম কোথাও "শোনা কথা" শুনে কৌতূহল মিটিয়েছেন আবার কারও কাছে নামকরণের কাহিনী অধরাই থেকে গেছে। যারা এরূপ নামকরণের গপ্পো জানেন না তাদের আমার এই "শোনা কথা" শুনতে খারাপ লাগার কথা নয়।
গল্পটা "নোয়াদার ঢাল" স্টেশন নিয়ে,গল্পটা শুরু করা যাক তাহলে.........
১৮৫৩ সালে ভারতে ব্রিটিশরা রেলপথ চালু করেছিল সুদূর বোম্বাইয়ে,তার পরের বছরই সাহেবদের "দয়ায়" হাওড়া থেকে হুগলি পর্যন্ত রেলপথ চালু হয় এবং ক্রমশ তা রানীগঞ্জ পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়। এরপর ওনাদের ইচ্ছে হয় রেলপথ এইদিকে সাহেবগঞ্জ পর্যন্ত নিয়ে যাবেন। ইচ্ছে অনুযায়ী কাজ শুরুও হয়ে গেলো। বর্ধমান থেকে সাহেবগঞ্জের মধ্যে অনেকগুলো স্টেশন,প্লাটফর্ম তৈরিও হল। সালটা তখন ১৮৬০,স্টেশন নির্মানের কাজ প্রায় শেষ বললেই চলে,সাদা চামড়ার ইংরেজ সাহেবদের তত্ত্বাবধানে ভারতীয় শ্রমিক,কর্মচারীদের পরিশ্রমে রেললাইন বসানোও শেষ।
একে একে স্টেশনগুলির নামকরণও হয়ে গেলো; গুসকরা,বনপাশ,পিচকুড়ির ঢাল, বোলপুর,ভেদিয়া,ঝাপটের ঢাল,রামপুরহাট ইত্যাদি ইত্যাদি। সব স্টেশনের নামকরণ হয়ে গেলেও একটা স্টেশনের নামকরণ শুধু বাকি রয়ে গেলো।।কিন্তু সেটাই বা বাকি থাকবে কেন, স্টেশন যখন জন্ম নিয়েছে নাম তো তার দিতেই হবে, নামহীন স্টেশন তো আর থাকতে পারে না। তো ওই নামহীন স্টেশনের এক দেশীয় কর্মচারী রেলের এক ইংরেজ সাহেবের কাছে উপস্থিত হয়ে বললো, "সাহেব স্টেশন তো হলো কিন্তু স্টেশনের যে একটা নাম দিতে হয়, স্টেশনের নাম কী হবে?
ইতিমধ্যেই দুটি স্টেশনের নাম 'পিচকুড়ির ঢাল' আর 'ঝাপটের ঢাল' দিয়ে দেওয়ায় "ঢাল" শব্দটার প্রতি গোরা সাহেবের একটা বিরক্তিভাব চলে এসেছিলো।তাই সাত-পাঁচ না ভেবে সাহেবটি দেশীয় কর্মচারীটিকে বলে দিল..."Put anything but 'NO OTHER DHAL'"....
সাহেবের উত্তর শুনে কর্মচারীটি যা বোঝার তা বুঝলো আর মাথা চুলকোতে চুলকোতে সাহেবের ঘরের বাইরে চলে এলো।
তার কিছুদিন পরেই স্টেশনের নাম জ্বলজ্বল করে উঠলো,"নোয়াদার ঢাল"!
ইংরেজ সাহেবের কথা বাঙালি কর্মচারীটি কতটা কী বুঝেছিলো নিশ্চয় অনুমান করা যাচ্ছে।
বি.দ্রঃ-সত্যিকারের ইতিহাস কী আছে জানা নেই,উপরের কাহিনীই আসল ইতিহাস হবে হয়তো।আমি আমার "শোনা কথা" সবার সঙ্গে ভাগ করে নিলাম মাত্র।
কলমে --: তুহিন বিশ্বাস
পোস্ট ভালো লাগলে একটি লাইক ও মতামত কমেন্টে জানাবেন। সেইসাথে পেজ রিভিউ দেওয়ার অনুরোধ রইলো সকল পাঠক বন্ধুদের কাছে। সকলকে ধন্যবাদ।
02/08/2024
কর্ণসুবর্ণ (কানসোনা)
কর্ণসুবর্ণ (কানসোনা) ছিল বাংলার প্রথম স্বাধীন শাসক শশাঙ্কের (৬০৬-৬৩৭ খ্রি) রাজধানী। সপ্তম শতকের চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন-সাং-এর ভ্রমণ বৃত্তান্ত 'জিউ জি'-তে 'কিলোনসুফলন' হিসেবে এর উল্লেখ পাওয়া যায়। তার বিবরণ অনুযায়ী, তিনি তান-মো-লি-তি (তাম্রলিপ্তি, আয়তন ১৭০০ 'লি') থেকে কিলোনসুফলন (কর্ণসুবর্ণ, আয়তন ৪৪৫০ 'লি') পৌঁছান।
আবার এরকম ভাবেও দেখি। কর্ণসুবর্ণ বা কর্ণসুবর্ণা প্রাচীন বাংলার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ রাজা শশাঙ্কের শাসনামলে গৌড় রাজ্যের রাজধানী ছিলেন, যিনি 7th ম শতাব্দীতে শাসন করেছিলেন। শশাঙ্কের মৃত্যুর পরে এটি সম্ভবত কমরূপের রাজা ভাস্করবর্মণের জয়স্কন্ধ্বর ছিল, সম্ভবত অল্প সময়ের জন্য।
এই রাজধানীর নিকটেই ছিল লো-টো-মো-চিহ্ (রক্তমৃত্তিকা) মঠটি। ১৯৬০-এর দশকে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে প্রাপ্ত রাজবাড়িডাঙ্গার (পশ্চিম বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সদর সাবডিভিশনের চিরুটি স্টেশনের নিকটবর্তী যদুপুর গ্রাম) মঠের সাথে লো-তো-মি-ছি (রক্তমৃত্তিকা)-র শনাক্তকরণের জোরালো ভিত্তির বলে এখন যথার্থভাবেই বলা যায় যে, খননকৃত প্রত্নস্থলের নিকটে ছিল কর্ণসুবর্ণ। রাক্ষসীডাঙ্গার ধ্বংসস্তূপ খননে আনুমানিক সপ্তম শতকের বৌদ্ধ বিহারের ভিত্তিচিহ্ন পাওয়া গেছে, স্থানীয়ভাবে এটি রাজা কর্ণ-এর প্রাসাদ নামে পরিচিত। তবে নদীপ্রবাহ বা ভাঙ্গনের ফলে অনেক চিহ্ন মুছে গেছে। উৎকীর্ণ লিপিসহ পোড়ামাটির ফলকের (ধর্মচক্র-প্রতীক) আবিষ্কার ও এতে রক্তমৃত্তিকা মহাবিহার নামের উল্লেখ এর শনাক্তকরণের সকল দ্বিধাদ্বন্দ্বকে দূর করে দিয়েছে। লোকমুখে বলা হয়, পৌরাণিক রাজা মহাভারতে বর্ণিত অঙ্গরাজ কর্ণের রাজত্বের রাজধানী ছিলো এই কর্ণসুবর্ণ।
হিউয়েন-সাং আমাদেরকে কর্ণসুবর্ণের একটি স্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন। এর সাহায্যে আমরা এর অবস্থান ও মানুষ সম্বন্ধে জানতে পারি। তার মতে, দেশটি ছিল বেশ জনবহুল ও এখানকার মানুষ ছিল বেশ ধনী। এলাকাটি ছিল নিচু ও স্যাঁতসেতে। নিয়মিত চাষাবাস হতো, ফুল ও ফলের প্রাচুর্যতা ছিল এবং এখানকার আবহাওয়া ছিল নাতিশীতোষ্ণ। এখানকার জনগণ উন্নত চরিত্রের অধিকারী ছিলেন এবং তারা ছিলেন শিক্ষার পৃষ্ঠপোষক। তার এ বর্ণনায় দেশটির সমৃদ্ধির পরিচয় পাওয়া যায়।
কর্ণসুবর্ণের লিপিতাত্ত্বিক প্রমাণ মেলে কামরূপের শাসক ভাস্করবর্মণ-এর নিধনপুর দানপত্র থেকে। এ দানপত্রটি কর্ণসুবর্ণের বিজয় ছাউনি (জয়-সরদ-অনবর্থ-স্কন্ধবারাত কর্ণসুবর্ণ-বাসকাত) থেকে প্রদান করা হয়েছিল। এতে প্রতীয়মান হয় যে, স্বল্প সময়ের জন্য গৌড়ের রাজা শশাঙ্কের রাজধানী কর্ণসুবর্ণ কামরূপের শাসক ভাস্করবমর্ণ-এর হাতে চলে গিয়েছিল। সপ্তম শতাব্দীর মাঝামাঝিতে কর্ণসুবর্ণ পুনরায় সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য জয়নাগের প্রশাসনিক কেন্দ্রও ছিল। জয়নাগের বপ্য ঘোষবৎ দানপত্র থেকে এ তথ্য পাওয়া যায় [স্বস্তি কর্ণ(স)উবর্ণকাস্থিতস্য মহারাজাধিরাজহ (জ) পরম ভগবত শ্রী-জয়নাগ(দে)বশ্য]।
হিউয়েন সাং-এর লেখা থেকে আমরা কর্ণসুবর্ণের জনগণের ধর্মীয় জীবন সম্পর্কেও ধারণা পাই। বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর মানুষ এখানে বসবাস করত। এখানে বৌদ্ধ ধর্ম যে সমৃদ্ধ অবস্থায় ছিল তার যথেষ্ট প্রমাণ হলো যে, কর্ণসুবর্ণের নিকটই অবস্থিত ছিল বিশাল ও বিখ্যাত মহাবিহারটি। হিউয়েন সাং-এর বিবরণ থেকেই জানা যায় যে, সম্মতীয় স্কুলের বৌদ্ধগণ প্রধানত কর্ণসুবর্ণের দশটি মঠেই বাস করত। বৌদ্ধ মঠ ছাড়াও এখানে পঞ্চাশটি দেব মন্দিরও ছিল। হিউয়েন-সাং-এর মতে কর্ণসুবর্ণের পরিধি ছিল ১০০ মাইল তার ভ্রমণকালে এই স্থান জনাকীর্ণ ছিল।
কর্ণসুবর্ণ প্রত্নস্থল
খননকৃত রাজবাড়িডাঙ্গার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন কর্ণসুবর্ণকে একটি নগর কেন্দ্র হিসেবে ইঙ্গিত করে। তবে বেশ কিছু গ্রামীণ বসতি যেমন পাঁচথুপি গোকর্ণ, মহলন্দি, শক্তিপুর প্রভৃতির অস্তিত্ব রাজধানী শহরের চারপাশে বিদ্যমান ছিল। এরা সম্ভবত নগরবাসীর প্রয়োজনীয় বস্তুর চাহিদা পূরণ করত। সম্ভবত এ অঞ্চলের সাথে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার বাণিজ্যিক যোগাযোগ ছিল। মালয় উপদ্বীপের ওয়েলেসলী অঞ্চল থেকে প্রাপ্ত পঞ্চম শতাব্দীর একটি উৎকীর্ণ লিপিতে রক্তমৃত্তিকা থেকে আগত জনৈক মহানাবিক বুদ্ধগুপ্তের উল্লেখ পাওয়া যায়। অন্য আর একটি তথ্য অনুযায়ী রক্তমৃত্তিকা থেকে মালয় উপদ্বীপে আগত একটি বড় জাহাজের ক্যাপ্টেনের উপস্থিতি বাংলার সাথে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার সামুদ্রিক বাণিজ্যের ইঙ্গিত দেয়। আর চিরুটি অঞ্চলের ভাগীরথী সংলগ্নতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়ায় এ কারণে যে সামুদ্রিক বাণিজ্যে এটি একটি চ্যানেল হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারত।
তাই কর্ণসুবর্ণ একটি সমৃদ্ধশালী রাজনৈতিক-প্রশাসনিক, সামরিক ও ধর্মীয় নগর কেন্দ্র হিসেবে বিখ্যাত ছিল। তবে এর খ্যাতি ছিল ক্ষণস্থায়ী। এটি প্রসিদ্ধি লাভ করে সপ্তম শতাব্দীর প্রথম পর্যায়ে শশাঙ্কের উত্থাণের মাধ্যমে এবং ঐ শতাব্দী শেষেই আবার বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যায়। পাল ও সেনদের কোন দলিলেই এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজধানী শহরের কোন উল্লেখ খুঁজে পাওয়া যায় না।
শিয়ালদহ থেকে জঙ্গিপুর রোড লাইনে অথবা হাওড়া থেকে আজিমগঞ্জ লাইনে ট্রেনে করে যাওয়া যায় কর্ণসুবর্ণ। কর্নসুবর্ন স্টেশন থেকেই গাড়ি পেয়ে যাবেন।
প্রতিবেদন টি ভালো লাগলে একটা সেয়ার করে বন্ধুদের দেখার সুযোগ করে দেবেন 💞💞 পেজটি প্রথম দেখে থাকলে একটা ফলো দিয়ে পাশে থাকবেন 🌻🌻 ( সংগৃহীত)
29/06/2024
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনে যত দুঃখ বহন করেছেন তা পৃথিবীর আর কোন সাহিত্যিকের জীবনে ঘটেছে বলে জানা নেই।
1. তের বছর বয়সে মাতৃহারা হন।
2. তাঁর বিয়ের রাতে ভগ্নিপতি মারা যান। 3. চারমাস পরে আত্মহত্যা করেন যার প্রেরণা ও ভালোবাসায় তিনি কবি হয়ে উঠেছেন, সেই নতুন বৌঠান কাদম্বরী দেবী।
4. ১৯০২ কবিপত্নী মৃণালিনী দেবী ২৯ বছরে মারা গেলেন l রবীন্দ্রনাথ তখন একচল্লিশ।
5. দুই মেয়ের বিয়ের পর জামাইদের ব্যারিস্টারি ও ডাক্তারি পড়াতে বিলেতে পাঠালেন। কিন্তু স্কিছুদিনের মধ্যেই রেনুকা অসুস্থ হয়ে পড়লেন। বাঁচানো গেলনা তাঁকে।
6. ১৯০৫-এ চলে গেলেন পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। 7. ১৯০৭ কনিষ্ঠ পুত্র ১২ বছরের কলেরায় মৃত্যু।
8. ১৯১৩ রবীন্দ্রনাথ নোবেল পেলেন l
9. ১৯১৮ বড়মেয়ে বেলা অসুস্থ, বেলাকে প্রতিদিন গাড়িতে করে দেখতে যেতেন কবি। বাবার হাত ধরে মেয়ে বসে থাকত বিছানায়। আর তখন রবীন্দ্রনাথের জামাই শরৎ টেবিলের ওপর পা তুলে সিগারেট খেতে খেতে রবীন্দ্রনাথকে ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ করতেন। একদিন বেলাকে দেখতে গিয়ে মাঝপথে শুনলেন সে মারা গেছে। মেয়েকে শেষ দেখা না দেখে ফিরে এলেন বাড়ি। রথীন্দ্রনাথ লিখেছেন বাড়িতে এসে তিনি কাউকে বুঝতে দিলেন না কি শোকে, কি অপমানে, কি অসহ্য বেদনার মধ্য দিয়ে তিনি সন্তানকে হারিয়েছেন।
10. কবির ছোটমেয়ে মীরার বিয়ে দিয়েছিলেন নগেন্দ্রনাথের সঙ্গে যাকে বিলাতে কৃষিবিজ্ঞানী করার জন্য প্রতিমাসে সেইসময় পাঁচশ টাকা করে পাঠাতেন, আর নগেন্দ্র চিঠি লিখে আরও টাকা পাঠানোর তাগাদা দিতেন। প্রত্যুত্তরে কবি লিখতেন, আমার জমিদারী থেকে প্রতিমাসে পাঁচশ টাকাই পাই, তার পুরোটাই তোমাকে পাঠাই। সেই নগেন্দ্র বিলাত থেকে ফিরে দুই সন্তান সহ মীরাকে পরিত্যাগ করে অন্যত্র চলে যান। কবির তিন জামাই যাদের প্রত্যেককে বিদেশে পড়িয়ে তিনি প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তারা প্রতেকেই কোন না কোন ভাবে কবিকে দুঃখ দিয়েছেন। সারাজীবনে কবি দুঃখ পেয়েছেন বারেবারে, অপমানিত-উপেক্ষীত ও হয়েছেন অসংখ্যবার।
11. আর্জেন্টিনার কবিপ্রেমী লেখিকা ভিক্টোরিয়া ওকাম্পর সাথে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে কুৎসা করে সংবাদপত্রেও প্রকাশিত হয়েছে। 12. কবি তখন ৬৪, নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশ্ববরেণ্য সাহিত্যিক l কবির নোবেল প্রাপ্তি নিয়েও কিছু লোক তাঁকে ব্যাঙ্গও করেছিলেন। চিঠি লিখে কবির কাছে জানতে চাইছেন নোবেল পুরস্কার পাওয়ার টেকনিক, সেক্ষেত্রে ভাবী পুরস্কারপ্রাপক কবিকে অর্ধেক টাকা দিতেও রাজি। 13. শান্তিনিকেতনে সাক্ষাৎ করতে এসে কেউ কবিকে বলছেন, রবিবাবু আপনি কি এখনো কবিতা-টবিতা লেখেন নাকি? মানে অতোগুলো টাকা পাওয়ার পর আবার কেউ লেখে নাকি! অথচ অনেকেই জানেননা, নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তির খবরটা প্রশান্তচন্দ্র মহলনাবিশ যখন কবিকে দেন তখন কবির প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘ যাক, ওই টাকায় এবার বিশ্বভারতীর সেচখাল কাটার সংস্থানটা হবে’। যারা কবি বা লেখক তারা সকলেই সমাজের কাছে একটা স্বীকৃতি চায়, রবীন্দ্রনাথ বহুদিন সেটা বাঙালি সমাজের কাছে পাননি। তাই নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর তাঁকে যখন সম্বর্ধনা দেওয়া হলো তখন তিনি বললেন, ‘আমি এই সম্মানের পাত্রকে ওষ্ঠ পর্যন্ত তুলব কিন্তু গলা পর্যন্ত যেতে দেব না’। কতবড় অভিমান ও দুঃখ থাকলে এ কথা বলা যায়!
14. রবীন্দ্রনাথ নিজেই বলেছেন, 'পৃথিবীতে এসে যে ব্যক্তি দুঃখ পেলনা, সে লোক ঈশ্বরের কাছ থেকে সব পাওয়া পেল না’। বারেবারে মৃত্যু-দুঃখ-অপমান রবীন্দ্রনাথকে শাণিত করেছে সৃষ্টিপথে, নির্মোহ করেছে জগৎ সংসারে, নস্টালজিক করেছে ক্ষণেক্ষণে। তাই তিনি বলতে পেরেছেন, ‘ আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে। তবুও শান্তি, তবুও আনন্দ, তবুও অনন্ত জাগে’। আমরাও যেন সদা তাঁর সুরে সুর মিলিয়ে বলতে পারি, “ মনেরে আজ কহ যে/ ভালো মন্দ যাহাই আসুক/ সত্যরে লও সহজে”।
সংগৃহীত
03/06/2024
বাঁকুড়ায় চুয়াড় বিদ্রোহ
১৭৬০ সালে বর্ধমান চাকলার অবশিষ্টাংশের সঙ্গে বিষ্ণুপুরও ব্রিটিশ শাসনাধীনে আসে। মারাঠা অত্যাচারের পর ছিয়াত্তরের মন্বন্তর এখানকার অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। জনসংখ্যা হ্রাস পায়, শস্য উৎপাদন কমে যায় এবং আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে। অতীতের শক্তিশালী রাজ্য বিষ্ণুপুর কেবল এক জমিদারিতে রূপান্তরিত হয়। ১৭৮৭ সালে, বিষ্ণুপুর বীরভূমের অন্তর্ভুক্ত হয়। সিউড়িকে সদর করে এটি একটি পৃথক জেলার মর্যাদা লাভ করে। বিষ্ণুপুর অঞ্চলে বিদ্রোহের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এই বিদ্রোহ চুয়াড় বিদ্রোহ নামে পরিচিত। ১৭৯৩ সালে বাঁকুড়া পৃথক জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং বর্ধমান বিভাগের অন্তর্ভুক্ত হয়। [১০]
অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ ভাগে বাঁকুড়া জেলার রায়পুরে চুয়াড় বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে। এই বিদ্রোহের নেতা ছিলেন রায়পুরের পূর্বতন জমিদার দুর্জন সিংহ। প্রায় ১,৫০০ অনুগামী নিয়ে তিনি প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পুলিশ এই বিদ্রোহ দমনে ব্যর্থ হয়। এই সময় বাঁকুড়া জঙ্গল মহলের অন্তর্গত ছিল। চুয়াড় বিদ্রোহ চলাকালীনই বাঁকুড়া ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যিক উন্নতির পথে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সোনামুখীতে কোম্পানির কুঠি গড়ে ওঠে। এই কুঠির ৩১টি অধীনস্থ কুঠি ছিল, যার একটি পাত্রসায়র এবং অপর দুটি বীরভূমের সুরুল ও ইলামবাজারে গড়ে ওঠে। ১৮৩২ সালে চুয়াড় বিদ্রোহের ফলস্রুতিতে ১৮৩৩ সালে জঙ্গল মহল ভেঙে দেওয়া হয়। বিষ্ণুপুর বর্ধমানের সঙ্গে যুক্ত হয়। জেলার অধিকাংশ অংশ মানভূমের অঙ্গীভূত হয়। এই অঞ্চলটি সেই সময় নর্থ-ওয়েস্ট ফ্রন্টিয়ার এজেন্সি নামে পরিচিত ছিল। ১৮৭২ সালে, সোনামুখী, ইন্দাস, কোতুলপুর, শেরগড় ও সেনপাহাড়ি বর্ধমানের অন্তর্ভুক্ত হয়।[১০]
ভালো লাগলে একটা শেয়ার শুধু করুন 🙏🏼
#সংগৃহীত #
04/02/2024
বুড়িগঙ্গায় ডুবে যাওয়া 'কালে খাঁ জমজম' কামান এখনও অদ্ভুত শব্দে ডাকে তার প্রণয়িনী 'বিবি মরিয়ম' কামানকে।
১৭ শতকে সম্রাট জাহাঙ্গীর ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থাপন করলে, এখানে প্রশাসনিক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার পাশাপাশি বাড়তে থাকে জলদস্যুদের উপদ্রবও। তাই প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করতে ঢাকায় কিছু কামান তৈরি করা হয়। এর মধ্যে দুটি কামান ছিল বিখ্যাত। যাদের একটি 'কালে খাঁ জমজম', অপরটি 'বিবি মরিয়ম'। ধারণা করা হয়, কালে খাঁ নামক কোনো বীর ও তার স্ত্রীর নামে এ নামকরণ করা হয়েছিল। তবে অনেকের দাবি, মীর জুমলাই কামান দুটির নাম রেখেছেন। বৃটিশ রাজকর্মচারী ও পর্যটকেরা কালে খাঁ'কে দেখেই বেশি অবাক হতেন এবং এর বৃত্তান্ত লিখেছেন। ভূগোলবিদ জেমস রেনেল তার স্মৃতিকথায় ঢাকার ঐ কামানের কথা বিস্তারিত লিখে গেছেন।
বুড়িগঙ্গার মোগরাই চরে রাখা হয় কালে খাঁ জমজমকে। নদীভাঙ্গনে বুড়িগঙ্গায় বিসর্জিত হয় এটি। রবার্ট লিন্ডস ১৭৮০ সালে নদীভাঙ্গনে কালে খাঁ জমজমের ক্ষতির জন্য কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করেছেন। স্থানীয়দের কাছে তা এতটাই পূজনীয় ও আধ্যাত্মিক ছিল যে তারা মনে করতো, স্বর্গ থেকে এটি এসেছিল, আবার স্বর্গেই ফিরে গেছে! মুনতাসীর মামুন লিখেছেন, বুড়িগঙ্গায় কালে খাঁ ডুবে যাওয়ার পর লোকমুখে কুসংস্কার বেরিয়েছিল যে, বিবি মরিয়মের জন্য বুড়িগঙ্গা থেকে প্রায়ই গর্জন ভেসে আসতো। তারা বিশ্বাস করতো, এ গর্জনের অর্থ, 'কালে খাঁ' তার সঙ্গিনী 'মরিয়ম'কে ডাকছে। তারা হলফ করে বলতেন, ঐ গুরুগম্ভীর আওয়াজ তারা শুনেছে!
একটা সময় পর্যন্ত 'কালে খাঁ জমজম' ই বিখ্যাত ছিল সবার কাছে। রেনেল এবং লিন্ডসে দুজনেই শুধু কালে খাঁ-র কথা বলেছেন। 'মরিয়ম'-এর কোনো উল্লেখ নেই সেখানে। তাতে বোঝা যায়, কালে খাঁ-র তুলনায় মরিয়ম ছিল অনুল্লেখ্য। লিন্ডসের মতে, স্থানীয়রা মনে করতেন স্বর্গ থেকে এটি এসেছে। এ কারণে কামানটি ছিল পূজিত। হিন্দু রমণীরা কামানটির মুখে দুধ ঢালতেন, ফুল দিতেন সিঁদুরের ফোঁটা দিতেন এবং আবহমানকাল এর ভেতরে প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখা হতো। ১৭৮০ সালের আগ পর্যন্ত এই কামানটি 'পবিত্র স্থান' হিসেবেই স্থানীয়দের কাছে মর্যাদা পেত।
বিবি মরিয়ম' কামানটিও বৃহদাকার যা দুর্ধর্ষ দস্যুদের নিবৃত্ত করতে নির্মিত হয়েছিল। এটি মুঘল আমলের এক বিশেষ নিদর্শন। ১৭ শতকের মাঝামাঝি মীর জুমলা এটি ঢাকায় স্থাপন করেন। এটি 'মীর জুমলার কামান' নামেও পরিচিত। তিনি আসাম অভিযানে ৬৪,৮১৫ পাউন্ড ওজনের কামানটি ব্যবহার করে পরে এটি ঢাকার সোয়ারীঘাটে স্থাপন করেন। পরে এর অর্ধাংশ বালির নিচে তলিয়ে যায়। ১৮৪০ সালে ঢাকার ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াল্টার্স ব্রিটিশ প্রকৌশলীদের সাহায্যে এটি চকবাজারে স্থাপন করেন।
১৯১৭ (মতান্তরে ১৯২৫) সালে ঢাকা জাদুঘরের পরিচালক নলিনীকান্ত ভট্টশালীর উৎসাহে একে সদরঘাটে স্থাপন করা হয়। ১৯৫৭ সালে ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট (ডিআইটি) এর সভাপতি জিএ মাদানী এটি বর্তমান গুলিস্থানে স্থানান্তর করেন। ১৯৮৩ সালে এটি ওসমানী উদ্যানে স্থানান্তরিত করা হয়। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে কামানটি ওসমানী উদ্যান থেকে সরিয়ে ঢাকা গেটের সামনে স্থাপন করা হয়। গত ২৪ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে তা জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। একসময় ঢাকার পর্যটকদের আকর্ষণ লালবাগ দূর্গ বা বড় কাটরা নয়, ছিল মোগল যুগের এই কামানটি।
বিবি মরিয়মের দৈর্ঘ্য ১১ ফুট। মুখের ব্যাস ছয় ইঞ্চি। অপরদিকে 'কালে খাঁ'র দৈর্ঘ্য ৩৬ ফুটের মতো। এটি অত্যান্ত ভারি ছিল। খুবই শক্ত ও পেটানো লোহা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বলে এত বছরেও মরিচা ধরেনি। দুটির মধ্যে তুলনায় কালে খাঁ জমজমই প্রকান্ড ছিল বেশি। তাই সকলের নজর কাড়তো বেশি। কিন্তু বৈপরীত্য দেখা যায় পরে। কালে খাঁ বুড়িগঙ্গা নদীতে তলিয়ে গেলে বিবি মরিয়ম হয়ে ওঠে দর্শনীয় বস্তু। কালে খাঁ জমজম আর বিবি মরিয়ম যেন অবিচ্ছেদ্য দুটি নাম। 'কালে খাঁ' নেই। বিবি মরিয়ম থেকেও মানুষের মাঝে এতদিন ছিল না। পুরোনো মানুষদের কাছে 'মরিয়ম' আর 'কালে খাঁ জমজম' হলো দুই সঙ্গীর নাম, যাদের সাথে জড়িত ছিল তাদের জীবন, বিশ্বাস। ছিল ভয়, ভক্তি আর রোমাঞ্চকর ইতিহাস।
ছবি: ঢাকা গেটের পশ্চিম পাশে স্থাপিত বিবি মরিয়ম কামান। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে এটি ওসমানী উদ্যান থেকে এনে এখানে স্থাপন করা হয়। গত ২৪ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে তা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
#প্রত্নতত্ত #ইতিহাস #কামান #