14/09/2026
গনতান্ত্রিক ও সেকুলার নামধারী মুসলিমরা দেখতে পারেন
প্রশ্ন:- তাওহীদ কত প্রকার? এই প্রকারভেদ কী বিদয়াহ? তাওহীদুল হাকিমিয়্যা কী?
উত্তর:- কুরআন সুন্নাহ কোথাও তাওহীদের প্রকারভেদ উল্লেখ নেই। প্রতি যুগের রব্বানী আলেমগন মানুষকে তাওহীদের মর্মকথা ভালোভাবে বুঝানোর জন্য তাওহীদের প্রকারভেদ করেছেন।
কেউ তার যুগ অনুযায়ী দুই ভাগ করেছেন! আবার কেউ তার সময়ের মানুষের অবস্থাভেদে তিনভাগ করেছেন আবার কোন যুগে তাওহীদের কোন অংশে মানুষ শিরক বেশি করছে তার প্রতি লক্ষ্য করে ভিন্ন প্রকার বের করেছেন।
সুতরাং কুরআন সুন্নাহ তে নির্দিষ্ট কোন প্রকার বা সংজ্ঞায়ন নেই। তবে এইগুলো বিদয়াত বলা যাবে না। সব শাস্ত্রের পরিভাষা/ প্রকারভেদ নতুন তৈরি যা রাসুল সা: এর জামানায় ছিল না।
তবে বর্তমানে অধিকাংশ কিতাবাদীতে তাওহীদ কে তিনভাগে ভাগ করেছেন।
(১) توحيد الربوبية - তাওহীদুর রবুবিয়্যা
(২) توحيد الألوهية - তাওহীদুর উলুহিয়্যা
(৩) توحيد الأسماء و الصفات - তাওহীদুল আসমা ওয়াছ সিফাত।
এই তিন ভাগে বিভক্ত করা মূলত নসসমূহের ইস্তিকরা (استقراء) বা সামগ্রিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে করা হয়েছে। এটি কোনো নতুন আকীদা বানানো নয়
আর তাওহীদুল হাকিমিয়া মুল তাওহীদুত তাশরী
অর্থাৎ বিধান প্রণয়ন / জীবনব্যবস্থার প্রবর্তক মূলত মহান রব্বুল আলামিন।
إفراد الله تعالى بالحكم والتشريع، واعتقاد أن الحكم الشرعي حق لله تعالى
অর্থ:
“আল্লাহ তাআলাকে হুকুম ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে একক মানা এবং এ বিশ্বাস রাখা যে, শরিয়তসম্মত বিধান নির্ধারণের অধিকার একমাত্র আল্লাহ তাআলার।”
আরও সহজভাবে:
“হুকুম ও শরিয়ত প্রণয়নের একচ্ছত্র অধিকার আল্লাহর—এটা বিশ্বাস করা এবং এ ক্ষেত্রে তাঁকে একক মানাই তাওহীদুল হাকিমিয়্যাহর অর্থ।”
যেহেতু বর্তমান পৃথিবীতে বিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রে আল্লাহ কে বাদ দিয়ে মানব রচিত আইন দ্বারা মানুষ পরিচালিত হচ্ছে যা স্পষ্ট কুফরে আকবার। তাই মানুষ কে বুঝানোর জন্য তাওহীদুল হাকিমিয়্যা নামে নতুন পরিভাষা বানানো হয়েছে।
অতএব, আল্লাহ তাআলার বিধান ও হুকুমকে সর্বোচ্চ ও চূড়ান্ত বিধান হিসেবে বিশ্বাস করা তাওহীদেরই অংশ। মানুষকে এ বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে বোঝানোর জন্য “তাওহীদুল হাকিমিয়্যাহ” নামে পৃথকভাবে আলোচনা করা যেতে পারে।
১. আয়াত:
إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ
“হুকুম একমাত্র আল্লাহরই।”
—সূরা ইউসুফ: ৪০।
২. হাদীস:
আদী ইবনু হাতিম (রা.)-কে নবী ﷺ বলেন, ইহুদিরা তাদের আলেমদের ইবাদত করত না; তারা যখন কোনো হালালকে হারাম এবং হারামকে হালাল করত, তখন তারা তা মেনে নিত।
أَمَا إِنَّهُمْ لَمْ يَكُونُوا يَعْبُدُونَهُمْ، وَلَكِنَّهُمْ كَانُوا إِذَا أَحَلُّوا لَهُمْ شَيْئًا اسْتَحَلُّوهُ، وَإِذَا حَرَّمُوا عَلَيْهِمْ شَيْئًا حَرَّمُوهُ
—সুনানুত তিরমিযী, ৩০৯৫। আলবানী এটিকে হাসান বলেছেন।
৩. আলেমের স্পষ্ট বক্তব্য—ইমাম শানকীতী (রহ.):
فالإشراك بالله في حكمه كالإشراك به في عبادته
“আল্লাহর হুকুমের ক্ষেত্রে তাঁকে শরিক করা তাঁর ইবাদতের ক্ষেত্রে তাঁকে শরিক করার মতো।”
—أضواء البيان، 7/150।
মুফতী আব্দুর রহমান ইবনে ওমর
মুহতামিম
দারুল কুরআন ক্বওমী মাদ্রাসা