15/10/2025
প্রবাস থেকে লাশ আনার একটা সহজ উপায় বলে দিচ্ছি,এই নিয়ম ফলো করলে খুব সহজেই ম'রদে'হ দেশে আনা সম্ভব, এবং এই পোস্টা শেয়ার করে টাইমলাইনে রেখে দিন, যেকোনো সময় কাজে আসবে আপনার বা আপনার ফ্যামিলির।
মৃ'ত্যু'র খবর জানার পর,প্রথমে খোঁজ নিবেন লা'শ কোন হাসপাতালে রাখা আছে,আর অবশ্যই এমন একজন কে লাগবে যিনি এই লা'শ বা ম'রদে'হ নিয়ে সব কিছু জানে,বা তারে কল দিলে তার কাছে থেকে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে।
এই দুইটি হয়ে গেছে,আপনারা এই ফরম টি যেকোনো দোকান থেকে এক কপি প্রিন্ট করবেন,এবং এখানে যা যা জানতে চেয়েছে সেগুলো সঠিকভাবে পূরণ করবেন,তারপর এটির ফটোকপি করবেন।
হয়ে গেলো দুই কপি তাইতো?এবার যিনি মা'রা গেছে তার পাসপোর্ট কপি,ইকামা কপি,ভিসা কপি,ম্যানপাওয়ার কপি এইগুলো ফটোকপি করবেন,সব গুলো না থাকলে যা আছে তাই দিবেন,এইগুলো একটি আবেদন পত্রের সাথে পিন মে'রে দিবেন,অন্য আবেদন পত্রটি সিঙ্গেল থাকবে।
এরপর এই দুইটা নিয়ে আপনাদের নিজ জেলায়,জেলা জনশক্তি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান অফিস আছে,সেখানে গিয়ে দুইটাই তাদের কে দিবেন,তারা যেটায় কাগজপত্র বেশি সেটা রেখে দিবে,অন্যটায় সিল সাক্ষর দিয়ে আপনাকে দিয়ে দিবে।
এর সাথেই শুরু হয়ে গেলো লা'শ দেশে আনার প্রক্রিয়া,এখন লা'শ কি মালিক বা কফিলের খরচে আসবে না বাংলাদেশ সরকারের খরচে আসবে এটা নিয়ে আপনাকে টেনশন করতে হবে না,এটা মন্ত্রণালয়ের ব্যাপার।
তবে একটা কথা,আবেদন টি জেলা পর্যায়ে জমা দিলে ঢাকায় মন্ত্রণালয়ে আসতে একটু সময় লেগে যায় যায়,তাই সম্ভব হলে সরাসরি ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে এসে লিফটের ৮ এ গিয়ে এই আবেদনটি জমা দিবেন,তাহলে কাজ কয়েকদিন এগিয়ে যাবে।
আবেদন করার পর আপনাকে আরো দুইটি কাজ করতে হবে,এক:আবেদন পত্রে যার নাম্বার দিয়েছেন তাকে বলে দিবেন যে তোমার কাছে ফোন যাবে দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকে,তুমি খেয়াল রেখো আর তারা যা জানতে চায় জানাইও।
দুই : যে দিন আবেদন টি করবেন তার পরদিন ই আপনার ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা থেকে একটা ওয়ারিশ সার্টিফিকেটে নিয়ে রাখবেন,উনারাদের বললেই হবে,উনারা জানেন এবং এটি রেডি করে থাকে।
তবে ওয়ারিশ নিয়ে কোন দুই নাম্বারি করবেন না,মনে রাখবেন মৃ'ত ব্যক্তি যদি বিবাহিত হয় তাহলে ওয়ারিশ হবে স্ত্রী এবং সন্তানরা।
আর মৃ'ত ব্যক্তি যদি অবিবাহিত হয় তাহলে ওয়ারিশ হবে বাবা এবং মা,ভাই বোন ওয়ারিশ হয় না।
এরপর লা'শ দেশে আসার সবকিছু ঠিক হলে যিনি সৌদি আরবে আছে তিনি তো ফোন করে জানাবেন ই,এছাড়া ও যিনি লা'শ দেশে আনার জন্য আবেদন করেছেন তার মোবাইল নাম্বারে বিমানবন্দর থেকে ফোন করে তারিখ এবং সময় জানিয়ে দিবে।
সেই তারিখ সময় অনুযায়ী বিমানবন্দরের ৮ নাম্বার গেইটে উপস্থিত থাকবেন।
মনে রাখবেন : লা'শ কিন্তু আসবে যিনি আবেদন করবে উনার নামেই,তাই তাকে অবশ্যই এনআইডি কার্ডের ফটোকপি সাথে আনতে হবে,একই সাথে সেই ওয়ারিশ সনদটা সেই দিন সাথে আনতে হবে,যারা ওয়ারিশ তাদের এনআইডি কার্ডের ফটোকপি ও আনতে হবে।
মনে রাখবেন লা'শ দেশে আনার আবেদন বাবা মা ভাই বোন স্ত্রী সন্তান যে কেউই করতে পারবে,লা'শ আসবে ও তার নামে,তিনি রিসিভ করতে পারবেন,কিন্তু সরকারি ভাবে যেই টাকা দেয়া হয় সেটা পাবে কেবলমাত্র ওয়ারিশ রা,তাই ওয়ারিশ সনদ ও এনআইডি কার্ডের কপি আনতে হয়,ওয়ারিশ রা বিমানবন্দরে না আসলে ও কোন সমস্যা নেই।
এবার আসেন টাকা কত পায়: যে দিন লা'শ আসবে সেদিন লা'শ গ্রহণ করে এম্বুলেন্স রেখে বিমানবন্দরের ৮ নাম্বার গেইটের পাশে থাকা প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কে যাবেন,যাওয়ার সময় ওয়ারিশ সনদ,তাদের এনআইডি কার্ডের কপি আর লাশের সাথে একটি ফাইল পাবেন সেটি নিয়ে ওই অফিসে যাবেন,তারা ওয়ারিশের নামে সেইদিন ৩৫ হাজার টাকার একটি চেক দিবেন,এটি দেয়া হয় মূলত এই ম'রদে'হটি বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে দা'ফ'ন কার্য সম্পাদন করার জন্য,সোনালী ব্যংকের ওই চেকটি নিয়ে ওয়ারিশের বা যার নামে চেক দিয়েছে উনার যেই ব্যাংকে একাউন্ট আছে সেই ব্যাংকে গেলে সাথে সাথে টাকা দিয়ে দিবে।
এরপর লা'শ দাফনের ২-৩ মাসের ভিতরে বাংলাদেশ সরকার তথা ওয়েজ অর্নাস কল্যাণ বোর্ড থেকে আরো ৩ লক্ষ টাকা দেয়া হয়,এটি পাওয়ার জন্য আপনাদের কে ঢাকা আসতে হবে না,লা'শ গ্রহণের ১৫-২০ দিনের মধ্যে ওয়ারিশের কাছে ফোন যাবে এবং বলবে কিছু কাগজপত্র রেডি করে আপনার জেলা শহরে থাকা জেলা জনশক্তি প্রশিক্ষণ অফিসে গিয়ে জমা দিয়ে আসতে,আপনারা সেগুলো ওই অফিসে জমা দিবেন,কাজ শেষ, লা'শ দাফনের ৯০ দিনের মধ্যে একাউন্টে ৩ লক্ষ টাকা জমা হয়ে যাবে।
আর মৃ'ত ব্যক্তি যদি ২০২০ সালের পরে সৌদি আরবে গিয়ে থাকেন তাহলে জীবন বীমার পক্ষ থেকে আরো ১০ লক্ষ টাকা একই সময়ে জমা হবে একাউন্টে,মানে আপনি মোট ১৩ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা পাবেন।
আর মৃ'ত ব্যক্তি যদি ২০২০ সালের আগে সৌদি আরবে যায় তাহলে তিনি জীবন বীমার ১০ লক্ষ টাকা পাবে না,বাকি ৩ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা পাবেন।
মনে রাখবেন এই টাকা গুলো বাংলাদেশ সরকার দেয়,এবং যারা কর্মী ভিসায় বিদেশ যায় তাদের কে দেন।
ভিজিট ভিসা,ওমরাহ বা হজ ভিসা,টুরিষ্ট ভিসায় যাওয়া কেউ যদি মা'রা যান তারা কিন্তু এই টাকা পাবেন না।
পোস্টটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করবেন (ধন্যবাদ)