Suchanas blogs

Suchanas blogs Home Maker

11/09/2026

খাবার খেলেই পেট ভার হয়ে থাকা, বুক জ্বালা-পোড়া করা কিংবা ঘন ঘন গ্যাসের সমস্যায় ভোগা আমাদের দেশে এই দৃশ্যটা খুবই পরিচিত। সচরাচর এসব সমস্যা হলে আমরা ভাবি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়েছে বা খাবারে তেল-মসলা একটু বেশি ছিল। কিন্তু একটা বিষয় আমরা অনেকেই খেয়াল করি না, তা হলো আমাদের হজমপ্রক্রিয়ার সাথে লিভারের সম্পর্কটা কতটা নিবিড়। প্রতিবার পেট খারাপ বা বদহজম কেবল পাকস্থলী বা অন্ত্রের দোষে হয় না। বারবার যদি এমনটা ঘটতে থাকে, তবে তা হতে পারে আপনার লিভারের কোনো গোপন সতর্ক সংকেত।

লিভার থেকে তৈরি হওয়া পিত্তরস চর্বিজাতীয় খাবার হজম করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। এর পাশাপাশি আমরা সারাদিনে যা খাই, তা থেকে পুষ্টি ছেঁকে নেওয়া এবং টক্সিন শরীর থেকে বের করে দেওয়ার দায়িত্বও লিভারের। যখন লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে কিংবা কোনো ধরনের ইনফেকশন হয়, তখন পর্যাপ্ত পিত্তরস তৈরি ও সরবরাহ ব্যাহত হয়। ফলে আমরা যা-ই খাই না কেন, শরীর তা ঠিকমতো প্রসেস করতে পারে না এবং একের পর এক বদহজমের লক্ষণগুলো দেখা দিতে থাকে।

লিভারের সমস্যায় হজমে যেসব লক্ষণ দেখা দেয়:
✔️ সামান্য চর্বিযুক্ত বা তেল-মসলাযুক্ত খাবার খেলেই পেট অসম্ভব ভারী লাগে, হজম হতে অনেক সময় নেয় বা পেটের ডানপাশের উপরিভাগে চাপ অনুভব হয়।

✔️ সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর বা খাবার গ্রহণের পর প্রায়ই গা গুলিয়ে ওঠা, অরুচি বা বমি ভাব হওয়া।

✔️ পছন্দের খাবারের প্রতিও হঠাৎ তীব্র অরুচি চলে আসা এবং খুব অল্প খেলেই পেট ভরে গেছে এমন অনুভূতি হওয়া।

✔️ পেটে অতিরিক্ত বাতাস বা গ্যাস জমে পেট ফুলে থাকা এবং বুক ও পেটের মধ্যে অস্বস্তি লেগে থাকা।

✔️ হজমের গণ্ডগোলের সাথে দিনভর ভীষণ ক্লান্তি অনুভব করা এবং কখনো কখনো মলের রঙ ফ্যাকাশে বা প্রস্রাবের রঙ অতিরিক্ত হলুদ হওয়া।

আমাদের দেশে হজম বা গ্যাসের সমস্যা হলেই ফার্মেসি থেকে অ্যান্টাসিড বা গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ কিনে খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়ে গেছে। এসব ওষুধ হয়তো সাময়িকভাবে এসিড কমিয়ে একটু আরাম দেয়, কিন্তু লিভারের ভেতরের মূল সমস্যাটিকে আড়ালেই রেখে দেয়। দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাটি লিভার বা লিভারের ইনফ্লামেশন অবহেলা করলে তা ধীরে ধীরে লিভার ফাইব্রোসিস বা সিরোসিসের মতো জটিল দিকে মোড় নিতে পারে। তাই মাসের পর মাস গ্যাসের ওষুধ না খেয়ে এর আসল কারণ খুঁজে বের করা বুদ্ধিমানের কাজ। সপ্তাহের পর সপ্তাহ একই ধরনের হজমের সমস্যা লেগেই থাকলে তা ফেলে না রেখে একজন লিভার রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

লিভারের যত্নে আমরা,
লিভার রোগ প্রতিরোধে সচেতন থাকুন।

ডাঃ আনহারুর রহমান
সহযোগী অধ্যাপক (সার্জারি)
কনসালটেন্ট ল্যাপারোস্কপিক, পরিপাকতন্ত্র, হেপাটোবিলিয়ারি, ও প্যানক্রিয়াটিক সার্জারি।

08/09/2026
06/09/2026

আমাদের শরীরের অন্যতম পরিশ্রমী আর নীরবে কাজ করে যাওয়া অঙ্গ হলো লিভার। লিভারের একটা অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য হলো কোনো সমস্যা হলে সে চট করে মুখ ফুটে কিছু বলে না, চুপচাপ সব সহ্য করে যায়। আর ঠিক এই কারণেই লিভারক্যান্সারকে অনেক সময় নীরব ঘাতক বলা হয়। রোগটি যখন একদম প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে, তখন বেশিরভাগ মানুষের শরীরেই বড় ধরনের কোনো কষ্ট বা জটিলতা দেখা দেয় না। কিন্তু এর মানে এই নয় যে লিভার আমাদের কোনো ইঙ্গিত দেয় না। আমাদের শরীর খুব সূক্ষ্ম কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে ঠিকই সংকেত পাঠানোর চেষ্টা করে। আমরা যদি এই সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণগুলো চিনে নিতে পারি, তবে একদম শুরুতেই রোগ নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।

যে প্রাথমিক লক্ষণগুলো দেখলেই সচেতন হবেন:
✔️ কোনো ডায়েট বা ব্যায়াম ছাড়াই যদি হঠাৎ করে কয়েক মাসের মধ্যে অনেকটা ওজন কমে যায়, তবে এটাকে সাধারণ ভেবে এড়িয়ে যাবেন না।

✔️ একদমই খেতে ইচ্ছে না করা, মুখে খাবারের স্বাদ না পাওয়া কিংবা মাত্র দু-এক লোকমা খাওয়ার পরেই মনে হওয়া পেট একদম ভর্তি বা ভারী হয়ে আছে।

✔️ পাঁজরের ঠিক নিচে পেটের ডানদিকে একটানা অস্বস্তি, চিমটি কাটার মতো ব্যথা কিংবা ভারি ভাব অনুভব হওয়া।

✔️ প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুমানো বা বিশ্রামের পরও যদি সারাদিন অসম্ভব ক্লান্তি লাগে, কোনো কিছুতেই শক্তি না পান, তবে এটি লিভারের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার সংকেত হতে পারে।

✔️ হঠাৎ করে পেট স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ফুলে শক্ত হয়ে যাওয়া এবং পায়ে হালকা পানি আসা।

✔️ চোখের সাদা অংশ বা ত্বক হালকা হলুদ হয়ে যাওয়া এবং প্রস্রাবের রঙ হঠাৎ গাঢ় হলুদ বা চা-এর মতো লালচে হয়ে যাওয়া।

✔️ কারণ ছাড়াই সকালের দিকে বা খাওয়ার পর বমি বমি ভাব হওয়া বা বমি হয়ে যাওয়া।

✔️ শরীরে দৃশ্যমান কোনো এলার্জি বা চর্মরোগ না থাকা সত্ত্বেও অনবরত ত্বকে অস্বস্তিকর চুলকানি হওয়া।

যাদের আগে থেকেই হেপাটাইটিস-বি বা সি ভাইরাসের সংক্রমণ আছে, যারা লিভার সিরোসিস বা দীর্ঘদিনের ফ্যাটি লিভারে ভুগছেন তাদের ঝুঁকি কিছুটা বেশি। এ ছাড়া অতিরিক্ত ওজন ও ডায়াবেটিস থাকলেও লিভারের দিকে বাড়তি নজর দেওয়া উচিত। শরীরে এই ধরনের কোনো পরিবর্তন চোখে পড়লে ভয় না পেয়ে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন। বছর শেষে নিয়ম করে একটা আল্ট্রাসোনোগ্রাম আর সাধারণ কিছু রক্তের পরীক্ষা কিন্তু অনেক বড় বিপদের হাত থেকে আপনাকে বাঁচিয়ে দিতে পারে।

লিভারের যত্নে আমরা,
লিভার রোগ প্রতিরোধে সচেতন থাকুন।

ডাঃ আনহারুর রহমান
সহযোগী অধ্যাপক (সার্জারি)
কনসালটেন্ট ল্যাপারোস্কপিক, পরিপাকতন্ত্র, হেপাটোবিলিয়ারি, ও প্যানক্রিয়াটিক সার্জারি।

12/01/2026
11/01/2026

Adresse

Birampur, Dinajpur
Democratic Republic Of The
5266

Téléphone

+8801777243162

Site Web

Notifications

Soyez le premier à savoir et laissez-nous vous envoyer un courriel lorsque Suchanas blogs publie des nouvelles et des promotions. Votre adresse e-mail ne sera pas utilisée à d'autres fins, et vous pouvez vous désabonner à tout moment.

Raccourcis

Partager

Catégorie