ইকির মিকির চিকির

ইকির মিকির চিকির প্রতিদিন রাত ৯ টায় (Toronto Time) নতুন গল্প 🇨🇦
টরন্টো থেকে কানাডা জুড়ে প্রবাসী বাঙালিদের গল্প, আড্ডা ও জীবন

🌹🌳অরিত্রা বেয়ান পক্ষের মেয়ে কনকনে শীতের রাত, বাড়িতে অতিথি ভর্তি, আর মা হঠাৎ বলে উঠলেন - "আজ রাতে তোদের দুজনকে এক ঘরেই...
09/14/2026

🌹🌳অরিত্রা বেয়ান পক্ষের মেয়ে কনকনে শীতের রাত, বাড়িতে অতিথি ভর্তি, আর মা হঠাৎ বলে উঠলেন - "আজ রাতে তোদের দুজনকে এক ঘরেই থাকতে হবে।" ✨ বাইরে হাড় কাঁপানো ঠান্ডা,

ভেতরে লেপের উষ্ণতা। আর আমার সামনে দাঁড়িয়ে ৫ বছর আগের সেই মানুষটা...যাকে আমি একদিনের জন্য দেখেও, একটা বছর ভুলতে পারিনি।

আজ থেকে প্রায় ৬ বছর আগে। আমার মেজো কাকার ছেলে রাহুল দার বিয়ে। পৌষ মাস, জায়গা বর্ধমান।

বিয়ে বাড়ি মানেই তো আলো, সানাই, হইচই আর নতুন মানুষের মেলা। 🎉

বর্ধমানে এর আগে দুবার গেছি ছোটবেলায়, সব আবছা মনে আছে। কিন্তু ওই বিয়েটা ছিল অন্যরকম।

সেখানেই প্রথম দেখা। আমাদের বেয়ান পক্ষের মেয়ে তার নাম অরিত্রা। হালকা হাসি, চোখে অদ্ভুত এক মায়া, আর কথা বলার ভঙ্গি এত মিষ্টি যে মন ভালো হয়ে যায়। 😊

এই যে ছবিটা দেখছো, ঠিক এরকমই একটা স্নিগ্ধ রাজকন্যার মতো সাজ ছিল সেদিন অরিত্রার - ধবধবে সাদা লেহেঙ্গা,

খোঁপায় সাদা ফুল, আর ভারী গয়নায় একদম পরীর মতো লাগছিল। 👑

আমি তখন ভীষণ লাজুক, মেয়েদের সাথে সহজে কথা বলতেই পারতাম না।

কিন্তু অরিত্রার সাথে কীভাবে যেন এক ঘণ্টার মধ্যেই জমে গেল। বিয়ের পিঁড়ি, ফটো সেশন, পান-সুপারি নিয়ে খুনসুটি - সব মিলিয়ে একটা দারুণ বন্ধুত্ব।

অনুষ্ঠান শেষ, যে যার বাড়ি। কিন্তু ওই একটা সন্ধ্যার স্মৃতি আমার মনে গেঁথে গিয়েছিল।

প্রায় একটা বছর আমি মাঝে মাঝেই ভাবতাম, আবার কখনো দেখা হবে কি?

তারপর জীবন তার মতো চলল। পড়াশোনা, নিজের জগৎ।

এবার আসি ৫ বছর পরের সেই শীতের রাতে... ❄️

হঠাৎ একদিন সকালে কলিং বেল। দরজা খুলে দেখি রাহুল দা, বৌদি, তাদের ৩ বছরের ছোট্ট ছেলে মলয়,

আর... অরিত্রা! আমাদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছে। অনেক বছর পর। 🏡

আমাদের বাড়িতে তখন আমি, মা, ছোট বোন তিথি, ছোট ভাই আর ঠাকুরদাদা। বাবা বদলির চাকরির সুবাদে বাইরে। বাড়িতে দুটো বড় শোয়ার ঘর আর একটা বড় বারান্দা।

শীতের রাত, শোয়ার জায়গা নিয়ে সবাই একটু চিন্তায়। ঠিক হলো - রাহুল দা আর বৌদি বারান্দায় ভাইয়ের বিছানায় শোবে,

ভাই শোবে ঠাকুরদাদার ঘরে। আর অরিত্রার শোয়ার ব্যবস্থা হলো আমার ঘরে।

মা ভরসা করে বললেন, "তুই আজ ওখানে মেঝেতে বিছানা করে শুয়ে পড়, ও বিছানায় থাক।" 🙏

আমার মা আমাকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করতেন, আর আমিও সবসময় সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রেখেছি। এটাই আমাদের পরিবারের শিক্ষা।

বিশ্বাস করো, ৫ বছর পর নিজের বাড়িতে অরিত্রাকে দেখে আমার যে কী আনন্দ হয়েছিল, বলে বোঝাতে পারব না। ও-ও অবাক! বলল, "আরে তুমি! তুমি এখানে থাকো!"

রাত তখন প্রায় ১২টা। 🕛 বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। বাইরে কনকনে শীত, ঘরের ভিতর লেপের ওমে আমরা দুজন গল্পে মেতে উঠলাম।

একদম নিরাপদ দূরত্বে, দুজন দুপাশে, মাঝখানে কোলবালিশ - শুধুই গল্প।

পুরনো বিয়ে বাড়ির স্মৃতি, কে কোথায় আছে, পড়াশোনা কেমন চলছে, ভবিষ্যতের স্বপ্ন - কত কথা!

অরিত্রা বলছিল, "জানো, সেদিনের পর মনে হয়েছিল আবার কবে দেখা হবে, দেখা হলে চিনতেও পারব কিনা?"

আমি হেসে বললাম, "আমি তো ভেবেছিলাম তুমি আমাকে ভুলেই গেছো।"

ওই রাতটা ছিল শুধুই একটা সুন্দর বন্ধুত্বের উদযাপন। কোনো বাড়তি কিছু নয়, শুধু দুটো পুরনো পরিচিত মানুষের

অনেকদিন পর মন খুলে কথা বলা। হাসি-ঠাট্টা করতে করতে কখন যে রাত ৩টে বেজে গেল, টেরই পাইনি। 🌙

ভোরের দিকে আমরা ঘুমিয়ে পড়লাম। শীতের সকাল, তাই মা-ও আমাদের ডাকলেন না। বিছানায় শুয়ে থাকার আরামই আলাদা।

সকালে অরিত্রা উঠে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বলল, "এই শোনো, আমার চুলের কাঁটাটা খুঁজে পাচ্ছি না, একটু দেখে দেবে?"

আমি হেসে বললাম, "রাজকন্যার সাজ তো একদম পারফেক্ট থাকতে হবে, যেমন এই ছবিতে লাগছে।" ✨

ও হেসে ফেলল। ওই হাসিটাই ছিল সবচেয়ে সুন্দর।

সকালে আমরা সবাই একসাথে বারান্দায় বসে চা খেলাম। ☕ মা অরিত্রার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, "অরিত্রা মা, তুই তো আমাদের মেয়ের মতোই। আবার আসিস।"

দুপুরে ওদের যাওয়ার সময় হয়ে গেল। যাওয়ার আগে অরিত্রা আমার দিকে তাকিয়ে একটা ছোট্ট কাগজ গুঁজে দিল হাতে। বলল, "এটা বাড়ি গিয়ে খুলবে।"

ওরা বেরিয়ে গেল। আমি কাগজটা খুললাম না। ভাবলাম, থাক, একটু পরে খুলব।

কিন্তু তার পরেই ঘটল আসল ঘটনাটা... 😳

আমি ঘরে এসে দেখি, আমার বইয়ের টেবিলের ওপর ঠিক ছবিটার মতো

একটা সাদা পাথরের ছোট্ট হেয়ার ক্লিপ রাখা। আর তার নিচে চাপা দেওয়া সেই কাগজটা। কাগজে মাত্র দুটো লাইন লেখা -

"ক্লিপটা তোমার কাছেই থাক। আমি আবার নিতে আসব। এই কাহিনীটি এখানেই শেষ নয়, বাকি অংশটা প্রথম কমেন্টে রেখে দিলাম।

আপনাদের ভালোবাসায় এই কাহিনী গুলো নিয়ে আমরা একটি PDF ও অডিও বুক কালেকশন তৈরি করেছি।

ডিসক্লেইমার: এই কাহিনীটি বাস্তবতার ছায়া অবলম্বনে, তবে সম্পূর্ণ কাল্পনিক এবং শুধু বিনোদনের উদ্দেশ্যে লেখা,

Canada এর Toronto CN Tower এর মনোরম দৃশ্যে Canada থাকা আমাদের সকল বাংলা ভাষাভাষী প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্য অনেক ভালোবাসা রইলো।

#গ্রাম_বাংলার_গল্প #প্রবাস_জীবন #কানাডা_প্রবাসী #টরন্টো_প্রবাসী

🏠🌧️মীম এই একাকীত্বের মাঝে এক টুকরো রোদ হয়ে আসে মীম, মেয়েটাও তো তার মতোই একা,  রাশেদ সাহেব ঘুম থেকে উঠে দেখেন, মীম বারা...
09/13/2026

🏠🌧️মীম এই একাকীত্বের মাঝে এক টুকরো রোদ হয়ে আসে মীম, মেয়েটাও তো তার মতোই একা, রাশেদ সাহেব ঘুম থেকে উঠে দেখেন, মীম বারান্দায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখছে,মীম বয়স ২৩,

গরীব ঘরের মেয়ে, কিন্তু অসম্ভব পরিশ্রমী আর মনটা একদম পরিষ্কার। সকালে এসে রান্না, ঘর গোছানো, সব সেরে যায়।

রাশেদ সাহেব তাকে কখনো কাজের মেয়ে ভাবেননি,

ঢাকার অভিজাত এলাকায় একটা বিশাল ফ্ল্যাটে নিঃশব্দ দুপুর কাটে রাশেদ চৌধুরীর। 🌿

সরকারি চাকরি থেকে রিটায়ার করেছেন বছর খানেক হলো। স্ত্রী চলে গেছেন প্রায় এক বছর আগে, ছেলে-মেয়ে দুজনেই বাইরে সেটেল্ড। তিন রুমের ফ্ল্যাটটা এখন শুধু স্মৃতি আর নীরবতায় ভরা।

দিনের বেলা বই, পত্রিকা, বারান্দার গাছ - তাও চলে যায়, কিন্তু সন্ধ্যা নামলেই বুকের ভেতরটা কেমন হু হু করে ওঠে।

একা মানুষের সবচেয়ে বড় ভয়টা কী জানেন? হঠাৎ রাতে শরীরটা খারাপ হলে কে দরজাটা খুলবে? 🏠

এই একাকীত্বের মাঝে এক টুকরো রোদ হয়ে আসে মীম। বয়স ২৩, গরীব ঘরের মেয়ে, কিন্তু অসম্ভব পরিশ্রমী আর মনটা একদম পরিষ্কার।

সকালে এসে রান্না, ঘর গোছানো, সব সেরে যায়। রাশেদ সাহেব তাকে কখনো কাজের মেয়ে ভাবেননি, ভেবেছেন মেয়ের মতো।

রাশেদ সাহেবের বয়স ষাট ছুঁই ছুঁই, কিন্তু দেখলে মনে হয় পঞ্চাশ। শক্তপোক্ত মানুষ, আদর্শ আর আত্মসম্মান নিয়ে চলেন।

মনের ভেতর কখনো কোনো এলোমেলো চিন্তা উঁকি দিলেও তিনি নিজেকে সামলে নেন।

ভাবেন - এই বয়সে মানুষের আসল ওষুধ তো টাকা না, একজন মানুষ, যে পাশে বসে দুটো কথা বলবে। সম্মান আর স্নেহ দিয়ে যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে, সেটাই তো সবচেয়ে পবিত্র। ✨

রাশেদ সাহেব ঘুম থেকে ওঠেন একটু বেলা করে, নটা-দশটা। ততক্ষণে

মীম নিজের কাছে থাকা চাবি দিয়ে এসে নাস্তা বানিয়ে টেবিলে সাজিয়ে রাখে। দূর থেকে সম্মান নিয়ে ডাকে, "স্যার, উঠুন।"

একদিন সকালটা ছিল অন্যরকম। বাইরে ঝমঝম বৃষ্টি। রাশেদ সাহেব ঘুম থেকে উঠে দেখেন, মীম বারান্দায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখছে।

চোখে কেমন যেন মন খারাপের ছায়া। ছবিতে যেমন উদাসীনতা থাকে, ঠিক তেমন।

"কিরে মীম, মন খারাপ?" ☕

মীম আস্তে করে বলল, "না স্যার। মায়ের কথা মনে পড়ছে। মায়ের শরীরটা ভালো না।"

রাশেদ সাহেবের বুকটা কেঁপে উঠলো। এই মেয়েটাও তো তার মতোই একা। বাবা অন্য সংসার নিয়ে ব্যস্ত, মা অসুস্থ। এইটুকু বয়সে কাঁধে কত দায়িত্ব!

তিনি হেসে বললেন, "শোন, আজ থেকে একটা নিয়ম করি। আমি একা চা খাই, তুই রান্নাঘরে একা খাস। এটা আমার ভালো লাগে না। আজ থেকে আমরা দুজন একসাথে বসে চা খাবো।"

মীমের মুখটা মুহূর্তে উজ্জ্বল হয়ে উঠলো। "সত্যি কইতাছেন স্যার? আপনি আমার লগে চা খাইবেন?"

"কেন খাবো না? তুই তো এই বাড়িরই একজন। আয়, বোস।"

সেদিন থেকে শুরু হলো এক নতুন অধ্যায়। প্রতিদিন বিকেল পাঁচটায় মীম যত্ন করে চা বানিয়ে আনে,

আর রাশেদ সাহেব তার জীবনের গল্প বলেন - চাকরির জীবন, তার স্ত্রীর স্মৃতি, ছেলেবেলার দুরন্তপনা।

মীমও তার মায়ের গল্প বলে, তার স্বপ্নের কথা বলে। সে বলে, সে আবার পড়তে চায়, নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়। 📚

রাশেদ সাহেব বুঝতে পারলেন, একাকীত্ব কাটানোর জন্য ভুল পথ লাগে না, শুধু একজন ভালো মানুষের সঙ্গ লাগে।

তারপর এলো সেই বিকেলটা।

মীম খুব ভয়ে ভয়ে, হাত কচলাতে কচলাতে বলল, "স্যার, একটা কথা কমু?" 😔

"বল মা।"

"আমার মায়ের খুব জ্বর। রাইতে একা থাকে, আমি থাকি মেসে। আপনের এই বড় ফ্ল্যাটে একটা ছোট রুম তো খালি পড়ে আছে। আমরা যদি কয়েকদিন এখানে থাকি?

আপনার দেখাশোনাও করতে পারমু, আমার মায়েরেও দেখতে পারমু। ভাড়া দিতে পারমু না, কিন্তু কাম কইরা পুষাইয়া দিমু।"

রাশেদ সাহেব কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তার ফ্ল্যাটে নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা আছে,

কিন্তু তিনি কখনো কারো ব্যক্তিগত সম্মানে আঘাত করেন না, এটা তার নীতি।

তিনি ভাবলেন, এই তো সুযোগ - তার একা থাকার ভয়টা যদি একটু কমে, আবার একটা অসহায় মা-মেয়ে একটু নিরাপদ আশ্রয় পায়।

কিন্তু সমাজ কী বলবে? মানুষ কী ভাববে? একজন একা পুরুষের ফ্ল্যাটে দুজন নারী... এই প্রশ্নটাই তাকে থামিয়ে দিলো। এই কাহিনীটি এখানেই শেষ নয়, বাকি অংশটা প্রথম কমেন্টে রেখে দিলাম।

আপনাদের ভালোবাসায় এই কাহিনী গুলো নিয়ে আমরা একটি PDF ও অডিও বুক কালেকশন তৈরি করেছি।

ডিসক্লেইমার: এই কাহিনীটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক এবং শুধুমাত্র বিনোদনের জন্য লেখা। বাস্তব ব্যক্তি বা ঘটনার সাথে মিল কাকতালীয়

Canada এর Victoria Park এর মনোরম দৃশ্যে , Canada থাকা আমাদের সকল বাংলা ভাষাভাষী প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্য অনেক ভালোবাসা রইলো।

#গ্রাম_বাংলার_গল্প #প্রবাস_জীবন #কানাডা_প্রবাসী

🏡🥰চন্দ্রাবতী বৌদি লজ্জায় লাল হয়ে ঘোমটার আড়ালে মুখ লুকিয়েছিল। সেই থেকেই দেবর-বৌদির একটা মিষ্টি খুনসুটির সম্পর্ক তৈরি ...
09/12/2026

🏡🥰চন্দ্রাবতী বৌদি লজ্জায় লাল হয়ে ঘোমটার আড়ালে মুখ লুকিয়েছিল। সেই থেকেই দেবর-বৌদির একটা মিষ্টি খুনসুটির সম্পর্ক তৈরি হলো। 😊 সারাক্ষণ বৌদির পেছনে লাগত।

"বৌদি, আজ কি রান্না করলে? নতুন বউকে কীভাবে নামানো হবে তাই নিয়ে সমস্যা।

শেষমেশ হৃদয়ই সবাইকে অবাক করে দিয়ে বড়দের অনুমতি নিয়ে সাবধানে চন্দ্রাবতীকে কোলে করে গরুর গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছিল।

আষাঢ় মাসের এক অঝোর বাদলের দিন। টানা দুদিন ধরে বৃষ্টি থামছেই না। গ্রামের কাঁচা রাস্তা কাদায় একাকার।

এমন দিনেই আমাদের গল্পের মেজ বউ চন্দ্রাবতীর বিয়ে হয়ে এই বাড়িতে আসা। 🏡

চন্দ্রাবতী এই বাড়ির মেজ বউ। কৃষক পরিবারের মেয়ে, গায়ের রং শ্যামলা, কিন্তু মুখখানা ভীষণ মায়াবী।

কোমর ছোঁয়া লম্বা চুল, আর মনটা একদম জলের মতো সরল। একটু ভীতু স্বভাবের, কিন্তু বুদ্ধি খুব প্রখর। তার এই সরলতাটাই বাড়ির সবার সবচেয়ে বেশি প্রিয়। ✨

বরযাত্রী যখন গ্রামে পৌঁছাল, তখন সবাই কাকভেজা। আকাশে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। বিয়ে বাড়িতে তখন রীতিমতো হট্টগোল। সবাই ব্যস্ত বৃষ্টি সামলাতে, নতুন কনেকে দেখার মতো কেউ নেই।

সেই ফাঁকে বরের ছোট ভাই হৃদয়, তখন সবে কলেজে পড়ে, কনের ঘরে উঁকি দিল। দেখল, লাল বেনারসি পরে একটা মেয়ে খাটের এক কোণে বসে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। মুখে ঘোমটা নেই, চোখ ভরা জল।

হৃদয় আস্তে করে পাশে বসল। মৃদু হেসে বলল,
"আহা! কাঁদছো কেন বৌদি? বিয়ে বাড়িতে কনে কাঁদলে তো সবাই ভাবে বুঝি বর পছন্দ হয়নি!"

চন্দ্রাবতী চমকে তাকাল। এই ছেলেটাকে সে আগে কখনো দেখেনি। পাত্রপক্ষ যখন তাকে দেখতে গিয়েছিল,

হৃদয় তখন কলকাতায় ছিল।
ভয়ে সে আরও গুটিয়ে গেল। হৃদয় তখন পকেট থেকে একটা পরিষ্কার রুমাল বের করে এগিয়ে দিল।

"ভয় পেও না বৌদি। আমি হৃদয়, তোমার ছোট দেবর। তোমাকে একটু হাসাতে এসেছি। কেঁদো না, সব ঠিক হয়ে যাবে।" 🤲

সেদিন হৃদয়ের ওই একটুখানি ভরসা দেওয়া কথাতেই চন্দ্রাবতীর কান্না থেমে গিয়েছিল। ঝড়ের রাতে এক অচেনা মানুষের কাছে ভরসা পাওয়াটা তার মনে গভীর ভাবে গেঁথে গিয়েছিল।

পরদিন সকালে নৌকা যখন ঘাটে ভিড়ল, চারিদিকে তখনও কাদা আর জল। নতুন বউকে কীভাবে নামানো হবে তাই নিয়ে সমস্যা।

শেষমেশ হৃদয়ই সবাইকে অবাক করে দিয়ে বড়দের অনুমতি নিয়ে সাবধানে চন্দ্রাবতীকে কোলে করে গরুর গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছিল।

পুরো গ্রামের লোক তখন অবাক হয়ে দেখছিল, আর চন্দ্রাবতী লজ্জায় লাল হয়ে ঘোমটার আড়ালে মুখ লুকিয়েছিল।

সেই থেকেই দেবর-বৌদির একটা মিষ্টি খুনসুটির সম্পর্ক তৈরি হলো। 😊

বিয়ের পরের এক মাস হৃদয় বাড়িতেই ছিল। সারাক্ষণ বৌদির পেছনে লাগত। "বৌদি, আজ কি রান্না করলে?

কলকাতার গল্প শুনবে?"
চন্দ্রাবতীও অবাক হয়ে কলকাতার গল্প শুনত। বড় বড় বাড়ি - সবকিছু তার কাছে রূপকথার মতো লাগত।

হৃদয় ছিল এই বাড়ির মধ্যে সবচেয়ে আলাদা। মুখচোরা নয়, স্পষ্ট কথা বলতে জানে।

ভালোকে ভালো আর খারাপকে খারাপ বলতে তার বাধে না। হাটে গেলে বাড়ির সবার জন্য কিছু না কিছু আনবেই।

তারপর একদিন হৃদয় কলকাতায় চলে গেল পড়াশোনার জন্য। যাওয়ার আগের দিন একটা বড় রুই মাছ এনে বলেছিল, "বৌদি, আজ তোমার হাতের রান্না খেয়েই যাব।"

চন্দ্রাবতী সেদিন অভিমান করে রান্নাঘরে যায়নি। হৃদয়ও রাগ করে না খেয়েই চলে গেল।

পরে যখন শুনল ছেলেটা সারাদিন কিছু খায়নি, চন্দ্রাবতীর চোখে জল এসে গিয়েছিল। মনে মনে ভেবেছিল, "ছেলেটা আবার কবে আসবে কে জানে!" 💭

বড় বৌদি অঞ্জলি তখন তাকে বুকে টেনে বলেছিল, "পাগলি, ও তো তোর ছোট ভাইয়ের মতোই। এত মায়া বাড়াস না।"

তারপর কেটে গেল এক বছর, দুই বছর... হৃদয় আর বাড়ি ফেরে না। চিঠি আসে, কিন্তু সে আসে না।

চন্দ্রাবতীর কোল জুড়ে তখন এক ছেলে এলো, তারপর এক মেয়ে।
সংসার, সন্তান নিয়ে সে ব্যস্ত হয়ে গেল।

কিন্তু বকুলতলায় বসে থাকলে বা জ্যোৎস্না রাতে হঠাৎ হঠাৎ সেই ঝড়ের সন্ধ্যার কথা, দেবরের সেই ভরসা দেওয়া কথাগুলো মনে পড়ত। 🌙

এভাবে ৬ টা বছর কেটে গেল।

তারপর এক বসন্তের বিকেলে, চন্দ্রাবতী বারান্দায় ছেলেকে ভাত খাওয়াচ্ছে, কোলে ছোট মেয়ে।

হঠাৎ উঠোনের দিকে চোখ পড়তেই সে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।
উঠোনে দাঁড়িয়ে হৃদয়! পরনে সাদা পাঞ্জাবি আর ধুতি।

৬ বছর পরেও সেই আগের মতোই আছে, শুধু একটু স্বাস্থ্য ভালো হয়েছে। সে বিদেশে পড়তে গিয়েও সাহেব হয়নি, গ্রামের ছেলেই রয়ে গেছে।

বাড়িতে খুশির বন্যা বয়ে গেল। বড় বৌদি অঞ্জলি ছুটে এসে বলল, "দেখলি চন্দ্রাবতী, বলেছিলাম না তোর দেবর ফিরবেই! দেখ কত বড় হয়ে গেছে আমাদের হৃদয়!" 🥰

সেদিন সন্ধ্যায় পুকুর ঘাটে বকুল তলায় আড্ডা বসল। অঞ্জলি চন্দ্রাবতীকে সুন্দর করে সাজিয়ে, হাতে পানের থালা দিয়ে পাঠাল।

লাল শাড়ি, সিঁথিতে সিঁদুর, পায়ে আলতা - চন্দ্রাবতীকে দেখে সবার চোখ জুড়িয়ে গেল। ঠিক যেন নিচের ছবির মতোই স্নিগ্ধ আর পবিত্র লাগছিল তাকে।

হৃদয় তখন হেসে বলল, "বৌদি, এতদিন পর এলে, একটু বসো, গল্প করি।"
চন্দ্রাবতী লজ্জা পেয়ে চলে যেতে চাইল,

কিন্তু হৃদয় বলল, "কোথায় যাচ্ছো? তোমার হাতের পান না খেলে কি আর গল্প জমে?"

বকুল ফুলের গন্ধে ভরা সন্ধ্যা। পুকুরের জলে চাঁদের আলো পড়েছে। দুজনেই চুপ।

৬ বছরের জমানো অনেক কথা, অনেক অভিমান। চন্দ্রাবতীর হাতে পানের থালাটা কাঁপছে।
আর ঠিক তখনই হৃদয় পকেট থেকে 🌏এই কাহিনীটি এখানেই শেষ নয়, বাকি অংশটা প্রথম কমেন্টে রেখে দিলাম। আপনাদের ভালোবাসায় এই কাহিনী গুলো নিয়ে আমরা একটি PDF ও অডিও বুক কালেকশন তৈরি করেছি।

ডিসক্লেইমার: এই কাহিনীটি বাস্তবতার ছায়া অবলম্বনে, তবে সম্পূর্ণ কাল্পনিক এবং শুধু বিনোদনের উদ্দেশ্যে লেখা।

Canada এর Toronto Islands Ferry এর মনোরম দৃশ্যে, Canada থাকা আমাদের সকল বাংলা ভাষাভাষী প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্য অনেক ভালোবাসা রইলো।

#গ্রাম_বাংলার_গল্প #প্রবাস_জীবন #কানাডা_প্রবাসী #টরন্টো_প্রবাসী

🌿🏠শর্মিলা কাকিমা মুচকি হেসে বললেন,শোন কাল সকাল বারান্দায় আসিস। তোর জন্য একটা জিনিস আছে,শর্মিলা কাকিমা সকালের সব কাজ সের...
09/11/2026

🌿🏠শর্মিলা কাকিমা মুচকি হেসে বললেন,শোন কাল সকাল বারান্দায় আসিস। তোর জন্য একটা জিনিস আছে,

শর্মিলা কাকিমা সকালের সব কাজ সেরে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছেন।

হাতে গরম ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ ☕, পাশে পাড়ার রমা'দির সাথে সংসারের টুকটাক হিসাব নিয়ে কথা বলছেন।

৮টা ৪৫ মিনিটের জানালাটা আজও খোলে, কিন্তু কেন? 😳🏠

কেউ কেউ বলে, একটা পাড়ার আসল ইতিহাস লেখা থাকে তার বারান্দাগুলোতে...

আমাদের পাড়ার ঠিক উল্টোদিকের দোতলার পশ্চিমের বারান্দাটা তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

২৮ বছরের ইশান, চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছে, জীবন নিয়ে ভীষণ অগোছালো। সে কখনোই এইসব বারান্দা-গল্প বিশ্বাস করতো না।

কিন্তু গত শীতের এক কুয়াশা ভেজা সকাল তার সব বিশ্বাস ভেঙে চুরমার করে দিল। ☁️

প্রতিদিন, কাঁটায় কাঁটায় সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে উল্টোদিকের একটা জানালা খুলে যায়।

আর সেখানেই দেখা যায় আমাদের সবার অতি পরিচিত শর্মিলা কাকিমাকে। ✨

৪২ বছরের একজন প্রাণবন্ত, হাসিখুশি, ভীষণ সংসারী মানুষ। পুরো এলাকা ওনাকে এক ডাকে চেনে।

ওনার স্বামী সৌমেন কাকু সারাদিন ক্লাব, পাড়ার কাজ আর সমাজসেবা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।

সেদিন সকালটা ছিল একটু অন্যরকম। হালকা কুয়াশা, নরম রোদ এসে পড়েছে বারান্দায়। ☀️ ইশান নিজের পড়ার ঘরের জানালা খুলতে গিয়ে দেখলো -

শর্মিলা কাকিমা সকালের সব কাজ সেরে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছেন। হাতে গরম ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ ☕, পাশে পাড়ার রমা'দির সাথে সংসারের টুকটাক হিসাব নিয়ে কথা বলছেন।

একদম চেনা, সাধারণ একজন মায়ের মতো মুখ। কিন্তু সেই সাধারণের মধ্যেই যেন এক অসাধারণ মমতা আর আত্মবিশ্বাস ছিল।

ইশানের মনে হলো, ছোটবেলা থেকে দেখছে মানুষটাকে, কিন্তু আজকের সকালটা যেন একটু বেশি শান্ত, বেশি আপন।

একটা শ্রদ্ধা মেশানো কৌতূহল নিয়ে সে জানালা থেকে সরে এলো। নিজেকেই বলল, "উনি তো আমার গুরুজন, ওনাকে নিয়ে ভুল কিছু ভাবাই উচিত না।"

দুপুরের দিকে আবার দেখা। শর্মিলা কাকিমা তখন লাল-পাড় সাদা শাড়িতে একদম পরিপাটি। ইশানকে দেখে হেসে বললেন,

"আরে ইশান, শোন না বাবা! রমা'দি ৮৪৫ টাকা পাবে, সকালে ওকেই বলে রাখছিলাম কাল এসে যেন নিয়ে যায়। আজকাল সব কিছুর হিসাব রাখতে হয় বুঝলি!" 😊

৮৪৫ টাকা... সংখ্যাটা ইশানের মাথায় গেঁথে গেল। আর তখন ঘড়িতে বাজে ঠিক ৮টা ৪৫!

পরদিন সকাল। ঘড়িতে কাঁটায় কাঁটায় ৮টা ৪৫ বাজে। ⏰

ইশানের হাত আপনা-আপনিই চলে গেল পশ্চিমের জানালায়। কুয়াশার আড়ালে বারান্দায় দাঁড়িয়ে শর্মিলা কাকিমা।

আজও সেই ব্যস্ত সকাল। রোদ এসে পড়েছে বারান্দায়। দূর থেকে ইশানের মনে হলো,

কাকিমা যেন তার দিকেই তাকিয়ে একটু মিষ্টি করে হাসলেন, তারপর ভেতরে চলে গেলেন।

এই হাসির মানে কি? এটা কি নিছকই পাড়া-প্রতিবেশীর সৌজন্যের হাসি? নাকি ইশান বেশি ভাবছে?

২৮ বছরের বেকার, চাকরি খুঁজতে থাকা একটা ছেলের মনে হাজারটা প্রশ্ন ভিড় করতে লাগলো। বুকের ভেতরটা অস্থির হয়ে উঠলো।

সে নিজের ঘরে এসে দরজা বন্ধ করে দিল। চোখ বন্ধ করে সে ভাবতে লাগলো তার এই অস্থিরতার শেষ কোথায়।

আপনারা ছবিতে যে নারীকে দেখছেন, দেখুন কতটা আত্মবিশ্বাসী আর প্রাণবন্ত! 🙏 রঙিন শাড়িতে, একটি সুন্দর শহরের খোলা চত্বরে দাঁড়িয়ে, মুখে কি সুন্দর নির্মল হাসি।

আমাদের গল্পের শর্মিলা কাকিমাও হয়তো মনে মনে এমনই একজন স্বাধীন, আত্মবিশ্বাসী মানুষ হতে চান,

যিনি রোজকার রান্নাঘর আর সংসারের বাইরেও নিজের একটা নিজস্ব আকাশ খুঁজছেন। এই ছবিটা সেই আত্মবিশ্বাসেরই প্রতীক।

ইশান জানে, তার একটা দুর্বলতা আছে। সে খুব সহজেই মানুষের মায়ায় জড়িয়ে পড়ে।

কিছুদিন পর সুযোগ এলো। সৌমেন কাকু বাজার থেকে কিছু সবজির ব্যাগ কিনে ইশানকে বললেন, "বাবা, এগুলো একটু তোদের কাকিমাকে দিয়ে আয় তো, আমার আবার ক্লাবে মিটিং আছে।"

ইশান দরজায় টোকা দিতেই শর্মিলা কাকিমা দরজা খুললেন। তখন তিনি রান্নাঘরের সামনে বসে সবজি গুছাচ্ছিলেন।

"এসেছিস বাবা? আয় ভেতরে আয়।" কাকিমা স্নেহের সুরে বললেন।

ইশান বললো, "কাকিমা, কাকু এগুলো পাঠালো।"

"এগুলো একটু রান্নাঘরে রেখে দে না বাবা। একা হাতে আর পারি না।"

রান্নাঘরের অল্প আলোয় সবজি রাখতে গিয়ে ইশান দেখলো, রান্নাঘরের ওপরের তাক থেকে একটা কৌটো পাড়তে গিয়ে কাকিমার হাত পৌঁছাচ্ছে না। সে এগিয়ে গিয়ে কৌটোটা পেড়ে দিল।

হঠাৎ কাকিমার পা একটু পিছলে যায়। ইশান তাড়াতাড়ি ধরে ফেলে, যাতে পড়ে না যান। দুজনেই হকচকিয়ে যায়।

"আঃ! দেখেছিস, একটু অন্যমনস্ক ছিলাম!" কাকিমা নিজেকে সামলে নিলেন।

এক মুহূর্তের নীরবতা। ইশানের চোখে অপরাধবোধ, আর শর্মিলা কাকিমার চোখে একরাশ ক্লান্তি আর চাপা একাকীত্ব।

সেই মুহূর্তে কাকিমা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, "জানিস ইশান, এই বড় বাড়িতে আমি বড্ড একা থাকি।

তোর কাকু তো সারাদিন কাজ নিয়েই ব্যস্ত। ছেলে-মেয়েরা বাইরে পড়ে। কথা বলারও কেউ থাকে না মাঝে মাঝে।

তাই বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকি, মানুষ দেখি, পাড়াটাকে দেখি।" 🥺

ইশানের সব অস্থিরতা যেন এক মুহূর্তে ঠান্ডা জল পড়ে গেল। সে বুঝতে পারলো, সে যা ভাবছিল, বাস্তবটা তার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

একজন ৪২ বছরের নারীর একাকীত্বকে সে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করছিল।

তার মনে যে কৌতূহল তৈরি হয়েছিল, সেটা আসলে তার নিজের কল্পনা। এটা ছিল একজন সন্তানের মতো প্রতিবেশীর প্রতি মায়া আর শ্রদ্ধা।

শর্মিলা কাকিমা শাড়ির আঁচল ঠিক করে নিয়ে বললেন, "তুই বোস বাবা, তোকে এক কাপ চা করে দিই।"

ইশান সোফায় বসে রইলো। তার মাথায় তখন হাজারটা চিন্তা। চাকরির চিন্তা, মায়ের স্বপ্ন, আর এই নতুন উপলব্ধি।

সে বুঝতে পারলো, চেনা মানুষদের প্রতি সম্মান আর স্নেহের দূরত্ব বজায় রাখাটাই সবচেয়ে জরুরি। বয়সে বড়দের একাকীত্বকে সম্মান করতে হয়, বন্ধু হতে হয়। ❤️

চা খেতে খেতে শর্মিলা কাকিমা হঠাৎ ইশানকে বললেন, "আচ্ছা ইশান, তুই রোজ সকালে ৮টা ৪৫-এ জানালায় কি দেখিস বল তো?

আমি কিন্তু রোজ দেখি তুই জানালা খুলিস... ভাবি ছেলেটা এত সকালে উঠে পড়াশোনা করে, কত পরিশ্রমী!"

এই একটা লাইন শুনে ইশানের হাত থেকে চায়ের কাপটা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল! তার মুখ লাল হয়ে গেল লজ্জায়। তার মানে কাকিমা সব লক্ষ্য করেন!

কিন্তু আসল ধাক্কাটা তখনও বাকি ছিল...

শর্মিলা কাকিমা মুচকি হেসে বললেন, "শোন, কাল সকাল ৮টা ৪৫-এ বারান্দায় আসিস। তোর জন্য একটা জিনিস আছে,

যেটা তোর জীবনটা বদলে দিতে পারে। আর হ্যাঁ, ৮৪৫ টাকার হিসাবটা কিন্তু এখনো মেলেনি..."

ইশানের বুকটা ধক করে উঠলো। ৮৪৫ টাকা কি শুধুই রমা'দির হিসাব ছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো🌏এই কাহিনীটি এখানেই শেষ নয়, বাকি অংশটা প্রথম কমেন্টে রেখে দিলাম।

আপনাদের ভালোবাসায় এই কাহিনী গুলো নিয়ে আমরা একটি PDF ও অডিও বুক কালেকশন তৈরি করেছি।

ডিসক্লেইমার: এই কাহিনীটি বাস্তবতার ছায়া অবলম্বনে, তবে সম্পূর্ণ কাল্পনিক এবং শুধু বিনোদনের উদ্দেশ্যে লেখা।

Canada এর Toronto থাকা আমাদের সকল বাংলা ভাষাভাষী প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্য অনেক ভালোবাসা রইলো।

#গ্রাম_বাংলার_গল্প #প্রবাস_জীবন #কানাডা_প্রবাসী #টরন্টো_প্রবাসী

🎀🌳শ্রীলেখা কাকিমা বললো দুপুরে সবাই খাওয়ার পর আমার ঘরে আসিস, তোর সাথে জরুরি কথা আছে। "এদিকে রান্নাঘরে রান্নার মাসি ছিল। ম...
09/10/2026

🎀🌳শ্রীলেখা কাকিমা বললো দুপুরে সবাই খাওয়ার পর আমার ঘরে আসিস, তোর সাথে জরুরি কথা আছে। "এদিকে রান্নাঘরে রান্নার মাসি ছিল। মাসি ফিসফিস করে বললো, "বউদি, শুনলাম কাল কি হইছে?"

শ্রীলেখা হেসে বললো, "বাদ দাও তো মাসি। মানুষ মাত্রই ভুল করে। ও ছোট মানুষ, আমি ওকে ক্ষমা করে দিয়েছি। তুমি এটা নিয়ে আর কাউকে কিছু বলো না।" ❤️

দুপুরে শ্রীলেখা রান্না করে শ্বশুরমশাইকে খাওয়ালো, দেবর নিলয়কে খেতে দিলো। তারপর নিজে গোসল সেরে একটা সুন্দর পাতলা সালোয়ার কামিজ পরলো

কাল দুপুরে এমন একটা ঘটনা ঘটেছে, যার পর থেকে শ্রীলেখার রাতে ঘুম নেই! 😔 কি এমন করেছিল হৃদয়?

কেনই বা শ্রীলেখা তাকে দুপুরে নিজের ঘরে ডেকে দরজা ভেজিয়ে দিতে বললো? শেষ পর্যন্ত কি হবে?

প্রতিদিনের মতো ভোরে উঠে শ্রীলেখা তার স্বামী সুজয়ের অফিসের লাঞ্চ গুছিয়ে দিলো। সুজয় বেরিয়ে গেলো।

বাড়িতে তখনও শ্বশুরমশাই আর দেবর নিলয় গভীর ঘুমে। ছোট্ট অয়নও ঘুমাচ্ছে।

শ্রীলেখা ফ্রেশ হয়ে ব্রাশ করতে করতে পুরো বাড়িটা একবার ঘুরে দেখছিলো। হঠাৎই কাল দুপুরের ঘটনাটা মনে পড়তেই তার বুকটা ধক করে উঠলো।

হৃদয় ছেলেটা এই বাড়িতে এসেছে আজ ৩ বছর হলো। শ্রীলেখা তাকে নিজের ছোট ভাইয়ের মতোই স্নেহ করে। কাকি বলে ডাকে হৃদয়। কিন্তু কাল দুপুরে...

কাল দুপুরে যখন শ্রীলেখা একা ঘরে শুয়ে ছিল, হৃদয় হঠাৎ কোনো অনুমতি ছাড়াই ঘরে ঢুকে পড়ে এবং

এমন কিছু কথা বলে ফেলে যা একজন বিবাহিত নারীর সামনে বলা উচিত নয়।

সে বলেছিল, "কাকি, আপনাকে দেখলে আমার মন কেমন যেন করে।"

কথাটা শুনে শ্রীলেখা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। সে রাগ করেনি, চিৎকারও করেনি। শুধু বলেছিল, "বাইরে যা।"

সারারাত শ্রীলেখা ভেবেছে। এই ছেলেটাকে সে কিভাবে শোধরাবে? রাগ করে তাড়িয়ে দিলে ছেলেটার জীবনটাই নষ্ট হয়ে যাবে। বকাঝকা করলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

তাই সকালে উঠে সে সোজা চলে গেলো স্টোর রুমের দিকে। ওখানেই হৃদয় থাকে।

গিয়ে দেখে হৃদয় এখনো অঘোরে ঘুমাচ্ছে। ঘুমন্ত মুখটা দেখে শ্রীলেখার মায়া হলো। আবার রাগও হলো। এত সাহস কোথা থেকে পায় এই বয়সে?

শ্রীলেখা আর নিজেকে আটকে রাখতে পারলো না। চৌকির পাশে বসে ডাক দিলো, "হৃদয়, ওঠ।"

হৃদয় ঘুম থেকে চমকে উঠে দেখে সামনে বাড়ির বউ দাঁড়িয়ে। চোখে রাগ, কিন্তু সেই রাগের আড়ালে একরাশ কষ্ট আর মমতা।

মাথা নিচু করে হৃদয় বললো, "কাকিমা, কালকের জন্য আমাকে মাফ করে দেন। আমার ভুল হয়ে গেছে।" 🙏

শ্রীলেখা কড়া গলায় বললো, "তুই আমার ভরসা ভেঙেছিস হৃদয়। এই বাড়িতে তোকে আমি ছোট ভাইয়ের চোখে দেখি।

তুই যদি সেই সম্মানটাই না রাখিস, তাহলে কিভাবে হবে?"

ঠিক তখনই দোতলা থেকে ছোট্ট অয়নের কান্নার আওয়াজ ভেসে এলো। শ্রীলেখা দৌড়ে উপরে চলে গেলো।

হৃদয় হতাশ মুখে উঠে ফ্রেশ হয়ে বাড়ির সব কাজে লেগে পড়লো। তার মনে একটাই ভয়, কাকিমা কি কাকা কে বলে দেবে? তাকে কি বাড়ি থেকে বের করে দেবে?

শ্রীলেখা অয়নকে শান্ত করে তার হাতে ফোন দিয়ে কার্টুন ছেড়ে দিলো। 📱

কিছুক্ষণ পর হৃদয় যখন নিচের বাথরুম পরিষ্কার করছিল, শ্রীলেখা সেখানে গিয়ে নরম গলায় বললো, "কি রে, মন খারাপ করেছিস?"

হৃদয় বললো, "না কাকিমা, আমি খুব লজ্জিত।"

শ্রীলেখা তখন তাকে বোঝালো, "শোন বাবা, এই দুনিয়ায় সম্মানের চেয়ে বড় কিছু নেই। তোর কাকা বিদেশে দিনরাত পরিশ্রম করে শুধু আমাদের ভালো রাখার জন্য।

আমার জীবনেও অনেক কষ্ট, অনেক না বলা কথা জমে আছে। ছবিতে আমাকে যেমন দেখছো,

সবুজ আর কমলা শাড়িতে, কপালে লাল টিপ আর হাতে শাঁখা-পলা পরে হাসছি, ভেতরে কিন্তু হাজারটা চিন্তা চলছে।

কিন্তু তাই বলে কি আমরা ভুল পথে যাবো? এই যে তোর মনে যা এসেছে, এটা ভালোবাসা না, এটা মোহ। চোখের দেখায় যা হয়, তা দুদিন পরেই কেটে যায়।

আসল সম্পর্ক হলো শ্রদ্ধার, সম্মানের, বিশ্বাসের। তুই যদি আমাকে সত্যিই কাকি ভাবিস, তাহলে আমার সম্মানটা তোকেই রক্ষা করতে হবে। বুঝেছিস?" ✨

হৃদয় মাথা নেড়ে বললো, "জি কাকি, বুঝেছি।"

শ্রীলেখা বললো, "আজ থেকে মন দিয়ে কাজ কর, ভালো মানুষ হ। পড়াশোনাটা আবার শুরু কর।

দুপুরে সবাই খাওয়ার পর আমার ঘরে আসিস, তোর ভবিষ্যৎ নিয়ে জরুরি কথা আছে।"

এদিকে রান্নাঘরে রান্নার মাসি ছিল। মাসি ফিসফিস করে বললো, "বউদি, শুনলাম কাল কি হইছে?"

শ্রীলেখা হেসে বললো, "বাদ দাও তো মাসি। মানুষ মাত্রই ভুল করে। কিন্তু সেই ভুল থেকে ফিরে আসাটাই আসল মানুষের পরিচয়।

ও ছোট মানুষ, আমি ওকে ক্ষমা করে দিয়েছি। তুমি এটা নিয়ে আর কাউকে কিছু বলো না।" ❤️

দুপুরে শ্রীলেখা রান্না করে শ্বশুরমশাইকে খাওয়ালো, দেবর নিলয়কে খেতে দিলো। তারপর নিজে গোসল সেরে একটা সুন্দর পাতলা সালোয়ার কামিজ পরলো।

নিলয় খাওয়া শেষ করে বাইক নিয়ে বের হবে, তখন শ্রীলেখা তাকে ডেকে স্বামীর বন্ধুর দোকানের জন্য খাবারের প্যাকেট দিলো। নিলয় চলে গেলো।

শ্রীলেখা খাবার টেবিলে বসে খেয়ে নিলো। হৃদয়কে ডেকে বললো, "বাবা, গোসল করে খেয়ে দোতলায় আমার ঘরে আয়।"

শ্রীলেখা ঘরে অয়নকে ঘুম পাড়াচ্ছে। তখন হৃদয় দরজায় টোকা দিলো। শ্রীলেখা বললো, "ভেতরে আয়, দরজাটা ভেজিয়ে দে। অয়ন ঘুমাচ্ছে, আওয়াজ বাইরে যাবে।"

শ্রীলেখা মেঝেতে বসে হৃদয়কে বোঝাতে লাগলো, "দেখ হৃদয়, তুই বলেছিলি কাকিকে দেখলে তোর মন অস্থির হয়।

এটা স্বাভাবিক, এই বয়সে এমন মনে হয়। কিন্তু এটাকে প্রশ্রয় দিতে নেই। নিজের মনকে কাজে লাগা, স্বপ্ন দেখ।

তুই একদিন অনেক বড় হবি। তোর জন্য আমি গর্ব করতে চাই।"

হৃদয় মাথা নিচু করে সব শুনলো। সে বললো, "কাকি, আপনি ঠিক বলেছেন। আমি আর কখনো

এমন ভুল করবো না। আপনি আমাকে যে সম্মান দিয়েছেন, আমি সারাজীবন মনে রাখবো।"

শ্রীলেখা হৃদয়কে ক্ষমা করে দিয়ে বললো, "যা, এবার নিজের কাজে মন দে। আর হ্যাঁ, কাল থেকে সন্ধ্যায় আমার ছেলেকে পড়ানোর সময় তুইও পাশে বসে পড়বি।"

কিন্তু গল্পটা এখানেই শেষ নয়... 😮 বাকি অংশটা প্রথম কমেন্টে রেখে দিলাম। আপনাদের ভালোবাসায় এই কাহিনী গুলো নিয়ে আমরা একটি PDF ও অডিও বুক কালেকশন তৈরি করেছি।

ডিসক্লেইমার: এই কাহিনীটি বাস্তবতার ছায়া অবলম্বনে, তবে সম্পূর্ণ কাল্পনিক এবং শুধু বিনোদনের উদ্দেশ্যে লেখা।

Canada এর Toronto Islands Ferry এলাকায় থাকা আমাদের সকল বাংলা ভাষাভাষী প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্য অনেক ভালোবাসা রইলো।

#গ্রাম_বাংলার_গল্প #প্রবাস_জীবন #কানাডা_প্রবাসী #টরন্টো_প্রবাসী

🏠💤রাতে রেশমা মামীর ঘরে গেলাম। খাটের পাশে একটা ছোট টেবিল। আর টেবিলের ওপর একটা কালো বক্স দেখে আমি থমকে গেলাম। ভেতর থেকে হা...
09/09/2026

🏠💤রাতে রেশমা মামীর ঘরে গেলাম। খাটের পাশে একটা ছোট টেবিল। আর টেবিলের ওপর একটা কালো বক্স দেখে আমি থমকে গেলাম।

ভেতর থেকে হালকা আলো বের হচ্ছে। কাছে গিয়ে দেখি, এটা একটা রিচার্জেবল মিনি হ্যান্ড ও নেক ম্যাসাজার! 💆‍♀️

ঠিক তখনই দরজায় খট করে শব্দ! মামী ঘরে ঢুকলো। 😰
আমি তো ভাবলাম এবার গেছি!

তাই তাড়াতাড়ি চোখ বন্ধ করে ঘুমের ভান ধরে শুয়ে পড়লাম।

গরমের ছুটিতে জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা খেলাম! 😳
তোমরা বিশ্বাস করবে না, মামীর ঘরে ঢুকে টেবিলের ওপর কি দেখলাম...

সুইচ টিপতেই পুরো ঘর "ভোঁ ভোঁ" করে কেঁপে উঠলো আর আমি জমে গেলাম! 😨

ভাবলাম আজকে শেষ, নির্ঘাত বকা খাবো।
কিন্তু তারপর যা হলো, তার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না...

গরমের ছুটি শুরু হয়েছে। হঠাৎ আব্বু-আম্মু বললো, "চল রাফি, তোর ছোট মামার বাড়ি থেকে ঘুরে আসি।" 🌾

ছোট মামা কানাডাতে থাকে, বছরে একবার দেশে আসে। গ্রামের বাড়িতে ছোট মামী রেশমা একাই থাকে।

আমি শুনেই এক পায়ে রাজি! গ্রাম মানেই আমার কাছে শান্তি - খোলা মাঠ, পুকুর পাড়ের ঠান্ডা বাতাস, আর টিনের চালের সেই মায়া।

সকাল সকাল বাসে উঠলাম। বাইরে কাঠফাটা রোদ। জানালা দিয়ে দেখছি সবুজ ধানক্ষেতে বাতাস খেলছে।

কাঁচা রাস্তায় ঢুকতেই ধুলোয় সব সাদা! কিন্তু ভেতরে ভেতরে অদ্ভুত এক আনন্দ হচ্ছিল। ✨

বিকেলে মামার বাড়ি পৌঁছালাম। টিনের ঘর, সামনে বিশাল উঠোন, পেছনে পুকুর - একদম সিনেমার দৃশ্য।

দরজায় দাঁড়িয়ে ছিল রেশমা মামী। মামীকে দেখে আমি পুরো অবাক! 😍

পরনে হালকা পিচ কালারের শাড়ি, নীল ব্লাউজ, গা ভর্তি সোনার গয়না, হাতে লাল-সাদা শাঁখা-পলা। মুখে কী মিষ্টি একটা হাসি।

বয়স ৩০ হবে, কিন্তু দেখলে মনে হয় কেবল ভার্সিটি শেষ করেছে। এত গরমেও কী সুন্দর পরিপাটি! ঠিক এই ছবিটার মতো - আত্মবিশ্বাসী,

হাসিখুশি আর লক্ষ্মী একটা মেয়ে। এই ছবিটা দেখলেই বুঝবে আমি কেন এত মুগ্ধ হয়েছিলাম! 📸

আমি মজা করে বললাম, "মামী, তোমাকে তো আজ একদম টরন্টোর নায়িকার মতো লাগছে!"

মামী লজ্জা পেয়ে হেসে বললো, "ধুর পাগল! হয়েছে, আর পাম দিতে হবে না। ভেতরে আয়।" 😊

ঘরের ভেতরটা কী সুন্দর গোছানো। দেয়ালে মামার ছবি, একটা পুরোনো সোফা। মামী দৌড়ে গিয়ে আমাদের জন্য ঠান্ডা লেবুর শরবত নিয়ে এলো।

তার হাতের চুড়ির টুংটাং শব্দে পুরো ঘরটা ভরে গেল। আব্বু-আম্মু গ্রামের খোঁজ-খবর নিচ্ছে, আমি বারান্দায় বসে পুকুরের বাতাস খাচ্ছি।

রাত হলো। খাওয়া-দাওয়া শেষ। বাড়িতে মাত্র দুটো ঘর। একটাতে আব্বু-আম্মু, আরেকটাতে মামী।

আব্বু বললো, "তাহলে রাফি কোথায় ঘুমাবে?"

মামী হেসে বললো, "আরে ও তো আমার ছোট ভাই-ই। আমার ঘরেই ঘুমাবে, কোনো সমস্যা নেই।" 🙈

আমি লজ্জায় শেষ! অনার্স ২য় বর্ষে পড়ি, আর আমাকে বলে ছোট! সবাই হো হো করে হেসে উঠলো।

রাতে মামীর ঘরে গেলাম। ছোট্ট, কিন্তু খুব পরিপাটি ঘর। খাটের পাশে একটা ছোট টেবিল।

আর টেবিলের ওপর একটা কালো বক্স দেখে আমি থমকে গেলাম। ভেতর থেকে হালকা আলো বের হচ্ছে।

কাছে গিয়ে দেখি, এটা একটা রিচার্জেবল মিনি হ্যান্ড ও নেক ম্যাসাজার! 💆‍♀️

মামা বিদেশ থেকে পাঠিয়েছে। মামীর প্রায়ই মাথা ব্যথা করে, তাই হয়তো এটা ব্যবহার করে।

কৌতূহলবশত হাতে নিয়ে দেখছিলাম। হঠাৎ ভুলে সুইচে চাপ লেগে গেল আর "ভোঁওওও" করে জোরে কেঁপে উঠলো!

আমি ভয়ে সাথে সাথে বন্ধ করে যেখানে ছিল সেখানেই রেখে দিলাম।
বুকটা তখনো ধুকপুক করছে।

ঠিক তখনই দরজায় খট করে শব্দ! মামী ঘরে ঢুকলো। 😰
আমি তো ভাবলাম এবার গেছি! তাই তাড়াতাড়ি চোখ বন্ধ করে ঘুমের ভান ধরে শুয়ে পড়লাম।

মামী আলমারি খুললো। ভেতর থেকে একটা মোটা ছবির অ্যালবাম বের করলো। আমি চোখ পিটপিট করে দেখছি।

সে অ্যালবামটা খুলে একটা পাতায় অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইলো। ওটা ছিল একটা বিশাল পার্কের ছবি, পেছনে অনেক উঁচু একটা টাওয়ার।

পার্কে শাড়ি পরা একটা মেয়ে হাসছে। ছবিটা দেখে মনে হচ্ছিল স্বপ্নের কোনো দেশ। 🏞️

হঠাৎ মামী একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ফেলে খুব আস্তে বললো...
"ইস! জীবনে যদি একবার ওই পার্কটাতে যেতে পারতাম..."

তার গলায় এত মায়া, এত একাকীত্ব ছিল যে আমার বুকটা হু হু করে উঠলো। 💔

বুঝলাম, মামা বিদেশে অনেক টাকা রোজগার করে ঠিকই, কিন্তু টাকা দিয়ে তো আর সঙ্গ কেনা যায় না।

এই গ্রামের বাড়িতে একা একা সংসার সামলাতে সামলাতে মামী তার নিজের ছোট ছোট স্বপ্নগুলো বুকের ভেতর চাপা দিয়ে রেখেছে।

ঘুরতে যাওয়ার স্বপ্ন, সুন্দর একটা জীবনের স্বপ্ন। যে স্বপ্নের ছবিটা সে ফোনে সেভ করে রেখেছে, ঠিক এই ছবিটার মতো।

আমি আর ঘুমের ভান করে থাকতে পারলাম না। উঠে বসলাম।
বললাম, "মামী, মন খারাপ করো না তো। আল্লাহ চাইলে সব হবে।"

মামী চমকে আমার দিকে তাকালো, তারপর হেসে ফেললো। বললো, "তুই ঘুমাসনি?"
আমি বললাম, "তোমার স্বপ্নটা একদিন সত্যি হবে দেখো।"

মামী অ্যালবামটা বন্ধ করে বললো, "পাগল ছেলে। নে, অনেক রাত হয়েছে, এখন ঘুমা। কাল সকালে তোকে পুকুর পাড়ে নিয়ে যাবো।"

আমি শুয়ে পড়লাম, কিন্তু ঘুম আসছিল না। একটা প্রশ্ন মাথায় ঘুরছিল...মামীর এই একাকীত্বে কিভাবে সাহায্য করবো 🏠এই কাহিনীটি এখানেই শেষ নয়, বাকি অংশটা প্রথম কমেন্টে রেখে দিলাম। আপনাদের ভালোবাসায় এই কাহিনী গুলো নিয়ে আমরা একটি PDF ও অডিও বুক কালেকশন তৈরি করেছি।

ডিসক্লেইমার: এই কাহিনীটি বাস্তবতার ছায়া অবলম্বনে, তবে সম্পূর্ণ কাল্পনিক এবং শুধু বিনোদনের উদ্দেশ্যে লেখা।

Canada এর Toronto CN Tower এলাকায় থাকা আমাদের সকল বাংলা ভাষাভাষী প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্য অনেক ভালোবাসা রইলো।

#গ্রাম_বাংলার_গল্প #প্রবাস_জীবন #কানাডা_প্রবাসী #টরন্টো_প্রবাসী

🎀🍲শর্মিলা বৌদি দরজার কাছে এসে একটু হেসে বললো, "রনি, তোকে একটা জিনিস দেখানোর আছে,  আমি জিজ্ঞেস করলাম, "কি জিনিস বৌদি?"🌸সে...
09/08/2026

🎀🍲শর্মিলা বৌদি দরজার কাছে এসে একটু হেসে বললো, "রনি, তোকে একটা জিনিস দেখানোর আছে,
আমি জিজ্ঞেস করলাম, "কি জিনিস বৌদি?"🌸

সেদিন সকালেই পাড়ার মোড়ে সবাই তাকিয়ে ছিল। বৌদি একটা ছাই রঙের পালাজো আর সুন্দর একটা সুতির টপ পরে বাজারে যাচ্ছে, চুলগুলো সদ্য শ্যাম্পু করে খোলা।

দেখে কে বলবে তার ২৪ বছরের ছেলে মুম্বাইতে চাকরি করে! মনে হচ্ছিল যেন ইউনিভার্সিটির কোনো সিনিয়র দিদি হেঁটে যাচ্ছে।

সত্যি বলতে বৌদি থাকে আমার বাড়ির ঠিক পেছনের ফ্ল্যাটেই। উচ্চতা প্রায় ৫'৬", একদম ফিট আর পরিপাটি।

কিন্তু তার আসল সৌন্দর্য তার এনার্জিতে। 💫 এই বয়সেও এত হাসিখুশি, এত প্রাণবন্ত যে পাড়ার সব কাকিমা,

জেঠিমারা তাকে দেখে অনুপ্রেরণা পায়। তার স্টাইল সেন্স নিয়ে তো পাড়ায় রীতিমতো চর্চা হয়।

জিন্স, কুর্তি, লেহেঙ্গা, পালাজো - সবকিছুতেই তাকে দারুণ মানায়। তবে শাড়িতে তাকে লাগে সবচেয়ে মায়াবী।

যেমন আজকের এই ছবিতে দেখছেন - হলুদ আর লাল পাড়ের একটা কী সুন্দর বেনারসি,

খোঁপায় সাদা ফুলের গাজরা, গলায় সোনার চোকার আর হাতে শাঁখা-পলা। একদম বাঙালি ঐতিহ্যের একটা স্নিগ্ধ রূপ। ❤️

বৌদির স্বামী অনির্বাণদা, বয়স প্রায় ৫০ ছুঁইছুঁই, ভীষণ ভালো মনের মানুষ। সরকারি চাকরির জন্য বেশিরভাগ সময় বাইরেই থাকেন।

দুজনকে একসাথে দেখলে মনে হয় না স্বামী-স্ত্রী, মনে হয় দুজন খুব ভালো বন্ধু। 👫

আর আমি? আমি হলাম বৌদির সবচেয়ে আদরের দেওর। পাড়ার সবাই তাই বলে। এর একটাই কারণ - বৌদি নতুন নতুন রান্না করতে ভীষণ ভালোবাসে।

আর ইউটিউব দেখে নতুন কিছু বানালেই সবার আগে আমাকে ডাক দেয়। "রনি, একবার এসে টেস্ট করে বল তো কেমন হয়েছে!" 🍲

সত্যি বলছি, আমি যাই খাবারের লোভে নয়, বৌদির ওই আন্তরিকতাটার জন্য।

যখন হাসিমুখে রান্নাঘর থেকে একটা নতুন পদ নিয়ে এসে বলে "নে, খেয়ে বল", তখন মনে হয় নিজের বড় দিদি যেন আদর করে খাওয়াচ্ছে।

সেদিন দুপুরের ঘটনাটা বলি। আমি ছাদে গাছে জল দিচ্ছিলাম। হঠাৎ পেছনের বারান্দা থেকে ডাক - "ও রনি, একবার আয় তো! আজ চিকেনের একটা নতুন রেসিপি ট্রাই করেছি।"

আমি নিচে গেলাম। গিয়ে দেখি টেবিলে কী সুন্দর করে সাজানো। বৌদি হাসতে হাসতে বললো, "বোস, আমি নিয়ে আসছি।" 😊

কিছুক্ষণ পর দুটো প্লেটে মিষ্টি নিয়ে এলো। এক প্লেটে দুটো বড় রাজভোগ, উপরে কিশমিশ ছড়ানো,

আর অন্য প্লেটে একটা বড় ল্যাংচা আর দুটো কালোজাম। সাজানোটা এত নিখুঁত ছিল যে দেখেই মন ভরে যাচ্ছিল।

বৌদি মজা করে বললো, "কি রে, সাজানোটা কেমন হয়েছে বল তো?"

আমিও মজা করে পাশে থাকা ফলের ঝুড়ি থেকে একটা কমলালেবু মাঝখান থেকে কেটে আর একটা আপেল দিয়ে প্লেটের পাশে সাজিয়ে দিলাম। বললাম, "বৌদি,

এবার দেখো তো, ফলের ছোঁয়ায় মিষ্টির প্লেটটা আরও বেশি সম্পূর্ণ লাগছে কিনা? ফল আর মিষ্টি, দুটোই তো আপ্যায়নের অংশ।" 🍎🍊

আমার কান্ড দেখে বৌদি হো হো করে হেসে উঠলো। আমার মাথায় হাত দিয়ে বললো, "তুই তো ভারী গুছানো! একদম পারফেক্ট সাজিয়েছিস। তুই না থাকলে এই আড্ডাটাই জমতো না।"

আমি বললাম, "বৌদি, তোমার হাতের রান্না যেমন সুন্দর, তোমার মনটাও তেমনই সুন্দর।

তোমাকে দেখলে কেউ বিশ্বাসই করবে না তোমার এত বড় ছেলে আছে। তোমার ছেলের বিয়েতে তো সবাই তোমাকে তার দিদি ভাববে!"

শুনে বৌদি খুব খুশি হলো। বললো, "ধুর পাগল! তোরা সবাই এত ভালোবাসিস বলেই হয়তো নিজেকে এখনো তরুণ মনে হয়।

অনির্বাণ তো সবসময় বলে আমি নাকি এখনো কলেজের মেয়েদের মতোই সাজগোজ করি।" 🥰

আমরা অনেকক্ষণ গল্প করলাম। পাড়ার খবর, রান্নার রেসিপি, ছেলের মুম্বাইয়ের গল্প - সময় কিভাবে কেটে গেল বুঝতেই পারলাম না। বৌদির বানানো চিকেন আর মিষ্টি সত্যিই অসাধারণ ছিল।

আসলে বৌদির সাথে সময় কাটালে মনটা এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। তার মধ্যে কোনো অহংকার নেই, আছে শুধু সবাইকে আপন করে নেওয়ার এক অদ্ভুত ক্ষমতা। 🙏

ফিরে আসার সময় বৌদি দরজার কাছে এসে একটু হেসে বললো, "রনি, তোকে একটা জিনিস দেখানোর আছে,
আমি জিজ্ঞেস করলাম, "কি জিনিস বৌদি?"

বৌদি বললো, "এখন বলবো না। কাল বিকেলে একবার আসিস। 🌸এই কাহিনীটি এখানেই শেষ নয়...

আপনাদের ভালোবাসায় এই কাহিনীগুলো নিয়ে আমাদের PDF ও অডিও বুক কালেকশন তৈরি করা হয়েছে।

ডিসক্লেইমার: গল্পটি বাস্তবতার ছায়া অবলম্বনে, তবে সম্পূর্ণ কাল্পনিক এবং শুধু বিনোদনের জন্য লেখা।

Toronto, Canada এর Victoria Park এ বসে ছবিটি তোলা। Canada তে থাকা সকল প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্য ভালোবাসা রইলো।

Address

Toronto, Ontario, Canada
Toronto, ON
M6H 1A1

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ইকির মিকির চিকির posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share