09/14/2026
🌹🌳অরিত্রা বেয়ান পক্ষের মেয়ে কনকনে শীতের রাত, বাড়িতে অতিথি ভর্তি, আর মা হঠাৎ বলে উঠলেন - "আজ রাতে তোদের দুজনকে এক ঘরেই থাকতে হবে।" ✨ বাইরে হাড় কাঁপানো ঠান্ডা,
ভেতরে লেপের উষ্ণতা। আর আমার সামনে দাঁড়িয়ে ৫ বছর আগের সেই মানুষটা...যাকে আমি একদিনের জন্য দেখেও, একটা বছর ভুলতে পারিনি।
আজ থেকে প্রায় ৬ বছর আগে। আমার মেজো কাকার ছেলে রাহুল দার বিয়ে। পৌষ মাস, জায়গা বর্ধমান।
বিয়ে বাড়ি মানেই তো আলো, সানাই, হইচই আর নতুন মানুষের মেলা। 🎉
বর্ধমানে এর আগে দুবার গেছি ছোটবেলায়, সব আবছা মনে আছে। কিন্তু ওই বিয়েটা ছিল অন্যরকম।
সেখানেই প্রথম দেখা। আমাদের বেয়ান পক্ষের মেয়ে তার নাম অরিত্রা। হালকা হাসি, চোখে অদ্ভুত এক মায়া, আর কথা বলার ভঙ্গি এত মিষ্টি যে মন ভালো হয়ে যায়। 😊
এই যে ছবিটা দেখছো, ঠিক এরকমই একটা স্নিগ্ধ রাজকন্যার মতো সাজ ছিল সেদিন অরিত্রার - ধবধবে সাদা লেহেঙ্গা,
খোঁপায় সাদা ফুল, আর ভারী গয়নায় একদম পরীর মতো লাগছিল। 👑
আমি তখন ভীষণ লাজুক, মেয়েদের সাথে সহজে কথা বলতেই পারতাম না।
কিন্তু অরিত্রার সাথে কীভাবে যেন এক ঘণ্টার মধ্যেই জমে গেল। বিয়ের পিঁড়ি, ফটো সেশন, পান-সুপারি নিয়ে খুনসুটি - সব মিলিয়ে একটা দারুণ বন্ধুত্ব।
অনুষ্ঠান শেষ, যে যার বাড়ি। কিন্তু ওই একটা সন্ধ্যার স্মৃতি আমার মনে গেঁথে গিয়েছিল।
প্রায় একটা বছর আমি মাঝে মাঝেই ভাবতাম, আবার কখনো দেখা হবে কি?
তারপর জীবন তার মতো চলল। পড়াশোনা, নিজের জগৎ।
এবার আসি ৫ বছর পরের সেই শীতের রাতে... ❄️
হঠাৎ একদিন সকালে কলিং বেল। দরজা খুলে দেখি রাহুল দা, বৌদি, তাদের ৩ বছরের ছোট্ট ছেলে মলয়,
আর... অরিত্রা! আমাদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছে। অনেক বছর পর। 🏡
আমাদের বাড়িতে তখন আমি, মা, ছোট বোন তিথি, ছোট ভাই আর ঠাকুরদাদা। বাবা বদলির চাকরির সুবাদে বাইরে। বাড়িতে দুটো বড় শোয়ার ঘর আর একটা বড় বারান্দা।
শীতের রাত, শোয়ার জায়গা নিয়ে সবাই একটু চিন্তায়। ঠিক হলো - রাহুল দা আর বৌদি বারান্দায় ভাইয়ের বিছানায় শোবে,
ভাই শোবে ঠাকুরদাদার ঘরে। আর অরিত্রার শোয়ার ব্যবস্থা হলো আমার ঘরে।
মা ভরসা করে বললেন, "তুই আজ ওখানে মেঝেতে বিছানা করে শুয়ে পড়, ও বিছানায় থাক।" 🙏
আমার মা আমাকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করতেন, আর আমিও সবসময় সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রেখেছি। এটাই আমাদের পরিবারের শিক্ষা।
বিশ্বাস করো, ৫ বছর পর নিজের বাড়িতে অরিত্রাকে দেখে আমার যে কী আনন্দ হয়েছিল, বলে বোঝাতে পারব না। ও-ও অবাক! বলল, "আরে তুমি! তুমি এখানে থাকো!"
রাত তখন প্রায় ১২টা। 🕛 বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। বাইরে কনকনে শীত, ঘরের ভিতর লেপের ওমে আমরা দুজন গল্পে মেতে উঠলাম।
একদম নিরাপদ দূরত্বে, দুজন দুপাশে, মাঝখানে কোলবালিশ - শুধুই গল্প।
পুরনো বিয়ে বাড়ির স্মৃতি, কে কোথায় আছে, পড়াশোনা কেমন চলছে, ভবিষ্যতের স্বপ্ন - কত কথা!
অরিত্রা বলছিল, "জানো, সেদিনের পর মনে হয়েছিল আবার কবে দেখা হবে, দেখা হলে চিনতেও পারব কিনা?"
আমি হেসে বললাম, "আমি তো ভেবেছিলাম তুমি আমাকে ভুলেই গেছো।"
ওই রাতটা ছিল শুধুই একটা সুন্দর বন্ধুত্বের উদযাপন। কোনো বাড়তি কিছু নয়, শুধু দুটো পুরনো পরিচিত মানুষের
অনেকদিন পর মন খুলে কথা বলা। হাসি-ঠাট্টা করতে করতে কখন যে রাত ৩টে বেজে গেল, টেরই পাইনি। 🌙
ভোরের দিকে আমরা ঘুমিয়ে পড়লাম। শীতের সকাল, তাই মা-ও আমাদের ডাকলেন না। বিছানায় শুয়ে থাকার আরামই আলাদা।
সকালে অরিত্রা উঠে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বলল, "এই শোনো, আমার চুলের কাঁটাটা খুঁজে পাচ্ছি না, একটু দেখে দেবে?"
আমি হেসে বললাম, "রাজকন্যার সাজ তো একদম পারফেক্ট থাকতে হবে, যেমন এই ছবিতে লাগছে।" ✨
ও হেসে ফেলল। ওই হাসিটাই ছিল সবচেয়ে সুন্দর।
সকালে আমরা সবাই একসাথে বারান্দায় বসে চা খেলাম। ☕ মা অরিত্রার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, "অরিত্রা মা, তুই তো আমাদের মেয়ের মতোই। আবার আসিস।"
দুপুরে ওদের যাওয়ার সময় হয়ে গেল। যাওয়ার আগে অরিত্রা আমার দিকে তাকিয়ে একটা ছোট্ট কাগজ গুঁজে দিল হাতে। বলল, "এটা বাড়ি গিয়ে খুলবে।"
ওরা বেরিয়ে গেল। আমি কাগজটা খুললাম না। ভাবলাম, থাক, একটু পরে খুলব।
কিন্তু তার পরেই ঘটল আসল ঘটনাটা... 😳
আমি ঘরে এসে দেখি, আমার বইয়ের টেবিলের ওপর ঠিক ছবিটার মতো
একটা সাদা পাথরের ছোট্ট হেয়ার ক্লিপ রাখা। আর তার নিচে চাপা দেওয়া সেই কাগজটা। কাগজে মাত্র দুটো লাইন লেখা -
"ক্লিপটা তোমার কাছেই থাক। আমি আবার নিতে আসব। এই কাহিনীটি এখানেই শেষ নয়, বাকি অংশটা প্রথম কমেন্টে রেখে দিলাম।
আপনাদের ভালোবাসায় এই কাহিনী গুলো নিয়ে আমরা একটি PDF ও অডিও বুক কালেকশন তৈরি করেছি।
ডিসক্লেইমার: এই কাহিনীটি বাস্তবতার ছায়া অবলম্বনে, তবে সম্পূর্ণ কাল্পনিক এবং শুধু বিনোদনের উদ্দেশ্যে লেখা,
Canada এর Toronto CN Tower এর মনোরম দৃশ্যে Canada থাকা আমাদের সকল বাংলা ভাষাভাষী প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্য অনেক ভালোবাসা রইলো।
#গ্রাম_বাংলার_গল্প #প্রবাস_জীবন #কানাডা_প্রবাসী #টরন্টো_প্রবাসী