Immigration, Study and business consulting in Canada

Immigration, Study and business consulting in Canada

Share

We help people to immigrate in Canada, learn, earn, study and doing business

03/26/2026

আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে আমেরিকার রাজনৈতিক বিবেচনার বারবার ব্যর্থতার কথা লিখতে গেলে মহাভারত হয়ে যাবে।

যেমন ভিয়েতনামে কি ঘটেছিল।

ভিয়েতনামের যুদ্ধ থেকে আমেরিকা শিক্ষা নেয় নাই।
ভিয়েতনামে আমেরিকা কেন যুদ্ধে জড়ালো, কখনোই আমেরিকান জনগণ এর কাছে তা ব্যাখ্যা করা হয়নি। ১৯৬৫ সালে যখন আমেরিকা সেখানে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ে, তখন অধিকাংশ আমেরিকানই মানচিত্রে ভিয়েতনাম কোথায়—তা জানত না।
তবু বিপুল সৈন্য সামন্ত নিয়ে আমেরিকা ভিয়েতনামে ঢুকে পড়ে । কিন্তু তারা উত্তর ভিয়েতনাম ও ভিয়েত কংয়ের রাজনৈতিক দৃঢ়তা ও জাতীয়তাবাদী আবেগকে বুঝতে পারে নাই বা গুরুত্ব দেয় নাই । সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীনের কাছ থেকে অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও কৌশলগত সমর্থন নিয়ে ভিয়েতনামিরা সেই যুদ্ধকে দীর্ঘস্থায়ী এক বিদ্রোহে পরিণত করে টেনে নিয়ে যায় । শেষ পর্যন্ত অনেক মৃত্যু , জনমত বিরোধিতা এবং আন্তর্জাতিক অস্বস্তি আমেরিকানদের ১৯৭৩ সালে ভিয়েতনাম থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করতে বাধ্য করে। ভিয়েতনাম শুধু একটি সামরিক বিপর্যয় ছিল না, এটি আমেরিকার জন্য এক রাজনৈতিকভাবে অপমানজনক আত্মসমর্পণ।
তবুও, ওয়াশিংটন সেই অপমান থেকে শিক্ষা নেয় নাই।

বাংলাদেশেও গত দেড় দু বছরের মত ইউনূসের মত একজন লোকের উপরে আমেরিকা বাজি ধরেছে। প্রচার প্রপাগান্ডা করে বলা হয়েছিল তিনি মাহাথির মোহাম্মদ বা লি কুয়ান ইউ এর মতো দেশকে মালয়েশিয়া বা সিঙ্গাপুর বানিয়ে দেবেন কিন্তু বাস্তবে কি হয়েছে, সেটা আপনারাই বলেন । মব ভায়োলেন্স, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক অপরিপক্কতা ইউনুসকে জনগণ থেকে যে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে, এব্যাপারে তার মিত্রদের ও কোন সন্দেহ নাই। আপনি হয়তো বলবেন ইউনুস তো আর দুদিন পর থাকছে না তাহলে আমেরিকা কিভাবে ইউনুসের উপর বাজি ধরে। তবে দুদিন পরে যারা আসবে, ইউনুসের পাতানো রাস্তা থেকে তারা আদৌ সরে আসতে পারবে কিনা।
তবে এটি সত্য, বাংলাদেশে সামরিক শক্তি নিয়ে এখনো আমেরিকা ঢুকে নাই কিন্তু কোন উসিলায় ঢুকতে চাইলে ভিয়েতনাম আমেরিকার জন্য একটা কেস স্টাডি হতে পারে।

02/02/2026

২০২৬ বিশ্বকাপ: উত্তর আমেরিকায় ফুটবলের মহোৎসব: ভিসা প্রতারণার ফাঁদ

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই আসর আয়োজন করতে যাচ্ছে উত্তর আমেরিকার তিন দেশ কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো। ১৬টি শহরে ৪৮টি দল অংশ নেবে এবং অনুষ্ঠিত হবে ১০৪টি ম্যাচ। ফলে বিশ্বের নানা প্রান্তের ফুটবলপ্রেমীরা দলে দলে উত্তর আমেরিকায় এসে এই মহাযজ্ঞের সাক্ষী হতে আগ্রহী। কিন্তু এই আগ্রহকে পুঁজি করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্র। সোশ্যাল মিডিয়া, ট্রাভেল গ্রুপ, অনলাইন বিজ্ঞাপন এবং কিছু অনিয়ন্ত্রিত এজেন্সির মাধ্যমে তারা “ফিফা স্পেশাল ভিসা”, “ফুটবল ফ্যান ভিসা” কিংবা “নিশ্চিত এন্ট্রি”র মতো চটকদার নাম ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। এমনকি কেউ কেউ দাবি করছে, এই তথাকথিত ভিসায় গিয়ে কাজ করার সুযোগও মিলবে।

এমন প্রেক্ষাপটে কানাডার অভিবাসন দপ্তর (IRCC) তাদের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে ফুটবলপ্রেমীদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, যারা বিশ্বকাপ উপলক্ষে কানাডায় খেলা দেখতে আসতে চান, তাদের ভিজিটর ভিসা বা প্রয়োজন অনুযায়ী ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথোরাইজেশন (eTA) এর জন্য আগেভাগেই আবেদন করা উচিত। কিন্তু এই সতর্কতামূলক বার্তাকেই কিছু অসাধু ইমিগ্রেশন ব্যবসায়ী নিজেদের প্রচারের হাতিয়ার বানিয়ে ফেলেছে। তারা আইআরসিসির এ ফটোকার্ড দেখিয়ে সহজ সরল মানুষের পকেট কাটার ফন্দি আঁটা শুরু করেছে। তারা মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করছে যে, ভিজিটর ভিসা নিয়ে একবার কানাডায় ঢুকতে পারলেই হলো। এরপর বাকি কাজ তারা সামলে নেবে। কোথাও কোথাও তারা আরও ভয়ংকর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। যেমন কানাডায় ঢুকেই ক্লেইম করে সরকারি ভাতা পাবেন এবং অবশেষে খুব অল্প সময়ে নাগরিকত্ব পেয়ে যাবেন। বাস্তবে এসব বক্তব্য মানুষের দুর্বলতা এবং স্বপ্নকে টার্গেট করে সাজানো প্রতারণার ভাষা, যার শেষ পরিণতি হতে পারে আর্থিক ক্ষতি।

প্রকৃত সত্য হলো, কানাডা সরকার ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য আলাদা কোনো ‘স্পেশাল ভিসা’ ক্যাটাগরি ঘোষণা করেনি। যারা কানাডায় এসে ম্যাচ দেখতে চান, তাদের সাধারণ ভিজিটর ভিসা (Visitor Visa) বা প্রয়োজন অনুযায়ী (eTA) পদ্ধতিতেই আবেদন করতে হবে। যারা ভিসার নিশ্চয়তা দেয় বা ভিজিটর ভিসায় কাজের সুযোগের কথা বলে, তারা মূলত প্রতারণার আশ্রয় নেয়। কোনো ব্যক্তি বা এজেন্সি ভিসা নিশ্চিত করতে পারে না, কারণ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে কনস্যুলার অফিসারদের এখতিয়ারে। শুধু ম্যাচের টিকিট থাকাও ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়।

আগামী ১১ জুন ২০২৬ মেক্সিকো সিটিতে উদ্বোধনী ম্যাচের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ফিফা বিশ্বকাপের ২৩তম আসর, যা চলবে ১৯ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত। ১২ জুন কানাডার টরন্টোতে অনুষ্ঠিত হবে দেশটির ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ। কানাডার ভ্যাঙ্কুভার এবং টরন্টো এই দুই শহর বিশ্বকাপ ঘিরে অবকাঠামো ও অতিথি ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি জোরদার করছে।

২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিটের মূল্য নির্ধারণে এবার প্রথমবারের মতো 'ডায়নামিক প্রাইসিং' (Dynamic Pricing) পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মানে হলো, ম্যাচের গুরুত্ব এবং টিকিটের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে দাম কমবেশি হতে পারে। সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের জন্য গ্রুপ পর্বের ম্যাচের টিকিটের দাম শুরু হয়েছে ৬০ ডলার থেকে। তবে স্বাগতিক দেশ কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর ম্যাচগুলোর ক্ষেত্রে এই দাম ৭৫ ডলার থেকে শুরু করে ২,৭৩৫ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। নকআউট পর্বের রাউন্ড অফ ৩২ এর টিকিট ১০৫ ডলার এবং কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট ২৭৫ ডলার থেকে শুরু হচ্ছে। যারা ফাইনাল ম্যাচ মাঠে বসে দেখতে চান, তাদের গুনতে হবে বড় অঙ্কের টাকা। ফাইনালের সর্বনিম্ন টিকিটের দাম ২,০৩০ ডলার এবং ক্যাটাগরি-১ এর টিকিটের দাম ৬,৭৩০ ডলার বা তারও বেশি হতে পারে।

টরন্টোতে প্রথম ম্যাচের টিকিট পাওয়া যাবে ৩৫৫ ডলার থেকে ১,৭৪৫ ডলারের মধ্যে। অন্যদিকে ভ্যাঙ্কুভারে উদ্বোধনী ম্যাচের দাম শুরু হচ্ছে ৩৬৩ ডলার থেকে। সাধারণ ভক্তদের জন্য একটি সুখবর হলো, যারা নির্দিষ্ট কোনো যোগ্য দলের একনিষ্ঠ সমর্থক, তাদের জন্য ফিফা ৬০ ডলারে 'সাপোর্টার এন্ট্রি টিয়ার' টিকিট বরাদ্দ রেখেছে। এই টিকিটগুলো সরাসরি সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশনের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে। এছাড়া যারা বিলাসবহুল অভিজ্ঞতা নিতে চান, তাদের জন্য হসপিটালিটি প্যাকেজের দাম ৩,৫০০ ডলার থেকে শুরু করে ৭৩,২০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। মনে রাখবেন, প্রতারণা এড়াতে টিকিট শুধুমাত্র ফিফার অফিশিয়াল সাইট (FIFA.com/tickets) থেকে কেনা উচিত।

সবশেষে একটি সতর্কবার্তা দিয়ে লেখাটি শেষ করতে চাই। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে যে প্রলোভনের বাজার তৈরি হয়েছে, তা ঠেকাতে সবাইকে একসঙ্গে সজাগ থাকতে হবে। ভিজিট ভিসা নিয়ে কানাডায় এসে স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার আশ্বাসে যেন কেউ বিভ্রান্ত না হন, এ বিষয়ে কমিউনিটির সংগঠন এবং সচেতন সদস্যদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘বিশ্বকাপ ভিসা’ বা ‘নিশ্চিত এন্ট্রি’র নামে মানুষকে ভুল পথে ঠেলে দিয়ে যারা বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতে চায়, সেসব প্রতারকদের সম্পর্কে সতর্ক থাকুন এবং অন্যদেরও সতর্ক করুন। সজাগ দৃষ্টি রাখাই পারে অনেক পরিবারকে সর্বনাশের পথ থেকে ফিরিয়ে দিতে।

এ বিষয়ে টরন্টোর বিশিষ্ট ইমিগ্রেশন কনসালটেন্ট মনীষ পালের বক্তব্য তুলে ধরা হলো। (ভিডিও সংযুক্ত)

তথ্যসূত্র:
FIFA.com (২৮ জানুয়ারি ২০২৬)
Canada.ca IRCC (৭ জানুয়ারি ২০২৬)
Immigration and Refugee Protection Act, Section 40
IRCC Help Centre (২৮ জানুয়ারি ২০২৬)
Immigration, Study and business consulting in Canada Climate Channel

01/21/2026

I spoke with Sarjana Binte Rafiq, who has been named one of Canada’s Most Powerful Women in 2025, a recognition of her growing influence in engineering, healthcare, and community leadership.

সারজানা বিনতে রফিক এর সাথে কথা বলেছি। তিনি ২০২৫ সালে কানাডার অন্যতম প্রভাবশালী নারীর মধ্যে জায়গা করে নিয়ে নিয়েছেন। শুনে দেখুন তার জীবন ও কাজের কথা।

01/14/2026

সুজিত কুসুম পাল এর 'ইয়েটসের কবিতায়
নারী ও নিকুঞ্জ' নিয়ে অঞ্জন ও বেলার পাঠ প্রতিক্রিয়া
ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা Bangla Kagoj

শুভ নববর্ষ। অনেকদিন পর আচমকা বেলার ফোন। প্রতি উত্তরে অঞ্জন শুভ নববর্ষ বলার আগেই বেলার কথার ফুলকি ছুটতে থাকে । কি করছো। তেমন কিছু নয়, একটা বই পড়ছি। আহ , আবার বই। অঞ্জন বেলাকে একটু কৌতূহলী করবার জন্য শুধু এটুকু বলে , তৃতীয় বারের মতো পড়ছি। সত্যিই বেলা এবার আগ্রহ দেখায় । বোলো , বোলো , ঝটপট বলে ফেলো। সুজিত কুসুম পাল এর 'ইয়েটসের কবিতায় নারী ও নিকুঞ্জ'। এবার বেলার মনে পড়ে , অঞ্জন এই বইয়ের কথা আগেও বলেছিলো। তো বোলো , কি এমন ব্যাপার। অঞ্জন বলে , যদি শোনো , তাহলে তোমাকে একটু পাঠ প্রতিক্রিয়া জানাতে পারি , আমি তো আর ক্রিটিক নই যে, সাহিত্য সমালোচনা করবো বা করবার যোগ্যতা আছে , কিন্তু সাধারণ পাঠক হিসেবে আমার কেমন লেগেছে , সেটুকু বলতে পারি। অঞ্জন বুঝতে পারে , বেলা চুপ করে শুনছে। এই সুযোগে অঞ্জন বলে ফেলে , সুজিত কুসুম পাল এর আসলে এটা প্রথম বই , কিন্তু এই প্রথম বইয়েই বাজিমাত। মনে পড়ে , অনেক আগে যখন অরুন্ধতী রায় এর প্রথম বই নিয়ে তোলপাড় পড়ে গেছিলো? প্রথম বই , দ্য গড অফ স্মল থিংস , কিন্তু প্রথম বই লিখে বুকার জিতে নিয়েছিলেন। আসলে ফান করছি না , সিরিয়াসলি বলছি। যেমন সুজিত এর এই বই এখন শুনেছি মাস্টার্স এর শিক্ষার্থীরা রেফারেন্স হিসেবে পড়েন। আসলে কি জানো , ইয়েটস এর নাম শুনেছি , কিন্তু কখনো পড়ি নি কিন্তু সুজিত এর লেখা পড়ে একটা ঘোর লাগা পেয়ে যায় আমারও। প্রথমেই যেটা মনে হয়েছে , উনি ইয়েটস কে নিয়ে উপন্যাস লিখেছেন। এমনভাবে ঘটনা পরম্পরা সাজিয়েছেন , যে কারো মনে হতে পারে , এটা ইয়েটস এর জীবনকে নিয়ে লেখা উপন্যাস। সুনীলের সেই সময় বা প্রথম আলো সিরিজের সেই বইগুলো যেমন ইতিহাস নির্ভর কিন্তু ফিকশন , সুজিত এর নারী ও নিকুঞ্জ ফিকশন নয়। কিন্তু উনার লেখার শৈলীতে এটা ফিকশনই মনে হয়। তিনি এই বিষয়টা পরিষ্কার করে দেয়াতে এটা যে ফিকশন নয় , সেটা নিশ্চিত হই । বেলা হঠাৎ কৌতূহলী হয়ে প্রশ্ন করে , কি বললেন তিনি । উনি অন্তর্গত কথা নামে যে ভূমিকা লিখেছেন , তাতে লিখেন , ' গ্রন্থের বিষয়বস্তু কবিতাকেন্দ্রিক হলেও ব্যক্তি ইয়েটসের খন্ড খন্ড জীবনের অখণ্ড প্রতিমা উদ্ভাসিত হয়েছে তাঁরই সৃজিত কাব্যিক চেতনার রঙে। ' এরপরে বই যে আর ইয়েটস এর কল্পকাহিনী নয়, সেটা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

সুজিত এর লেখা যে একদম ঝরঝরে , একটানা পড়ে ফেলা যাবে , তা নয়। আমি উনাকে বলি, লেখকদের লেখক। এই বই লিখতে গিয়ে উনি বই, আর্টিকেল মিলিয়ে একশোটা রেফারেন্স দিয়েছেন। ভাবতে পারো , কিরকম গবেষণার ফসল এই বই , লিখেছেন দুশো সাত পৃষ্ঠা কিন্তু ঠাসবুনোন একেবারে। অনুবাদ করতে গিয়ে পাঠকদের এমন সব বাংলা শব্দের সাথে পরিচয় করিয়েছেন , পড়ে মনে হয় , তাই তো , এর চেয়ে ভালো আর কি শব্দ হতে পারতো। কেমন? বেলা এবার জিজ্ঞেস না করে পারে না। যেমন ধরো , ইংলিশ শব্দ হচ্ছে MUSE কিন্তু অনুবাদ করে লিখেছেন কাব্যলক্ষী বা কলালক্ষী। বেলা ঠিক বুঝতে পেরেছে বলে মনে হয় না , অঞ্জন তাই একটু খোলাসা করার চেষ্টা করে । ইয়েটস এর জীবনীকার এর বরাত দিয়ে বলে , 'ইয়েটস এর জীবনে অনেক চমকপ্রদ নারী এসেছেন , ওঁরাই তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন , এই চমকপ্রদ নারীরা ছিলেন তাঁর সঞ্জীবনী সুধার মতো , কবিকে অনুপ্রেরণা যোগাতেন'। ইংরেজিতে এটা ছিল MUSE , সুজিতদার হাতে চমৎকার হয়ে নতুন শব্দ তৈরী হয় কাব্যলক্ষী।

তোমাকে আরেকটা ছোট্ট অনুবাদ শোনাই - ইয়েটস এর কবিতা He Wishes For The Clothes of Heaven শেষের দুটো লাইন ছিল এরকম ' I have spread my dreams under your feet ; Tread softly because you tread on my dreams' সুজিত অনুবাদ করেন , 'তাই আজ স্বপ্নটুকুই দিলাম পেতে তোমারই চরণ তলে ; আমি জানি, ধীর লয়ে আসবে তুমি আমারই স্বপ্নকে মাড়িয়ে শুধু আমার এবং আমারই র'বে বলে'।
বোর ফিল করছো না তো। তোমার শব্দ তো নেই ই , নিশ্বাসও শুনতে পাচ্ছি না। অন্য প্রান্ত থেকে বেলার এবার সরব উত্তর , 'আমি তো মগ্ন হয়ে শুনছি তোমার কথা। তুমি বলে চলো , বইয়ের পাতায় পাতায় আর কি পেয়েছো'। অদ্ভুত একটা ব্যাপার সুজিতের বই পড়ে জানতে পারি , মড গন নামে এক আইরিশ তরুণীর প্রেমে , অনুপ্রেরণায় ইয়েটস দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর কবিতা চর্চা করে গেছেন। আসলে প্রেমের যে সহজাত পরিণতি , সেটা হয় নি তাঁদের মধ্যে, কিন্তু এই কাব্যলক্ষী ছিলেন দীর্ঘ পাঁচ দশক কবির মানসপটে , কখনো গোচরে , বেশিরভাগ সময় অগোচরে। ইয়েটসের কবিতায় তিনি হয়ে উঠেন মিথের প্রতীক, আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতার প্রতীক, আবার একই সঙ্গে এক দূরবর্তী দেবীর প্রতিরূপ। ফলে বইটা পড়ে যেটা বুঝতে পারি ,ইয়েটসের কবিতায় নারীকে আমরা একদিকে খুব কাছের মানুষ হিসেবে পাই, আবার অন্যদিকে অপ্রাপ্য ও অলৌকিক রূপে দেখি।
বেশিক্ষণ কথা না বলে থাকাটা বেলার স্বভাবে নেই। এবার ও জানতে চায় , আচ্ছা , নারী তো বুঝলাম। নিকুন্জ কেন বইয়ের শিরোনামে।
অঞ্জন ভাবে , এবার একটু গুরুগম্ভীর আলোচনা না করলেই নয়। তাই বেশ সতর্কতা নিয়ে বলে , নারী ইয়েটসের কবিতায় কখনও প্রেমিকা, কখনও কাব্যলক্ষী , আবার কখনও জাতীয়বাদের প্রতীক; আর নিকুঞ্জ বলতে হয়তো সেই অন্তরঙ্গ আঙিনা, যেখানে কবি একা বসে নিজের ভাবনা সাজাতেন কখনও প্রকৃতির মধ্যে, কখনও স্মৃতির ভেতর, কখনও বা পুরনো বাড়ি ও টাওয়ারে। অঞ্জন বলে বটে , কিন্তু লেখকের এই ব্যাপারে নিজের একটা যুৎসই উদ্ধৃতি পেলে ভালো হতো। অঞ্জন আরেকটু সহজ করবার জন্য বলে , নারী আর নিকুঞ্জ তো আদতে একই , দুটোতেই কবি বসত করেছেন।

অঞ্জন ভুলেই যায় , বেলা ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়েছে। মনে পড়তেই জিজ্ঞেস না করে পারে না , তুমি কি আইরিশ লিটারারি সোসাইটি নিয়ে কিছু জানো ? বেলার পাল্টা প্রশ্ন , তুমি কি জানো , সেটা আগে শুনি। অঞ্জন সুজিত কুসুম পাল যা লিখেছেন , সেখান থেকে বেলাকে খানিকটা বলে । 'উনিশ শতকের শেষ দিকে Hermetic Order of the Golden Dawn, আর আয়ারল্যান্ডের Irish Literary Society উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস ও মড গনের চিন্তা, বিশ্বাস এবং শিল্পীসত্তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। ইউরোপ জুড়ে তখন এক ধরনের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক জাগরণ চলছিল । Hermetic Order of the Golden Dawn ছিল একটি গোপন আধ্যাত্মিক সংগঠন, যেখানে সদস্যরা জাদুবিদ্যা , পুনর্জন্ম , অতিপ্রাকৃত ইত্যাদি নিয়ে সাধনা করতেন। ইয়েটস এই সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং নিয়মিত আচার–অনুশীলনে অংশ নিতেন'।
অঞ্জন বেলাকে জিজ্ঞেস করে , এই বিষয়গুলো নিয়ে তুমি কী জানো। বেলা বলে , এই সংগঠন ইয়েটসকে শিখিয়েছিল দৃশ্যমান জগতের বাইরে আরও এক রহস্যময় জগৎ আছে, যেখানে প্রতীক ও আচার দিয়ে সত্যকে ধরা যায়। এর প্রভাব সরাসরি দেখা যায় তাঁর কবিতায়। ইয়েটসের বহু কবিতায় যে ঘূর্ণি, দেবদূত, ভবিষ্যদ্বাণী ও সময়চক্রের ভাবনা দেখা যায় তার পেছনে গোল্ডেন ডনের প্রতীকী দর্শন কাজ করেছে। The Second Coming–এর “gyre” বা A Vision–এর সময়চক্র ধারণা গোল্ডেন ডন থেকেই এসেছে । অঞ্জন বলে , মড গন ও এই সংগঠনে আকৃষ্ট ছিলেন। সুজিত গবেষণা করে দেখিয়েছেন , মড গনের দ্বিতীয়বার সন্তান ধারণের আকাংখা আগের মৃত সন্তানের আত্মা ফিরে পাবার এক অলৌকিক বিশ্বাস থেকেই জন্ম নেয়া। মড গন বিশ্বাস করেন, আগের মৃত সন্তান জর্জির কফিনের পাশে নবজাতক ইসল্ট গণের জন্মের মধ্য দিয়ে জর্জির আত্মাই ফিরে এসেছে।
এবার বেলা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অঞ্জনের কাছে জানতে চায় , সুজিত কুসুম পাল কি দ্য টাওয়ার কবিতার কথা বলেছেন। অঞ্জনের মনে পড়ে , আর বইটা ও হাতের কাছে ছিল , বলে , এটা নিয়ে তো উনি বেশ ভালো একটা আলাপ করেছেন , শিরোনামটি ও বেশ আকর্ষণ করবার মতো। বেলা জানতে চায় , যেমন ? পাশ্চাত্য ক্যানভাসে প্রাচ্যের পুনর্জন্ম। বেলার সপ্রতিভ উত্তর , বেশ চমৎকার তো। তো উনি কি লিখলেন ?
ভারতীয় পুরাণের প্রতিও ইয়েটস এর আগ্রহ ছিল। তাঁর কবিতায় ভারতীয় তান্ত্রিক পুরাণের প্রভাব রয়েছে। অঞ্জন বেলাকে জিজ্ঞেস করে , দ্য টাওয়ার নিয়ে তুমি কী জানো।
'আয়ারল্যান্ডের বালিলি নামের স্থানে অবস্থিত একটি পুরনো টাওয়ারে বসবাস করার সময় ইয়েটস এই কবিতাগুলো লেখেন। সুজিত কুসুম পাল ঠিকই লিখেছেন, ইয়েটসের কবিতায় এক আশ্চর্য বিষয় লক্ষ করা যায় পশ্চিমা কাঠামোর ভেতরে প্রাচ্যের দর্শনের পুনরাবির্ভাব। পুনর্জন্ম বা reincarnation–এর ধারণা মূলত প্রাচ্য দর্শনের সঙ্গে যুক্ত। হিন্দু ও বৌদ্ধ চিন্তায় জীবন কোনো একক রেখা নয়; বরং এটি এক চক্র, যেখানে জন্ম, মৃত্যু ও পুনর্জন্ম বারবার ফিরে আসে। ইয়েটস এই ধারণাকে সরাসরি গ্রহণ না করলেও, তাঁর কবিতায় এটি নতুন রূপে হাজির হয়।
তবে ইয়েটস প্রাচ্যের দর্শনকে অনুকরণ করেননি; বরং সেটিকে পশ্চিমা ইতিহাস, আইরিশ অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে মিশিয়ে এক নতুন শিল্পরূপ তৈরি করেছেন'।
এবার অঞ্জনের পালা - বেশ শক্ত ধারণা মনে হচ্ছে। আমি তো সাহিত্যের ছাত্র নই , তাই এই বিষয়গুলো আরো গভীরে বুঝতে পারলে ভালো হতো। তবে সুজিত রবীন্দ্রনাথ , মোহিনী চ্যাটার্জি এবং শ্রী পুরোহিত স্বামীর কথা লিখেছেন । এটা তো আমরা জানি ,১৯১২ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ইংরেজি অনুবাদ করা কবিতাগুচ্ছ Gitanjali ইয়েটসের হাতে আসে। ইয়েটস এই কবিতায় গভীরভাবে মুগ্ধ হন। তিনি শুধু কবিতাগুলো পড়েননি, বরং বইটির ভূমিকা লিখে দেন যা গীতাঞ্জলিকে পশ্চিমা পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে বড় ভূমিকা রাখে। বেলা এবার যোগ করে , মোহিনী চট্টোপাধ্যায় ছিলেন ইয়েটসের জীবনে সবচেয়ে প্রভাবশালী ভারতীয় চিন্তাবিদ। তিনি ছিলেন থিওসফিক্যাল সোসাইটির সদস্য এবং ভারতীয় দর্শনের একজন গভীর বক্তা। ইয়েটস তাঁর বক্তৃতা শুনে প্রথমবারের মতো পুনর্জন্ম ধারণার সঙ্গে পরিচিত হন।
সুজিত ও এই প্রসঙ্গে Sailing to Byzantium এর কথা উল্লেখ করেন। শ্রী পুরোহিত স্বামীর সঙ্গে ইয়েটসের সম্পর্ক নিয়ে সুজিত তেমন কিছু লিখেন নি। অঞ্জন বেলাকে জিজ্ঞেস করে , তোমার কি কিছু জানা আছে ? বেলা বলে, সেরকম বিশদ কিছু জানি না তবে পুরোহিত স্বামী ছিলেন একজন হিন্দু সন্ন্যাসী, যিনি দীর্ঘদিন ইউরোপে বসবাস করতেন। ইয়েটস তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন এবং একসঙ্গে কাজও করেন।
বেলার এবার তাড়া , অনেক সাহিত্য আড্ডা হলো , যেতে হবে মশাই। ওহো , তাই তো , অনেকক্ষন তোমাকে আটকে রেখেছি। পরে আবার অন্য কোনো দিন।

দুদিন পার হয়ে গেলো। আবার বেলার ফোন। সেদিন তো বইয়ের কিছু অংশ বাকি রয়ে গেলো। পুরো বইয়ে তোমার মুগ্ধতার জায়গা কোনটা , সেটা জানা হলো না। অঞ্জন নিজেই মুখ টিপে হাসে , ফোনের অন্য প্রান্ত থেকে বেলা যাতে বুঝতে না পারে। বেলাকে নিয়ে এই এক ব্যাপার , কোনো একটা ব্যাপারে ওর আগ্রহ ঢুকে গেলে ওটার পুরোটা না জেনে ছাড়বে না। অঞ্জন বুঝতে পারে , বইয়ের আদ্যোপান্ত না জেনে ও ছাড়ছে না। তাই কানে ফোনটা ধরে অঞ্জন বইটা হাতে নিয়ে আবার উল্টাতে শুরু করে । ওর মনে পড়ে যায় , সেই বিখ্যাত কবিতা ইস্টার ১৯১৬ নিয়ে সুজিত পুরো একটা চ্যাপ্টার লিখেছেন। বেলাকে বলতেই বেলা সেই কবিতার কয়েকটি চরণ গুনগুনিয়ে উঠে - Too long a sacrifice, Can make a stone of the heart., O when may it suffice? অঞ্জন ভেবে পায় না , এ কি ব্যাপার। বেলা ও কি অতিপ্রাকৃত হয়ে গেলো নাকি। না হলে সুজিত এর বইয়ে এই চরণগুলোর উদ্ধৃতি তো আছে , ইস্টার কবিতায় আশিটা লাইন আছে। ঠিক ধরে ধরে এই লাইন তিনটি কিভাবে বেলা বললো। বেলাকে এই কথা বলতেই বেলা এবার না খুঁচিয়ে ছাড়ে না - আরে মশাই , 'Great Men think alike ' অঞ্জন ও পাল্টা বলে ওঠে , তুমি কি তাহলে ম্যান এর কাতারে চলে আসলে । অঞ্জন ভাবে , এই কবিতাটি নিয়ে বেলার কাছ থেকে ওর মতামত শুনে নিলে মন্দ হয় না। বেলাকে জিজ্ঞেস করতেই বলে ওঠে , এই কবিতা আসলে আইরিশ বিদ্রোহে নিহত নেতাদের আত্মত্যাগ নিয়ে লেখা । কীভাবে শহীদেরা সাধারণ মানুষ থেকে ইতিহাসের প্রতীকে রূপান্তরিত হয়েছে , যাদের কারণে আইরিশ জাতির ইতিহাসে ঘটে গেছে এক গভীর ও স্থায়ী পরিবর্তন - ইয়েটস যেটিকে বলেছেন A terrible beauty is born.

অঞ্জন বলে , সুজিত কিন্তু এই বইয়ে একটা ভিন্নতর কাজ করেছেন। শুধু ইয়েটস এর কবিতার বিশ্লেষণে থেমে থাকেন নি , উনি আমাদের বাংলা কবিতার প্রাণপুরুষ শামসুর রাহমান এর 'তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা' কবিতার সাথে একটা তুলনামূলক আলোচনা করেছেন। ইস্টার ১৯১৬ কবিতায় আইরিশ বিপ্লব নিয়ে ইয়েটস এর দ্বিধা দ্বন্ধ ছিল , কিন্তু শামসুর রাহমান এর সেটা ছিল না। সুজিত বলেছেন , ব্রিটিশদের প্রতি ইয়েটস এর আপোষকামিতা প্রকাশ পেয়েছে যখন বললেন , they dreamed and are dead ...কিন্তু শামসুর রাহমান পাকিস্তান সরকারের প্রতি তার ক্ষিপ্ততা দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন - 'শহরের বুকে জলপাইয়ের রঙের ট্যাঙ্ক এলো, দানবের মত চিৎকার করতে করতে, তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা'। সুজিত এর বই থেকে জানতে পারি , ইয়েটস এর এই কবিতা এতো বিখ্যাত কিন্তু তাঁর কাব্যলক্ষী মড গন এটি পছন্দ করেন নি , বরং প্রত্যাখ্যান করেছেন।
অঞ্জন মনে মনে ভাবে , বেলাকে এই করে পুরো বইয়ের সিনোপসিস দেয়া হয়ে যাচ্ছে , বইটি নিয়ে ওর আগ্রহ কে স্পয়েল করার কোনো মানে হয় না। বেলা, তুমি ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়েছো , এই বইটা পড়ে দেখো , ভালো লাগবে। ইয়েটস নিয়ে তোমার ও বেশ পড়াশোনা , অন্তত কিছু কবিতা তো পড়েই এসছো , তাছাড়া ইয়েটস আর রবীন্দ্রনাথ নিয়ে সুজিত এর কিছু পর্যবেক্ষণ আছে , আমি বলবো বেশ নতুন , আগে কেউ এভাবে লিখেছেন কিনা জানি না। বেলা কৌতূহলী হয়ে ওঠে , যেমন?
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ডব্লিউ. বি. ইয়েটস দুজনেই আধুনিক যুগের মহান কবি, তাঁদের দুজনের প্রেরণার উৎসই ছিল সুজিত এর ভাষায় কাব্যলক্ষীরা । সুজিত দেখিয়েছেন , যে নারীকূল এই দুজন মহান কবির সান্নিধ্যে এসেছেন, আজীবন এই দুই কবির সাথে তাদের বন্ধুত্ব অটুট রয়ে গিয়েছিল । ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো কে নিয়ে রবীন্দ্রনাথের সম্পর্কের একটা নতুন বিষয় জানতে পাই , আর্জেন্টিনায় ওকাম্পোর বাড়িতে কবি যে চেয়ারে বসে কাব্য রচনা করতেন , সেই চেয়ার ওকাম্পো তাকে উপহার হিসেবে জাহাজে তুলে দিয়েছিলেন। ইয়েটসকে নিয়ে লিখতে গিয়ে সুজিত কুসুম পাল রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে ও বেশ গবেষণা করেছেন , বোঝা যায়। ফোনের অন্য প্রান্তে বেলা এবার সপ্রতিভ হয়ে ওঠে , আমার কিন্তু একটু ভিন্ন পর্যবেক্ষণ আছে। যেমন, রবীন্দ্রনাথের বেলায় নারী, যেমন কাদম্বরী দেবী বা ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো, গুরুত্বপূর্ণ হলে ও তারা কখনোই একমাত্র প্রেরণা হয়ে উঠেন নি। রবীন্দ্রনাথের প্রেরণা ছিল প্রকৃতি , মানবতা এবং ঈশ্বরচেতনা। তাঁর কবিতায় নারী সাধারণত প্রেমের সহযাত্রী , অন্তরঙ্গ সঙ্গী বা দূরবর্তী দেবী নন। অন্যদিকে ইয়েটস ছিলেন ভিন্নরকম। ইয়েটসের কাব্যলক্ষী ছিলেন প্রধানত একজন নারী মড গন। তিনি ইয়েটসের জীবনে ছিলেন অপ্রাপ্য প্রেমিকা, রাজনৈতিক কর্মী এবং আয়ারল্যান্ডের প্রতীক। ইয়েটসের কবিতায় মড গন ধীরে ধীরে বাস্তব নারী থেকে রূপান্তরিত হন দেবী, মিথ ও জাতির প্রতিমূর্তিতে। তাঁর কবিতায় কাব্যলক্ষী প্রায়ই দূরবর্তী কেউ , কঠোর ও আদর্শে দৃঢ় , হয়তো সেকারণেই সেই নারীর প্রতি আকর্ষণ যেমন গভীর, তেমনি বেদনাময়। আরও একটি মৌলিক পার্থক্য হলো, ইয়েটসের মিউজ তাঁকে টেনে নেয় সংঘাত, রাজনীতি ও ট্র্যাজেডির দিকে আর রবীন্দ্রনাথের মিউজ তাঁকে নিয়ে যায় সমন্বয়, শান্তি ও মানবিক পূর্ণতার দিকে।
বাহ্ , সুন্দর পর্যবেক্ষণ , অঞ্জন না বলে পারে না। সুজিত কুসুম পাল এর এই বইয়ের আরেক বিষয় লক্ষ্য করেছি , তিনি বইয়ের শেষে বেশ সুন্দর একটা এলবাম জুড়ে দিয়েছেন। তাতে ইয়েটস , মড গন এবং কবির বাড়ি , আরো কিছু কবিবন্ধুর ছবি রয়েছে।

আচ্ছা আজ আর নয়। এই বইয়ের সবই তোমাকে জানিয়ে দিলাম , বেলা। আমি চাই , তুমি ও বইটি পড়ো এবং তোমার পর্যবেক্ষণ জানাও। আমি গত দুই বছর ধরে বেড সাইড টেবিলে অন্য বইয়ের সাথে এই বইটি রেখেছি। শুরুতে বেশ জটিল মনে হতো কিন্তু রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন না, কঠিনেরে ভালবাসিলাম। আমিও কঠিন সেই ভালোবাসা থেকে প্রায়ই বইটি হাতে তুলে নিয়ে পড়তাম কিন্তু কিছুতেই পাঠ প্রতিক্রিয়া লিখে উঠতে পারছিলাম না। এবার সাহস করেই ভাবলাম , তোমার সাথে বইটি নিয়ে আলাপ করি আর দেখো , সেই আলাপেই বের হয়ে আসলো বইটি নিয়ে আমার যাবতীয় অনুভূতি।
বইটি পড়বার পর তোমার কেমন লেগেছে, জানিয়ো । অঞ্জনের কথা শুনতে শুনতে বেলা ভাবে , সুজিত এর 'ইয়েটসের কবিতায় নারী ও নিকুঞ্জ ' নিয়ে অঞ্জন বেশ মজেছে কিন্তু মুখে শুধু এটুকু বলে, জানাবো , এবার রাখি ।

মনীষ পাল লেখক ও অভিবাসন উপদেষ্টা

12/29/2025

কানাডা সরকারের একটা নতুন বিল সি ১২ নিয়ে বেশ তোলপাড় শুরু হয়েছে।
বিলটিতে কানাডায় এক বছরের বেশি সময় অবস্থান করার পর কেউ শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় আবেদন করবার সুযোগ নেই। এই বিল সংসদে পাশ হলেও সিনেটে এখনো পাশ হয় নি।
এদিকে আবার প্রতি সপ্তাহে ৪০০ জনকে কানাডা থেকে ডিপোর্ট বা বিতাড়ন করার কথা বলা হচ্ছে। বছরে কুড়ি হাজারের মতো। এই হিসেবে যে পরিমাণ শরণার্থী আবেদন এখনো সিস্টেমে রয়েছে সবাইকে বহিষ্কার করতে প্রায় ২৭ বছর লেগে যাবে ।
যাইহোক একটা মামলার কথা আলাপ করবার জন্য এই পোস্টের অবতারণা।
সিং বনাম কানাডার সাম্প্রতিক একটা ফেডারেল কেস। জগজিৎ সিং নামের একজন ভারতীয়ের রিমুভাল অর্ডার হয়েছিল ২০২৫ এর ১৩ই আগস্ট। সিং এই আদেশ স্থগিত চেয়ে ফেডারেল আদালতে আবেদন করে। এর আগে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট অফিসারের দেয়া আগস্টের পাচ তারিখের এক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লিভ এর আবেদন এবং বিচারিক পুনর্বিবেচনার (জুডিশিয়াল রিভিউ) জন্য সিং আবেদন করে রাখে। সিং জুডিশিয়াল রিভিউ এর আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রিমুভাল অর্ডার স্থগিত চেয়ে ফেডারেল আদালতে আবেদন করে।
কানাডা থেকে রিমুভাল পিছিয়ে দেওয়ার জন্য সিং ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তাকে অনুরোধ জানায় এবং এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তা সেই অনুরোধ অগ্রাহ্য করে ৫ ই আগস্ট তার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয় । সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগস্টের ১৩ তারিখ সিংয়ের কানাডা ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা ছিল।
পরে দুপক্ষের আবেদন শুনে ফেডারেল আদালত সিং এর পক্ষে স্থগিতাদেশ দিয়ে দেন।
সিং ২০২১ সালে ভিজিটর ভিসায় কানাডায় আসে এবং ভিসার মেয়াদ শেষে দেশে ফিরে না গিয়ে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয়ের আবেদন করে। ইতোমধ্যে ২০২৪ সালের নভেম্বরে সিং কানাডায় তার ভবিষ্যৎ স্ত্রীকে খুঁজে পায় এবং ২০২৫ এর জানুয়ারিতে তারা বিয়ে করে। এবার যথারীতি তার স্ত্রী বৈবাহিক সম্পর্কের সূত্রে স্পাউজাল স্পন্সর হিসেবে সিং এর স্থায়ী অভিবাসন বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্সির জন্য ইমিগ্রেশন অথরিটির কাছে আবেদন করে।
ফেডারেল আদালতে সিং এর যুক্তি ছিল, তার স্ত্রী এডিএইচডি বা মনোযোগ ঘাটতি ও অতিমনোযোগ বৈকল্য রোগে আক্রান্ত এবং সিং ছাড়া তার দেখভাল করবার কেউ নেই। আদালত এই যুক্তি মেনে নিয়ে সিং এর আবেদন অনুমোদন করেন এবং কানাডা থেকে সিং কে বের করে দেবার যে সিদ্ধান্ত ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ নিয়েছিল, আদালত সে সিদ্ধান্ত স্থগিত করে দেন।
এই মামলাটি নিয়ে লিখলাম এই কারণে, কানাডার বিচার বিভাগ সত্যিকার অর্থেই নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা। এখানে কর্তার ইচ্ছেয় কর্ম হওয়ার কোন সুযোগ নেই। সরকারের নির্বাহী বিভাগ অনেক সিদ্ধান্ত নিতে পারে কিন্তু বিচার বিভাগ আইনানুগ মনে না করলে সেসব সিদ্ধান্ত স্থগিত করে দিতে পারে। তবে সব কিছু নির্ভর করে আবেদনের মেরিট বা যোগ্যতার উপর। Immigration, Study and business consulting in Canada Climate Channel

12/24/2025

কথা নেই, বার্তা নেই, সরকার হুটহাট করে ইমিগ্রেশন পলিসি পরিবর্তন করে দেয়। এই যেমন ২০২১, ২০২২ এবং ২০২৩ সালে ও সরকার স্পষ্টভাবে বলেছিল, এখানে পড়তে আসো, তাহলে স্থায়ী অভিবাসনের রাস্তা খুলে যাবে কিন্তু আদতে কি তা হয়েছে। একগাদা টাকা খরচ করে স্টুডেন্টরা পড়তে এসেছে, পড়াশোনা শেষ করেছে, পোস্ট গ্রাজুয়েট ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে কাজ ও করেছে কিন্তু অধিকাংশ শিক্ষার্থী স্থায়ী হবার কোন রাস্তাই খুঁজে পাচ্ছে না । বরং এখন পোস্ট গ্রাজুয়েট ওয়ার্ক পারমিট পেতেও মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তার উপর নতুন নিয়ম চালু হয়েছে, পোস্ট গ্র‍্যাজুয়েট ওয়ার্ক পারমিট এর জন্য আবারো ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্ট দিতে হবে অথচ স্টাডি পারমিটের আগে ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্টের ফলাফল দেখিয়ে তবেই শিক্ষার্থীরা কানাডায় ঢুকতে পেরেছে ।
এইতো গত বছর ব্রাম্পটনে হাজার হাজার এরকম ওয়ার্ক পারমিটধারী শিক্ষার্থীরা সরকারের এসব খামখেয়ালি পলিসির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে এসেছিল। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ৩০ হাজারের ও বেশী শিক্ষার্থীর ভিসার মেয়াদ পার হয়ে যাচ্ছে এ বছর শেষ হবার সাথে সাথে। এদের মধ্যে ব্রাম্পটনের প্রতিবাদকারীদের অনেকেই রয়েছেন।

আমার কাছে অনেকেই এই ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার কারণে পরবর্তী করণীয় কি হতে পারে সে ব্যাপারে পরামর্শ করতে আসে কিন্তু সরকারের খামখেয়ালী ইমিগ্রেশন পলিসির কারণে আমি তাদেরকে তেমন কোনো আশার বাণী শোনাতে পারি না। অনেকেই নিরুপায় হয়ে শরণার্থী হিসেবে আবেদন করে বসে। যদিও ওই পথ জটিল এবং সময় সাপেক্ষ তো বটেই, তদুপরি অনিশ্চিত।
আসলে ইমিগ্রেশন নিয়ে এত যে অনিশ্চয়তা তার জন্য সরকারই দায়ী। যেমন ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৩৫০ হাজার অথচ ২০২৩ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ মিলিয়নের উপর। আর পোস্ট গ্রাজুয়েট ওয়ার্ক পারমিটের সংখ্যা বেড়েছে ২০১৫ সালে তেত্রিশ হাজার থেকে ২০২৩ সালে ২ লাখ ৪০ হাজার, যা আট বছরের মাথায় ৬০০ শতাংশের ও বেশি। অথচ সরকারের ইমিগ্রেশন বিভাগের জানা নেই, এ পর্যন্ত মেয়াদ উত্তীর্ণ ওয়ার্ক পারমিটধারীদের কতজন কানাডায় রয়ে গেছে।
ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট থেকে পাওয়া ২০২২ সালের এক হিসেবে দেখা গেছে, ওয়ার্ক পারমিটধারীদের মাত্র ১২ শতাংশ পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট হবার সুযোগ পেয়েছে। বাকিদের মধ্যে অনেকেই ভিজিটর ভিসায় স্থানান্তর করছে, অথবা ওয়ার্ক পারমিট এর মেয়াদ বাড়ানো যায় কিনা চেষ্টা করছে, বা আগে যেমন বলেছি উপায়ান্তর না দেখে শরণার্থী হিসেবে আবেদন করছে।
কানাডায় এসব অধিকাংশ শিক্ষার্থীর জীবন হয়ে উঠছে দুর্বিষহ । একদিকে পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট হবার কোন পথ খুঁজে পাচ্ছে না, অন্যদিকে বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয় , কাজের কোন সংস্থান নেই আবার সংস্থান হলেও মজুরির অবস্থা খুব বেশি ভালো নয়।

গত দশ বছরে সরকারের বেপরোয়া অভিবাসন নীতির কারণে স্থানীয়রাও অভিবাসন নিয়ে বিগড়ে গেছে। গত দশকের মাত্রাতিরিক্ত অস্থায়ী অভিবাসনের কারণে কানাডায় বছর দুয়েক আগেও আবাসন, স্বাস্থ্য সমস্যা প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছিল , যদিও অভিবাসন নিয়ে গত বছর সরকার লাগাম টানার কারণে এসব সমস্যা এখন আবার সহনীয় পর্যায়ে চলে আসছে। কিন্তু সরকার হারিয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের আস্থা, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে বাইরের দেশে পড়তে ইচ্ছুক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা আপাতত কানাডামুখো হতে দুবার ভাববে। সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে স্বপ্ন বেচে ছিল, পড়াশোনা পরবর্তীতে স্থায়ী অভিবাসনের সুযোগ মিলবে কিন্তু কেউ যদি প্রশ্ন করে, শেষ পর্যন্ত কত জনের ভাগ্যে স্বপ্নের সে সুযোগ ধরা দিয়েছে বা আগামীতে ধরা দেবে, সে উত্তর সরকারের জানা নেই ।
Climate Channel Immigration, Study and business consulting in Canada

12/20/2025

কানাডা সরকার বাংলাদেশ ভ্রমণের বিষয়ে আবারো সতর্কতা জারি করেছে। বাংলাদেশের পুরো মানচিত্র জুড়ে হলুদ রঙের সতর্কতা , মানে 'উচ্চমাত্রার সতর্কতা অবলম্বন করুন'। সাবধান করে বলেছে, কোন আগাম সতর্কতা ছাড়া পরিস্থিতি যে কোন সময় খারাপের দিকে যেতে পারে।
বাজারে অনেক বুদ্ধি পরামর্শ বেরোচ্ছে, কানাডা সরকার নিজেই সতর্কতা জারি করছে, তাই এসব এভিডেন্স দেখিয়ে শরণার্থী হিসেবে আবেদন করলে কাজ হয়ে যাবে। কিন্তু বিষয়গুলো এত সোজা নয়। আপনাকে দেখাতে হবে, ঝুঁকিটি আপনার জন্য ব্যক্তিগত ও নির্দিষ্ট কিনা, এবং রাষ্ট্র আপনাকে সুরক্ষা দিতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক।
তবে প্রথম আলো বা ডেইলি স্টার এর উপর হামলা হয়েছে, সেটি তো সারা বিশ্বের গণমাধ্যম প্রচার করে দিয়েছে। এখন হামলার শিকার পত্রিকা গুলোর কোন সাংবাদিক বা কর্মী কানাডায় এসে পড়লে শরণার্থী হিসেবে আবেদন করতে পারে। কেননা এক্ষেত্রে ঝুঁকিটি একেবারে তাদের উপর ব্যক্তিগত ও নির্দিষ্ট। ব্যালেন্স অফ প্রোবাবিলিটিজ বলে একটা আইনি ব্যাপার আছে, যেটা দিয়ে আবেদনকারী প্রমাণ করতে পারে, রাষ্ট্র তাদেরকে অর্থবহ সুরক্ষা দিতে পারছে না অথবা অনিচ্ছুক। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সুরক্ষা কার্যকর থাকতে হবে। কিতাবে আছে, কাজে নেই এই টাইপের হলে হবে না।
একই ধরনের ঘটনায় পুলিশের সাড়া ও কার্যকারিতা ছিল কিনা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা, দুর্নীতি বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের উপস্থিতি, রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা চাইতে গেলে তা বিপজ্জনক হয়ে উঠবে কি না এসব বিষয় সামনে চলে আসবে।

যাই হোক, প্রথম আলোর কথায় আসি। শত ব্যস্ততার মধ্যেও দেশের খবরের জন্য প্রথম আলোয় প্রতিদিন চোখ বুলিয়ে নিতাম। আসলে সংবাদমাধ্যমের নিরপেক্ষতা বলে কিছু নেই। যেমন কানাডার সিবিসি, টরন্টো স্টার এর মতো লিবারেল মাউথপিসের উপর একটু চোখ বুলিয়ে নেন। প্রথম আলোর কনটেন্ট ট্রিটমেন্ট পুরোটাই রাজনৈতিক। এটাই স্বাভাবিক । যেমন আওয়ামী আমলে তারা অনেক ব্যালেন্স করে খবর বা মতামত পরিবেশন করত। সরকার প্রধানের রোষানলে ছিল, মানে তিনি বকাঝকা করতেন, আগুন দেয়ার জন্য কাউকে লেলিয়ে দিয়েছেন বলে শুনিনি অর্থাৎ এখনকার মতো মবের অনল বাদ দিয়ে রোষে ছিল। হাসিনা যাবার পর ওদের মতামত শিরোনামে লেখাগুলোয় চোখ বুলাতাম। খবর বা মতামত কোনটাতেই সরকারকে খুব একটা ঘাটায় না। সংগত কারণ ও আছে। দেশে আইনের শাসনের কি হাল সেটা পত্রিকাওলাদের চেয়ে ভালো কে জানে।

রেজিম চেঞ্জে প্রথম আলোর ভুমিকা খাটো করে দেখছি না। কারণ ইউ এস এইড এর ২৯ মিলিয়ন ইউএস ডলার এর হালুয়া রুটি পরোক্ষভাবে হলেও প্রথম আলোর ঘরে কিছুটা এসেছে। যেমন সুশাসনের নামে গোলটেবিল বৈঠক, বা তরুণ প্রজন্মকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন করা বা মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার বা অন্য কোনভাবে ইউ এস এইড এর পোষ্য র‍্যাপার কে প্ল্যাটফর্ম পাইয়ে দেওয়া সবকিছুতে প্রথম আলো কোন না কোনভাবে ভূমিকা তো রেখেছেই । তবে মেলাতে পারছি না, প্রথম আলো এখনকার রেজিমের কেন চক্ষুশূল হল। খতিবের কাছে মাফ তো চেয়ে নিয়েছিল অনেক আগেই। তাছাড়া তাদের তালিকাভুক্ত নিয়মিত কলামিস্টদের মধ্যে তো আলী রিয়াজ, আসিফ নজরুল, জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন থেকে শুরু করে অনেকেই আছেন। নাকি সাম্প্রতিক তারেক রহমানের বাংলাদেশে ফিরে আসা নিয়ে বেশি উচ্চসিত ট্রিটমেন্টের কারণে মবের বদনজরে পড়ে গেছে?

যাই হোক আমি ব্যক্তিগতভাবে আজকে অনেকক্ষণ প্রথম আলো পড়তে না পেরে খুব মিস করেছি। তাদের খবরের ট্রিটমেন্ট, হাই ভ্যালু ব্র্যান্ডিং এর জন্য প্রতিনিয়ত সূক্ষ্ম পরিবর্তন আমার খুব ভালো লাগে। এই লেখাটা যখন লিখছি, তখন দেখলাম খুব শীঘ্রই ওদের অনলাইন এবং প্রিন্ট পত্রিকার প্রকাশ শুরু হবে বলে জানিয়েছে।

Photos from Immigration, Study and business consulting in Canada's post 09/17/2025

ইফাত আর সামির সাথে চমৎকার আড্ডা দিয়েছি। ওরা দুজন বুয়েট থেকে পড়তে এসেছিল কানাডায়, আজ দুজনেই এনভায়রনমেন্ট এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছে। ওদের বাংলাদেশ থেকে কানাডা যাত্রা এবং সেই সাথে অভিবাসী জীবনের গল্প শুনতে চোখ রাখুন Climate Channel এর পর্দায়

08/09/2025

Celebrating my 3rd year on Facebook. Thank you for your continuing support. I could never have made it without you. 🙏🤗🎉

08/09/2025

WorkLife Canada Immigration Services wishes the 8th Toronto Multicultural Film Festival 2025 a grand success. We are excited to be part of the Toronto Film Forum, supporting their signature event.

Our commitment to helping your loved ones immigrate to Canada is steadfast and unwavering.Helping newcomers successfully settle in Canada is a mission we take to heart.

We look forward to contributing to the success of this event and connecting with attendees. — Manish Paul

#কানাডা সরকার আশ্রয় প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত এবং কার্যকর করতে নতুন কিছু প্রস্তাবনা নিয়ে এসেছে। এর লক্ষ্য হলো আবেদন প্রক্রিয়াকে সুসংহত করা এবং কিছু ক্ষেত্রে আশ্রয় আবেদনের অপব্যবহার রোধ করা। এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো কী এবং এর প্রভাব কী হতে পারে, তা বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন ক্লাইমেট চ্যানেলে ।
#কানাডিয়ান #ইমিগ্রেশন কনসালটেন্ট মনীষ পাল বিস্তারিত জানাচ্ছেন এই প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো সম্পর্কে।
#canadianvisa
#refugeeclaim 
#bangladeshi 06/21/2025

কানাডা সরকার আশ্রয় প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত এবং কার্যকর করতে নতুন কিছু প্রস্তাবনা নিয়ে এসেছে। এর লক্ষ্য হলো আবেদন প্রক্রিয়াকে সুসংহত করা এবং কিছু ক্ষেত্রে আশ্রয় আবেদনের অপব্যবহার রোধ করা। এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো কী এবং এর প্রভাব কী হতে পারে, তা বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন ক্লাইমেট চ্যানেলে ।
কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন কনসালটেন্ট মনীষ পাল বিস্তারিত জানাচ্ছেন এই প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো সম্পর্কে।

#কানাডা সরকার আশ্রয় প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত এবং কার্যকর করতে নতুন কিছু প্রস্তাবনা নিয়ে এসেছে। এর লক্ষ্য হলো আবেদন প্রক্রিয়াকে সুসংহত করা এবং কিছু ক্ষেত্রে আশ্রয় আবেদনের অপব্যবহার রোধ করা। এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো কী এবং এর প্রভাব কী হতে পারে, তা বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন ক্লাইমেট চ্যানেলে । #কানাডিয়ান #ইমিগ্রেশন কনসালটেন্ট মনীষ পাল বিস্তারিত জানাচ্ছেন এই প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো সম্পর্কে। #canadianvisa #refugeeclaim #bangladeshi

Want your school to be the top-listed School/college in Toronto?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Address


462 Birchmount Road
Toronto, ON
04070