02/27/2024
কানাডায় আসার আগে চিন্তা করুন!
Before going to Canada, it is important to carefully consider and plan your trip.
হেডিংটা দেখেই তো আপনাদের কেউ কেউ আমাকে গালি দেওয়ার জন্য রেডি হয়ে যাবেন। যে যাই বলেন কাউকে সত্যি কথা বলা বা পরামর্শ দেওয়া একটা নৈতিক দায়িত্ব। একটা পরামর্শে বা কোনো সঠিক তথ্যে যদি কারোর জীবনের গতিটা সঠিক পথে যায় সেটাও একটা বড়ো কাজ।
হ্যাঁ, আমি কেনো বললাম কানাডায় আসার আগে চিন্তা-ভাবনায় গভীরভাবে নিমজ্জিত হন? আপনার জন্য আসাটা কতোটা নিরাপদ ও যুক্তিসঙ্গত!
আপনি যদি সঠিকভাবে সিস্টেম মতো আসেন তাহলে ঠিক আছে। সোজা কথায় যেটা বলতে চাচ্ছি সেটা হলো ইমিগ্রেশনের সব requirements মেনে আবেদন করে তারপর আপনি কানাডায় আসার ভিসা পেয়েছেন। সেটা ঠিক আছে। এ স্ট্যাটাস নিয়ে আসার পরও কিন্তু প্রথম কয়েক বছর আপনাকে যারপরনাই struggling করতে হবে দাঁড়ানোর জন্য। তারপরেও আপনি কষ্ট করলে একদিন আপনি কিছু করতে পারবেন। কারণ এই স্ট্যাটাস নিয়ে যারা আসেন তারা মোটামুটি সবাই এডুকেটেড।
আপনি যদি দেশ থেকে কানাডার কোম্পানিতে একটা জব অফার নিয়ে আসেন তাহলেও ঠিক আছে। যেমন অনেক ইন্ডিয়ান আইটি প্রফেশনালরা আসতেছেন। তবে বর্তমানে অন্টারিতে এই ক্যাটাগরির মানুষের PR এর জন্য কিন্তু এক প্রকার যুদ্ধে নামতে হচ্ছে। তাই আসার আগে সেটাও মাথায় রাখতে হবে। অন্যান্য প্রভিন্সও PR অর্জনের ক্ষেত্রে আগের মতো সহজ থাকছে না। আরেকটা কথা, জব অফারের মাধ্যমে ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে আসাটা কিন্তু সবার জন্য সহজ না।
এখন আসা যাক ভিজিট ভিসায়। যদি আপনি শুধুমাত্র বেড়াতে আসেন তাহলে ঠিক আছে। এখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্যে দৃশ্যায়নে আপনি আকৃষ্ট হবেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
যদি এসে asylum seek করে তখন আপনাকে ভাবতে হবে। অনেকেই এসে ওয়ার্ক পারমিটের চেষ্টা করছেন বা কোনো সিস্টেমে সেটা পাচ্ছেন তাতেও কিন্তু জীবনের ভোগান্তি কম হচ্ছে না।
Asylum seek করছেন যারা বর্তমানে টরন্টোতে আছেন এমন অনেকেই কিন্তু মুখ খুলেছেন। তারা ভালো নেই। যে কথা শুনে এসেছেন সেসব কাজে আসছে না। শোনা গিয়েছিল সবকিছুই সহজে হবে।
এখন আপনি হলে স্বপ্ন পিয়াসী। কানাডা আপনার ড্রিম ল্যান্ড। সেই ল্যান্ডে যদি সবকিছু এতো সহজে হয় তাহলে দেশে এতো কষ্ট করতে যাবেন কেনো তাই না? কথাটা তো তাই। কিন্তু এসব কথায় শতভাগ বিশ্বাস করে কোটি কোটি খরচ করে টরন্টোয় পৌঁছে যাবেন তারপর কী হবে?
এমন করেছেন যারা বা যারা সাহায্য করছেন তারা কিন্তু অনেকেই বলছেন আমরা থাকার অনুমতি পাচ্ছি। ওয়ার্ক পারমিট পাচ্ছি। PR পাব আরো অনেক কিছু একেবারেই পানির মতো সহজ হচ্ছে কয়েক মাসের মধ্যেই।
কোনটা আপনি বিশ্বাস করবেন?
যেটা চরম বাস্তবতা এভাবে এসে জীবনের মূল্যবান সময় কালের স্রোতে ভাসিয়ে দেওয়া ছাড়া কিছুই হচ্ছে না। কতো কিছুই আপনার জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে শুধু একবার চোখ বন্ধ করে ভেবে নেন। যা আর ফিরে পাবেন না।
তারপর কোথায় আপনাদের চাকরি? কীভাবে চলবেন বছরের পর বছর? অনেকেই না খেয়ে থাকছেন এমন কথা মিডিয়ায় পর্যন্ত বলেছেন। তাহলে?
যাচ্ছেন ফুড ব্যাংকে। টরন্টোতে সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ হয়েছে এই ফুড ব্যাংকে মানুষের ভিড়ে। সেখানে বতর্মানে তেমন কোনো ফুড থাকছে না। ডোনেটের পরিমাণ কমে গেছে। আর ফুড ব্যাংকে কী ফুড পাওয়া যায়? শুধুমাত্র ড্রাই ফুড যা গলা দিয়ে নামানো যায় না। এসব কতো দিন একাধারে খাওয়া যায় বলুন?
যাই হোক আপনার জীবন আপনার সিদ্ধান্ত। অনেকেই নিজেদের স্বার্থের জন্য আপনাদের প্রলোভন দেখাবে। কিন্তু কিছু মানুষ থাকবে সব সময়ই আপনাদের ভালো চাইবে।
আল্লাহ আপনাদের সুস্থ রাখুন।
#কাজী হালিমা আফরীন
টরন্টো, কানাডা।