05/04/2026
#ট্রেজারি স্টক কী? #
ট্রেজারি স্টক হলো সেই শেয়ার, যা কোম্পানি আগে বাজারে ইস্যু করেছিল, পরে আবার নিজেই কিনে নিয়েছে। অর্থাৎ শেয়ারগুলো একসময় বিনিয়োগকারীদের হাতে ছিল, কিন্তু পরে কোম্পানি সেগুলো বাজার থেকে কিনে নিজের কাছে রেখে দিয়েছে। এই শেয়ারগুলোকে ট্রেজারি স্টক বলা হয়।
=> এখন খুব সহজ একটি উদাহরণ দেখি। ধরুন, একটি কোম্পানি মোট ১০,০০০টি শেয়ার ইস্যু করেছে। পরে কোম্পানি বাজার থেকে ২,০০০টি শেয়ার কিনে নিল। তাহলে ২,০০০টি হবে ট্রেজারি স্টক, আর বাজারে বাস্তবে চালু থাকবে ৮,০০০টি শেয়ার। অর্থাৎ, কোম্পানি শেয়ার কিনে নেওয়ার পর বাজারে থাকা শেয়ারের সংখ্যা কমে যায়।
=> কোম্পানি কেন নিজের শেয়ার কিনে? এর কয়েকটি সাধারণ কারণ আছে। প্রথমত, কোম্পানির হাতে অতিরিক্ত নগদ টাকা থাকতে পারে। তখন তারা চাইলে সেই টাকা দিয়ে শেয়ারহোল্ডারদের পরোক্ষভাবে মূল্য ফেরত দিতে পারে। দ্বিতীয়ত, কোম্পানি মনে করতে পারে যে তাদের শেয়ারের বর্তমান বাজারদাম কম। তাই তারা মনে করে এখন শেয়ার কিনে রাখা ভালো সিদ্ধান্ত। তৃতীয়ত, শেয়ারের সংখ্যা কমে গেলে প্রতি শেয়ারের আয় বা EPS বাড়তে পারে। চতুর্থত, ভবিষ্যতে কর্মচারীদের শেয়ার দেওয়ার জন্য বা অন্য করপোরেট প্রয়োজনে এই শেয়ারগুলো ব্যবহার করা হতে পারে।
=> এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ট্রেজারি স্টক কোনো asset না। অনেকেই এখানে ভুল করে। কোম্পানি নিজের শেয়ার কিনেছে মানেই নতুন কোনো সম্পদ তৈরি হয়নি। তাই accounting-এ treasury stock কে asset হিসেবে দেখানো হয় না। বরং এটি equity কমায়। একে contra equity বলা হয়।
=> চলুন এটা উদাহরণ দিয়ে বুঝি। ধরুন, কোম্পানি ১,০০০টি শেয়ার প্রতি শেয়ার ১২ টাকায় কিনেছে। তাহলে মোট খরচ হলো ১২,০০০ ডলার। এই ক্ষেত্রে cash ১২,০০০ টাকা কমবে। একই সঙ্গে treasury stock ১২,০০০ টাকা
হিসেবে রেকর্ড হবে। এর মানে হলো কোম্পানির মোট equity কমে গেল।
আরও সহজভাবে বললে, কোম্পানি যখন treasury stock কিনে, তখন তিনটি জিনিস হয়। cash কমে যায়। equity কমে যায়। আর outstanding shares কমে যায়।
এখন outstanding shares কী? outstanding shares হলো সেই শেয়ার, যেগুলো বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের হাতে আছে। ট্রেজারি স্টক outstanding shares এর মধ্যে ধরা হয় না। এই কারণেই treasury stock খুব গুরুত্বপূর্ণ।
=> এবার এর প্রভাব সহজভাবে বুঝি।
EPS এর পূর্ণরূপ হলো Earnings Per Share। অর্থাৎ, কোম্পানির মোট লাভকে বাজারে থাকা মোট outstanding shares দিয়ে ভাগ করলে প্রতি শেয়ারের জন্য কত আয় পড়ছে, সেটাই EPS। ধরুন, একটি কোম্পানির net income হলো ১০,০০,০০০ টাকা। আর বাজারে outstanding shares আছে ৫,০০,০০০টি। তাহলে EPS হবে:
১০,০০,০০০ ÷ ৫,০০,০০০ = ২ টাকা
অর্থাৎ, প্রতি শেয়ারের বিপরীতে আয় হচ্ছে ২ টাকা।
এখন ধরুন, কোম্পানি বাজার থেকে কিছু শেয়ার কিনে নিল। ফলে outstanding shares কমে ৪,০০,০০০টি হয়ে গেল। কিন্তু কোম্পানির net income এখনও আগের মতোই ১০,০০,০০০ টাকা আছে। এখন EPS হবে:
১০,০০,০০০ ÷ ৪,০০,০০০ = ২.৫ টাকা
এখানে লক্ষ্য করো, কোম্পানির মোট লাভ একটুও বাড়েনি। শুধু বাজারে থাকা শেয়ারের সংখ্যা কমেছে। আর সেই কারণেই প্রতি শেয়ারের আয়, অর্থাৎ EPS, ২ টাকা থেকে ২.৫ টাকা হয়ে গেছে। এই জন্য শুধু EPS বেড়েছে দেখলেই ধরে নেওয়া যাবে না যে কোম্পানির ব্যবসা খুব ভালো করেছে। অনেক সময় EPS বাড়ে শুধু share buyback এর কারণে।
=> এবার effect সহজভাবে বুঝি।
ধরুন, একটি কোম্পানির মোট outstanding shares ছিল ১০,০০০টি। আপনার কাছে ছিল ১,০০০টি শেয়ার। তাহলে কোম্পানিতে আপনার মালিকানা ছিল:
১,০০০ ÷ ১০,০০০ = ১০%
এখন ধরুন, কোম্পানি বাজার থেকে ২,০০০টি শেয়ার কিনে নিল। এই শেয়ারগুলো treasury stock হয়ে গেল। ফলে বাজারে থাকা outstanding shares কমে দাঁড়াল ৮,০০০টি।
কিন্তু খেয়াল করুন, আপনার হাতে এখনও আগের মতোই ১,০০০টি শেয়ার আছে। আপনি নতুন কোনো শেয়ার কেনেননি। তারপরও এখন আপনার মালিকানা হবে:
১,০০০ ÷ ৮,০০০ = ১২.৫%
অর্থাৎ, আপনার শেয়ারের সংখ্যা একই আছে, কিন্তু মোট outstanding shares কমে যাওয়ার কারণে কোম্পানিতে আপনার অংশ বেড়ে গেছে।
এই কারণেই treasury stock অনেক সময় existing shareholders-এর ownership percentage বাড়িয়ে দেয়।
=> আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, treasury stock পরে company আবার বিক্রি করতে পারে। যদি company treasury stock বেশি দামে reissue করে, তাহলে সেই বাড়তি অংশ income statement এ profit হিসেবে যায় না। আবার কম দামে reissue করলেও সেটি সাধারণ business loss হিসেবে ধরা হয় না। treasury stock transaction সাধারণত equity section-এর মধ্যেই adjust করা হয়।
=> তাহলে বিনিয়োগকারীর দৃষ্টিতে treasury stock ভালো না খারাপ? উত্তর হলো, সবসময় একরকম না। যদি কোম্পানি সত্যিই undervalued অবস্থায় শেয়ার কিনে, অতিরিক্ত cash সঠিকভাবে ব্যবহার করে, এবং buyback এর পরেও business strong থাকে, তাহলে এটি ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে। কিন্তু যদি শুধু EPS সুন্দর দেখানোর জন্য buyback করা হয়, বা debt নিয়ে buyback করা হয়, তাহলে সেটি ঝুঁকিপূর্ণও হতে পারে।
=> সবকিছু এক লাইনে বললে, treasury stock হলো কোম্পানির নিজের repurchased share। এটি asset না, equity কমায়, outstanding shares কমায়, EPS ও ownership percentage বাড়াতে পারে।
MD MAHIRUR RAHAMAN
BBA (Accounting)
Instractor - আত্মবিশ্বাস পাঠশালা
01/04/2026
14/03/2026
09/01/2026