18/05/2026
প্লিজ, নিজেকে একজন পরীক্ষার্থীর জায়গায় বসিয়ে একবার ভাবুন।
ধরুন, উচ্চতর গণিত পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আপনি সৃজনশীল অংশের উত্তর লেখা শুরু করেছেন। প্রথম প্রশ্নের (২-ক) অংকটি খুব ভালোভাবে কমন পড়েছে- মাত্র ২ মিনিটেই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উত্তর করে ফেললেন।
এরপর এলো ২-খ, এই নিয়মের অংক প্র্যাকটিস আছে। কিন্তু পরীক্ষায় আসা অংকটির লেভেল একটু বেশি কঠিন। ধাপে ধাপে সমাধান করতে গিয়ে বেশ সময় লেগে গেল, অনেক পরিশ্রমও করতে হলো। শেষ পর্যন্ত গিয়ে দেখলেন ডান পাশের সঙ্গে মিলছে না! আপনার উত্তর এসেছে 1:4, অথচ প্রশ্নে দেওয়া আছে 1:2। আপনি কিভাবে নিশ্চিত হবেন যে, আপনার করা সমাধানটা ঠিক আছে!
এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষার হলে আপনার মানসিক অবস্থা কী হবে, একবার ভেবে দেখুন। আপনি বারবার হিসাব মিলিয়ে দেখছেন, কিন্তু কোথায় ভুল হয়েছে বুঝতে পারছেন না। একদিকে সময় চলে যাচ্ছে, ৩০ মিনিটে উত্তর করতে পেরেছেন মাত্র ২ নম্বরের। স্বাভাবিকভাবেই মনে দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা আর আত্মবিশ্বাসে টান পড়বে।
মনে রাখতে হবে- এটি গণিত পরীক্ষা। এখানে একবার ঘাবড়ে গেলে পরের সহজ ও পারা অংকগুলোতেও ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। মাথা ঠান্ডা রাখা তখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
দুঃখজনকভাবে, গতকাল ঢাকা বোর্ডের এসএসসি উচ্চতর গণিত পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন পরিস্থিতি বারবার ঘটেছে। একদিকে ছিল অনেক প্রশ্নের ঘুরানো-প্যাঁচানো উপস্থাপন, অন্যদিকে বিভিন্ন জায়গায় ভুল ও অসঙ্গতি। এমন অভিজ্ঞতা কোনো পরীক্ষার্থীর জন্যই কাম্য হতে পারে না। পরীক্ষার প্রশ্ন এমন হওয়া উচিত, যা শিক্ষার্থীর জ্ঞান ও দক্ষতা যাচাই করবে- অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ তৈরি করবে না।
Copy Post