01/04/2026
জামিয়া ইমাম বুখারী
মাদরাসা ও এতিমখানা
01/04/2026
রমজান শুধু এক মাসের ইবাদত নয়, বরং সারা বছরের জন্য একটি প্রশিক্ষণ।
এই মাসে আমরা রোজা রেখেছি, কিয়ামুল লাইল করেছি, কুরআন তেলাওয়াত করেছি, তওবা-ইস্তেগফার করেছি এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করেছি। এখন রমজান শেষ হওয়ার পর আমাদের দায়িত্ব হলো—এই আমলগুলোকে সারা বছর জীবিত রাখা।
রমজানের পর আমাদের করণীয়-
১. নফল রোজার অভ্যাস বজায় রাখা
প্রতি সপ্তাহে সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখা।
প্রতি চন্দ্র মাসের আইয়ামে বীয (১৩, ১৪, ১৫ তারিখ) রোজা রাখা।
সুযোগ হলে অন্যান্য নফল রোজাও রাখা।
২. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায় করা
পুরুষরা মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় করবে।
নারীরা ঘরের নির্জন স্থানে আওয়াল ওয়াক্তে নামাজ আদায় করবে।
৩. তাহাজ্জুদের প্রতি যত্নশীল হওয়া
রাতের শেষ অংশে অন্তত কিছ হলেও নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়ার চেষ্টা করা।
৪. কুরআনে কারীমের সাথে স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলা
প্রতিদিন নিয়মিত কুরআন তেলাওয়াত করা।
সম্ভব হলে অর্থ বুঝে পড়া এবং জীবনে তা আমল করার চেষ্টা করা।
৫. জিকির-আজকার ও তাসবি-তাহলিল চালু রাখা
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে তাসবি, তাহলিল, দরুদ শরীফ ও অন্যান্য ওযিফা আদায় করা।
৬. তওবা ও ইস্তেগফারের প্রতি গুরুত্ব বাড়ানো
নিয়মিত বেশি বেশি ইস্তেগফার পড়া।
কোনো ভুল হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া।
৭. গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার জন্য সতর্ক থাকা
চোখ, জিহ্বা, কান ও অন্তরকে হারাম থেকে রক্ষা করা।
তাকওয়া ও আল্লাহভীতি সবসময় অন্তরে জীবিত রাখা।
উপসংহার:
রমজান আমাদেরকে শিখিয়েছে—কিভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে যেতে হয়, কিভাবে গুনাহ ছেড়ে দিতে হয়, কিভাবে কুরআনের সাথে জীবন গড়তে হয়।
যদি আমরা রমজানের এই শিক্ষা সারা বছর ধরে রাখতে পারি, তাহলে ইনশাআল্লাহ আমাদের জীবন বদলে যাবে এবং রমজানের প্রশিক্ষণ সফল হবে।
আহবানে -
মুফতি ওয়াহিদুল আলম
---
🌙 শবে বরাতের আমলের চার্ট
🕯 মাগরিবের নামাজের পর
৬ রাকাত নফল নামাজ আওয়াবীন আদায় করুন।
🌃 ইশার নামাজের পর
নফলের নিয়তে যেকোনো সূরা দিয়ে দুই রাকাত করে ৮ রাকাত নফল নামাজ আদায় করুন।
অন্তত ৩০ মিনিট কুরআন তিলাওয়াত করুন।
১০০ বার করে পাঠ করুন—
সুবহানাল্লাহ
আলহামদুলিল্লাহ
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ আল্লাহু আকবার
এবং ১০০ বার ছোট বা বড় যেকোনো দরূদ শরীফ।
ঈমান নবায়নের উদ্দেশ্যে অর্থ অনুধাবন করে কালিমায়ে তাইয়্যেবা, কালিমায়ে শাহাদাত, ঈমানের মুজমাল ও ঈমানের মুফাসসাল পাঠ করুন।
বিগত জীবনের গুনাহ মাফ এবং ভবিষ্যতে গুনাহ না করার দৃঢ় অঙ্গীকারের উদ্দেশ্যে খাঁটি তওবা ও ইস্তিগফার করুনঃ
استغفر الله ربي من كل ذنب وأتوب إليه
(আস্তাগফিরুল্লাহা রাব্বি মিন কুল্লি জাম্বিওঁ ওয়া আতুবু ইলাইহি)
এরপর ভিক্ষুকের ন্যায় বিনীতভাবে দীর্ঘ সময় ধরে নিজের, পরিবারের এবং সমগ্র উম্মাহর জন্য আল্লাহ তাআলার দরবারে কান্নাভেজা দোয়া করুন।
---
🌌 রাতের মধ্যভাগ (আনুমানিক ১২টা)
গুনাহ মাফের নিয়তে দুই রাকাত করে ৪ রাকাত নফল নামাজ আদায় করুন।
খাঁটি তওবা ও ইস্তিগফার করুন।
ছোট বা বড় যেকোনো দরূদ শরীফ পাঠ করুন।
অতঃপর বিনীতভাবে আল্লাহ তাআলার নিকট দোয়া করুন।
এরপর প্রয়োজনে দুই–তিন ঘণ্টা বিশ্রাম নিতে পারেন।
---
🌠 রাতের শেষ ভাগ (আনুমানিক ৪.০০–৪.৩০টা)
দুই রাকাত করে ৮ রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করুন।
বিগত গুনাহ মাফ এবং ভবিষ্যতে গুনাহ পরিত্যাগের নিয়তে খাঁটি তওবা ও ইস্তিগফার করুন।
ছোট বা বড় যেকোনো দরূদ শরীফ পাঠ করুন।
অতঃপর কান্নাভেজা দোয়ার মাধ্যমে রাতের নফল ইবাদত সমাপ্ত করুন।
সুবহে সাদেকের আগে সাহরি খেয়ে নিন।
পুরুষগণ ফজর নামাজ মসজিদে জামাতে এবং নারীগণ নিজ নিজ ঘরে আদায় করবেন।
---
🌞 পরদিন (১৫ শা‘বান ১৪৪৭ হিজরি)
নফল রোজা রাখুন। পাশাপাশি সাপ্তাহিক সুন্নত রোজা হিসেবে সোমবার ও বৃহস্পতিবারও রোজা রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
---
❌ যা করা মোটেই উচিত নয়
আতশবাজি ও উৎসবমুখর আয়োজন করা
হালুয়া-রুটি বাধ্যতামূলক মনে করা
নির্দিষ্ট সংখ্যক নামাজ বা নির্দিষ্ট সূরা আবশ্যক মনে করা
কবরস্থানে গিয়ে শরঈ সীমালঙ্ঘন করা
---
বিশেষ দ্রষ্টব্য:
নিরবে, একাকী এবং ইখলাসের সাথে ইবাদত করা উত্তম। সকল প্রকার নফল ইবাদত ঘরে আদায় করা অধিক ফযিলতপূর্ণ।
তবে হক্কানী আলেমদের সঙ্গে জিকির-আজকার, তওবা-ইস্তিগফার ও দোয়া-মোনাজাতে অংশগ্রহণের জন্য মসজিদে/মাহফিলে উপস্থিত হওয়া যেতে পারে।
রাত্রে এবাদাত বন্দেগি করতে গিয়ে যদি ফজরের জামাত বা ফজরের নামাজ ছুটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে এশার নামাজের পর দু চার রাকাত নফল নামাজ আদায় করুন, রাতে ঘুমিয়ে থাকুন আর ফজরের নামাজ সময় মত আদায় করুন , পুরুষগণ জামাতে আদায় করুন।
---মুফতি ওয়াহিদুল আলম
প্রিন্সিপাল ও শাইখুল হাদিস – জামিয়া ইমাম বুখারী সেক্টর ৫ উত্তরা, ঢাকা।
খতিব – মসজিদ আল-মাগফিরাহ, সেক্টর ৩, উত্তরা, ঢাকা।
24/01/2026
Visit TikTok to discover videos! Watch, follow, and discover more trending content.
24/01/2026
M***i Wahidul Alam on TikTok 2 Followers, 1 Following, 14 Likes - Watch awesome short videos created by M***i Wahidul Alam
আজকের আয়াত
সূরা আন নাহ্ল - আয়াত নং: ৭২
وَاللّٰہُ جَعَلَ لَکُمۡ مِّنۡ اَنۡفُسِکُمۡ اَزۡوَاجًا وَّجَعَلَ لَکُمۡ مِّنۡ اَزۡوَاجِکُمۡ بَنِیۡنَ وَحَفَدَۃً وَّرَزَقَکُمۡ مِّنَ الطَّیِّبٰتِ ؕ اَفَبِالۡبَاطِلِ یُؤۡمِنُوۡنَ وَبِنِعۡمَتِ اللّٰہِ ہُمۡ یَکۡفُرُوۡنَ ۙ
অর্থঃ
আল্লাহ তোমাদেরই মধ্য হতে তোমাদের জন্য স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের স্ত্রীদের থেকে তোমাদের জন্য পুত্র ও পৌত্রাদি সৃষ্টি করেছেন। আর ভালো-ভালো জিনিসের থেকে রিযকের ব্যবস্থা করেছেন। তবুও কি তারা ভিত্তিহীন জিনিসের প্রতি ঈমান রাখবে আর আল্লাহর নি‘আমতসমূহের অকৃতজ্ঞতা করবে?
عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يُتْمَ بَعْدَ الْحُلُمِ»
হাদীস নং-৫২০ হযরত আনাস ইব্ন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বালিগ হওয়ার পর কেউ ইয়াতীম থাকে না। - (মুসনাদে আবু হানিফা রহঃ - হাদীস নং: ৫২০)
জুমার বয়ান
শবে বরাতের তাৎপর্য ও তাওবাহ
দশ দিনের গোনাহ মাফ হয়ে যায়
আল্লাহ তাআলা রহমত ও মাগফিরাতের পরিধি আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর রাসূলের যবানে ঘোষণা শুনিয়েছেন, জুমার নামাযের বদৌলতে দশ দিনের পাপরাশি ক্ষমা করে দেবেন। আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
إِذَا كَانَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ فَاغْتَسَلَ الرّجُلُ، وَغَسَلَ رَأْسَهُ، ثُمّ تَطَيّبَ مِنْ أَطْيَبِ طِيبِهِ، وَلَبِسَ مِنْ صَالِحِ ثِيَابِهِ، ثُمّ خَرَجَ إِلَى الصّلَاةِ، وَلَمْ يُفَرِّقْ بَيْنَ اثْنَيْنِ، ثُمّ اسْتَمَعَ لِلْإِمَامِ، غُفِرَ لَهُ مِنَ الْجُمُعَةِ إِلَى الْجُمُعَةِ، وَزِيَادَةُ ثَلَاثَةِ أَيّامٍ.
জুমার দিন যে ব্যক্তি মাথা ধুয়ে গোসল করে, এরপর উত্তম আতর ব্যবহার করে এবং তার জামাগুলো থেকে ভালো জামাটি পরিধান করে, তারপর নামাযের উদ্দেশে বের হয়, (মসজিদে গিয়ে একসাথে থাকা) দুইজনের মাঝে গিয়ে বসে না, অতঃপর মনোযোগের সাথে ইমামের খুতবা শোনে, ঐ ব্যক্তির এক জুমা থেকে আরেক জুমা এবং অতিরিক্ত আরো তিন দিনের গোনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। -সহীহ ইবনে খুযায়মা, হাদীস ১৪০৩
আরেক বর্ণনায় এসেছে, আবু হুরায়রা রা. বলেছেন, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
مَنْ تَوَضّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ، ثُمّ أَتَى الْجُمُعَةَ، فَاسْتَمَعَ وَأَنْصَتَ، غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ، وَزِيَادَةُ ثَلَاثَةِ أَيّامٍ، وَمَنْ مَسّ الْحَصَى فَقَدْ لَغَا.
যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওযু করবে, এরপর জুমায় উপস্থিত হবে, তারপর মনোযোগ দিয়ে (খুতবা) শুনবে এবং চুপ থাকবে, তার দুই জুমার মধ্যবর্তী দিনগুলো এবং আরো তিন দিনের গোনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। আর যে কঙ্কর স্পর্শ করল সে অনর্থক কাজ করল।৭ -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮৫৭; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১০৫০; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৯৪৮৪; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ১২৩১
মোটকথা, এসব হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয়, জুমার দিনের বিশেষ আমল হচ্ছে, উত্তমরূপে গোসল করা, সবচেয়ে সুন্দর জামাটি পরিধান করা, খোশবু থাকলে ব্যবহার করা, একাগ্রচিত্তে খুতবা শোনা, মসজিদে কাউকে কষ্ট না দেওয়া, সামনে যাওয়ার জন্য কাউকে ডিঙ্গিয়ে না যাওয়া এবং খুতবা চলাকালে কোনো কথা না বলা ও কঙ্কর স্পর্শ না করা তথা অনর্থক কোনো কিছু না করা।
যে ব্যক্তি এভাবে জুমার নামায আদায় করবে আল্লাহ তাআলা তার এক সপ্তাহ, বরং অতিরিক্ত আরো তিন দিনের গোনাহ-খাতা মাফ করে দেবেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের আমল করার তাওফীক দান করুন- আমীন।
জুমার দিনে বিপুল ফযীলতপূর্ণ আরো কিছু আমল আছে। পরবর্তী কোনো অবসরে সেগুলো নিয়ে কিছু মুযাকারা করা যাবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তাআলাই তাওফীকদাতা ও সাহায্যকারী। হ
১ : قال البوصيري في مصباح الزجاجة: هَذَا إِسْنَاد حسن. وقال المنذري في الترغيب والترهيب: فِي إسناده عبد الله بن مُحَمّد بن عقيل وَهُوَ مِمّن احْتج بِهِ أَحْمد وَغَيره، وَبَقِيّة رُوَاته ثِقَات مَشْهُورُون
২ : قال المنذري في الترغيب والهيثمي في المجمع: رِجَالُهُ ثِقَاتٌ. وقال الشيخ شعيب الأرنؤوط: إسناده حسن.
৩ :جاء في رواية الطبراني : >نحن ندعوه في الآخرة يوم المزيد
এক সপ্তাহের গোনাহ মাফ হয়ে যায়
আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
الْجُمْعَةُ إِلَى الْجُمْعَةِ، كَفّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُنّ، مَا لَمْ تُغْشَ الْكَبَائِرُ.
এক জুমা থেকে আরেক জুমা মধ্যবর্তী সময়ের (গোনাহের) জন্য কাফ্ফারা (পাপমোচনকারী), যদি কাবীরা গোনাহ না করা হয়। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৩৩; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১০৮৬; জামে তিরমিযী, হাদীস ৪১৪; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হাদীস ১৮১৪
সালমান ফারসী রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
>تَدْرُونَ مَا يَوْمُ الْجُمُعَةِتَدْرُونَ مَا يَوْمُ الْجُمُعَةِلَكِنِّي أُخْبِرُكَ بِخَبَرِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ، مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَتَطَهّرُ ثُمّ يَمْشِي إِلَى الْمَسْجِدِ، ثُمّ يُنْصِتُ، حَتّى يَقْضِيَ الْإِمَامُ صَلَاتَهُ، إِلّا كَانَتْ كَفّارَةَ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ يَوْمِ الْجُمُعَةِ الّتِي قَبْلَهَا، مَا اجْتُنِبَتِ الْمَقْتَلَةُ.
(قال الحاكم: هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحُ الْإِسْنَادِ. وقال الهيثمي: رواه الطبراني في الكبير وإسناده حسن.)
তুমি জানো, জুমার দিন কী?
উত্তর দিলাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক অবগত আছেন।
তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি জানো, জুমার দিন কী?
আমি একই জবাব দিলাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভালো জানেন।
তিনি তৃতীয়বার প্রশ্ন করলেন, বল তো জুমার দিন কী?
আমি তৃতীয়বার বা চতুর্থবার বললাম, জুমা হল ঐ দিন, যাতে আদম আলাইহিস সালামকে জমা করা হয়েছে। (অর্থাৎ তাঁকে সৃষ্টি করা হয়েছে।)
তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (এসব কিছু না।) বরং আমি তোমাকে জুমার দিনের খবর (আসল ফযীলত) সম্পর্কে অবগত করছি। কোনো মুসলিম যদি পবিত্র হয়ে জামে মসজিদের দিকে হাঁটতে থাকে, এরপর ইমাম নামায শেষ করা পর্যন্ত নীরব থাকে তাহলে এ নামায এই জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তার গোনাহসমূহের কাফ্ফারা (মোচনকারী) হয়ে যাবে, যদি ধ্বংসকারী তথা কবীরা গোনাহ থেকে বেঁচে থাকে। -শারহু মুশকিলিল আছার, হাদীস ৩৮২৮; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হাদীস ১৭৩২; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২৩৭২৯; সুনানে কুবরা, নাসাঈ, হাদীস ১৬৭৭: মুজামে কাবীর, তবারানী ৬/২৩৭ (৬০৮৯) মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস ১০২৮
আবু সাঈদ খুদরী রা. ও আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
مَنْ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، وَلَبِسَ مِنْ أَحْسَنِ ثِيَابِهِ، وَمَسّ مِنْ طِيبٍ إِنْ كَانَ عِنْدَهُ، ثُمّ أَتَى الْجُمُعَةَ، فَلَمْ يَتَخَطّ أَعْنَاقَ النّاسِ، ثُمّ صَلّى مَا كَتَبَ اللهُ لَهُ، ثُمّ أَنْصَتَ إِذَا خَرَجَ إِمَامُهُ، حَتّى يَفْرُغَ مِنْ صَلَاتِهِ، كَانَتْ كَفّارَةً لِمَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ جُمُعَتِهِ الّتِي قَبْلَهَا.
যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, তার কাছে থাকা সুন্দরতম জামাটি পরিধান করল এবং সংগ্রহে থাকলে সুগন্ধি ব্যবহার করল, এরপর জুমাতে উপস্থিত হল, কারো কাঁধ ডিঙ্গিয়ে গেল না, তারপর আল্লাহর তাওফীক অনুযায়ী সুন্নত-নফল পড়ল, অতঃপর খতীব (খুতবার জন্য) বের হওয়া থেকে নামায শেষ করা পর্যন্ত নিশ্চুপ থাকল, তার এই নামায এ জুমা থেকে সামনের জুমা পর্যন্ত (গোনাহের) কাফ্ফারা হবে। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩৪৩; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১১৭৬৮; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ২৭৭৮; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হাদীস ১৭৬২; মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস ১০৪৬৫
সালমান আলখায়ের (সালমান ফারসী) রা. বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
لاَ يَغْتَسِلُ رَجُلٌ يَوْمَ الجُمُعَةِ، وَيَتَطَهّرُ مَا اسْتَطَاعَ مِنْ طُهْرٍ، وَيَدّهِنُ مِنْ دُهْنِهِ، أَوْ يَمَسّ مِنْ طِيبِ بَيْتِهِ، ثُمّ يَخْرُجُ فَلاَ يُفَرِّقُ بَيْنَ اثْنَيْنِ، ثُمّ يُصَلِّي مَا كُتِبَ لَهُ، ثُمّ يُنْصِتُ إِذَا تَكَلّمَ الإِمَامُ، إِلّا غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الجُمُعَةِ الأُخْرَى.
যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করবে, সাধ্যমত পরিচ্ছন্নতা অর্জন করবে,৬ তেল ব্যবহার করবে বা নিজের ঘরে থাকা আতর মাখবে, এরপর জুমার দিকে বের হবে, (মসজিদে গিয়ে একসাথে থাকা) দুইজনের মাঝে গিয়ে বসবে না, যত রাকাত সম্ভব নামায পড়বে, এরপর ইমাম যখন খুতবা দেন তখন চুপ থাকবে। যে কেউই এসব করবে তাকেই এই জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত মাফ করা হবে। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৮৮৩; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ৫৫৬৩
(মাসিক আল কাউসার থেকে সংগৃহিত)
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
House # 9, Road # 9/B, Sector # 5, Uttara
Uttara
1230