23/07/2025
বিএম কিন্ডারগার্টেন মাদরাসায় ৮ শিশুর আমপারা গ্রহণ
কুরআনমুখী প্রজন্ম গড়ার আহ্বান মুহতামিমের
ঢাকা | ২৩ জুলাই ২০২৫ | মঙ্গলবার
আজ রাজধানীর বিএম কিন্ডারগার্টেন মাদরাসায় অনুষ্ঠিত হলো এক পবিত্র ও হৃদয়গ্রাহী আয়োজন। মাদরাসার ৮ জন কোমলমতি শিশু কুরআনের শেষ খণ্ড "আমপারা" সবক গ্রহণ করে কুরআনের পথে প্রথম ধাপ সম্পন্ন করেছে।
এরা হলেন:
১. আরহাম আয়ান ইসলাম
২. ওয়ায়েজ আলম নিয়াজ
৩. ইসমাইল খান
৪. আকিফুজ্জামান
৫. জাবির ভূঁইয়া
৬. আব্দুল্লাহ বিন সেলিম
৭. সিবগাতুল্লাহ আমিন
৮. তাহেরা খান
তাদের কণ্ঠে কুরআনের পবিত্র আয়াত প্রতিধ্বনিত হলে পুরো অনুষ্ঠানস্থল আবেগ ও আলোর ছটায় ভরে ওঠে।
সবক প্রদান ও বিশেষ মোনাজাত
শিশুদের সবক প্রদান করেন মাদরাসার মুহতামিম মুফতি নেয়ামতুল্লাহ আমিন। তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য হেফাজত, হেদায়াত ও মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন।
কুরআনের ফজিলত ও পিতা-মাতার করণীয়
মুহতামিম তাঁর বক্তব্যে বলেন,
"তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ, যে কুরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।" — (সহীহ বুখারী)
তিনি আরও বলেন,
“কুরআনের একটি অক্ষরের প্রতিদানে ১০টি নেকি লেখা হয়। যে শিশু ছোটবেলা থেকেই কুরআনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়, সে ভবিষ্যতে সমাজে বরকতের বাতিঘর হয়ে উঠবে।”
অভিভাবকদের উদ্দেশে তাঁর আহ্বান ছিল,
“সন্তান আল্লাহর পক্ষ থেকে অমূল্য আমানত। তাদের সময় যেন খেলাধুলা ও প্রযুক্তির আসক্তিতে বিনষ্ট না হয়, সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে। তাদেরকে কুরআনের হাফেজ, আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবার ও মাদরাসাকে একসাথে এগিয়ে আসতে হবে।”
মাদরাসায় পড়ানোর ফজিলত তুলে ধরে মুহতামিম বলেন,
“যে সন্তান কুরআনের শিক্ষা লাভ করে, কিয়ামতের দিন তার বাবা-মার মাথায় নূরের মুকুট পরানো হবে। মাদরাসা শুধু শিক্ষা নয়, এটি ঈমান-আখলাক ও আদর্শের কারখানা।”
অনুষ্ঠানে দোয়া পরিচালনা করেন : মাওলানা মাহফুজুর রহমান।
উপস্থিতি ও অনুষ্ঠানমালায় উলামায়ে কেরাম
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুফতি আল আমিন, মাওলানা মাহদী হাসান, মাওলানা মাহবুব শেখ, মাওলানা মুজাম্মেল হক, মাওলানা মায়ারিফুল হক, মাওলানা এমরান হাসান, মাওলানা মুতাসিম ও মাওলানা ফজলুল হকসহ বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম।
শেষ পর্বে শিক্ষার্থীদের হাতে উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয় এবং তাদেরকে ভবিষ্যতে আরও অগ্রসর হওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হয়। পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল এক অনন্য কুরআনময় পরিবেশের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
21/07/2025
উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল & কলেজে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে শত শত ছাত্রছাত্রী আহত ও নিহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা বাকরুদ্ধ ও শোকাহত।
বাইতুল মুমিন শিক্ষা পরিবারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবার পরিজনের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা ও সহানুভূতি। আমরা মহান আল্লাহর দরবারে হাত তুলে দোয়া করছি— আল্লাহ যেন নিহতদেরকে শহীদ হিসেবে কবুল করেন, জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করেন, এবং আহতদেরকে দ্রুত আরোগ্য দান করেন।
এ দুর্ঘটনা জাতির জন্য একটি অপ্রত্যাশিত বিপর্যয়। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই—এই মর্মান্তিক ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করুন এবং আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করুন।
আল্লাহ আমাদের দেশ ও জাতিকে হেফাজত করুন। আমিন।
16/07/2025
আমাদের উস্তাদ আমাদের অহংকার ❣️✊
মুফতি নেয়ামতুল্লাহ আমিন হাফি. — উত্তরার আন্দোলন সংগ্রামের এক অবিচল প্রতীক
চব্বিশের আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে উত্তরা পরিণত হয়েছিল এক অস্থির জনপদে। সেনাবাহিনী পুলিশ আর প্রশাসনের পাশাপাশি স্ব-জাতীয় গাদ্দারদের ভয় ও হুমকিতে সবাই যখন পিছু হটতে শুরু করেছিলো—তখন এক তরুণ আলেম বুকে হিম্মতের পাহাড় নিয়ে উঠে দাঁড়িয়েছিলেন সামনে। তিনি মুফতি নেয়ামতুল্লাহ আমিন হাফি.। উত্তরার আন্দোলন সংগ্রামের প্রাণভোমরা।
তিনি এই আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে শুরু থেকে শেষ অব্দি নেতৃত্ব দিয়েছেন সাহসের মিনার হয়ে। তার নেতৃত্বে উত্তরার ছাত্রজনতা (বিশেষত মাদরাসার ছাত্ররা) জেগে উঠেছিল সত্যের পক্ষে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে। পুলিশের লাঠি আর মামলার ভয় তাকে দমাতে পারেনি। কখনো তিনি দাঁড়িয়েছেন পুলিশের বুলেটের সামনে, আবার কখনো দৌড়ে গিয়েছেন হাসপাতালের বেডে আহতদের পাশে। তার হাতে ছিল পানি আর বিস্কুট, হৃদয়ে ছিল সাহস আর ভালোবাসা।
এই আন্দোলনে তার মাদরাসার অর্ধশতাধিক ছাত্র আহত হয়েছেন, একজন হারিয়েছেন চিরতরের মতো দৃষ্টিশক্তি। তবুও তিনি থেমে যাননি। নীরবে চোখ মুছে আবারও ফিরেছেন আন্দোলনের কাতারে—কেননা তার কাছে এই আন্দোলন ছিল শুধু একটি কর্মসূচি নয়, ছিল ঈমানি দায়িত্ব।
তাই তো—মুফতি নেয়ামতুল্লাহ আমিন হাফি. হয়ে উঠেছেন নতুন প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম, এক সাহসী অধ্যায়ের প্রতীক। তার মতো নেতৃত্বই ইতিহাসের পাতায় লিখে যায় অবিচলতা, ত্যাগ আর সত্যের জয়গাথা।
#স্মৃতির_জুলাই
14/07/2025
একজন আলেম কিংবা একজন প্রকৃত মুমিন গড়ে তোলার মূল চাবিকাঠি হলো তালিম ও তরবিয়াত—উত্তরা বাইতুল মুমিন মাদরাসার ছাত্রদের উদ্দেশ্যে তরবিয়াতি আলোচনা জামিয়া কারিমিয়া'র মুহতামিম আল্লামা মকবুল হোসেন দা.বা. বলেন—
“শুধু কিতাবি জ্ঞান অর্জনই যথেষ্ট নয়। একজন আলেমের চরিত্র, ইখলাস, আমল ও আদব—এই গুণগুলোর মাধ্যমেই আল্লাহর দুনিয়ায় পরিবর্তন আসে। তালিম গড়বে জ্ঞান, আর তরবিয়াত গড়বে মানুষ।”
তিনি ছাত্রদের স্মরণ করিয়ে দেন, কীভাবে প্রাচীন ওলি-আলেমগণ কেবল জ্ঞানের গভীরতায় নয়, তাদের চরিত্রের ঔজ্জ্বল্য, ধৈর্য, বিনয় ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে উম্মাহকে জাগিয়ে তুলেছিলেন।