The Beauty of IUBAT Campus

The Beauty of IUBAT Campus

Share

"This is a fan page of IUBAT, run by some of the ex and current students of IUBAT.

Our goal is to create a community that shares memories, experiences, and updates, while celebrating the spirit of IUBAT together."

17/08/2026

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ টেস্ট জিতেছে!

এই কথাটা লিখতেই কেমন যেন অবিশ্বাস্য লাগে।

যে অস্ট্রেলিয়া টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি। যে দল নিজেদের মাটিতে বছরের পর বছর ধরে প্রায় অজেয়। সেই অস্ট্রেলিয়াকেই তাদের নিজেদের মাটিতে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে হারিয়ে দিয়েছে।

আর সবচেয়ে বড় কথা—

এটা শুধু অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আরেকটা জয় নয়।

এটা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়।

বাংলাদেশের ২৬ বছরের টেস্ট ইতিহাসে এটা নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও এটাকে বাংলাদেশের সব সংস্করণ মিলিয়ে সবচেয়ে বড় জয়গুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

কিন্তু একটু পেছনে ফিরে তাকান।

এই সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশের অবস্থাটা কী ছিল?

প্রস্তুতি ম্যাচে খুব একটা ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ।

এর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া ছিল টেস্ট ক্রিকেটের শীর্ষ দল।

অর্থাৎ কাগজে-কলমে এই ম্যাচে বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখার কোনো কারণই ছিল না।

কিন্তু ক্রিকেট কাগজে-কলমে খেলা হয় না।

মাঠে খেলা হয়।

আর ডারউইনে বাংলাদেশ সেটাই প্রমাণ করেছে।

প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট।

আর বাংলাদেশ?

৪২৬ রান!

অর্থাৎ প্রথম ইনিংসেই বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার ওপর ২২৮ রানের বিশাল লিড নিয়ে নেয়।

একবার চিন্তা করে দেখুন।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ২২৮ রান বেশি করেছে!

এটা কোনো ছোট ঘটনা নয়।

এখানেই বাংলাদেশের জয়ের ভিত্তি তৈরি হয়ে যায়।

আর এই ইনিংসে তানজিদ হাসান তামিমের শতকটাও ছিল ঐতিহাসিক।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে শতক করা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি নিজের নাম লিখেছেন।

তারপর বল হাতে বাংলাদেশের আসল আঘাত।

হাসান মাহমুদ।

অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট!

ম্যাচে মোট ৯ উইকেট নিয়ে তিনি ম্যাচসেরার পুরস্কারও পেয়েছেন।

কিন্তু এখানেই শেষ নয়।

মেহেদী হাসান মিরাজ আবার ব্যাট হাতে ৬৫ রান করেছেন।

এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে ৫ উইকেট!

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে ৫ উইকেট নেওয়া প্রথম বাংলাদেশি স্পিনার হিসেবে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছেন তিনি।

অর্থাৎ বাংলাদেশের এই জয় কোনো একজন খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ফল নয়।

এটা ছিল দলীয় জয়।

ব্যাটসম্যানরা রান করেছে।

পেসাররা উইকেট নিয়েছে।

স্পিনাররা উইকেট নিয়েছে।

ফিল্ডিংয়ে চাপ তৈরি করেছে।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—

পুরো দল ধৈর্য ধরে খেলেছে।

অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল।

ক্যামেরন গ্রিন ১০৪ রানের দুর্দান্ত একটি শতক করেছেন।

স্টিভ স্মিথও লড়াই করেছেন।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া থেমেছে ২৮৪ রানে।

বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান।

আর সেই ৫৭ রান বাংলাদেশ এক উইকেট হারিয়েই তুলে নেয়।

বাংলাদেশ জয় পায় ৯ উইকেটে।

আর এখানেই একটা মজার বিষয় আছে।

অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ম্যাচ শেষে সরাসরি স্বীকার করেছেন—

বাংলাদেশ তাদের সব দিক থেকেই হারিয়ে দিয়েছে।

অর্থাৎ এটা এমন কোনো ম্যাচ ছিল না যেখানে অস্ট্রেলিয়া দুর্ভাগ্যের কারণে হেরে গেছে।

অস্ট্রেলিয়া সত্যিই বাংলাদেশের কাছে ক্রিকেটের প্রায় প্রতিটি বিভাগে পিছিয়ে পড়েছিল।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে,

এই জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

আমার কাছে এর গুরুত্ব শুধু একটা টেস্ট ম্যাচ জয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

কারণ বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি ছিল আত্মবিশ্বাস।

বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে।

উপমহাদেশে বাংলাদেশ ভালো খেলতে পারে—এটা আমরা বহুবার দেখেছি।

কিন্তু অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ডের মতো জায়গায় গিয়ে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করা সবসময়ই কঠিন হয়েছে।

আজ বাংলাদেশ সেই বাধাটার একটা বড় অংশ ভেঙে দিল।

আর সেটা আবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে!

এর আগে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ নিজেদের মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমবার টেস্টে হারিয়েছিল।

সেবার মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ২০ রানে জয় পেয়েছিল।

কিন্তু এবার?

অস্ট্রেলিয়ার নিজের মাটিতে গিয়ে ৯ উইকেটে জয়।

পার্থক্যটা বুঝতে পারছেন?

এটা শুধু একটা জয় নয়।

এটা বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের মানসিকতায় একটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

আর সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপার হচ্ছে—

এই জয় এসেছে বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের উন্নতির সময়।

অনেক বছর ধরে বলা হতো, বাংলাদেশের ক্রিকেট মূলত স্পিননির্ভর।

কিন্তু এখন বাংলাদেশের পেসাররাও বিদেশের মাটিতে ম্যাচ জেতানোর মতো ভূমিকা রাখছে।

হাসান মাহমুদের ৯ উইকেট তার বড় প্রমাণ।

মেহেদী হাসানের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স আরেকটি প্রমাণ।

তানজিদের শতক আরেকটি প্রমাণ।

অর্থাৎ বাংলাদেশ এখন শুধু একজন সাকিব, একজন তামিম কিংবা একজন মুশফিকের ওপর নির্ভরশীল দল নয়।

নতুন প্রজন্ম নিজেদের জায়গা তৈরি করছে।

এটাই সবচেয়ে আশার কথা।

আর একটা বিষয় ভুলে গেলে চলবে না।

এই জয় এসেছে এমন একটি অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে, যারা টেস্ট ক্রিকেটের শীর্ষস্থানীয় দল।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে অস্ট্রেলিয়াকে শীর্ষস্থানীয় টেস্ট দল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তাদের অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও বাংলাদেশের কাছে দলের পরাজয়ের পর ব্যাটিং নিয়ে পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

অর্থাৎ বাংলাদেশ শুধু ইতিহাস তৈরি করেনি।

অস্ট্রেলিয়াকেও নিজেদের দল নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।

তবে এখানেই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

একটা ম্যাচ জিতে উচ্ছ্বসিত হওয়া স্বাভাবিক।

কিন্তু এখন যদি আমরা ভাবি—

“অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিয়েছি, আমরা সব পারি!”

তাহলে বিপদ।

কারণ সিরিজ এখনও শেষ হয়নি।

দ্বিতীয় টেস্ট হবে ম্যাকেতে।

আগামী ২২ আগস্ট শুরু হওয়ার কথা দ্বিতীয় টেস্ট। প্রথম ম্যাচ জিতে বাংলাদেশ এখন সিরিজে ১-০ এগিয়ে আছে।

এখন বাংলাদেশের সামনে সুযোগ—

সিরিজ জেতার।

এবং আরও বড় ইতিহাস তৈরি করার।

প্রথম টেস্ট জেতা ছিল অসম্ভবকে সম্ভব করার মতো একটা ঘটনা।

কিন্তু দ্বিতীয় টেস্ট জিতে সিরিজ জিততে পারলে সেটা আর শুধু অঘটন থাকবে না।

তখন বলতে হবে—

বাংলাদেশ সত্যিই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেট খেলতে শিখে গেছে।

আর একটা কথা বলতেই হয়।

বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে আমরা অনেক সময় খুব দ্রুত হতাশ হয়ে যাই।

একটা ম্যাচ হারলে বলি—

সব শেষ।

কেউ ক্রিকেট খেলতে জানে না।

সবাইকে বাদ দিতে হবে।

আবার একটা ম্যাচ জিতলে বলি—

বাংলাদেশ বিশ্বসেরা!

দুটোর কোনোটাই বাস্তব বিশ্লেষণ নয়।

ক্রিকেট একটা দীর্ঘ পথ।

এই জয়কে সেই দীর্ঘ পথের একটা গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা উচিত।

কারণ আজ বাংলাদেশ একটা জিনিস প্রমাণ করেছে—

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্রিকেট দলগুলোর একটির নিজের মাটিতেও বাংলাদেশ ম্যাচ জিততে পারে।

আর সেটাও কোনো ভাগ্যের জোরে নয়।

ব্যাটে।

বলে।

পরিকল্পনায়।

ধৈর্যে।

দলীয় পারফরম্যান্সে।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ আজ ইতিহাস লিখেছে।

এখন শুধু একটা প্রশ্ন—

ইতিহাস এখানেই শেষ হবে?

নাকি ২২ আগস্ট ম্যাকেতে বাংলাদেশ আরেকটা অধ্যায় লিখবে?

আমার উত্তরটা এখনই দিতে চাই না।

কারণ ক্রিকেটে ভবিষ্যৎ বলে কিছু নেই।

মাঠে নামতে হয়।

লড়াই করতে হয়।

তারপর ফলাফল কথা বলে।

তবে একটা কথা আজ নিশ্চিতভাবে বলা যায়—

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ আর আগের বাংলাদেশ নেই।

এটা নতুন একটা বাংলাদেশ।

এবং এই বাংলাদেশকে এখন থেকে কেউ হালকাভাবে নিলে—

ভুল করবে।
-----Nesar Ahmed Nisho

16/08/2026

সুন্দর লিখছেন

বাংলাদেশের মানুষ এখন একটা খুব সহজ প্রশ্ন করছে—

দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা আছে, সরকার বলেছিল বিদ্যুতের ঘাটতি নেই—তাহলে মানুষ এত লোডশেডিংয়ে ভুগছে কেন?

এই প্রশ্নটা কিন্তু এখন আর বিরোধী দলের প্রশ্ন নয়। খোদ সরকারের বক্তব্যের সঙ্গেই সরকারের বর্তমান বাস্তবতার একটা অদ্ভুত সংঘর্ষ দেখা যাচ্ছে।

এপ্রিল মাসে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সংসদে বলেছিলেন, দেশে সামগ্রিকভাবে বিদ্যুতের ঘাটতি নেই। দেশের গ্রিডভিত্তিক উৎপাদন সক্ষমতা তখন প্রায় **২৮,৯১৯ মেগাওয়াট**। তিনি বলেছিলেন, সাময়িক সমস্যা হতে পারে জ্বালানি, সঞ্চালন, বিতরণ, রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা আবহাওয়ার কারণে।

কয়েক মাস পর এখন কী অবস্থা?

দেশের মানুষ কোথাও কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমছে। আর ১৩ আগস্ট Reuters জানিয়েছে, বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ ব্যবহার আরও কমাতে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে—

তাহলে এপ্রিলের সেই “বিদ্যুতের ঘাটতি নেই” কথাটা কোথায় গেল?

আমি এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই।

বর্তমান সংকটের সব দায় এই সরকারের ঘাড়ে চাপিয়ে দিলে সেটাও পুরো সত্য বলা হবে না। কারণ গ্যাসের অবকাঠামো, বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি আমদানির নির্ভরতা এবং বিদ্যুৎ খাতের দেনা—এসবের বড় একটা অংশ বহু বছরের পুরোনো সমস্যা।

কিন্তু!

একটা সরকার যখন ক্ষমতায় আসে, তখন পুরোনো সমস্যার দায় শুধু পূর্ববর্তী সরকারের দিকে ঠেলে দিয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই।

সরকারের কাজ হচ্ছে সমাধান করা।

আর এখানেই বর্তমান সরকারের জবাবদিহির প্রশ্নটা আসে।

কারণ মাত্র কয়েক মাস আগেই বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেছিলেন, বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতা দেশের চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট। আবার এখন সেই সরকারের মন্ত্রীই বলছেন, লোডশেডিং সামাল দেওয়া এবং পরিস্থিতির উন্নতির জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আপাতত আর কোনো বিকল্প নেই।

চিন্তা করে দেখেন!

একটা দেশের বিদ্যুৎমন্ত্রী যদি বলেন—

“No alternative but to manage load-shedding and wait.”

তাহলে সাধারণ মানুষ প্রশ্ন করতেই পারে—

আমরা কি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার জন্য সরকার নির্বাচন করেছি, নাকি লোডশেডিং ব্যবস্থাপনার জন্য?

আরও ভয়ংকর ব্যাপার হচ্ছে, বর্তমান সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে LNG।

গত ১৪ আগস্টের তথ্য অনুযায়ী, Summit-এর floating LNG terminal-এ গ্যাস সরবরাহ ভয়াবহভাবে কমে যায়। একটি LNG tanker খারাপ আবহাওয়ার কারণে terminal-এ ভিড়তে পারেনি। ফলে জাতীয় গ্রিড প্রয়োজনীয় LNG সরবরাহের মাত্র প্রায় এক-চতুর্থাংশ পাচ্ছিল।

এর ফল কী?

গ্যাস কম।

গ্যাস কম → বিদ্যুৎ উৎপাদন কম।

বিদ্যুৎ উৎপাদন কম → লোডশেডিং।

আর লোডশেডিং → শিল্প, ব্যবসা, দোকান, হাসপাতাল, শিক্ষার্থী—সবাই ক্ষতিগ্রস্ত।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে—

একটা LNG terminal বন্ধ হয়ে গেলেই যদি দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এতটা নড়বড়ে হয়ে যায়, তাহলে আমাদের energy security কোথায়?

সরকারের কাছে এই প্রশ্নের উত্তর থাকা উচিত।

আর শুধু LNG terminal-এর সমস্যাই নয়।

বিদ্যুৎ খাতের আরেকটা বড় সমস্যা হচ্ছে টাকা।

এপ্রিল মাসে বিদ্যুৎমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী ও বিদ্যুৎ আমদানিকারকদের কাছে সরকারের বকেয়া প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যয়ও বড় ধরনের চাপের মধ্যে পড়েছিল।

অর্থাৎ আমাদের সমস্যা এক জায়গায় নয়।

জ্বালানি সংকট আছে।
ডলার লাগে।
LNG আমদানি করতে হয়।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের টাকা দিতে হয়।
আবার বিদ্যুৎকেন্দ্র চালালেও উৎপাদন খরচ বাড়ে।**

এখন সরকার যদি বলে—

“বিদ্যুৎকেন্দ্র তো আছে!”

তাহলে সাধারণ মানুষ প্রশ্ন করবে—

চালানোর জ্বালানি কোথায়?

কারণ কাগজে ২৮-২৯ হাজার MW capacity থাকলেই হবে না।

জ্বালানি না থাকলে সেই capacity দিয়ে জনগণের ঘরে বাতি জ্বালানো যায় না।

এটাই বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সংকটের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।

আমরা capacity বাড়ানোর গল্প শুনেছি অনেক।

কিন্তু fuel security কোথায়?

আর এই জায়গায় বর্তমান সরকারেরও কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে।

কারণ ক্ষমতায় আসার পর সরকার বলেছিল তারা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ১৮০ দিনের action plan নিয়েছে। fuel diversification এবং renewable energy-কে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও সংসদে বলা হয়েছিল।

এমনকি মে মাসে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছিলেন—

“Bangladesh is ready to go solar; we only need policy.”

তিনি পাঁচ বছরের মধ্যে ১০,০০০ MW solar power উৎপাদনের লক্ষ্য এবং battery storage বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও বলেছিলেন।

খুব ভালো কথা।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—

আজকের লোডশেডিংয়ের সমাধান কোথায়?

পাঁচ বছর পরে ১০ হাজার MW solar হলে ভালো হবে।

কিন্তু আজ রাতে যে মানুষের বাসায় বিদ্যুৎ নেই, তার আজকের সমস্যার সমাধান কী?

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল জনগণের কাছে লোডশেডিংয়ের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে কয়েক দিনের মধ্যে গ্যাস সংকট কিছুটা কমবে। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে LNG terminal নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং বর্তমান সরকার তৃতীয় LNG terminal তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।

এখানে প্রধানমন্ত্রীকে একটা প্রশ্ন করা যেতেই পারে—

যদি LNG terminal-এর প্রয়োজন এতটাই জরুরি হয়, তাহলে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই ঘাটতি পূরণে কত দ্রুত কাজ করেছে?

আর যদি কাজ শুরু হয়েও থাকে, তাহলে জনগণকে তার সময়সীমা, ব্যয় এবং বাস্তব অগ্রগতি জানানো হচ্ছে কি?

কারণ এখন শুধু “কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি ভালো হবে” শুনলে হবে না।

এর আগেও লোডশেডিং কমার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এপ্রিল মাসে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেছিলেন, লোডশেডিং ১,২০০-১,৫০০ MW থেকে পরের সপ্তাহে ৮০০-৯০০ MW-তে নামবে। একই সঙ্গে তিনি বলেছিলেন, পুরোপুরি বন্ধ করা তখন সম্ভব নয়।

এখন আগস্ট।

আবার লোডশেডিং।

আবার গ্যাস সংকট।

আবার মানুষকে অপেক্ষা করতে বলা হচ্ছে।

তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে—এই “আর কয়েকদিন” আসলে কতদিন?

আর একটা বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান সংকট শুধু ঢাকার সমস্যা নয়।

সাম্প্রতিক রিপোর্টগুলো বলছে, গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের চাপ আরও বেশি। কোথাও কোথাও কয়েক ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে ছোট ব্যবসা ও শিল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অর্থাৎ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন শুধু—

“আমার বাসায় ফ্যান চলে না”

এটা নয়।

সমস্যা হচ্ছে—

কারখানা চলছে না।
দোকান ঠিকমতো চলছে না।
CNG স্টেশনে গ্যাসের জন্য লাইন।
শিল্প উৎপাদন ব্যাহত।
কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি।
আর সাধারণ মানুষ প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ ছাড়া বসে আছে।**

এমনকি সরকারের পক্ষ থেকেও এখন জনগণকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

কিন্তু আমি একটা প্রশ্ন করব—

সাধারণ মানুষ কতটা সাশ্রয় করবে?

মানুষ কি বিদ্যুৎ ব্যবহার না করলেই দেশের energy security তৈরি হয়ে যাবে?

নাকি সরকারের আসল কাজ হচ্ছে—

গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা, LNG infrastructure বাড়ানো, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর fuel security নিশ্চিত করা, transmission-distribution উন্নত করা এবং বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ঠিক করা?

আমার মতে, দ্বিতীয়টাই।

বর্তমান সরকারের একটা সুবিধা আছে।

তারা চাইলে পুরোনো সরকারের ভুলের ওপর আরেকবার রাজনৈতিক বক্তব্য না দিয়ে **পুরো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের একটা পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনগণের সামনে দিতে পারে।**

কত MW capacity আছে?

কত MW বাস্তবে উৎপাদন হচ্ছে?

কতগুলো কেন্দ্র fuel-এর অভাবে বন্ধ?

কত টাকা বকেয়া?

কত LNG আমদানি হচ্ছে?

কোন terminal কত capacity-তে চলছে?

কত টাকা ভর্তুকি যাচ্ছে?

এবং আগামী ৩ বছর বাংলাদেশের energy security কীভাবে নিশ্চিত করা হবে?

এই হিসাব জনগণের সামনে দেওয়া হোক।

কারণ মানুষ আর শুধু বক্তৃতা শুনতে চায় না।

মানুষ বিদ্যুৎ চায়।

আর একটা কথা বলতেই হয়—

বর্তমান সরকার যদি সত্যিই বলে যে তারা আগের সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যার সমাধান করতে এসেছে, তাহলে সেই কথার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হচ্ছে এই বিদ্যুৎ সংকট।

আগের সরকার কী করেছে—সেটা ইতিহাসের বিষয়।

এখন আপনি ক্ষমতায়।

তাই আজকের লোডশেডিংয়ের দায় থেকে পুরোপুরি পালিয়ে গিয়ে শুধু আগের সরকারের দিকে আঙুল তোলা যাবে না।

কারণ জনগণের কাছে খুব সহজ একটা হিসাব আছে—

ক্ষমতায় কে আছে?
বিদ্যুৎ নেই কেন?
গ্যাস নেই কেন?
সমাধান কবে হবে?

এই তিনটা প্রশ্নের উত্তরই এখন সরকারের দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী নিজে যখন জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন, সেটা ভালো রাজনৈতিক ও মানবিক পদক্ষেপ।

কিন্তু দুঃখ প্রকাশ সমস্যার সমাধান নয়।

গ্যাস চাই।
বিদ্যুৎ চাই।
জবাবদিহি চাই।

আর সবচেয়ে বড় কথা—

বাংলাদেশকে এমন একটা energy system দিতে হবে, যেখানে একটা LNG terminal, একটা যুদ্ধ, একটা ঝড় কিংবা একটা আন্তর্জাতিক বাজার সংকট হলেই পুরো দেশের মানুষকে অন্ধকারে বসে থাকতে না হয়।

কারণ একটা দেশের উন্নয়ন শুধু বড় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছবি দিয়ে মাপা যায় না।

রাত ২টায় সাধারণ মানুষের ঘরে বাতি জ্বলছে কি না—সেটাও উন্নয়নের হিসাব।

বর্তমান সরকারের সামনে এখন সেই হিসাবটাই সবচেয়ে বড়।

16/08/2026

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এখন ঠিক কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে—এই প্রশ্নটা নিশ্চয়ই সবার মনেই ঘুরপাক খাচ্ছে।

কারণ একটা সময় আমাদের বলা হয়েছিল—বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অনেক বেড়েছে, বিদ্যুতের ঘাটতি নেই। কিন্তু এখন বাস্তবতা কী?

গ্রামের মানুষ কোথাও কোথাও দিনে ১০-১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের কথা বলছে। আর ১১ আগস্ট রাতে দেশের সর্বোচ্চ লোডশেডিং উঠেছিল প্রায় ৩,৫৯২ মেগাওয়াটে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে—

এত বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকার পরও বিদ্যুৎ নেই কেন?

এই প্রশ্নের উত্তরটা বুঝতে হলে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের সংখ্যা দেখলে হবে না। দেখতে হবে—বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালানোর জন্য আমাদের কাছে গ্যাস, কয়লা এবং তেল আছে কি না।

আর এখানেই বাংলাদেশের আসল বিপদ।

বর্তমান সংকটের মূল কারণগুলোর একটি হচ্ছে ভয়াবহ গ্যাস সংকট। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ নেমে প্রায় ২.০৩ বিলিয়ন ঘনফুট/দিনে চলে এসেছে, যেখানে স্বাভাবিক চাহিদা প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন ঘনফুট/দিন। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় সরবরাহ প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি।

চিন্তা করে দেখেন।

আমাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে।
কিন্তু সেগুলো চালানোর মতো গ্যাস নেই।

তারপর বলা হচ্ছে—তেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করো।

কিন্তু তেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আর BPDB-এর নিজের আর্থিক সংকটও আছে। কয়েকদিন আগে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে BPDB-এর পাওনা প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা।

তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে—

সরকার চাইলে কি শুধু টাকা দিয়ে আজকেই এই সমস্যার সমাধান করতে পারবে?

না।

কারণ টাকা থাকলেও গ্যাস সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায় না। LNG আমদানি করতে হয়, সেটাকে দেশে এনে regasification করতে হয়, তারপর পাইপলাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রে দিতে হয়।

আর এখানেই আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও আমাদের বিপদে ফেলেছে।

বাংলাদেশের বর্তমান LNG সরবরাহ সংকটের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং জ্বালানি সরবরাহের সমস্যারও সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। Reuters জানিয়েছে, গ্যাস সংকটের কারণে বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোর জন্য আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে।

এখন দেখেন আমাদের অবস্থা।

একদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমছে।
অন্যদিকে গ্যাসের দাম ও আমদানি নির্ভরতা বাড়ছে।
তার ওপর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পুরোনো দেনা আছে।
আবার জ্বালানি কিনতেও বৈদেশিক মুদ্রা লাগে।

অর্থাৎ সমস্যাটা শুধু “বিদ্যুৎ উৎপাদন কম”—এত সরল নয়।

এটা আসলে একটা Energy Security Crisis।

আর এই জায়গায় এসে বাংলাদেশের গত কয়েক বছরের বিদ্যুৎ নীতির একটা বড় দুর্বলতা সামনে চলে এসেছে।

আমরা অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করেছি।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—

বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করার পাশাপাশি সেই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে ২০-৩০ বছর চালানোর মতো জ্বালানি নিরাপত্তা কি তৈরি করেছি?

কারণ বিদ্যুৎকেন্দ্র বানিয়ে রাখলেই বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না।

গ্যাস না থাকলে গ্যাসের কেন্দ্র বন্ধ।

কয়লা না থাকলে কয়লার কেন্দ্র বন্ধ।

তেল থাকলেও দাম বেশি হলে উৎপাদন বাড়ানো কঠিন।

বর্তমান সংকটে ঠিক সেটাই হচ্ছে। ১১ আগস্টের দিকে দেশের ৪১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস, কয়লা ও রক্ষণাবেক্ষণজনিত সমস্যায় পুরোপুরি বন্ধ ছিল বলে রিপোর্ট এসেছে। আর চালু থাকা অনেক কেন্দ্রও পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছিল না।

তাহলে এবার আসি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে—

বাংলাদেশ কি সত্যিই বিদ্যুৎ উৎপাদনে দুর্বল হয়ে গেছে?

আমার মনে হয়, বিষয়টা একটু অন্যভাবে দেখা দরকার।

বাংলাদেশের সমস্যা মূলত generation capacity-এর চেয়ে fuel security এবং financial sustainability-এর সমস্যা।

কারণ আমাদের installed capacity অনেক বেড়েছে। কিন্তু সেই capacity সবসময় ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।

এটা অনেকটা এমন—

আপনার কাছে ১০টা গাড়ি আছে।

কিন্তু পেট্রোল কেনার টাকা নেই।

তাহলে রাস্তায় একসঙ্গে ১০টা গাড়ি নামাতে পারবেন?

অবশ্যই না।

বিদ্যুৎকেন্দ্রও ঠিক একই জিনিস।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে—

তাহলে সমাধান কী?

শুধু আরও বিদ্যুৎকেন্দ্র বানানো?

আমার মনে হয়, না।

বরং এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি দরকার energy mix পরিবর্তন করা।

গ্যাসের ওপর এত বেশি নির্ভরতা কমাতে হবে। কয়লা ও তেলের ওপরও অতিরিক্ত নির্ভর করা যাবে না। Solar, wind, nuclear এবং grid-scale storage—সবকিছুকে একসঙ্গে পরিকল্পনার মধ্যে আনতে হবে।

কারণ শুধু fossil fuel দিয়ে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ energy security নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

CPD-এর সাম্প্রতিক power and energy sector analysis-এও দেখা যাচ্ছে, ২০২৬ সালে জ্বালানি সরবরাহ, LNG আমদানি এবং বিদ্যুৎ খাতের ব্যয়ের চাপ একসঙ্গে কাজ করছে। একই সঙ্গে renewable energy-এর জন্য বরাদ্দ ও প্রকল্প বাস্তবায়নের ঘাটতিও রয়েছে।

আর এখানে একটা মজার বিষয় আছে।

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিলে আমরা সাধারণত বলি—

“বিদ্যুৎকেন্দ্র আরও বানাতে হবে।”

কিন্তু পৃথিবীর আধুনিক energy policy আসলে বলছে—

শুধু power plant নয়, পুরো energy system নিরাপদ করতে হবে।

কারণ একটা দেশের electricity security মানে শুধু MW capacity নয়।

এর মানে হচ্ছে—

গ্যাস কোথা থেকে আসবে?
LNG কোথা থেকে আসবে?
কয়লা কোথা থেকে আসবে?
তেল আমদানির টাকা কোথায়?
বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাওনা কীভাবে দেওয়া হবে?
জাতীয় গ্রিড কতটা resilient?
আর যুদ্ধ বা বৈশ্বিক সংকট হলে বিকল্প ব্যবস্থা কী?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না থাকলে ২০ হাজার মেগাওয়াট capacity থাকলেও মানুষ অন্ধকারে থাকতে পারে।

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে—সরকারও বুঝতে পারছে সমস্যাটা শুধু সাময়িক নয়।

আজ প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়ে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, কয়েক দিনের মধ্যে গ্যাস পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি আশা করছেন। একই সঙ্গে সরকার immediate crisis সামলানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি energy-sector সমস্যার সমাধানের কথাও বলেছে।

এটা অবশ্যই ভালো।

কিন্তু এখানেই শেষ নয়।

কারণ কয়েক দিনের জন্য গ্যাস বাড়িয়ে দিলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।

প্রশ্ন হচ্ছে—

আগামী বছর যদি আবার LNG সরবরাহে সমস্যা হয়?

আবার যদি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ হয়?

আবার যদি ডলারের সংকট হয়?

আবার যদি আন্তর্জাতিক জ্বালানির দাম বেড়ে যায়?

তখন কি আবার একইভাবে লোডশেডিং হবে?

এটাই এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় policy question।

আমার মতে, বর্তমান সংকটকে শুধু “লোডশেডিং” হিসেবে দেখলে আমরা ভুল করব।

এটা বাংলাদেশের জন্য একটা wake-up call।

আমাদের বুঝতে হবে—

বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো আর বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এক জিনিস নয়।

বাংলাদেশকে এমন একটা energy system বানাতে হবে যেখানে একটা দেশ, একটা জ্বালানি, একটা LNG supplier কিংবা একটা geopolitical crisis-এর ওপর পুরো বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নির্ভর করবে না।

কারণ আজ গ্যাস সংকট হয়েছে।

কাল অন্য কিছু হতে পারে।

আর তখন যদি আমাদের backup না থাকে, আবারও একই প্রশ্ন উঠবে—

“এত বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকার পরও বিদ্যুৎ নেই কেন?”

এই প্রশ্নের উত্তর আমরা আজ থেকেই তৈরি না করলে ভবিষ্যতে এর দাম শুধু কয়েক ঘণ্টার লোডশেডিং দিয়ে দিতে হবে না।

দাম দিতে হবে শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান, ব্যবসা এবং পুরো অর্থনীতিকে দিয়ে।

আর বাংলাদেশের বর্তমান বিদ্যুৎ সংকট তাই শুধু অন্ধকারের গল্প নয়।

এটা আসলে বাংলাদেশের energy security কতটা দুর্বল—তার একটা বড় সতর্কবার্তা।

--- নিশো
CSE Department, IUBAT

14/08/2026

ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করুন।

13/08/2026

মাঝেমাঝে কিছু মেয়েদের ডে,পোস্ট দেখে খুব খারাপ লাগে।
They’re like helpless. Blind in love. Literally begging to stay a man. ইভেন ডে পোস্ট দিয়ে এটাও বুঝাতে চায় how to treat her. Just tell me one thing girl,”Is this really helpful? Does it makes your relationship perfect? No. Never beg anyone for anything. If you have to beg for love,attention,time,loyalty,gifts
trust me silly lady this isn’t LOVE. Love is beautiful by it’s own way. যে ভালোবাসে তাকে কিছু বলে দিতে হয় না তার কাছে কিছু চাইতে হয় না। তাকে শিখিয়ে পড়িয়ে নিতে হয় না।

Untill you date a generous man,you will never understand how much men love to provide for their women.
Not RICH but generous.

কিছু মানুষ বলে আকড়েপাকড়ে ধরে রাখার নামই ভালোবাসা। কিন্তু তার জন্যই করো যে তোমার জন্য করে।
মানুষ বাঁচে খুব অল্প সময়। ভালোবাসা নিয়ে বাঁচো,ভালোবাসা ভিক্ষা চেয়ে না।

12/08/2026

🙂

06/08/2026

বিধি তুমি বলে দাও আমি কার, দুটি মানুষ একটি মনের দাবিদার 😀

05/08/2026

জুলাই গণঅভ্যুত্থান:
গণতন্ত্র, তরুণ সমাজ ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ:

ইতিহাসের প্রতিটি যুগ একটি প্রশ্ন রেখে যায়, কিন্তু তার উত্তর লেখে পরবর্তী প্রজন্ম। ২০২৪ সালের জুলাই বাংলাদেশের জন্য তেমনি এক সময়। যা কেবল একটি ঘটনার স্মৃতি নয়, বরং তা কেবল আত্ম-পরিচয় গণতান্ত্রিক চেতনা এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রগঠনের দায়িত্ব নিয়ে নতুনভাবে ভাষার এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ্য। সেই সময়ের আলোচনাগুলো রাজপথের সীমানা ছাড়িয়ে পৌঁছে শিক্ষাঙ্গন, পরিবার কর্মক্ষেত্রে এবং সাধারণ মানুষের কাছে। যেন সমগ্র জাতির সামনে একটি প্রশ্ন এসে দাঁড়িয়েছিল- আমরা কেমন বাংলাদেশ আগামী প্রজন্মের হাতে তুলে দিতে চাই? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার মাঝেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত তাৎপর্য নিহিত। কারণ কোন জাতির ভবিষ্যৎ কেবল রাজনৈতিক ঘটনায় নির্ধারিত হয়না, তা কেবল গড়ে ওঠে মানুষের মূল্যবোধ, নাগরিক দায়িত্ব এবং যৌথ স্বপ্নের ভিত্তির ওপর।
বাংলাদেশের ইতিহাস প্রমাণ করে, জাতির অগ্রযাত্রা বিচ্ছিন্ন কোন কোন ঘটনার ফল নয়। এটি দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং অবিচল প্রত্যয়ের ধারাবাহিক ফসল। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এর মাধ্যমে মাতৃভাষার মর্যাদা ও জাতীয় আত্মপরিচয়ের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের উত্থান দেখিয়েছিল ঐক্যবদ্ধ জনগণের শক্তি ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিতে পারে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আত্মমর্যাদার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি এনে দেয়। ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। ভিন্ন সময় ও ভিন্ন বাস্তবতার শর্তেও এসব অধ্যায় একটি অদৃশ্য সুতোয় বেঁধে রেখেছে ন্যায়, মর্যাদা এবং অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষা। ২০২৪ সালের জুলাই সেই ধারাবাহিকতারই একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।

04/08/2026

Same same but different 🙂

04/08/2026

গল্প: অবসরের টাকা

পর্ব – ১ : শেষ বেতনের পরের সকাল

আবদুল কাদেরের জীবনে "মাসের প্রথম দিন" বলে একটা বিশেষ অনুভূতি ছিল।

পঁয়ত্রিশ বছর ধরে প্রতি মাসের প্রথম দিনে ঘুম ভাঙত একটু অন্যরকম। ব্যাংকে বেতন ঢুকেছে কি না, সেই উত্তেজনা না থাকলেও একটা নিশ্চিন্তি থাকত—এই মাসটাও সংসার চলবে।

কিন্তু আজ মাসের প্রথম দিন।

আজ আর কোনও বেতন আসবে না।

গতকালই সরকারি অফিস থেকে শেষবারের মতো বেরিয়েছেন। টেবিলের ড্রয়ার খালি করেছেন। পুরোনো ডায়েরি, দুইটা কলম, একটা ফাটা মগ আর একগুচ্ছ কাগজ ব্যাগে ভরে সহকর্মীদের সঙ্গে ছবি তুলেছেন।

সবাই বলেছে—

"স্যার, এখন আরাম করবেন।"

তিনি শুধু হেসেছেন।

যে মানুষ সারাজীবন দায়িত্বকে পেশা বানিয়ে বেঁচেছে, তার কাছে "আরাম" শব্দটা অনেকটা অচেনা ভাষার মতো।

---

সকালে ফজরের নামাজ শেষে বারান্দায় বসে ছিলেন।

রাস্তার পাশে কৃষ্ণচূড়া গাছটা বাতাসে দুলছে।

চা নিয়ে এলেন স্ত্রী সালমা।

—"কী ভাবছ?"

কাদের সাহেব চায়ের কাপের ধোঁয়ার দিকে তাকিয়ে বললেন,

—"আজকে কেউ অফিসে ফোন করবে না।"

সালমা মৃদু হেসে বললেন,

—"এই বয়সে মানুষ ফোন না বাজলে শান্তি পায়।"

—"যারা দরকারি ছিল, তারা পায়। যারা কাজকে জীবন বানিয়ে ফেলেছে, তারা পায় না।"

কথাটা বলে তিনি চুপ করে গেলেন।

---

দুপুরে ব্যাংক থেকে ফোন এল।

গ্র্যাচুইটি, প্রভিডেন্ট ফান্ড, ছুটির নগদায়ন—সব মিলিয়ে টাকা জমা হয়েছে।

ত্রিশ লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার টাকা।

সংখ্যাটা দেখে তাঁর হাত কেঁপে উঠল।

এত বড় অঙ্কের টাকা তিনি জীবনে কখনও একসঙ্গে দেখেননি।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়—

তিনি এক মুহূর্তের জন্যও নিজেকে ধনী মনে করলেন না।

বরং ভয় পেলেন।

কারণ এই টাকা আয় নয়।

এটাই শেষ।

এখান থেকে আর কিছু যোগ হবে না।

শুধু কমবে।

---

বিকেলে ছেলে রায়হান বাসায় ফিরল।

চোখেমুখে অদ্ভুত উত্তেজনা।

ব্যাগ ছুড়ে রেখে বলল—

—"আব্বু, একটা খবর আছে!"

কাদের সাহেব হেসে বললেন,

—"চাকরি পেয়ে গেছিস নাকি?"

—"না। তার থেকেও বড়।"

—"বল।"

রায়হান একটা খাম বাড়িয়ে দিল।

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো।

ভর্তি নিশ্চিত।

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং।

দেশের অন্যতম পরিচিত একটি বিশ্ববিদ্যালয়।

রায়হানের চোখ চকচক করছে।

—"আব্বু... আমি চান্স পেয়েছি।"

কাদের সাহেব অনেকক্ষণ চুপ করে খামটার দিকে তাকিয়ে রইলেন।

তারপর ধীরে বললেন—

—"ভর্তি ফি কত?"

রায়হান একটু ইতস্তত করল।

—"প্রথম সেমিস্টারসহ প্রায় চার লক্ষ টাকা লাগবে।"

চায়ের কাপটা কাদের সাহেবের হাত থেকে প্রায় পড়ে যাচ্ছিল।

চার লক্ষ।

একটা সংখ্যা।

কিন্তু অবসরপ্রাপ্ত মানুষের কাছে সংখ্যারও ওজন থাকে।

---

রাতে খাওয়ার টেবিলে কেউ তেমন কথা বলল না।

শুধু প্লেটের শব্দ।

চামচের শব্দ।

সালমা বুঝতে পারছিলেন, আজ খাবারের স্বাদ কেউ টের পাচ্ছে না।

খাওয়া শেষে রায়হান সাহস করে বলল—

—"আব্বু..."

—"হুম?"

—"আমি জানি টাকাটা অনেক। কিন্তু আমি চেষ্টা করব। স্কলারশিপ পাব। পার্ট-টাইম করব।"

কাদের সাহেব বললেন—

—"সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজাল্ট?"

—"হয়নি।"

—"হলে?"

—"হলে যাব। কিন্তু যদি না হয়?"

কাদের সাহেব উত্তর দিলেন না।

---

সেই রাতে তিনি ঘুমাতে পারলেন না।

আলমারি খুলে একটা পুরোনো টিনের বাক্স বের করলেন।

ভেতরে একটা ছোট্ট লাল ডায়েরি।

প্রথম পাতায় লেখা—

"স্বপ্নের হিসাব।"

১৯৯৩।

প্রথম বেতন—

৩,৮৫০ টাকা।

ডায়েরির পাতায় পাতায় হিসাব।

"আজ নতুন শার্ট কিনব ভেবেছিলাম। কিনলাম না।"

"সালমার সোনার কানের দুল পরে হবে।"

"রায়হানের জন্য সঞ্চয়।"

"বৃষ্টি হচ্ছে। বাসে না উঠে হেঁটে এলাম। বারো টাকা বাঁচল।"

কেউ কোনওদিন এই ডায়েরি পড়েনি।

কারণ মানুষ তার কষ্টের হিসাব অন্যকে দেখাতে ভালোবাসে না।

শুধু ফলটা দেখাতে ভালোবাসে।

---

ভোরের দিকে কাদের সাহেব ছাদে উঠলেন।

দূরে আজানের শব্দ।

হঠাৎ মনে পড়ল—

তাঁরও একদিন স্বপ্ন ছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বেন।

ইঞ্জিনিয়ার হবেন।

কিন্তু দাদার মৃত্যুর পর সংসারের দায়িত্ব কাঁধে এসে পড়েছিল।

ভর্তি ফরম তুলেছিলেন।

জমা দিতে পারেননি।

কারণ সেই টাকায় ছোট বোনের ওষুধ কিনতে হয়েছিল।

সেদিন তিনি কাউকে দোষ দেননি।

জীবনকে দিয়েছিলেন।

আজ এত বছর পরে মনে হচ্ছে—

জীবনও হয়তো মানুষকে পুরোপুরি ভুলে যায় না।

শুধু অন্য সময়ে একই প্রশ্ন আবার সামনে এনে দাঁড় করায়।

---

পরদিন সকালে ব্যাংকে গেলেন।

ম্যানেজার হাসিমুখে বললেন—

—"স্যার, এত টাকা সেভিংসে রাখবেন না। ভালো একটা ফিক্সড ডিপোজিট করে দিন। মাসে মাসে লাভ পাবেন।"

কাদের সাহেব হিসাব কষলেন।

যদি সব টাকা জমা রাখেন—

বার্ধক্য নিরাপদ।

যদি চার লক্ষ বের করেন—

নিরাপত্তায় একটা ফাটল ধরবে।

সংখ্যা কখনও মিথ্যা বলে না।

কিন্তু সংখ্যার একটা সীমাবদ্ধতা আছে।

সে শুধু টাকা গোনে।

মানুষের স্বপ্ন গোনে না।

---

সন্ধ্যায় রায়হান দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল।

অনেকক্ষণ।

ভেতরে ঢোকার সাহস হচ্ছিল না।

শেষ পর্যন্ত বলেই ফেলল—

—"আব্বু... যদি না পারো, সমস্যা নেই। আমি এক বছর ড্রপ দেব। আবার চেষ্টা করব।"

কাদের সাহেব ছেলের দিকে তাকালেন।

একটা কথা তাঁর বুকের ভেতর ঘুরছিল।

"আমি কি ছেলের ভবিষ্যৎ কিনব, নাকি নিজের বার্ধক্যের নিরাপত্তা?"

প্রশ্নটা যত সহজ শোনায়, উত্তরটা তত সহজ নয়।

কারণ বাবা-মা কখনও শুধু টাকার হিসাব করেন না।

তারা হিসাব করেন—

আজ যে টাকা খরচ করছি, সেটা কি কাল আমার ছেলের মুখে হাসি হবে?

নাকি আমার নিজের অসহায়তার কারণ?

কাদের সাহেব জানতেন না।

কিন্তু তিনি বুঝতে পারছিলেন—

এই সিদ্ধান্ত শুধু ভর্তি ফি নিয়ে নয়।

এটা একজন অবসরপ্রাপ্ত বাবার বাকি জীবনের সংজ্ঞা বদলে দিতে পারে।

.

রাত তখন প্রায় দুইটা।

ঘরের সবাই ঘুমিয়ে।

শুধু আবদুল কাদেরের ঘরের বাতিটা জ্বলছে।

টেবিলের উপর একটা সাদা কাগজ।

এক পাশে লেখা—

"ফিক্সড ডিপোজিট"

অন্য পাশে—

"রায়হানের ভর্তি"

তিনি কলম হাতে নিয়ে বারবার হিসাব করছেন।

ত্রিশ লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার।

চার লক্ষ বের হলে থাকবে ছাব্বিশ লক্ষের একটু বেশি।

তারপর মাসে সংসার খরচ।

বিদ্যুৎ বিল।

গ্যাস।

ওষুধ।

ডায়াবেটিস।

ব্লাড প্রেসার।

হঠাৎ হাসপাতালে ভর্তি হতে হলে?

মানুষ অবসর নেওয়ার পর মৃত্যুকে ভয় পায় না।

ভয় পায় অসুস্থ হয়ে বেঁচে থাকতে।

কারণ অসুস্থতা শুধু শরীরকে খায় না, সঞ্চয়কেও খেয়ে ফেলে।

কাদের সাহেব দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

বইয়ের তাক থেকে একটা পুরোনো ফাইল নামালেন।

ভিতরে ছিল তাঁর চাকরির প্রথম নিয়োগপত্র।

মাসিক বেতন—৩,৮৫০ টাকা।

তিনি অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইলেন।

তারপর নিজের অজান্তেই হেসে ফেললেন।

"এই টাকা দিয়েই তো সংসার শুরু করেছিলাম।"

---

পরদিন দুপুরে তাঁর পুরোনো বন্ধু হাবিবুল্লাহ দেখা করতে এলেন।

একসঙ্গে চাকরি করতেন।

চা খেতে খেতে হাবিব বললেন—

—"কী খবর? অবসর জীবন কেমন?"

—"এখনও বুঝে উঠতে পারিনি।"

—"শুনলাম ছেলের প্রাইভেটে চান্স হয়েছে?"

—"হ্যাঁ।"

—"ভর্তি করিয়ে দাও।"

কাদের সাহেব চুপ।

হাবিব আবার বললেন—

—"তুমি কী ভাবছ?"

—"আমার পরে যদি কিছু হয়?"

—"সেটা তো হবেই।"

—"মানে?"

—"আমাদের বয়সে সবাই একটা ভুল করে। আমরা ভাবি, টাকা থাকলে ছেলেমেয়ে নিরাপদ থাকবে। অথচ অনেক সময় উল্টোটা সত্যি। মানুষকে নিরাপদ করে টাকা না, মানুষই টাকা বানায়।"

কাদের সাহেব বললেন—

—"কথায় সহজ লাগে।"

—"সহজ না। আমার ছেলের কথা মনে আছে?"

কাদের মাথা নাড়লেন।

হাবিবের ছেলে বিদেশে।

দশ বছর ধরে কানাডায়।

হাবিব ধীরে বললেন—

—"ওকে বিদেশে পাঠানোর সময় আমার বাড়ি বন্ধক রাখতে হয়েছিল। সবাই বলেছিল পাগল হয়েছি। আজ সেই ছেলেই আমার চিকিৎসার খরচ দেয়।"

একটু থেমে আবার বললেন—

—"সব বিনিয়োগ ব্যাংকে হয় না। কিছু বিনিয়োগ মানুষের ভেতরেও হয়।"

---

সেদিন বিকেলে রায়হান বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে ফিরে অনেক ছবি দেখাচ্ছিল।

বড় লাইব্রেরি।

কম্পিউটার ল্যাব।

রোবোটিক্স ক্লাব।

স্টার্টআপ ইনকিউবেশন সেন্টার।

তার চোখে এমন একটা আলো ছিল, যেটা কাদের সাহেব বহু বছর আগে আয়নায় নিজের চোখে দেখেছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ফরম হাতে নেওয়ার দিন।

হঠাৎ তিনি ছবিগুলো আর দেখতে পারলেন না।

চোখের সামনে ঝাপসা হয়ে গেল।

---

রাতে সালমা বললেন—

—"তুমি এখনও সিদ্ধান্ত নাওনি?"

—"না।"

—"ভয় পাচ্ছ?"

—"খুব।"

—"কীসের?"

—"বৃদ্ধ হওয়ার।"

সালমা মৃদু হেসে বললেন—

—"আমরা তো অনেক আগেই বুড়ো হয়ে গেছি।"

—"না। বুড়ো হওয়া আর নিরাপত্তাহীন বুড়ো হওয়া এক জিনিস না।"

সালমা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন।

তারপর আলমারি খুলে একটা ছোট লাল কাপড়ের পুঁটলি নিয়ে এলেন।

ভিতরে তাঁর বিয়ের সময়ের সোনার চুড়ি।

দুই জোড়া।

বছরের পর বছর তিনি এগুলো তেমন পরেনও না।

কাদের অবাক হয়ে বললেন—

—"এগুলো কেন?"

—"বিক্রি করে দাও।"

—"তুমি পাগল হয়েছ?"

—"না।"

—"এগুলো তোমার।"

সালমা শান্ত গলায় বললেন—

—"আমার কীসের? বিয়ের পর থেকে নিজের জন্য আমি কী কিনেছি?"

কাদের চুপ।

সালমা আবার বললেন—

—"এই চুড়ি পরে আমি কত দিন আয়নায় তাকিয়েছি জানো?"

—"…"

—"প্রথম পাঁচ বছর।"

—"তারপর?"

—"তারপর সংসার।"

তিনি একটু হাসলেন।

"সংসার খুব অদ্ভুত জিনিস। ধীরে ধীরে মানুষকে এমনভাবে বদলে দেয় যে নিজের ইচ্ছাগুলোও আর নিজের বলে মনে হয় না।"

কাদের মাথা নিচু করলেন।

সালমা বললেন—

—"এই চুড়ি যদি আলমারিতে পড়ে থাকে, তাহলে এটা সোনা। যদি রায়হানের ভবিষ্যৎ গড়ে, তাহলে এটা আশীর্বাদ।"

---

সেদিন রাতে কাদের সাহেব প্রথমবার ছেলের ঘরে ঢুকলেন।

রায়হান ঘুমিয়ে।

বই খোলা।

ল্যাপটপে কোড।

দেয়ালে কাগজ লাগানো।

একটায় লেখা—

"একদিন নিজের সফটওয়্যার কোম্পানি করব।"

আরেকটায়—

"স্কলারশিপ না পেলে থামব না।"

আরেকটায়—

"আব্বুকে একদিন বিশ্রাম দেব।"

কাদের সাহেব কাগজটার সামনে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন।

"আব্বুকে একদিন বিশ্রাম দেব।"

বাক্যটা খুব ছোট।

কিন্তু কোনও কোনও বাক্যের ওজন পুরো একটা জীবনের সমান।

তিনি ধীরে ধীরে ছেলের মাথায় হাত রাখলেন।

রায়হান ঘুমের মধ্যেই ফিসফিস করে বলল—

—"আব্বু... আমি পারব..."

কাদেরের বুক কেঁপে উঠল।

মানুষ ঘুমের মধ্যে মিথ্যা বলে না।

---

পরদিন সকালে ব্যাংকে গেলেন।

ম্যানেজার আবার বললেন—

—"স্যার, ফিক্সড ডিপোজিট খুলে দিই?"

কাদের সাহেব চুপচাপ বসে রইলেন।

হঠাৎ পাশের কাউন্টারে একটা বৃদ্ধ লোককে দেখলেন।

বয়স সত্তরের কাছাকাছি।

লোকটা বারবার বলছে—

—"আমার ছেলে ব্যবসা করবে বলে সব টাকা নিয়েছিল। এখন তিন বছর ধরে ফোনও করে না।"

কাউন্টারে দাঁড়ানো কর্মচারী অস্বস্তিতে।

কাদের সাহেবের বুক ধক করে উঠল।

একদিকে সেই বৃদ্ধ।

অন্যদিকে হাবিবের ছেলে।

দুই বাবাই ছেলের জন্য টাকা খরচ করেছিলেন।

একজন পেয়েছেন ভরসা।

আরেকজন পেয়েছেন একাকীত্ব।

জীবনের সবচেয়ে কঠিন বিষয় হলো—

একই সিদ্ধান্ত দুই মানুষের জীবনে সম্পূর্ণ ভিন্ন ফল দেয়।

তাই মানুষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভবিষ্যৎ নয়, নিজের ভয়টাই বেশি দেখে।

ব্যাংক থেকে বেরিয়ে তিনি রাস্তার পাশে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন।

তার মনে হচ্ছিল—

তিনি আসলে চার লক্ষ টাকা নিয়ে ভাবছেন না।

তিনি ভাবছেন—

"আমার ছেলে কি একদিন আমাকে ভুলে যাবে?"

এই প্রশ্নের উত্তর কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসপেক্টাসে লেখা থাকে না।

কোনও ব্যাংকের সুদের হারেও না।

এটার উত্তর মানুষকে বিশ্বাস করেই দিতে হয়।

আর বিশ্বাস—

একমাত্র সম্পদ, যেটা ব্যাংকে জমা রাখা যায় না।


গল্প: অবসরের টাকা

পর্ব – ৩ : যে টাকার সুদ ব্যাংক দেয় না (সমাপ্তি)

পরদিন ভোরে আবদুল কাদের অনেক দিন পর একা হাঁটতে বের হলেন।

রাস্তা প্রায় ফাঁকা।

একটা চায়ের দোকান মাত্র খুলছে।

দোকানদার তাঁকে দেখে বলল,

—"স্যার, আজ একা?"

কাদের হেসে বললেন,

—"এখন তো বেশিরভাগ পথই একা হাঁটতে হবে।"

চায়ের কাপে ধোঁয়া উঠছিল।

হঠাৎ তিনি খেয়াল করলেন, পাশের টেবিলে এক বাবা তার ছোট ছেলেকে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছে।

ছেলেটা বলছে,

—"বাবা, বড় হয়ে আমি তোমার জন্য একটা বড় বাড়ি কিনব।"

বাবা হেসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।

কাদের সাহেবও একসময় এমন কথাই শুনেছিলেন।

রায়হান তখন ক্লাস থ্রিতে।

একদিন স্কুল থেকে ফিরে বলেছিল,

—"আব্বু, আমি বড় হয়ে অনেক টাকা কামাব। তোমাকে আর অফিস করতে দেব না।"

শিশুরা ভবিষ্যৎকে খুব সহজভাবে দেখে।

বড়রা দেখে কিস্তিতে।

---

সকালে নাস্তার টেবিলে তিনজন।

কেউ কথা বলছে না।

শেষ পর্যন্ত কাদের সাহেব নিজেই বললেন,

—"আজ ব্যাংকে যাব।"

রায়হানের হাত থেমে গেল।

সে বুঝতে পারছিল না—এটা ভালো খবর, না খারাপ।

---

ব্যাংকে পৌঁছে কাদের সাহেব ম্যানেজারকে বললেন,

—"একটা কাজ করতে চাই।"

ম্যানেজার কম্পিউটারে তাকিয়ে বললেন,

—"জি, বলুন।"

—"চার লক্ষ টাকা তুলব।"

ম্যানেজার অবাক।

—"পুরো?"

—"হ্যাঁ।"

—"ভর্তির জন্য?"

কাদের সাহেব কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,

—"হ্যাঁ। তবে শুধু ভর্তি না। একটা সুযোগের জন্য।"

ম্যানেজার কাগজ এগিয়ে দিলেন।

স্বাক্ষর করতে গিয়ে কাদের সাহেবের হাত কেঁপে উঠল।

কলমের কালি একটু ছড়িয়ে গেল।

তিনি মনে মনে বললেন,

"এই স্বাক্ষরটা টাকার নয়। বিশ্বাসের।"

---

বিকেলে তিনি রায়হানকে ডাকলেন।

টেবিলের ওপর ব্যাংকের খাম।

রায়হান চুপচাপ দাঁড়িয়ে।

কাদের সাহেব খামটা তার দিকে বাড়িয়ে দিলেন।

—"ভর্তি হয়ে যা।"

রায়হান খামটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ স্থির দাঁড়িয়ে রইল।

তারপর ধীরে বলল,

—"আব্বু... তুমি নিশ্চিত?"

—"না।"

—"মানে?"

—"জীবনের বড় সিদ্ধান্তে কেউ নিশ্চিত থাকে না।"

রায়হান মাথা নিচু করল।

কাদের সাহেব বললেন,

—"আমি তোকে টাকা দিচ্ছি না। আমি আমার ভয়টা তোর ওপর ভরসা করে রেখে দিচ্ছি।"

ঘরটা নিস্তব্ধ হয়ে গেল।

---

সেদিন রাতে কাদের সাহেব রায়হানকে নিয়ে ছাদে বসলেন।

অনেক দিন পর বাবা-ছেলের দীর্ঘ কথা।

—"জানিস, আমি ইঞ্জিনিয়ার হতে চেয়েছিলাম।"

রায়হান বিস্মিত।

—"কখনও তো বলোনি!"

—"সব স্বপ্ন বলা যায় না। কিছু স্বপ্ন সংসার খেয়ে ফেলে।"

—"তুমি কি আমার মাধ্যমে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে চাইছ?"

কাদের সাহেব মাথা নাড়লেন।

—"না।"

—"তাহলে?"

—"আমি চাই না, তুই একদিন আমার মতো আয়নায় তাকিয়ে ভাবিস—'আর একটু সুযোগ পেলে হয়তো অন্যরকম জীবন হতো।'"

রায়হানের চোখ ভিজে উঠল।

---

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিন।

নতুন ব্যাগ।

নতুন পরিচয়পত্র।

নতুন জীবন।

ক্যাম্পাসে ঢোকার আগে রায়হান বাবার দিকে তাকিয়ে বলল,

—"আব্বু, আমি তোমাকে নিরাশ করব না।"

কাদের সাহেব হাসলেন।

—"একটা কথা মনে রাখিস।"

—"কী?"

—"আমাকে খুশি করার জন্য পড়বি না। নিজেকে সৎ রাখার জন্য পড়বি।"

---

বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছর শেষ হলো।

রায়হান ভালো ফল করল।

চাকরিও পেল।

বাড়িতে প্রথম বেতন এনে বাবার হাতে দিল।

আবদুল কাদের সেদিন ভেবেছিলেন—

সব কষ্ট বুঝি শেষ হলো।

কিন্তু জীবন কখনও একদিনে হিসাব মেটায় না।

এক বছর পর রায়হান বলল—

—"আব্বু, আমি মাস্টার্স করতে কানাডায় যেতে চাই।"

কাদের সাহেব একটু চুপ করে জিজ্ঞেস করলেন,

—"টাকা?"

—"প্রথম বছরের জন্য প্রায় বিশ লাখ লাগবে।"

সেদিন অনেকক্ষণ কেউ কথা বলেনি।

যে মানুষটা নিজের অবসরের টাকা ছেলের বিশ্ববিদ্যালয়ে খরচ করেছিলেন, তিনি আবার নিজের শেষ সঞ্চয় ভাঙলেন।

সালমার শেষ সোনার চেইনটাও বিক্রি হলো।

বাড়ির এক টুকরো জমিও।

সবাই বলল,

—"ছেলে একদিন সব ফিরিয়ে দেবে।"

কাদের সাহেবও বিশ্বাস করেছিলেন।

কারণ বাবা-মায়েরা বিশ্বাস করতে ভালোবাসেন।

---

বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে রায়হান বাবাকে জড়িয়ে ধরেছিল।

—"দুই বছরের মধ্যে ফিরে আসব, আব্বু।"

কাদের সাহেব শুধু বলেছিলেন—

—"নিজের খেয়াল রাখিস।"

তিনি বলতে পারেননি—

"আমাদেরও একটু খোঁজ রাখিস।"

কিছু কথা মুখে আনা যায় না।

আনলে নিজের মর্যাদা ছোট হয়ে যায় বলে মনে হয়।

---

দুই বছর গেল।

চার বছর গেল।

তারপর ছয় বছর।

রায়হান আর দেশে ফিরল না।

সেখানে চাকরি পেল।

পরে স্থায়ী বাসিন্দা হলো।

তারপর বিয়ে করল।

সব খবরই ফেসবুক থেকে জানা।

একদিন ছবি দেখলেন।

সাদা বরফের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছেলে, পাশে বিদেশি স্ত্রী।

ক্যাপশন—

"Finally, Home."

আবদুল কাদের অনেকক্ষণ ছবিটার দিকে তাকিয়ে ছিলেন।

'Home' শব্দটার দিকে সবচেয়ে বেশি।

যে বাড়ি বানাতে তিনি সারাজীবন কাটিয়েছেন, ছেলের অভিধানে সেই বাড়িটা আর "Home" নয়।

---

শুরুতে প্রতি শুক্রবার ভিডিও কল হতো।

তারপর মাসে একবার।

তারপর ঈদে।

তারপর...

"Sorry Dad, I'm busy."

"Meeting."

"Will call later."

সেই "later" আর আসেনি।

---

একদিন কাদের সাহেব অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন।

সালমা ছেলেকে ফোন করলেন।

ওপাশ থেকে উত্তর এল—

—"মা, এখন টিকিট পাওয়া খুব কঠিন। তোমরা ভালো ডাক্তার দেখাও। আমি টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছি।"

টাকা এসেছিল।

ছেলে আসেনি।

---

সেদিন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে কাদের সাহেব ধীরে বললেন,

—"সালমা..."

—"হ্যাঁ?"

—"জানো, সবচেয়ে দামি জিনিসটা কী ছিল?"

—"কী?"

—"টাকাটা না।"

—"তাহলে?"

—"আমি ভেবেছিলাম, ত্যাগ করলে সম্পর্কও বড় হয়।"

একটু থামলেন।

চোখ বন্ধ করলেন।

"আসলে ত্যাগ মানুষকে বড় করে। সম্পর্ককে নয়।"

---

শীতের এক সকালে আবদুল কাদের মারা গেলেন।

জানাজার সময় আত্মীয়রা জিজ্ঞেস করল—

—"রায়হান আসছে?"

সালমা মাথা নাড়লেন।

—"ওর ফ্লাইট পায়নি।"

কেউ বিশ্বাস করল।

কেউ করল না।

---

চার দিন পরে বিদেশ থেকে বড় একটা ফুলের তোড়া এল।

সঙ্গে একটা কার্ড।

"Sorry Dad. Rest in Peace."

সালমা অনেকক্ষণ কার্ডটার দিকে তাকিয়ে ছিলেন।

তারপর আলমারির ভেতর থেকে সেই পুরোনো ব্যাংকের রসিদগুলো বের করলেন।

অবসরের টাকার।

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির।

বিদেশে যাওয়ার খরচের।

সব কাগজ একসঙ্গে রেখে তিনি ধীরে বললেন,

"মানুষ ভাবে, সন্তানের জন্য খরচ করা টাকা একদিন সন্তানের ভালোবাসা হয়ে ফিরে আসে।

আসলে টাকা ফিরে আসতে পারে।

উপহার ফিরে আসতে পারে।

বিদেশ থেকে ডলারও আসতে পারে।

শুধু যে মানুষটার জন্য সবকিছু করা হয়েছিল, তার পাশে বসে এক কাপ চা খাওয়ার সময়টা—সেটা আর কখনও ফিরে আসে না।"

বারান্দায় দুটি চেয়ার ছিল।

একটায় সালমা বসে রইলেন।

অন্যটা খালি।

খালি চেয়ারও কখনও কখনও মানুষের সবচেয়ে দীর্ঘ চিঠি হয়ে থাকে।

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Address


Uttara
Dhaka
1203