22/08/2021
আল রাজীর শ্রেষ্ঠতম কৃতিত্বের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হলো ‘আল-হাবী’ । এ গ্রন্থে তিনি তাঁর সময়কাল পর্যন্ত আবিষ্কৃত সব রোগ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং চিকিৎসা পদ্ধতি বর্ণনা করেছিলেন । আল-হাবী গ্রন্থটি রোগসমূহের চিকিৎসা প্রণালী এবং ঔষধ ব্যবস্থাসম্বলিত একটি নির্ভরযোগ্য কোষগ্রন্থ হিসিবে সর্বত্র সমাদৃত হয় ।
‘আল-হাবী’ ২০খন্ডে সমাপ্ত একটি বিশালায়তের গ্রন্থ । এ গ্রন্থে আল-রাযী প্রত্যেক রোগ সম্বন্ধে প্রথমে গ্রীক, সিরিক, আলবি, ইরানি ও ভারতীয় চিকিৎসা প্রণালীর বিস্তারিত বিবরণ সন্নিবেশিত করেছেন । এরপর তাঁর নিজের মতামত এবং ব্যাক্তিগত অবিজ্ঞতা ও গবেষনা বিস্তারিতভাবে সংযুক্ত করেছেন ।
চিকিৎবিজ্ঞানীদের এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের ইতিহাসবিদদের জন্যে দুর্ভাগ্য এই যে, আল-হাবীর বর্তমানে শুধুমাত্র প্রথম ১০টি খন্ডের অস্তিত্ব পাওয়া যায় । সিলিসির কথিত রাজা প্রথম চার্লসের আদেশক্রমে ইহুদি চিকিৎক ফালাজ ইবনে সলিম আল-হাবী গ্রন্থের লাতিন সংস্করণ তৈরি করে ।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের শ্রেষ্ঠতম হিসেবে আল-হাবী ইউরোপীয় চিকিৎসাবিদদের গবেষনায় অসামান্য প্রভাব বিস্তার করেছিল । ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দের পর থেকে ইউরোপের প্রায় সব দেশে গ্রন্থটির ক্রমাগত মুদ্রণ প্রকাশিত হয় এবং ১৫৪২ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে বিভিন্ন ভাষায় পাঁচটি সংস্করণ প্রকাশিত হয় । আল-হাবীর নবম খন্ড ইউরোপের প্রতিটি মেডিকেল কলেজে পাঠ্যপুস্তক হিসেবে ষোল শতক পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল ।
তথ্যসূত্র:
1. Phipps, Claude (5 October 2015). No Wonder You Wonder!: Great Inventions and Scientific Mysteries..
2. "The Comprehensive Book on Medicine – كتاب الحاوي". World Digital Library (in Arabic). 1674 [Around 1674 CE]. Retrieved 2 March 2014.
3. Rāzī, Abū Bakr Muḥammad ibn Zakarīyā (1529). "The Comprehensive Book on Medicine—Continens Rasis". World Digital Library (in Latin). Retrieved 2 March 2014.
4. ^ Emilie Savage-Smith (1996), "Medicine", in Roshdi Rashed, ed., Encyclopedia of the History of Arabic Science]. Routledge, London and New York.
06/08/2021
সাধারণত সার্জারি (অস্ত্রোপচার) করার জন্য অ্যানেসথেশিয়া করার প্রয়োজন হয়। সার্জারির সময় অজ্ঞান করার বিষয়টিকে অ্যানেসথেশিয়া বলে। বর্তমানে সারা পৃথিবীতে নিরাপদ অ্যানেসথেশিয়ার কারণে মানুষের চিকিৎসা অনেক সহজ হয়ে গেছে।
কিন্তু চিকিৎসা শাস্ত্রে কে প্রথম এই অ্যানেসথেশিয়ার প্রক্রিয়া চালু করেন?
আবুল কাসিম আল জাহরাওয়ি (৯৩৬ - ১০৩০ সাল) ছিলেন আন্দালুসবাসী একজন আরব মুসলিম চিকিৎসক, সার্জন এবং কেমিস্ট।
তিনি সর্বপ্রথম শল্য চিকিৎসায় (অস্ত্রপ্রাচার /অপারেশনে) অ্যানেসথেশিয়ার ব্যবহার ঘটান এবং উনাকে আধুনিক শল্য চিকিৎসার জনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি মধ্যযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ সার্জন হিসাবে বিবেচিত।
আল জাহরাওয়ির চিকিৎসাবিজ্ঞান নিয়ে লেখা অন্যতম কিতাব হল “আল-তাসরিফ”, এটি চিকিৎসা সংক্রান্ত অনুশীলনের ত্রিশ খণ্ডের একটি এনসাইক্লোপিডিয়া। এই বইয়ের অস্ত্রোপচার অধ্যায়টি পরে লাতিন ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছিল, জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল এবং পরবর্তী পাঁচশো বছর ধরে ইউরোপের স্ট্যান্ডার্ড পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত ছিল। আধুনিক যুগে অস্ত্রোপচার পদ্ধতি এবং যন্ত্রের ক্ষেত্রে আল জাহরাওয়ির অগ্রণী অবদান পূর্ব পশ্চিম দেশগুলোতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল, যেখানে তাঁর কিছু আবিষ্কার আজও চিকিৎসায় প্রয়োগ করা হয়।
তথ্যসূত্র:-
[1] Hamarneh S. Al-Zahrawi, Abul-Qasim Khalaf Ibn Abbas. In: Gillispie Charles Coulston., editor. Dictionary of Scientific Biography. XIV. Charles Scribner’s Sons Publishers; New York: 1976. pp. 584–585.
[2] muslimheritage.com
[3] Ahmad, Z. (St Thomas' Hospital) (২০০৭), "Al-Zahrawi - The Father of Surgery", ANZ Journal of Surgery, 77 (Suppl. 1): A83, doi:10.1111/j.1445-2197.2007.04130_8
[4] al-Zahrāwī, Abū al-Qāsim Khalaf ibn ʻAbbās; Studies, Gustave E. von Grunebaum Center for Near Eastern (১৯৭৩)। Albucasis on surgery and instruments। University of California Press। আইএসবিএন 978-0-520-01532-6। সংগ্রহের তারিখ ১৬ মে ২০১১।
[5] https://peoplepill.com/people/abu-al-qasim-al-zahrawi/
05/08/2021
‘কিতাবুল মালিকী’ আলী ইবনে আব্বাসকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে অমর করে রেখেছে ।
বিখ্যাত চিকিৎসাবিজ্ঞানী ‘আলী ইবনে আব্বাস’(জন্ম: ৯৩০ খ্রিষ্টাব্দ -মৃত্যু: ৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দ) । চিকিৎসা বিষয়ক গ্রন্থ ‘কিতাবুল মালিকী’ ইবনে আব্বাসকে অমর করে রেখেছে । ১৮৭৭ সালে এটি কায়রো থেকে ২ খন্ডে প্রকাশিত হয় । এর আগে ১৪৪২ সালে ভেসিলে ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ হয়েছিল । অনুবাদক ছিলো ষ্টিফেন । ‘আলী ইবনে আব্বাসে’র ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ করা আরেকটি গ্রন্থ Gottigen লাইব্রেরীতে সংরক্ষিত আছে । গ্রন্থটির নাম Tractatus de Medicina ৩খন্ডে বিভক্ত ; প্রতিটি খন্ডের নাম যথাক্রমে Liber Saritates, Liber Morbi এবং Liber Signorum.
‘আলী ইবনে আব্বাসে’র শ্রেষ্ঠতম অবদান হচ্চে ‘কিতাবুল মালিকী’ এটি ‘কামিনুস সানায়াত’ নামেও পরিচিত । সৌভাগ্যক্রমে এই গ্রন্থের অনেকগুলো পান্ডুলিপি পাওয়া যায় । ১৫২৩ সালে লায়নস্ সংস্করণের পর Michel de Capella এটি ভাষ্যসহ পরে পুনঃপ্রকাশ করে । তার নাম হলো – Liber Tolius medicinae necessaria Continens, guem Haly filus Abbas editit regiqul inscripsit, under regalis dispositionis nomen assumpsit.
‘কিতাবুল মালিকী’ গ্রন্থটি ২০ খন্ডে বিভক্ত । এই বিশাল গ্রন্থটির প্রথম ১০ খন্ডে তত্ত্বীয় এবং শেষ ১০ খন্ডে ব্যবহারিক প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে । ২য় এবং ৩য় খন্ডে রয়েছে এনাটমি সংক্রান্ত রচনা । dr. R. Koning লিভেন থেকে ১৯০৩ সালে এই ২খন্ডকে Trais taraites d’anatomic Arabs নাম দিয়ে ফরাসী ভাষায় অনুবাদ করেছে । বইটির ১৯তম খন্ডের ১১০টি অধ্যায়ে সার্জারী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে ।
আগামীতে ‘কিতাবুল মালিকী’ নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ !
তথ্যসূত্র:
1. Frye, R. N., ed. (1975). The Cambridge history of Iran (Repr. ed.). London: Cambridge U.P. ISBN 978-0-521-20093-6. The greatest of these figures, who ushered in the golden age of Islamic medicine and who are discussed separately by E. G. Browne in his Arabian Medicine, are four Persian physicians: 'All b. Rabban al-Tabarl, Muhammad b. Zakariyya' al-Razl, 'All b. al-'Abbas al-Majusi and Ibn Sina.
2. ^ Richter-Bernburg, L. "ʿALĪ B. ʿABBĀS MAJŪSĪ". ENCYCLOPÆDIA IRANICA. Retrieved 20 April 2016.
3. ^ Nurdeen Deuraseh and Mansor Abu Talib (2005), "Mental health in Islamic medical tradition", The International Medical Journal 4 (2)
03/08/2021
বিশ্বের বিভিন্ন মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আধুনিক রসায়নের জনক ‘জাবির ইবনে হাইয়ানে’র রসায়ন বিষয়ক গ্রন্থগুলো হলো-
1) উস তুকিসিল উসিল আউয়াল ইলাল বারামেক (The frist book of foundation to barmaecides) ১৮৯৯ ভারতে পুনরায় ছাপানো হয় ।
2) তাফসিরুল উসতুকিস্ (An Explanation of Istuqus)
3) সুন্দুকুল হিকমা ( The casket of Wisdom) কায়রোর রাজকীয় লাইব্রেরীতে পান্ডুলিপি আকারে রক্ষিত আছে ।
4) কিতাব ইখরাজ মা ফিল কাওয়াতে ইলা আল ফিল (The Book of Extraction from Ptentiality to Actuality) কায়রোর রাজকীয় লাইব্রেরীতে সংরক্ষিত
5) কিতাবুল হুদুদ (The Book of definitions)কায়রোর রাজকীয় লাইব্রেরীতে সংরক্ষিত ।
6) কাশফুল আসরার ওয়া হাক্কুল আসতার (The unveiling of Secrits and the Reasling of veils) বর্তমান ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে ।
7) রিসালা ফিল কিমিয়া (Letter on Chemistry) কায়রো
8 ) খাওয়াসুল ইকসিরুজ জাহাব (The Progerties of Elinir of gold) প্যারিস Bisi, Nat, Agrbe- এ সংরক্ষিত আছে ।
9) কিতাবুল মুকাবিলা ওয়াল মুমাসিলা (The Book of comparison and Similituoles) বার্লিন মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে ।
10) কিতাবুর রহমত (The Book of Mercy) লিডেনে সংরক্ষিত ।
11) কিতাবু রাহমাস্ সগীর (The Little Book of Mercy) প্যারিসে সংরক্ষিত ।
12) কিতাবুত্ তাজমী (The Book of concentration ) লিডেনে সংরক্ষিত ।
13) কিতাবুত্ তাজরীদ (The Book of Abstraction) ভারতে সংরক্ষিত ।
14) কিতাবুস সহল (The Book of Ease) ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত ।
15) কিতাবুস সাফী (The Book of Purity)ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত ।
16) কিতাবুল ইহরাক (The Book of combustion)ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত ।
17) কিতাবুত্ তাকলীস (The Book of Calcination)
18) কিতাবুল আবদাল (The Book of Exchanges)
19) কিতাবুল উসুল (The Book of Roots i.e fundamental principles)ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত ।
20) কিতাবুর রাহা (The Book of Repose)
21) কিতাবু সিরর আল মাকতুম (The Book of the hidden secret)
22) কিতাবুজ জাহাব (The Book of Gold)
23) কিতাবুল ফুদ্দা (The Book of Silver)
24) কিতাবুল নুহাস (The Book of Copper)
25) কিতাবুল হাদীদ (The Book of Iron)
26) কিতাবুল উসরুর (The Book of Lead)
27) কিতাবুল কালী (The Book of Tin)
28) কিতাবুল খারসিনি (The Book of Tutenag)
29) কিতাবুল ইজাজ (The Book of Abbreviation)
30) কিতাবুল নার ওয়াল হাজার (The Book of Fire And Stone)
31) কিতাবুত তানকিয়া (The Book of Cleanning)
32) কিতাবুত তানজীল (The Book of Reduction per descensum)
33) কিতাবুস সুমুম (The Book of Poisons)
34) তাদবীরুল হাকামাল কুদামা (The Book of Operation of the Ancient Sages)
35) কিতাবুর রিয়াদ (The Book of Garfen)
এছাড়াও আরও অনেক গ্রন্থের নাম পাওয়া যাচ্চে । ঐতিহাসিক তথ্য ভিন্নতায় এ তালিকা আরও সমৃদ্ধ হচ্চে ।
তথ্যসূত্র:
• Holmyard EJ, editor. The Arabic Works of Jabir ibn Hayyan, translated by Richard Russel in 1678. New York: EP Dutton; 1928. [Google Scholar]
• All of the preceding in Kraus 1942–1943,.
• ^ Edited by Darmstaedter 1925.
• ^ Zirnis 1979. Jabir explicitly notes that the version of the Emerald Tabletquoted by him is taken from "Balīnās the Sage" (i.e., pseudo-Apollonius of Tyana), although it differs slightly from the (probably even earlier) version preserved in pseudo-Apollonius of Tyana's Sirr al-khalīqa (The Secret of Creation): see Weisser 1980,
• ^ Zirnis 1979. On some Shi'ite aspects of The Book of the Element of the Foundation, see Lory 2016.
• ^ Edited by Berthelot 1906; the Latin translation of one of the seventy treatises (The Book of the Thirty Words, Kitāb al-Thalāthīn kalima, Kr. no. 125, translated as Liber # # # verborum) was separately edited by Colinet 2000. In the ms. used by Berthelot, the name of the translator appears as a certain Renaldus Cremonensis (Berthelot 1906, cf. Forster 2018). However, a medieval list of the works translated by Gerard of Cremona (Latin: Gerardus Cremonensis) mentions the Liber de Septuaginta as one of the three alchemical works translated by the magister (see Burnett 2001, , cf. Moureau 2020,).
01/08/2021
চিকিৎসাবিজ্ঞানে ইবনে সিনার বিষ্ময়কর দক্ষতা।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে ইবনে সিনার বিষ্ময়কর দক্ষতার কথা বলতে গিয়ে ‘নিজামী’ এক আশ্চর্য ঘটনা বর্ণনা করেছেন ।
একবার বুয়াইদ বংশীয় একজন যুবরাজ এক বিচিত্র ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় । এরকম রোগের কথা কেউ কখনও শোনেনি । অসুস্থ যুবকের বদ্ধমূল ধারণা হয়েছে, সে একটা গরু ! তাই অল্পদিনের গরুসুলভ আচরণও মধ্যে শুরু করে । যখন-তখন সে ‘হাম্বা হাম্বা’ শদ্ব করতো এবং সবাইকে কাতর গলায় অনুরোধ জানাতো- ‘দয়া করে আমাকে জবাই করুন । আমি খুব ভালো গরু । আমার গোস্তে উৎকৃষ্ট কাবার হবে’ । যুবকের এরকম বিচিত্র ও অসহ্য আচরণে বাড়ির লোকেরাতো অবশ্যই এমনকি প্রতিবেশীরাও অতিষ্ঠ হয়ে উঠলো । শেষ পর্যন্ত যুবকটির এমন অবস্থা হলো যে, সে খাওয়া-দাওয়া সম্পূর্ণ ছেড়ে দিলো । রাজবংশের ছেলের চিকিৎসায় ডাক্তার-কবিরাজের কোন অভাব থাকলো না । অনেক ডাক্তার-কবিরাজ আসলো । রকমারি সব ঔষধপত্র দিলো । কিন্তু কোন কিছুতেই কিছু হলো না । যুবকের হাম্বা হাম্বা শদ্ব আর জবাই করার একঘেয়ে আবদাদের সবাই বিরক্তির শেষ সীমায় চলে গেল ।
আলাউদ্দৌলা অবশেষে এ ব্যাপারে শরণাপন্ন হলেন তাঁর বিচক্ষণ ও নির্ভরযোগ্য মন্ত্রী ইবনে সিনার । গুরুত্বপূর্ণ রাজদায়িত্ব পালনে অসম্বব ব্যাস্ততার জন্যে আলাউদ্দৌলা তাঁর অসুস্থ আত্মীয়ের কথা ইবনে সিনাকে বলার অবকাশ পাননি ।
এখানে উল্লেখ্য যে, ইবনে সিনা ইস্পাহানে পৌছার সঙ্গে সঙ্গে বাদশা আলাউদ্দৌলা অনেক মূলবান উপহার সামগ্রী সহ এসে ইবনে সিনাকে অভ্যার্থনা জানালেন । কিছুদিনের মধ্যেই ইবনে সিনা যথাযোগ্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হলেন ইস্পাহানের শাহি দরবারে । তাঁর বিচক্ষণতায় সন্তুষ্ট হয়ে বাদশা আলাউদ্দৌলা ইবনে সিনাকে নিযুক্ত করলেন রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবে ।
ইবনে সিনা, বাদশা আলাউদ্দৌলা মুখ থেকে সব কথা শুনে রোগীর কাছে লোক মারফৎ এই সুখবর পাঠালেন যে, ‘আর কোন চিন্তা নেই । তোমাকে জবাই করার জন্যে সত্যিই একজন কসাই আসছে এবার’ । রোগীর তখন মুমূর্ষ অবস্থা । কিন্তু কসাই আসছে- এই কথাটা কানে আসা মাত্রই সঙ্গে সঙ্গে সে খুশিতে শয্যার উপর উঠে বসলো ।
ইবনে সিনা নিজেই একটা বড় চকচকে ধারালো ছুরি হাতে রোগীর ঘরে ঢুকে হাক দিলেন, ‘কই, গরুটা কোথায় ? আমি জন্তুটাকে জবাই করতে এসেছি।’ রোগী তো সঙ্গে সঙ্গে হাম্বা হাম্বা আওয়াজ করে নিজের অবস্থান ঘোষনা করতে লাগলো মহা আনন্দে । কসাইরূপী ইবনে সিনা বললেন, ‘তোমরা চটপট গরুটাকে ভালো করে বেঁধে ফ্যাল তো ! হুশিয়ার, পা-গুলো কষে বাঁধবে কিন্তু । একটুও যেন নড়তে না পারে ।’ অন্য কেউ সেই হুকুম তামিলের সুযোগ পেল না । তার আগেই রোগী রোগশয্যা থেকে দৌড়ে এসে মেঝের উপর কাৎ হয়ে শুয়ে পড়লো । নড়াচড়া একদমই নেই । তবুও কশাইয়ের কথামতো কয়েকজন তাগড়া লোক মোটা দাড়ি এনে যুবকের হাত-পা-গুলো বেঁধে ফেললো । এবার ছুরি ধার করে এগিয়ে এলেন ইবনে সিনা । প্রকৃত কশাই যেমন সত্যিকারের গরু জবাইয়ের আগে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখে- তিনি ঠিক সেই ভাবে পরখ করতে লাগলেন রজ্জুবদ্ধ যুবকটিকে । কিছুক্ষন হাত-পা টিপেটুপে দেখে মুখ বেঁকিয়ে বললেন, ‘এতো দেখছি হাড্ডিসার গরু । এই রোগা গরুর গোস্ত কে খাবে ? নাহ্- এরকম একটা টিঙটিঙে গরু জবাই করতে আমি রাজি নই । একে বেশী বেশী ঘাস-পানি খাওয়াতে হবে, বুঝলে ? তাহলে শিকগির সে জবাই করার উপযুক্ত হবে । এখন এই বাজে গরুটাকে জবাই করা যাবে না ।’ তারপর রোগীর দিকে চেয়ে বললেন, ‘ভালোভাবে খড়বিচালি খাও- বুঝতে পারলে ! তোমাবে বেশ মোটাতাজা হতে হবে । নইলে গলায় ছুরি ধরবে না !’
আশ্চর্য! কথামতো কাজ হলো । অল্পকয়েকদিনের মধ্যে রোগীর ক্ষুধামান্দ্য দূর হলো এবং আগের মতোই তার খিদে পেতে লাগলো । সে পেট ভরে খেতে শুরু করলো । সেইসঙ্গে তার খাবারের মধ্যে মিশিয়ে দেয়া চলতে লাগলো ইবনে সিনার দেয়া ঔষধ । একমাসের মধ্যে দেখা গেল যুবকটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠল । নিজেকে তার অবিরাম গরু মনে করা এবং অবিলম্বে জবাই হবার বাসনা মিলিয়ে গেল বিষ্ময়ভাবে ।
ইবনে সিনা নিজ প্রতিভার যোগ্যতায় ইস্পাহানের বাদশা আলাউদ্দৌলার অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও অন্তরঙ্গ বন্ধুতে পরিণত হন তার প্রমাণ পাওয়া যায় ‘চাহার মাকালার’ বর্ণনায় ।
তথ্যসূত্র:
1. The Air of History (Part V) Ibn Sina (Avicenna): The Great Physician and Philosopher
2. (IBN SINA) A short biograpgy of ibn sina by Abu Kaiser
22/07/2021
জ্যোর্তিবিজ্ঞানে ‘ইবনে সিনা’ ও ‘আবু সাহলে’র অসামান্য প্রতিভা ।
সময়টা ছিল ১০১৭ ইসায়ী বিদ্রোহীরা খারেজমের স্বাধীণতা ছিনিয়ে নিল তখন ‘ইবনে সিনা’ খারেজমেই ছিলেন । এসময়ে সমগ্রবিশ্ব ‘সুলতান মাহমুদে’র ভয়ে থর থর করে কাঁপতো । ‘সুলতান মাহমুদ’ বিদ্রোহ দমন করে খারেজম দখলে নিয়ে নিলেন । তিনি মুসলিম বিজ্ঞানীদের অত্যন্ত কদর করতে এবং চাইতেন উনার রাজসভায় থেকে যেন গবেষনা চালিয়ে যান । এসময় আল-বিরুনী ও সুলতান মাহমুদের অনুরোধে রাজ সভায় থেকে যান ।
কিন্তু ‘ইবনে সিনা’ সহ আরও কয়েকজন মুসলিম বিজ্ঞানী খারেজম ছেড়ে চলে যান ।
এদিকে ইবনে সিনা সারারাত হেঁটে পৌছালেন এক ছায়াছন্ন জায়গায় । সেখানে কয়েকটা কুয়ো পাওয়া গেল । সিদ্ধান্ত নিলেন এখানে খানিকটা বিশ্রাম নিবেন । ইবনে সিনার সাথে ছিলেন আরেক জ্যোর্তিবিজ্ঞানী আবু সাহল । উভয়েই জ্যোর্তিবিজ্ঞানী তৎকালীন খ্যাতির উচ্চশিখরে ছিলেন । নিজেদের ভাগ্যে কি আছে তা জানার জন্যে বসে গেলেন ক্যালকুলেশনে । গণনায় জানা গেল, এবার দুজন পথ হারিয়ে ফেলবেন এবং আরও বেশী দূর্ভোগের মধ্যে নিপতিত হবেন । নিজেদের ভাগ্য গণনা করে আবু সাহল দেখলেন যে এ যাত্রায় তিনি আর রেহাই পাবেন না । হয়তো মৃত্যুর মুখে পতিত হতে হবে । ভারাক্রান্ত গলায় ইবনে সিনাকে বললেন, এটাই হয়তো আমাদের শেষ সাহচর্য আর আমাদের দেখা হবে না ।
জ্যোর্তিবিজ্ঞানী আবু সাহল ও ইবনে সিনা কতটা উচ্চ পর্যায়ের ছিলেন তা বিশ্বের কাছে বিষ্ময়কর ছিল । দেখা গেল উনাদের ভবিষৎবানী সত্যি হয়ে গেল । বিশ্রামস্থল থেকে যাত্রা করার চার দিনের মাথায় প্রচন্ড মরু ঝড় উঠলো । ভয়ংঙ্কর এই মরুঝড়ে দুজনেই পথ হারিয়ে ফেললেন । পুরো আকাশ মেঘাচ্ছন্ন, বালুকণা এসে তীরের মত গায়ে বিধছে । কোনদিকে এগোবেন কিছুই দেখা যাচ্চে না ফলে দুজনেই দিশেহারা হয়ে গেলেন । এক সময় ঝড় থামলো ঠিকই কিন্তু তাঁরা সঠিক গন্তব্যের পথ থেকে অনেকটাই দূরে সরে গেলেন । মরুঝড়ের কবলে পড়ে এমন জায়গায় এসে উপস্থিত হলেন সেটা ছিলো এক ভয়ংঙ্কর মরুভূমি । চারিদিকে বালুর স্তুপ ছাড়া আর কিছুই নেই এমনকি আশেপাশে পানির কোন চিহ্ন নেই । প্রচন্ড গরমে ক্ষুদা-পিপাশায় আবু সাহল মৃত্যুবরণ করলেন । নিভে গেল একটি জ্বলন্ত প্রদীপ । অমানুষিক কষ্টের পর অজানা-অচেনা মরুপ্রান্ত পাড়ি দিয়ে ইবনে সিনা পৌঁছে গেলেন আবিওয়ার্দে ।
ঘটনাটি মর্মান্তিক হলেও ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছে মুসলিম বিজ্ঞানীরা জ্ঞান চর্চায় কতটা উন্নত ছিল তার প্রমাণ স্বরূপ হিসেবে ।
Source:
1. The Air of History (Part V) Ibn Sina (Avicenna): The Great Physician and Philosopher
2. (IBN SINA) A short biograpgy of ibn sina by Abu Kaiser
16/07/2021
‘ইবনে আবদুল মালেক আল কাছি’ একটি মাত্র গ্রন্থ লিখে রসায়নে সেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় নিজের নাম অর্ন্তভূক্ত করে নিয়েছেন। তিনি ছিলেন একাদশ শতকের একজন মুসলিম বিজ্ঞানী । পুরো নাম ‘আবুল হাকিম মুহাম্মদ ইবনে আবদুল মালেক আল খারেজমী আল কাছি’ । তিনি বাগদাদে বসবাস করতেন এবং ১০৩৪সালে তাঁর পৃষ্ঠপোষক আবুল হাসান ইবনে আবদুল্লাহর জন্য ‘আইনুস সানাহ ওয়া আইওয়ানুস সানাহ’ ‘Essence of the Art an Aid of worker’ নামে এই গ্রন্থটি রচনা করেন । এই গ্রন্থটির একটি অসমাপ্ত আরবী পান্ডুলিপি ভারত, রায়পুরের নওয়াব নামক লাইব্রেরীতে পাওয়া যায় ।
১৯০৫ সালে ড.ষ্টেপলটন এই পান্ডুলিপি অনুবাদ করে সংক্ষিপ্ত আকারে প্রকাশ করে । ১৯২৫সালে হায়দ্রাবাদের নিজামিয়া লাইব্রেরীতে ফরাসী ভাষায় অনুদিত একটি খন্ড পাওয়া যায় । এর দ্বারা প্রমাণীত হয় যে আইনুস সানাহ গ্রন্থটি একটি বিখ্যাত গ্রন্থ ছিল ।
রসায়নে আইনুস সানাহ গ্রন্থটি খুবই মূল্যবান সংযোজন ছিল । যদিও গ্রন্থটি নিয়ে বড় ধরণের আলোচনা সম্বব নয় তবে আগামী পোষ্টে ‘আইনুস সানাহ’ গ্রন্থের অধ্যায় গুলো সম্পর্কে আলোচনা করবো । ইনশাআল্লাহ!
Source:
(1) A A al'Daffa, The Muslim contribution to mathematics (London, 1978)
(2) Biggane Musolmaner dan : M.Akbor Ali
(3) Philip Khuri Hitti (2002). History of the Arabs
10/07/2021
মুসলমান স্থপতিদের কাছে সমগ্র মানব জাতি চির ঋণী
মুসলমানদের মেধা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি স্থাপত্য শিল্পকে তৎকালীন যুক থেকে অনেক এগিয়ে রেখেছিল । পূর্বের মূর্তি ভি.....
06/05/2021
কারিগরি শাখার উপবৃত্তির সময়সীমা ১০/০৫/২১ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। অত্র মাদরসারা নবম- দশম শ্রেণির ভোকেশনাল শাখার ছাত্রদেরকে ০৮/০৫/২১ এর মধ্যে নির্ধারিত ফরমে তথ্যা প্রদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।