16/02/2020
শিশুর সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে প্রয়োজন আনন্দমূলক শিক্ষা (Joyful Learning)
অধ্যাপক শামসুল হুদা লিটন : আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। শিশু জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ। শিশুদের ভাল করতে হলে তাদের শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হলে, তাদের সুখী করতে হবে। শিশুর ধারণ ক্ষমতা অনুসারে শিক্ষা দিলে সে একদিন কালজয়ী বিশেষজ্ঞ হতে পারবে। আনন্দের মাঝেই শিশুর শিক্ষা জীবনের অবস্থান। কঠোর শাসন, নিয়ন্ত্রন, প্রতিকুল পরিবেশ, শিশুর শিক্ষা জীবনকে অনিশ্চয়তার পথে ঠেলে দেয়। শিশুর মনের আনন্দই তার দেহ মনের শক্তির মূল উৎস। আনন্দ ও শিশু বান্ধব পরিবেশ ছাড়া তার সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ অসম্ভব। Joyful Learning হচ্ছে শিশু শিক্ষার অন্যতম মাধ্যম।
শিক্ষা ও আনন্দমূলক শিক্ষা : আনন্দমূলক শিক্ষা তথা Joyful Learning নিয়ে আলোচনা করতে হলে আমাদের Education সম্পর্কে কিছুটা ধারণা থাকতে হবে। ইংরেজি Education শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ হলো শিক্ষা। Education শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ থেকে। ল্যাটিন ভাষায় ৩টি মৌলিক শব্দের সন্ধান পাওয়া যায়। এর একটি হলো Educare. এই Educare শব্দের অর্থ হলো লালন করা, পরিচর্যা করা, প্রতিপালন করা। অর্থাৎ শিশুকে আদর যত্নের মাধ্যমে পরিপূর্ণ জীবন যাপনের জন্য সক্ষমতা ও দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করার নামই হলো শিক্ষা।
পূর্বে শিক্ষা বলতে বুঝানো হতো শিশুকে নিয়ন্ত্রণ করা বা শাসন করা। শিশুকে নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার মধ্যে রেখে বিদ্যা দান করার যে পদ্ধতি আমাদের দেশ তথা এতদ অঞ্চলে প্রচলিত ছিল, তাকেই শিক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু আধুনিক শিক্ষাবিদরা এ ধরনের শিক্ষাকে সংকীর্ণ শিক্ষা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
শিশুর ওপর জোর করে বিদ্যা চাপিয়ে দেয়ার নাম শিক্ষা নয়। শিশুর গ্রহণ উপযোগী আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষা দানই হলো প্রকৃত শিক্ষা। প্রখ্যাত ফরাসী দার্শনিক জ্যাঁ জ্যাঁক রুশো বলেছেন, "Education is the child’s development from with in" -অর্থাৎ “শিক্ষা হলো শিশুর স্বতঃস্ফুর্ত আত্মবিকাশ”।
শিশুর সামর্থ ও শক্তিগুলেঅর স্বাভাবিক ও সুষম বিকাশই শিক্ষার লক্ষ্য। শিশুর অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্যগুলোর আবিষ্কার এবং তার পরিপূর্ণ বিকাশ সাধনই শিক্ষকের প্রধান কাজ।
শিশু শিক্ষা বিষয়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ থমসন বলেন, “শিক্ষা হলো শিশুর ওপর পরিবেশের প্রভাব, যে প্রভাবের দ্বারা শিশুর বাহ্যিক আচরণ, চিন্তাধারা এবং দৃষ্টিভঙ্গির স্থায়ী পরিবর্তন হয়।”
শিশুরা কোমল মনের অধিকারী। আনন্দঘন পরিবেশে থাকতেই শিশুরা স্বাচ্ছন্দ বোধ করে। শাসন, নিয়ন্ত্রণ, ভীতিকর ও বিষাদময় পরিবেশ শিশুর শিক্ষা লাভকে বাধাগ্রস্থ করে। শিশু শিক্ষা ও আনন্দ ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। আনন্দ ছাড়া কোমলমতি শিশুরা শিক্ষা লাভে উৎসাহিত হবে না। শিক্ষার্থীর শিক্ষাকাল হলো একটা মানসিক ভ্রুন অবস্থা। উপযুক্ত পরিবেশ পেলেই সেই ভ্রুন বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে। শিশুরা শিখবে আনন্দের মাধ্যমে, নিজেদের ইচ্ছামতো, ঘুরে-ফিরে, কল্পনার ফানুস উড়িয়ে। শিশুরা শিখবে খেলাধূলার মাধ্যমে, তাদের মনের অজান্তে। প্রকৃতির সাথে সংযোগ রেখে মনের চর্চা করবে তারা, শ্রেণিকক্ষের চারদেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে নয়। শিশুরা শিখবে বিদ্যালয়, পরিবার ও সমাজ থেকে, একান্ত নিজেদের মতো করে। শিশুরা অজানাকে জানার সাথে করবে মিতালী। শিশুরা জানবে সহজভাবে, আনন্দের সাথে। আনন্দ ছাড়া শিশুর বিদ্যা অর্জনে আগ্রহী হবে না। আনন্দের মাঝেই লুকিয়ে থাকবে তার শিক্ষা। আনন্দই তার শিক্ষার বাহন ও মাধ্যম।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন- “আনন্দহীন শিক্ষা, শিক্ষা নয়, যে শিক্ষায় আনন্দ নেই, সে শিক্ষা প্রকৃত শিক্ষা হতে পারে না।” রবীনন্দ্রনাথ আনন্দহীন শিক্ষা প্রসঙ্গে আরো বলেছেন, “অন্যদেশের ছেলে যে বয়সে নবোদগত দন্তে আনন্দমনে ইক্ষু চর্চন করিতেছে, বাঙালির ছেলে তখন স্কুলের বেঞ্চির উপর কোঁচা সমেত দুইখানি শীর্ণ খর্ব চরণ দোদুল্যমান করিয়া শুধুমাত্র বেত হজম করিতেছে, মাষ্টারের কুট গালি ছাড়া তাহাতে তার কোনরূপ মশলা মিশানো নাই।”
আনন্দমূলক ও শিশুবান্ধব পরিবেশে পাঠদানের শিক্ষকের ভূমিকাঃ
বিদ্যালয়ে আনন্দমূলক পরিবেশে শিক্ষাদানের মাধ্যমে শিশুর প্রতিভা বিকশিত করার ব্যাপারে শ্রেণি শিক্ষকের ভূমিকাই মুখ্য। একজন শিক্ষকের উপরই বিদ্যালয়ের সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীর ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল। বিদ্যালয়ের শিক্ষক হচ্ছেন শিশু শিক্ষার একজন সুনিপুন মিস্ত্রি, যিনি গঠন করবেন শিশুর মানবাত্মা। তিনি জাতি গঠনের সর্বশ্রেষ্ঠ কারিগর। একজন শিক্ষই পারেন শিশুর সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত করতে। যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক ছাড়া এ কাজ সম্পন্ন করা অসম্ভব। শিক্ষককে হতে হবে আদর্শের মূর্ত প্রতীক। তাঁর থাকতে হবে চরম ধৈর্য্য ও শিশু শিক্ষার প্রতি আগ্রহী। শিশুর অবুঝ মন বুঝার ক্ষমতা থাকতে হবে শিক্ষকে। একজন শিক্ষককে হতে হবে শিশু মনো বিজ্ঞানী। শিক্ষক একাধারে হবেন, শিক্ষাগুরু, পিতা-মাতা ও নির্ভরযোগ্য অভিভাবক। যে শিশু শিক্ষককে ভয় পাবে সে শিশু শিখতে আগ্রহী হবে না। কোন ছাত্র যদি শিক্ষককে ভয় পায় তা হলে সে শিক্ষক শিশু শিক্ষা দানে অযোগ্য বলে বিবেচিত হওয়াই স্বাভাবিক।
একজন আদর্শ মানের শিক্ষক সম্পর্কে কবি গোলাম মোস্তফা লিখেছেন-
“সকলে মোরা নয়ন ফুটাই, আলো জ্বালি সব প্রাণে,
নব নব পথ চলিতে শেখাই-জীবনের সন্ধানে।
পরের ছেলেরে এমনি করিয়া শেষে
ফিরাইয়া দেই পরকে আবার অকাতরে নিঃশেষে।
পিতা গড়ে শুধু শরীর, মোরা গড়ি তার মন,
পিতা বড় কিবা শিক্ষক বড়- বলিবে সে কোন জন?
শিক্ষার্থীর মন কোমল ও ভীতিপ্রদ এবং সৃজনশীল। একজন আদর্শ শিক্ষকের কাজ শিশুর মনের ভীতি দূর করে সৃজনশীল কাজে তাদের সহায়তা করা। শিশুর জীবন দলছুট হরিণের মতো। তারা সবসময় গতিবদ্ধ জীবন হতে বেরিয়ে আসতে চায়। শিশুরা সবসময় বাঁধার প্রাচীর ভাঙতে চায়। তারা চায় নীল আকাশের নিচে উন্মুক্ত জীবন, যেখানে কোন ধরাবাধা নিয়ম শৃঙ্খলা থাকবে না। শিশুরা ছুটতে চায়, খোলা আকাশের নিচে, নিজের মতো করে। তাই শিশুর রুচি ও মানসিক চাহিদা অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকের মূল কাজ হচ্ছে শিশুর মাঝে মুক্ত চিন্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে সঠিক পথে পরিচালিত করা।
শিক্ষককে আনন্দমূলক শিক্ষার কৌশল রপ্ত করতে হবে। শ্রেণিকক্ষে নাটকীয় ভঙ্গিমায় চিত্তাকর্ষক পাঠদান করতে হবে। শিশুর মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে হবে। এতে করে তাদের কোমল মনে চিন্তার প্রসারতা ঘটবে। তার মনে বিশ্বকে জয় করার মানসিকতা গড়ে উঠবে। অজানাকে জানার, অচেনাকে চেনার, অদেখাকে দেখার চরম ইচ্ছা জাগ্রত হবে।
বিদ্যালয় শিশুর মেধা ও মননশীলতার বৈচিত্রময় লীলাভূমি। এটি শিশুর অবাধ জ্ঞান চর্চার কেন্দ্রস্থল। শিক্ষক হলেন এ অবাধ জ্ঞানচর্চা কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রক। অহেতুক ভয়-ভীতি, সংশয় ও দ্বিধা শিশুর জ্ঞান লাভের স্পৃহাকে নষ্ট করে দেয় এবং তাদের মনে একঘেয়েমি সৃষ্টি করে। তাই শিশুর জানার পথে যাতে একঘেঁয়েমি সৃষ্টি না হয় সেদিকে আদর্শ শিক্ষককে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। শিক্ষককে শেখার পরিবেশে নতুনত্ব আনতে হবে। গতানুগতিক শিক্ষার বাইরে বৈচিত্রময় শিক্ষার ধারার প্রবর্তন করতে হবে।
শিক্ষককে শিশুর মতো, বন্ধুর মতো আচরণ করে তাদের সাথে মিশে যেতে হবে। তাদেরকে অনায়াসে প্রশ্ন করার এবং মনের ভাব প্রকাশের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। সহজ, সরল, সাবলীল ও প্রাঞ্জল ভাষায় করতে হবে পাঠদান। শিক্ষকদেরকে শিশুর পাঠদান সম্পর্কে প্রশিক্ষিত হতে হবে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকগণকে তাদের প্রশিক্ষণের জ্ঞান শ্রেণিকক্ষে যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে হবে। শিশু শিক্ষায় নারীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। নারী শিক্ষকদের শিশুদেরকে মাতৃস্নেহে পাঠদানে অভ্যস্ত হতে হবে। প্রতিটি শিক্ষককে শিশু বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে দক্ষতা ও কৌশলী হতে হবে। শিক্ষার্থীর মানসিক বিকাশ সম্পর্কে সচেতনতার জন্য একেকজন শিক্ষককে হতে হবে দ্ক্ষ মনোবিজ্ঞানী। শিক্ষকদের শিক্ষাদান সংক্রান্ত বিষয়ে ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে- “No system of education is better than it’s teachers”- অর্থাৎ কোন শিক্ষাদান পদ্ধতিই স্বয়ং শিক্ষক অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হতে পারেনা। “Teacher is the best method”-অর্থাৎ শিক্ষকই শিক্ষাদানের সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি।
আনন্দমূলক ও শিশুবান্ধব পরিবেশ গঠনে বিদ্যালয়ের ভূমিকাঃ
বিশিষ্ট সাহিত্যিক আবুল ফজল বলেছেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতির প্রাণশক্তি তৈরির কারখানা আর রাষ্ট্র ও সমাজ দেহের সবচাহিদার সরবরাহ কেন্দ্র। ওখানে ত্রুটি ঘটলে দুর্বল আর পঙ্গু না করে ছাড়বে না।” আমাদের দেশে শিশু শিক্ষার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন, এবতেদায়ী মাদ্রাসা, ইংরেজি স্কুল ও এনজিও পরিচালিত শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষাদান ও অভিজ্ঞ শিক্ষকের অভাবসহ নানা সমস্যা রয়েছে। এসব কারণে শিশু শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আনন্দমূলক ও শিশু বান্ধব পরিবেশে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের গুরুত্ব ও প্রভাব অনস্বীকার্য। আনন্দমূলক শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কিছু কিছু বিষয় থাকা আবশ্যক। এসব বিষয় যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে না থাকে তাহলে শিশুর প্রতিভা বিকাশ মারাত্মকভাবে ব্যঘাত ঘটতে পারে। আনন্দমূলক শিক্ষার জন্য বিদ্যালয়ের পরিবেশ হতে হবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সুশোভিত। বিদ্যালয়ের আঙিনা হতে হবে মনোরম ও শিশু উপযোগী। প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানে থাকতে হবে মানসম্মত খেলার মাঠ ও পর্যাপ্ত খেলাধূলার সামগ্রী। থাকতে হবে পর্যাপ্ত শিক্ষাপোকরণ, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও শিশুতোষ সাহিত্য ও লাইব্রেরী। কোলাহল মুক্ত পরিবেশ থাকতে হবে। প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিনায় থাকতে হবে রঙবেরঙের বাহারি ফুলের বাগান। আনন্দভ্রমণ, শিক্ষা সফর, কবিতা, গান, নৃত্য, অভিনয় নানা ধরনের প্রতিযোগিতামূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শিশুর সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। শারীরিক প্রতিবন্ধী, টোকাই ও সুযোগ বঞ্চিত শিশুদের জন্য আলাদা শিখন সামগ্রী। পুরো বিদ্যালয়টি হবে শিশুর জ্ঞানের সাম্রাজ্য। পরিবারের মতোই শিশু ক্যাম্পাস থেকে নির্ভয়ে আগ্রহী মন নিয়ে নানা কিছু শিখবে, আহরণ করবে জ্ঞান।
শিশুর বিকাশে পরিবারের ভূমিকাঃ
পরিবার হলো প্রাথমিক এবং মৌলিক সামাজিক প্রতিষ্ঠান। পরিবার শাশ্বত বিদ্যালয়। শিশু প্রথম শিক্ষা লাভ করে তার পরিবার থেকে। তাই তার নিজ পরিবারের পরিবেশ, আনন্দময় ও শিক্ষাউপযোগী হতে হবে। শিশুবান্ধব পরিবেশে শিক্ষার ব্যাপারে পিতা-মাতা, ভাই-বোন ও অন্যান্য বড় সদস্যদের ভূমিকা থাকতে হবে। পরিবারের সদস্যদের সবসময় সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে। শিশুর পরিবারে থাকতে হবে পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ এবং বিনোদনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। শিশু মনে দাগ কাটতে পারে এমন অশোভন আচরণ থেকে পরিবারের সদস্যদের বিরত থাকতে হবে। শিশুর সামনে গাল মন্দ, ঝগড়া-ঝাটি, মিথ্যা কথা বলা, ছলনা করা, অনৈতিক আচরণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। পরিবারের সদস্যদের প্রতি মূহুর্তে খেলার ছলে শিশুকে নতুন করে শেখাতে হবে। শিশুকে সবসময় হ্যাঁ বলতে হবে, শিশুকে কখনো না বলা যাবে না। টেলিভিশনে শিশুমূলক অনুষ্ঠান দেখার জন্য শিশুকে ব্যবস্থা করে দিতে হবে। পরিবার হবে শিশুর আনন্দমূলক শিক্ষার সুতিকাগার।
শিশুর বিকাশে সমাজের ভূমিকাঃ
শিশুর প্রতিভা বিকাশে সমাজেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সামাজিক পরিবেশ দ্বারা শিশু মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়। পারিপার্শ্বিক পরিবেশ থেকে শিশু শিক্ষা লাভ করে থাকে। সুস্থ, সুন্দর সামাজিক পরিবেশ শিশুর মেধা ও মননশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। শিশুর শিক্ষার জন্যে সমাজকে ভূমিকা রাখতে হবে। সমাজ হতে হবে শিশুর শিক্ষা উপযোগী। শিশুর বিদ্যালয়ে যাতায়াতসহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সমাজের। সমাজকে শিশুর চিত্তবিনোদনের জন্য খেলার মাঠ, ক্লাব, পাঠাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে হবে। বৃত্তিমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের সামাজিকভাবে উৎসাহিত করতে হবে। সমাজকে নিশ্চিত করতে হবে, শিশুর অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থানের সু-ব্যবস্থা। বিদ্যালয় থেকে শিশু শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়া রোধে এগিয়ে আসতে হবে সমাজের মানুষকে। প্রতিটি শিশুর শিক্ষা, বেড়ে উঠা, আচরণ সহ সকল বিষয়ে সমাজের মানুষকে সচেতন ও সদা সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।