21/11/2025
যারা মনে করে কাদিয়ানীরা কাফের এবং এই এরাই যারা যে ইসলাম পালন করে, তাদের সাথে কাদিয়ানীিদের পালন করা ইসলামের কখনো তুলনা করে দেখেছেন?
দেখেন নাই। কেবল এই এরাই পরস্পর পরস্পরকে কেমন মুসলমান মনে করে- সেটাও ভেবে দেখবেন- আপনি তাদের যে দলকে অনুসরণ করছেন- তারা কোন দলে আর আপনার অবস্থান কোথায়?
আহমদী তথা কাদিয়ানীরা অন্যান্য ফিরকার মুসলমানদের মতোই ইসলামের মৌলিক সব বিষয় অভিন্ন ও অকৃত্রিমভাবে মেনে চলে। তবে মহানবী সা: এর নির্দেশ অনুসারে মাহদীর যে কাজ- তিনি কেবল সেসবই অন্যদের কাছে সঠিকভাবে উপস্থাপন করেন বলেইই তাদের পালিত ধর্ম ব্যবসা আর প্রকৃত ইসলামের সাথে পার্থক্য তৈরী হয়।
যেমন: ১)
আহমদী তথা কাদিয়ানী তথা ইমাম মাহদীর এই দল কোরআনের আয়াতের বিনিময়ে নামমাত্র বিনিময়গ্রহণ করাকেও কোরআনের সুরা বাকারাহ ও আল ইমরান অনুসারে হারাম জ্ঞান করে। আর আহমদী জামাতে যেহেতু খেলাফতের বরকত প্রতিষ্ঠিত আছে- তাই তাদের ফির্কার কোন আলেম, শিক্ষক, ইমাম, মোয়াজ্জেম বা কোন সদস্যই কোরআনের আয়াতের বিনিময়ে তথা নামাজ পড়িয়ে, দোআ করে, ওয়াজ করে বা অন্য কোনভাবেই কোন অথৃ বা বিনিমিয় গ্রহণ করে না, করতে দেয়ও না। যা অন্য ফির্কার মোল্লা-মাওলানাদের বড় ব্যবসা। তবলীগের জামাতের মাওলানা সাদ- এ কথা বলার কারণেই তাবলীগ জামাত দুইভাগে ভাগ হয়ে যায়।
২)
রাসুল সা: এক হাদিসে বলেন, আমার যুগ ভালো, এরপর তৎসন্নিহিত যুগ, তারপর তার পেরর যুগ এবং অতপর এরপর তৎসন্নিহিত যুগ এবং এরপর তিনি(সা:) নিরব হয়ে গেলেন। তখন উপস্থিত সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, এরপর কি হবে?
তখন, রাসুল সা: নিরবতা ভেঙ্গে জবাব দিলেন, এক জুলুমের রাজত্ব কায়েম হবে এবং তখন তাদের মধ্য থেকে তাদের মাহদীর আর্বিভাব হবে- তাদের সংশোধনের জন্য।
সুতরাং, রাসুল এর বর্ণনামতে চৌদ্দশত বছর পর স্পষ্ট মাহদী আ: এর আগমন সম্ভাবনার কথা উল্লেখ আছে এবং যারা ইতিহাস জ্ঞান রাখেন তারা খুব ভালোই বলতে পারবেন যে, রাসুল সা: এর ওফাতের পর কতকাল ইসলামের প্রকৃত খেলাফত কাযেম ছিল! নিশ্চয় হযরত আলী রা: এর পরের সময়কে ইসলামের প্রকৃত খেলাফতকাল বলবেন না? এরপর ডাচ, ওলন্দাজ, বর্গী, মারাঠা, বৃটিশ আরোকতজন আমাদের শাসন করে গেলেন, ইসলামের চরম ক্ষতি করে গেলেন- সে হিসাব কি আমরা বা আমাদের ইসলামী তথাকথিত জিম্মদার আলেমগণ রাখেন?
এমন ধারাবাহিক ইসলামের শিক্ষার পতন ও ধ্বংসের শেষ আবস্থায় রাসুল সা: একটি কঠিন কথা বলেছিলেন আমাদের আলেমদের বিষয়ে। তিনি (সা:) বলে ছিলেন, তারা বানর ও শুকর সদৃশ হয়ে যাবে!! তারা আকাশের নিচে নিকৃততম জীব হবে এবং ফিতনা - ফ্যাসাদের উৎপত্তিকারী হবে।
আজ যখন চরম মাত্রায় মাদ্রাসায়, মসজিদে এই আলেম কর্তৃৃক ছাত্র বলাৎকারের, ছাত্রী ধর্ষণের, গোপন ক্যামারায় ভিডিও ধারণে অহরহ সংবাদ প্রবাশিত, প্রচারিত হয়- তখন কি আমাদের মতো সাধারণ মুসলমানদের তো নয়ই, এই আলেম সমাজেরও মাথায় আসে না - তাদের ইসলামের সাথে রাসুল সা: বর্ণিত অবস্থার শতভাগ মিল হয়ে সীমানা অনেক অনেক আগেই ক্রস করে গেছে???
যেখানে ইমাম মাহদী এসে কেবল এসবই বলে মানুষের চৈতন্য ফিরিয়ে আনতে এবং বিদ্যমান ইসলামের বিভিন্ন মসলা মাসায়েল ও ব্যবহারিক বিভিন্ন বিষয়ে প্রকৃত ইসলাম শিক্ষা তুলে ধরে মানুষকে সংশোধনের কথা বলেছেন। নতুন কোন ইসলাম বা শিক্ষা আনেননি।
বর্তমানে যে মুসলমান সমাজ চরম বিচলিত চিত্তে ইমাম মাহদীর আগমনের অপেক্ষায় আছেন- আহমদীরা রাসুল সা: বর্ণিত মানদন্ডে যুগের অবস্থা বিবেচনায় আগমনকারী মাহদীকে কোরআন হাদিসের কষ্টি পাতরে যাচাই বাছাই করে- সত্য পেয়ে প্রকৃত ইসলামের ছায়াতলে শান্তিপূর্ণ ও সেই প্রাথমিক যুগের ইসলামের ন্যায় আমল আখলাক নিয়ে বিশ্বময রাসুল সা: এর শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের ইসলামের মহান শিক্ষা প্রচার করে চলেছে।
রাসুল সা: এর ঘোষনা অনুসারে তিনি অস্রের জিহাদকে মুসলমানদের জন্য হারাম ঘোষনা করেছেন। তিনি ইসলামের জয়ের জন্য জিহাদ বিল নফস এবং জিহাদ বিল কোরআনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি সবার জন্য ভালোবাসা এবং কারো তরে ঘৃনা নয়” এই মহান শিক্ষার মাধ্যমে বিশাল বিশাল অত্যাধিুনিক ও পারমানবিক সব অস্ত্রধারী দেশের শাসকদের এবং জাতধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে ইসলামের শান্তির, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষার পতাকা তলে একত্রিত হওয়ার আহাবন করছেন এবং মানুষকে এক পতাকাতলে বিশ্বময় সমবেত করে চলেছেন।
এই জামাত কোন ধরণের এবং কোন দেশের রাজনীতির সাথে যুক্ত নয়। ঠিক রাসুল সা: এর শিক্ষার আলোকে খেলাফতের পতাকাতলে বিশ্বের যে কোন সাধারণ জনগণ বা শাসক শ্রেণী বা রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব নিজ নিজ দেশের নাগরিকত্ব ও রাজনৈতিক বিশ্বাস-চেতনা নিয়েও এই জামাতের আনুকূল্যে নেজামের প্রতি অনুগত!
এটাই আহমদী জামাত। যা তথাকথিত ইসলাম ও খেলাফত প্রতিষ্ঠায় উঠেপড়ে লাগা জগৎময় চেস্টাকারী সবাই এ জামাতের কাছে ভীত; তাদের ধর্ম ব্যবসার রাজ্য ভেঙ্গে পড়ার ভয়ে, তাদের সহজ ধর্ম ব্যবসা ধ্বংস হওয়ার ভয়ে।
সুতরাং রাসুল সা: এর শিক্ষা ও আদেশে যে মাহদী ও তার দল- সে দলের বিনাশ জগতের কেও করতে পারে না। বরং জগতে এমন ভুরি ভুরি উদাহরণ আছে- যারা মাহদী ও তার জামাতের বিরোধীতায় লিপ্ত হয়েছে তারা পৃথিবীর ইতিহাসে নিকৃষ্ট হিসেবেে নষ্ট ইতিহাসের আস্তাকুড়ে পতিত হয়েছে। এরপরও যারা শিক্ষা না নেবে- তাদের সাথে মহান আল্লাহ তার শক্তিও প্রকাশ করতেই থাকবেন।