08/09/2024
বাংলাদেশের দ্বীনি মহলে যে সমস্ত কাজ হয় এই যেমন ওয়াজ মাহফিল, বই লেখা, প্রকাশনা, মাদ্রাসা-মসজিদ প্রতিষ্ঠা, দাওয়াত, ইসলাহ,তাবলীগ,তানজিম...... আমাদের জীবনে দ্বীন পাওয়া ও পালনের পেছনে সকল মেহনতের অবশ্যই কোন না কোন পর্যায়ে ভূমিকা আছে।
সামগ্রিকভাবে ইসলামের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার অভাবের পেছনে এক্সটার্নাল ও ইন্টার্নাল অনেকগুলো বিষয়ও কাজ করে।
ইন্টারনাল বিষয়গুলোর মধ্যে ইসলামপন্থীদের তিনটি বিষয়ের বেশ অভাব আছে বলে আমার মনে হয়-
১. ইখলাস
২. যোগ্যতা ও
৩. সততা।
উদাহরণ হিসেবে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার কথাই ধরা যাক। বর্তমানে বিভিন্ন ধারার মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে এমনকি বেসরকারি সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ইসলামী বিষয়গুলো পড়ানো হচ্ছে। এটা অবশ্যই একটা আশাব্যঞ্জক এবং খুশি হওয়ার মতো বিষয়। কিন্তূ এখানে উপরের তিনটি বিষয় ব্যাপকভাবে অনুপস্থিত। কমার্শিয়াল চিন্তা থেকে উদ্যোগী স্বভাবের কিছু মানুষ নিজেদের একাডেমিক যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কাট কপি করে, বিভিন্ন 'শাইখ', 'আকাবির', 'দায়িত্বশীল'দের ছবি নাম (অপ)ব্যবহার করে অসততার আশ্রয় নিচ্ছে। এর ফলে ক্ষতি হচ্ছে দুটি-
১. ইসলামপন্থীদের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হচ্ছে।
২. যারা উপরোক্ত তিনটি দুর্বলতা এড়িয়ে
উম্মাহর জন্য উপযুক্ত মানবসম্পদ সৃষ্টিতে কাজ করছে তাদেরও নানাবিধ কুধারণা ও অনাস্থার শিকার হতে হচ্ছে।
আমাদের মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই নিজের পরিবার ও শরীরকে এতটা বঞ্চিত করেছি, কাছে থাকা মানুষগুলো তার সাক্ষী। একটি উন্নত কারিকুলাম ও উপযুক্ত শিক্ষকদের টিম তৈরিতে আমরা এখনো নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আল্লাহর রহমতের ছায়ায় ইনশাল্লাহ আমাদের এ যাত্রা চলমান থাকবে।
আমাদের উচিত ভাল কিছু করতে চাইলে প্রথমত নিজে যোগ্য হওয়া তারপর ইখলাস ও সততার সাথে মাঠে নামা।
গতকাল বাংলাদেশের একটি বিভাগীয় শহর থেকে কিছু 'উদ্যোক্তা' আমাদের মাদ্রাসা পরিদর্শনে এসেছিলেন। আমাদের বিভিন্ন কনটেন্ট দেখে আগ্রহভরে নিতে চাইলেন, আমিও বিনয়ের সাথে অপারগতা প্রকাশ করলাম যেহেতু এগুলোর পাইলটিং চলছে।
তারা আমাকে জানালেন তাদের সাথে বিরাট বিরাট সব 'শায়েখ' আছেন। আমাদের সব কিছুরই ছবি তুলছিলেন এবং নিশ্চিতভাবেই অনুমতি নেওয়ার আদবটা ইসলামপন্থীদের প্রয়োজন হয় না। এবং সবচেয়ে অবাক হয়েছি যে কাজটিতে -
তাদের মধ্যে একজন আমাকে তাদের ফেসবুক পেজটি বের করে দেওয়ার কথা বলে আমার ফোনটি নিলেন এবং আজ সকালে আমি আমার টাইমলাইনে ঢুকে দেখি তিনি আমার ফোনটি নিয়ে তাদের একটি সার্কুলার আমার ওয়াল থেকে শেয়ার করেছেন।
সত্যি বলতে কি আমাদের উচিত অন্যদের দোষারোপ না করে নিজেদের ব্যাপারে অনেক বেশি মুহাসাবা করা এবং মনে রাখা উচিত -বাতিলের পথ ধরে হকের বিজয় আসে না আর ঘুমন্ত মানুষ ও আর একজন ঘুমন্ত কে জাগাতে পারে না।
তাই আসুন দ্বীনি কাজে নামার আগেই নিজের ইখলাস যোগ্যতা ও সততা নিশ্চিত করি।
আমি অবাক হই- এই পর্যায়ের নৈতিকতা নিয়ে এরা সন্তানদের মাঝে কি আদর্শের বীজ বপন করবে।
সম্ভবত অভিজ্ঞ ও ভুক্তভোগী মানুষগুলো আমার অবাক হওয়াতেই হয়তো অবাক হচ্ছেন।