08/05/2024
ঘুম মানুষের শরীরবৃত্তীয়চক্রের একটি প্রয়োজনীয় মৌলিক অংশ হলেও তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে মানুষের কাছে ঘুমের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পেয়েছে। গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বের প্রায় ১০ কোটি মানুষের পর্যাপ্ত ঘুম হয় না। একদিকে প্রশান্তিময় ঘুম আমাদের মানসিক চাপ কমায়, স্মৃতিশক্তি বাড়ায়, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, শিশুদের মেধা বিকাশে সাহায্য করে, ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, এবং কর্ম উদ্দীপনা বাড়ায়। অন্যদিকে পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব দৈনন্দিন জীবনে যে সমস্যাগুলো তৈরি করতে পারে তার মধ্যে মাথাব্যথা, খিটখিটে মেজাজ , ক্লান্তি, অবসাদগ্রস্ততা এবং একাকিত্ব বোধ অন্যতম। এর বাইরেও কমে যায় উদ্যম, কর্মস্পৃহা।
ভালো ঘুমের জন্য প্রয়োজন সুনিয়ন্ত্রিত জীবন। নিম্নে ঘুমের কিছু স্বাস্থ্যবিধি উল্লেখ করা হলো:
১. ঘুমানোর অন্তত ৬ ঘন্টা আগে চা, কফি, সফট ড্রিংকস এড়িয়ে চলুন।
২. প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোতে যান এবং ঘুম থেকে উঠুন।
৩.ঘুমানোর আগে সব ধরনের স্মার্ট ডিভাইস পরিহার করুন।
৪. ধূমপান ও অ্যালহোকল বর্জন করুন।
৫. রাতে ভারি ও মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
৬.নিয়মিত ব্যায়াম করুন, তবে ঘুমাতে যাওয়ার আগে নয়।
৭.ঘুমানোর জন্য ভালো পরিবেশ নিশ্চিত করুন। যেমন- আলো নিভিয়ে দিন, ঘরে বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন এবং নীরবতা বজায় রাখুন।
৮. দিনের ঘুম এড়িয়ে চলুন
৯.বিছানা শুধু ঘুমের জন্য ব্যবহার করুন (বিছানায় পড়াশোনা, টেলিভিশন দেখা এবং খাওয়াদাওয়া ইত্যাদি পরিহার করুন)।
১০. যদি আপনার ঘুমাতে সমস্যা হয় বা মাঝরাতে জেগে যান এবং পুনরায় ঘুমাতে সমস্যায় পড়েন তাহলে জোর করে ঘুমানোর চেষ্টা না করে বিছানা থেকে উঠুন এবং ঘুমাতে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট ক্লান্তবোধ না হওয়া পর্যন্ত প্রশান্তিদায়ক কিছু করুন (যেমন - বই পড়া)।(এসময় অবশ্যই স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার এড়িয়ে চলুন)
১১. আপনার শরীর এবং মনকে শান্ত করার জন্য ঘুমাতে যাওয়ার আগে কিছু ধরণের শিথিলকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করুন। যেমন- গোসল , মেডিটেশন, সালাত/ প্রার্থনা , এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম ইত্যাদি।
আপনি যদি দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের সমস্যায় ভুগে থাকেন তাহলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
মো: আজমাল হোসেন
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট