01/11/2025
Master English MCQ
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Master English MCQ, Education, Pirganj, Thakurgaon.
01/11/2025
22/10/2025
এজন্যই মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ইংরেজি পড়ানো খুব সমস্যা।
22/10/2025
Alhamdulillah,
🌿🌿🌿🌿একদম নতুন প্রিলিমিনারি প্রার্থীদের জন্য একটা নিরপেক্ষ বুক লিস্ট 🌿🌿🌿🌿
--------------------
১.অগ্রদূত বাংলা(গুরুত্বপূর্ণ লেখকগুলো ভিতর থেকে পড়বেন, বইয়ে ইনক্লুড বিগত বছরে বেশী জোর দিবেন)
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের জন্য প্রিসেপটরস ডাইজেস্ট অংশ +অ্যাসিউরেন্স ডাইজেস্ট অংশ
২.শাহীনস ম্যাথ এবং মেন্টাল এবিলিটি।(বিগত বিসিএসের প্রিলি রিটেন প্রশ্ন ভালো করে শেষ করবেন)
সেই সাথে মাধ্যমিকের জেনারেল ও হায়ার ম্যাথ বইয়ের সিলেক্টেড অধ্যায়।
৩.ইংরেজি গ্রামারের জন্য মাস্টার (প্র্যাকটিস অংশে জোর দিবেন) আর সাহিত্যের জন্যA Handbook on English literature (বোল্ড আকারে লেখাগুলো ভালো করে পড়বেন।
৪. বিজ্ঞানের জন্য জামিলস বিজ্ঞান /এমপিথ্রি
৫. কম্পিউটারের জন্য ইজি কম্পিউটার
৬.নৈতিকতা সুশাসনের জন্য বেসিক ভিউ সুশাসন অংশ(কারো থেকে সংগ্রহ করে নিবেন)
৭।ভূগোল অংশের জন্য প্রিসেপটরস ডাইজেস্ট অংশ
৮।বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীর জন্য সংক্ষিপ্ত সাধারণ জ্ঞান /MP3 /প্রিসেপটরস ডাইজেস্ট অংশ।সেই সাথে বিগত বছরের প্রশ্ন। বাজেট,সমীক্ষা, মুক্তিযুদ্ধ,সংবিধান, বঙ্গবন্ধু, উন্নয়ন প্রজেক্ট, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ, পুরস্কার।
আর কারো বেসিক ম্যাথ ইংরেজি বিজ্ঞানে খুব ভালো দখল থাকলে প্রিসেপটরস ডাইজেস্ট ও অ্যাসিউরেন্স ও বিগত বছরে জব সলিউশন পড়লে এনাফ
Halima
🎯শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি পর্ব ০১
৪৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি
👉বাংলা সাহিত্য
ক্যাটাগরি -০১
*চর্যাপদ [প্রতি বিসিএসে প্রশ্ন থাকবেই-গুরত্বপূর্ণ তথ্য ও বিগত সালের প্রশ্ন গুলো পড়ে ফেলবেন][২ মার্ক থাকবেই ইনশাহআল্লাহ-ভালো করে পড়বেন]
*মধ্যযুগ [বিগত সকল চাকুরির প্রশ্ন গুলো পড়ে ফেলবেন]
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন ,মঙ্গলকাব্য [ চরিত্র ও আদি কবি এবং শ্রেষ্ঠ কবি]
রোমান্টিক প্রণয়নোপাখ্যান [শাহ মুহাম্মদ সগীর, দৌলত উজির বাহারাম খান , আলাওল]
লোক সাহিত্য, গীতিকা : ময়মনসিংহ গীতিকা, পূর্ববঙ্গ গীতিকা, প্যাচালি , কবিগান ,পুঁথি সাহিত্য ,শায়ের নাথ সাহিত্য ও মর্সিয়া সাহিত্য, জীবনী সাহিত্য, অনুবাদ সাহিত্য,মহাভারত , রামায়ণ সহ অন্যান্য [শুধু মূলবিষয়গুলো,কোন ভাষা ও রচয়িতা ও অনুবাদক] [৩ মার্ক থাকবেই ইনশাহআল্লাহ-ভালো করে পড়বেন]
ক্যাটাগরি-০২
ক. পত্র -পত্রিকা [গুরত্বপূর্ণ সংবাদপত্রের সাল এবং সম্পাদক] [১ মার্ক থাকবেই ইনশাহআল্লাহ-ভালো করে পড়বেন]
খ. বাংলা সাহিত্য বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠন [ ইয়ংবেঙ্গল ,বাংলা একাডেমি , ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ , বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ , মুসলিম সাহিত্য সমাজ , এশিয়াটিক সোসাইটি , শ্রীরামপুর মিশন ] [১ মার্ক থাকবেই ইনশাহআল্লাহ]
ক্যাটাগরি-০৩
ক. উপাধি ও ছদ্মনাম [শুধু বিগত সাল পড়বেন]
খ.মুক্তিযুদ্ধভিওিক গ্রন্থ [১/২ মার্ক থাকবেই ইনশাহআল্লাহ-ভালো করে পড়বেন]
গ. ভাষা আন্দোলন ভিওিক গ্রন্থ
ঘ. বাংলা সাহিত্যের প্রথম [শুধু বিগত সাল পড়বেন]
ঙ. পঙ্তি ও উক্তি [শুধু বিগত সাল পড়বেন]-বেশি না পড়াই ভালো বিশেষ করে পঙ্তিটি কোন সাহিত্যকর্ম থেকে নেওয়া এবং কবি কি বুঝিয়েছেন এমন টাইপ]
ক্যাটাগরি-০৪
নিচের দেওয়া লেখকদের গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম ,চরিত্র, সাহিত্যকর্মের বিষয়বস্তু ভালো করে পড়তে হবে। [বি:দ্র: নাট্যকারের নাটক, কবির কাব্যগ্রন্থ, ঔপন্যাসিক এর উপন্যাস গুরুত্বপূর্ণ ]
১.ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
২.মাইকেল মধুসূদন দও
৩.বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
৪.মীর মশাররফ হোসেন
৫.রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৬.কাজী নজরুল ইসলাম
৭.জসীমউদ্দীন
৮.দীনবন্ধু মিত্র
৯.বেগম রোকেয়া সাখওয়াত হোসেন
১০.ফররুখ আহমদ
১১.কায়কোবাদ
১২.শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
১৩.প্রমথ চৌধুরী
১৪.সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
১৫.বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়
১৬.তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়
১৭.জীবনানন্দ দাশ
১৮.মানিক বন্দোপাধ্যায়
১৯.সুফিয়া কামাল
২০. শওকত ওসমান
২১. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
২২. মুনীর চৌধুরী
২৩.শামসুর রহমান
২৪. জহির রায়হান
২৫.সৈয়দ শামসুল হক
২৬.আল মাহমুদ
২৭. শতকত আলী
২৮.হাসান আজিজুল হক
১৫.বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়
১৬.তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়
১৭.জীবনানন্দ দাশ
১৮.মানিক বন্দোপাধ্যায়
১৯.সুফিয়া কামাল
২০. শওকত ওসমান
২১. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
২২. মুনীর চৌধুরী
২৩.শামসুর রহমান
২৪. জহির রায়হান
২৫.সৈয়দ শামসুল হক
২৬.আল মাহমুদ
২৭. শতকত আলী
২৮.হাসান আজিজুল হক
২৯.আহমদ ছফা
৩০.আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
৩১.হুমায়ুন আহমদ
৩২.সেলিনা হোসেন
৩৩.হুমায়ুন আজাদ
৩৪.সেলিম আল দীন
আশা করি আমার এই গাইডলাইন থেকে উপকৃত হবেন ইনশাহআল্লাহ।
বানান ভুল থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। পরবর্তী পর্বগুলো পেতে পেইজে চোখ রাখুন।
© প্রকৌ. মু. হাসিবুল ইসলাম
# # # #
একটা কথা মনে রাখবেন, আল্লাহ ছাড়া আপনাকে কেউ উপরেও তুলতে পারবেনা, নিচেও নামাতে পারবেনা।
তাই কে ছুড়ে ফেলবে আর কে সাহায্য করবে এসবের তোয়াক্কা না করে আল্লাহর আনুগত্যের দিকে প্রত্যাবর্তন করুন। আল্লাহ চাইলে মূহুর্তের মধ্যে জিরো থেকে হিরো এবং হিরো থেকে জিরো বানিয়ে দিতে পারেন।
হাজারো মেধাবী লোকজন ফুটপাতে ঘুরে, হাটে উদ্দেশ্যহীন ভাবে। প্রখর বুদ্ধি ও উচ্চ সার্টিফিকেট দিয়েও কাজে সাকসেস হতে পারেনি তারা । আবার বোকাসোকা, অক্ষরজ্ঞানহীন অনেক মানুষ জ্বলজ্বলে ক্যারিয়ারের মালিক হয়ে দামি গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়ায় চোখের সামনেই।
এটা একান্তই আল্লাহর ইচ্ছা। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা দান করেন দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ, অগনিত, বেহিসাব।
আমি মোটেই আপনাকে কথাগুলো বলছিনা। নিজেই নিজেকে বলছি। নিজের উপলব্ধির কথা শেয়ার করছি।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক উপলব্ধি দান করুন।
লিখেছেন:মোঃ রাকিবুর রহমান
বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত
মেধাক্রম- ৮ম
বিসিএস একটি স্বপ্নের নাম; আমার স্বপ্নের আদ্যোপান্ত শোনাতে চাই আপনাদের। শুরুতেই বলতে চাই, কয়েক দিন, কয়েক মাস হুটহাট পড়াশোনা করেই আমি বিসিএস ক্যাডার হয়নি; আমি প্রায় ৫ বছরে অসংখ্য হাজার ঘণ্টা পড়াশোনা করেছি; শত রাত নির্ঘুম কাটিয়েছি (পড়াশোনা+টেনশনে); বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়দের ফোন রিসিভ করিনি, দেখা করিনি, ব্যস্ততা দেখেয়েছি; হাজার বার আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করেছি; তারপর আমি প্রথম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি (আলহামদুলিল্লাহ)।
বি.দ্র. আমার লেখাটি বিসিএস পরীক্ষার দিক-নির্দেশনামূলক নয়, কোন পরিক্ষার্থী এই লেখাটি পড়ে সরাসরি উপকৃত হবেন না। এখানে আমি একান্তই আমার স্বপ্ন, জার্নি, প্রতিবন্ধকতা ইত্যাদি নিয়ে আলোকপাত করেছি। বিসিএস সম্পর্কিত এটি আমার প্রথম ও সম্ভবত শেষ লেখা।
আমার বিসিএস জার্নি শুরু হওয়ার আগের কিছু কথা বলতে চাই।
প্রথমত, পুলিশ হওয়ার ইচ্ছেটা আমার ছোটবেলার নয়। বাবার স্বপ্ন ছিল আইনজীবী হবো, সেই স্বপ্নের লক্ষ্যে আমার ছুটে চলা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রবল ইচ্ছে ছিল একাদশ শ্রেণি থেকেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ হলেও, আইন বিভাগে পড়ার সুযোগ হয়নি আমার।
দ্বিতীয়ত, যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের জীবন পার করছিলাম, তখন হলের বড় ভাইদের কাছে 'বিসিএস' শব্দটা প্রায়শই শুনতাম। আমার ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, কলেজের শিক্ষকরাও বিসিএস দিতে হবে- এরকম কথাবার্তা বলতে শুরু করলো। আমি তখনও বিসিএস দিবো কি, দিবো না বা বিসিএস আসলেই কি, কেন দিব- এব্যাপারে কিছুই জানতাম না। হঠাৎ একদিন ৩৪তম বিসিএসের ফল প্রকাশিত হলো৷ আমাদের হলে হৈ-হুল্লোড় পড়ে গেল। হলের অনেক বড় ভাই বিসিএস ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেন; তাদের দেখে অনুপ্রাণিত হলাম। আমাদের ডিপার্টমেন্টে পড়াশোনার তেমন চাপ থাকতো না (যদিও পড়াশোনা ছিল অত্যন্ত কঠিন), তাই তখন থেকে বিসিএস সম্পর্কিত পড়াশোনা শুরু করবো বলেই মন স্থির করলাম।
পটভূমিকাঃ
চাকুরির প্রস্তুতি নেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রথম বই কিনলাম সাইফুর'স ভোকাবুলারি। তখন হয়ত দ্বিতীয় বর্ষে উঠেছি মাত্র। কয়েকদিন পড়লাম। কিন্তু সেটা বেশিদিন পড়ার ধৈর্য হয়নি। একরাতে আমার এক ফ্রেন্ড লাইব্রেরিতে যাওয়ার পরামর্শ দিল। পরেরদিন সকালে কিছু পুরোনো চাকুরির বই নিয়ে লাইব্রেরিতে যাই। কিছুদিন যাওয়ার পরে মনে হলো, এইসব বই-পুস্তক না পড়ে বিসিএস রিটেনের বই পড়ি। তাই করলাম, নীলক্ষেত থেকে পুরোনো কিছু লিখিত বই কিনে নিয়ে আসলাম। পড়া শুরু করলাম (এটা কোন ভাল ডিসিশন ছিল না, কিন্তু আমি তখন বুঝতাম না কি পড়া উচিত)। কয়েকদিন যেতেই ওই বইগুলো পড়ার ধৈর্যও হারালাম। পরে অনেকদিন আর লাইব্রেরি যাইনি। আমার জীবনের অন্যতম বাজে সময় কাটিয়েছি এসময়। সিন্ধান্ত নিতে পারছিলাম কোন ব্যাপারেই; বিসিএসের জন্য পড়বো নাকি অন্য কিছু নিয়ে ভাববো, যদি বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ারই চিন্তা করি , তাহলে কিভাবে শুরু করবো, কোন বই পড়বো ইত্যাদি চিন্তা আমার মাথায়। এভাবে অগোছালোভাবেই আমার জার্নি শুরু হয়। এতে আমার অনেক সময় নষ্ট হলেও, অনেক বিষয়ে অভিজ্ঞতা হয়। বিভিন্ন বই-পুস্তকে চোখ বুলানোর সুযোগ হওয়ায়, কোন বইয়ের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু সেবিষয়ে ভাল ধারণা হয়।
প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতিঃ
দ্বিতীয় বর্ষ থেকে তৃতীয় বর্ষের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কিছু পড়িনি। তৃতীয় বর্ষের মাঝামাঝি সময়ে এসে আবার স্থির করলাম- সিরিয়াসলি পড়াশোনা শুরু করবো। ওরাকল ম্যাথ ও ওরাকল বিজ্ঞান বই কিনে পুরোদমে পড়া শুরু করলাম। এবার পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছিলাম। আমার কৌশল ছিল- একটা করে বই কিনবো, ওটা পুরোপুরি পড়া শেষ হলে আরেকটা নতুন বই কিনবো। এভাবে একেকটা বিষয়ভিত্তিক বই পড়তে আমার ১.৫-২ মাস সময় লেগে যেত। চতুর্থ বর্ষের পুরোটা সময় আমি বিসিএস সম্পর্কিত বই পড়ি (ওরাকল সিরিজের বই পড়েছিলাম; বইগুলো বিস্তারিত লেখা, কিন্তু অনেক অপ্রয়োজনীয় জিনিসে ভরপুর। বইগুলোর আলোচনার পরিধি বড় হওয়ায়, অনেকে ওরাকল সিরিজের বই পড়তে ভয় পেত। আমি বড় আকারের বইগুলোই বেছে নিলাম। পাশাপাশি বাংলাদেশ, বিজ্ঞান, ভূগোল ও গনিতের টেক্সট বইগুলোও পড়লাম। অর্থাৎ, আমি অন্যদের তুলনায় ভাল প্রস্তুতি নিতে চেষ্টা করেছিলাম) সেপ্টেম্বর, ২০১৮ তে ৪০তম বিসিএস পরীক্ষার সার্কুলার হয়। অনেক জল্পনা-কল্পনার পর আমরা ২০১৪-১৫ সেশন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাই ( ডিপার্টমেন্ট এর স্যারদের অনুরোধ করে পরীক্ষা কিছুদিন এগিয়ে নিয়ে এপেয়ার্ড দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাই)। ২০১৮ সালের শেষের দিকে এসে খেয়াল করলাম শুধু 'আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি' ছাড়া অন্যান্য সব বিষয়ে একবার করে পড়া হয়ে গিয়েছে। আমি বিষয়ভিত্তিক বইগুলো রিভিশন করা শুরু করলাম। প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ৪-৫ মাস আগে থেকে আমি আর নতুন কোন বই পড়িনি, পুরোনো বইগুলো রিভিশন করেছি। আমার কাছে মনে হয়- পড়াশোনার পরিধি কম হলেও সমস্যা নেই, বরং বারবার রিভিশন করে সব বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা থাকাই উত্তম। কারণ, বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ফেল করার সবচেয়ে বড় কারন নেগেটিভ মার্কিং (প্রতি ভুল উত্তরের জন্য .৫০)। তাই নেগেটিভ মার্কিং থেকে বাচতে একই পড়াগুলো ৩/৪ বার করে রিভিশন করাটা জরুরি। মোটামুটি ভাল প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও, পরীক্ষার আগে মারাত্মক টেনশন কাজ করছিল। বিসিএস প্রিলিমিনারি ছাড়া অন্যকোন চাকরির পরীক্ষা দেওয়ার পূর্ব-অভিজ্ঞতা ছিল না। তাই টেনশন একটু বেশি কাজ করছিল। পরীক্ষার আগেই অসুস্থ হয়ে গেলাম। পরীক্ষার আগের দিন সকাল-সন্ধ্যা পর্যন্ত বিছানা থেকে উঠতে পারিনি। আমি ধরেই নিয়েছলাম- আগামীকাল আমি পরীক্ষায় বসতে পারবো না।
আল্লাহর অশেষ রহমতে ৩ মে, ২০১৯ তারিখে ৪০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দিলাম। প্রশ্ন মোটামুটি সহজ মনে হলো। টাইম ম্যানেজমেন্টও ভাল হল। কিন্তু পরীক্ষার হল থেকে বের হয়ে এসে দেখি মাত্র ১২৩-১২৫টা কোশ্চেন উত্তর করেছি। খুব মন খারাপ হলো। তবে সেরকম একটা ভুল দাগাইনি, অর্থাৎ নেগেটিভ মার্কিং কম হবে। পাশ করবো কিনা, নিশ্চিত ছিলাম না। আমার প্রস্তুতি ভাল ছিল, তাই আমার মন বেশি খারাপ হতো। আশেপাশের সবাই মানসিকভাবে শক্ত হতে বললেও, আমার খুব মন খারাপ হতো। আমি মেনে নিতে চাইতাম না- আমার এতোদিনের প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও আমি ফেল করবো। প্রায় আড়াই মাস পরে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলো। আলহামদুলিল্লাহ, আমি লিখিত পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেলাম।
( আমি অনেক কম প্রশ্ন উত্তর করেছিলাম, তারপরেও পাশ করার পিছনে দুইটা কারন ছিল। ১. আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করেছেন; ২. আমি বারবার পড়া রিভিশন করেছিলাম, এতে আমি পরীক্ষার হলে কনফিউজড হয়ে যাইনি, শতভাগ নিশ্চিত ধরেই প্রশ্নগুলোর উত্তর করি, এরপরেও ৮-১০ টা প্রশ্নের উত্তর ভুল হয়।)
লিখিত পরীক্ষাঃ
যেহেতু প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় পাশ করার ব্যাপারে অনিশ্চয়তা ছিল, তাই রেসাল্ট দেওয়ার আগে লিখিত পরিক্ষার জন্য পড়াশোনা শুরু করতে পারিনি। রেসাল্ট হওয়ার পরদিন থেকেই পুরোদমে পড়াশোনা শুরু করি। লিখিত পরিক্ষার ব্যাপারে আমি সবসময় কনফিডেন্ট ছিলাম। তাই আমার মনে হত- লিখিত পরীক্ষায় বেশি মার্কস তুলতে পারলেই আমি আমার স্বপ্ন পূরন করতে পারবো; কারণ লিখিত পরীক্ষার ৯০০ মার্কস ক্যাডার পাওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিভাবে রিটেন প্রস্তুতি নেওয়া যায়, সেবিষয়ে সিনিয়রদের থেকে পরামর্শ নিলাম। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী আমি অক্লান্ত পরিশ্রম করা শুরু করলাম।সারাদিন লাইব্রেরিতে পড়ে, রাতেও আবার রিডিং রুমে যেতাম। এই কয়েকদিনে আমি সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করলাম।( এছাড়া আমি সবসময় রেগুলার পড়াশোনা করতাম, দিনে যতটুকু সময় ম্যানেজ করা যেত ততটুকুই পড়তাম, পড়াশোনা নিয়ে জোরাজোরি করতাম না। আমি মনে করি- আমি যদি দিনে ১ ঘন্টা ম্যানেজ করতে পারি, তাহলে ১ ঘন্টাই পড়বো। কিন্তু রেগুলার পড়বো।)
আমরা মাত্র ৪ মাস সময় পেয়েছিলাম প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য। তাই অনেকে ভাল প্রস্তুতি নিতে পারেনি। কিন্তু আমি অন্যদের থেকে ব্যতিক্রম ছিলাম। অল্প সময়ের মধ্যে রাত-দিন খেটে পড়াশোনা গুছিয়ে নিলাম, নোটস করলাম, ২/৩ বার করে পড়াশোনা রিভিশন করলাম।
পরীক্ষা শুরু হল- ৪ জানুয়ারি, ২০২০। প্রথম দিন ইংরেজি পরীক্ষা তত ভাল হয়নি। প্রথম লিখিত পরীক্ষা ছিল, কিছু বুঝে উঠার আগেই পরীক্ষা শেষ হলো। এছাড়াও, আমি ইংরেজি ভোকাবুলারিতে দুর্বল ছিলাম; তাই পরীক্ষাটি তূলনামূলক খারাপই হল। কিন্তু বাকি পরীক্ষাগুলো আলহামদুলিল্লাহ খুব ভাল হল। এভারেজ, সব পরিক্ষায় ৬০% মার্কস পাবো বলে আশা করতাম। সম্ভাব্য মার্কস প্রাপ্তি-
ইংরেজি- ১০০
বাংলাদেশ- ১৩০+
আন্তর্জাতিক- ৭০+
বিজ্ঞান- ৫০+
গনিত- ৪৫, মানসিক দক্ষতা- ৩০+
বাংলা-১২৫+
মোট- ৫৫০+ (এটা সর্বনিম্ন ধরে)
(যেহেতু প্রথম লিখিত পরীক্ষা ছিল, তাই মার্কস প্রাপ্তি সম্পর্কে ভাল ধারণা ছিল না। এক সিনিয়র ভাইকে বলেছিলাম- আমি ৫৩০+ মার্কস পেতে পারি। উনি বললেন, বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় এতো মার্কস পাওয়া যায় না। মন খারাপ হলো। আর কাউকে কখনো মার্কস নিয়ে কিছু বলতে যাইনি। আসলেই এটাই ঠিক যে লিখিত পরীক্ষায় কোন প্রেডিকশন করা চলে না। আমি হয়ত যা ভেবেছিলাম তার চেয়েও বেশি মার্কস পেয়েছি)
২০২১ সালের জানুয়ারির শেষের দিকে লিখিত পরিক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। দীর্ঘ ১৩ মাস সময় যায় ফলাফল প্রকাশ করতে। কোভিডের ওইসময়টা ভয়াবহ হতাশা-টেনশন-অশান্তিতে পার করি। যাই হোক, আলহামদুলিল্লাহ, আমি লিখিত পরীক্ষায় পাশ করি।
ভাইভার প্রস্তুতিঃ
যেহেতু আমি লিখিত পরীক্ষায় পাশ করার ব্যাপারে আশাবাদী ছিলাম, তাই লিখিত পরীক্ষা দিয়ে ভাইভার জন্য পড়াশোনা শুরু করার সিন্ধান্ত নিলাম। এর মধ্যে, এসআই (পুলিশ) পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয় এবং আমি চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হই। অনেকে আমাকে চাকুরীতে জয়েন করতে বললেও, আমি জয়েন না করার সিন্ধান্ত নেই। এমনকি আমার পরিচিত এক এএসপি ভাইও আমাকে জয়েন করার ব্যাপারে ইঙ্গিত দেন। কিন্তু আমি যেহেতু রিটেন পরিক্ষার ব্যাপারে আশাবাদী ছিলাম, তাই ভালভাবে ভাইভার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সিন্ধান্ত নেই। এখন পর্যন্ত আমার জীবনের সেরা সিন্ধান্ত ছিল এটি।
যাই হোক, রিটেন দেওয়ার পর থেকেই ভাইভার বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ফলো করতাম৷ 'বিসিএস ভাইভা কেম্পেইনার' নামক গ্রুপে এক সিনিয়র আপুর একটি পোস্ট আমাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। তিনি লিখেছেন, "একজন পরীক্ষার্থী যদি বাড়িতে, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশীদের সাথে চামারের মতো আচরণ করে, তাহলে ভাইভা বোর্ডে সে যতই বিনয়ী হওয়ার চেষ্টা করুক- সে বিনয়ী হতে পারবে না, তার ব্যক্তিত্ব, আচরণ- সবকিছুই ভাইভা বোর্ডে ফুটে উঠবে। তাই সকলের উচিত নিজেকে নিয়ে অহমিকা না করে, সকলের সাথে অনুগত ও বিনয়ী আচরণ করা; একজন ক্যাডার থেকে প্রত্যাশিত আচরণগুলো নিজের মধ্যে চর্চা করা"। সিনিয়র আপুর এই কথাগুলো আমার জীবনের জন্য শ্রেষ্ঠ মোটিভেশন। এরপর থেকে আমি নিজের ব্যক্তিত্ব উন্নয়ন, নিজের ভুলত্রুটি সংশোধন, দুর্বলতা চিহ্নিতকরণ ও দূরীকরণ এবং মেজাজ নিয়ন্ত্রণের জন্য অনেক কাজ করেছি। এছাড়াও, আমার প্রিয় মানুষ, আশেপাশের বন্ধু-বান্ধব, ছোট ভাইদের সাথে ইংরেজিতে কথা বলার প্রাকটিস করে ইংরেজিতে কথা বলার ভীতি দূর করি। নিজেকে নিয়ে কাজ করার এইসময়টা ছিল আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়।
মানসিকভাবে ও পড়াশোনার দিক থেকে ভাইভার জন্য খুব ভাল প্রস্তুতি নিলাম। রিটেন রেসাল্ট দেওয়ার পূর্বেই ক্যাডার চয়েজ, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, ডিপার্টমেন্ট, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর লিখিত বইগুলো ভালভাবে পড়লাম। ক্যাডার চয়েজের সাথে আমার বৈশিষ্ট্যগত সম্পর্ক, পঠিত বিষয়ের সাথে ক্যাডার চয়েজের সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলাম। আমার বিশ্বাস- অন্তত ভাইভার আগে নিজেকে পর্যালোচনা করে নিজের সম্পর্কে ভাল ধারণা থাকাটা খুব জরুরি; আমি তাই করলাম।
১১ই মার্চ, ২০২১ তারিখে আমার ভাইভার তারিখ নির্ধারিত হয়। তার পরের সপ্তাহে ১৯ই মার্চ ৪১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হলেও, আমি পুরোপুরি ভাইভার উপরই মনোযোগ দেই। কারণ, আমি বিশ্বাস করতাম- এবারই আমাকে একটা ভাল ফলাফল নিয়ে আসতে হবে।
ভাল প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও, আমি ভাইভার বিষয়ে সবসময় ভীত ছিলাম। ভাবতাম, কোনভাবে পাশ আসলেই আমি খুশি। আব্দুল মান্নান স্যারের বোর্ডে ভাইভা ফেস করি। আলহামদুলিল্লাহ, মোটামুটি হয়েছিল; ১২০-১৩০ মার্কস আশা করতাম।
আমার মনে হল- আমি মানুষ হিসেবে যেরকম তার পুরোটাই ভাইভা বোর্ডে ফুটে উঠেছিল। যেমনঃ আমি খুব কম কথা বলি, এমনকি কোন বিষয়ে অনেক ভাল ধারণা থাকা সত্ত্বেও, আমার বলতে ইচ্ছে করে না। বোর্ডে তাই হল- সব প্রশ্নের উত্তর আমার আয়ত্বে থাকলেও, বিস্তারিত না বলে সংক্ষিপ্ত করেই উত্তর দিলাম। কিন্তু যা কিছু বললাম খুবই কনফিডেন্সের সহিত বললাম। যতটুকু বুঝতে পারি, চেয়ারম্যান স্যার আমাকে পছন্দ করেছিলেন।
চূড়ান্ত ফলাফলঃ
ভাইভা পরীক্ষা দেওয়ার পর আমাদের হাতে আর কিছুই করার থাকে না। আমি বিশ্বাস করি- আল্লাহর কাছে মন থেকে কোন কিছু চাওয়া হলে, তিনি আমাদের চাওয়ার থেকেও বেশি দেন। আমি আল্লাহর দরবারে অন্তত একটা জেনারেল ক্যাডার পাওয়ার জন্য কান্নাকাটি করতাম। আমি এতোটা টেনশনে ছিলাম যে, যখন-তখন আমার কান্না চলে আসত, দিন-রাত না ঘুমিয়ে, না খেয়ে কাটাতাম। শেষের দিনগুলোতে ভাবতাম- অন্তত নন-ক্যাডার আসুক এবং আল্লাহ আমাকে মানসিক শক্তি দান করুক। আল্লাহ আমার বাবা-মায়ের দোয়া কবুল করেছেন। আল্লাহ আমাকে আমার চাওয়ার চেয়ে বেশি দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ।
আমি বিশ্বাস করি- প্রতিটি মানুষের সফলতার পিছনে দুইটি বিষয় কাজ করে। প্রথমত, কোন কিছু মন থেকে চাওয়া ও পরিশ্রম করা। দ্বিতীয়ত, আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করা। এই দুইটি জিনিস আমাকে আমার জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে সফলতা আনতে সাহায্য করেছে। মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে আমি সবসময় কৃতজ্ঞ; তিনি আমাকে সম্মানিত করেছেন। আমার বাবা-মা, ভাই-বোন, প্রিয় মানুষ, বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছেও কৃতজ্ঞ।
বি.দ্র. ৪০তম বিসিএস ছিল আমার জীবনের প্রথম পরীক্ষা, এছাড়াও তেমন কোন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা হয়নি। তাই অভিজ্ঞতার পাল্লা তেমন ভারী নয়; অনেক জিনিসই আমার জানাশোনার বাহিরে। তাই আমার কোন কথাবার্তা, আচরণ যদি ভুল হয়, আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। ধন্যবাদ। ❤️
কমেন্টে অন্তত একবার "আলহামদুলিল্লাহ" বলে যান।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Pirganj
Thakurgaon
5110