03/01/2021
২০২১ সালে যে ১০ টি দক্ষতা আপনাকে করবে আরও স্মার্ট ও গিতিশীল । ব্যবসা, ক্যারিয়ার তথা ফ্রিল্যান্সিং এ যে দক্ষতা গুলি আপনাকে নিয়ে যাবে সফলতার চূড়ান্ত পর্যায়ে ।
ডিজিটাল বাংলাদেশ। কথা টা শুনে আসছি আমরা অনেক দিন থেকেই। হয়তো এই আশায় ও বসে আছি একদিন পুরো ডিজিটাল হবে আমাদের এই দেশ টা আর তখন হয়তবা আমাদের দুঃখ দুর্দশা গুলি কমেযাবে একেবারেই। তবে বলি ভুল ধারণায় দিন কাটাচ্ছেন আপনি। এর কারণ টাও আপনি জেনে যেতে পারেন নিজেই শুধু এই চিন্তা টা করে যে দেশ মানে আসলে কি? দেশ মানে দেশের মানুষ। দেশ বলতে কখনো সরকার কে কেউ বুঝায় না কারণ সরকার দেশের হাজার অংশের একটি দায়িত্বশীল অংশ মাত্র। যদি বলি বাংলাদেশ তবে সেটা আমরাই। ডিজিটাল বাংলাদেশ মানে বাংলাদেশ এর ডিজিটাল মানুষ, আর এই ডিজিটাল ব্যাপার টা হতে হবে আমাদেরকেই। দূর করতে হবে নিজেরাই নিজেদের দুঃখ। বর্তমানে সরকারী বেসরকারি নানা উদ্যোগ এই ডিজিটালায়ন কে করেছে বহু অংশে অগ্রগামি আর তাই এখনই স্বর্ণ যুগ ডিজিটাল শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার। তাই নতুন বছরে যদি থাকে নিচের এই ১০ টি দক্ষতা তবে জেনে নিন আপনিই বর্তমানে ডিজিটাল বাংলাদেশের সব চেয়ে শক্তিশালি মানুষ। :)
ইংরেজিঃ
যারা এই গ্রুপ তথা সার্চ ইংলিশ গ্রুপে আছেন তারা নিশ্চই বুঝে গেছেন ইংরেজির গুরুত্ব আর তার দক্ষতার মহা শক্তি। আপনি জেখানেই যান, এই ইংরেজি ছাড়বেনা পিছু আপনার। এই যোগ্যতা টা এমন একটা যোগ্যতা, শুধু এটার অভাবে নিচের বাকি ৯ টা দক্ষতা হয়ে যেতে পারে ফ্যাকাশে। তাই এই দক্ষতা টাকে সব থেকে বেশি প্রায়রিটি দিন। না, এক দিনে বা এক সপ্তাহে কিংবা ১ মাসে একটা কোর্স করে এটায় আপনি প্রফেশনাল হয়ে যেতে পারবেন না, তবে শুরু টা করতে পারবেন জোরে সোরেই আর তার পর টানা লেগে থাকলে আপনার ইংরেজির দক্ষতা আপনার চার পাশের মানুষ গুলির তুলনায় দৃষ্টি নন্দন হয়ে উঠবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। এটা নিয়ে আমার একটা পোস্ট ও ছিল। কিভাবে মুখস্ত না করে সাবলীল ভাবে শিখবেন ইংরেজি। সেটা পেতে আমাদের গ্রুপ ভিজিট করতে পারেন আর আমাদের ফ্রি কমিউনিকেটিভ স্পোকেন সেশান জয়েন করতে পারেন এইখানে Learn English For Tomorrow
যোগাযোগঃ
আমার প্রায় সব গুলি লিখা তে যোগাযোগ বা কমিউনিকেশান জিনিস টা থাকে। ইভেন আমার লিস্ট এ এই একটা টপিক নিয়ে পুরো একটা পোস্ট আসবে খুব শিগগিরি কারণ এটা অনেক দরকারি একটা দক্ষতা। আপনি ২০২০ থেকে ২০২১ এ পা দিচ্ছেন, চিন্তা করছেন স্টার্ট আপ এর, নতুন ব্যাবসা প্ল্যান করছেন কিন্তু আপনার যোগাযোগ খুবি দুর্বল, তাহলে মনে রাখবেন আপনি যত যাই করেন না কেন, দিন শেষে কোনার একজন সাধারণ মানুষ হয়েই রয়ে যাবেন। তাই যোগাযোগ এর দক্ষতা টা হতে হবে আপনার সুপার স্ট্রং। মানুষ বুঝে তাদের সাথে কথা বলা বা মিশতে পারা, হিউম্যান সাইকোলজি বুঝে কাজ করা, সামাজিক মাদ্ধম গুলি তে একটা পসিটিভ যোগাযোগ ব্যাবস্থা বজায় রাখা, ক্লায়েন্ট দের সাথে তাদের ডিমান্ড বুঝে কথা বলা, নতুন ক্লায়েন্ট দের সাথে অরগানিক উপায়ে আপনার প্রডাক্ট এর চাহিদা সৃষ্টি করা ইত্যাদি সহ আরও অনেক কিছুই থাকছে এই যোগাযোগ দক্ষতা টায় যেটা আপনাকে মেইন্টেইন করতে হবে ঠিক ভাবে।
সামাজিক মাধ্যমঃ
ব্যাপার টা হয়েছে এমন, যে সামাজিক মাধ্যম বলতে আমরা শুধু ফেসবুক কেই বুঝি। আর মনে করি এটার নারী নক্ষত্র সব জানলেই হয়ে গেলাম সামাজিক মাধ্যম জিনিয়াস। মজার ব্যাপার হল, আমরা এই সামাজিক মাধ্যম গুলিতেই অনেক বেশি অসামাজিক আচরণ করছি। ভদ্রতা তো নেই, কাকে কি বলছি, সে ছোট না বড়, এসবের তোয়াক্কা করছিনা, ভালো মন্দ বিবেচনায় আনছি না,মিনিমাম কারসি গুলি মেনে চলছিনা! একটা ব্যাবসা রান করাতে গেলে সকল সামাজিক মাধ্যমে সামাজিকতা মেইন্টেইন করে চলা টা খুবি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। পাশা পাশি সতর্ক থাকতে হবে আপনি কার সাথে কি ব্যাবহার করছেন। কাকে ইনবক্স এ কি বলছেন, কখন বলছেন, কি ভাবে বলছেন। পরিচিত দের সাথে এক রকম ব্যাবহার, অপরিচিত হলে অন্য রকম, সময় গ্যান, অভিব্যক্তি, সম্ভাষণ, বিদায় আলাপ ইত্যাদি সব কিছুর খেয়াল রেখে চলতে হবে। শুধু বাবা মা'র ভদ্র ছেলেটি বা মেয়ে টি সেজে বসে থাকলে হবে না। যা আছে ভেতরে সেটা এপ্লাই করতে হবে বাকি সব গুলি মাধ্যমেই।
বিশ্লেষণ করার ক্ষমতাঃ
এটা আমার জানা মতে বড় একটা গুণ। এটাকে আমরা দুই ভাবে ভাগ করি। একটা টেকনিক্যাল, আরেকটা সাইকলজিক্যাল। টেকনিক্যাল অংশ টা হল এনালাইটিক্স বা বিশ্লেষণ খমতা যা কিনা আপনি ব্যাবহার করবেন আপনার ব্যাবসাইক খাতে, চাকুরিতে, আপনার প্রডাক্ট এবং ক্লায়েন্ট নির্বাচনে তথা স্টার্টআপ বা ব্যবসার এর জন্য প্ল্যান এক্সিকিউট করার আগে! আর অন্য যে সাইকলজিক্যাল অংশ রয়েছে, তার ভেতরে থাকছে অন্য কে বোঝা ততা বোধগম্যতা। আপনি জদি প্রত্যেকটা মানুষ কে বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা রাখেন, তাহলে তাদের কৃত কাজ গুলির কারণ আপনার কাছে অনেক পরিস্কার হয়ে যাবে। সহজেই ধরতে পারবেন নিজের তথা অন্য দের ভুল গুলি আর সেই অনুযায়ী একশন নিতে পারবেন। প্রত্যেকটা কাজের বিশ্লেষণ আপনাকে দেবে কম ভুল এর নিশ্চয়তা এবং অধিক প্রডাকশন এর গ্যারান্টি।
মার্কেটিংঃ
মার্কেটিং তথা মার্কেট রিসার্চ অনেক দরকারি একটা বিষয়, শুধু যে আপনি ব্যাবসা করবেন বা ফ্রিল্যান্সিং এ ফাইভারে গিগ খুলবেন তার জন্যই না, বরং এটা দরকার পড়বে আপনার যে কোন লাইনে ক্যারিয়ার গড়তে, দরকার হবে চাকরীতে, এমন কি প্রতিদিন কার বাজার খরচ এও। আর তাই আপনাকে ধারণা রাখতে হবে মার্কেটিং এর বেসিক গুলির সম্পর্কে। কনটেন্ট আর প্রডাক্ট বেইস ব্যাবসার দিনে এই একটা দক্ষতা আপনাকে এনে দিতে পারে এক দারুন সফলতা যদি আপনি খুভ ভালো করে করতে পারেন আপনার প্রোডাক্ট এর মারকেটিং।
কম্পিউটারঃ
ওপরে নিচে বর্ণিত সকল বিষয় খুভি সহজ হয়ে যায় জদি আপনি খুভ ভালো অপারেট করতে পারেন একটি কম্পিউটার তথা ল্যাপটপ কিংবা মোবাইল কোন ডিভাইস। টেকনোলজির এই যুগে তথ্য গুলি কে এনে দেয়া হয়েছে একেবারে হাতের মুঠোয়। তবে বিপত্তি টা বাধবে তখনি যখন এই তথ্য উদ্ধার করতেই লেগে যাবে অনেকটা সময়। আর তাই কমিউটার ডিভাইস গুলি খুভ ভালো ভাবে আয়ত্তে আনতে হবে। জানতে হবে ইন্টারনেট সম্পর্কে, বুঝতে হবে সেগুলি কি ভাবে কাজ করে আর শিখতে হবে সেগুলির বেসিক টা।
নেটওয়ার্কিংঃ
যদিও এটা যোগাযোগ এর একটা বড় অংশ তার পরেউ নেটওয়ার্কিং টা আমরা মূলত কাজের পারপাসে করে থাকি। ব্যাবসা সম্প্রসার, দরকারি কাজ গুলির জন্য উপযুক্ত কাউকে খুঁজে পাওয়া, নিজের ব্যাবসা বা কাজের প্রচার প্রশার, কাজ পেতে, কাজ দিতে উভয় ক্ষেত্রেই খুবি দরকারি এই নেটওয়ার্কিং। এটার জন্য শর্ট কাট কোন উপায় নেই, শুধু সময় আর সঠিক পদক্ষেপ গুলি ই পারে গড়ে গুলতে আপনার একটি শক্তিশালি নেটওয়ার্ক।
ডিজাইনঃ
কোন কিছু ডিজিটালি ডিজাইন করতে পারা টা কিছু দিন আগেউ ক্রিয়েটিভিটি ছিল তবে এখন এটা একটা ডিজিটাল ডিমান্ড এ রুপ নিয়েছে। ডিজাইন করা মানেই এটা না আপনি একজন গ্রাফিক ডিজাইনার হয়ে গেলেন। এই ডিজাইন দরকার আপনার প্রতিটা পদক্ষেপে এমন কি যারা ছাত্র তাদের প্রেসেন্টেশান এউ অপরিসীম গুরুত্ব বহন করে এই ডিজাইন। তা ছাড়া আপনার ব্যাবসা বা সামাজিক মাধ্যম গুলির জন্য ব্যানার তৈরি, প্রোডাক্ট এর জন্য রঙ বেরঙের কনটেন্ট রেডি করা, কোন ইভেন্ট এর জন্য ঘোষণা পত্র, ফেসবুকের অ্যাডস ইত্যাদি সব খানেই দরকার আপনার এই ডিজাইন এ দক্ষতা। তবে এর জন্য আপনাকে কোন ভাবেই টাকা খরচ করে কোর্স করে ডিজাইন শিখার দরকার নেই, কারণ শুধু মাত্র কিছু সফটওয়্যার এর বেসিক টা শিখেই মিটিয়ে নিতে পারবেন আপনার প্রাত্তাহিক ডিজাইন এর চাহিদা। পাশা পাশি ছোট খাট ভিডিও এডিটিং জানা টাউ অত্যাবশ্যকীয়। দেখুন না, দুটোই ক্যামন কাজে আসছে এখনকার সব থেকে আলোচিত পডকাস্ট /ভিডিও কাস্ট তৈরি তে! তাই নিজের গরজেই শিখে নিতে হবে এই দরকারি দক্ষতা টি।
কোডিংঃ
অনেকে হয়তো ভাবছেন ওমা, এখন আবার আমাদের প্রোগ্রামার বানাবে নাকি! :O সেটা তো অনেক দিনের ব্যাপার। অনেক শিখতে হয়, অনেক জানতে হয়। ক্যামনে কি! তবে আপনারা যারা ওয়ার্ডপ্রেস এর কথা জেনেছেন, তারা হয়তো জানেন, খুব হালকা কোডিং সেন্স থাকলেই আপনি এই খানে দিব্বি বানিয়ে নিতে পারবেন আপনার ওয়েবসাইট টি। শুধু কিছু গ্যান, কিছু দক্ষতা দিয়ে এক্সট্রা টাকা খরচ না করেই আপনি তৈরি করতে পারেন আপনার পারসনাল বিজনেস ওয়েবসাইট কিংবা ব্লগ বা পোর্টফলিও। তাই কোডিং জানা টা এখন অনেক বেশি দরকারি বিশেষ করে যারা তৈরি হচ্ছেন উদ্যোগতা হিসেবে, তৈরি করছেন নিজের বিজনেস। শুধু অনলাইনে সার্ভিস সেল করার জন্যই আপনাকে কোডিং জানতে হবে তা নয় কিন্তু। আপনার নিজের জন্য এই টুক টাক কোডিং জেনে রাখাটা একটা সময় ম্যাজিকের মতো কাজে দেবে আমি বলে দিলাম।
ভালো বলতে পারাঃ
এটা আসলে আলাদা কোন দক্ষতা নয়। উপড়ের দক্ষতা গুলির একটা স্বচ্ছ প্রতিফলন যা কিনা নিঃসৃত হয় আপনার বাহ্যিক অনুধাবন গুলি সঠিক উপায়ে প্রসেস হয়ে মনের দৃষ্টিকোণ থেকে। ভালো বলতে পারা টা খুবি দরকারি একটি বিষয় যা কিনা আপনাকে আলাদা করে তোলে অন্য দের থেকে। সঠিক অনুধাবন, উপলব্ধি, বিচার বিশ্লেষণ ইত্যাদি আপনাকে একজন ভালো বক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে সহায়তা করে। এই দক্ষতা টা যেমন দরকার আপনার পারসনাল জীবনে একজন ভালো মানুষ হিসেবে নিজেকে সবার মাঝে পরিচিত করার, তেমনি খুবি ফলপ্রসূ আপনার ক্লায়েন্ট দের সাথে সঠিক যোগাযোগ এবং সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য।
আশা করি এই ১০ টি টপিকের উপর সবাই আলকপাত করবেন। আপনি
যেই দক্ষতায় দক্ষ হন না কেন, যে নিশ নিয়ে ব্যাবসা বা স্টার্আজপ বা ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেন না কেন, এই ১০ টি দক্ষতা আপনার মাস্ট দরকার। এগুলি একটা মানুষ এর ডিজিটাল হওয়ার বহিপ্রকাশ যা তার জন্য কাজে দেবে তার জীবনে চলার প্রত্যেকটা ধাপ এ।
যদি লিখাটা ভালো লাগে তাহলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন। আর কি বিষয়ে বিষদ জানতে চান তা আমার পেজের কমেন্ট বক্স এ লিখে ফেলুন চটপট।
ভালোবাসায় সবাই অনেক ভালো থাকবেন! ♥ ♥ ♥