Dr. Malek Islami Kindergarten

Dr. Malek Islami Kindergarten খয়খাট পাড়া নূরানী ও হাফেজিয়া মাদ্রাস? খয়খাট পাড়া নূরানী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়

24/01/2022
17/07/2021

অশীতিপর বৃদ্ধ ফজিলা বেগমের স্বামী সন্তান কেউ নেই। স্থানীয় গুচ্ছগ্রামের একটি ঘরে থাকেন। এখন মানুষের কাছে

01/05/2018

আজ শবে বরাত : করণীয় ও বর্জনীয়

শাবানের ১৫তম রাত শবে বরাত। ‘শব’ শব্দটি ফার্সি আর ‘বরাত’ শব্দটি আরবি ও ফর্সি উভয় ভাষাতেই ব্যবহৃত হয়। ফার্সিতে বরাত অর্থ ভাগ্য। শবে বরাতের অর্থ দাঁড়ায় ভাগ্যরজনী। রাতটির আরবি নামকরণে বলা হয় লাইলাতুল বারাআত।

শবে বরাতের আমল
শবে বরাতে ইবাদতের জন্য কোনো বিশেষ নিয়মনীতি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। শবেবরাতের করণীয় সম্পর্কে হজরত রাসুলে আকরাম (সা.) ইরশাদ করেন, '১৪ শাবানে তোমরা রাত জেগে ইবাদত করবে এবং পরদিন রোজা রাখবে।' তাই এই দিনে রাত জেগে নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, তাসবিহ-তাহলিল, দোয়া-দুরুদ, তওবা-ইস্তেগফার পাঠ করা দরকার। এইদিন এবং পরদিন রোজা রাখতে পারলে ভালো। এমনিতে সারা শাবান মাসেই রোজা রাখা উত্তম। হজরত মুহাম্মদ (সা.) প্রায় সারা শাবান মাসেই রোজা রাখতেন। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমি হজরত নবী করিম (সা.)-কে শাবান মাসের মতো আর কোনো মাসে এত অধিক (নফল) রোজা রাখতে দেখিনি। এ মাসের কয়েক দিন ছাড়া সারা মাসটাই বরং বলতে কী গোটা মাসটাই তিনি রোজা রাখতেন। (তিরমিজি ১/১৫৫, বুখারি ১/২৬৪)।

১৫ শাবানের রাতে নফল নামাজ আদায় করা এবং দিনের বেলায় নফল রোজা রাখার বিষয়ে হজরত আলী (রা.) থেকে একটি প্রসিদ্ধ হাদিস রয়েছে। হজরত আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : যখন মধ্য শাবানের রাত আসবে, তোমরা তার রাতে নফল নামাজ আদায় করবে আর দিনের বেলায় রোজা পালন করবে। কেননা, এ রাতে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহতায়ালা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং বলতে থাকেন, আছে কি কোনো ক্ষমা প্রার্থনাকারী, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব; আছে কি কোনো রিজিক প্রার্থনাকারী, আমি তাকে রিজিক দান করব; আছে কি কোনো বিপদাপন্ন, আমি তাকে বিপদ থেকে মুক্তি দান করব। এভাবে তিনি সূর্যোদয় পর্যন্ত আহ্বান করতে থাকেন।
সম্ভব হলে শবেবরাতের দিনে মৃত আত্বীয়-স্বজনদের কবর জিয়ারতও করা উচিত। অন্যথায় ঘরে বা মসজিদে বসেই মৃতদের জন্য দোয়া করা উচিত। রাতের শ্রেষ্ঠতম ইবাদত হলো তাহাজ্জুদ নামাজ। (আল কোরআনুল করিম, পারা: ১৫, সুরা-১৭ ইসরা-বনি ইসরাইল, আয়াত: ৭৯)। এ ছাড়া সালাতুস তাসবিহ এবং অন্যান্য নফল নামাজ আদায় করা যায়। এক হাদিসে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ফরজ ছাড়া অন্য সব নামাজই বাড়িতে নির্জনে একাকী আদায় করাই উত্তম। সুতরাং শবেবরাতের নামাজও যেহেতু নফল, সেহেতু বাড়িতে আদায় করাই উত্তম।

শবে বরাতে বর্জনীয়
শবে বরাতের সঙ্গে হালুয়া-রুটির একটি সম্পর্ক পরিলক্ষিত হয়। অথচ শবে বরাত হলো ইবাদতের রাত। দান-খয়রাত করা ও মানুষকে খাওয়ানো এক প্রকার ইবাদত। তবে এই দিন ও রাতকে হালুয়া-রুটিতে পরিণত করে ইবাদত থেকে গাফেল হওয়া মোটেই ভালো কাজ নয়।
আমাদের দেশে শবে বরাত এলে পটকা ফোটানো, কবর ও মাজারে মোমবাতি/আগরবাতি জ্বালানো, আলোকসজ্জা করা ইত্যাদি রেওয়াজ বেশ পুরোনো। অথচ এগুলো সম্পূর্ণ হারাম। অনেকে দল বেঁধে সারা রাত ঘুরে বেড়ান, গল্প করে আড্ডা মেরে রাত পার করে দেন। একটি পুণ্যময় রাতকে এভাবে অবহেলায় নষ্ট করা মোটেও উচিত নয়।
অনেকে আবার সারা রাত নফল নামাজ পড়ে, ইবাদত-বন্দেগি করে ঘুমিয়ে যান। ফজরের ফরজ নামাজ তাঁদের কাজা হয়ে যায়। অথচ ফরজ নামাজ না পড়ার ক্ষতি পৃথিবীর কোনো কিছু দিয়েই পূরণ করা যাবে না। সুতরাং নফল ইবাদত ততটুকুই করা উচিত, যতটুকু করার দ্বারা ফরজ ফরজের কোনো না হয়।

যাদের গুনাহ ক্ষমা হবে না
হাদিস শরিফে আছে, শবে বরাতে আল্লাহ তাআলা সবাইকে মাফ করবেন, তবে শিরককারী (আল্লাহর সঙ্হে কাউকে শরীক বা অংশীদার করা) ও আত্মীয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নকারীকে ক্ষমা করবেন না। অন্য বর্ণনায় এসেছে, শবে বরাতে আল্লাহ তাআলা সবাইকে মাফ করবেন। তবে শিরককারী (অংশীবাদী) ও হিংসাকারীকে ক্ষমা করবেন না। অহংকার পরিত্যাগ করুন; অহংকারীকে আল্লাহ পছন্দ করেন না। (বায়হাকি, শুআবুল ইমান)।

তাই আসুন, শবে বরাতে সারারাত জেগে বেশি বেশি করে ইবাদত করি। কৃত পাপের জন্য আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা করি কেননা তওবাকারীকে আল্লাহ ভালোবাসেন। বেশি বেশি ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করি; আল্লাহ ইস্তিগফারকারীকে পছন্দ করেন। (বুখারি ও মুসলিম)।
আল্লাহ পাক সবাইকে নেক আমল করার তৌফিক দিন। সবার নেক উদ্দেশ্য পূরন করুন। আমিন।

10/06/2017

শনিবার। ১০ জুন ২০১৭ । ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪। ১৪ রমজান ১৪৩৮।

10/10/2016

মহররম ও আশুরার আমল
ইসলামী বর্ষপরিক্রমায় প্রথম মাস মহররম। মহররম শব্দের অর্থ হলো-সম্মানিত বা মর্যাদাপ্রাপ্ত। এটি একটি ফজিলতপূর্ণ মাস। এ মাসকে শাহরুল্লাহ বা আল্লাহর মাস বলা হয়। মহররম মাসের ১০ তারিখকে আশুরা বলা হয়। এ মাসের আশুরার দিন পূর্ববর্তী আম্বিয়ায়ে কেরাম (আ.) রোজা রাখতেন। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে উম্মতে মুহাম্মদির ওপর আশুরার রোজা ফরজ ছিল। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পর আশুরার রোজা নফল রোজায় পরিণত হয়।
সৃষ্টির উষাকাল থেকে বহু ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যময় ঘটনা এবং বহু উত্থান-পতনের ইতিহাস এদিনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, যা নিঃসন্দেহে এ মাসের অপরিসীম গুরুত্বের স্বাক্ষর বহন করে। কেননা, এই আশুরার দিনেই হজরত আদমের (আ.) তওবা কবুল হয়েছে। এদিন হজরত নূহের (আ.) জাহাজ মহাপ্লাবন থেকে মুক্তি লাভ করে জুদি পাহাড়ে এসে স্থির হয়েছে। এদিন হজরত মূসা (আ.) ও বনি ইসরাইল ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মু্ক্ত হন এবং ফেরাউন ও তার অনুচরবর্গ লোহিত সাগরে নিমজ্জিত হয়। এদিন হজরত ইউনুস (আ.) মাছের পেট থেকে মুক্তি লাভ করেন। এদিন হজরত ঈসা (আ.) জন্মগ্রহণ করেন এবং এদিনেই তাকে আকাশে উঠিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়াও অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা এ আশুরার দিনে সংঘটিত হওয়ার কথা হাদিসে ও সিরাতের কেতাবগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আশুরার রোজা
ইসলামী শরিয়তে আশুরার রোজা দুটি। মহররমের ৯ ও ১০ তারিখ কিংবা ১০ ও ১১ তারিখ। তবে কোনো কোনো আলেম এ বিষয়ে বর্ণিত সব হাদিসের ওপর আমল কার্যকর হওয়ার জন্য বলেন, মহররমের ৯, ১০ ও ১১ তারিখ তিন দিনই রোজা রাখবে।
রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, রমজানের পর যদি তোমরা রোজা রাখতে চাও, তবে মহররম মাসে রোজা রাখো। কেননা এটি আল্লাহর মাস। এই মাসে এমন একটি দিন রয়েছে, যেদিন আল্লাহ তায়ালা একটি সম্প্রদায়ের তওবা কবুল করেছেন। (আশা করা যায়) সেদিন অন্যান্য সম্প্রদায়ের তওবাও কবুল করা হবে।-তিরমিজি শরিফ : ৭৪১
হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) আশুরা ও রমজানের রোজা সম্পর্কে যেরূপ গুরুত্বারোপ করতেন, অন্য কোনো রোজা সম্পর্কে রাসুল (সা.)-কে সেরূপ গুরুত্ব প্রদান করতে দেখিনি।-বোখারি : ২০০৬, মুসলিম : ১১৩২
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, রমজান মাসের রোজার পর সর্বোত্তম রোজা হলো মহররমের রোজা।-মুসলিম : ১/৩৬৮
হজরত হাফসা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) চারটি কাজ কখনো ছেড়ে দিতেন না। এর মধ্যে একটি হলো আশুরার রোজা।
হজরত আবু কাতাদা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, আশুরার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে তিনি এর ফলে পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন।-মুসলিম : ১১৬১, তিরমিজি : ৭৪৯

আশুরার দিনটি হজরত মুসা (আ.)-এর জন্য বিজয়ের দিবস হলেও কাকতালীয়ভাবে একই দিনে কারবালার নির্মম ঘটনাটিও ঘটেছিল। তাই বলে এ দিনকে শোকের দিন হিসেবে পালন করা সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ দিনে রোজা না রেখে উল্টো মাতম করা, শোক মিছিল বের করা, নখ বা ছুরি দিয়ে নিজের মুখ-শরীর ক্ষত-বিক্ষত করা চরম ভ্রষ্টতা ও জঘন্য বিদআত। এসব কুসংস্কার থেকে দূরে থাকা উচিত মুসলমানদের। বরং মহররম মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখার পাশাপাশি অধিক পরিমাণে তওবা ও ইস্তেগফার পড়া ভালো।

03/10/2016

উমামা বিনত আবিল আস (রা)

হযরত উমামার বড় পরিচয় তিনি হযরত রাসূলে কারীমের (সা) দৌহিত্রী। তাঁর পিতা আবুল আস (রা) ইবন বারী এবং মাতা যায়নাব (রা) বিনত রাসূলিল্লাহ (সা)। উমামা তাঁর নানার জীবদ্দশায় মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মের অনেক আগেই নানী উম্মুল মু‘মিনীন হযরত খাদীজাতুল কুবরা (রা) ইনতিকাল করেন। উমামার দাদী ছিলেন হযরত খাদীজার ছোট বোন হালা বিনত খুওয়ায়লিদ। হিজরী ৮ম সনে উমামার মা এবং দ্বাদশ সনে পিতা ইনতিকাল করেন।[তারাজিমু সায়্যিদাত বায়াতিন নুবুওয়াহ-৫৩৬-৫৩৭]

নানা হযরত রাসূলে কারীম (সা) শিশু উমামাকে অত্যধিক স্নেহ করতেন। সব সময় তাকে সংগে সংগে রাখতেন। এমনকি নামাযর সময়ও কাছে রাখতেন। মাঝে মাঝে এমনও হতো যে, রাসূল (সা) তাকে কাঁধের উপর বসিয়ে নামাযে দাঁড়িয়ে যেতেন। রুকূ‘তে যাওয়ার সময় কাঁধ থেকে নামিয়ে দিতেন। তারপর সিজদায় গিয়ে তাকে মাথার উপর বসাতেন এবং সিজদা থেকে উঠার সময় কাঁধের উপর নিয়ে আসতেন। এভাবে তিনি নামায শেষ করতেন। এ আচরণ দ্বারা উমামার প্রতি তাঁর স্নেহের আধিক্য কিছুটা অনুমান করা যায়।

রাসূলুল্লাহর (সা) সাহাবী হযরত আবূ কাতাদা (রা) বলেন, একদিন বেলাল আযান দেওয়ার পর আমরা জুহর, মতান্তরে আসরের নামাযের জন্য অপেক্ষায় আছি, এমন সময় রাসূল (সা) উমামা বিনত আবিল আসকে কাঁধে বসিয়ে আমাদের মাঝে উপস্থিত হলেন। রাসূল (সা) নামাযে দাঁড়ালেন এবং আমরাও তাঁর পিছনে নামাযে দাঁড়িয়ে গেলাম। উমামা তখনও তার নানার কাঁধে একইভাবে বসা।

রাসূল (সা) রুকূতে যাবার সময় তাকে কাঁধ থেকে নামিয়ে মাটিতে রাখেন। রুকূ-সিজদা শেষ করে যখন উঠে দাঁড়ালেন তখন আবার তাঁকে ধরে কাঁধের উপর উঠিয়ে নেন। প্রত্যেক রাক‘আতে এমনটি করে তিনি নামায শেষ করেন।[সুনানু নাসাঈ-২/৪৫,৩/১০; তাবাকাত-৮/২৩২; আল ইসাবা-৪/২৩৬; হায়াতুস সাহাবা-২/৪৮২]

উম্মুল মু‘মিনীন হযরত আইশা (রা) বর্ণনা করেছেন। হাবশার সম্রাট নাজ্জাশী রাসূলুল্লাহকে (সা) কিছু স্বর্ণের অলঙ্কার উপহার হিসেবে পাঠান, যার মধ্যে একটি স্বর্ণের আংটিও ছিলো। রাসূল (সা) সেটি উমামাকে দেন।[নিসা‘মিন আসর আন-নুবুওয়াহ-২৮৯]

উমামার প্রতি রাসূলুল্লাহর (সা) স্নেহের প্রবলতা আরেকটি ঘটনার দ্বারাও অনুমান করা যায়। একবার রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট মুক্তা বসানো স্বর্ণের একটি হার আসে। হারটি হাতে করে ঘরে এসে বেগমদের দেখিয়ে বলেন : দেখ তো, এটি কেমন? তাঁরা সবাই বলেন : অতি চমত্কার! এর চেয়ে সুন্দর হার আমরা এর আগে আর দেখিনি। রাসূল (সা) বললেন : এটি আমি আমার পরিবারের মধ্যে যে সবচেয়ে বেশী প্রিয় তার গলায় পরিয়ে দেব। আইশা (রা) মনে মনে ভাবলেন, না জানি তিনি এটা আমাকে না দিয়ে অন্য কোন বেগমের গলায় পরিয়ে দেন কিনা। অন্য বেগমগণও ধারণা করলেন, এটা হয়তো আইশা (রা) ভাগ্যেই জুটবে। এদিকে বালিকা উমামা তাঁর নানা ও নানীদের অদূরেই মাটিতে খেলছিল। রাসূল (সা) এগিয়ে গিয়ে তার গলায় হারটি পরিয়ে দেন।[আল-ইসতী‘আব-৪/২৩৮; উসুদুল গাবা-৫/৪০০; আস-সীরাহ আল-হালাবিয়্যাহ-২/৪৫২; দুররুস সাহাবা ফী মানাকিব আল-কারাবাহ ওয়াস সাহাবা-৫৩৫; আ‘লাম আন-নিসা-১/৭৭]

হযরত উমামার (রা) পিতা আবুল আস ইবন রাবী (রা) হিজরী ১২ সনে ইনতিকাল করেন। মৃত্যুর পূর্বে তিনি তাঁর মামাতো ভাই যুবাইর ইবন আল-আওয়ামের সাথে উমামার বিয়ে দেওয়ার ইচ্ছার কথা বলে যান। এদিকে উমামার খালা হযরত ফাতিমাও (রা) ইনতিকাল করেন। মৃত্যুর পূর্বে তিনি স্বামী আলীকে বলে যান, তাঁর পরে তিনি যেন উমামাকে বিয়ে করেন। অতপর উমামার বিয়ের বয়স হলো। যুবাইর ইবন আল-আওয়াম (রা) হযরত ফাতিমার (রা) অন্তিম ইচ্ছা পূরণের জন্য উদ্যেমী হলেন। তাঁরই মধ্যস্থতায় আলীর (রা) সাথে উমামার (রা) বিয়ে সম্পন্ন হলো। তখন আমীরুল মু‘মিনীন উমারের (রা) খিলাফতকাল।

হিজরী ৪০ সন পর্যন্ত তিনি আলীর (রা) সাথে বৈবাহিক জীবন যাপন করেন। এর মধ্যে আলীর (রা) জীবনের উপর দিয়ে নানা রকম ঝড়-জঞ্ঝা বয়ে যায়। অবশেষে হিজরী ৪০ সনে তিনি আততায়ীর হাতে মারত্মক ভাবে আহত হন। এই আঘাতে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর পূর্বে তিনি স্ত্রী উমামাকে বলেন, আমার পরে যদি তুমি কোন পুরুষের প্রয়োজন বোধ কর, তাহলে আল-মুগীরা ইবন নাওফালকে বিয়ে করতে পার। তিনি আল-মুগীরাকেও বলে যান, তাঁর মৃত্যুর পর তিনি যেন উমামাকে বিয়ে করেন। তিনি আশংকা করেন, তাঁর মৃত্যুর পরে মু‘আবিয়া (রা) উমামাকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবেন। তাঁর এ আশংকা সত্যে পরিণত হয়। তিনি ইনতিকাল করেন। উমামা উদ্দত তথা অপেক্ষার নির্ধারিত সময়সীমা অতিবাহিত করলেন। হযরত মু‘আবিয়া (রা) মোটেই দেরী করলেন না। তিনি মারওয়ানকে লিখলেন, তুমি আমার পক্ষ থেকে উমামার নিকট বিয়ের পয়গাম পাঠাও এবং এ উপলক্ষে এক হাজার দীনার ব্যয় কর। এ খবর উমামার (রা) কানে গেল। তিনি সাথে সাথে আল-মুগীরাকে লোক মারফত বললেন, যদি আপনি আমাকে পেতে চান, দ্রুত চলে আসুন। তিনি উপস্থিত হলেন এবং হযরত হাসান ইবন আলীর (রা) মধ্যস্থতায় বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়।[আল-ইসাবা-৪/২৩৭] এই আল-মুগীরার স্ত্রী থাকা অবস্থায় মু‘আবিয়ার (রা) খিলাফতকালে তিনি ইনতিকাল করেন। আলীর (রা) ঘরে উমামার (রা) কোন সন্তান হয়নি। তবে আল-মুগীরার ঘরে তিনি এক ছেলের মা হন এবং তার নাম রাখেন ইয়াহইয়া। এ জন্য আল-মুগীরার ডাকনাম হয় আবূ ইয়াহইয়া।[প্রাগুক্ত; উসুদুল গাবা-৫/৪০০; আ‘লাম আন-নিসা-১/৭৭] তবে অনেকে বলেছেন, আল-মুগীরার ঘরেও তিনি কোন সন্তানের মা হননি। তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহর (সা) কন্যাদের মধ্যে একমাত্র ফাতিমা (রা) ছাড়া আর কারো বংশধারা অব্যাহত নেই। হতে পারে আল-মুগীরার ঔরসে ইয়াহইয়া নামের এক সন্তানের জন্ম দেন, কিন্তু শিশু কালেই তার মৃত্যু হয়। উমামার মৃত্যুর মাধ্যমে নবী দুহিতা যায়নাবের (রা) বংশধারার সমাপ্তি ঘটে। কারণ তাঁর পূর্বেই যয়নাবের পুত্রসন্তান আলীর মৃত্যু হয়।[তারাজিমু সায়্যিদাতি বাতিন নুবুওয়াহ-৫৩৮; নিসা মিন আসর আন-নুবুওয়াহ-২৮০]

10/09/2016

আরাফাত দিবসের রোজা ও আমল
আগামীকাল রবিবার ৯ জিলহজ্ব। হাদীসের ভাষায় এ দিনকে আরাফাত দিবস বলা হয়। এই দিনটি ইসলামিক চন্দ্র ক্যালেন্ডার অনুসারে জিলহজ মাসের ৯ তারিখে সংগঠিত হয়, যা রমজান মাস শেষ হওয়ার প্রায় ৭০ দিন পর ঘটে। এটি মূল হজ্জ্বের দ্বিতীয় দিন এবং ঈদুল আযহার প্রথম দিন। এই দিনটের শেষ ভাগে, মুসলিম হজ যাত্রীরা মিনা থেকে যাত্রা করে নিকটবর্তী পাহাড়ের সন্নিকটবর্তী-সমভূমি আরাফাতের ভূমিতে এসে উপস্থিত হন। এই দিনটিতেই হযরত মুহাম্মদ (সা.) তার জীবনের শেষ বছর বিদায় ভাষন দিয়েছিলেন।

আরাফাত দিবসের ফযিলত সম্পর্কে হাদীস শরীফে বর্ণিত রয়েছে-মহানবী (সাঃ) বলেছেন, 'যখন আরাফাত দিবস আসে তখন মহান আল্লাহ্ তায়ালা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করিয়া ফেরেশতাগণের সাথে নিজের বান্দাগণের বিষয় গর্ব করিয়া বলেন, দেখ আমার বান্দাগণ আলু তালু কেশে ধুলি ধুসরিত অবস্থায় চতুর্দিক হইতে আমার কাছে আসিতেছে। আমি তোমাদিগকে সাক্ষি করিয়া তাহাদিগকে ক্ষমা করিয়া দিতেছি। ইহাতে ফেরেশতাগণ বলেন, হে প্রভূ! অমুক ব্যক্তি ভুল-ত্রুটি করিয়াছে। এতে আল্লাহ্ বলেন, আমি তাহাদিগকে মাফ করিয়া দিয়েছি। (শরহে সুন্নাহ্)

আরাফাত দিবসে রোজার ফযিলত
আরাফাত দিবসের রোজার ফযিলত সম্বন্ধে মহানবী (সাঃ) এরশাদ করেন, আমি মনে করি আল্লাহ্ তায়ালা উক্ত রোজার বরকতে বান্দার পূর্ববর্তী বৎসরের ও পরবর্তী বৎসরের গুনাহ্ মাফ করিয়া দিবেন। (মুসলিম শরীফ)
সহীহ মুসলিম শরীফে হযরত আয়েশা (রা:) কর্তৃক বর্ণিত আছে, আরাফাতের দিন এত অধিক বান্দাকে আল্লাহ্ জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন, যা অন্য কোনো দিন দেয়া হয় না। সেদিন তিনি বান্দার অত্যন্ত কাছাকাছি হয়ে যান। এবং ফিরিস্তাদের কাছে গর্ব করে বলেন, আমার এসব বান্দা কি চায়? তোমরা সাক্ষী থেকো আমি তাদের গুনাহসমূহ মাফ করে দিলাম।'
আরাফাত দিবসের রোজার ফযিলতের সম্বন্ধে মহানবী (সাঃ) এরশাদ করেন, আমি মনে করি আল্লাহ্তায়ালা উক্ত রোজার বরকতে বান্দার পূর্ববর্তী বৎসরের ও পরবর্তী বৎসরের গুনাহ্ মাফ করিয়া দিবেন। (মুসলিম শরীফ)

আসুন সবাই আরাফাত দিবসে রোজা রাখি। সে হিসেবে আজ রাতেই কিন্তু সেহরী খেতে হবে।

29/06/2016

Address

Khai Khat Para খয়খাট পাড়া
Tetulia
5030

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Malek Islami Kindergarten posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category