19/01/2021
হেমচন্দ্র চৌধুরী ছিলেন একজন প্রভাবশালী রাজা, দানবীর, সমাজসেবক, দুরদৃষ্টিসম্পন্ন শাসক, দক্ষ নির্মাতা এবং বিদ্যানুরাগী। তিনি ১৮৩৩ সালে মধুপুর উপজেলার আমবাড়িয়ায় জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম কালীচন্দ্র রায় এবং পিতামহের নাম পদ্মলোচন রায়।
হেমচন্দ্র চৌধুরীর চার পুত্র ও চার কণ্যা ছিল। পুত্রগণ হলেন হেরম্ভ চৌধুরী, গঙ্গেশ চৌধুরী, প্রফুল্ল চৌধুরী ও যোগেশ চৌধুরী। কণ্যাগণ হলেন সুরেন্দ্র বালা দেবী, কিরণ বালা দেবী, সুমতি বালা দেবী ও সুনীতি বালা দেবী। নানা কারণে হেমচন্দ্রের পরবর্তী প্রজন্ম আজ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়েছে।
বর্তমানের এই ইন্টারনেটের যুগে অনেকে প্রায়শই তাদের অতীত খুঁজে বেড়ায়। পুরোনো স্মৃতি রোমান্থন করেন। এদেরই একজন শীন ব্যানার্জী। ফেসবুক পেজ ও গ্রুপের কল্যাণে তিনি হেমনগর সম্পর্কে জানতে পারেন। গ্রুপ এডমিনের সহায়তায় তিনি উইকিপিডিয়ায় হেমচন্দ্রের সম্পর্কে তথ্য হালনাগাদের কাজ করেন। তার স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
শীন ব্যানার্জীর মাতা হলেন মঞ্জুলা ব্যানার্জী তিনি ষাটের দশকে আমেরিকায় পাড়ি জমান। টেক্সাসে তিনি আশির দশকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সেখান থেকে ইন্টেল করপোরেশনের ‘ইন্টেল ইনসাইড’ মার্কেটিং ক্যাম্পেইনে যুক্ত থাকা স্বামীর সাথে ক্যার্লিফোনিয়া চলে আসেন। এরপর তারা ওয়াশিংটন ডিসির সিয়াটলে বসবাস শুরু করেন। এখানেই শীন ব্যানার্জী বেড়ে উঠেন। মঞ্জুলা ব্যানার্জী এখানে দীর্ঘ ২৫ বছর পাবলিক স্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। বর্তমানে সে ও তার স্বামী অবসর জীবন যাপন করছেন। মঞ্জুলা ব্যানার্জী হেমচন্দ্র চৌধুরীর পুত্র প্রফুল্ল চৌধুরীর মেয়ে। শীন ব্যানার্জীর মা সরাসরি হেমচন্দ্র চৌধুরীর নাতনী ।
শীন ব্যানার্জী মায়ের স্কুলে পড়া শেষ করে হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পড়েন। বর্তমানে সে নিজের প্রতিষ্ঠিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ORSNN এ কাজ করছেন। এর পুর্বে সে RedBrook Capital Partners নামের প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে ২০১৮ সাল পর্যন্ত কাজ করেন। এলেক্সিস মেরি ফ্রাঙ্কলিন তার স্ত্রী।
মি. শীন হেমনগর সম্পর্কে জানতে পেরে খুবই গর্বিত। এখানে উন্নয়ন ও স্মৃতি রক্ষায় সে অবদান রাখতে চায়। সে এগুলোর যথাযথ রক্ষনে সরকারের জোড়ালো ভুমিকা দাবি করেন। কোভিড পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সে ও তার পরিবার হেমনগর ভিজিট করতে আগ্রহি বলে জানিয়েছে।