11/01/2026
Darus Sunnah Salafiya Complex
[Residential/Non-residential] Nurani-
Hafeji-Kitab.Women's Branch.
11/01/2026
#কাতারের মধ্যে পরস্পরের মাঝে ফাঁক রেখে দাঁড়ানো;
জামা‘আতের সাথে ছালাত আদায় করার সময় কাতারের মাঝে পরস্পরের মধ্যে ফাঁক রাখা সুন্নাতের বরখেলাফ। উক্ত মর্মে কোন হাদীছ বর্ণিত হয়নি। পরস্পরের পায়ের মাঝে ‘চার আঙ্গুল’ পরিমাণ ফাঁক রাখতে হবে এবং পায়ে পা মিলালে অন্যকে অপমান করা হয় মর্মে সমাজে যে কথা প্রচলিত আছে, তা এক প্রকার জাহেলিয়াত। এটি সুন্নাতকে অবজ্ঞা করার অপকৌশল এবং চূড়ান্ত মিথ্যাচার। কারণ যারা পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, তারা যদি পরস্পরে দাঁড়িয়ে পায়ে পা মিলিয়ে ছালাত পড়তে পারেন, তাহলে আমাদের সম্মানের হানি হবে কেন? আমাদেরকেও তাঁদের পদাংক অনুসরণ করতে হবে। কারণ পায়ে পা, টাখনুর সাথে টাখনু ও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ছালাতে দাঁড়াতে হবে মর্মে রাসূল (ছাঃ) বহু হাদীছে নির্দেশ করেছেন।
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ مَنْ سَدَّ فُرْجَةً فِىْ صَفَّ رَفَعَهُ اللهُ بِهَا دَرَجَةً وَبَنَى لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ.
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি কাতারের মাঝে ফাঁক বন্ধ করে দাঁড়াবে, এর বিনিময়ে আললাহ তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিবেন এবং তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন।[1]
সুধী পাঠক! মুরববীরা বলে থাকেন, পায়ের সাথে পা মিলালে সম্মান নষ্ট হয়। আর রাসূল (ছাঃ) বলছেন, আল্লাহ সম্মান বৃদ্ধি করে দেন। আমি তাহলে কার কথা গ্রহণ করব? অতএব সুন্নাতকে অাঁকড়ে ধরুন। রাসূল (ছাঃ)-এর শাফা‘আত লাভে ধন্য হৌন!
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ إِنَّ اللهَ وَمَلاَئِكَتَهُ يُصَلُّوْنَ عَلَى الَّذِينَ يَصِلُوْنَ الصُّفُوْفَ وَمَنْ سَدَّ فُرْجَةً رَفَعَهُ اللهُ بِهَا دَرَجَةً.
আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ এবং ফেরেশতগণ তাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন, যারা কাতারবন্দী হয়ে ছালাত আদায় করেন। আর যে ব্যক্তি কাতারের ফাঁক বন্ধ করে দাঁড়ায়, আল্লাহ তা‘আলা এর বিনিময়ে তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন।[2]
عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ قَالَ أَقِيْمُوا الصُّفُوْفَ وَحَاذُوْا بَيْنَ الْمَنَاكِبِ وَسُدُّوا الْخَلَلَ وَلِيْنُوْا بِأَيْدِىْ إِخْوَانِكُمْ وَلاَ تَذَرُوْا فُرُجَاتٍ لِلشَّيْطَانِ وَمَنْ وَصَلَ صَفًّا وَصَلَهُ اللهُ وَمَنْ قَطَعَ صَفًّا قَطَعَهُ اللهُ.
ইবনু ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা কাতার সোজা করবে, বাহুসমূহকে বরাবর রাখবে, ফাঁক সমূহ বন্ধ করবে এবং তোমাদের ভাইদের হাতের সাথে নম্রতা বজায় রেখে মিলিয়ে দিবে; মধ্যখানে শয়তানের জন্য ফাঁক রাখবে না। যে ব্যক্তি কাতারের মাঝে মিলিয়ে দাঁড়ায়, আল্লাহ তাকে তাঁর নিকটবর্তী করে নেন। আর যে ব্যক্তি কাতারের মাঝে পৃথক করে দেয় আল্লাহও তাকে পৃথক করে দেন।[3]
عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيْرٍ يَقُوْلُ أَقْبَلَ رَسُوْلُ اللهِ عَلَى النَّاسِ بِوَجْهِهِ فَقَالَ أَقِيْمُوْا صُفُوْفَكُمْ ثَلاَثًا وَاللهِ لَتُقِيْمُنَّ صُفُوْفَكُمْ أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللهُ بَيْنَ قُلُوْبِكُمْ قَالَ فَرَأَيْتُ الرَّجُلَ يُلْزِقُ مَنْكِبَهُ بِمَنْكِبِ صَاحِبِهِ وَرُكْبَتَهُ بِرُكْبَةِ صَاحِبِهِ وَكَعْبَهُ بِكَعْبِهِ.
নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) মুছল্লীদের দিকে মুখ করতেন অতঃপর বলতেন, তোমরা কাতার সোজ কর। এভাবে তিনি তিনবার বলতেন। আমি আল্লাহর কসম করে বলছি, তোমরা তোমাদের কাতার সোজা করবে অথবা আল্লাহ তোমাদের অন্তরের মাঝে ফাটল সৃষ্টি করে দিবেন। রাবী বলেন, অতঃপর আমি দেখতাম, মুছল্লী তার সাথী ভাইয়ের কাঁধে কাঁধ, হাঁটুর পার্শ্বের সাথে হাঁটুর পার্শ্ব এবং টাখনুর সাথে টাখনু ভিড়িয়ে দিত।[4]
عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ يَتَخَلَّلُ الصَّفَّ مِنْ نَاحِيَةٍ إِلَى نَاحِيَةٍ يَمْسَحُ صُدُوْرَنَا وَمَنَاكِبَنَا وَيَقُوْلُ لاَ تَخْتَلِفُوْا فَتَخْتَلِفَ قُلُوبُكُمْ وَكَانَ يَقُوْلُ إِنَّ اللهَ وَمَلاَئِكَتَهُ يُصَلُّوْنَ عَلَى الصُّفُوْفِ الأُوَلِ.
বারা ইবনু আযেব (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) কাতারের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত বরাবর করতেন। তিনি আমাদের বুক ও কাঁধ স্পর্শ করতেন এবং বলতেন, তোমরা পৃথক পৃথক হয়ে দাঁড়াইয়ো না। অন্যথা তোমাদের অন্তরসমূহ পৃথক হয়ে যাবে। তিনি আরো বলতেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং ফেরেশতাগণ প্রথম কাতারের মুছল্লীদের উপর রহমত নাযিল করেন।[5]
عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ قَالَ أَقِيْمُوْا صُفُوْفَكُمْ فَإِنِّيْ أَرَاكُمْ مِنْ وَرَاءِ ظَهْرِىْ وَكَانَ أَحَدُنَا يُلْزِقُ مَنْكِبَهُ بِمَنْكِبِ صَاحِبِهِ وَقَدَمَهُ بِقَدَمِهِ.
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের কাতার সোজা কর। নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে আমার পিছন থেকে দেখতে পাই। আনাস (রাঃ) বলেন, আমাদের একজন অপরজনের কাঁধে কাঁধ ও পায়ে পায়ে মিলিয়ে দাঁড়াতেন।[6] ইমাম বুখারী (রহঃ) উক্ত হাদীছ বর্ণনা করার পূর্বে নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন,
بَابُ إِلْزَاقِ الْمَنْكِبِ بِالْمَنْكِبِ وَالْقَدَمِ بِالْقَدَمِ فِي الصَّفِّ وَقَالَ النُّعْمَانُ بْنُ بَشِيْرٍ رَأَيْتُ الرَّجُلَ مِنَّا يُلْزِقُ كَعْبَهُ بِكَعْبِ صَاحِبِهِ.
‘ছালাতে কাতারের মধ্যে কাঁধে কাঁধ ও পায়ে পা মিলানো অনুচ্ছেদ’। নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ) বলেন, আমি মুছল্লীকে দেখতাম, সে তার টাখনুকে তার পার্শ্বের ভাইয়ের টাখনুর সাথে মিলিয়ে দিত।[7] শায়খ আলবানী (রহঃ) দুঃখ প্রকাশ করে বলেন,
وَ مِنَ الْمُؤّسِّفِ أَنَّ هَذِهِ السُّنَّةُ مِنَ التَّسْوِيَّةِ قَدْ تَهَاوَنَ بِهَا الْمُسْلِمُوْنَ بَلْ أَضَاعُوْهَا إِلاَّ الْقَلِيْلَ مِنْهُمْ فَإِنِّىْ لَمْ أَرَهَا عِنْدَ طَائِفَةٍ مِنْهُمْ إِلاَّ أَهْلَ الْحَدِيْثِ فَإِنِّىْ رَأَيْتُهُمْ فِىْ مَكَّةَ سَنَةَ ( 1368 ) حِرِّيْصِيْنَ عَلَى التَّمَسُّكِ بِهَا كَغَيْرِهَا مِنْ سُنَنِ الْمُصْطَفَى عَلَيْهِ الصَّلاَةُ وَ السَّلاَمُ بِخِلاَفِ غَيْرِهِمْ مِنْ أَتَبْاعِ الْمَذَاهِبِ الْأَرْبَعَةِ لاَ أَسْتَثْنِىْ مِنْهُمْ حَتَّى الْحَنَابِلَةِ فَقَدْ صَارَتْ هَذِهِ السُّنَّةُ عِنْدَهُمْ نَسْيًا مَنْسِيًّا بَلْ إِنَّهُمْ تَتَابَعُوْا عَلَى هُجْرِهَا وَ الْإِعْرَاضِ عَنْهَا ذَلِكَ لِأَنَّ أَكْثَرَ مَذَاهِبِهِمْ نَصَّتْ عَلَى أَنَّ السُّنُّةَ فِى الْقِيَامِ التَّفْرِيْجُ بِيْنَ الْقَدَمَيْنِ بِقَدْرِ أَرْبَعِ أَصَابِعَ فَإِنْ زَادَ كَرِهَ كَمَا جَاءَ مُفَصِّلاً في " الفقه على المذاهب الأربعة " ( 1 / 207 ) ، وَ التَّقْدِيْرُ الْمَذْكُوْرُ لاَ أَصْلَ لَهُ فِى السُّنَّةِ وَ إِنَّمَا هُوَ مُجَرَّدٌ رَأْيٌ.
‘দুঃখজনক বিষয় হল, কাতার সোজা করার সুন্নাতকে মুসলিমরা অবজ্ঞা করে চলেছে; বরং কিছু সংখ্যক মানুষ ব্যতীত অন্যরা সবাই এই সুন্নাতকে নষ্ট করেছে। নিশ্চয় আমি সেই দলগুলোর মধ্যে ‘আহলেহাদীছ’ ব্যতীত অন্য কারো মধ্যে উক্ত সুন্নাত দেখিনি। আমি মক্কায় (১৩৬৮ হিঃ) তাদেরকে দেখেছি, তারা রাসূল (ছাঃ)-এর অন্যান্য সুন্নাতকে যেমন অাঁকড়ে ধরে আছে, তেমনি এই সুন্নাতকেও অাঁকড়ে ধরার প্রতি অতীব অনুরাগী। চার মাযহাবের অনুসারীদের বিপরীতে তারাই একে অাঁকড়ে ধরে আছে। হাম্বলীদেরকেও আমি এদের মধ্য থেকে পৃথক করি না। কারণ তাদের মধ্য হতে এটা সম্পূর্ণই উঠে গেছে। বরং তারা এই সুন্নাতকে পরিত্যাগ করা এবং তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার পথ অবলম্বন করছে। অধিকাংশ মাযহাব এই সুন্নাহর বিরুদ্ধে দলীল পেশ করছে যে, কাতারে দাঁড়ানোর সময় উভয় মুছল্লীর পায়ের মাঝে ‘চার আঙ্গুল’ ফাঁক রাখতে হবে। যদি এর অতিরিক্ত ফাঁক হয় তবে অপছন্দনীয়। যেমন ‘আল-ফিক্বহু আলাল মাযাহিবিল আরবা‘আহ’ (১/২০৭ পৃঃ) গ্রন্থের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা এসেছে। অথচ সুন্নাহর মধ্যে উক্ত পরিমাণের কোন ভিত্তি নেই; স্রেফ কল্পনা মাত্র’। [8]
عَنْ أَبِىْ مَسْعُوْدٍ قَالَ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ يَمْسَحُ مَنَاكِبَنَا فِى الصَّلاَةِ وَيَقُوْلُ اسْتَوُوْا وَلاَ تَخْتَلِفُوْا فَتَخْتَلِفَ قُلُوْبُكُمْ لِيَلِنِىْ مِنْكُمْ أُولُو الأَحْلاَمِ وَالنُّهَى ثُمَّ الَّذِيْنَ يَلُوْنَهُمْ ثُمَّ الَّذِيْنَ يَلُوْنَهُمْ قَالَ أَبُوْ مَسْعُوْدٍ فَأَنْتُمُ الْيَوْمَ أَشَدُّ اخْتِلاَفًا.
আবু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ছালাতে আমাদের বাহুগুলোকে পরস্পরের সাথে মিলিয়ে দিতেন এবং বলতেন, সোজা হয়ে দাঁড়াও; পৃথক পৃথক হয়ে দাঁড়াইয়ো না। অন্যথা তোমাদের অন্তরসমূহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। তোমাদের মধ্যে যারা বয়স্ক ও বুদ্ধিমান তারাই যেন আমার নিকটে থাকে। অতঃপর যারা বয়স ও বুদ্ধিতে তাদের ন্যায়, তারা যেন থাকে। অতঃপর যারা উভয় দিক থেকে নিকটবর্তী তারা যেন থাকে। আবু মাসঊদ বলেন, তোমরা আজ অত্যধিক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছ।[9]
عَنْ أَنَسٍ قَالَ أُقِيْمَتِ الصَّلَاةُ فَأَقْبَلَ عَلَيْنَا رَسُوْلُ اللهِ بِوَجْهِهِ فَقَالَ أَقِيْمُوْا صُفُوْفَكُمْ وَتَرَاصُّوْا فَإِنِّىْ أَرَاكُمْ مِنْ وَرَاءِ ظَهْرِىْ.
আনাস (রাঃ) বলেন, একদা ছালাতের ইক্বামত দেওয়া হল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাদের দিকে মুখ ফিরালেন এবং বললেন, তোমরা কাতার সোজা কর এবং পরস্পরে মিলে দাঁড়াও। নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে আমার পিছন থেকেও দেখতে পাই।[10]
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ قَالَ رُصُّوْا صُفُوْفَكُمْ وَقَارِبُوْا بَيْنَهَا وَحَاذُوْا بِالْأَعْنَاقِ فَوَالَّذِىْ نَفْسِىْ بِيَدِهِ إِنِّىْ لَأَرَى الشَّيْطَانَ يَدْخُلُ مِنْ خَلَلِ الصَّفِّ كَأَنَّهَا الْحَذَفُ.
আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা কাতার সমূহে পরস্পরে মিলে দাঁড়াবে এবং পরস্পরকে কাছে টেনে নিবে। আর তোমাদের ঘাড় সমূহকে সমপর্যায়ে সোজা রাখবে। আমি ঐ সত্তার কসম করে বলছি, যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, নিশ্চয়ই আমি শয়তানকে দেখি সে কাতারের ফাঁক সমূহে প্রবেশ করে, কাল ভেড়ার বাচ্চা ন্যায়।[11]
সুধী পাঠক! কাতারে দাঁড়ানোর সময় পায়ের সাথে পা, টাখনুর সাথে টাখনু এবং কাঁধের সাথে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ানো ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই। উক্ত হাদীছ সমূহ জানার পরও কেউ যদি এই সুন্নাতকে প্রত্যাখ্যান করে, তবে সে সরাসরি রাসূল (ছাঃ)-এর আদেশ লংঘন করবে। হাদীছে সীসা ঢালা প্রাচীরের মত দাঁড়াতে বলা হয়েছে, যেমন একটি ইট আরেকটি ইটের উপর রেখে প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। সুতরাং পরস্পরের পায়ের মাঝে কোন ফাঁক থাকবে না। উল্লেখ্য, অনেক মসজিদে শুধু কনিষ্ঠা আঙ্গুলের সাথে মিলানো হয়। উক্ত মর্মেও কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না।
[1]. ত্বাবারাণী, আল-মু‘জামুল আওসাত্ব হা/৫৭৯৫; মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ হা/৩৮২৪; সনদ ছহীহ, সিলসিলা ছহীহাহ হা/১৮৯২।
[2]. ইবনু মাজাহ হা/৯৯৫; মুসনাদে আহমাদ হা/২৪৬৩১; সনদ ছহীহ, সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৫৩২।
[3]. ছহীহ আবুদাঊদ হা/৬৬৬, ১ম খন্ড, পৃঃ ৯৭, সনদ ছহীহ; মিশকাত হা/১১০২; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/১০৩৪, ৩/৬১ পৃঃ।
[4]. আবুদাঊদ হা/৬৬২, ১ম খন্ড, পৃঃ ৯৭, সনদ ছহীহ।
[5]. আবুদাঊদ হা/৬৬৪, ১ম খন্ড, পৃঃ ৯৭, সনদ ছহীহ।
[6]. ছহীহ বুখারী হা/৭২৫, ১ম খন্ড, পৃঃ ১০০, (ইফাবা হা/৬৮৯, ২/৯৫ পৃঃ)।
[7]. ছহীহ বুখারী ‘আযান’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৪৭, ১ম খন্ড, পৃঃ ১০০, (ইফাবা অনুচ্ছেদ-৪৬৮, ২/৯৫ পৃঃ)।
[8]. সিলসিলা ছহীহাহ হা/৩২-এর আলোচনা দ্রঃ।
[9]. ছহীহ মুসলিম হা/১০০০, ১/১৮১ পৃঃ, (ইফাবা হা/৮৫৪), ‘ছালাত’ অধ্যায়-৫, ‘কাতার সোজা করা’ অনুচ্ছেদ-২৮; মিশকাত হা/১০৮৮; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/১০২০, ৩য় খন্ড, পৃঃ ৫৭, ‘কাতার সোজা করা’ অনুচ্ছেদ।
[10]. ছহীহ বুখারী হা/৭১৯, ১ম খন্ড, পৃঃ ১০০, (ইফাবা হা/৬৮৪, ২/৯৩ পৃঃ), ‘আযান’ অধ্যায়, অনচ্ছেদ-৪৩; মিশকাত হা/১০৮৬; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/১০১৮, ৩য় খন্ড, পৃঃ ৫৬।
[11]. ছহীহ আবুদাঊদ হা/৬৬৭, ১ম খন্ড, পৃঃ ৯৭, সনদ ছহীহ ; মিশকাত হা/১০৯৩; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/১০২৫, ৩য় খন্ড, পৃঃ ৫৮, ‘কাতার সোজা করা’ অনুচ্ছেদ।
23/10/2025
আসসালামু আলাইকুম।টাংগাইলে বিদআত,সংগঠনমুক্ত প্রতিষ্ঠান "দারুস সুন্নাহ্ সালাফিয়্যাহ কমপ্লেক্স" ও দাওয়া সেন্টার।বালিকা শাখা:ভর্তি শুরু জানুয়ারি ২০২৬ইং।
21/01/2025
প্রশ্ন: একজন পুরুষের জন্য ৪ বিবাহ করা বৈধ; এটা তো আমরা সবাই জানি। কিন্তু একজন আদর্শবান স্বামীর স্ত্রীর প্রতি আরোপিত সুন্নাহসম্মত বাকী দায়িত্বগুলি কি কি তা কি আমরা জানি..? বিস্তারিত জানতে পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
▬▬▬▬▬▬▬▬💠💠💠▬▬▬▬▬▬▬
ভূমিকা:নিশ্চয় যাবতীয় প্রশংসা একমাত্র মহান আল্লাহর জন্য নিবেদিত। আমরা তাঁর সাহায্য চাইছি এবং তাঁর কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করছি। প্রিয় পাঠক, ইসলামী শরীয়তে পুরুষগণ নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল হলেও স্ত্রীর প্রতি স্বামীর রয়েছে ইসলাম কর্তৃক স্বীকৃত দায়িত্ব ও কর্তব্য। কিন্তু বর্তমান সমাজে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর দায়িত্ব-কর্তব্য নিয়ে বেশি বেশি আলোচনা হয়। মনে হয় যেন সংসারে স্ত্রীর কোন মূল্যই নেই, স্বামীর সংসারে মুখ বুজে খেটে যাবার জন্যই তার জন্ম। যখন সমাজে এই চিন্তা প্রবল হয়, তখনই কাঙ্খিত সুখের সংসার ও প্রেমের সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর কাছে অত্যন্ত বিকট ও বীভৎস আকার ধারণ করে। এ বীভৎসতা থেকে সমাজকে মুক্তি দিতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদর্শ গ্রহণই একমাত্র পথ।
▪️একনজরে কুরআন- সুন্নাহর আলোকে সংক্ষিপ্তভাবে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর ৬৪টি দায়িত্ব ও কর্তব্য সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
➤(১). কুমারী মেয়েকে বিবাহ সুন্নাহ এবং উত্তম। (আবু দাউদ হা/২০৫০; নাসাঈ হা/৩২২৭; ইরওয়াউল গালীল হা/১৭৮৪; মিশকাত হা/৩১৯১)
➤(২). বয়স্ক মহিলাকে বিবাহ করা সুন্নাত। (ইবনু হিশাম ১/১৮৭, টীকা ১-২; হাকেম হা/৪৮৩৮, ৩/২০০; বায়হাক্বী দালায়েল হা/৪০৪; মা শা-‘আ ১৮-১৯ পৃঃ)
➤(৩). ডিভোর্সী নারীকে বিবাহ করা সুন্নাত। (আহমাদ হা/২৯২৬; সিলসিলা সহীহাহ হা/২৫২৩)
➤(৪). বিধবা নারীকে বিবাহ করা সুন্নাত।এতে ফজিলত রয়েছে (সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫০৩৮, ৫৩৫৩)
➤(৫). সামর্থ্য থাকলে এবং স্ত্রীর প্রতি সমান ইনসাফ ও অধিকার রক্ষা করতে পারলে একাধিক বিবাহ করা (সর্বোচ্চ চারটি বিবাহ করা জায়েজ)। (সূরা নিসা; ৩, বুখারী হা/৪৮৭৮)
➤(৬). সামর্থ্য থাকলে স্ত্রীর পূর্বের সন্তানদের লালন-পালন করা সুন্নত।এটি রাসূল ﷺ নিজেও করেছেন।(সহীহ বুখারী হা/৫৩৭৬; মুসলিম হা/২০২২)
➤(৭). বিবাহে নির্ধারিত স্ত্রীর মোহর পরিশোধ করা ফরজ।এই মহর সাথে সাথে পরিশোধ করা উত্তম কিন্তু ক্ষেত্র বিশেষে বাকি রাখা জায়েজ তবে এটি ঋণ হিসাবে থাকবে অনতিবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে
(সূরা নিসা;৪,সহীহ বুখারী ৫১৫১, মুসলিম ১৪১৮, মিশকাতুল মাসাবিহ হা/৩২০২)
➤(৮). কেউ মোহরের বিনিময়ে কোন নারীকে বিবাহ করল, অথচ মোহর পরিশোধ করবে না বলে নিয়ত করলে, হাদীসের ভাষায় ঐ স্বামী যিনাকারী।কেয়ামতে মিনাকারী হিসেবে আল্লাহর সামনে দাঁড়াবে।(বায়হাক্বী শু‘আবুল ঈমান হা/৫৫৪৯; বাযযার হা/৮৭২১; সহীহ আত-তারগীব হা/১৮০৬ সনদ সহীহ লিগায়রিহী)
➤(৯). স্বামীর মৃত্যু বা ত্বালাক্বের সময় স্ত্রী তার অনাদায়ী মোহরের দাবী করতে পারে।(ইলামুল মুওয়াক্বেঈন, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৮১, ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল, আবু ই‘আলা, ইবনু তাইমিয়্যা, নাখঈ, শা‘বী এবং লাইছ বিন সা‘দ এই মতটিই গ্রহণ করেছেন]
➤(১০). স্ত্রীকে পর্দায় রাখা ফরজ। বেপর্দায় চলতে দিলে স্বামী দাঈউসের কাতারে পড়বে। (সূরা নূর; ২৪/৩১ তিরমিযী হা/১১৭৩, মিশকাত হা/৩১০৯, নাসাঈ ২৫৬২, মিশকাত ৩৬৫৫, সহীহুল জামে ৩০৫২)
➤(১১). স্ত্রীকে দ্বীনের হুকুম পালনের
ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া ওয়াজিব। (সূরা ত্ব-হা; ২০/১৩২, সহীহ বুখারী হা/৭০৬৯)
➤(১২). স্ত্রীকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করাও স্বামীর এক বড় দায়িত্ব। তাকে দ্বীন, আক্বীদা,পবিত্রতা, ইবাদত, হারাম, হালাল, অধিকার ও ব্যবহার প্রভৃতি শিক্ষা দিয়ে সৎকাজ করতে আদেশ ও অসৎকাজে বাধা দিয়ে আল্লাহর আযাব থেকে সতর্ক করা ওয়াজিব। (সূরা তাহরীম ৬৬/৬ সহীহ বুখারী হা/৮৯৩, ৫১৮৮)
➤(১৩). স্ত্রীর হক আদায় করা ফরয। (সূরা আল-বাক্বারাহ; ২২৮, সহীহ বুখারী হা/৫১৯৯)
➤(১৪). আর্থিক সামর্থ্য/অবস্থানুযায়ী সংসারের সকল খরচ স্বামীর বহন করা ওয়াজিব। (সূরা তালাক্ব; ৬৫/৭, সূরা বাক্বারাহ; ২/২৩৩, আবু দাউদ হা/২১৪২; মিশকাত হা/৩২৫৯)
➤(১৫). একাধিক স্ত্রী থাকলে তাদের মধ্যে পালা বণ্টন করা ওয়াজিব। (সহীহ বুখারী হা/৫০৬৭; সহীহ মুসলিম হা/১৪৫৬)
➤(১৬). একাধিক স্ত্রী থাকলে এক স্ত্রীর ঘরে একদিন অবস্থান করলে অন্য স্ত্রীর ঘরেও একদিন অবস্থান করতে হবে, এটি ওয়াজিব।(সহীহ বুখারী হা/৪৪৫০, ৫২১৭)
➤(১৭). যদি দুজন স্ত্রী থাকে আর তাদের মধ্যে ন্যায় বিচার করা ওয়াজিব।অন্যথায় পরিণতি ভয়াবহ (তিরমিযী হা/১১৪১; আবু দাঊদ হা/২১৩৩)
➤(১৮). স্ত্রীর সাথে রান্না করার কাজে,পরিস্কারের কাজে, ধোয়া-মোছার কাজে সহায়তা করা সুন্নাত।(সহীহ বুখারী, হা/৬৭৬, ৫৩৬৩, ৬০৩৯, আদাবুল মুফরাদ, হা/৫৪১; শামায়েলে তিরমিযী, হা/৩৪৩; সহীহুল জামে‘, হা/৪৯৯৬)
➤(১৯). স্ত্রীর রান্না করা খাবারের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা না করা সুন্নত। (সহীহ বুখারী, হা/৩৫৬৩; সহীহ মুসলিম, হা/২০৬৪।)
➤(২০). ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে স্ত্রীকে মুখে খাবার তুলে খাওয়ানো সুন্নাত। (আবু দাঊদ; ২৮৬৪)
➤(২১). বাড়িতে ব্যতীত অন্যত্র স্ত্রীকে ছেড়ে না রাখা কর্তব্য। (আবু দাউদ হা/২১৪২; মিশকাত হা/৩২৫৯, সনদ হাসান)
➤(২২). স্ত্রীর প্রতি উত্তম ধারণা রাখা সুন্নত বিনা দলিলে সন্দেহ করা হারাম। (সূরা হুজুরাত; ৪৯/১২, সহীহ বুখারী হা/৫১৪৩, ৬০৬৪; মুসলিম হা/২৫৬৩; মিশকাত হা/৫০২৮)
➤(২৩). স্ত্রীর নিকট থেকে যত বড় আদর্শের ব্যবহারই আশা করা যাক না কেন, তার মধ্যে কিছু না কিছু দোষ- ত্রুটি থাকবেই। সম্পূর্ণভাবে স্বামীর মনে অঙ্কিত সরল পথে সে চলতে চাইবে না। সোজা করে চালাতে গেলে হাড় ভাঙ্গার মত ভেঙ্গে যাবে, সেটা মাথায় রাখা স্বামীর অন্যতম কর্তব্য। (মুসলিম ১৪৬৮, সহীহাহ্ ৩৫১৭, সহীহ আল জামি ৩৯৪৩, মিশকাত, ৩২৩৯)
➤(২৪). স্ত্রীর সাথে হাসিমুখে কথা বলা ও উত্তম ব্যবহার করা সুন্নত। (তিরমিযী হা/১৯৭০; মিশকাত হা/১৯১০)
➤(২৫). স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা প্রকাশ করা সুন্নাত। (সহীহ বুখারী, হা/২৭৩১-২৭৩২)
➤(২৬). স্ত্রীর উপর অযথা রাগ না করা, তারা রেগে গেলে ধৈর্যধারণ করা সুন্নত। (সহীহ বুখারী, হা/৫২২৮; সহীহ মুসলিম, হা/২৪৩৯)
➤(২৭). স্ত্রীর রাগ-অভিমান এবং মন বোঝার চেষ্টা করা সুন্নাত। (সহীহ বুখারী; ৫২২৮)
➤(২৮). স্ত্রীর অভিমান ভাঙ্গানো সুন্নাত। (সহীহ বুখারী; ৫২২৮)
➤(২৯). স্ত্রীর নিকট থেকে যতটুকু সম্ভব ততটুকু লাভ করেই সন্তুষ্ট থাকা সুন্নত। (সহীহ বুখারি, হা/৩৩৩১; সহিহ মুসলিম, হা/১৪৬৮)
➤(৩০). স্ত্রীকে ক্রোধান্বিত না করা এবং শুধু তার দোষত্রুটি না দেখা সুন্নত। (সহিহ মুসলিম, হা/১৪৬৯; স্তন্যপান অধ্যায় (১৮); পরিচ্ছেদ: ১৮)
➤(৩১). স্বামীর উপর স্ত্রীর অন্যতম অধিকার এই যে, বিপদ আপদ থেকে স্বামী তাকে রক্ষা করবে। স্ত্রীকে রক্ষা করতে গিয়ে যদি স্বামী শত্রুর হাতে মারা পরে, তবে সে শহীদের মর্যাদা পাবে। (তিরমিযী, আবু দাঊদ, নাসাঈ, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩৫২৯)
➤(৩২). স্ত্রীকে গালিগালাজ না করা সুন্নত,করা হারাম। (তিরমিযী হা/২০১৬, মিশকাত, হা/৫৮২০, আবু দাউদ, হা/২১৪২ সনদ সহীহ )
➤(৩৩). স্ত্রীকে এবং কোন খাদিমকে মারধর না করা সুন্নাত। (সহীহ মুসলিম, হা/২৩২৮; মিশকাত, হা/৫৮১৮ মুসলিম হা/২৩২৮; ইবনু মাজাহ হা/১৯৮৪)
➤(৩৪). বিনা দোষে স্ত্রীকে বয়কট না করা সুন্নত। (পাগুত্ব)
➤(৩৫). স্ত্রীর ত্রুটি-বিচ্যুতি, ভুল ক্ষমা করা সুন্নাত।(মুসলিম হা/১৪৬৯; মিশকাত হা/৩২৪০,বিবাহ’ অধ্যায়। আহমাদ হা/২০১০৫; সহীহুল জামে হা/১৯৪৪; সহীহ আত-তারগীব হা/১৯২৬। মুসলিম হা/১৪৬৮।)
➤(৩৬). স্ত্রীর সাথে পরামর্শ করা ও তাকে গুরুত্ব দেওয়া সুন্নত। (আলে ইমরান; ৩/১৫৯, বুখারী হা/৪৯৫৩; মুসলিম হা/১৬০; মিশকাত হা/৫৮৪, ‘ফাযায়েল ও শামায়েল’ অধ্যায়, ‘অহি-র সূচনা’ অনুচ্ছেদ। বুখারী হা/২৭৩২)
➤(৩৭). স্ত্রীর জন্য নিজেকে পরিচ্ছন্ন রাখা সুন্নাত।(সহীহ মুসলিম হা/২৫৩, আবু দাঊদ, হা/৪১৬৩ তাফসীর কুরতুবী, ৫/৯৭)
➤(৩৮). স্ত্রীর অনুভূতিগুলো জানার চেষ্টা করা এবং তাকে যখন প্রয়োজন হয় শান্ত্বনা দেওয়া সুন্নাত। (বুখারী, হা/৫২২৮; সহীহ মুসলিম, হা/২৪৩৯, তিরমিযী, হা/৩৮৯৪)
➤(৩৯). স্ত্রীর সাথে খেলা করা, গল্প করা, ঘুরতে নিয়ে যাওয়া সুন্নাত। (তিরমিযী, হা/৩৬৯১; আলবানী হাদীস সহীহ বলেছেন। অনুরূপ হাদীস সহীহ বুখারী, হা/৪৫৫, সহীহ মুসলিম, হা/৮৯২-তেও বর্ণিত হয়েছে)
➤(৪০). কখনো কখনো খাবার অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় স্ত্রীদেরও সাথে নিয়ে যাওয়া সুন্নত। (সহীহ মুসলিম, হা/২০৩৭। শারহে সহীহ মুসলিম, ১৩তম খণ্ড, পৃ. ২০৯)
➤(৪১). স্ত্রীকে বিভিন্ন উপলক্ষে (যেমন ঈদ, কুরবানী প্রভৃতিতে) ছোটখাট উপহার দেওয়া সুন্নত। (সহীহ আত্ তারগীব ১৯৫১, সহীহ আল জামি আস্ সগীর ৮৭৮।মিশকাত,১৯৩১)
➤(৪২). স্ত্রীর কোলে আবদ্ধ হওয়া এবং শিথিল করা সুন্নাত। (সহীহ বুখারী, হা/৩৩৪; সহীহ মুসলিম, হা/৫৫০)
➤(৪৩). স্ত্রীদের সাথে একই পাত্র থেকে গোসল করা সুন্নাত। (সহীহ বুখারী, হা/২৫০; সহীহ মুসলিম, হা/৩২১; নাসাঈ, হা/২৩৯)
➤(৪৪). স্ত্রীকে সুন্দর নাম নিয়ে ডাকা সুন্নাত। (নাসাঈ, সুনানুল কুবরা, হা/৮৯০২; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৩২৭৭।)
➤(৪৫). স্ত্রীর পিছনে খরচ করা অন্যান্য সকল ব্যয়ের চেয়ে নেকীই অধিক। (সহীহ মুসলিম ৯৯৫, আহমাদ ১০১৭৪, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৫৬৯৭, সহীহ আত্ তারগীব ১৯৫১, মিশকাত ১৯৩১)
➤(৪৬). স্ত্রীদেরকে দান সাদাক্বাহ করতে উপদেশ দেয়া সুন্নত। (মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩৯৮০, সনদ হাসান; সহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৮৬৫, আবু দাউদ, হা/১৭০০; নাসাঈ, হা/২৫৪৯)
➤(৪৭). নিজের কাজ নিজেই সম্পন্ন করা সুন্নাত।(সহীহ বুখারী, হা/৬৭৬, ৫৩৬৩, ৬০৩৯, ‘ভরণ-পোষণ’ অধ্যায়, ‘অনুচ্ছেদ-৬৯। আল-আদাবুল মুফরাদ, হা/৫৪১; শামায়েলে তিরমিযী, হা/৩৪৩; সহীহুল জামে, হা/৪৯৯৬, সনদ সহীহ। মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪৯০৩; সহীহ ইবনু হিব্বান, হা/৫৬৭৭; সহীহুল জামে, হা/৪৯৩৭, সনদ সহীহ)
➤(৪৮). রাতে স্ত্রীরা জেগে থাকলে তাঁদের সাথে গল্প করা, কথাবার্তা বলা সুন্নাত। (সহীহ বুখারী, হা/১১৬৭ ও১১৬১।আবু দাউদ হা/১২৬২; মিশকাত হা/১১৮৯, সনদ সহীহ)
➤(৪৯). স্ত্রী অসুস্থ হলে তার সেবা-শুশ্রূষা করা সুন্নত।(আবু দাউদ হা/৪০৮৪; মিশকাত হা/১৯১৮, সনদ ছহীহ। বুখারী হা/২৯৮৯; মুসলিম হা/১০০৯; মিশকাত হা/১৮৯৬।)
➤(৫০). স্ত্রীর সাথে বৈধ খেলাধুলায় প্রতিযোগিতা করাও সুন্নাত। (আবু দাঊদ, হা/২৫৭৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬৩২০; মিশকাত, হা/৩২৫১, সনদ সহীহ; সিলসিলা সহীহাহ, হা/১৩১)
➤(৫১). স্ত্রীর প্রশংসা করা সুন্নাত। রাসূল (ﷺ) আয়েশা (রাঃ) সবার সেরা, এবং খাদিজা (রাঃ) এর ভালোবাসার প্রশংসা করতেন। (বুখারী; ৫২২৯, ৩৪১১)
➤(৫২). অন্তরঙ্গ মুহূর্ত ছাড়াও স্ত্রীদের চুম্বন করা ও তাদের শরীরের সাথে শরীর মিলানো সুন্নাত। (সহীহ বুখারী, হা/১৯২৭; সহীহ মুসলিম, হা/১১০৬।)
➤(৫৩). রাতে সালাত আদায় করার সময় স্ত্রীদের জাগিয়ে তোলা সুন্নত। (সহীহ বুখারী, হা/৫১২; সহীহ মুসলিম, হা/৭৪৪, আবু দাউদ, হা/১৩০৮; নাসায়ি, হা: ১৬১০)
➤(৫৪). বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় চুম্বন করা সুন্নাত। (তিরমিযী, হা/৮৬; আবু দাউদ, হা/১৭৮)
➤(৫৫). সফরে স্ত্রীদের সঙ্গে এক সাওয়ারীতে আরোহণ করা এবং তাঁদের সাথে কথা বলতে বলতে পথ চলা সুন্নাত। (সহীহ বুখারী, হা/৫২১১; সহীহ মুসলিম, হা/২৪৪৫)
➤(৫৬). নিজের পরিবারের ব্যক্তিগত সদস্য এবং বন্ধুদের কাছে তার ব্যক্তিগত কথা প্রকাশ না করা সুন্নাত। প্রকাশ করা হারাম। (সহীহ মুসলিম, হা/ ৩৪৩৪-৩৫)
➤(৫৭). স্ত্রীর পরিবার ও পরিজন বন্ধু-বান্ধবকে উত্তমরূপে আতিথেয়তা ও তাদের খোজ খবর নেওয়া মুস্তাহাব (সহীহ মুসলিম, হা/২৪৩৫ ও ৬১৭২)
➤(৫৮). নিজের পিতা মাতার পাশাপাশি স্ত্রীর পিতা-মাতাকে ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা করা সুন্নাত। (সহীহ মুসলিম, হা/২৪৩৫ ও ৬০৬০)
➤(৫৯). স্ত্রীকে তার পরিবারের সাথে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া সুন্নত। (বুখারী হা/২৬৬১, ৪১৪১; মুসলিম হা/২৭৭০; আহমাদ হা/২৫৬৬৪)
➤(৬০). স্ত্রীর এটো খাবার খাওয়া সুন্নাত। (সহীহ মুসলিম, হা/৩০০; মিশকাত, হা/৫৪৭।)
➤(৬১). স্ত্রী যেখান থেকে পানি পান করতেন সেখান থেকে পানি পান করা সুন্নাত। (সহীহ মুসলিম, হা/৩০০ সুনানে নাসাঈ, হা/৩৭৮)
➤(৬২). হায়েয অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সহবাস না করে সাধারণ মেলামেশা করা সুন্নাত। (সহীহ বুখারী মুসলিম, হা/৩০০; মিশকাত, হা/৫৪৭)
➤(৬৩). স্ত্রীর কোলে শুয়ে কুরআন তিলাওয়াত করা সুন্নাত। (সহীহ বুখারী; ২৯৭, ইবনুল ক্বাইয়িম, যাদুল মা‘আদ, ১ম খণ্ড, পৃ. ৪৮২)
➤(৬৪). বাড়িতে প্রবেশের সময় স্ত্রীকে সালাম দেওয়া সুন্নাত। (তিরমিযী হা/২৬৯৮; সহীহ আত-তারগীব হা/১৬০৮; তারাজু‘আত হা/২৫৯; ইরওয়া হা/২০৪১, সনদ হাসান)
পরিশেষে, আমরা অনেক পুরুষই আছি, যারা উপরোক্ত ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাতগুলো তার ১ম স্ত্রীর জন্যই পালন করতে রাজি নই বা সামর্থ্য রাখিনা কিন্ত ৪ বিয়ের সুন্নাত পালন এবং বিভিন্ন যুক্তি দাঁড় করাতে সদা প্রস্তুত। তাই নিজেকে আদর্শ স্বামী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী উপরোক্ত ৬৪ টি পয়েন্ট পালন করার চেষ্টা করতে হবে। প্রিয় নবী রাসূল (ﷺ) বলেন, তোমাদের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি সেই, যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম। (ইবনে মাজাহ ১৯১৭, তিরমিজি ৩৮৯৫)। সুতরাং, উপরোক্ত হাদিসের আলোকে নিজেকে উত্তম স্বামী প্রমাণ করতে চাইলে উপরোক্ত বিষয়গুলো সামর্থ্য অনুযায়ী পালন করার বিকল্প কোনো পথ নেই। অতএব, যার যার স্ত্রী আছেন তার অধিকারগুলা ভালোভাবে আদায় করেন, যারা অবিবাহিত আছে নিজেকে প্রস্তুত করেন। তাহলে দুনিয়াটা যেমন জান্নাত হবে তেমনি পরকালটাতেও রবের সান্নিধ্য পাবেন ইনশাআল্লাহ। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)❛❛আদর্শ বিবাহ বন্ধন❞ ধারাবাহিক ২০তম পর্ব। পূর্বের পর্বগুলো কমেন্টে দেখুন।
_____________________________
10/05/2024
📍সালাফি/আহালুল হাদীস সম্পর্কে ইতিহাস বিখ্যাত ইমামগনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য:
▬▬▬▬▬▬▬◖◉◗▬▬▬▬▬▬▬
(১).ইমাম শাফেঈ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর জন্ম ১৫০ হি./৭৬৭ খ্রি. এবং মৃত্যু ২০৪ হি./৮২০) বলেছেন,অবশ্যই তোমরা আহলুল হাদীসদের অনুসরণ করবে। কেননা মানুষের মধ্যে তারাই সর্বাধিক সঠিক।(ইবনুল মুফলিহ, আল-আদাবুশ শার‘ঈয়্যাহ, খন্ড:১পৃষ্ঠা:২১১ পৃ.)
ইমাম শাফিঈ (রহঃ) বলেন,
আহলে হাদিসরা প্রত্যেক যুগে সাহাবীদের মত। তাই আমি যখন কোন আহলে হাদিসকে দেখি তখন রাসুল (সা:) এর কোন সাহাবীকেই দেখি।
(মীযানে শা'রানী ১/৫০)
(২).শাইখুল ইসলাম আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বাল (রাহিমাহুল্লাহ) আরো বলেছেন,
الطائفة المنصورة أصحاب الحديث، فلا أدري من هم
সাহায্যপ্রাপ্ত এই দলটি যদি আছহাবুল হাদীস (আহলে হাদীস) না হয়, তবে আমি জানি না তারা কারা?
(ইমাম হাকেম,মা‘রিফাতু উলূমিল হাদীস হা/২,সনদ) হাসান।
(৩).শাইখুল ইসলাম আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বাল আশ-শাইবানী (রাহিমাহুল্লাহ) জন্ম ১৬৪ হি./৭৮০ খ্রি. এবং মৃত্যু ২৪১ হি./৮৫৫ খ্রি.। বলেছেন,আমার নিকটে ঐ ব্যক্তিই আহলেহাদীস, যিনি হাদীসের উপর আমল করেন(ইমাম খত্বীব বাগদাদী, আল-জামে‘খন্ড:১পৃষ্ঠা:৪৪)
(৪).খলীফা হারূনুর রশীদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,
طَلَبْتُ الْحَقَّ فَوَجَدْتُهُ مَعَ أَصْحَابِ الْحَدِيْثِ،
আমি হক অন্বেষণ করেছি, আর সেটা আহলে হাদীসদের কাছেই খুঁজে পেয়েছি’।(খত্বীব বাগদাদী, শারফু আছহাবিল হাদীস পৃষ্ঠা;৫৫)
(৫).ইমাম সুফিয়ান ছাওরী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,
المَلاَئِكَةُ حُرَّاسُ السَّمَاءِ، وَأَصْحَابُ الحَدِيْثِ حُرَّاسُ الْأَرْضِ،
ফেরেশতাগণ আসমানের পাহারাদার আর আহলেহাদীছগণ যমীনের পাহারাদার’।(ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা খন্ড:৭ পৃষ্ঠা:২৭)
(৬).শায়খুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়াহ রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৭২৮] বলেছেন,
,أَدْنَى خَصْلَة لِأهْلِ الْحَدِيْثِ مَحَبَّةُ الْقُرْآنِ وَالْحَدِيثِ وَالْبَحْثِ عَنْهُمَا وَعَنْ مَعَانِيْهِمَا وَالْعَمَلِ بِمَا عَلِمُوهُ مِنْهمَا
‘আহলুল হাদীসদের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হ’ল, তারা কুরআন-হাদীছের প্রতি অগাধ ভালোবাসা রাখেন, এ দু’টি নিয়ে গবেষণা করেন ও এর তত্ত্বানুসন্ধান করেন। আর তারা কুরআন ও হাদীছ থেকে যা জানতে পারেন, তার উপরে আমল করেন’(ইবনু তায়মিয়াহ,মাজমূ‘উল ফাতাওয়া,খন্ড:৪ পৃষ্ঠা:৫৯)
(৭).ইমাম সুফিয়ান বিন ‘উয়ায়না (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন,
مَا أَرَى طُولَ عُمْرِيْ هَذَا إِلَّا مِنْ كَثْرَةِ دُعَاءِ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ
আমি আমার এই দীর্ঘ জীবনে আহলেহাদীছদের চেয়ে অন্য কারো দো‘আ এত বেশী কবুল হ’তে দেখিনি।(খত্বীব বাগদাদী, শারফু আছহাবিল হাদীস পৃষ্ঠা : ৫১)
(৮).ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,
أَثْبَتُ النَّاسِ عَلَى الصِّرَاطِ أَصْحَابُ الْحَدِيثِ،
মানুষের মাঝে আহলেহাদীসরাই সিরাতে মুস্তাক্বীমের উপর অধিক প্রতিষ্ঠিত।(শারফু আসহাবিল হাদীস পৃষ্ঠা: ৫৮)
(৯).ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন মুফলিহ আল-মাক্বদেসী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,
أَهْلُ الْحَدِيثِ هُمْ الطَّائِفَةُ النَّاجِيَةُ الْقَائِمُونَ عَلَى الْحَق
আহলে হাদীসরাই মুক্তিপ্রাপ্ত দল। যারা হক্বের উপর প্রতিষ্ঠিত আছেন’(আল-আদাবুশ শারঈয়্যাহ খম্ড:১ পৃষ্ঠা: ২১১)
(১০).ইমাম আহমাদ বিন সিনান আল-ওয়াসিত্বী (রাহিমাহুল্লাহ) মন্তব্য করেছেন,
لَيْسَ فِى الدُّنْيَا مُبْتَدِعٌ إِلاَّ وَ هُوَ يَبْغَضُ أَهْلَ الْحَدِيْثِ-
দুনিয়াতে এমন কোন বিদ‘আতী নেই, যে আহলে হাদীসদের প্রতি ঘৃণা-বিদ্বেষ পোষণ করে না’(মা‘রিফাতু উলূমিল হাদীস হা/৬ সনদ সহীহ)
(১১).ইমাম হাকেম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,‘আমি সর্বত্র যত বিদ‘আতী এবং নাস্তিকমনা মানুষ পেয়েছি, তারা সকলেই ‘ত্বায়েফাহ মানছূরাহ’ তথা আহলে হাদীসদেরকে তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে দেখত এবং আহলেহাদীছদেরকে নিকৃষ্টভাবে সম্বোধন করত (যেমন হাশাবিয়া)।(মা‘রিফাতু উলূমিল হাদীস, পৃষ্ঠা:১১৫)
(১২).হাফিয ইবনে হিববান (রাহিমাহুল্লাহ) ‘আহলে হাদীসদে’র সম্পর্কে বলেছেন যে, ‘তারা হাদীছের উপরে আমল করেন, হাদীস সংরক্ষণ করেন এবং হাদীস বিরোধীদের মূলোৎপাটন করেন’।(সহীহ ইবনে হিববান হা/৬১২৯; অন্য একটি সংস্করণের হাদীস নং ৬১৬২)
(১৩).হাফেয ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ)[মৃত: ৭৫১ হি.] তার প্রসিদ্ধ ‘ক্বাসীদায়ে নূনিয়াহ’তে লিখেছেন, ‘ওহে আহলে হাদীসদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী এবং গালি প্রদানকারী! তুমি শয়তানের সাথে বন্ধুত্ব ও সখ্যতা গড়ার সুসংবাদ গ্রহণ করো’।(ক্বাসীদায়ে নূনিয়া,পৃষ্ঠা: ১৯৯
(১৪).হাফেয ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৭৭৪ হি.]
আহলে হাদীসদের একটি ফযীলত উদ্ধৃত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘কতিপয় সালাফে সালেহীন এই আয়াতটি
সম্পর্কে বলেছেন,هَذَا أَكْبَرُ شَرَفٍ لِأَصْحَابِ الْحَدِيْثِ لِأَنَّ إِمَامَهُمْ النَّبِىُّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ ‘এটি আহলেহাদীছের জন্য সবচেয়ে বড় ফযীলত। কেননা তাদের ইমাম হচ্ছেন স্বয়ং রাসূল (ﷺ) (বাণী ইসরাঈল ১৭/৭১ তাফসীর ইবনে কাসীর খন্ড: ৪ পৃষ্ঠা: ১৬৪)
(১৫).সূরা বণী ইসরাইলের ৭১ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রাহিমাহুল্লাহ)মন্তব্য করেছেন,আহলে হাদীছদের জন্য এর চেয়ে অধিক ফযীলতপূর্ণ আর কোন বক্তব্য নেই। কেননা রাসূল (ﷺ) ব্যতীত আহলে হাদীসদের আর কোন ইমামে আ‘যম বা বড় ইমাম নেই।(তাদরীবুর রাবী, খন্ড:২ পৃষ্ঠা:১২৬,২৭তম প্রকার)
(১৬).ইমাম বুখারীর শিক্ষক আলী ইবনুল মাদীনী রাহিমাহুল্লাহ (মৃ. ২৩৪হি.) বলেন,هُمْ أَهْلُ الْحَدِيثِ، وَالَّذِينَ يَتَعَاهَدُوْنَ مَذَاهِبَ الرَّسُولِ، وَيَذُبُّوْنَ عَنِ الْعِلْمِ، لَوْلَاهُمْ لَمْ تَجِدْ عِنْدَ الْمُعْتَزِلَةِ وَالرَّافِضَةِ وَالْجَهْمِيَّةِ وَأَهْلِ الْإِرْجَاءِ وَالرَّأْيِ شَيْئًا مِنَ السُّنَنِ ‘তারা হ’ল আহলুল হাদীস যারা রাসূল (ﷺ)-এর গৃহীত মাযহাব বা নীতিমালাকে সংরক্ষণ করেছেন, যারা জ্ঞান তথা কুরআন ও হাদীছকে (ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র কিংবা বিকৃতির হাত থেকে) রক্ষা করেছেন। যদি তারা না থাকত, তাহ’লে মু‘তাযিলা, রাফেযী (শী‘আ), জাহমিয়া, মুরজিয়া ও আহলুর রায়দের নিকট থেকে আমরা সুন্নাতের কিছুই আশা করতে পারতাম না’।(খত্বীব আল-বাগদাদী,শারফু আছহাবিল হাদীছস পৃষ্ঠা: ১০)
(১৭) খলীফা হারূণুর রশীদ (রাহিমাহুল্লাহ) (মৃ. ১৯৩ হি.) বলেন, ‘আমি মুসলমানদের চারটি দলের মধ্যে চারটি বস্ত্ত পেয়েছি। (ক) আমি কুফরী সন্ধান করেছি ও তা পেয়েছি জাহমিয়া (অদৃষ্টবাদী)-দের মধ্যে। (খ) কুটতর্ক ও ঝগড়া পেয়েছি মু‘তাযিলাদের মধ্যে। (গ) মিথ্যা খুঁজেছি ও তা পেয়েছি রাফেযী (শী‘আ)-দের মধ্যে। আর (ঘ) আমি হক খুঁজেছি এবং তা পেয়েছি ‘আহলে হাদীস’দের মধ্যে।(খত্বীব আল-বাগদাদী, শারফু আছহাবিল হাদীস পৃষ্ঠা:৫৫)
(১৮).ইমাম কুতায়বা বিন সাঈদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন,
إذا رأيت الرجل يحب أهل الحديث، ... فإنه على السن
যদি তুমি কোন ব্যক্তিকে আহলে হাদীসদের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করতে দেখ, .(তখন বুঝবে যে,) সেই ব্যক্তি সুন্নাতের উপরে (আছে)(খত্বীব বাগদাদী, শারফু আছহাবিল হাদীছ, হা/১৪৩, পৃঃ ১৩৪; সনদ সহীহ)
(১৯).হাফস বিন গিয়াছ (রাহিমাহুল্লাহ) আহলে হাদীসদের সম্পর্কে বলেছেন,
هم خير أهل الدنيا
‘তারা দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ মানুষ’।(মা‘রিফাতু উলূমিল হাদীছ, পৃঃ ৩, সনদ সহীহ)
(২০).বিশর বিন হারেছ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,يَا أَصْحَابَ الْحَدِيثِ أَدُّوا زَكَاةَ الْحَدِيثِ হে আহলে হাদীসগণ! তোমরা হাদীসের যাকাত আদায় কর। তাকে বলা হ’ল, কিভাবে আমরা তা আদায় করব? তিনি বললেন, اعْمَلُوا مِنْ كُلِّ مِائَتَيْ حَدِيْثٍ سَمِعْتُمُوْهَا بِخَمْسَةِ أَحَادِيْثَ ‘তোমরা যে সমস্ত হাদীস শ্রবণ করেছ তার প্রতি দু’শ হাদীছের মধ্যে অন্ততঃ পাঁচটি হাদীছের উপর আমল কর।(খলীল ক্বাযভীনী, আল-ইরশাদ ফী মা‘রেফাতে ওলামাইল হাদীস খন্ড:৩ পৃষ্ঠা:৮৬৭) আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী সংকলিত)
__________________________
-সংগৃহীত
স্ত্রী সহবাসের পর তৎক্ষণাৎ গোসল এবং কিছু ভুল ধারণা
প্রশ্ন: সহবাস এর পরপরই কি গোসল করতে হবে? যদি ভুল বশত: না করা হয় তাহলে উপায় কি?
উত্তর:
নিম্নে প্রশ্নটির উত্তর প্রদান করা হল। পাশাপশি তুলে ধরা হল, সমাজে প্রচলিত সহবাস পরবর্তী কতিপয় কুসংস্কার ও ভুল ধারণা:
◉◉ গোসল ফরজ হলে সালাতের পূর্ব পর্যন্ত গোসল বিলম্ব করা জায়েজ আছে:
স্ত্রী সহবাস, স্বপ্নদোষ ইত্যাদির কারণে গোসল ফরজ হলে তৎক্ষণাৎ গোসল করা আবশ্যক নয়। বরং ঘুম, ব্যস্ততা বা প্রয়োজনে বিলম্ব করা জায়েজ আছে। এ মর্মে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। যেমন:
➧ ১) হাদিসে এসেছে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ لَقِيَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي طَرِيقٍ مِنْ طُرُقِ الْمَدِينَةِ وَهُوَ جُنُبٌ فَانْسَلَّ فَذَهَبَ فَاغْتَسَلَ فَتَفَقَّدَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا جَاءَهُ قَالَ ” أَيْنَ كُنْتَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ ” . قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَقِيتَنِي وَأَنَا جُنُبٌ فَكَرِهْتُ أَنْ أُجَالِسَكَ حَتَّى أَغْتَسِلَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ” سُبْحَانَ اللَّهِ إِنَّ الْمُؤْمِنَ لاَ يَنْجُسُ ” .
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি একবার মদিনার কোন এক রাস্তায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সাক্ষাৎ পেলেন। তিনি (আবু হুরায়রা রা.) তখন (জানবাত) অপবিত্র অবস্থায় ছিলেন। এই কারণে তিনি আস্তে করে পাশ কেটে চলে গেলেন এবং গোসল করলেন।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তালাশ করলেন। পরে তিনি এলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন: আবু হুরায়রা। তুমি কোথায় ছিলে?
তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনার সঙ্গে যখন আমার সাক্ষাৎ হয় তখন আমি অপবিত্র অবস্থায় ছিলাম। তাই আমি গোসল না করে আপনার সাথে উঠবস করাকে অপছন্দ করেছি।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “সুবহানাল্লাহ! মুমিন তো অপবিত্র হয় না।” (সহিহ বুখারী ও মুসলিম। সহীহ মুসলিম, হাদিস নম্বর/৭১০ অধ্যায়ঃ ৩/ হায়েজ)
হাদিসের বক্তব্য: “মুমিন তো অপবিত্র হয় না” এর অর্থ হল, মুমিন অভ্যন্তরিণভাবে কখনো নাপাক হয় না। বাহ্যিকভাবে শরীরে নাপাকি লাগলে শরীর নাপাক হয় কিন্তু তার মধ্যে ঈমান থাকায় সে অভ্যন্তরিণভাবে সে পবিত্র থাকে (জীবিত ও মৃত সর্বাবস্থায়)। পক্ষান্তরে কাফির বাহ্যিকভাবে যদি পরিষ্কারও থাকে তবে ঈমান না থাকার কারণে সে অভ্যন্তরিণভাবে নাপাক।
ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বলেন:
فيه جواز تأخير الاغتسال عن أول وجوبه
“এ হাদিসে গোসল ফরজ হওয়ার পর তা বিলম্ব করার বৈধতা পাওয়া যায়।” (সহিহ বুখারির ব্যাখ্যা গ্রন্থ ফাতহুল বারী)
➧ ২) আরেকটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,
عن غضيف بن الحارث، قال: قلت لعائشة: أكان النبي صلى الله عليه وسلم يغتسل قبل أن ينام؟ وينام قبل أن يغتسل؟ قالت: نعم. قلت: الحمد لله الذي جعل في الأمر سعة
গাযীফ ইবনুল হারিস রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি আয়েশা রা. কে প্রশ্ন করলাম, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি ঘুমের পূর্বে গোসল করতেন অথবা গোসলের পূর্বে ঘুমাতেন?
তিনি বললেন: হ্যাঁ।
আমি বললাম: আল হামদু লিল্লাহ-সকল প্রশংসা আল্লাহর যিনি বিষয়টিতে ছাড় রেখেছেন। (সহিহ আবু দাউদ, হা/২২৬)
➧ ৩) এ ছাড়াও সহিহ সনদে প্রমাণিত হয়েছে যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্ত্রী সহবাসের পর শরীর নাপাক অবস্থায় রমাযান মাসে ভোর রাতে সেহরি খেয়েছেন। তারপর ফজরের আজান হলে গোসল করে মসজিদে সালাত আদায়ের জন্য গেছেন।
উল্লেখ্য যে, একটি হাদিসে এসেছে: “যে ঘরে জুনুবি ব্যক্তি (গোসল ফরজ হয়েছে এমন নাপাক ব্যক্তি) এবং কুকুর থাকে সে ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করে না।” এই হাদিসটি মুহাদ্দিসগণের জইফ বা দুর্বল।
তবে সালাতের সময় হলে গোসলের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করার পর সালাত আদায় করা আবশ্যক। কেননা সালাতের জন্য পাক-পবিত্রতা অর্জন করা পূর্বশর্ত।
◉◉ স্ত্রী সহবাসের পর গোসল করতে বিলম্ব করলে ওজু করা মুস্তাহাব:
স্ত্রী সহবাসের পর কেউ ইচ্ছে করলে তৎক্ষণাৎ গোসল করে নিতে পারে আবার ইচ্ছে করলে বিলম্বও করতে পারে। বিলম্ব করতে চাইলে অজু করে নেওয়া উত্তম।
➧ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
في الصحيحين أن عمر استفتى رسول الله صلى الله عليه وسلم: أينام أحدنا وهو جنب؟ قال: “نعم، إذا توضأ”.
ওমর রা. রাসূল-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট প্রশ্ন করলেন, শরীর নাপাক অবস্থায় কি কেউ ঘুমাতে পারে?
তিনি বললেন: “হ্যাঁ, যদি অজু করে।” (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
قال ابن عبد البر: ذهب الجمهور إلى أنه ـ أي: الأمر بالوضوء للجنب الذي يريد
النوم – للاستحباب
“ইবনে আব্দুল বার বলেন, জুমহুর তথা অধিকাংশ আলেম এই মত ব্যক্ত করেছেন যে, যে জুনুবি (নাপাক) ব্যক্তি ঘুমাতে চায় তার জন্য ওজু করার নির্দেশ টি মুস্তাহাব পর্যায়ের।”
◉◉ সহবাসের পর গোসল করা সম্পর্কে কতিপয় ভুল ধারণা ও ভিত্তিহীন কথা:
১. সহবাসের সাথে সাথেই গোসল করতে হবে; নয়তো গুনাহ হবে।
২. সহবাস করে গোসলের পূর্বে মাটিতে পা রাখা যাবে না। অন্যথায় মাটি বদ দুআ করবে এবং অভিশাপ দিবে!
৩. সহবাস করার পর গোসলের পূর্বে কোন কিছুতে হাত দেয়া যাবে না। এই অবস্থায় কোন কিছুতে হাত দিলে তা অপবিত্র হয়ে যাবে!
৪. এ অবস্থায় রান্না-বান্না করলে বাড়ি থেকে লক্ষ্মী চলে যাবে। (এটি স্পষ্ট শিরক)।
৫. গোসলের পূর্বে হাতে কিছু নিয়ে দরজা ধরতে হবে।
৬. নাপাক অবস্থায় খাওয়া-দাওয়া করা যাবে না।
৭. এ অবস্থায় রান্না-বান্না করা যাবে না।
৮. ঘর-বাড়ি ঝাড়ু দেয়া যাবে না।
৯. সন্তানকে বুকের দুধ পান করানো যাবে না।
১০. অবস্থায় দুআ-তসবিহ, জিকির-আজকার পাঠ করা যাবে না।
এ সবই কুরআন-সুন্নাহ বর্হিভূত ভুল ধারণা ও বাতিল কথা। ইসলামে এ সব কথার কোন ভিত্তি নাই।
আল্লাহ আমাদেরকে দীনের সঠিক জ্ঞান ও বুঝ দান করুন এবং সর্ব প্রকার বাতিল ও কুসংস্কার থেকে হেফাজত করুন। আমিন।
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬✪◯✪▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Address
Rejistrypara
Tangail
Opening Hours
| Monday | 08:00 - 17:00 |
| Tuesday | 08:00 - 17:00 |
| Wednesday | 08:00 - 17:00 |
| Thursday | 08:00 - 17:00 |
| Sunday | 08:00 - 17:00 |