21/07/2020
Borhanul Ulum Ahmadia Yeasinia Fazil Madrasa
An excellent Islamic education center. There are more than 1000 students in these institute, Out of
21/07/2020
শবে কদরের সন্ধানে
শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী
০৬ জুন ২০১৮, ১৩:৩৩
আপডেট: ০৬ জুন ২০১৮, ১৩:৩৫
প্রিন্ট সংস্করণ - prothom-alo.com
শবে কদর কোরআন নাজিলের রাত। রমজান মাসের এ রাতে পবিত্র মক্কা মুকাররমার হেরা পর্বতের গুহায় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে ফেরেশতাদের সরদার হজরত জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে বিশ্ব নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি মহাগ্রন্থ আল কোরআন অবতীর্ণ হয়।
আসমানি এক শ সহিফা ও চারখানা কিতাবসহ মোট এক শ চারটি কিতাবের মধ্যে কোরআনই সেরা। কোরআন সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব। কারণ এই কিতাব নাজিল হয়েছে আখেরি নবী, সর্বশ্রেষ্ঠ নবী, নবীগণের ইমাম, রাসুলদের সরদার, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হজরত মুহাম্মদ মুস্তফা আহমদ মুজতবা (সা.)-এর প্রতি। এই কোরআনের স্পর্শ বড়ই সৌভাগ্যের। হজরত জিবরাইল (আ.) এই কোরআন বহন করেই ফেরেশতাদের সরদার হওয়ার গৌরব লাভ করেছেন। মরুর দেশ ‘জাজিরাতুল আরব’ এই কোরআনের স্পর্শেই পবিত্র আরব ভূমির সম্মান লাভ করেছে। অলক্ষুনে ও দুর্ভোগালয় খ্যাত ‘ইয়াসরিব’ এই কোরআনের বরকতেই পুণ্যভূমি ‘মদিনা মুনাওয়ারা’র সম্মানে ধন্য হয়েছে। তাগুতের আখড়া, পাপের আকর, শিরক ও কুফরের শীর্ষ তীর্থস্থান ‘বাক্কা’ এই কোরআনের তাজাল্লিতে পবিত্র মক্কা নগরীতে রূপান্তরিত হয়েছে। এই কোরআনের পরশে স্বল্পমূল্য কাপড়ের ‘গেলাফ’ বুকে জড়ানোর সম্মান পাচ্ছে। এই কোরআনের ছোঁয়ায় সাধারণ কাঠের ‘রেহাল’ সম্মানের চুমু পাচ্ছে।
সর্বোপরি কোরআনের সংস্পর্শে একটি সাধারণ রাত ‘লাইলাতুল কদর’ বা ‘শবে কদর’ রজনীর সম্মানে বিভূষিত হয়েছে। কোরআনের সঙ্গে যাঁর যতটুকু সম্পর্ক ও সান্নিধ্য থাকবে তিনি ততটুকু সম্মানিত ও মর্যাদার অধিকারী হবেন। প্রিয় হাবিব (সা.) বলেন, ‘কোরআনওয়ালা-ই আল্লাহওয়ালা এবং তাঁর খাস ব্যক্তি।’ (বুখারি)। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘যার অন্তরে কোরআনের সামান্যতম অংশও নেই, সে যেন এক বিরান বাড়ি।’ (বুখারি ও মুসলিম)।
আল্লাহ তাআলা বলেন: ‘রমজান মাস! যে মাসে কোরআন নাজিল হয়েছে মানবের দিশারিরূপে ও হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শন।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৮৫)। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আরও বলেন: ‘উজ্জ্বল কিতাবের শপথ! নিশ্চয় আমি তা নাজিল করেছি এক বরকতময় রাতে; নিশ্চয় আমি ছিলাম সতর্ককারী। যাতে সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারিত হয়। এ নির্দেশ আমার তরফ থেকে, নিশ্চয় আমিই দূত পাঠিয়ে থাকি। এ হলো আপনার প্রভুর দয়া, নিশ্চয় তিনি সব শোনেন ও সব জানেন। তিনি নভোমণ্ডল-ভূমণ্ডল ও এ উভয়ের মাঝে যা আছে সে সবের রব। যদি তোমরা নিশ্চিত বিশ্বাস করো; তিনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, তিনি জীবন ও মৃত্যু দেন, তিনিই তোমাদের পরওয়ারদিগার আর তোমাদের পূর্ব পুরুষদেরও। তবুও তারা সংশয়ে রঙ্গ করে। তবে অপেক্ষা করো সে দিনের, যে দিন আকাশ সুস্পষ্টভাবে ধোঁয়াচ্ছন্ন হবে।’ (সুরা-৪৪ দুখান, আয়াত: ১-১০)।
শবে কদর ও কোরআন অবতরণ এবং এই রাতের ফজিলত সম্পর্কে দয়াময় আল্লাহ কোরআনে কারিমে ‘সুরা কদর’ নামে একটি স্বতন্ত্র সুরা নাজিল করেছেন। তাতে তিনি বলেছেন: ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি মর্যাদাপূর্ণ কদর রজনীতে। আপনি কি জানেন মহিমাময় কদর রজনী কী? মহিমান্বিত কদর রজনী হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। সে রাতে ফেরেশতাগণ হজরত জিবরাইল (আ.) সমভিব্যাহারে অবতরণ করেন; তাদের প্রভু মহান আল্লাহর নির্দেশ ও অনুমতিক্রমে, সকল বিষয়ে শান্তির বার্তা নিয়ে। এই শান্তির ধারা চলতে থাকে উষার উদয় পর্যন্ত। (সুরা-৯৭ কদর, আয়াত: ১-৫)।
হজরত উবাদা ইবনে সামিত (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) শবে কদরের সংবাদ দেওয়ার জন্য বের হলেন, দেখলেন দুজন মুসলমান ঝগড়াবিবাদে লিপ্ত। তারপর তিনি বললেন: ‘শবে কদর সম্বন্ধে খবর দেওয়ার জন্য আমি বের হয়েছিলাম; তোমাদের ওমুক ওমুক বিবাদে লিপ্ত হলো, আর তা আমা থেকে তুলে নেওয়া হলো। হয়তো এটাই তোমাদের জন্য মঙ্গলজনক হবে। এখন তোমরা তা রমজানের শেষ দশকে (সাতাশ, উনত্রিশ ও পঁচিশে) তালাশ করো।’ (বুখারি)। বিভিন্ন বর্ণনায় একুশ, তেইশ এবং বিজোড় রাতগুলোর কথা রয়েছে।
উম্মুল মোমেনিন হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.) কে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! (সা.), আমি যদি লাইলাতুল কদর সম্পর্কে জানতে পারি, তাহলে ওই রাতে আমি আল্লাহর কাছে কী দোয়া করব?’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘তুমি বলবে, আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নী।’ ‘হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা ভালোবাসেন; তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন।’ (ইবনে মাজা, সহিহ-আলবানি)।
মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির যুগ্ম মহাসচিব ও আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম–এর সহকারী অধ্যাপক
নাজাতের বারতা মাহে রমজান
প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) রমজানকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন। তিনি বলেছেন, রমজান মাসের প্রথম দশক হলো রহমত, দ্বিতীয় দশক হলো মাগফিরাত এবং শেষ দশক হলো নাজাত। নাজাত মানে মুক্তি, মুক্তি পাওয়া, মুক্তি দেওয়া, মুক্ত হওয়া। রমজানে শেষ দশকের নাজাতের অর্থ হলো: এই দশকে মানুষ পাপ-তাপ ও গুনাহ থেকে মুক্ত হবে, জাহান্নাম থেকে মুক্ত হবে; পাপের আকর্ষণ থেকে মুক্ত হবে। যেভাবে একজন নেশায় আসক্ত বা নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময়ের নির্দিষ্ট ওষুধ সেবন ও চিকিৎসার মাধ্যমে নেশা থেকে মুক্তি লাভ করে থাকেন।
আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য জাহান্নামের বহিরাবরণ চমৎকার আকর্ষণীয় করে সাজিয়েছেন এবং জান্নাতের বহিরাবরণ বিভিন্ন বাধাবিপত্তি ও বিপৎসংকুল করে রেখেছেন। মানুষ কষ্টের বাধা ডিঙিয়ে, শ্রম ও আয়াস স্বীকার করে, বিশ্বাসের প্রমাণ হিসেবে জান্নাত অর্জনের চেষ্টা করবে এবং জাহান্নামের সব আকর্ষণ উপেক্ষা করে তাকওয়ার ওপর বহাল থাকবে। হাদিস শরিফে রয়েছে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘দুনিয়া চাকচিক্যময় ও সুমিষ্ট, দুনিয়াকে ভয় করো ও নারীর বিষয়ে সাবধান থাকো; কেননা বনি ইসরাইলের প্রথম বিপর্যয় নারীর কারণেই ঘটেছিল। (তিরমিজি)। রাসুলে আকরাম (সা.) আরও বলেন: ‘দুনিয়ার প্রীতি সব পাপের মূল’। (বুখারি শরিফ ও মুসলিম শরিফ)।
মানব সত্তা বা ‘নফস’ অর্থাৎ কাম, ক্রোধ, লোভ, মদ, মোহ, মাত্সর্য এই ষড়্রিপুর সমন্বয়ে গঠিত ব্যক্তি সত্তার তিন অবস্থা। যথা: নাফসে আম্মারা, নাফসে লাউওয়ামা; নাফসে মুতমাইন্না। নাফসে আম্মারা হলো পাপের প্রতি আকৃষ্ট নাফস বা অবাধ্য সত্তা। নাফসে লাউওয়ামা হলো অনুতপ্ত সত্তা; যে পাপ করে পেশা হিসেবে নয়; নাফসের তাড়নায়, শয়তানের ধোঁকায় বা পারিপার্শ্বিক পরিবেশ ও পরিস্থিতির শিকার হয়ে এবং লজ্জিত, অনুতপ্ত হয়ে তওবা করে। নাফসে মুতমাইন্না মানে হলো প্রশান্ত নাফস, যার পাপের প্রতি অনুরাগ থাকে না এবং নেকির প্রতি আকর্ষণ থাকে।
নাফসে আম্মারা বিষয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন: হজরত ইউসুফ (আ.) বলেছেন, ‘আর আমি আমার নাফসকে নির্দোষ বলি না, নিশ্চয় নাফস অবশ্যই মন্দ কাজের প্রতি নির্দেশ করে, আমার রব যাকে রহমত করেন তাকে ছাড়া; নিশ্চয় আমার রব ক্ষমাশীল ও দয়ালু। (আল-কোরআন, সুরা-১২ ইউসুফ, আয়াত-৫৩)। নাফসে লাউওয়ামা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন: ‘শপথ কিয়ামত দিবসের আর শপথ নাফসে লাউওয়ামার।’ (আল-কোরআন, সুরা-৭৫ কিয়ামা, আয়াত: ১ ও ২)। নাফসে মুতমাইন্না সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার ঘোষণা: ‘হে প্রশান্ত নাফস! সন্তুষ্টচিত্তে তোমার রবের কাছে আসো এবং আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে আমার জান্নাতে প্রবেশ কর।’ (আল-কোরআন, সুরা-৮৯ ফাজর, আয়াত: ২৮-৩০)। নাফসে মুতমাইন্না হলো নাফসের নির্মোহ অবস্থা; এটাই হলো প্রকৃত মুক্তি বা নাজাত। মুমিনে কামিল বা পরিপূর্ণ মুমিন হতে হলে রিপুগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তাই তো বলা হয়, ‘ষড়্রিপু দমন হলে, সবাই তাকে মুমিন বলে।’
মানুষের মধ্যে কিছু সদগুণ ও কিছু দোষত্রুটি সৃষ্টিগতভাবেই বিদ্যমান রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: ‘অতঃপর তাকে তার অসত্কর্ম ও সত্কর্মের জ্ঞান দান করেছেন। সে সফল হলো যে তাকে পবিত্র করেছে; আর সে ব্যর্থ হলো যে তাকে কলুষিত করেছে।’ (সুরা-৯১ শামস, আয়াত: ৮-১০)। নাজাতের অর্থ হলো ওই সব দোষত্রুটি থেকে নিজেকে মুক্ত ও পবিত্র করা এবং সদগুণাবলি অর্জন করে মুক্তির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা। যাতে করে নাফসে মুতমাইন্না অবস্থা থেকে পুনরায় লাউওয়ামা বা আম্মারার দিকে ধাবিত না হয়। রমজান মাস হলো মুক্তির মাস। সব ধরনের কলুষতা, মলিনতা ও পাপ-পঙ্কিলতা থেকে নিজেকে মুক্ত করা বা মুক্ত হওয়াই এই মাসের ব্রত বা সাধনা।
রোজা অবস্থায় খাবারের স্বাদ পরীক্ষা
রমজানে রোজা অবস্থায় প্রয়োজনে তরকারির লবণ চেখে দেখা যাবে এবং একান্ত প্রয়োজন হলে জিহ্বা দ্বারা বা মুখে নিয়ে খাবারের স্বাদ পরীক্ষা করা যাবে। এতে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। এমনকি কোনো শিশু বা বৃদ্ধকে কোনো কিছু চিবিয়ে দিলেও রোজার ক্ষতি হবে না। এমতাবস্থায় কুলি করে নেওয়া ভালো, কুলি না করলেও ক্ষতি হবে না; বরং থুতু ফেলে দিলেই চলবে। তবে বিনা প্রয়োজনে কোনো বস্তু মুখে নেওয়া বা চিবানো মকরুহ; আর তা গলাধঃকরণ হলে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে। খাদ্যবস্তু অনিচ্ছায় গিলে ফেললে রোজা ভঙ্গ হবে; তবু রোজা পূর্ণ করতে হবে এবং একটি রোজা পরে কাজা আদায় করতে হবে, কাফফারা লাগবে না। খাদ্যবস্তু ইচ্ছাকৃতভাবে গিলে ফেললে সে দিনের রোজাও পালন করবে এবং কাজা ও কাফফারা উভয় আদায় করতে হবে। (ফাতাওয়ায়ে রহমানিয়া)।
তারাবির জামাতে বিলম্ব
তারাবির নামাজ দুই দুই রাকাত করে পড়া হয়। যদি কেউ বিলম্বের কারণে জামাতে এক রাকাত পান তাহলে বাকি এক রাকাত ইমামের সালাম ফেরানোর পর মাসবুকের মতো ফরজ নামাজের মতো একাকী পড়ে নেবেন (এই রাকাতে সুরা ফাতিহার পর যেকোনো সুরা পড়তে পারবেন)। তারাবির নামাজের দুই রাকাত বা ততোধিক রাকাত জামাতে না পেলে, জামাত শেষ হলে বাকি তারাবির নামাজ একাকী পড়বেন এবং যেকোনো সুরা দিয়ে পড়তে পারবেন)। কোনো পুরুষ বা নারী যেকোনো কারণে সন্ধ্যা রাতে তারাবির নামাজ সম্পূর্ণ বা আংশিক পড়তে না পারলে, সাহরির সময় যতক্ষণ থাকে এর মধ্যে যেকোনো সময় তারাবির নামাজ পড়তে পারবেন। এমনকি প্রয়োজনে বিতরের নামাজ পড়ার পরও তারাবির নামাজ পড়া যাবে। (ফাতাওয়া শামি)।
মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী: যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি, সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম।
সুত্র: প্রথম অলো
সবাইকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা - ঈদ মোবারাক, ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৫
Our network is growing faster, now we are 125+. Any constructive activity to make the page more lively are always most welcomed.
পবিত্র লাইলাতুল বরাত - ২রা জুন, ২০১৫
ঈদ মোবারাক - সবাইকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা।
রোজার ঐতিহাসিক পটভূমি
প্রথম নবী হজরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত নবী-রাসুলগণ সবাই রোজা পালন করেছেন। রোজা শুধু নবী করিম (সা.)-এর প্রতি ফরজ করা হয়নি, পূর্ববর্তী নবী-রাসুলদের প্রতিও ফরজ করা হয়েছিল। এ সম্পর্কে পবিত্র
কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্য সিয়ামের বিধান দেওয়া হলো, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীদের দেওয়া হয়েছিল, যাতে তোমরা সাবধান হয়ে চলতে পারো।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৩)
হজরত আদম (আ.) থেকে হজরত নূহ (আ.) পর্যন্ত চান্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ ‘আইয়ামে বিজ’-এর রোজা ফরজ ছিল। আল্লাহ তাআলা হজরত আদম (আ.)-এর কাছে ঐশীবাণী পাঠালেন, ‘তুমি চান্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখো।’ হজরত আদম (আ.) এ তিনটি রোজা রাখায় তাঁর দেহের রং আবার উজ্জ্বল হলো। এ জন্য এই তিন দিনকে আইয়ামে বিজ বলা হয়ে থাকে। (গুনিয়াতুত ত্বালেবীন, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩০৭) বেহেশতে হজরত আদম (আ.) যখন নিষিদ্ধ ফল ভক্ষণ করেছিলেন এবং তওবা করেছিলেন, তখন ৩০ দিন পর্যন্ত তাঁর তওবা কবুল হয়নি। ৩০ দিন পর তাঁর তওবা কবুল হয়। এরপর তাঁর সন্তানদের ওপরে ৩০টি রোজা ফরজ করে দেওয়া হয়। (ফাতহুল বারী, চতুর্থ খণ্ড, পৃ. ১০২-১০৩)
হজরত নূহ (আ.)-কে ‘দ্বিতীয় আদম’ বলা হয়। তাঁর যুগেও সিয়াম পালন করা হয়েছিল। তাফসিরে ইবনে কাসিরে বর্ণিত আছে, হজরত নূহ (আ.)-এর যুগে প্রতি মাসে তিনটি রোজা পালনের বিধান ছিল। তাফসিরবিদ হজরত কাতাদা (র.) বলেন, মাসে তিন দিন রোজা রাখার বিধান হজরত নূহ (আ.)-এর যুগ থেকে শুরু করে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগ পর্যন্ত বলবৎ ছিল। মুসলিম মিল্লাতের পিতা সহিফাপ্রাপ্ত নবী হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর যুগেও সিয়াম পালন করা হয়েছিল।
আসমানি কিতাব তাওরাতপ্রাপ্ত প্রসিদ্ধ নবী হজরত মূসা (আ.)-এর যুগেও রোজার বিধান ছিল। ইহুদিদের ওপর প্রতি শনিবার বছরের মধ্যে মহররমের ১০ তারিখে আশুরার দিন এবং অন্যান্য সময় রোজা ফরজ ছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় হিজরত করে ইহুদিদের আশুরার দিনে রোজা অবস্থায় পেলেন। তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আজ তোমরা কিসের রোজা করছ?’ তারা বলল, ‘এটা সেই মহান দিন, যেদিন আল্লাহ তাআলা হজরত মূসা (আ.) ও তাঁর কাওম (বনি ইসরাঈল)-কে মুক্ত করেছিলেন এবং ফেরাউন ও তার জাতিকে নীল নদে ডুবিয়ে মেরেছিলেন। ফলে শুকরিয়াস্বরূপ হজরত মূসা (আ.) ওই দিন রোজা রেখেছিলেন, তাই আমরা আজ রোজা করছি।’ এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘আমি তোমাদের অপেক্ষা হজরত মূসা (আ.)-এর অধিক নিকটবর্তী। এরপর তিনি এদিন সাওম পালন করেন এবং সবাইকে রোজা রাখার নির্দেশ দেন।’ (বুখারি ও মুসলিম)
হজরত মূসা (আ.) তুর পাহাড়ে আল্লাহর কাছ থেকে তাওরাতপ্রাপ্তির আগে ৪০ দিন পানাহার ত্যাগ করেছিলেন। ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থ তাওরাতে বর্ণিত আছে, হজরত মূসা (আ.) তুর পাহাড়ে ৪০ দিন পানাহার না করে ধ্যানে কাটিয়েছিলেন। তাই ইহুদিরা সাধারণভাবে হজরত মূসা (আ.)-এর অনুসরণে ৪০টি রোজা রাখা ভালো মনে করত। তার মধ্যে ৪০তম দিনটিতে তাদের ওপর রোজা রাখা ফরজ ছিল, যা ইহুদিদের সপ্তম মাস তিসরিনের দশম তারিখে পড়ত। এ জন্য ওই দিনটিকে আশুরা বা দশম দিন বলা হয়। এ আশুরার দিনে হজরত মূসা (আ.) তাওরাতের ১০টি বিধান পেয়েছিলেন। এ কারণেই তাওরাতে ওই দিনের রোজার জন্য তাগিদ এসেছে। এ ছাড়া ইহুদি সহিফাতে অন্যান্য রোজারও সুস্পষ্ট হুকুম রয়েছে।
আসমানি কিতাব জাবুরপ্রাপ্ত বিখ্যাত নবী হজরত দাউদ (আ.)-এর যুগেও রোজার প্রচলন ছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় রোজা হজরত দাউদ (আ.)-এর রোজা। তিনি এক দিন রোজা রাখতেন এবং এক দিন বিনা রোজায় থাকতেন।’ (বুখারি ও মুসলিম) অর্থাৎ হজরত দাউদ (আ.) অর্ধেক বছর রোজা রাখতেন এবং অর্ধেক বছর বিনা রোজা থাকতেন।
আসমানি কিতাব ইঞ্জিলপ্রাপ্ত বিশিষ্ট নবী হজরত ঈসা (আ.)-এর যুগে রোজার প্রমাণ পাওয়া যায়। হজরত ঈসা (আ.)-এর অনুসারী সম্প্রদায় রোজা রাখত। হজরত ঈসা (আ.) তাঁর ধর্ম প্রচার শুরুতে ইঞ্জিল পাওয়ার আগে জঙ্গলে ৪০ দিন সিয়াম সাধনা করেছিলেন। একদা হজরত ঈসা (আ.)-কে তাঁর অনুসারীরা জিজ্ঞাসা করেন যে ‘আমরা অপবিত্র আত্মাকে কী করে বের করব?’ জবাবে তিনি বলেন, ‘তা দোয়া ও রোজা ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে বের হতে পারে না।’ (মথি ৭-৬৬, সীরাতুন নবী, পঞ্চম খণ্ড, পৃ. ২৮৭-২৮৮) খ্রিষ্টানদের জন্য রোজা পালনের বিধান ছিল। পবিত্র বাইবেলে রোজাব্রত পালনের মাধ্যমেই আত্মশুদ্ধি ও কঠোর সংযম সাধনার সন্ধান পাওয়া যায়।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুয়ত লাভের আগে আরবের মুশরিকদের মধ্যেও সিয়ামের প্রচলন ছিল। যেমন আশুরার দিনে কুরাইশরা রোজা রাখত এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রাক-ইসলামি যুগে এই রোজা রাখতেন। যখন তিনি মদিনায় আগমন করেন, তখন এই রোজা নিজে রাখেন এবং সাহাবায়ে কিরামকে রোজা রাখার হুকুম দেন। পরিশেষে মাহে রমজানের সিয়াম যখন ফরজ হয়, তখন তিনি আশুরার রোজা ছেড়ে দেন। (বুখারি ও মুসলিম) হজরত কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) আমাদের আইয়ামে বিজের রোজা রাখার হুকুম দিতেন, আর আইয়ামে বিজের দিনগুলো হচ্ছে চান্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ। (আবু দাউদ) রাসুলুল্লাহ (সা.) গৃহে অবস্থানকালে বা ভ্রমণরত অবস্থায় কখনো আইয়ামে বিজের রোজা ছাড়তেন না। (নাসাঈ) ইসলামের প্রাথমিক যুগে তিন দিন রোজা রাখার বিধান ছিল। পরে দ্বিতীয় হিজরি সালে উম্মতে মুহাম্মদির ওপর মাহে রমজানের রোজা ফরজ হলে তা রহিত ও ঐচ্ছিক হয়ে যায়।
- ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক, গবেষক ও কলাম লেখক।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Telephone
Website
Address
Vill. : Alalpur, Upozila: Delduar
Tangail