11/11/2024
২০১৬ সালে সূর্যের চেয়ে ১৫০ গুণেরও বেশি বড় ৫টি নক্ষত্র আবিষ্কার করে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. রুবাব খান যা প্রকাণ্ড নক্ষত্রগুলোর সৃষ্টি-ধ্বংস-বয়স সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে। কর্মজীবনে নাসায় কাজ করার পাশাপাশি অ্যামাজনের মতো প্রতিষ্ঠানেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার!
বাংলাদেশি বিজ্ঞানী রুবাব খান ঢাকার উদয়ন স্কুল থেকে এসএসসি এবং নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ২০০৮ সালে উচ্চ শিক্ষার জন্য পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক শেষ করে ভর্তি হন ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটিতে। সেখান থেকে ২০১০ সালে জ্যোতির্বিজ্ঞানের স্নাতকোত্তর এবং ২০১৪ সালে পিএইচডি সম্পন্ন করেন তিনি।
পিএইচডি শেষ করে ড. রুবাব যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড রাজ্যের গ্রিনবেল্টে অবস্থিত নাসা গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে পোস্ট ডক্টরাল ফেলো হিসেবে তিন বছর গবেষণা করেন। এছাড়াও কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটিতে গ্রাজুয়েট অ্যাসোসিয়েট হিসেবে এবং ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনে ফ্যাকাল্টি রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। টেকনোলজি বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি ‘Tmar’-এ তিনি একজন প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে বেশ কয়েক বছর কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি অ্যামাজনের ক্লাউড কম্পিউটিং প্লাটফর্ম ‘অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসের’ সলিউশনস্ আর্কিটেক্ট হিসেবে কর্মরত আছেন।
পৃথিবীর ১০ হাজার আলোকবর্ষের মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং উজ্জ্বলতম নক্ষত্রের নাম ‘এটা ক্যারিনাই’। সূর্যের চেয়ে প্রায় ১৫০ গুণ বড় এই ‘এটা ক্যারিনাই’ হলো একটি জোড়া নক্ষত্র ব্যবস্থা। এর সমকক্ষ কোনো কিছু মহাকাশে আছে বলে ধারণা করা হতো না। কিন্তু বিজ্ঞানী রুবাব খানের নেতৃত্বে তার দল এমন অন্তত পাঁচটি জোড়া নক্ষত্রের সন্ধান পেয়েছিলেন। তার দলের এই আবিষ্কার রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছিল।
বিবর্তনের সময় নক্ষত্র থেকে নিঃসৃত ধুলা, গ্যাসের স্তর পুরু হয়ে আলোর গতিপথ রোধ করে দেয়। ফলে ধুলার আস্তরণ শুষে নিয়ে আলো আরও দীর্ঘ তরঙ্গ দৈর্ঘ্যে পুনরায় বিকিরণ করতে থাকে যা ‘মিড ইনফ্রারেড’ আলো নামে পরিচিত। আয়ু বৃদ্ধির সাথে নক্ষত্রের ভর হ্রাসের সম্পর্ক বুঝতে হলে এই ধূলার আস্তরণযুক্ত নক্ষত্র সম্পর্কে জানাটা জরুরি। এর মাধ্যমে এগুলো কিভাবে বিস্ফোরণে ভূমিকা রাখে এও জানা সম্ভব। তবে সমস্যার কথা হলো, আমাদের নিজস্ব ছায়াপথ মিল্কিওয়েতে জঞ্জালের আস্তরণ টেলিস্কোপের দৃষ্টি পথে বাধা সৃষ্টি করে। আর তাই, রুবাবের দল নাসার স্পিতজার টেলিস্কোপ থেকে পাওয়া মিড-ইনফ্রারেডের এর তথ্যের সঙ্গে হাবল টেলিস্কোপে দৃশ্যমান আলোর ছবি মিলিয়ে দেখেন। ফলে অন্য ছায়াপথ গুলোতে ‘এটা কারিনাই’ এর সদৃশ পাঁচটি নক্ষত্রের খোঁজ মেলে। ঊনবিংশ শতাব্দীর ৪০-এর দশকে ‘এটা ক্যারিনাইয়ে’ মারাত্মক বিস্ফোরণ ঘটার ফলে সূর্যের চেয়ে প্রায় ২০ গুণ পরিমাণ নির্গত পদার্থ নক্ষত্রের চারপাশে ঘুরতে থাকে। রুবাবের আবিষ্কারের আগে এটা জানার কোন উপায় ছিল না যে, ‘এটা ক্যারিনাই’ এর ঘটনাটি কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাকি নক্ষত্রের আয়ুর শেষ দিকে সব নক্ষত্রের ভাগ্যেই এমন ঘটে। রুবাব ও তার দলের আবিষ্কারে দ্বিতীয় যুক্তিটি সঠিক বলে ধরে নেয়া যায়। আর এ তথ্যটুকুই প্রকান্ড এই নক্ষত্রগুলোর সৃষ্টি-ধ্বংস-বয়স এবং বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে এগুলোর ভূমিকা জানতে সাহায্য করবে।
Jobaida Rahman Mysha
Team Science Bee