25/09/2026
From: A Failed Girl
(I hope you won't recognize me. That is exactly what I want. Just know this, I am your secret admirer.)
To: প্রিতম রিক
আমি জানি না কেন এই চিঠিটা লিখছি। সত্যি বলতে, এর কোনো লাভও নেই। তবুও লিখছি, কারণ কিছু কথা অনেক বছর ধরে নিজের মধ্যে আটকে রেখেছি। মনে হলো, অন্তত একবার তোমাকে জানানো দরকার।
জানো, একজন মানুষের প্রথম ভালোবাসাকে হয়তো পুরোপুরি ভুলে যাওয়া এত সহজ নয়। আমার ক্ষেত্রে সেই প্রথম মানুষটা তুমি।
আমি তখন হয়তো ক্লাস ৬ বা ৭-এ পড়ি। ভালোবাসা কী, সেটাও ঠিকভাবে বুঝতাম না। হয়তো তোমাকে ভালো লাগা থেকেই ধীরে ধীরে ভালোবাসা তৈরি হয়েছিল। ক্লাস ৬-এ বান্ধবীদের বলেছিলাম, আমি একজনকে ভালোবাসি। আজ পর্যন্ত তারা জানে না সেই মানুষটা তুমি। তখন ভেবেছিলাম ক্লাস ৭-এর মধ্যেই তোমাকে প্রপোজ করবো।
কিন্তু সাহস হয়নি। সবসময় মনে হতো তুমি হয়তো আমাকে রিজেক্ট করবে, আর সেই অপমানটা আমি নিতে পারবো না। তার থেকেও বড় কথা, মনে হতো তুমি আমার চেয়ে আরও ভালো কাউকে ডিজার্ভ করো। তাই কোনোদিন নিজের মনের কথাটা বলা হয়নি।
এরপর ক্লাস ৬, ৭ পেরিয়ে গেল। ক্লাস ৮-এ কোভিডের সময় ঢাকায় চলে গেলাম। তখন শুনলাম তুমি সম্পর্কে জড়িয়েছো। খুব কষ্ট পেয়েছিলাম, কিন্তু নিজেকেই বলেছিলাম—সম্পর্কে গেছো তো কী হয়েছে, বিয়ে তো আর করনি। মনে মনে তখনও ভাবতাম, শেষ পর্যন্ত হয়তো তোমাকেই বিয়ে করবো।
দূর থেকে তোমার খোঁজ নিতাম। একসময় শুনলাম তোমার ব্রেকআপ হয়েছে। ভালোও লেগেছিল। কিন্তু এরপর তুমি একের পর এক সম্পর্কে জড়াতে থাকলে। তবুও আমি নিজের জায়গা থেকে একই কথাই ভাবতাম—বিয়ে তো আর করনি।
এভাবেই ২০২৫ সাল পর্যন্ত একটা আশা নিয়ে ছিলাম। কিন্তু যখন শুনলাম তুমি বিয়ে করেছো, মনে হলো আমার এত বছরের একতরফা ভালোবাসার শেষ আশাটুকুও শেষ হয়ে গেল। ক্লাস ৬ থেকে ১১ পর্যন্ত জীবনের এতগুলো বছর আমি কাউকে নিয়ে সম্পর্কে জড়াইনি—হয়তো তার পেছনে একমাত্র কারণ ছিল তুমি।
তারপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে শুনলাম তোমার ডিভোর্স হয়েছে। অদ্ভুতভাবে সেদিনও ভালো লাগেনি, কারণ জানতাম এই ডিভোর্সের পেছনে তোমারও কষ্ট আছে। আর বাস্তবতাও বুঝতাম—তুমি ডিভোর্সি হওয়ায় আমার পরিবার হয়তো কোনোদিন তোমাকে মেনে নেবে না। ডিভোর্স না হলেও হয়তো পরিস্থিতি খুব একটা আলাদা হতো না, কারণ ২০১৬-১৭ সাল থেকে তোমার পরিবার আর আমার পরিবারের মধ্যে যে ঝামেলা, ২০২৬ এসেও সেটা শেষ হয়নি।
তারপরও আমি কখনো তোমাকে দোষ দিইনি। জীবন যার যার মতো এগিয়েছে।
কিন্তু ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ এসপি পার্কে হঠাৎ তোমাকে দেখলাম। তোমাকে একটা মেয়ের সঙ্গে ঝামেলায় জড়াতে দেখেছিলাম, একপর্যায়ে তোমরা একে অপরকে থাপ্পড়ও দিয়েছিলে। সেদিন তিনবার আমাদের চোখে চোখ পড়েছিল, কিন্তু কেউ কারও সঙ্গে কথা বলিনি। হয়তো অভিমান ছিল, হয়তো ইগো, হয়তো অতীতের অনেক কিছুই মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিল।
আমাদের শেষ কথা বা ঝগড়ার কথাও মনে পড়ে গেল। ২০২২ বিশ্বকাপের সময় ফুটবল নিয়ে তোমার সঙ্গে আমার ঝগড়া হয়েছিল। তুমি আর্জেন্টিনা সাপোর্ট করতে, আমি ব্রাজিল। ফুটবল নিয়ে আমাদের মতের মিল কখনোই ছিল না।
যাই হোক, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ আবার তোমাকে দেখলাম। আর সেদিন একটা জিনিস বুঝলাম—আমি তোমাকে এখনো ১ শতাংশও ভুলতে পারিনি।
তোমাকে দেখলে আমি কেমন যেন হয়ে যাই। নিজের মধ্যে থাকি না। এত বছর পার হয়ে গেছে, জীবন অনেক দূর এগিয়েছে, অনেক কিছু বদলেছে। কিন্তু তোমাকে দেখলে মনে হয় আমি আবার সেই ক্লাস ৬-৭-এর মেয়েটাই হয়ে গেছি, যে চুপচাপ দূর থেকে একজন মানুষকে ভালোবাসত।
আমি জানি না এই চিঠি তোমার কাছে কোনো অর্থ বহন করবে কি না। হয়তো পড়ে হাসবে, হয়তো অবাক হবে, হয়তো কিছুই মনে হবে না। সত্যি বলতে, তোমার কাছ থেকে কোনো উত্তরও চাই না।
আমি শুধু চেয়েছি তুমি একবার জানো—গত ৭-৮ বছর ধরে কেউ একজন তোমাকে নীরবে, একতরফাভাবে, নিজের মতো করে ভালোবেসে গেছে।
হয়তো তোমাকে কোনোদিন পাওয়া হয়নি, হয়তো কোনোদিন পাওয়াও হবে না। তবুও তুমি আমার জীবনের সেই মানুষটা হয়ে থাকবে, যাকে আমি প্রথম ভালোবেসেছিলাম।
শুধু এটুকু জেনে রেখো—কেউ একজন তোমাকে পাগলের মতো ভালোবাসত।