06/11/2025
আজ থেকে কয়েকবছর আগেই দেশের বেশ কয়েকটি পত্রিকায় লেখাটি ছাপা হয়েছিল।
বিষয় ছিল: "প্রাথমিক শিক্ষায় সুর ও ছন্দের গুরুত্ব"।
কচিকাঁচা শিক্ষার্থীদের শারীরিক -মানসিক দক্ষতা ডেভলপমেন্টের জন্য সুরের গুরুত্ব ব্যাপক।এটা গবেষণালব্ধ তথ্য,নিছক কথার কথা নয়।জন্ম থেকেই একটা মানুষ নিজের অজান্তেই তার ভেতরে নানা রকম সুরের লালন পালন করে।শিশুর হাসি কিংবা কান্নায় রয়েছে একটা নির্দিষ্ট সুর।এই সুর এক জন থেকে অন্য জনের ভিন্ন ভিন্ন হয়।আপনি হাঁটছেন,খেয়াল করে দেখুন আপনার হাঁটায় একটা রিদম আছে।এই রিদম এলোমেলো করে হাঁটার চেষ্টা করুন তো,পারবেন না।আপনি খাচ্ছেন,পান করছেন,কথা বলছেন, বক্তৃতা দিচ্ছেন,দৌড়াচ্ছেন সব কিছুতেই রয়েছে রিদম। বুকের বামপাশে হাত দিয়ে দেখুন তো,আপনার হার্ট ও কিন্তু একটা নির্দিষ্ট বীট মেইনটেইন করে।সন্তানের কান্না থামাতে মায়েরা গান গায়,সুরে ছন্দে ছড়া শোনায়।আমরা নামতা শিখি সুরে,ছড়া শিখি সুরে।ইদানিং তো ফিজিক্সের অনেক সুত্র ও সহজে আয়ত্ত করার জন্য নানা রকম গানের সুরে সুরে শিখে শিক্ষার্থীরা।প্রকৃতিতে দেখুন পাখির গান,ঝর্ণায় পানির ছন্দ,ধানের ক্ষেতে বাতাসের দোলা,বৃষ্টির শব্দ কিংবা মেঘের গর্জন সব কিছুতেই সুর আর ছন্দ।সবাই হয়ত এসব অনুধাবন করতে পারে না।তবে যখন খেয়াল করবেন,ঠিকই বুঝতে পারবেন।
এগুলো শুধুই আমার নিজের কথা না,এগুলো গবেষকরা বলেন।সুর,তাল,ছন্দ সব মিলিয়েই সংগীত। আর সংগীত হলো সায়েন্স।যা শিশুর শিখনকে স্থায়ী করণে এবং শিখনকে সহজবোধ্য করতে অপরিসীম ভূমিকা রাখে।এজন্যই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ম-৫ম শ্রেণির জন্য ১৩ টি গান এবং প্রাক প্রাথমিক শ্রেণির জন্য আরো বেশ কিছু গান ও ছড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
দৃষ্টি আকর্ষণ : সংগীতের গুরুত্ব নিয়ে আমার অবজারভেশন লিখেছি।অতি উৎসাহী হয়ে কেউ সংগীত শিক্ষক নিয়োগের সাথে গুলিয়ে ফেলবেন না।।শিক্ষক নিয়োগ সেটা কর্তৃপক্ষের ব্যাপার।আমি আদার ব্যাপারী হয়ে জাহাজের খবর নেয়ার দু:সাহস করি না।যাদের ভালো লাগবে না এড়িয়ে যাবেন।