16/05/2025
তারপরে..............
বিজ্ঞানের বিরোধিতা করা আমার মূল উদ্দেশ্য নয়। কেননা আমি নিজেই একজন বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলাম এবং এখনও বিজ্ঞান বিভাগেই চাকুরি করি। এ কথা আমার নিকট এখন সুস্পষ্ট যে বিজ্ঞানের আলোচনা না করলে মহাবৈজ্ঞানিক আল্লাহর শক্তি মহিমার বিকাশ সম্ভব নয়। অন্ধ হয়ে আল্লাহকে বুঝা আর জ্ঞানের আলোকে তাঁকে নিকটে পাবার মধ্যে অনেক প্রভেদ আছে। আল্লাহ তাঁর সৃষ্টি তত্ত্বের দ্বার উদঘাটন করেছেন সৃষ্টি সেরা মানুষকে এ পৃথিবীতে প্রেরণ করে। যাঁরা তাঁর এ সৃষ্টি রহস্য বুঝতে সক্ষম, বিশ্লেষণ করবার উপযোগী সৃষ্টি বস্তুকে আয়ত্বে এনে মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত করার অপূর্ব কৌশল শিক্ষা দেন তাঁরাই সমাজে বৈজ্ঞানিক নামে অভিহিত। তাই এদের ছোট করে দেখবার মোটেই যুক্তি নেই। আল্লাহ পাক যুগে যুগে যেমন নবী-পয়গম্বর পাঠিয়ে মানুষকে ভ্রান্ত পথ হতে সরে নিয়ে সরল ও সুপথের সন্ধান দিয়েছেন তেমনি যুগে যুগে বিজ্ঞানীদের পাঠিয়েও অভিনব আবিষ্কারের পদ্ধতি শিখিয়েছেন এবং তাঁর অসীম ক্ষমতার বিকাশ করেছেন।তাই মানুষ সুখ-স্বাচ্ছন্দ, আরাম-আয়েস ও বিলাস বহুল জীবন যাপন করতে শিখেছে। যাঁরা বিজ্ঞান শিক্ষাকে ধর্ম-বিরোধী বলে মনে করে থাকেন আশা করি আমার এ সামান্যতম রচনাটুকু পড়ে তাদের এ ভূল ভাঙ্গবে।বিজ্ঞান চর্চ। আল্লাহরই নির্দেশ। কোরােন এ সাক্ষীই দিচ্ছে। সেখানে বলা হয়েছেঃ
ক) “অবশ্যি আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং দিবা রাত্রির পরিবর্তনের মধ্যে অনেক নিদর্শন রয়েছে বুদ্ধিমান লোকদের জন্য।”[সূরা আল ইমরান, আয়াত-190]
খ) “এবং তিনিই তোমাদের জন্য নক্ষত্রপুুঞ্জ সৃষ্টি করিয়াছেন যেন ইহা দ্বারা তোমরা ভূ-তল ও সমুদ্রের অন্ধকারে পথপ্রান্ত হও, নিশ্চয়ই আমি অভিজ্ঞ সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলী স্পষ্টরুপে বর্ণনা করিয়াছি।”[সূরা আনআম, আয়াত-97]
গ) “তিনি যাহাকে ইচ্ছা জ্ঞান দান করেন, এবং যাহাকে জ্ঞান প্রদত্ত হয়-ফলতঃ সে নিশ্চয়ই প্রচুর কল্যাণ লাভ করে। এবং জ্ঞানবান ব্যতীত কেহই হৃদয়ঙ্গম করিতে পারে না।”[ সূরা বকর, আয়াত-269]
ঘ) “আমি তোমার প্রতি এই প্রাচুর্যপূর্ণ গ্রন্থ অবতীর্ণ করিয়াছি যেন তাহারা ইহার প্রবচনসমূহ সম্বন্ধে চিন্তা করে এবং যেন জ্ঞানবানগন ইহা স্মরণ করে।”[সূরা সাদ, আয়াত-29]
চলবে......................................