30/12/2023
প্রিয় রাসূল হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নেক সন্তানকে মুমিন-জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ আখ্যা দিয়েছেন- ‘মৃত্যুর পর তিনটি আমল ছাড়া সব আমলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। ১. সদকায়ে জারিয়া ২. উপকারী ইলম ৩. নেক সন্তান।’ -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৪৩১০ এই মহান নবীগণ শুধু নেক সন্তানের কথা বলেছেন কেন? কারণ নেক সন্তানই মা-বাবা ও জাতির ভবিষ্যৎ। শিশুর ভবিষ্যৎ আর জাতির ভবিষ্যৎ একই সুতোয় গাঁথা। নেক সন্তান পরিবার, সমাজ, দেশ সবার জন্য গৌরব ও কল্যাণকর। আর অসৎ সন্তান সবার জন্য কলঙ্ক ও ক্ষতিকর। তাই তাঁরা আল্লাহর কাছে নেক সন্তানের জন্য মুনাজাত-কাতর হয়েছেন এবং এক্ষেত্রে তাঁদের চেষ্টারও কোনো কমতি ছিল না। সুতরাং ছেলেমেয়েকে দ্বীন শিক্ষা দিয়ে নেক, সৎ ও যোগ্য মানুষরূপে গড়ে তুলতে পিতা-মাতার সচেষ্ট হতে হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে সমাজে যথেষ্ট শূন্যতা বিরাজমান। যে সন্তানকে দ্বীনী মাদরাসায় পড়ানো হয় তো হয়ই আর যাকে পড়ানো হয় না তাকে অনেক সময় প্রয়োজনীয় দ্বীন শিক্ষা পর্যন্ত দেওয়া হয় না। অথচ দ্বীনী শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। কোথাও কোথাও দেখা যায় যে, পরিবারের যে ব্যক্তি আলেম তিনি পরিবারের অন্য লোকদের দ্বীন শিক্ষার ব্যাপারে আন্তরিক নন এবং তাদেরও তার কাছ থেকে শেখার আগ্রহ নেই। আলেম হওয়ার আগে পরিবারের যে দ্বীনী অবস্থা ছিল আলেম হওয়ার পরও সেই অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগে যে তিমিরে নিমজ্জিত ছিল এখনো সেখানেই পড়ে রয়েছে। যার পরিণতি হয় অনেকটা ‘বাতির নিচে অন্ধকার’ এ প্রবচনটির মত। অথচ নিজের কল্যাণের পর আলেম হওয়া বা বানানোর প্রধান উদ্দেশ্যই হচ্ছে পরিবারের কল্যাণ। ইলম দ্বারা প্রথমত উপকৃত হবেন আলেম নিজেই। ইলম অনুযায়ী আমল করে নিজ জীবনকে জ্যোতির্ময় করবেন। দ্বিতীয়ত উপকৃত হবে তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন। তিনি তাদেরকে দ্বীন শিক্ষা দিবেন। তারাও তার কাছ থেকে শিক্ষা করবে। তার আলো থেকে আলো নিয়ে নিজেদের জীবন আলোকিত করবে। এ রকম সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একজন আলেমের মাধ্যমে উৎকৃষ্ট পরিবার নির্মিত হতে পারে। পবিত্র কুরআনের ইরশাদ- وَ مَا كَانَ الْمُؤْمِنُوْنَ لِیَنْفِرُوْا كَآفَّةً فَلَوْ لَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِّنْهُمْ طَآىِٕفَةٌ لِّیَتَفَقَّهُوْا فِی الدِّیْنِ وَ لِیُنْذِرُوْا قَوْمَهُمْ اِذَا رَجَعُوْۤا اِلَیْهِمْ لَعَلَّهُمْ یَحْذَرُوْنَ. তাদের প্রতিটি (বড়) দল থেকে একটি (ছোট) অংশ বের হয় না কেন, যাতে তারা দ্বীনের বুঝ অর্জন করতে পারে এবং তাদের কওমকে সতর্ক করতে পারে, যখন তারা তাদের কাছে ফিরে আসবে। ফলে তারা সতর্ক হবে। -সূরা তাওবা (৯) : ১২২