16/07/2025
সতর্কবার্তা ::: ""ভাবিয়া করিও কাজ,করিয়া ভাবিও না""।।।
প্রিয় HSC শিক্ষার্থীরা, তোমরা যারা ভার্সিটিতে ভর্তি হতে ইচ্ছুক পরিক্ষা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই এডমিশন প্রেপারেশন নেওয়া শুরু করে দিও।
এডমিশন টেস্টকে নরমালি ৩ টা ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়। আমি শুধু সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ড এর এক্সামপল দিচ্ছি। যেমন:
১) মেডিকেল +ভার্সিটি
২) ইঞ্জিনিয়ারিং + ভার্সিটি
৩) শুধু ভার্সিটি
এখন, এই যে পরিক্ষা গুলো দিচ্ছো, এই পরিক্ষাগুলো থেকেই দেখবা ধীরে ধীরে নিজেই আন্দাজ করতে পারবা কার দৌড় কতটুকু। আই মিন কার দ্বারা কোন ক্যাটাগরির প্রেপারেশন নেওয়া উচিৎ।। এই সিন্ধান্তটা জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিন্ধান্ত। আমি আবার বলছি এইটা জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিন্ধান্ত।। এইটা ডিসিশন যদি ঠিকভাবে না নিতে পারো জীবনে পাবলিক ভার্সিটিতে চান্স না পাওয়ার আফসোস "কাটা গায়ে নূনের ছিটা" এর মতো থেকেই যাবে।।। তাই একটা করে HSC পরিক্ষা দিবা আর কিরকম নাম্বার প্রত্যাশা করো এবং আদও সেরকম নাম্বার পাবা কিনা সেই হিসাবটা প্রতিদিন চুকিয়ে নিবা।।প্লিজ এই হিসাবটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।। প্রতিদিন চিন্তা করবা তোমার কি A+ থাকবে নাকি A গ্রেড থাকবে।আই মিন, যদি GPA- 5.00 সবগুলোতেই আসে তাহলে তুমি তোমার বাবা মা/ তোমার সেই ছোটবেলা থেকেই দেখে আসা স্বপ্নের পিছনে ছুটবা হোক সেটা মেডিকেল / ইঞ্জিনিয়ারিং।। তুমি ফুল ফিল ভাবে, একদম চিন্তা ছাড়াই মেডিকেল+ ভার্সিটি অথবা ইঞ্জিনিয়ারিং+ ভার্সিটি প্রেপারেশন নিবা।।।আর যদি মনের মধ্যে একটু হলেও সন্দেহ থাকে যে আমার A+ আসবে না কিংবা আমি 4.50-4.89 পর্যন্ত থাকবো তাহলে তুমি পুরোপুরিভাবে শুধু ভার্সিটির প্রেপারেশন নিবা।। এখানে একটু ব্যাতিক্রম আছে সেইটা ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রে যদি তোমার মার্ক আবার 90 UP থাকে বিশেষ করে গণিত, পদার্থ, রসায়নে তাহলে তুমি ইঞ্জিনিয়ারিংও নিতে পারো।।কারণ ইঞ্জিনিয়ারিং এ মার্ক কে বেশি প্রায়োরিটি দেওয়া হয়।।। কিন্তু যাদের GPA --5.00 আসবেই না।। তারা মেডিকেল নিও না।। কারণ মেডিকেল এর মার্ক খুবই সেন্সেটিভ।। কারণ এইক্ষেত্রে GPA-5.00 এর উপর নির্ভর করে ফর্ম তুলার সুযোগ থাকে + তোমার রেজাল্ট যদি 4.89 এর নিচে থাকে তাহলে চান্স পাওয়া কষ্ট হয়ে যাবে।।যদি তোমাকে এক্সাম দিতেও দেয় তোমার জন্য নিশ্চয়তা খুবই কম।।।।দুই একজন ব্যাতিক্রম থাকতে পারে সেইটা প্রস্তুতির উপর নির্ভর করে।। যদি আগে থেকেই সেই রকম প্রেপারেশন নাও তাহলে ভাগ্যগুণে চান্স হতেও পারে।।।
কিন্তু যারা নিবু নিবু পড়াশোনা করেছো, যেটাকে বলে সিরিয়াসলি কখনো ডিসিশন ফিক্সডই করতে পারো নি যে তুমি আসলে হতে চাও।। তারা নতুন করে মহা আনন্দে মেডিকেল এর প্রেপারেশন নিতে যেও না।। হাতে পায়ে ধরে বলি,, HSC তে গোল্ডেন পাইবা এই আশায় অনেক স্টুডেন্ট মেডিকেল এর প্রেপারেশন নিতে যাইয়া বড় ধরনের বাশ খাইছে।।এরকম উদাহরণ অনেক আছে।। একদম প্রথম থেকে মেডিকেলের প্রেপারেশন না নিয়ে নতুন করে নতুন স্বপ্ন দেখে মেডিকেল এর পিছনে গেলে ভার্সিটির চান্সও হারাইবা।। এইটা পুরোনো অভিজ্ঞতা থেকে ১০০% শিওর দিয়ে বলছি।।। যদি মেডিকেলের প্রস্তুতি ফার্স্ট ইয়ার থেকেই নিয়ে থাকো তাহলে 4.89 ব্যাপার না।।আর যদি HSC এক্সাম দিয়ে প্রতিটা এক্সামে কত পয়েন্ট আসবে সেরকম হিসাব করে দেখো যে 4.00/ 4.35/4.50/4.65/4.70/4.80 এরকম GPA আসবে তাহলে ভার্সিটির প্রেপারেশন নাও।।DU,JU,RU,CU,JnU, গুচ্ছ এসব ভার্সিটি টার্গেট নিয়া পড়ো দেখবা ইন শা আল্লাহ চান্স হবে।।কনফিউশান,টেনশনে ভুগবা না।।কনফিডেন্সের সাথে এক্সাম দিতে পারবা।।
এখন বলি,,, ভার্সিটির জন্য বায়োলজি নাকি ম্যাথে জোড় দিবা?? আমি বলবো দুইটারই প্রেপারেশন নিবা।।কিন্তু ম্যাথে ১০০% প্রেপারেশন নিবা।। মানে ম্যাথের জন্য অফুরন্ত সাবজেক্ট আছে+ চয়েজ +অপশন আছে।। যেইটা বায়োলজির জন্য অর্ধেক।। মানে শুধু বায়োলজির প্রেপারেশন নিলে ৪০ টা সাব্জেক্ট এর সুযোগ আর যদি ম্যাথের প্রেপারেশন নাও তাহলে ৬০-৭০ টা সাব্জেক্ট এর সুযোগ।। মানে প্রায় ডাবল সুযোগ থাকবে।। তোমার এই বিষয়ে সন্দেহ / প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট এ জানিও।।।।।
তুমি ম্যাথ যদি ৩ ঘন্টা পড়ো তাহলে ভার্সিটির জন্য ১ ঘন্টা বায়োলজি পড়লেই হবে।। দেখবা অনেকগুলো অপশন থাকবে।।।
কিন্তু তুমি যদি ভুল করে সিন্ধান্ত নিয়ে ৩ মাস মেডিকেলের প্রেপারেশন নিয়ে আবার গণিত দাগানোর জন্য নতুন করে গণিত পড়া শুরু করো তাহলে চান্স এর লেভেল অনেক কমে যাবে।। কিন্তু সঠিক সিন্ধান্ত নিয়ে প্রথম থেকেই ভার্সিটির জন্য ম্যাথ+ বায়োলজির প্রেপারেশন সমানভাবে নিতে পারো ইন শা আল্লাহ বাংলাদেশের মিনিমাম ৫ টা পাবলিক ভার্সিটিতে তোমার চান্স হবেই হবে।।। সঠিক পন্থায় পড়াশোনা করো।।নিজের পরিশ্রম, মেধার লেভেল অনুযায়ী সিন্ধান্ত নিও।।
"" বাবা বলেছে ইঞ্জিনিয়ার, মা বলেছে ডাক্তার, জেঠো বলেছে ব্যারিস্টার, দাদু বলেছে মাস্টার ""
এরকম অন্যের নেওয়া সিন্ধান্ত নিজের উপর চাপিয়ে নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মেরো না।।রিকুয়েষ্ট ভাই।।নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিন্ধান্ত নিজেই নাও।।প্রয়োজনে যার অভিজ্ঞতা আছে তার সাথে সরাসরি কথা বলে পরামর্শ নাও।।
কারণ জীবন যুদ্ধের এই পথে তুমি হাঁটো নি, যারা হাঁটছে, খাটছে তারা অনেক তেতো বিষয়ের অভিজ্ঞতা রাখে।। যখন কোথাও চান্স হবে না সেদিন তোমার বড় বড় স্বপ্ন, বড় বড় মুখের কথার বুলিকে সবাই নিদারুণ,নিষ্ঠুরভাবে কটাক্ষ করবে।।সেদিনের আফসোস যেনো না করো তার জন্যই এই সতর্কবার্তা।।।
প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করো, বন্ধুদের হেল্প করতে শেয়ার করো।। জীবনের অনেক সিন্ধান্তে বড়দের কন্সাল্টেন্ট তোমার জন্য আশির্বাদস্বরুপ। এইটা মাথায় রেখো।।।
সবার জন্য শুভকামনা।।। ফি-আমানিল্লাহ.।।।।
Rasel Ahamed, MATH,MBSTU
Co-founder-- Collegians,Math Followers Team................