11/05/2018
*আল্লাহর ওয়াস্তে তারাবীহ'র রাক'আত সংখ্যা নিয়ে কটাক্ষ ও বাড়াবাড়ি বন্ধ করুন।*
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তারাবীহ'র কোনো রাক'আত সংখ্যা নির্দিষ্ট করে বলে যাননি। উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রা:) বর্ণিত হাদীস থেকে কোনো কোনো উলামা ৮ রাক'আত নির্দিষ্ট করে থাকেন। উমর (রা:) এর যুগে ২০ রাক'আত তারাবীহ'র জামাত কায়েম হয়েছে এবং কোনো সাহাবী তাঁর বিরোধিতা করেননি। এ বিষয়ে অনেকগুলো দূর্বল বর্ণনা থাকলেও বিশুদ্ধ সূত্রও আছে। বিষয়টিকে বিন বায (রহ:) এর মতো মুহাক্কিক স্বিকার করেছেন এবং শায়েখ সালেহ আল মুনাজ্জিদ প্রমাণ করেছেন https://islamqa.info/ar/82152)
তিরমিজীর বিশুদ্ধসূত্রে বর্ণিত হাদীসে নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওসিয়ত করেছেন, 'আমার পরবর্তীতে তোমরা আবু বকর এবং উমরকে অনুকরণ করবে'। (তিরমিজী, হাদীস নং ৩৮০৫)
এরপর থেকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামাগন এই মতকে আঁকড়ে ধরেছেন। উম্মাহর চার নক্ষত্র (ইমাম আবু হানীফা, ইমাম মালেক, ইমাম শাফেঈ, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রাহিমাহুমুল্লাহ) -এর কেউ ২০ রাকাতের নিচে তারাবীহ'র মত পোষণ করেননি। ইমাম তিরমিজী (রহ:) তাঁর সুনানুত তিরমিজীতে বলেছেন-وَأَكْثَرُ أَهْلِ الْعِلْمِ عَلَى مَا رُوِيَ عَنْ عُمَرَ وَعَلِيٍّ وَغَيْرِهِمَا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِشْرِينَ رَكْعَةً (অর্থাত উমর ও আলী এবং অন্যান্য সাহাবীগন থেকে যে ২০ রাকাতের কথা বর্ণিত, বেশিরভাগ উলামায়ে কেরাম সেটিকেই গ্রহণ করেছেন।
এ কারণে উম্মাহর সর্বজন শ্রদ্ধেয় উলামাগন এ বিষয়ে গবেষণার পর সর্বদা প্রশস্ত দৃষ্টিভঙ্গি রাখতেন। সেখানে বিষয়টি নিয়ে আপনি মাঠ গরম করা কি বুদ্ধিমানের পরিচায়ক? কোথাও ২০ রাকাত তারাবীহ প্রচলিত থাকলে সেখানে ৮/১০রাকআত পড়ে বসে থাকাকে পরিতাপের বিষয় বলে আখ্যায়িত করেছেন ইবনে উসাইমীন (রহ:) আশ-শারহুল মুমতি'য় কিতাবে। তিনি এ বিষয়ে সাধারণভাবে সবাইকে এবং বিশেষভাবে যুবকদের বাড়াবাড়ি পরিহার করতে আহবান করেছেন। (শ/মুমতি'য় ৪/২২৫) সকল যুগের সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামাদের গবেষণার নির্যাস হলো, বিষয়টায় যথেষ্ঠ প্রশস্ততা আছে। সুতরাং সংখ্যার দিক থেকে কোনোটিকে বিদআত বা বেঠিক বলে আখ্যায়িত করা অবিচার বা অর্বাচিনতা।
আসুন, রাক'আত সংখ্যা নিয়ে হৈচৈ না করে বরং কাউকে বিদ্রুপ করা ছাড়া, সাধারণভাবে তারাবীহ'র সালাতে ধীরস্থীরতার গুরুত্ব প্রচার করতে থাকি। প্রচলিত তুফান মেইল তারাবীর সালাতই কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ হয় না। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াই।
সৌদি আরবের সর্বোচ্চ উলামা পরিষদের অন্যতম সদস্য ড. আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান আল মানী'য় আরো ৭বছর আগে বলেছেন, (http://www.alriyadh.com/661375) আমরা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ধীরস্থীরতা এবং উমর (রা:) এর রাকআত সংখ্যা কোনোটিকেই আজ ধরে রাখতে পারিনি। তিনি আরো বলেছেন, বেশিরভাগ (সৌদি) মসজিদে তারাবীহ'র সালাত ২০ মিনিটেই শেষ হয়ে যায়। যা দুখ:জনক।
আমাদের দেশের মসজিদগুলোর তারাবীহ'র দুরাবস্থার কথা তো বলাই বাহুল্য। অনেক মসজিদে যে তারাবীহ হয় তাতে নামাযই হয় কি না সন্দেহ। সুতরাং রাক'আত সংখ্যা নিয়ে যে সময়টা ব্যয় করছেন, তা না করে আওয়াজ তুলুন, তারাবীহে তাড়াহুড়ো নয়, ধীরস্থীরতা জরুরী।
*লিখেছেন শেইখ আহমাদুল্লাহ্(হাফিযাহুল্লাহ্)*
ما يُروى عن عمر رضي الله عنه أنه أمر بصلاة التراويح عشرين ركعة هل هذا صحيح أم ضعيف أو لا أصل له .