15/05/2020
মহান পেশার মানুষগুলো আজ বড়ই অসহায়।
শিক্ষকতা মহান পেশা। মহান এই পেশাকে আঁকড়ে ধরে জীবনের অনেক স্বপ্ন কে বিষর্জন দিয়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে যাচ্ছিলেন মেধাবী, পরিশ্রমি ও উদ্যোগি কিছু মানুষ। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রভাবে তাদের জীবন জীবিকা আজ হুমকীর সম্মুখীন। কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল করা এই সব মেধাবী মানুষগুলো চাকরী নামক সোনার হরিনের পিছু না ছুটে নিজের বেকারত্ব গোছানোর পাশা পাশি আরো অনেকের বেকারত্ব গুছিয়েছেন।
এ সংখ্যা প্রায় কোটির কাছকাছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশুনা এবং তার পরিবারের আর্থিক ব্যায় মেটানো, শিক্ষিত যোগ্যতা সম্পন্ন অনেক মেধাবী বেকার ব্যাক্তির সর্বশেষ আশা ভরসার স্থল হয়ে ওঠা ছায়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো মহামারি করোনার প্রভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। যার ফলে বেকার হয়ে পড়েছে এ খাত সংশ্লিষ্ট মানুষগুলো। মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা।
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের অংশ হিসেবে সরকার ছায়াশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি প্রদান করেছেন। এতে সহজেই প্রমানিত হয় এ খাতের অবদান। সম্পূর্ণ ব্যাক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোটাই মেধা নির্ভর। মেধার বিকাশ ঘটানোর মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠান গুলো তাদের সেবা প্রদান করে। গ্রামের অসচ্ছল পরবিারের বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রী যারা এই ছায়াশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকতা করে নিজের পড়াশোনার এবং পরিবারের অসহায় পিতা মাতার ব্যায়ভার বহন করতো তারা আজ অত্যন্ত অমানবিক জীবন যাপন করছে। সংকায় পড়েছে জীবন।
বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্নভাবে সহায়তা, প্রণোদনা এবং ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। নিম্ন বিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত শ্রেণিসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে এই সহযোগিতা প্রদান করছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই ছায়াশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সম্পৃক্ত জনগোষ্ঠি কোন শ্রেনিতেই অন্তর্ভুক্ত হতে পারেনি। এই মানুষগুলো অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। লজ্জায় কারো কাছে প্রকাশ করতে পারছে না।
অনেকগুলো ছায়াশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে এবং আরো অনেকগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে।
এই প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারনত ভাড়া বাড়ীতে পরিচালিত হয়। মাস শেষে ছাত্র ছাত্রীদের দেয়া বেতন থেকে বাড়ী ভাড়া, শিক্ষকদের বেতন ভাতা সহ যাবতীয় ব্যায় নির্বাহ করা হয়ে থাকে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের প্রভাবে মার্চ থেকে ছায়াশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে। ফলে ইতিমধ্যেই বাড়ী ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, ষ্টাফ বেতন বাবদ অনেক টাকা দেনা হয়ে গেছে। এই মুহুর্তে পরিবার নিয়ে জীবন চালানোই যখন কষ্টকর তখন বাড়ীওয়ালারা চাপ দিচ্ছে ভাড়া পরিশোধের জন্য। এমতাব্স্থায় এ খাত সংশ্লিষ্ট মানুষগুলো একেবারেই অসহায় হয়ে পড়েছে। এতোদিন যারা মেধার বিকাশ ঘটিয়ে ছাত্র ছাত্রীদের আলোর পথ দেখিয়েছেন এখন তারা শুধুই অন্ধকার দেখছেন। তাদের অসহায়ত্বে কাউকে কাছে পাচ্ছেন না।
সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আকূল আবেদন, ছায়াশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট মেধাবী, উদ্যোমি সংগঠকরা যাতে তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো টিকিয়ে রাখতে পারে এবং তাদের মহান পেশা `শিক্ষকতা`র মাধ্যমে শিক্ষাসেবা প্রদান করতে পারে তার প্রতি সদয় সু দৃষ্টি কামনা করছি।
লেখক.-
এম এইচ আকাশ
পরিচালক
সৃজন একাডেমি