19/05/2026
কুকুর ও ভেড়ার বিচার
নীতি: মিথ্যার ওপর বিচার করলে নিরীহরা কষ্ট পায়, কিন্তু সত্য একদিন জিতে যায়।
একদিন গ্রামের চতুর কুকুরটা ঘোষণা দিল, “ভেড়া আমার কাছ থেকে এক রুটি ধার নিয়েছিল। এখনো ফেরত দেয়নি। আমি বিচার চাই!”
নিরীহ ভেড়াটি অবাক হয়ে বলল, “আমি তো কোনোদিন রুটি খাই না! আমি তো ঘাস খাই!”
কিন্তু কুকুর তার সঙ্গীদের—একটা বেজে, এক গাধা আর এক নেকড়ে—নিয়ে হাজির হল আদালতে। তারা প্রত্যেকেই বলল, “হ্যাঁ, আমরা দেখেছি ভেড়া রুটি নিয়েছিল।”
বিচারক সেই সাক্ষীদের কথা শুনে বললেন, “তাহলে প্রমাণ পাওয়া গেছে, ভেড়া দোষী।”
ভেড়াকে জরিমানা দিতে হলো — কিছু মুল্যবান দুধ, যা কুকুর পেয়ে খুব খুশি হলো।
কিছুদিন পর... সত্যের উন্মোচন
এবার কুকুর একই অভিযোগ আনল এক খরগোশের বিরুদ্ধে — “তুইও রুটি ধার নিয়েছিলি!”
খরগোশ শান্ত গলায় বলল, “আমি ঘাস খাই, রুটি না। তুমি কি কখনো খরগোশকে রুটি খেতে দেখেছ?”
এই কথা শুনে বিচারকের মুখ থমকে গেল। তিনি ভাবলেন,
“আসলেই তো! খরগোশ তো রুটি খায় না। ঠিক যেমন ভেড়াও খায় না। তাহলে কি কুকুরের আগের অভিযোগও মিথ্যা ছিল?”
তিনি কুকুরের পুরোনো সাক্ষীদের আবার জিজ্ঞেস করলেন। এবার তারা কুকুরের ভয় না পেয়ে সত্যি কথা বলল। বেজে বলল, “আসলে আমরা কিছুই দেখিনি, কুকুর আমাদের মিষ্টি খেতে দেবে বলেছিল যদি আমরা হ্যাঁ বলি।”
সবকিছু পরিষ্কার হয়ে গেল।
বিচারকের উপলব্ধি ও ভেড়ার জয়
বিচারক লজ্জিত হয়ে ভেড়াকে ডেকে বললেন,
“ভেড়া, আমি ভুল করেছিলাম। তুই নির্দোষ ছিলি। আমি তখন রুটি খাওয়ার বিষয়টা বুঝতেই পারিনি। তোরা তো ঘাস খাস, রুটি তো খাসই না!”
তিনি কুকুরকে শাস্তি দিলেন — মিথ্যা বলার জন্য তাকে গ্রামের বিচারসভা থেকে বহিষ্কার করা হলো।
ভেড়ার মুখে তখন হালকা একটা শান্ত হাসি। সে কিছু না বলেও অনেক কিছু বলে দিল —
সত্য ধীর হলেও একদিন ঠিক সামনে আসে।