26/06/2026
আর এখন সুযোগ থাকতেও এমন কোনো উন্মাদনাই নাই। যেখানে ইউনিভার্সিটির রেস্ট্রিকশনের মাত্রাও এখন কমে গেছে।
https://www.facebook.com/share/p/1EbdB9ENBR/?mibextid=wwXIfr
খেলা হবে!!!
কিন্তু আজ যদি আমাদের ইউনিভার্সিটি খোলা থাকত!!! (কোভিড এর কারনে আপাতত ইউনিভার্সিটি বন্ধ)
মেট্রো গেইটে, দেয়ালে দেয়ালে, করিডোরে, লাইব্রেরীতে, ক্যান্টিনে, পুকুর পাড়ে, গাছের মধ্যে, গাড়ীতে, হাতে-মুখে স্টিকার মেরে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার কত্ত ফ্ল্যাগ থাকত, পোস্টার-প্ল্যাকার্ড থাকত। প্রত্যেকে আগামী রবিবার পর্যন্ত একটানা নিজের প্রিয় দলের জার্সি পড়ে ভার্সিটিতে আসা যাওয়া করত। যারা ভার্সিটির মাঠে রেগুলার ক্রিকেট খেলে, তারাও ব্রাজিল আর্জেন্টিনার জার্সি পড়ে ক্রিকেট খেলত। পুরো ভার্সিটিই হলুদ-আকাশি রঙে ভরে উঠত। যেদিকে চোখ যেত সেদিকেই হলুদ-আকাশি রঙে ভরপুর ভার্সিটি তে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে মাতামাতি-তর্কাতর্কি-মৌন যুদ্ধ দেখা যেত। এছাড়াও M Students Unofficial গ্রুপও ট্রল দ্বারা ভরে যেত।
মেয়েরা দূর থেকে ব্রাজিলিয়ান জার্সি পরিহিত কোনো ছেলেকে দেখে তাদের নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত- এই দেখ দেখ, ওই ছেলেটা ব্রাজিলের ডাই হার্ড ফ্যান, সব সময় ফেসবুকে আর্জেন্টিনাকে পচিয়ে পোস্ট দেয়, আর ২ টা দিন পর ওর টিম হারা পরেই সব ভাব দেখে নিব।
তেমনি ছেলেরাও জার্সি পরিহিত কোনো আর্জেন্টাইন সাপোর্টার মেয়েকে দেখে বলত- ওই দেখ, প্রতিদিন মুখে মেকাপ দিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সি পড়ে কি স্টাইল্টা করতেছে, খেলা কতটুকু বুঝে আর ভাবের জ্বালায় বাঁচি না। (মেয়েদেরকে ছোট করে লিখা হয় নি, ছেলেরা মেয়েদের মেকাপ জিনিসটা সব কিছুতেই টেনে আনে বলে উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র। এছাড়াও প্রত্যেক দলের যেমন মেয়ে সাপোর্টার আছে, তেমন ছেলে সাপোর্টারও আছে, সো নো অফেন্স)
এরকম দূর থেকে মৌন যুদ্ধ চলত। নতুন নতুন নিব্বা-নিব্বি দের ভার্সিটির মধ্যেই ঝগরা লেগে যেত দুজনে ভিন্ন দল সাপোর্ট করে বলে। অনেক ফ্রেশাররা আবার নতুন রিলেশনে চলে যেত সেম দল সাপোর্ট করা নিয়ে কথা বার্তা এগোতে এগোতে।
টিচাররা ক্লাসে আসার পর তাদের সাথে দুই পার্ট হয়ে ইন্সট্যান্ট ব্রাজিল আর্জেন্টিনা নিয়ে তর্ক বিতর্ক চলত ক্লাসের অর্ধেকটা সময়। এছাড়া লাইব্রেরি, লিমন-আবুল ভাইয়ের ক্যান্টিনের দিকে জার্মানী-স্পেনের সমর্থকরা যেতেই পারত না ব্রাজিল আর্জেন্টিনার বকবকানিতে। অনেকেই আবার লিমন ভাই ও আবুল ভাইকে নিয়ে বিভাজন শুরু করত। গাড়ীর মধ্যে এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে মক করে গান গাইতো, অনেকে বিরক্ত হয়ে হেড ফোন কানে লাগিয়ে থাকত, আর বাসায় গিয়ে M Students Unofficial এ পোস্ট দিত এসবের বিরোধ্যে।
ততক্ষণাত তৈরী হয়ে যেত Brazil Supporters Association of MU অথবা Argentina Football Supporters Association of MU, কমিটিও হয়ে যেত দুই দলের সাপোর্টার দের মধ্যে। চেয়ারম্যান স্যার, ভিসি-প্রোভিসি স্যার, রেজিস্ট্রার স্যার, এডমিন স্যার ও বিভিন্ন টিচারদের উপদেষ্ঠা হিসেবে রাখা হত। যাদের দলের পক্ষে চেয়ারম্যান স্যারের সাপোর্ট থাকত, তারা কথায় কথায় বলত আমাদের পক্ষে চেয়ারম্যান স্যার আছেন। এছাড়াও অনেক ফর্মার স্টুডেন্ট (সিনিয়র) রাও জায়গা পেতেন কমিটিতে দলকে রিপ্রেজেন্ট করতে। তাছাড়া দুই কমিটি মাঠের মধ্যে আলাদা আলাদা বসে গান-আড্ডাবাজী-ট্রলবাজী করত। LDF বা এম ইউ ডিবেট সোসাইটি তাদের মধ্যে ইন্সট্যান্ট বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ফেলত। বড় স্ক্রীনে খেলা দেখার প্ল্যান হত, তাই এত্ত সক্কাল বাস পাবে না বলে, ঐ সাপোর্টারস এসোসিয়েশন- অথোরিটির সাথে মিটিং করে খেলার সময়ের আগেই বাস চালু করিয়ে নিত। আর ফাইনাল শেষে কোলাকোলি, মিছিল করত পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে। সাপোর্টার্স এসোসিয়েশনের এক কমিটির প্রেসিডেন্ট অন্য কমিটির প্রেসিডেন্ট কে মালা পড়িয়ে দিয়ে নামে মাত্র সম্মান জানাত। এরপর প্রত্যেকে টাকা তুলে গ্রান্ড সেলিব্রেশন করত চেয়ারম্যান স্যার সহ কেক কেটে ও চ্যাম্পিয়ন জার্সি পড়ে। রানার্সাপ টিমের কমিটিকেও তাতে ইনভাইট দিত, কিন্তু ওরা লজ্জ্বায় আর আসত না। এরপর আরো কয়েকদিন একটানা ঐ চ্যাম্পিয়ন জার্সি পড়ে ইউনিভার্সিটি এসে বিপক্ষ দলের সাপোর্টারদের খোঁজত, কিন্তু পেত না। তাই কল দিয়ে আবার সবার দেখা হত এবং সবাই মিলে আগের মত নর্মাল ভার্সিটি লাইফ শুরু করত.....
# # # # #
কিন্তু........
আমাদের যে ইউনিভার্সিটি, আদৌ তা স্বপ্ন দেখাও ঠিক না। রেস্ট্রিকশন দিয়ে দিত দেয়ালে কোনো ধরনের পোস্টার লাগানো যাবে না। তাই আপাতত আপনারা ফিল করে পোস্ট টা পড়ে দেখেন, ইউনিভার্সিটি লাইফের খানিকটা মজা পাবেন। পাবলিক ইউনিভার্সিটির যেকোনো উৎসবের রেগুলার চিত্র এটি, সেই সাথে হল ভিত্তিক প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিরও রেগুলার চিত্র। আর আমাদের শুধু রেস্ট্রিকশন আর রেস্ট্রিকশন।
# # # # #
সবাই কমেন্টে ঝড় তুলতে পারেন😊।
♥