23/08/2016
পোস্টটি শেয়ার না করে পারলাম না।
বাবা মো: আনোয়ার হোসেন পেশায় রিক্সা মেকানিক। হাতে কাজ থাকলে খাবার জোটতো, না থাকলে অর্ধাহারে দিন কাটাতে হতো। এর মধ্যে সব ভাই-বোনের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে হত । তাই বাধ্য হয়ে বাবার সহযোগী হিসেবে নিজেও রোজগারের পথে নামে বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী মো: রাসেল রানা ।
দরিদ্র এ রিক্সাচালক কলেজ ছাত্রের গ্রামের বাড়ী দিনাজপুরের কাফরুল উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামে । বর্তমানে সে পিতাকে নিয়ে বিয়ানীবাজার পৌরসভার ফতেহপুরে থাকে । মা মোছা: আনজুয়ারা বেগম তার ছোট দু’ভাই মাসুদ রানা ও মেহেদী হাসানকে নিয়ে থাকেন সুন্দরপুর । রানা বিয়ানীবাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক সমাপ্ত করে চলে গিয়েছিল তার গ্রামে । পরিবারে অভাবের তাড়না থাকলেও পড়া বাদ দেয়নি রাসেল ।
২০১৫ সালে দিনাজপুরের যানজিরা আলিম মাদরাসার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৩.৯৪ পায় সে । এর পর সেখান থেকে এসে একাদশ শ্রেণীর বাণিজ্য বিভাগে ভর্তি হয় বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজে । বর্তমানে দ্বাদশ শ্রেণীর নিয়মিত ছাত্র হিসেবে কলেজে খুবই পরিচিত রাসেল । তার পিতা আনোয়ার হোসেন আয় থেকে প্রতি মাসে যে টাকা বাড়িতে পাঠাতেন তা দিয়ে কোনমতে চলত রানার মায়ের সংসার । অভাব অনটনের সেই সংসারে এখন আলো দেখাতে শুরু করেছে কলেজ ছাত্র রাসেল রানা ।
রানা এখন বহুমাত্রিক পরিচয়ের অধিকারী । তার জীবন সংগ্রাম সহপাঠিদের কাছে অনেকটা দৃষ্টান্তের মত । কারণ একই রাসেলকে কোনো সময় দেখা যায় রিক্সা চালক ,কোনো সময় ছাত্র,কোনো সময় শিক্ষক হিসেবে । দিনের ২৪ ঘন্টায় জীবন-জীবিকার তাগিদে একাধিক কর্ম বেছে নিয়েছে সে । কিন্তু ছিটকে পড়ছে না কলেজ থেকে ।
তার সাথে কথা বলে জানা যায়, রাসেল সকাল ৭ টা থেকে ১০টার পূর্ব পর্যন্ত রিক্সা চালায় । ১০ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত কলেজে ক্লাস করে ।কলেজ থেকে ফিরে দুপুরের খাবার সেরে আবারো শুরু করে রিক্সার চাকা ঘুরানো । বিকাল ৫ টা পর্যন্ত রিক্সা চালানোর পর শুরু করে শিক্ষকতা । প্রতিদিন ৩ টি টিউশনি করে রাতে আবার নিজের পড়াও পড়ে ।
রাসেল রানা জানায়, রিক্সা চালিয়ে সে দৈনিক ৩০০ টাকা আয় করতে পারে । ৩টি টিউশনি থেকে মাসে পায় আরো ৩ হাজার ।আয়কৃত টাকা থেকে নিজের থাকা-খাওয়া ও লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে প্রতি মাসে পিতা-মাতাকেও কিছু টাকা দেওয়া সম্ভব হয় তার পক্ষে । ছেলের ঘাম ঝরানো উপার্জনের টাকা পেয়ে অভাব লেগে থাকা পরিবারের দু:খ মোচনের চেষ্টা চালাচ্ছেন তার পিতামাতা । পিতা-মাতাকে একটু সহযোগিতা করতে পারায় এখন সর্বদা প্রফুল্ল দেখায় রাসেলকে । সহপাঠি ও শিক্ষকদের কাছেও অনেক প্রিয় সে ।
সানোয়ার হোসেন, আরিফ আহমদ, আজহার আহমদ নামের তার সহপাঠি বলেন ,’রাসেল রানা আমাদের সবার প্রিয় । নিজের এবং ছোট ভাইবোনদের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে দু:খের সংসারে বাতি জ্বালাচ্ছে এরকম সহপাঠি রাসেলকে দেখে আমরা প্রেরণা পাই । মাঝে মাঝে তার রিক্সায় চড়ে বেড়াই, একসাথে আমরা আড্ডা দেই ।
তার সব সহপাঠীরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন এবং রানাকে সমাজের অনুকরনীয় এক চরিত্র বলে মনে করেন।
#বিয়ানীবাজার টাইমস, সোহান আহমদঃ