পড় তোমার প্রভুর নামে যিনি তোমায় সৃষ্টি করেছেন।
— আল কুরআন
সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃ
মানবতার মুক্তির দিশারী মহানবী (সা.) প্রতি মহান আল্লাহর প্রথম বাণী ইকরা, পড়ো। জ্ঞানার্জন করো। অর্থাৎ মানবজাতি কে আধাঁর থেকে আলোর পথে নিয়ে আসতে হলে আগে নিজে জানো। জানতে হলে পড়তে হবে। আগে হৃদয়-বন্দর শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে হবে। শিক্ষা ছাড়া কোন জাতিই সফলতার মুখ দেখতে পায় না। শিক্ষা কে বলা হয়েছে জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা ছাড়া সমাজ এবং রাষ্ট্র বিকলাঙ্গ হয়ে পড়ে।
বৃহত্তর গলমুকাপন-জটুকোনা
-ঈশাগ্রাই-হাজীপুর এ বিশাল জনপদের মানুষেরা শিক্ষার প্রয়োজন উপলব্ধি করছিলেন মর্মে মর্মে। এ অঞ্চলে হাতেগুনা দু-চারটা প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়া মাধ্যমিক লেবেলের কোন প্রতিষ্ঠান ছিলনা। তাই সন্তানাদিদের মানুষ করার তাগিদে প্রাইমারী উত্তীর্ণদের পাঠানো হতো বেগমপুর শরৎ সুন্দরী কিংবা বুরুঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ে। রাজপথ পাড়ি দিয়ে দুরের স্কুলে বাচ্চাদের দিয়ে অভিবাভকরা থাকতেন সদা উৎকন্ঠিত। তার উপর বৃষ্টি-বাদল দিনে শিক্ষার্থীদের অসুবিধা হতো চরমে। নির্বাচন এলে জনপ্রতিনিধিরা একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিশ্রুতি দিতেন ঠিকই, তবে নির্বাচন গেলে দিব্যি ভুলে যেতেন। স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই থেকে যেত।
এলাকাবাসির কপাল ভালো, একজন এলেন সে স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে। চেয়ারম্যান মাহমদ আলী। তিনিও জনপ্রতিনিধি, তবে নির্বাচন যাওয়ার পর তিনি তার প্রতিশ্রুতি ভুলে গেলেন না। অনেক চেষ্টা তদবির করে, কারো কাছ থেকে জমি কিনে, কারো স্বেচ্চায় দান এবং স্থানীয়দের স্বেচ্চাশ্রমে স্বপ্নের বাস্তব রূপায়ন শুরু করলেন। দেখতে দেখতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো টিন-তরজার একটি স্কুল। একটি মানুষ গড়ার কারখানা।
২০০৪ সালে বুড়ি নদীর তীরে সম্পুর্ন পাবলিক উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ে পাঠদান শুরু হয়। চেয়ারম্যান মাহমদ আলী সাহেব ও তাঁর ছোটভাই আহমদ আলী সাহেব এমপিওভুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রথম পাঁচ-ছয় বছর শিক্ষকদের বেতন সহ যাবতীয় খরচ বহন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কর্নেল উতাউল গনি ওসমানীর নামে নামকরন হয়—ওসমানীনগর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়।
তৎকালীন সিলেট-২ আসনের এম,পি জনাব ইলিয়াস আলী সাহেব, চেয়ারম্যান মাহমদ আলীর অপরিসীম শিক্ষানুরাগ ও জনহিতৈষী কর্মকান্ড দেখে আপ্লুত হন। স্থানীয় এক জনাকীর্ণ জনসভায় এমপি বলেন- সারা দেশে প্রতিটি জেলায় একটি করে মডেল স্কুল প্রতিষ্ঠার লক্ষে সরকার কর্তৃক গৃহীত প্রকল্প অনুযায়ী সিলেট শহরতলীতে একটি মডেল স্কুল স্থাপনের পরিকল্পনা ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু আপনাদের চেয়ারম্যান ও আমার প্রিয় মাহমদ আলীর অনুরোধে আমি আপনাদেরকে সেই মডেল স্কুল উপহার দিতে চাই। আজ এই সমাবেশ থেকে চেয়ারম্যান মাহমদ আলীর প্রতিষ্ঠিত স্কুল কে আমি ওসমানীনগর মডেল স্কুল হিসেবে ঘোষণা দিলাম। শীঘ্রই আমি এটা কে এমপিওভুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।