নিউরন কোচিং সেন্টার

নিউরন কোচিং সেন্টার

Share

We are coaching from 6 to 12 students.

29/03/2026

মেশিন তৈরির প্রক্রিয়া, সত্যি অবাক করার মতো!!!

07/12/2025

দুনিয়ায় সুস্থ পরিবেশ বহাল করার পর আর সেখানে বিপর্যয় সৃষ্টি করো না। আল্লাহকেই ডাকো ভীতি ও আশা সহকারে।
আল-আরাফ/আয়াত: [৭:৫৬]

14.দুনিয়ায় সুস্থ পরিবেশ বহাল করার পর আর সেখানে বিপর্যয় সৃষ্টি করো না। আল্লাহকেই ডাকো ভীতি ও আশা সহকারে।
আল-আরাফ/আয়াত: [৭:৫৬]

07/12/2025

হজরত মুসা ও খিজির (আ.)-এর ঘটনাঃ
কোরআনুল কারিমের ১৬ পারার শুরুতে আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা (আ.) ও হজরত খিজির (আ.)-এর এক চমৎকার ঘটনা বর্ণনা করেছেন। যা সুরা কাহাফের শেষাংশে বর্ণিত হয়েছে। এ ঘটনা এক বিশেষ জ্ঞানী ব্যক্তিকে নিয়ে, যিনি মুসা (আ.)-এর চেয়েও বেশি জ্ঞানী ছিলেন।

হাদিসে এসেছে, একদিন মুসা (আ.) বনি ইসরাইলের এক সভায় ভাষণ দিচ্ছিলেন। এক ব্যক্তি প্রশ্ন করলেন- মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী কে? মুসা (আ.) বললেন, আমিই সবার চেয়ে বেশি জ্ঞানী। এই উত্তরের কারণ ছিল- মুসা (আ.)-এর জানামতে, আল্লাহ তাআলা তাঁকেই বেশি জ্ঞান দিয়েছেন। কিন্তু মহান আল্লাহ মুসা (আ.)-এর এই উত্তর পছন্দ করলেন না। এখানে বিষয়টি আল্লাহর উপর ছেড়ে দেওয়াই ছিল আদব। অর্থাৎ মুসা (আ.)-এর এ কথা বলা উচিত ছিল যে, আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন, কে অধিক জ্ঞানী।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে মুসা (আ.)-এর কাছে ওহি নাজিল হলো যে, দুই সমুদ্রের সঙ্গমস্থলে অবস্থানকারী আমার এক বান্দা আপনার চেয়ে বেশি জ্ঞানী। এ কথা শুনে মুসা (আ.) তাঁর (খিজির আ.) কাছ থেকে জ্ঞান লাভের প্রার্থনা জানালেন। বললেন, হে আল্লাহ! আমাকে তার ঠিকানা বলে দিন। আল্লাহ তাআলা বললেন, থলের মধ্যে একটি মাছ নিয়ে নিন এবং দুই সমুদ্রের সঙ্গমস্থলের দিকে সফর করুন। যেখানে পৌঁছার পর মাছটি নিরুদ্দেশ হয়ে যাবে, সেখানেই আমার এই বান্দার সাক্ষাৎ পাবেন। মুসা (আ.) নির্দেশমতো থলের মধ্যে একটি মাছ নিয়ে রওনা হয়ে গেলেন। সাথে তাঁর খাদেম ইউশা ইবনে নূনও ছিলেন।

পথিমধ্যে প্রস্তরখণ্ডের উপর মাথা রেখে তাঁরা ঘুমিয়ে পড়লেন। এখানে হঠাৎ মাছটি নড়াচড়া করতে লাগল এবং থলে থেকে বের হয়ে সমুদ্রে চলে গেল। (মাছটি জীবিত হয়ে সমুদ্রে যাওয়ার সময় আরো একটি মুজেজা প্রকাশ পেল যে,) মাছটি সমুদ্রের যে পথ দিয়ে চলে গেল, আল্লাহ তাআলা সে পথে পানির স্রোত বন্ধ করে দিলেন। ফলে সেখানে পানির মধ্যে একটি সুড়ঙ্গের মতো হয়ে গেল। ইউশা ইবনে নূন এই আশ্চর্যজনক ঘটনা দেখছিলেন।

মুসা (আ.) যখন ঘুম থেকে জাগলেন, তখন ইউশা ইবনে নুন আশ্চর্যজনক ঘটনাটি তাঁকে বলতে ভুলে গেলেন এবং সেখান থেকে তাঁরা সামনে রওনা হয়ে গেলেন। পূর্ণ একদিন একরাত সফর করার পর সকাল বেলা মুসা (আ.) খাদেমকে বললেন, আমাদের নাশতা আনো; যথেষ্ট ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। নাশতা চাওয়ার পর ইউশা ইবনে নূনের মাছের ঘটনা মনে পড়ে গেল। তিনি ভুলে যাওয়ার ওজর পেশ করে বললেন, শয়তান আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল।

অতঃপর বললেন, মৃত মাছটি জীবিত হয়ে আশ্চর্যজনকভাবে সমুদ্রে চলে গেছে। তখন মুসা (আ.) বললেন, সে স্থানটিই তো আমাদের লক্ষ্য ছিল। (অৰ্থাৎ মাছের জীবিত হয়ে নিরুদ্দেশ হওয়ার স্থানটিই ছিল গন্তব্যস্থল।) সে মতে তৎক্ষণাৎ তাঁরা ফিরে চললেন এবং স্থানটি পাওয়ার জন্য পূর্বের পথ ধরেই চললেন।

প্রস্তরখণ্ডের নিকট পৌঁছে দেখলেন, এক ব্যক্তি আগাগোড়া চাদরে আবৃত হয়ে শুয়ে আছেন। হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থ বুখারিতে এ ব্যক্তির নাম 'খাদর' বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যার অর্থ হলো 'সবুজ-শ্যামল'। অর্থাৎ তিনি যেখানে বসতেন, সে স্থানই সবুজ শ্যামল হয়ে যেতো। মুসা (আ.) তাঁকে সালাম করেন। খিজির (আ.) বললেন, এই (জনমানবহীন) প্রান্তরে সালাম কোথা থেকে এলো? মুসা (আ.) বললেন, আমি মুসা। খিজির (আ.) প্রশ্ন করলেন, বনী-ইসরাইলের মুসা? তিনি জবাব দিলেন, হ্যাঁ, আমিই বনি-ইসরাইলের মুসা। আমি আপনার কাছ থেকে ওই বিশেষ জ্ঞান অর্জন করতে এসেছি, যা আল্লাহ তাআলা আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন।

অবশেষে তারা (মুসা ও তার সঙ্গী) আমার বান্দাদের মধ্যে একজনের সাক্ষাৎ পেলো (তার নাম খিজির), যাকে আমি আমার পক্ষ থেকে (বিশেষ) অনুগ্রহ করেছি। আর তাকে আমার পক্ষ থেকে বিশেষ জ্ঞান দান করেছি। -সুরা কাহাফ: ৬৫
খিজির (আ.) বললেন, যদি আপনি আমার সাথে থাকতে চান, তবে কোনো বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করবেন না, যে পর্যন্ত আমি নিজে তার প্রকৃত অর্থ বলে না দেই। একথা বলার পর উভয়ে সমুদ্রের তীর ধরে চলতে লাগলেন। ঘটনাক্রমে একটি নৌকা এসে গেলে তারা নৌকায় আরোহণের ব্যাপারে কথাবার্তা বললেন। মাঝিরা খিজিরকে চিনে ফেলল এবং পারিশ্রমিক ছাড়াই তাঁদেরকে নৌকায় তুলে নিলো। নৌকায় চড়েই খিজির কুড়ালের সাহায্যে নৌকার একটি তক্তা তুলে ফেললেন।

এতে মুসা (আ.) (স্থির থাকতে না পেরে) বললেন, তারা কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই আমাদেরকে নৌকায় তুলে নিয়েছে। আপনি কি এরই প্রতিদানে তাদের নৌকা ভেঙে দিলেন যাতে সবাই ডুবে যায়? আপনি অতি মন্দ কাজ করলেন। খিজির (আ.) বললেন, আমি আগেই বলেছিলাম, আপনি ধৈর্য ধরতে পারবেন না। তখন মুসা (আ.) ওজর পেশ করে বললেন, আমি ওয়াদার কথা ভুলে গিয়েছিলাম; আমার প্রতি রুষ্ট হবেন না। রাসুলুল্লাহ (স.) এ ঘটনা বর্ণনা করে বললেন, মুসা (আ.)-এর প্রথম আপত্তি ভুলক্রমে, দ্বিতীয় আপত্তি শর্ত হিসেবে এবং তৃতীয় আপত্তি ইচ্ছাক্রমে হয়েছিল।

অতঃপর তারা উভয়ে চলতে লাগল। পরে যখন তারা নৌকায় আরোহণ করল তখন সে (খিজির আ.) তা বিদীর্ণ করে দিল। সে (মুসা আ.) বলল, আপনি কি আরোহীদের (সাগরে) নিমজ্জিত করার জন্য তা ছিদ্র করে দিলেন? আপনি তো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করেছেন।-সুরা কাহাফ: ৭১
সহিহ বর্ণনা অনুযায়ী, ইতোমধ্যে একটি কালো চড়ুই পাখি এসে নৌকার এক প্রান্তে বসে এবং সাগর থেকে এক চঞ্চু পানি তুলে নিল। সেদিকে ইঙ্গিত করে খিজির (আ.) মুসা (আ.)-এর উদ্দেশে বলেন, ‘আমার-আপনার এবং সমস্ত সৃষ্টিজগতের জ্ঞান মিলিতভাবে আল্লাহর জ্ঞানের মোকাবিলায় সাগরের বুক থেকে পাখির চঞ্চুতে ওঠানো এক ফোঁটা পানির সমতুল্য।’ (সহিহ বুখারি: ৪৭২৭)

অতঃপর তারা নৌকা থেকে নেমে সমুদ্রের তীর ধরে চলতে লাগলেন। হঠাৎ খিজির এক বালককে অন্যান্য বালকের সাথে খেলা করতে দেখলেন। খিজির নিজ হাতে বালকটির মাথা তার দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিলেন। বালকটি মারা গেলো। মুসা (আ.) বললেন, আপনি একটি নিষ্পাপ শিশুকে বিনা অপরাধে হত্যা করেছেন। এ যে বিরাট গুনাহের কাজ করলেন। খিজির বললেন, আমি তো আগেই বলেছিলাম, আপনি ধৈর্য ধরতে পারবেন না। মুসা (আ.) দেখলেন, এ ব্যাপারটি আগের ঘটনার চাইতেও গুরুতর। তাই বললেন, এরপর যদি কোনো প্রশ্ন করি তবে আপনি আমাকে পৃথক করে দেবেন। আমার ওজর-আপত্তি চূড়ান্ত হয়ে গেছে।

অতঃপর তাঁরা আবার চলতে লাগলেন। এক গ্রামের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় তারা গ্রামবাসীদের কাছে খাবার চাইলেন। গ্রামবাসীরা খাবার দিতে অস্বীকার করল। খিজির এই গ্রামের একটি প্রাচীরকে দেখলেন পড়ে যাওয়ার মতো অবস্থায়। তিনি নিজ হাতে প্রাচীরটি সোজা করে দিলেন। মুসা (আ.) বিস্মিত হয়ে বললেন, আমরা তাদের কাছে খাবার চাইলে তারা দিতে অস্বীকার করলো। অথচ আপনি তাদের এত বড় কাজ করে দিলেন; ইচ্ছা করলে এর পারিশ্রমিক তাদের কাছ থেকে আদায় করতে পারতেন। খিজির (আ.) বললেন, هَٰذَا فِرَاقُ بَيْنِي وَبَيْنِكَ অর্থাৎ এখন শর্ত পূর্ণ হয়ে গেছে। এটাই আমার ও আপনার মধ্যে বিচ্ছেদের সময়।

এরপর খিজির (আ.) তিনটি ঘটনার প্রকৃত কারণ মুসা (আ.)-এর কাছে বর্ণনা করে বললেন, ذَٰلِكَ تَأْوِيلُ مَا لَمْ تَسْطِعْ عَلَيْهِ صَبْرًا অর্থাৎ এ হচ্ছে সেসব ঘটনার স্বরূপ; যেগুলো আপনি দেখে ধৈর্য ধরতে পারেননি। পবিত্র কোরআনে এ প্রসঙ্গে এসেছে, ‘সে (খিজির) বলল, এখানেই আমার এবং আপনার মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হলো; যে বিষয়ে আপনি ধৈর্য ধারণ করতে পারেননি অচিরেই আমি সেগুলোর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করছি।’ (সুরা কাহাফ: ৭৮)

রাসুলুল্লাহ (স.) সম্পূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করে বললেন, মুসা (আ.) যদি আরো কিছুক্ষণ ধৈর্য ধরতেন, তবে আরো কিছু জানা যেত ৷ (বুখারি: ১২২, মুসলিম: ২৩৮০)

পবিত্র কোরআনে খিজির (আ.)-এর তিনটি কাজের কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে—

নৌকা ছিদ্র করে দেওয়ার কারণ
‘নৌকাটির ব্যাপারে, সেটি ছিল কয়েকজন দরিদ্র ব্যক্তির। তারা সমুদ্রে জীবিকা অন্বেষণ করত। আমি ইচ্ছা করলাম যে, সেটিকে ত্রুটিযুক্ত (নষ্ট) করে দেই। (কেননা) তাদের অপরদিকে ছিল এক বাদশাহ। সে বলপ্রয়োগে প্রত্যেকটি (ভালো) নৌকা ছিনিয়ে নিত।’ (সুরা কাহাফ: ৭৯)

ছোট বাচ্চাকে মেরে ফেলার কারণ
আর কিশোরটি, তার পিতামাতা ছিল মুমিন। অতঃপর আমরা আশঙ্কা করলাম যে, সে সীমালঙ্ঘন ও কুফরির মাধ্যমে তাদেরকে অতিষ্ঠ করে তুলবে। তাই আমরা চাইলাম যে, তাদের রব যেন তাদেরকে তার পরিবর্তে এক সন্তান দান করেন, যে হবে পবিত্রতায় উত্তম ও দয়া-মায়ায় ঘনিষ্ঠতর। (সুরা কাহাফ: ৮০-৮১)

প্রাচীর সোজা করে দেয়া কারণ
প্রাচীরের ব্যাপার, সেটি ছিল নগরের দুজন পিতৃহীন বালকের। এর নিচে ছিল তাদের (বাবার রেখে যাওয়া) গুপ্তধন এবং তাদের পিতা ছিল সৎকর্মপরায়ণ। সুতরাং আপনার পালনকর্তা দয়াপরবশ ইচ্ছা করলেন যে, তারা যৌবনে পদার্পণ করুক এবং নিজেদের গুপ্তধন উদ্ধার করুক। আমি নিজ মতে এটা করিনি। আপনি যে বিষয়ে ধৈর্যধারণ করতে অক্ষম হয়েছিলেন, এই হল তার ব্যাখ্যা।’ (সুরা কাহাফ: ৮২)

17.হজরত মুসা ও খিজির (আ.)-এর ঘটনাঃ
কোরআনুল কারিমের ১৬ পারার শুরুতে আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা (আ.) ও হজরত খিজির (আ.)-এর এক চমৎকার ঘটনা বর্ণনা করেছেন। যা সুরা কাহাফের শেষাংশে বর্ণিত হয়েছে। এ ঘটনা এক বিশেষ জ্ঞানী ব্যক্তিকে নিয়ে, যিনি মুসা (আ.)-এর চেয়েও বেশি জ্ঞানী ছিলেন।

হাদিসে এসেছে, একদিন মুসা (আ.) বনি ইসরাইলের এক সভায় ভাষণ দিচ্ছিলেন। এক ব্যক্তি প্রশ্ন করলেন- মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী কে? মুসা (আ.) বললেন, আমিই সবার চেয়ে বেশি জ্ঞানী। এই উত্তরের কারণ ছিল- মুসা (আ.)-এর জানামতে, আল্লাহ তাআলা তাঁকেই বেশি জ্ঞান দিয়েছেন। কিন্তু মহান আল্লাহ মুসা (আ.)-এর এই উত্তর পছন্দ করলেন না। এখানে বিষয়টি আল্লাহর উপর ছেড়ে দেওয়াই ছিল আদব। অর্থাৎ মুসা (আ.)-এর এ কথা বলা উচিত ছিল যে, আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন, কে অধিক জ্ঞানী।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে মুসা (আ.)-এর কাছে ওহি নাজিল হলো যে, দুই সমুদ্রের সঙ্গমস্থলে অবস্থানকারী আমার এক বান্দা আপনার চেয়ে বেশি জ্ঞানী। এ কথা শুনে মুসা (আ.) তাঁর (খিজির আ.) কাছ থেকে জ্ঞান লাভের প্রার্থনা জানালেন। বললেন, হে আল্লাহ! আমাকে তার ঠিকানা বলে দিন। আল্লাহ তাআলা বললেন, থলের মধ্যে একটি মাছ নিয়ে নিন এবং দুই সমুদ্রের সঙ্গমস্থলের দিকে সফর করুন। যেখানে পৌঁছার পর মাছটি নিরুদ্দেশ হয়ে যাবে, সেখানেই আমার এই বান্দার সাক্ষাৎ পাবেন। মুসা (আ.) নির্দেশমতো থলের মধ্যে একটি মাছ নিয়ে রওনা হয়ে গেলেন। সাথে তাঁর খাদেম ইউশা ইবনে নূনও ছিলেন।

পথিমধ্যে প্রস্তরখণ্ডের উপর মাথা রেখে তাঁরা ঘুমিয়ে পড়লেন। এখানে হঠাৎ মাছটি নড়াচড়া করতে লাগল এবং থলে থেকে বের হয়ে সমুদ্রে চলে গেল। (মাছটি জীবিত হয়ে সমুদ্রে যাওয়ার সময় আরো একটি মুজেজা প্রকাশ পেল যে,) মাছটি সমুদ্রের যে পথ দিয়ে চলে গেল, আল্লাহ তাআলা সে পথে পানির স্রোত বন্ধ করে দিলেন। ফলে সেখানে পানির মধ্যে একটি সুড়ঙ্গের মতো হয়ে গেল। ইউশা ইবনে নূন এই আশ্চর্যজনক ঘটনা দেখছিলেন।

মুসা (আ.) যখন ঘুম থেকে জাগলেন, তখন ইউশা ইবনে নুন আশ্চর্যজনক ঘটনাটি তাঁকে বলতে ভুলে গেলেন এবং সেখান থেকে তাঁরা সামনে রওনা হয়ে গেলেন। পূর্ণ একদিন একরাত সফর করার পর সকাল বেলা মুসা (আ.) খাদেমকে বললেন, আমাদের নাশতা আনো; যথেষ্ট ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। নাশতা চাওয়ার পর ইউশা ইবনে নূনের মাছের ঘটনা মনে পড়ে গেল। তিনি ভুলে যাওয়ার ওজর পেশ করে বললেন, শয়তান আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল।

অতঃপর বললেন, মৃত মাছটি জীবিত হয়ে আশ্চর্যজনকভাবে সমুদ্রে চলে গেছে। তখন মুসা (আ.) বললেন, সে স্থানটিই তো আমাদের লক্ষ্য ছিল। (অৰ্থাৎ মাছের জীবিত হয়ে নিরুদ্দেশ হওয়ার স্থানটিই ছিল গন্তব্যস্থল।) সে মতে তৎক্ষণাৎ তাঁরা ফিরে চললেন এবং স্থানটি পাওয়ার জন্য পূর্বের পথ ধরেই চললেন।

প্রস্তরখণ্ডের নিকট পৌঁছে দেখলেন, এক ব্যক্তি আগাগোড়া চাদরে আবৃত হয়ে শুয়ে আছেন। হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থ বুখারিতে এ ব্যক্তির নাম 'খাদর' বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যার অর্থ হলো 'সবুজ-শ্যামল'। অর্থাৎ তিনি যেখানে বসতেন, সে স্থানই সবুজ শ্যামল হয়ে যেতো। মুসা (আ.) তাঁকে সালাম করেন। খিজির (আ.) বললেন, এই (জনমানবহীন) প্রান্তরে সালাম কোথা থেকে এলো? মুসা (আ.) বললেন, আমি মুসা। খিজির (আ.) প্রশ্ন করলেন, বনী-ইসরাইলের মুসা? তিনি জবাব দিলেন, হ্যাঁ, আমিই বনি-ইসরাইলের মুসা। আমি আপনার কাছ থেকে ওই বিশেষ জ্ঞান অর্জন করতে এসেছি, যা আল্লাহ তাআলা আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন।

অবশেষে তারা (মুসা ও তার সঙ্গী) আমার বান্দাদের মধ্যে একজনের সাক্ষাৎ পেলো (তার নাম খিজির), যাকে আমি আমার পক্ষ থেকে (বিশেষ) অনুগ্রহ করেছি। আর তাকে আমার পক্ষ থেকে বিশেষ জ্ঞান দান করেছি। -সুরা কাহাফ: ৬৫
খিজির (আ.) বললেন, যদি আপনি আমার সাথে থাকতে চান, তবে কোনো বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করবেন না, যে পর্যন্ত আমি নিজে তার প্রকৃত অর্থ বলে না দেই। একথা বলার পর উভয়ে সমুদ্রের তীর ধরে চলতে লাগলেন। ঘটনাক্রমে একটি নৌকা এসে গেলে তারা নৌকায় আরোহণের ব্যাপারে কথাবার্তা বললেন। মাঝিরা খিজিরকে চিনে ফেলল এবং পারিশ্রমিক ছাড়াই তাঁদেরকে নৌকায় তুলে নিলো। নৌকায় চড়েই খিজির কুড়ালের সাহায্যে নৌকার একটি তক্তা তুলে ফেললেন।

এতে মুসা (আ.) (স্থির থাকতে না পেরে) বললেন, তারা কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই আমাদেরকে নৌকায় তুলে নিয়েছে। আপনি কি এরই প্রতিদানে তাদের নৌকা ভেঙে দিলেন যাতে সবাই ডুবে যায়? আপনি অতি মন্দ কাজ করলেন। খিজির (আ.) বললেন, আমি আগেই বলেছিলাম, আপনি ধৈর্য ধরতে পারবেন না। তখন মুসা (আ.) ওজর পেশ করে বললেন, আমি ওয়াদার কথা ভুলে গিয়েছিলাম; আমার প্রতি রুষ্ট হবেন না। রাসুলুল্লাহ (স.) এ ঘটনা বর্ণনা করে বললেন, মুসা (আ.)-এর প্রথম আপত্তি ভুলক্রমে, দ্বিতীয় আপত্তি শর্ত হিসেবে এবং তৃতীয় আপত্তি ইচ্ছাক্রমে হয়েছিল।

অতঃপর তারা উভয়ে চলতে লাগল। পরে যখন তারা নৌকায় আরোহণ করল তখন সে (খিজির আ.) তা বিদীর্ণ করে দিল। সে (মুসা আ.) বলল, আপনি কি আরোহীদের (সাগরে) নিমজ্জিত করার জন্য তা ছিদ্র করে দিলেন? আপনি তো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করেছেন।-সুরা কাহাফ: ৭১
সহিহ বর্ণনা অনুযায়ী, ইতোমধ্যে একটি কালো চড়ুই পাখি এসে নৌকার এক প্রান্তে বসে এবং সাগর থেকে এক চঞ্চু পানি তুলে নিল। সেদিকে ইঙ্গিত করে খিজির (আ.) মুসা (আ.)-এর উদ্দেশে বলেন, ‘আমার-আপনার এবং সমস্ত সৃষ্টিজগতের জ্ঞান মিলিতভাবে আল্লাহর জ্ঞানের মোকাবিলায় সাগরের বুক থেকে পাখির চঞ্চুতে ওঠানো এক ফোঁটা পানির সমতুল্য।’ (সহিহ বুখারি: ৪৭২৭)

অতঃপর তারা নৌকা থেকে নেমে সমুদ্রের তীর ধরে চলতে লাগলেন। হঠাৎ খিজির এক বালককে অন্যান্য বালকের সাথে খেলা করতে দেখলেন। খিজির নিজ হাতে বালকটির মাথা তার দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিলেন। বালকটি মারা গেলো। মুসা (আ.) বললেন, আপনি একটি নিষ্পাপ শিশুকে বিনা অপরাধে হত্যা করেছেন। এ যে বিরাট গুনাহের কাজ করলেন। খিজির বললেন, আমি তো আগেই বলেছিলাম, আপনি ধৈর্য ধরতে পারবেন না। মুসা (আ.) দেখলেন, এ ব্যাপারটি আগের ঘটনার চাইতেও গুরুতর। তাই বললেন, এরপর যদি কোনো প্রশ্ন করি তবে আপনি আমাকে পৃথক করে দেবেন। আমার ওজর-আপত্তি চূড়ান্ত হয়ে গেছে।

অতঃপর তাঁরা আবার চলতে লাগলেন। এক গ্রামের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় তারা গ্রামবাসীদের কাছে খাবার চাইলেন। গ্রামবাসীরা খাবার দিতে অস্বীকার করল। খিজির এই গ্রামের একটি প্রাচীরকে দেখলেন পড়ে যাওয়ার মতো অবস্থায়। তিনি নিজ হাতে প্রাচীরটি সোজা করে দিলেন। মুসা (আ.) বিস্মিত হয়ে বললেন, আমরা তাদের কাছে খাবার চাইলে তারা দিতে অস্বীকার করলো। অথচ আপনি তাদের এত বড় কাজ করে দিলেন; ইচ্ছা করলে এর পারিশ্রমিক তাদের কাছ থেকে আদায় করতে পারতেন। খিজির (আ.) বললেন, هَٰذَا فِرَاقُ بَيْنِي وَبَيْنِكَ অর্থাৎ এখন শর্ত পূর্ণ হয়ে গেছে। এটাই আমার ও আপনার মধ্যে বিচ্ছেদের সময়।

এরপর খিজির (আ.) তিনটি ঘটনার প্রকৃত কারণ মুসা (আ.)-এর কাছে বর্ণনা করে বললেন, ذَٰلِكَ تَأْوِيلُ مَا لَمْ تَسْطِعْ عَلَيْهِ صَبْرًا অর্থাৎ এ হচ্ছে সেসব ঘটনার স্বরূপ; যেগুলো আপনি দেখে ধৈর্য ধরতে পারেননি। পবিত্র কোরআনে এ প্রসঙ্গে এসেছে, ‘সে (খিজির) বলল, এখানেই আমার এবং আপনার মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হলো; যে বিষয়ে আপনি ধৈর্য ধারণ করতে পারেননি অচিরেই আমি সেগুলোর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করছি।’ (সুরা কাহাফ: ৭৮)

রাসুলুল্লাহ (স.) সম্পূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করে বললেন, মুসা (আ.) যদি আরো কিছুক্ষণ ধৈর্য ধরতেন, তবে আরো কিছু জানা যেত ৷ (বুখারি: ১২২, মুসলিম: ২৩৮০)

পবিত্র কোরআনে খিজির (আ.)-এর তিনটি কাজের কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে—

নৌকা ছিদ্র করে দেওয়ার কারণ
‘নৌকাটির ব্যাপারে, সেটি ছিল কয়েকজন দরিদ্র ব্যক্তির। তারা সমুদ্রে জীবিকা অন্বেষণ করত। আমি ইচ্ছা করলাম যে, সেটিকে ত্রুটিযুক্ত (নষ্ট) করে দেই। (কেননা) তাদের অপরদিকে ছিল এক বাদশাহ। সে বলপ্রয়োগে প্রত্যেকটি (ভালো) নৌকা ছিনিয়ে নিত।’ (সুরা কাহাফ: ৭৯)

ছোট বাচ্চাকে মেরে ফেলার কারণ
আর কিশোরটি, তার পিতামাতা ছিল মুমিন। অতঃপর আমরা আশঙ্কা করলাম যে, সে সীমালঙ্ঘন ও কুফরির মাধ্যমে তাদেরকে অতিষ্ঠ করে তুলবে। তাই আমরা চাইলাম যে, তাদের রব যেন তাদেরকে তার পরিবর্তে এক সন্তান দান করেন, যে হবে পবিত্রতায় উত্তম ও দয়া-মায়ায় ঘনিষ্ঠতর। (সুরা কাহাফ: ৮০-৮১)

প্রাচীর সোজা করে দেয়া কারণ
প্রাচীরের ব্যাপার, সেটি ছিল নগরের দুজন পিতৃহীন বালকের। এর নিচে ছিল তাদের (বাবার রেখে যাওয়া) গুপ্তধন এবং তাদের পিতা ছিল সৎকর্মপরায়ণ। সুতরাং আপনার পালনকর্তা দয়াপরবশ ইচ্ছা করলেন যে, তারা যৌবনে পদার্পণ করুক এবং নিজেদের গুপ্তধন উদ্ধার করুক। আমি নিজ মতে এটা করিনি। আপনি যে বিষয়ে ধৈর্যধারণ করতে অক্ষম হয়েছিলেন, এই হল তার ব্যাখ্যা।’ (সুরা কাহাফ: ৮২)

07/12/2025

21.
🌿 গল্প: রাসূল ﷺ ও বৃদ্ধা মহিলা🌿

একদিন মক্কার এক রাস্তায় একজন বৃদ্ধা মহিলা ভারী বোঝা নিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন।
তার হাত কাঁপছে, পিঠে ভার, মুখে ক্লান্তির ছাপ। তিনি একা, সাহায্য করার কেউ নেই। ঠিক সেই সময় রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ। তিনি সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে গেলেন এবং অত্যন্ত নম্রভাবে বললেন- “আপনি চাইলে আমি আপনার এই বোঝা বহন করে দিতে পারি।”

বৃদ্ধা মহিলা রাজি হলেন। রাসূল ﷺ তার বোঝা নিজের কাঁধে তুলে নিলেন — যদিও তিনি তখন দাওয়াতের কাজে ব্যস্ত ছিলেন, তবুও কারও কষ্ট দেখলে চুপ থাকতে পারতেন না।

পথে যেতে যেতে বৃদ্ধা মহিলা বললেন:
“তুমি খুব ভালো মানুষ। কিন্তু একটা কথা বলি, মক্কায় একজন মানুষ এসেছে, নাম মুহাম্মদ — সে নাকি নতুন ধর্মের কথা বলে, মানুষকে পুরানো দেব-দেবী ছেড়ে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে ডাকছে।
তুমি কিন্তু ওর কাছ থেকে সাবধান থাকবে! সে নাকি যাদুকর, মিথ্যাবাদী!”
মহিলা বুঝতেই পারলেন না— যার সম্পর্কে কথা বলছেন, তার সামনেই সেই মুহাম্মদ ﷺ আছেন! কিন্তু রাসূল ﷺ কোনো রাগ, তর্ক বা বিতর্ক করলেন না। তিনি নীরবে হাসিমুখে তাঁর বোঝা বহন করলেন — বৃদ্ধার প্রতি সম্মান ও মমতা রেখে। বৃদ্ধার বাড়িতে পৌঁছে নবীজি ﷺ বোঝা নামিয়ে দিলেন।
বৃদ্ধা কৃতজ্ঞ হয়ে বললেন:“বাবা, তুমি সত্যিই খুব ভালো মানুষ। তোমার নামটা বলবে?”
রাসূলুল্লাহ ﷺ কোমল স্বরে বললেন-“আমি-ই সেই মুহাম্মদ, যার সম্পর্কে আপনি কিছুক্ষণ আগে বলছিলেন।” বৃদ্ধা হতভম্ব হয়ে গেলেন! তিনি লজ্জিত ও অবাক হয়ে বললেন- “তুমি এত নম্র, এত বিনয়ী, এত সাহায্যকারী, অথচ আমি তোমার সম্পর্কে কত বাজে কথা বলেছি!
কেউ যদি এমন গুণের অধিকারী হয়, তবে সে কখনো মিথ্যাবাদী হতে পারে না।” সেই মুহূর্তেই মহিলা বললেন, "তাহলে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি— আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আর আপনি আল্লাহর রাসূল।”
🌿 (لا إله إلا الله محمد رسول الله)

🌙 গল্পের শিক্ষা 🌙
--------------------------
1. 🙏 ভালো আচরণ ও চরিত্র মানুষকে ইসলামের দিকে টানে — তর্ক নয়, ব্যবহারেই হৃদয় জিতে নেওয়া যায়।

2. 🕌 নবীজি ﷺ সবসময় নম্র, ধৈর্যশীল ও সহানুভূতিশীল ছিলেন— এমনকি যারা তাকে কষ্ট দিত, তাদের প্রতিও।

3. 💖 ইসলাম ছড়িয়ে দেওয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সুন্দর চরিত্র।

07/12/2025

23.হযরত সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রাঃ) উনার হিকমত এবং ঈমানদীপ্ত অভিযানঃ

আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আযম আলাইহিস সালাম [হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা)] উনার সম্মানিত খিলাফতকালে পারস্য বিজয়ের জন্য যে অভিযান পরিচালিত হয়, তার সেনাপতি এবং দায়িত্বশীল হিসেবে মনোনীত হন দ্বীন ইসলাম উনার বীর সিপাহসালার হযরত সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রাঃ)

সে সময় পারস্যের শাসক ছিলো ইয়াজদ গের্দ এবং তার প্রধান সেনাপতি ছিল👉 রুস্তম । হযরত সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মুসলিম সেনাবাহিনী নিয়ে রওয়ানা হলেন এবং কাদেসিয়া নামক স্থানে অবস্থান নিলেন। সেখান থেকে তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আযম আলাইহিস সালাম উনার দিক নির্দেশনা মুতাবিক পারস্য শাসক এবং তার সেনাপতি 👉রুস্তমের কাছে (সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার) দাওয়াত নিয়ে একটি প্রতিনিধি দলকে পাঠালেন।

পারসের শাসক পূর্ব থেকে নিজের প্রভাব প্রতিপত্তি এবং শক্তিমত্তার দ্বারা প্রতিনিধি দলকে প্রভাবান্বিত করতে চাইলো। এমনকি অনেক ধন-সম্পদের লোভ দেখিয়ে বললো- আপনারা এসব নিয়ে স্বদেশে চলে যান। মুসলিম প্রতিনিধি দল তার প্রস্তাব প্রত্যাখান করে বললেন- আপনি ইসলাম গ্রহণ করুন অথবা জিজিয়া মেনে নিন, নতুবা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করুন। পারস্যের শাসক এমন দ্যর্থহীন প্রস্তাব শুনে রেগে গিয়ে বললো, আমি আপনাদের কোন শর্তই মানি না, আমার সেনাপতি 👉রুস্তম আপনাদের সকলকে 💥কাদেসিয়ার রণাঙ্গনে পরাজিত করবে। নাউযুবিল্লাহ!

হযরত সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বিস্তারিত অবগত হয়ে মুসলিম বাহিনীকে জিহাদের জন্য প্রস্তুত হতে বললেন এবং সবার মাঝে জজবাপূর্ণ ঈমানদীপ্ত ভাষণ দিলেন।🔥 উনার ঈমানদীপ্ত বক্তৃতায় মুসলিম বাহিনীর ঈমানদীপ্ত জজবা বিশাল আকার ধারণ করলো।🔥 আল্লাহু আকবার✊ তাকবীর মুবারকে মুসলিম বাহিনী বীরদর্পে পারস্য বাহিনীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন। পারস্য বাহিনী এত অধিক হাতীর পাল নিয়ে এসেছে যাতে করে প্রথম দিন মুসলিম বাহিনীর যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা থেকে বিরত থাকলেন। পরদিন হযরত সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নির্দেশনা মুতাবিক মুসলিম বাহিনী বিশেষ হিকমত অবলম্বন করলেন। মুসলিম বাহিনীর উটগুলোকে কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে ফেলা হলো। এতে করে উটগুলো হাতীর চেয়ে বিশাল বড় আজব ভয়ঙ্কর আকৃতিতে রূপান্তর হলো। পারস্য বাহিনীর সমুদয় ঘোড়াগুলো মুসলিম বাহিনীর মাঝে এমন আজব প্রাণী দেখে প্রাণভয়ে দিকবিদিক পালাতে থাকে।

তৃতীয় দিন হস্তীবাহিনী নিয়ে পারস্য বাহিনী ফের অগ্রসর হয়। এদিন হযরত সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ঘোষণা করে দিলেন, ‘যে করেই হোক এই হস্তিবাহিনীকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে হবে। তাহলেই বিজয়ের পতাকা আমাদের হাতে এসে পৌঁছবে।’ তিনি বিশিষ্ট তিন বীর মুজাহিদকে এ কাজের জন্য বিশেষভাবে নিযুক্ত করলেন। যুদ্ধের একপর্যায়ে উনাদেরই একজন বীর বিক্রমে সম্মুখে অগ্রসর হয়ে শ্বেতবর্ণের একটি হাতীর শুঁড়ের উপর এমনভাবে তরবারীর আঘাত হানলেন যাতে হাতীটির শুঁড় ছিন্ন হয়ে গেল। বিকট আর্তনাদ করে হাতিটি পলায়ন করলো। তার দেখাদেখি বাকি সব হাতিগুলো একযোগে পালিয়ে গেল। এতে মুসলিম মুজাহিদ বাহিনীর শক্তি সাহস নব উদ্যেমে জেগে উঠলো। মুজাহিদ উনাদের তাকবীর ধ্বনিতে 💥কাদেসিয়ার রণপ্রান্তর কেঁপে উঠলো।

পারস্য সেনাপতি 👉রুস্তম রনাঙ্গনের পরিস্থিতি বুঝতে পেরে রণক্ষেত্র থেকে পলায়ন করতে লাগলো। এ সময় সে একটি পরীখা তথা খালের মধ্যে লাফিয়ে পড়লো, যাতে সাতরিয়ে পালাতে পারে। কিন্তু একজন বীর মুজাহিদ লাফিয়ে পড়ে 👉রুস্তমের পা ধরে টানতে টানতে উঠিয়ে নিলেন এবং তরবারীর প্রচণ্ড আঘাতে তাকে জাহান্নামে পাঠিয়ে দিলেন। 👉রুস্তমের মৃত্যুর সাথে সাথে পারস্য বাহিনী পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে পালাতে শুরু করলো। অবশেষে 💥কাদেসিয়ার ময়দানে পারস্য শাসকের অহংকার, বাহাদুরী শ্রেষ্ঠত্বের কবর রচিত হলো। মুসলিম বাহিনী বরাবরের মতো এবারো সুদূরপ্রসারী ইতিহাসখ্যাত বিজয় অর্জন করলেন। (সুবহানাল্লাহ)

Photos from Mutalib Hussan Sultan 's post 07/12/2025

24.ইসলামের ইতিহাসে এক বীর সেনাপতি 🔥হযরত উকবা (রাঃ) এবং যার নির্দেশে আফ্রিকার অরণ্যের সকল হিংস্র জীব-জন্তু সরে যায়ঃ

يَا رَبِّ، لَوْلَا هَذَا الْبَحْرُ لَمَشَيْتُ فِي الْبِلَادِ مُجَاهِدًا فِي سَبِيلِكَ

উচ্চারণ: ইয়া রাব্বি, লাওলা হাজা আল-বাহরু লামাশাইতু ফিল-বিলাদ মুজাহিদান ফি সাবিলিকা।

অর্থাৎ হে রব, আমার সামনে যদি সাগর না থাকতো তাহলে আমি তোমার পথে তাওহীদের দাওয়াত পৌঁছানোর জন্য যুদ্ধ করতে করতে বিজয়ী বেশে এই দেশের প্রান্ত সীমায় উপনীত হয়ে যেতাম।

ইসলামের বীর মোজাহেদ আফ্রিকা বিজেতা 🔥হজরত উকবা ইবনে নাফে (রা.)-এর এই অনুতাপ ইসলামী ইতিহাসের বিখ্যাত বিজয়বার্তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। আটলান্টিক মহাসাগর প্রতিবন্ধক না হলে 🔥সেনাপতি উকবা (রাঃ) সমগ্র আফ্রিকা মহাদেশ মুসলিম দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতেন। তিনি গোটা মরক্কো জয় করে সাগর তীরের বার্লিয়ান নামক স্থানে পৌঁছে অত্যন্ত অনুতাপের সাথে কথাগুলো বলেছিলেন।
🔥হজরত উকবা ইবনে নাফে ফেহরী (রা.) ছিলেন একজন কোরেশ বংশীয় তাবেঈ। কেউ কেউ তাকে সাহাবী বলেছেন। তিনি হিজরী ৫২ সালে হজরত আমীর মোআ’বিয়া (রা.) কর্তৃক আফ্রিকার গভর্ণর নিযুক্ত হন। আফ্রিকা জয় করার জন্য তাকে দশ হাজার সৈন্যসহ প্রেরণ করা হয়। 🔥হজরত উকবা ইবনে নাফে (রা.) দ্রুত 💥ত্রিপলির মধ্যভাগের দিকে অগ্রসর হন এবং বর্বর জাতিগুলোর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। বিরোধী শক্তিগুলো কিছুক্ষণ বীরত্বের সাথে লড়লেও অবশেষে পরাজয় বরণ করে। তাদের নিয়ম ছিল পরাজিত হবার সাথে সাথে বিজয়ী শক্তির কাছে আনুগত্য স্বীকার করে নিতো, এমনকি ইসলামও গ্রহণ করতো। মুসলিম বাহিনী প্রস্থান করা মাত্র তারা আবার বিদ্রোহ করতো এবং মোরতাদ হয়ে যেত। এ কারণে হজরত উকবা (রাঃ) সে এলাকায় স্থায়ীভাবে ইসলামী লস্করের অবস্থানের ব্যবস্থা করেন এবং একটি নতুন শহর গড়ে তোলেন এবং 💥কায়রো শহরেরও ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।
স্থানটি ছিল গহীন জঙ্গলে পরিপূর্ণ সর্বপ্রকারের ক্ষতিকর, বিষাক্ত, হিংস্র জীবজন্তু এবং কীট-পতঙ্গে ভরা। জীবিত হিংস্র সিংহ-বাঘ ইত্যাদি চতুষ্পদ এবং সাপ-অজগর বিচ্চুর বিচরণ ক্ষেত্র এ ভয়ানক ভীতিকর স্থানে মানুষের চলাচল ছিল না, প্রাণের ভয়ে তারা সেখান থেকে দূরে অবস্থান করতো। হজরত উকবা (রা.) ছিলেন অত্যন্ত খোদাপ্রেমিক সাধক ব্যক্তিত্ব এবং বিখ্যাত মোস্তাজাবুত দাওয়াত, তিনি দো’আ করলে তা কবুল হতো। এ ভীতিকর স্থানে তিনি এসব হিংস্র জীবজন্তু, কীট-পতঙ্গ দূর করে দেয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে দো’আ করলেন এবং একটি উঁচু পাহাড়ের উপর দাড়িয়ে তেজোদীপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করলেন-

"أيُّها الحياضُ والصِّبَا! إنّا أصحابُ رسولِ الله ﷺ. ارحلوا الآنَ، فإنّا نازلون. ومن وجدناه بعد ذلك قتلْناه."

উচ্চারণঃ "আইয়্যুহাল হিয়াদা ওয়াস-সিবা! ইন্না আস্হাবু রাসূলুলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। ইরহালু আত্তা, ফা ইন্না নাজেলুন। ওয়া মান ওয়াজ নাহু বা’দা জালিকা কাতাল্লাহু."

অর্থাৎ এই অরণ্যে বিচ্ছিন্নভাবে বিচরণকারী, হে হিংস্র জন্তুকূল, আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) এর সাহাবি , তোমরা আমাদের কাছ থেকে দূরে চলে যাও। আমরা এখানে অবতরণ করবো। এ ঘোষণার পর যাকে এখানে আমরা পাবো তাকে হত্যা করবো।

হজরত উকবা (রা.)-এর মর্মস্পর্শী ঘোষণা বিদ্যুৎ গতিতে সমগ্র জঙ্গলে ছড়িয়ে পড়ে এবং সকল চতুষ্পদ জীব-জন্তু, কীট-পতঙ্গ, সাপ-অজগর প্রভৃতি তাদের বাচ্চা-ছা পোনা সকলকে নিজ নিজ কাঁধে উঠিয়ে প্রস্থান করতে থাকে এবং অবস্থান কেন্দ্রগুলো খালি করতে থাকে এবং সাপ-বিচ্চুসহ সকল বিষাক্ত জীব-কীট-পতঙ্গ মুহুর্তের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যায়। এ এক অদ্ভুত অভাবনীয় দৃশ্য।

সেনাপতি হজরত উকবা (রা.)-এর দো’আ এইভাবে কবুল হতে দেখে সকলেই বিস্মিত। এ অপূর্ব দৃশ্য অবলোকন করে অধিকাংশ বর্বর জাতি স্বেচ্ছা প্রণোদিত হয়ে সাগ্রহে ইসলাম গ্রহণ করে। তারাও বলতে থাকে-

আল-ইসলামু হাক্কুন, ওয়াল কোফরু বাতিলুন- ইসলমাই সত্য ধর্ম এবং কোফর বাতিল (অসত্য)।

আর এ বর্বরগণও এ অরণ্য কাটতে, পরিষ্কার করতে এবং শহর নির্মাণে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। পরিণতিতে জামে মসজিদ ও হাজার হাজার বসতবাড়ী নির্মিত হয়ে যায়। শহর নির্মাণকালেও হজরত উকবা (রা.) এখানে সেখানে তাঁর বাহিনী প্রেরণ করতে থাকেন এবং শত্রুদের শক্তি চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে থাকেন।
💥কায়রোওয়ান শহর নির্মিত হয়ে যাওয়ার ফলে আফ্রিকায় মুসলমানদের স্থায়ী সেনানিবাস স্থাপিত হয়ে যায়। আফ্রিকার ভয়ঙ্কর অরণ্যের হিংস্র জীব-জন্তু ও অধিবাসীরা 🔥হজরত উকবা (রা.) ঈমানী শক্তির ডাকে সাড়া দিয়ে জঙ্গল খালি করে সেখান থেকে চলে যাওয়ার ঘটনা আফ্রিকার ইতিহাসে অবিস্মরণীয় ও বিস্ময়কর বটে।
🔥হজরত উকবা (রা.) এর পরবর্তী বিজয় অভিযানের পূর্বে হিজরী ৬২ সালে তিনি তাঁর আওলাদ-সন্তানদের সমবেত করে উপদেশ প্রদান করেন এবং বলেন, আমি নিজের প্রাণ আল্লাহর রাস্তায় উৎসর্গ করে দিয়েছি। আমি তাওহীদ অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো এবং এ পথে আমার প্রাণ দেব। অতঃপর 💥কায়রোওয়ান শহরের নিরাপত্তা বিধানকল্পে ✌জোহাইর ইবনে কাইস আল বালভীকে একটি বাহিনীসহ রেখে যাত্রা করেন, সঙ্গে ছিল আরব মোজাহেদীনের একটি ফেদায়ীন দল। এবার তাঁরা সাগরের পশ্চিম দিকে তিনি 💥বাগানা শহরে 👉রোমানদের এক বিশাল বাহিনীর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হন, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে তারা পালাতে শুরু করে। হযরত উকবা (রা.) তাদেরকে ধাওয়া করেন এবং পলায়নকালে হাজার হাজার রোমান সৈন্যকে হত্যা করা হয়। এ পরাজয়ের পর রোমানরা 💥‘আরবা’ নামক শহরে অবস্থান গ্রহণ করে। তারা যখন দেখলো যে, খ্রিস্টানরা আবাদী মুসলমানদের মোকাবিলায় টিকে থাকতে পারবে না তখন তারা বর্বরদেরকে তাদের সঙ্গে মিলিয়ে নেয়। ওরা খ্রিস্টান ছিল না। এভাবে এক বিশাল বাহিনী গড়ে উঠে। এবার তারা মাত্র কয়েক হাজার মুসলমানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুসলমানদের নিশ্চিত পরাজয় অনুভব করেও হযরত উকবা (রা.) বিন্দুমাত্র বিচলিত হলেন না, কয়েক দিনের যুদ্ধের পর উকবা (রাঃ) বাহিনী বীর বিক্রমে যুদ্ধ শুরু করে এবং শত্রপক্ষকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে, তাদের হাজার হাজার সৈন্য হতাহত হয়। মুসলমানগণ বিপুল পরিমাণে ‘গণিমত’ লাভ করেন এবং তারা 💥‘তাঞ্জা’ শহর অধিকার করে সেখানেই অবস্থান করেন, সেখানে 👉রোমান গভর্নর আত্মসমর্পণ করেন।
এ বিজয় অভিযানের পর হযরত উকবা (রা.) সেখানে অত্যন্ত সদাচরণ প্রদর্শন করেন এবং 💥‘তাঞ্জা’র কোনো প্রকারের ক্ষতি সাধন হতে বিরত থাকেন। হজরত উকবা (রা.) এর
ইচ্ছা ছিল, ইউরোপে কোরআন ও তাওহীদের বাণী প্রচার করা। তাই তিনি আত্মসমর্পণকারী 👉রোমান গভর্নরকে স্পেনের অবস্থা জিজ্ঞাসা করেন। উক্ত গভর্নর বুঝতে পেরেছিলেন যে, স্পেন ইসলামী সয়লাব রোধ করতে সক্ষম হবে না, দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপের পক্ষেও তা সম্ভব নয়।
হজরত উকবা (রাঃ) এর দৃষ্টি স্পেনের দিক থেকে হটানোর জন্য উক্ত গভর্নর এই কৌশল অবলম্বন করেন যে, 💥আল-জাজায়ের ও 💥মরক্কোর বর্বর রাষ্ট্র অধিকার করার জন্য উকবাকে উৎসাহিত করেন এবং বলেন যে, সেখানকার অধিবাসীরা কাফের এখনো তারা খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেনি। এ প্রস্তাবের সাথে সাথে তিনি এই ভয়ও প্রদর্শন করেন যে, তাদের সৈন্য সংখ্যা বিপুল, তার উদ্দেশ্য উকবা (রাঃ) যেন সামনে অগ্রসর না হন। তিনি যখন বর্বরদের কথা জানতে পারলেন, তখন 💥আল জাজায়েরর দিকে অগ্রসর হলেন- এবং বিপুল সংখ্যক কাফেরকে হত্যা করার পর 💥সূসুল আকসা-মরক্কোতে প্রবেশ করেন। সেখানে বিপুল সংখ্যক বর্বরদের মোকাবিলায় হযরত উকবা (রাঃ) এর সৈন্য সংখ্যা অতি নগণ্য কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে মুসলমান গাজীদের তরবারি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত করেছে এবং বর্বর জাতি শোচনীয় পরাজয় বরণ করে। তাদের বেশুমার নিহত হয়, অসংখ্য বন্দি হয় এবং বিপুল পরিমাণ গণিমতের মাল মোজাহেদীনের হস্তগত হয়। হজরত উকবা (রা.) কর্তৃক মরক্কো তথা আফ্রিকা বিজয়ের এটি সংক্ষিপ্ত কাহিনী।

মরক্কোর সকল এলাকা হজরত উকবা ইবনে নাফে ফেহরী (রা.) এর কব্জাগত হয়ে যাওয়ার পর তার দৃষ্টি ইউরোপের দিকে নিবদ্ধ হয়। তিনি আটলান্টিক মহাসাগরের তীরে 💥বালিয়ান নামক স্থানে উপনীত হন এবং সেখানে গিয়ে সাগরকে তাঁর চলার পথে কঠিন প্রতিবন্ধক পেয়ে দারুণভাবে ব্যথিত ও হতাশ হয়ে পড়েন। কথিত আছে, হজরত উকবা (রা.) তার পরবর্তী ইউরোপ বিজয়ের জন্য তাঁর অশ্বারোহী বাহিনীকে সাগরে নামিয়ে দিয়েছিলেন। এ ঘটনার কথা স্মরণ করে আল্লামা ইকবাল বলেছিলেন-

‘সমন্দর মে দৌড়ে দিয়ে ঘোড়ে হামনে’
উকবা (রা.) চলার পথে এমন এক স্থানে পদার্পণ করেন যাকে বলা হয় 💥মাউল ফারাস বা ঘোড়ার পানির কূপ। সেখানে পানির অভাব ছিল, লোকেরা পিপাসার তাড়নায় মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছিল। 🔥হজরত উকবা (রা.) মুসলমানদের এ করুণ অবস্থায় দু’রাকাত নফল নামাজ আদায় করেন এবং অত্যন্ত বিনয়ের সাথে আল্লাহর নিকট পানির জন্য প্রার্থনা করেন। তাঁর প্রার্থনা মঞ্জুর হয়। আল্লাহর পক্ষ হতে পানির ব্যবস্থা এমনভাবে হয় যে, ঘোড়াগুলো পদাঘাতে জমিনের পাদদেশে আর্দ্রতা দেখা দেয় এবং প্রবলবেগে পানি নির্গত হতে থাকে। হজরত উকবা (রা.) সেখানে গর্ত খনন করেন। মানুষ ও জীব-জন্তু পানি পান করে তৃপ্ত হতে থাকে। এ কূপের নাম হয়ে যায় 💥‘মাউল ফারাস।’

উকবা ইবনে নাফে (রাঃ) ছিলেন শীর্ষস্থানীয় মুসলিম সেনাপতি এবং 🔥হজরত আমর ইবনুল আস (রা.) এর ভাগ্নে। তিনি মিসর বিজয়ী ও তার শাসনকর্তা ছিলেন। তিনি উত্তর আফ্রিকা জয় করেন। মরক্কোর💥 কায়রোওয়ান শহরের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে খ্যাত। তিনি বর্বর জাতিগুলোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করলেও তাদের আনুগত্য স্বীকারে সক্ষম হননি। তিনি সাহারা সীমান্তে হিজরী ৬৮৩ সালে ইন্তেকাল করেন।
মুসলিম সেনাপতি হজরত উকবা ইবনে নাফে (রাঃ) ঈমানী শক্তিতে বলীয়ান হয়ে আল্লাহর পথে তাওহীদের প্রচারে তার জীবনকে উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন।

তার সামরিক জীবনের উদ্দেশ্যও ছিল তাই। তিনি আফ্রিকার যেখানে গমন করেছেন, সেখানে বিজয় সাফল্য তার কদম চুম্বন করেছে। তাঁর প্রার্থনা আল্লাহর দরবারে কবুল হয়েছে। আফ্রিকার গহীন অরণ্যের সকল হিংস্র বিষাক্ত জীব-জন্তু তার আহ্বানে স্ব-স্ব স্থান ত্যাগ করে সরে গিয়েছে। তাঁর প্রার্থনায় পানির অভাব দূর হয়েছে। ‘মাউল ফারাস’ সৃষ্টি হয়েছে। এসব তাঁর জীবনের বিস্ময়কর ঘটনা, অপূর্ব কারামত। তার বিজয়মালাও আফ্রিকায় ইসলামের প্রচার-প্রসার তার অবিস্মরণীয় অবদান। আটলান্টিক প্রতিবন্ধক না হলে ইউরোপও তার বিজয় প্রচারের আওতায় এসে যেতো।

07/12/2025
22/11/2025

আল-হুজুরাত, আয়াত: ১৩/৪৯

হে মানবজাতি, আমি তোমাদেরকে একজন পুরুষ এবং একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি। তারপর তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীতে বিভক্ত করে দিয়েছি যাতে তোমরা পরস্পরকে চিনতে পার। তোমাদের মধ্যে যে অধিক পরহেজগার সে-ই প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কাছে অধিক মর্যাদার অধিকারী। নিশ্চয়ই আল্লাহ‌ মহাজ্ঞানী ও সবকিছু সম্পর্কে অবহিত।

22/11/2025

ইংরেজিতে প্রাকৃতিক দূর্যোগের নাম :
1.Cyclone ~ ঘূর্ণিঝড়
2.Cold Wave ~ শৈত্যপ্রবাহ
3.Drought ~ খরা
4.Earthquake ~ ভূমিকম্প
5.Flood ~বন্যা
6.Hailstones ~ শিলাবৃষ্টি
7.Heat Wave ~তাপ-প্রবাহ
8.Lightning ~ বজ্রপাত
9.Landslip ~ ভূমিধস
10.River Bank Erosion ~ নদী ভাঙন
11.Snowfall ~ তুষারপাত
12.Spate ~ জলোচ্ছ্বাস
13.Storm ~ ঝড়
14.Tornado ~ টর্নেডো
15.Tsunami ~ সুনামি
16.Volcano ~ আগ্নেয়গিরি
17.Wildfire ~ দাবাবল

22/11/2025

Structural difference between Classical Atom and Quantum Atom.

Want your school to be the top-listed School/college in Sylhet?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Website

Address


Sylhet
3100