23/05/2020
"করোনা সংকট - ধর্মনিরপেক্ষ জীবনব্যবস্থার এক উপহার"
করোনায় জনমনে আতংক, ভয়, পৃথিবীজুড়ে করোনা রোগীর আত্মহত্যা ও ত্রানচুরি একই সুত্রে গাথা! ধর্মনিরপেক্ষ জীবনব্যবস্থার উপহার মাত্র
বর্তমান পৃথিবীজুড়ে করোনা ভাইরাস এক মহামারি আকার ধারণ করেছে। চোখে দেখা যায় না এমন এক ভাইরাস কোনঠাসা করেছে কয়েক মাস আগেও দুনিয়া দাপিয়ে বেড়ানো ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোকে। প্রতিদিনকার নিত্যনতুন সংবাদ আমাদের কে অবাক করে তুলছে! কিছু সংবাদের শিরোনামের দিকে এবার চোখ বুলানো যাক:
১। করোনায় আক্রান্তের খবর শুনে ব্রিটেনের ৪ ফুটবলারের আত্মহত্যা দুনিয়াজুড়ে আত্মহত্যার সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। এবং এই বছর যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার আভাস।
২। ঢাকায় করোনা লক্ষন নিয়ে হাসপাতাল থেকে রোগীর পলায়ন!
৩। রাস্তায় ছটফট করতে করতে এক ব্যক্তির মৃত্যু, করোনা আতংকে এগিয়ে এলনা কেও। আতংকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকানে ভীড় আগাম মজুদের হিড়িক!!
উপরের শিরোনামগুলো পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের ও বিভিন্ন ক্যটাগরির হলেও একটা জায়গায় মিল রয়েছে! তা হল প্রতেকটা ঘটনার পেছনের কারণ হল জনগনের মনে আতংক ও ভয়!!!
এবার আরো দুটি ভিন্নধর্মী শিরোনামের দিকে চোখ বুলানো যাক:
৪। করোনার ত্রানসামগ্রী আত্মসাৎ, আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে আত্মসাৎকারীর সংখ্য (১৬৪ ও ২০৪) ৭ এপ্রিল পর্যন্ত!
৫। বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে চিকিৎসাসামগ্রীসহ দ্রব্যমুল্যের দাম বৃদ্ধি ও নকল স্যনিটাইজার কারখানার সন্ধান!!
এই শিরোনামদুটি আমাদের বলে দেয় এই সমাজে কিভাবে মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে নিজেদের আখের গোছাচ্ছে কিছু লোক!! এবং এই দুটি ঘটনার মূলে রয়েছে মানুষের লোভ !!
লোভ, ভয় এবং আতংক
প্রত্যেক মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি হল সে একটি সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ জীবন চায়। তার এই বেঁচে থাকার প্রবৃত্তি থেকে সম্পদ অর্জনের আকাংখা যেমন তৈরি হয় তেমনি ভাবে সে ভয় করে জীবনের নানাবিধ অনিশ্চয়তাকে। যদি এই চাহিদা ও প্রবৃত্তি পূরনের সঠিক দিকনির্দেশনা না থাকে তা হলে সে অধিক সম্পদের নেশায় কোন ধরনের বাছবিচার না করে হাজার হাজার মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে যেমন পিছপা হবে না তেমনি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশংকায় নিজের স্ত্রী, সন্তানদের হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করতেও সংকোচবোধ করবে না! মানুষের জীবন সম্পর্কে সঠিক দৃষ্টিভংগিই পারে মানুষকে প্রশান্তিময় জীবন উপহার দিতে যা একটি সঠিক জীবনাদর্শ থেকে বিকশিত হয়।
জীবন সম্পর্কে বর্তমান ধর্মনিরপেক্ষ জীবনাদর্শের দৃষ্টিভংগি ও এর স্বরুপ
ধর্মনিরপেক্ষ জীবন আদর্শে দৈনন্দিন জীবনে স্রষ্টার অস্তিত্ব /বিধানকে অস্বীকার করা হয়। যেহেতু এ ব্যবস্থায় মৃত্যুর পুর্বের ও পরের জীবনের মাঝে সম্পর্ককে ছিন্ন করা হয় তাই শুধু দুনিয়ার জীবনকে উপভোগ করাকেই জীবনের উদ্দেশ্য নির্ধারন করা হয়। ছোট বেলা থেকেই আমাদের কে পড়ানো হয় "লেখা পড়া করে যে গাড়িঘোড়া চড়ে সে"। অর্থাৎ লেখাপড়ার উদ্দেশ্য হল গাড়ি বাড়ি অর্জনের মাধ্যমে জীবনকে উপভোগ করা। এবং ছোটবেলা থেকেই জীবনকে উপভোগের মন্ত্র নিয়ে বড় হওয়া একজন ডাক্তার করোনা আতংকে রোগীকে মৃত্যুশয্যায় রেখে নিজে বাসায় আরামে ঘুমাবে, একজন ব্যবসায়ী মানুষকে জিম্মি করে টাকার পাহাড় গড়বে এটাই স্বাভাবিক নয় কি?? এ ব্যবস্থায় জীবনের সফলতা নির্ধারিত হয় ইন্দ্রীয়গত সুখের মাপকাঠিতে!! তাই সমাজে আলোচনার মূল বিষয়বস্তুই থাকে টাকা-পয়সা ও ভোগ-বিলাস। আর তাই এই সীমাহীন ইন্দ্রীয়গত সুখের পেছনে ছুটে যদি নিজের মৌলিক চাহিদা ও না পেয়ে নিজের জীবনকে ব্যর্থ মনে করে আত্মহত্যার পথ বেছে নেবে এটা তো অস্বাভাবিক কিছু নয়!! আর যেহেতু পুঁজিবাদী ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থা শুধু পুজিপতিদের স্বার্থ রক্ষা করে এবং সাধারন জনগনের মৌলিক চাহিদা পূরনে ব্যর্থ তাই দূর্যোগকালীন সময়ে সাধারণ জনগণ আতংকিত হয়ে যাবে এটাই তো স্বাভাবিক ব্যাপার!
সুতরাং আমরা দেখতে পাই যে বর্তমান বর্তমান ধর্মনিরপেক্ষ জীবনাদর্শ মানুষের স্বভাবিক প্রবৃত্তি বুঝতে ও এর সমাধান দিতে ব্যার্থ হয়েছে এবং এর শাসনব্যবস্থা জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ। কতিপয় ব্যক্তিবর্গ নয় ধর্মনিরপেক্ষ জীবনব্যবস্থা'ই আমাদের যাবতীয় দুর্দশার মূল কারণ। তাই আমাদের এমন একটি জীবনব্যবস্থা প্রয়োজন যে ব্যবস্থা মানুষের চাহিদা ও প্রবৃত্তি সঠিক ভাবে বুঝতে পারবে এবং এর সঠিক সমাধান দিতে পারবে। ইসলাম একমাত্র জীবনাদর্শ যা মানুষের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কর্তৃক প্রেরিত এবং জীবন সম্পর্কে সঠিক দৃষ্টিভংগি প্রদানের মাধ্যমে একটি প্রশান্তিময় সমাজ গঠনে সক্ষম।
জীবন সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভংগী
ইসলাম পুঁজিবাদের মত মৃত্যূর আগের জীবন ও পরের জীবনকে আলাদা করে নি বরং দুনিয়া এবং আখিরাতের জীবনের মধ্যে একটি চমৎকার সম্পর্ক স্থাপন করেছে। জীবন সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভংগী হল আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মানুষকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন এবং তার ইচ্ছায় আমরা তার কাছে ফিরে যাব। আমাদের দুনিয়ার জীবনের কাজের ফলাফল স্বরুপ তিনি আমাদেরকে জান্নাত ও জাহান্নাম দান করবেন। ইসলামী চিন্তা ধারণ করা একজন ডাক্তার নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে রোগীর সেবাপ্রদান কে নিজের ক্ষতি হিসেবে দেখবেন না বরং এটা তার জন্য জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে পরিত্রানের একটি উছিলা ছাড়া কিছুই নয়!
আমাদের মৃত্যুর সময় আল্লাহ নির্ধারিত করে রেখেছেন। তাই এই করোনা মহামারীতে একজন মুসলিম নিজের জীবন সম্পর্কে প্রশান্তি লাভ করে কারণ সে জানে সে তো একটি সুনির্ধারিত বিষয়ের দিকেই এগোচ্ছে করোনা তো উপলক্ষ মাত্র!! আল্লাহ বলেন:
আল্লাহর নির্দেশ ব্যাতীত কারো মৃত্যু এসে উপস্থিত হয় না, এজন্য একটি সময় নির্ধারিত রয়েছে।
(সূরা আল ইমরান ১৪৫)
বিপদ-আপদ, রোগ-শোক থেকে একমাত্র আল্লাহ`ই আমাদের উদ্ধার করতে পারেন। ডাক্তার বা অনান্য যে ব্যাবস্থা আমরা গ্রহণ করি তা উপলক্ষ মাত্র। আল্লাহ যদি চান আমাদের বিপদ থেকে উদ্ধার করতে তাহলে কোন ভাইরাসই আমাদের কিছু করতে পারবে না আর আল্লাহ যদি আমাদের এই করোনা মহামারিতে রোগশোক অভাব অনটন দিয়ে পরীক্ষা করতে চান তাহলে কেউ আমাদের বাঁচাতে পারবে না। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন:
বলুন, আল্লাহ আমাদের জন্য যা নির্দিষ্ট করে রেখেছেন তা ব্যতীত আমাদের কিছুই ঘটবে না এবং মুমিনদের একমাত্র আল্লাহর উপরই ভরসা করা উচিত! (সুরা তাওবা ৫১)
এই আতংকের পরিস্থিতিতেও একজন মুসলিম আতংকিত না হয়ে প্রশান্তচিত্তে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা, ইবাদত-বন্দেগী ও ধৈর্যধারনের মাধমে তার নৈকট্য হাসিলে অগ্রসর হয়।
একজন মুসলিম জানে যে তার রিযিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ এবং তা সুনির্ধারিত। রিযিক অন্বেষনে দৈনন্দিন কাজকর্ম একমাত্র আল্লাহর আদেশেই সে সম্পাদন করে তার কজকর্ম রিজিকের নিশ্চয়তা দেয় না বরং উছিলা মাত্র! তাই একজন মুসলিম আগামীর সম্ভ্যব্য সংকটময় সময়ের জন্য আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে। আল্লাহ বলেন:
এবং তাকে তিনি কল্পনার বাইরের উৎস থেকে রিযিক দান করবেন। যে ব্যাক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করবে আল্লাহ’ই তার জন্য যথেষ্ট। (সুরা আত তালাক ৩)
পুঁজিবাদের মত মানুষের সম্পদ অর্জনের আখাংকাকে লাগামহীন করে দেয় নি বরং তা অর্জনের উপায়কে হালাল এবং হারাম দ্বারা পার্থক্য করেছে। তাই একজন মুসলিম কখনোই চাইবে না হারাম উপায়ে সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে জান্নাতের অকল্পনীয় নিয়ামত থেকে নিজেকে বঞ্চিত করতে বা জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্থির মুখোমুখি হতে।
সুতরাং ইসলাম একমাত্র জীবনাদর্শ যা মানুষের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কর্তৃক প্রেরিত এবং জীবন সম্পর্কে সঠিক দৃষ্টিভংগি প্রদানের মাধ্যমে একটি প্রশান্তিময় সমাজ গঠনে সক্ষম।
ইসলামী জীবনব্যবস্থার স্বরুপ
ইসলাম এমন কোন জীবনব্যবস্থা নয় যে তা শুধু মাত্র তত্ত্বকথার সমষ্টি যা বাস্থবায়নের কোন দিকনির্দেশনা নেই বরং এটি এমন একটি জীবনব্যবস্থা যা ইসলামী শাসনব্যবস্থা তথা খিলাফত শাসনব্যাবস্থার মাধ্যমে সমাজে বাস্থবায়িত থাকে এবং শত শত বছর ধরে মুসলিমরা খিলাফতের অধীনে সমগ্র পৃথিবীর সুপারপাওয়ার ছিল।
যে শাসনব্যবস্থার অধীনে শিক্ষাব্যবস্থায় জীবন সম্পর্কে সঠিক ইসলামী দৃষ্টিভংগী শিক্ষা দেয়ার মাধ্যমে তাকওয়াবান নাগরিক তৈরি করবে যে আল্লাহ ভয়ে সবধরনের পাপ থেকে বিরত থকবে এবং বিপদে আল্লাহ ক্ষমা ও রহমতের আশায় ধৈর্যধারণ করবে।
এ শাসনব্যবস্থা উম্মাহ কে শুধু শিক্ষা দিয়েই ক্ষান্তু হবে না বরং এমন এক ঈমানী পরিবেশ তৈরি করবে যে সমাজে বিত্ত-বৈভব বা ক্ষমতার অহংকার নয় তাকওয়াই হবে সমাজের একমাত্র আলোচনার বিষয়, সম্মানের মাপকাঠি। উমর (রা) খিলাফতের ঘটনা একদা তিনি গভীর রাত্রে জনগণের অবস্থা দেখার জন্য বের হলে একটি ঘরের পাশ থেকে শুনতে পেলেন মা তার মেয়েকে বিক্রির জন্য দুধে পানি মেশাতে বলছেন এবং মেয়েকে অভয় দিচ্ছেন এই বলে যে এখন পানি মেশালে উমর দেখবেনা এর জবাবে মেয়ে বলল "মা, উমর আমাদের দেখতে না পাক উমরের আল্লাহ তো আমাদের দেখছেন!! এই উত্তর শুনে পরবর্তীতে উমর (রা) তার ছেলের সাথে ওই মেয়ের বিবাহ দেন। গোয়ালার মেয়ের সাথে অর্ধপৃথিবীর শাসকের পুত্রের বিবাহ!! কী অপুর্ব তাকওয়ার নিদর্শন যা রাতের অন্ধকারে পাপের আহবান বা ক্ষমতার অহংকারকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে!
ইসলামী শাসন ব্যবস্থায় জনগনের মৌলিক চাহিদা অন্ন, বস্ত্র, চিকৎসা, বাসস্থান পূরন করা খলিফার জন্য ফরজ। রাসূল (স) বলেন:
আদম সন্তানের জন্য খাওয়ার জন্য একটুকরা রুটি, পরার জন্য কাপড় ও থাকার জন্য একখন্ড জমির চেয়ে প্রয়োজনীয় কিছু নেই।
মহামারী বা দুর্যোগের মত পরিস্থিতিতে যদি কেউ তার এবং তার পরিবারের ভরণপোষনে অক্ষম হয় রাষ্ট্রের জন্য এটা বাধ্যতামূলক যে প্রত্যেক প্রত্যেক অক্ষম ব্যক্তির মৌলিক চাহিদা পূরন করবে। খিলাফত রাষ্ট্রের খসড়া সংবিধানের ১২৫ ধারার ব্যখ্যায় বলা হয়েছে-
কোন ব্যক্তি যদি পরিবার পরিজন ও তার অধীনে থাকা ব্যক্তি বর্গের ভরনপোষনে অক্ষম হয়ে পড়ে তাহলে রাষ্ট্র তার ভরনপোষনের ব্যবস্থা করবে।
মহামারীর মত পরিস্থিতিতে তথ্য গোপন না করে রোগের উৎপত্তি ও বিস্তার সম্পর্কে জনগণকে দ্রুত অবহিত ও সতর্ক করবে এবং লকডাউনের মত আতংকের পরিবেশ তৈরি না করে তড়িৎ গতিতে খিলাফত রাষ্ট্র তার সুস্থ ও অসুস্থ রোগীকে আলাদা করবে। অসুস্থদের কে আলাদা করে চিকিৎসা দেবে এবং সুস্থদের স্বাভাবিক জীবন অব্যহত রাখবে।
রোগ নির্ণয় যন্ত্র, গবেষনা বা রোগের ভ্যকসিন আবিস্কার করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পুঁজিবাদের মত খিলাফত কখনোই কোন মুনাফালোভী কিছু কোম্পানীর হাতে তুলে দেবে না বরং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অত্যাধুনিক গবেষনাগার, হাসপাতাল, চিকিৎসা সামগ্রী ইত্যাদি প্রস্তুত করবে। আমরা দেখেছি অতীতে কিভাবে ইবনে সিনা, আল রাজী, জাওঝির মত চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বর্তমান চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভীত গড়ে দিয়েছিলেন।
খিলাফত রাষ্ট্র কখনোই পুঁজিবাদের মত প্যটেন্ট-কপিরাইট করে এর আবিস্কারসমূহকে নিজে কুক্ষিগত করে রাখবে না বরং মানবজাতির সত্যিকারের পথপ্রদর্শক হিসেবে সমগ্র মানবজাতির জন্য উন্মুক্ত করে দেবে। আল্লাহ বলেন,
এভাবেই আমি তোমাদের কে ন্যায়পরায়ণ উম্মত হিসেবে সৃষ্টি করেছি যাতে করে তোমরা মানবজাতির উপর সাক্ষ্যদাতা হও এবং রাসুল (সা) সাক্ষ্যদাতা হন তোমাদের ব্যপারে। (সুরা বাকারা: ১৪৩)
হে মুসলিমগন,
বর্তমানে আমরা মুসলিমরা মানবজাতির পথপ্রদর্শক হিসেবে নেই, বরং ট্রাম্প, মোদি, বরিস জনসনের মত নেতারা আমাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং করোনা মহামারীতে তথ্য নিয়ে লুকোচুরি, লকডাউন, Herd Immunity’র মত অমানবিক পদ্ধতি গ্রহণ করে মানবজাতিকে এক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এখনি সময় এই ধর্মনিরপেক্ষ শাসনব্যবস্থা অপসারণ করে খিলাফত রাষ্ট্রব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার কাজে নিয়োজিত হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে জান্নাত লাভ করার। এবং খিলাফত প্রতিষ্টা করে মানবজাতিকে অতীতের মত ইসলামী জীবনব্যবস্থার সুশীতল ছায়াতলে নিয়ে এসে আলোর পথ দেখানোর। আল্লাহ বলেন,
আলিফ-লাম-র! আমি আমি আপনার উপর এই কিতাব প্রেরণ করেছি যাতে করে আপনি মানবজাতিকে অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে আসতে পারেন! (সুরা ইব্রাহীম ১-২)
"
22/05/2020
24/06/2018