M.C. College

M.C. College

Share

Murrari Chand College

23/05/2020

"করোনা সংকট - ধর্মনিরপেক্ষ জীবনব্যবস্থার এক উপহার"

করোনায় জনমনে আতংক, ভয়, পৃথিবীজুড়ে করোনা রোগীর আত্মহত্যা ও ত্রানচুরি একই সুত্রে গাথা! ধর্মনিরপেক্ষ জীবনব্যবস্থার উপহার মাত্র

বর্তমান পৃথিবীজুড়ে করোনা ভাইরাস এক মহামারি আকার ধারণ করেছে। চোখে দেখা যায় না এমন এক ভাইরাস কোনঠাসা করেছে কয়েক মাস আগেও দুনিয়া দাপিয়ে বেড়ানো ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোকে। প্রতিদিনকার নিত্যনতুন সংবাদ আমাদের কে অবাক করে তুলছে! কিছু সংবাদের শিরোনামের দিকে এবার চোখ বুলানো যাক:

১। করোনায় আক্রান্তের খবর শুনে ব্রিটেনের ৪ ফুটবলারের আত্মহত্যা দুনিয়াজুড়ে আত্মহত্যার সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। এবং এই বছর যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার আভাস।
২। ঢাকায় করোনা লক্ষন নিয়ে হাসপাতাল থেকে রোগীর পলায়ন!
৩। রাস্তায় ছটফট করতে করতে এক ব্যক্তির মৃত্যু, করোনা আতংকে এগিয়ে এলনা কেও। আতংকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকানে ভীড় আগাম মজুদের হিড়িক!!

উপরের শিরোনামগুলো পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের ও বিভিন্ন ক্যটাগরির হলেও একটা জায়গায় মিল রয়েছে! তা হল প্রতেকটা ঘটনার পেছনের কারণ হল জনগনের মনে আতংক ও ভয়!!!

এবার আরো দুটি ভিন্নধর্মী শিরোনামের দিকে চোখ বুলানো যাক:

৪। করোনার ত্রানসামগ্রী আত্মসাৎ, আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে আত্মসাৎকারীর সংখ্য (১৬৪ ও ২০৪) ৭ এপ্রিল পর্যন্ত!
৫। বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে চিকিৎসাসামগ্রীসহ দ্রব্যমুল্যের দাম বৃদ্ধি ও নকল স্যনিটাইজার কারখানার সন্ধান!!

এই শিরোনামদুটি আমাদের বলে দেয় এই সমাজে কিভাবে মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে নিজেদের আখের গোছাচ্ছে কিছু লোক!! এবং এই দুটি ঘটনার মূলে রয়েছে মানুষের লোভ !!

লোভ, ভয় এবং আতংক

প্রত্যেক মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি হল সে একটি সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ জীবন চায়। তার এই বেঁচে থাকার প্রবৃত্তি থেকে সম্পদ অর্জনের আকাংখা যেমন তৈরি হয় তেমনি ভাবে সে ভয় করে জীবনের নানাবিধ অনিশ্চয়তাকে। যদি এই চাহিদা ও প্রবৃত্তি পূরনের সঠিক দিকনির্দেশনা না থাকে তা হলে সে অধিক সম্পদের নেশায় কোন ধরনের বাছবিচার না করে হাজার হাজার মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে যেমন পিছপা হবে না তেমনি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশংকায় নিজের স্ত্রী, সন্তানদের হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করতেও সংকোচবোধ করবে না! মানুষের জীবন সম্পর্কে সঠিক দৃষ্টিভংগিই পারে মানুষকে প্রশান্তিময় জীবন উপহার দিতে যা একটি সঠিক জীবনাদর্শ থেকে বিকশিত হয়।

জীবন সম্পর্কে বর্তমান ধর্মনিরপেক্ষ জীবনাদর্শের দৃষ্টিভংগি ও এর স্বরুপ

ধর্মনিরপেক্ষ জীবন আদর্শে দৈনন্দিন জীবনে স্রষ্টার অস্তিত্ব /বিধানকে অস্বীকার করা হয়। যেহেতু এ ব্যবস্থায় মৃত্যুর পুর্বের ও পরের জীবনের মাঝে সম্পর্ককে ছিন্ন করা হয় তাই শুধু দুনিয়ার জীবনকে উপভোগ করাকেই জীবনের উদ্দেশ্য নির্ধারন করা হয়। ছোট বেলা থেকেই আমাদের কে পড়ানো হয় "লেখা পড়া করে যে গাড়িঘোড়া চড়ে সে"। অর্থাৎ লেখাপড়ার উদ্দেশ্য হল গাড়ি বাড়ি অর্জনের মাধ্যমে জীবনকে উপভোগ করা। এবং ছোটবেলা থেকেই জীবনকে উপভোগের মন্ত্র নিয়ে বড় হওয়া একজন ডাক্তার করোনা আতংকে রোগীকে মৃত্যুশয্যায় রেখে নিজে বাসায় আরামে ঘুমাবে, একজন ব্যবসায়ী মানুষকে জিম্মি করে টাকার পাহাড় গড়বে এটাই স্বাভাবিক নয় কি?? এ ব্যবস্থায় জীবনের সফলতা নির্ধারিত হয় ইন্দ্রীয়গত সুখের মাপকাঠিতে!! তাই সমাজে আলোচনার মূল বিষয়বস্তুই থাকে টাকা-পয়সা ও ভোগ-বিলাস। আর তাই এই সীমাহীন ইন্দ্রীয়গত সুখের পেছনে ছুটে যদি নিজের মৌলিক চাহিদা ও না পেয়ে নিজের জীবনকে ব্যর্থ মনে করে আত্মহত্যার পথ বেছে নেবে এটা তো অস্বাভাবিক কিছু নয়!! আর যেহেতু পুঁজিবাদী ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থা শুধু পুজিপতিদের স্বার্থ রক্ষা করে এবং সাধারন জনগনের মৌলিক চাহিদা পূরনে ব্যর্থ তাই দূর্যোগকালীন সময়ে সাধারণ জনগণ আতংকিত হয়ে যাবে এটাই তো স্বাভাবিক ব্যাপার!

সুতরাং আমরা দেখতে পাই যে বর্তমান বর্তমান ধর্মনিরপেক্ষ জীবনাদর্শ মানুষের স্বভাবিক প্রবৃত্তি বুঝতে ও এর সমাধান দিতে ব্যার্থ হয়েছে এবং এর শাসনব্যবস্থা জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ। কতিপয় ব্যক্তিবর্গ নয় ধর্মনিরপেক্ষ জীবনব্যবস্থা'ই আমাদের যাবতীয় দুর্দশার মূল কারণ। তাই আমাদের এমন একটি জীবনব্যবস্থা প্রয়োজন যে ব্যবস্থা মানুষের চাহিদা ও প্রবৃত্তি সঠিক ভাবে বুঝতে পারবে এবং এর সঠিক সমাধান দিতে পারবে। ইসলাম একমাত্র জীবনাদর্শ যা মানুষের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কর্তৃক প্রেরিত এবং জীবন সম্পর্কে সঠিক দৃষ্টিভংগি প্রদানের মাধ্যমে একটি প্রশান্তিময় সমাজ গঠনে সক্ষম।

জীবন সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভংগী

ইসলাম পুঁজিবাদের মত মৃত্যূর আগের জীবন ও পরের জীবনকে আলাদা করে নি বরং দুনিয়া এবং আখিরাতের জীবনের মধ্যে একটি চমৎকার সম্পর্ক স্থাপন করেছে। জীবন সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভংগী হল আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মানুষকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন এবং তার ইচ্ছায় আমরা তার কাছে ফিরে যাব। আমাদের দুনিয়ার জীবনের কাজের ফলাফল স্বরুপ তিনি আমাদেরকে জান্নাত ও জাহান্নাম দান করবেন। ইসলামী চিন্তা ধারণ করা একজন ডাক্তার নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে রোগীর সেবাপ্রদান কে নিজের ক্ষতি হিসেবে দেখবেন না বরং এটা তার জন্য জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে পরিত্রানের একটি উছিলা ছাড়া কিছুই নয়!

আমাদের মৃত্যুর সময় আল্লাহ নির্ধারিত করে রেখেছেন। তাই এই করোনা মহামারীতে একজন মুসলিম নিজের জীবন সম্পর্কে প্রশান্তি লাভ করে কারণ সে জানে সে তো একটি সুনির্ধারিত বিষয়ের দিকেই এগোচ্ছে করোনা তো উপলক্ষ মাত্র!! আল্লাহ বলেন:

আল্লাহর নির্দেশ ব্যাতীত কারো মৃত্যু এসে উপস্থিত হয় না, এজন্য একটি সময় নির্ধারিত রয়েছে।
(সূরা আল ইমরান ১৪৫)

বিপদ-আপদ, রোগ-শোক থেকে একমাত্র আল্লাহ`ই আমাদের উদ্ধার করতে পারেন। ডাক্তার বা অনান্য যে ব্যাবস্থা আমরা গ্রহণ করি তা উপলক্ষ মাত্র। আল্লাহ যদি চান আমাদের বিপদ থেকে উদ্ধার করতে তাহলে কোন ভাইরাসই আমাদের কিছু করতে পারবে না আর আল্লাহ যদি আমাদের এই করোনা মহামারিতে রোগশোক অভাব অনটন দিয়ে পরীক্ষা করতে চান তাহলে কেউ আমাদের বাঁচাতে পারবে না। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন:

বলুন, আল্লাহ আমাদের জন্য যা নির্দিষ্ট করে রেখেছেন তা ব্যতীত আমাদের কিছুই ঘটবে না এবং মুমিনদের একমাত্র আল্লাহর উপরই ভরসা করা উচিত! (সুরা তাওবা ৫১)

এই আতংকের পরিস্থিতিতেও একজন মুসলিম আতংকিত না হয়ে প্রশান্তচিত্তে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা, ইবাদত-বন্দেগী ও ধৈর্যধারনের মাধমে তার নৈকট্য হাসিলে অগ্রসর হয়।

একজন মুসলিম জানে যে তার রিযিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ এবং তা সুনির্ধারিত। রিযিক অন্বেষনে দৈনন্দিন কাজকর্ম একমাত্র আল্লাহর আদেশেই সে সম্পাদন করে তার কজকর্ম রিজিকের নিশ্চয়তা দেয় না বরং উছিলা মাত্র! তাই একজন মুসলিম আগামীর সম্ভ্যব্য সংকটময় সময়ের জন্য আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে। আল্লাহ বলেন:

এবং তাকে তিনি কল্পনার বাইরের উৎস থেকে রিযিক দান করবেন। যে ব্যাক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করবে আল্লাহ’ই তার জন্য যথেষ্ট। (সুরা আত তালাক ৩)

পুঁজিবাদের মত মানুষের সম্পদ অর্জনের আখাংকাকে লাগামহীন করে দেয় নি বরং তা অর্জনের উপায়কে হালাল এবং হারাম দ্বারা পার্থক্য করেছে। তাই একজন মুসলিম কখনোই চাইবে না হারাম উপায়ে সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে জান্নাতের অকল্পনীয় নিয়ামত থেকে নিজেকে বঞ্চিত করতে বা জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্থির মুখোমুখি হতে।

সুতরাং ইসলাম একমাত্র জীবনাদর্শ যা মানুষের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কর্তৃক প্রেরিত এবং জীবন সম্পর্কে সঠিক দৃষ্টিভংগি প্রদানের মাধ্যমে একটি প্রশান্তিময় সমাজ গঠনে সক্ষম।

ইসলামী জীবনব্যবস্থার স্বরুপ

ইসলাম এমন কোন জীবনব্যবস্থা নয় যে তা শুধু মাত্র তত্ত্বকথার সমষ্টি যা বাস্থবায়নের কোন দিকনির্দেশনা নেই বরং এটি এমন একটি জীবনব্যবস্থা যা ইসলামী শাসনব্যবস্থা তথা খিলাফত শাসনব্যাবস্থার মাধ্যমে সমাজে বাস্থবায়িত থাকে এবং শত শত বছর ধরে মুসলিমরা খিলাফতের অধীনে সমগ্র পৃথিবীর সুপারপাওয়ার ছিল।

যে শাসনব্যবস্থার অধীনে শিক্ষাব্যবস্থায় জীবন সম্পর্কে সঠিক ইসলামী দৃষ্টিভংগী শিক্ষা দেয়ার মাধ্যমে তাকওয়াবান নাগরিক তৈরি করবে যে আল্লাহ ভয়ে সবধরনের পাপ থেকে বিরত থকবে এবং বিপদে আল্লাহ ক্ষমা ও রহমতের আশায় ধৈর্যধারণ করবে।

এ শাসনব্যবস্থা উম্মাহ কে শুধু শিক্ষা দিয়েই ক্ষান্তু হবে না বরং এমন এক ঈমানী পরিবেশ তৈরি করবে যে সমাজে বিত্ত-বৈভব বা ক্ষমতার অহংকার নয় তাকওয়াই হবে সমাজের একমাত্র আলোচনার বিষয়, সম্মানের মাপকাঠি। উমর (রা) খিলাফতের ঘটনা একদা তিনি গভীর রাত্রে জনগণের অবস্থা দেখার জন্য বের হলে একটি ঘরের পাশ থেকে শুনতে পেলেন মা তার মেয়েকে বিক্রির জন্য দুধে পানি মেশাতে বলছেন এবং মেয়েকে অভয় দিচ্ছেন এই বলে যে এখন পানি মেশালে উমর দেখবেনা এর জবাবে মেয়ে বলল "মা, উমর আমাদের দেখতে না পাক উমরের আল্লাহ তো আমাদের দেখছেন!! এই উত্তর শুনে পরবর্তীতে উমর (রা) তার ছেলের সাথে ওই মেয়ের বিবাহ দেন। গোয়ালার মেয়ের সাথে অর্ধপৃথিবীর শাসকের পুত্রের বিবাহ!! কী অপুর্ব তাকওয়ার নিদর্শন যা রাতের অন্ধকারে পাপের আহবান বা ক্ষমতার অহংকারকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে!

ইসলামী শাসন ব্যবস্থায় জনগনের মৌলিক চাহিদা অন্ন, বস্ত্র, চিকৎসা, বাসস্থান পূরন করা খলিফার জন্য ফরজ। রাসূল (স) বলেন:

আদম সন্তানের জন্য খাওয়ার জন্য একটুকরা রুটি, পরার জন্য কাপড় ও থাকার জন্য একখন্ড জমির চেয়ে প্রয়োজনীয় কিছু নেই।

মহামারী বা দুর্যোগের মত পরিস্থিতিতে যদি কেউ তার এবং তার পরিবারের ভরণপোষনে অক্ষম হয় রাষ্ট্রের জন্য এটা বাধ্যতামূলক যে প্রত্যেক প্রত্যেক অক্ষম ব্যক্তির মৌলিক চাহিদা পূরন করবে। খিলাফত রাষ্ট্রের খসড়া সংবিধানের ১২৫ ধারার ব্যখ্যায় বলা হয়েছে-

কোন ব্যক্তি যদি পরিবার পরিজন ও তার অধীনে থাকা ব্যক্তি বর্গের ভরনপোষনে অক্ষম হয়ে পড়ে তাহলে রাষ্ট্র তার ভরনপোষনের ব্যবস্থা করবে।

মহামারীর মত পরিস্থিতিতে তথ্য গোপন না করে রোগের উৎপত্তি ও বিস্তার সম্পর্কে জনগণকে দ্রুত অবহিত ও সতর্ক করবে এবং লকডাউনের মত আতংকের পরিবেশ তৈরি না করে তড়িৎ গতিতে খিলাফত রাষ্ট্র তার সুস্থ ও অসুস্থ রোগীকে আলাদা করবে। অসুস্থদের কে আলাদা করে চিকিৎসা দেবে এবং সুস্থদের স্বাভাবিক জীবন অব্যহত রাখবে।

রোগ নির্ণয় যন্ত্র, গবেষনা বা রোগের ভ্যকসিন আবিস্কার করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পুঁজিবাদের মত খিলাফত কখনোই কোন মুনাফালোভী কিছু কোম্পানীর হাতে তুলে দেবে না বরং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অত্যাধুনিক গবেষনাগার, হাসপাতাল, চিকিৎসা সামগ্রী ইত্যাদি প্রস্তুত করবে। আমরা দেখেছি অতীতে কিভাবে ইবনে সিনা, আল রাজী, জাওঝির মত চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বর্তমান চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভীত গড়ে দিয়েছিলেন।

খিলাফত রাষ্ট্র কখনোই পুঁজিবাদের মত প্যটেন্ট-কপিরাইট করে এর আবিস্কারসমূহকে নিজে কুক্ষিগত করে রাখবে না বরং মানবজাতির সত্যিকারের পথপ্রদর্শক হিসেবে সমগ্র মানবজাতির জন্য উন্মুক্ত করে দেবে। আল্লাহ বলেন,

এভাবেই আমি তোমাদের কে ন্যায়পরায়ণ উম্মত হিসেবে সৃষ্টি করেছি যাতে করে তোমরা মানবজাতির উপর সাক্ষ্যদাতা হও এবং রাসুল (সা) সাক্ষ্যদাতা হন তোমাদের ব্যপারে। (সুরা বাকারা: ১৪৩)

হে মুসলিমগন,

বর্তমানে আমরা মুসলিমরা মানবজাতির পথপ্রদর্শক হিসেবে নেই, বরং ট্রাম্প, মোদি, বরিস জনসনের মত নেতারা আমাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং করোনা মহামারীতে তথ্য নিয়ে লুকোচুরি, লকডাউন, Herd Immunity’র মত অমানবিক পদ্ধতি গ্রহণ করে মানবজাতিকে এক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এখনি সময় এই ধর্মনিরপেক্ষ শাসনব্যবস্থা অপসারণ করে খিলাফত রাষ্ট্রব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার কাজে নিয়োজিত হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে জান্নাত লাভ করার। এবং খিলাফত প্রতিষ্টা করে মানবজাতিকে অতীতের মত ইসলামী জীবনব্যবস্থার সুশীতল ছায়াতলে নিয়ে এসে আলোর পথ দেখানোর। আল্লাহ বলেন,

আলিফ-লাম-র! আমি আমি আপনার উপর এই কিতাব প্রেরণ করেছি যাতে করে আপনি মানবজাতিকে অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে আসতে পারেন! (সুরা ইব্রাহীম ১-২)

"

22/05/2020

খাদ্যের অপ্রতুলতাই কি তৃতীয় বিশ্বে দারিদ্র্যের কারণ?

বিশ্বব্যাপী পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, সম্পদের অপ্রতুলতা এবং গণতন্ত্রের অভাব দারিদ্র্যের সাধারণ কারণসমূহের মধ্যে প্রধান। সমাজবিজ্ঞানী ও অন্যান্য থিঙ্ক ট্যাঙ্কের মধ্যে যদিও এ ব্যাপারে কোন ঐক্যমত্য নেই। এ ব্যাপারে খুব প্রাধান্য বিস্তারকারী ধারণা হচ্ছে মুক্তবাজার অর্থনীতির সাথে পুঁজিবাদের বিকাশই হল এ সমস্যার একমাত্র সমাধান। কিন্তু খুব গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে যে, খাদ্যের অপ্রতুলতা নয়, বরং অন্যান্য কিছু বাস্তবতা শুধুমাত্র মুসলিম বিশ্ব নয় পুরো তৃতীয় বিশ্বে দরিদ্রতার জন্য দায়ী।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্বব্যাংক এবং এদের কাঠামোগত পরিবর্তন নীতি (Structural Adjustment Policy) মিশর, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া এবং বাংলাদেশের বিবিধ অর্থনৈতিক সংকট তৈরির পেছনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখছে। দরিদ্রতা মুক্তির উপর তাদের নিজস্ব প্রেসক্রিপশন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের কাছে বিক্রয় করে থাকে। এসব সংস্থা প্রদত্ত নীতিসমূহের মধ্যে রয়েছে শস্যের মজুদ না রাখা বা কমিয়ে আনা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ থেকে আমদানিকৃত খাবারের উপর কর হ্রাস, সারসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণের উপর থেকে ভর্তুকি উঠিয়ে নেয়া প্রভৃতি। অন্যান্য দরিদ্র দেশসমূহ থেকে আমদানির বদলে পশ্চিমা বিশ্ব থেকে ক্রয়ের সুযোগ সৃষ্টি করে তারা। বাজার অর্থনীতি ও ব্যক্তিখাতের বিকাশের মাধ্যমে অর্থনীতিকে উদ্দীপিত করা ও একে দারিদ্রতা বিমোচনের পথ হিসেবে দেখানো হয়।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতার জন্য পাকিস্তানের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অবকাঠামো খাতে ব্যাপক উন্নয়ন দরকার। এসময় বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল পাকিস্তানকে এসব খাতে সরকারী বিনিয়োগ কমিয়ে বরং রপ্তানীর দিকে আগে মনোযোগী হতে পরামর্শ দিয়েছে। তারা এমন সব খাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানীগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতায় যেতে বলে যেগুলোতে পাকিস্তান অনগ্রসর। আর এভাবে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক উন্নয়ন মুখ থুবড়ে পড়ে।

দারিদ্র্যের অপর কারণগুলোর মধ্যে একটি হল ঋণ। আফ্রিকাকে ঔপনিবেশিক সময়ের ঋণ পরিশোধ করবার জন্য চাপ দেয়া হচ্ছে। এ ধরণের দেনার কারণ হচ্ছে অসদুপায়ে উচ্চ সুদে ঔপনিবেশবাদী রাষ্ট্রসমূহের ঋণ গ্রহণ। আবার অনেক সময় দুর্নীতিগ্রস্ত স্বৈরশাসকদের বিলাসিতায় অপচয়ের জন্য ধনী দেশসমূহ ঋণ দিয়েছে যা 'ঘৃন্য ঋন' হিসাবে পরিচিত। উদাহরণ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা ২৮ বিলিয়ন ডলারের (যা বর্তমানে ৪৬ বিলিয়ন) "বর্নবাদ জনিত ঋন" এ জর্জরিত। বর্নবাদ পরবর্তি আফ্রিকার উপর বর্নবাদ শাসনামলের ঋন চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। ১৯৯৮ সালে এ.সি.টি.এস.এ (এ.সি.টি.এস.এ: অ্যাকশন ফর সাউদার্ন আফ্রিকা) হিসেব করে দেখেছে যে, বর্নবাদ বজায় রাখবার জন্য ১১ বিলিয়ন ডলার (যা বর্তমানে ১৮ বিলিয়ন ডলার) ধার করেছে। আর প্রতিবেশী দেশসমুহও এ জন্য ১৭ বিলিয়ন ডলার (যা বর্তমানে ২৮ বিলিয়ন) ঋণ গ্রহণ করেছে। শতকরা ৭৪ ভাগের উপরে আফ্রিকান ঋণে জর্জরিত থাকায় পুরো মহাদেশ জুড়ে অস্থিতিশীলতা ও সংঘাত বজায় আছে।

ঔপনিবেশিকতা তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্রতার অন্যতম কারণ। উপনিবেশবাদ পশ্চিমাদের প্রতি নির্ভরশীলতাকে প্রলম্বিত করেছে। এ কারণে খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ অংশের উপর পশ্চিমা আধিপত্য ও হস্তক্ষেপ বজায় ছিল। ঔপনিবেশিক আমল থেকে আফ্রিকার শ্রম পশ্চিমাদের উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে এবং সেদেশের জনগণকে পশ্চিমে উৎপাদিত পণ্য সাধ্যের অতীত মূল্যে ক্রয় করতে বাধ্য করা হচ্ছে।

বর্তমান বৈশ্বিক কৃষি ব্যবস্থাপনা প্রাথমিক সময়ের মত কেবলমাত্র কৃষকের নিজস্ব প্রয়োজন মেটানোর জন্য পরিচালিত হয় না। ১৯৬০ সাল থেকে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থাসমূহ এ ধরণের ব্যবস্থা এবং সরকারকে খাদ্য সরবরাহের উপর হস্তক্ষেপের সুযোগ থেকে বের হয়ে আসবার জন্য কৌশল প্রণয়ন করেছে। লাভের অঙ্কটাকে বাড়িয়ে নেবার জন্য দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক কোম্পানীগুলো এ সুযোগে এগিয়ে এসেছে। পণ্যদ্রব্যের মূল্যের ব্যাপক হ্রাসবৃদ্ধিতে সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগ এখন আর নেই। সেকারণে তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র দেশের জনগণ কে আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজার কর্তৃক বেধে দেয়া মূল্যে পণ্য ক্রয় করতে হয়। বিশ্ব মন্দা চলাকালীন সময়ে কিংবা তার আগে অনুমাননির্ভর আর্থিক ব্যবস্থাপনা খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে। শুরু থেকেই বিলাসজাত পণ্যদ্রব্য আমদানি ও রপ্তানি ছিল বৈশ্বিক ব্যবসা। কিন্তু ১৯৬০ সাল থেকে খাদ্য দ্রব্য উৎপাদন আঞ্চলিক পরিমন্ডল থেকে বৈশ্বিক পরিমন্ডলে রূপান্তরিত হয়।

কেবলমাত্র নিজস্ব চাহিদা পূরণের জন্য যারা খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন করে তাদের চেয়ে যারা রপ্তানীর জন্য উৎপাদন করে তাদেরকে বিশ্ব বাণিজ্যিক নীতিসমূহ উৎসাহিত করে। যদিও গ্রীষ্মকালে বৃটিশ কলম্বিয়া এবং ক্যালিফোর্ণিয়া উভয় অঞ্চলের কৃষকেরা টমেটো উৎপাদন করে, তারপরও তাদের জন্য লাভজনক হচ্ছে এগুলো নিজ এলাকায় বিক্রয়ের চেয়ে রপ্তানী করা। অথচ ক্রমবর্ধমান পরিবহন ব্যয় পণ্যসমূহের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ কারণে এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা, উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপের কিছু কিছু অংশে প্রান্তিক চাষীদের দেখা যায় না বললেই চলে। মনোক্রপিং, রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার মাধ্যমে কৃষির ব্যাপক শিল্পায়নের কারণে প্রান্তিক চাষীরা সফল হতে পারছে না। জেনেটিক রূপান্তরের জন্য গড়ে উঠা মনসান্তো, আরচার ড্যানিয়েলস,মিডল্যান্ড এবং কারগিল এর মত কোম্পানিসমূহ বিশাল অঙ্কের মুনাফা করছে।

উন্নত বিশ্ব দাবী করছে যে, অধিক জনসংখ্যার কারণে খাদ্যে অপ্রতুলতার দরুণ খাদ্য সংকট তীব্রতর হচ্ছে। খাদ্যের অপ্রতুলতার দোহাই দিয়ে খাদ্যদ্রব্যের উচ্চমুল্যের পক্ষে সাফাই গাওয়া হয়। তবে এরকম উচ্চফলনশীল ও দক্ষ কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাপনা থাকা সত্ত্বেও কেন প্রায় এক বিলিয়ন লোক ক্ষুধার্ত থাকে তার ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। সমস্যা আসলে আন্তর্জাতিক খাদ্য ব্যবস্থাপনার মধ্যেই: বিশ্বব্যাপী কৃষিপণ্য বন্টন ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক খাদ্য ব্যবস্থাপনার একচেটিয়া কর্তৃত্বেও (মনোপলি) মধ্যে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দরিদ্র দেশসমূহে ধনী দেশ ও বহুজাতিক কোম্পানীগুলোর অশুভ পদচারণার মাধ্যমে উপার্জনের ক্ষেত্রস্থল বানানোয় সেসব দেশের কৃষির উপর কুপ্রভাব পড়েছে। অসম বানিজ্য চুক্তি; প্রধান ফসলসমূহের উৎপাদনের উপর অতি খবরদারি; বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থা প্রভৃতি সংস্থার নিয়ন্ত্রন ও আধিপত্য দরিদ্র দেশসমূহের কৃষির মেরুদন্ড ভেঙে দিয়েছে।

কাঠামোগত পরিবর্তনের (Structural Adjustment) মত নীতির মাধ্যমে বিশ্বসংস্থাসমূহ উন্নয়নশীল দেশসমূহকে দরিদ্র মানুষের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাখাতে বরাদ্দকৃত অর্থই শুধু নয়, বরং কৃষিখাতে বরাদ্দকৃত অর্থও সংকোচনে বাধ্য করে। দেশজ শিল্পের জন্য বিদেশী পণ্যের উপর বাণিজ্য বাধা দুরীকরণসহ অন্যান্য গৃহীত সুবিধার বিলোপসাধন ও বিদেশী কোম্পানীগুলোকে সহজে ব্যবসা করবার মত পরিবেশ তৈরির ব্যবস্থা করতেও বাধ্য করে (যদিও ধনী দেশসমূহ সে তুলনায় বিদেশী পণ্যের প্রবেশের পথ সুগম করে না)। এছাড়াও দরিদ্র দেশসমুহকে ঋণের ব্যয়ভার বহনের জন্য খাদ্যদ্রব্য রপ্তানির মাধ্যমে ডলার উপার্জনের দিকে উৎসাহিত করা হয়। সেকারণে একই ধরণের ফসল বছরের পর বছর উৎপাদনের জন্য ফসলের বৈচিত্র ব্যাহত হয় এবং ফলে ইকোসিস্টেমে ক্ষতিসাধনের মাধ্যমে জমির উর্বরতা বিনষ্ট হয় ও রাসায়নিক সারের উপর নির্ভরতা ক্রমশ বাড়তে থাকে।

ক্রমবর্ধমান দরিদ্রতা ও অসমতা দরিদ্র দেশসমূহে দুর্নীতিকে বাড়িয়ে দিয়ে পরিস্থিতিকে আরও প্রতিকূল করছে। দরিদ্রদেশকে ধনীদেশের খাদ্য সহায়তা প্রদানের নামে অতিরিক্ত খাদ্য বিক্রি করা; উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপের কৃষিতে ব্যাপক ভর্তুকি প্রদান, প্রভৃতি তৃতীয় বিশ্বের খাদ্য সংকট ও দরিদ্রতাকে ঘনীভূত করছে।

পশ্চিমাদের নীতির কারণেই তৃতীয় বিশ্ব দরিদ্র এবং খাদ্যশস্যের অপ্রতুলতা নয় বরং উন্নত বিশ্বের অপব্যয়ের কারণেই সৃষ্ট খাদ্যসংকটের ফলে তারা দরিদ্রই থাকবে:

- বিশ্বের জনসংখ্যার শতকরা ২০ ভাগ হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবীর মোট কৃষি উৎপাদনের ৮০ ভাগ পশ্চিমারা ভোগ করে
- মোট পণ্যদ্রব্যের শতকরা ৮৬ ভাগ ভোগ করে
- মোট দুধের ৭৫ ভাগ ভোগ করে
- মোট কাঠের ৭০ ভাগ ভোগ করে
- মোট পানির ৬২ ভাগ ভোগ করে
- মোট জ্বালানীর ৪৮ ভাগ ভোগ করে
- মোট মাছ এবং মাংসের ৪৫ ভাগ ভোগ করে

পৃথিবীতে মানুষের প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্য রয়েছে; পশ্চিমারাই যার সিংহভাগ ভোগ করছে।

“Geopolitics & Myths”
আদনান খান

10/10/2019

আমরা যে মুসলমানদের আলাদা সোস্যাল মিডিয়ার কথা বলি। সেটার মূল উদ্দেশ্য জাতি আজ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।

কাশ্মীরের প্রায় ভিডিও গুলো ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ রিমুভ করে দিচ্ছে। কিছুদিন আগে নিউজিল্যান্ডের হামলার ঘটনা নিয়ে ফেইসবুকের কান্ড পুরো বিশ্ব দেখেছে। এত কিছুর পরেও যারা মুসলমানদের প্রথম হালাল সোস্যাল মিডিয়া আলাদিনের বিরোধিতা করে, বুঝতে হবে তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে কাজ করছে।

11/03/2019

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগের কর্মকান্ডে সারা দেশের ছাত্রসমাজ নিন্দা জানাচ্ছে..
এ ঘটনায় আমরা বাকরুদ্ধ!
আবারো প্রমাণিত হলো- শেখ হাসিনার গণতন্ত্র, গণমানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন স্বৈরতন্ত্র বই আর কিছু নয়।

Photos from M.C. College's post 24/06/2018
Want your school to be the top-listed School/college in Sylhet?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address


Zindabazar
Sylhet
3100