09/04/2021
✴️✴️ রামাদ্বানের প্রস্তুতি ✴️✴️
('আল্লামা আহমদ হাসান চৌধুরী ফুলতলী'র
হাইকোর্ট মসজিদে প্রদত্ত বক্তব্যের সংক্ষিপ্ত অনুলিখন)
পবিত্র কুরআন নাজিলের মাস রমজান মাস। এ মাসটি সকল মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ও ফজিলতপূর্ণ হিসেবে এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য অত্যধিক। পবিত্র এই মাস প্রত্যেক মুমিন-মুসলমানের জীবনে আত্মশুদ্ধি, সৌভাগ্য ও গোনাহ মাফের মাস হিসেবেই পরিচিত। বরকতময় এ মাসটি রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। আর রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজানকে, রমজানের হককে যথাযথভাবে আদায়ের জন্য রমজানের পূর্বেই প্রস্তুতির কিছু বিষয় আছে। সেসব প্রস্তুতির কিছুটা মানসিক, কিছুটা শারীরিক। স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.) ২ মাস আগে থেকেই রমজানের প্রস্তুতি শুরু করতেন। অর্থাৎ, রজব মাস আসলেই রাসূল (সা.) রমজানের জন্য প্রস্তুতি নিতেন এবং তখন থেকেই তিনি বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি এই দোয়া করতেন- ‘اللهم بارك لنا في رجب و شعبان و بلغنا رمضان অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আমাদেরকে রজব ও শা’বান মাসের বরকত দিন এবং রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।’ আবার, রজব মাস শেষে শা’বান মাস আসলে আল্লাহর হাবীব (সা.) অন্যান্য আমলসহ বেশি বেশি রোজা রাখতেন এবং দোয়া করতেন- ‘ اللهم بارك لنا في شعبان و بلغنا رمضان’। তিনি রমজানের প্রস্তুতিস্বরূপ রমজান ছাড়া সবচেয়ে বেশি রোজা রাখতেন কেবল শা’বান মাসেই। এ বিষয়ে রাসূল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি রমজানের সম্মানেই শা’বানে রোজা রাখি।’ আর এজন্যই বলা হয়ে থাকে, ‘রজব হচ্ছে বীজ বপনের মাস, শাবান পানি সেচের মাস এবং রমজান হচ্ছে ফসল উত্তলনের মাস।’
অধিকন্তু, যুগে যুগে সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ী, তবে তাবেয়ী, ফোকাহায়ে কেরাম ও আউলিয়া কেরাম রমজানের হক আদায় ও পরিপূর্ণ ফায়দা লাভের জন্য পূর্বেই প্রস্তুতি নিতেন এবং রমজান মাস আসলে সব কাজ বাদ দিয়ে কেবল আল্লাহর জন্য এ বরকতময় মাসটি রেখে দিতে দিতেন। যেমন- ইমাম সুফিয়ান সাওরী (রহ.) রমজান মাস আসলে সব কাজ বন্ধ রেখে বলতেন, ‘এই মাসটি আমি আমার আল্লাহর জন্য রাখলাম।’ আবার, এই বরকতময় মাসের রহমত, বরকত, মাগফেরাত ও নাজাত লাভ করার জন্য আল্লাহর ওলীগণ ৬ মাস আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতেন এবং রমজান পরবর্তী বাকী ৫ মাস রমজানের আমল কবুলের দোয়া করতেন।
তাছাড়া, লাইলাতুম-মিন-নিসফে শা’বান তথা শবে বরাতের মধ্যেও রমজানের প্রস্তুতির একটি আমেজ আছে। যেমন- আল্লাহ তায়ালা ঐ সময় দুইজন ব্যক্তি ছাড়া সবাইকে মাফ