05/09/2024
জাতীয় সংগীতের অনেক জায়গায় 'মা' শব্দের ব্যবহার করা হয়েছে! অনেকের আপত্তি এই জায়গাতে যে 'মা' বলতে কি বোঝানো হয়েছে? তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম 'মা' বলতে দেশকেই বোঝানো হয়েছে!
কিন্তু প্রশ্নটা হল - কোন দেশ?
১৯০৫ সালে যখন রবীন্দ্রনাথ এই গান লেখেন তখন তো বাংলাদেশ ছিল না? তখন তো রবীন্দ্রনাথের দেশ ছিল ভারত! 🙃
রবীন্দ্রনাথ এই গান ভারতের বন্দনার জন্য গাননি - এই কথা বলার কি কোনো সুযোগ আছে?
প্রশ্নটা হইলো ভারত বন্দনার জন্য গাওয়া একটা গান কেনো স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হবে?
নিশ্চয়ই দাবি করতে আসবেন না যে রবীন্দ্রনাথ ভবিষ্যৎ জানতো - রবীন্দ্রনাথের স্বপ্ন ছিল একদিন স্বাধীন বাংলাদেশ হবে!!!
আরেকটা বিষয় বঙ্গ ভঙ্গ কি আমাদের উপকার হইছে ?
১.দেখেন রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ায় মানুষ তার লেখা জাতীয় সঙ্গীতের পরিবর্তন চাচ্ছে, বিষয়টা এমন না। যদি তাই হতো তাহলে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের লেখা
"এমন দেশকে কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি" গানটিকে কেউ জাতীয় সংগীতের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করত না!
২.রবীন্দ্রনাথের লেখা আমাদের জাতীয় সংগীতটি মুলত অখন্ড বাংলাকে কেন্দ্র করে রচিত। যেটা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ নয় বরং বাঙালি জাতীয়তাবাদ অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশ, কলকাতা ও আসামের কিছু অংশের প্রতিনিধিত্ব করে! যেটা আমাদের সার্মভৌম বিরোধী। এছাড়াও রবীন্দ্রনাথ স্পষ্টত বঙ্গভঙ্গের বিরোধীতা করেছেন।অর্থাৎ তিনি
পৃথক বাংলা বা আজকের এই বাংলাদেশকে চাননি!
সুতরাং যে মানুষটা বাংলাদেশকেই চায় নি। সেই তার লেখা সংগীতকেই যখন আপনি জাতীয় সংগীতের মর্যাদা দেবেন তখন সেইটা নিয়ে বিতর্ক বা সমালোচনা হইতে পারে,স্বাভাবিক।
৩. '২৪ এর জুলাই বিপ্লবে জাতীয় সংগীতের ভূমিকা ঠিক কি ছিল? এটা নিয়ে আলাপ করা যাইতে পারে! যেখানে "এমন দেশকে কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি কিংবা মুক্তিরও মন্দিরও সোপানও তলের" মতো গানগুলো আমাদের দেশপ্রেমে উদ্ধুদ্ধ করেছিলো, অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সাহায্য করেছিলো, সেখানে আমাদের জাতীয় সংগীত নিজেকে কোনোভাবে আলোচনাতেই নিয়ে আসতে পারে নি!
৪.জাতীয় সংগীতের পরিবর্তন অস্বাভাবিক কিছু নয়। আমাদের পাশেই নেপাল, আফগানিস্তানের জাতীয় সংগীত পরিবর্তন করা হয়েছে। সুতরাং এ নতুন বাংলাদেশের জনসাধারণই নির্ধারণ করবে জাতীয় সংগীত পরিবর্তন করা উচিত কি উচিত না!
৫.দেখেন, জাতীয় সংগীত কোন ধর্মীয় বাণী নয় যে, তা পরিবর্তন করা যাবে না।কিংবা রবী ঠাকুরও কোন অবতার নন যে তাকে নিয়ে কথা বলা যাবে না।
কালের ধর্মই পরিবর্তন, মানুষের জন্যই পরিবর্তন হয়,যুগ যুগ ধরে তাই হয়ে এসেছে।